হাদী হত্যা: মূল অভিযুক্ত মাসুদের অস্বাভাবিক লেনদেনে নজরদারি

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান বিন হাদী হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন মোড় এসেছে। অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) জানিয়েছে—মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবগুলোতে ১২৭ কোটির বেশি সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ২১৮ কোটি টাকার অস্বাভাবিক রেকর্ড ও লেনদেনের চেষ্টার তথ্যও পাওয়া গেছে। মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ অনুযায়ী সিআইডি পৃথকভাবে অর্থপাচারের অনুসন্ধান শুরু করেছে, যা ঘটনাটিকে শুধু হত্যাকাণ্ড নয় বরং বড় ধরনের অপরাধচক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত দেয়।

গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে প্রকাশ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন শরীফ ওসমান বিন হাদী। ঘটনার পরপরই সিআইডি ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং তদন্তকারী টিম দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। সিসিটিভি ফুটেজ, গুলির খোসা, ফরেনসিক নমুনা, নথি ও প্রযুক্তিগত তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে তদন্ত এগিয়ে চলেছে। হত্যার পেছনে পরিকল্পিত নেটওয়ার্ক, অর্থায়ন ও অস্ত্রব্যবস্থাপনার বিষয়গুলোও বিশেষ নজরদারিতে রয়েছে।

তদন্তে অগ্রগতির অংশ হিসেবে গ্রেফতার অভিযানের সময় একাধিক ব্যাংকের চেকবই উদ্ধার করা হয়, যেখানে কোটি কোটি টাকার উল্লেখ পাওয়া যায়। যদিও কিছু লেনদেন সম্পন্ন হয়নি, তথাপি রেকর্ড অনুযায়ী এগুলোর পরিমাণ প্রায় ২১৮ কোটি টাকা। একই সঙ্গে বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় ৬৫ লাখ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে সিআইডি জানিয়েছে।

মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান এখনো পলাতক থাকলেও তার পরিবারের সদস্যসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে—আলামত ধ্বংস ও পালিয়ে যেতে সহায়তার অভিযোগে। গোয়েন্দারা মনে করছে, এ ঘটনায় বড় ধরনের অর্থনৈতিক স্বার্থ জড়িত থাকতে পারে এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অর্থায়নসহ সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না তা তদন্তাধীন।

এদিকে, হত্যাকাণ্ডের পর রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে। একজন সম্ভাব্য জনপ্রতিনিধিকে প্রকাশ্যে হত্যা এবং তার সাথে বিপুল আর্থিক লেনদেনের সংশ্লিষ্টতা—রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, নির্বাচনী পরিবেশ এবং আইনশৃঙ্খলার ওপর বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। অনুসন্ধানে সিআইডি জানিয়েছে—ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট চক্রের পরিকল্পনা, উদ্দেশ্য ও অর্থের উৎস উদ্ঘাটনে বহুমুখী টিম কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, যা হত্যার রহস্য উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, অপরাধী যত প্রভাবশালী হোক—গ্রেফতার ও বিচার নিশ্চিত করা হবে। সন্ত্রাসী কার্যক্রম, মানিলন্ডারিং এবং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



হাতিয়ায় নির্বাচনী হুমকি: প্রধান অভিযুক্ত অমি আটক

নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদের প্রতি হত্যার হুমকির অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, আর এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে ইসরাত রায়হান অমিকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার রাত সোয়া ১১টার দিকে চরঈশ্বর ইউনিয়নের নন্দ রোড এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আটক অমি সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হালিম আজাদের ছেলে, এবং এলাকার রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ সক্রিয় ছিলেন।
এর আগে ১৮ ডিসেম্বর রাতে জাতীয় নাগরিক পার্টির হাতিয়া উপজেলা সমন্বয়কারী শামছল তিব্রিজ কর্তৃক থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়, যেখানে উল্লেখ করা হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘Israt Raihan Ome’ ও ‘Rupak Nandi’ নামের আইডি থেকে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। মেসেঞ্জারে পাঠানো বার্তাগুলোতে অমি নির্বাচনী মাঠে বাধা সৃষ্টি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটানোর ইঙ্গিত দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

এ অভিযোগ ওঠার পর থেকেই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। নির্বাচনী পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় হুমকি দেওয়ায় বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নেয় প্রশাসন। জিডিতে অমির পাশাপাশি আরও ছয়জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যাদের বিরুদ্ধে একই ধরনের হুমকির সমর্থন ও সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ জানায়, আটক অমি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হুমকির অভিযোগ সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিলেও ঘটনা অস্বীকার করার চেষ্টা করেন। তবে মেসেঞ্জার স্ক্রিনশট, জিডি এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা মামলার তদন্তকে আরও এগিয়ে নিতে সাহায্য করছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানান হাতিয়া থানার কর্মকর্তা-ইন-চার্জ মো. সাইফুল আলম।
এদিকে, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এমন হুমকি স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশে অস্থিরতা তৈরি করেছে। সাধারণ ভোটাররা বলছেন—নির্বাচনী মাঠে ভয়-ভীতি ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে কেউ যদি গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে, তবে প্রশাসনের উচিত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে—এ ধরনের অপতৎপরতা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ছাড়া বন্ধ করা যাবে না।
এ ঘটনার পর জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতাকর্মীরা নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন এবং নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে স্থানীয়রা চান—ভোটের মাঠ সবার জন্য সমানভাবে উন্মুক্ত থাকুক এবং কোনো প্রকার সন্ত্রাস বা হুমকি ছাড়া শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় থাকুক।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টা: মূল অভিযুক্ত ফয়সালের বাবা আটক

রাজধানীর পল্টন থানার বিজয়নগর এলাকায় ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় তদন্তে নতুন অগ্রগতি এসেছে। এ ঘটনায় জড়িত ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল করিম মাসুদের বাবাকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একই সঙ্গে হাদিকে গুলিতে ব্যবহৃত অস্ত্রসহ একাধিক অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে র‍্যাব-২-এর একটি বিশেষ দল অভিযানে নামে। অভিযানের অংশ হিসেবে ফয়সাল করিম মাসুদের বাবার পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর তাকে আটক করা হয়। র‍্যাব সদরদপ্তর জানায়, ফয়সালের শ্যালকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই তাকে হেফাজতে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।

র‍্যাব-২-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) শামসুল ইসলাম জানান, হাদির ওপর গুলির ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে শেরেবাংলা নগর থানাধীন পশ্চিম আগারগাঁও এলাকায় ফয়সালের বড় বোন জিয়াসমিনের বাসার আশপাশে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় ওই বাসা থেকে সরাসরি অস্ত্র না মিললেও বাসা সংলগ্ন দুই ভবনের মাঝের ফাঁকা স্থান থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃত আলামতের মধ্যে রয়েছে ১১ রাউন্ড গুলি, দুইটি ভরা ম্যাগাজিন এবং একটি চাকু। এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ হাদিকে গুলির ঘটনায় ব্যবহৃত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে র‍্যাব।

র‍্যাব জানায়, আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গত ১২ ডিসেম্বর বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর ওই এলাকা থেকে বের হয়ে যান। একই দিন বিকেলের দিকে ফয়সাল, তার সহযোগী, তার মা ও ভাগিনাকে দুই ভবনের মাঝের ফাঁকা স্থানে কিছু বের করতে দেখা যায়। পরে তারা একটি সিএনজিযোগে এলাকা ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে ওই স্থান থেকেই অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।

একই অভিযানে ফয়সালের বোনের বাসা থেকে আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জিনিস জব্দ করা হয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে একটি ট্যাব, একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন, একটি বাটন ফোন, দুটি জাতীয় পরিচয়পত্র, বিভিন্ন কোম্পানির পাঁচটি চেক, বিভিন্ন ব্যাংকের ১৫টি চেক বই, ছয়টি পাসপোর্ট এবং ৩৮টি ব্যাংক চেকের পাতা।

র‍্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হাদির ওপর গুলির ঘটনায় জড়িত প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই হত্যাচেষ্টা মামলায় উদ্ধার করা আলামত ও তথ্য-উপাত্ত তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জিজ্ঞাসাবাদে সদুত্তর দিতে পারেননি আনিস আলমগীর

সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে হেফাজতে নেওয়ার পর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে জিজ্ঞাসাবাদের একাধিক বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে না পারায় তার বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। সে কারণেই রাতটি তাকে ডিবি কার্যালয়েই কাটাতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

রোববার (১৪ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে ডিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, জিজ্ঞাসাবাদের সময় কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি আনিস আলমগীর। বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান থাকায় আপাতত তাকে ডিবি কার্যালয়ে রাখা হয়েছে।

ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, আনিস আলমগীরকে নির্দিষ্ট কয়েকটি বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে যেসব প্রশ্ন করা হয়েছিল, সেগুলোর কিছুতে তিনি স্পষ্ট ও গ্রহণযোগ্য উত্তর দিতে পারেননি। এ কারণে তার বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। যেহেতু আইনি প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি, তাই তাকে রাতের জন্য ডিবি কার্যালয়েই অবস্থান করতে হচ্ছে।

এর আগে রাতে আনিস আলমগীরকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়। তখন ডিবি প্রধান জানিয়েছিলেন, কিছু নির্দিষ্ট তথ্য ও বিষয় পরিষ্কার করার জন্যই তাকে গোয়েন্দা কার্যালয়ে আনা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারের মাধ্যমে জানানো হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকার একটি জিম থেকে আনিস আলমগীরকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। এরপর থেকেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় নেওয়া হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




গুমের মামলায় শেখ হাসিনাসহ ১৩ জনের অভিযোগ গঠন ১৮ ডিসেম্বর, পেছাল আদেশ

জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারে (জেআইসি) গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সেনা কর্মকর্তাসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশের তারিখ পিছিয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আগামী ১৮ ডিসেম্বর এ বিষয়ে আদেশ দেওয়ার দিন ধার্য করেছেন।

রোববার (১৪ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ সিদ্ধান্ত দেন।

এর আগে জেআইসি-তে সংঘটিত গুমের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় শেখ হাসিনা ও অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ হয়। শুনানি শেষে ১৪ ডিসেম্বর আদেশ দেওয়ার কথা থাকলেও ট্রাইব্যুনাল তা পিছিয়ে নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি শেষ হয় গত ৭ ডিসেম্বর এবং আসামিপক্ষের শুনানি শেষ হয় ৯ ডিসেম্বর।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর থেকে গত বছরের ৬ আগস্ট পর্যন্ত সময়ের মধ্যে একাধিক ব্যক্তিকে গুম করার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে।

মামলার অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন— শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষা বিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক লে. জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আকবর হোসেন, সাবেক ডিজি মেজর জেনারেল (অব.) সাইফুল আবেদিন, লে. জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, লে. জেনারেল (অব.) তাবরেজ শামস চৌধুরী, মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক, মেজর জেনারেল তৌহিদুল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবির আহাম্মদ এবং লে. কর্নেল (অব.) মখসুরুল হক।

এদের মধ্যে বর্তমানে তিনজন গ্রেফতার রয়েছেন। তারা হলেন— ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী।

ট্রাইব্যুনালের আদেশের মাধ্যমে এ মামলার বিচার প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ এগিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বাউফলে গৃহবধূকে শ্লীলতাহানি

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক গৃহবধূকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, নিজের সম্মান রক্ষায় ওই নারী পুকুরে ঝাঁপ দিলেও শেষ পর্যন্ত হামলার হাত থেকে রক্ষা পাননি।

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের বড় ডালিমা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

ভুক্তভোগী গৃহবধূর পরিবার জানায়, অভিযুক্ত মো. শুভর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তাদের জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন সকালে বিরোধপূর্ণ জমির পাশে থাকা পুকুরে ঘাটলা নির্মাণ করতে গেলে গৃহবধূ বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্ত ও তার সহযোগীরা তাকে জাপটে ধরে শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে জোরপূর্বক হাত দেওয়ার চেষ্টা করে।

পরিবারের অভিযোগে আরও বলা হয়, সম্মান রক্ষার জন্য গৃহবধূ পুকুরে ঝাঁপ দিলে অভিযুক্ত মো. শুভ সেখানেও নেমে একই ধরনের নির্যাতন চালান। এ সময় তার পোশাক ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং একপর্যায়ে পানিতে চুবিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার সময় আরও কয়েকজন জামায়াত কর্মী ঘটনাস্থলে পাহারা দিচ্ছিলেন।

ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে তার মা এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় মা ও মেয়েকে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী মো. আক্কাস মুন্সী অভিযোগ করে বলেন, নাজিরপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি মো. শুভ ও তার সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে তার স্ত্রীকে লাঞ্ছিত করেছে। তিনি দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. নুরজাহান বেগম জানান, ভুক্তভোগী গৃহবধূ ও তার মা মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত ছিলেন। গৃহবধূর শ্বাসকষ্ট দেখা দেওয়ায় দুজনকেই হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে তাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মো. শুভ সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রমাণ সাপেক্ষে আইন যা শাস্তি দেবে তিনি তা মেনে নেবেন। তবে জামায়াতের কোনো দায়িত্বশীল পদে তিনি আছেন কি না—এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মো. খালিদুর রহমান জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি কোন পদে আছেন তা তার জানা নেই এবং ঘটনাটি সম্পর্কেও তিনি অবগত নন।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলার জন্য হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




৭২ঘণ্টার আগে কিছু বলা যাচ্ছে না অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন,মাথার আঘাত গুরুতর

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :  ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা–৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি বর্তমানে অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় আছেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান। তার ভাষায়, হাদির অবস্থা “খুবই ক্রিটিক্যাল” এবং সামনে অন্তত ৭২ ঘণ্টা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ।

শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৯টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হাদিকে পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য দেন।

ডা. সায়েদুর রহমান জানান, হাদির মাথায় বাম কানের ঠিক ওপরে গুলি ঢুকে ডান পাশে বেরিয়ে গেছে। এই গতিপথে মস্তিষ্কের একেবারে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ব্রেন স্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “এটি চিকিৎসাবিজ্ঞানে ম্যাসিভ ব্রেন ইনজুরি হিসেবে বিবেচিত। ব্রেন স্টেম জীবনরক্ষাকারী অনেক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। তাই পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল।”

এ মুহূর্তে হাদির ওপর কোনো নতুন সার্জিক্যাল ইন্টারভেনশন করা সম্ভব নয় জানিয়ে বিশেষ সহকারী আরো বলেন, রোগীকে শুধু লাইফ সাপোর্টে ধরে রাখার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

“আগামী ৭২ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখন আশার নিশ্চয়তা দেওয়ার মতো অবস্থা নেই,” বলেন তিনি।

ডা. সায়েদুর জানান, হাদিকে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসে রাখা হয়েছে। তবু “একটুখানি আশার জায়গা” এখনো আছে—কারণ অস্ত্রোপচারের সময় তাঁর শরীরে স্বতঃস্ফূর্ত শ্বাস-প্রচেষ্টার কিছু সাড়া দেখা গেছে।

 




ঢাকা-৮ আসনে ইনকিলাব মঞ্চের প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদীকে গুলি

ঢাকা-৮ আসনের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইনকিলাব মঞ্চের প্রার্থী ও সংগঠনের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদীকে দুপুরে রাজধানীর পল্টনের বিজয়নগরে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা।

শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) ঘটনার পরপরই গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়, যেখানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

ঢামেক জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মোশকাত আহমেদ জানান, হাদীর মাথায় গুলি লেগেছে এবং তিনি বর্তমানে গভীর কোমায় রয়েছেন। চিকিৎসকের ভাষায়, তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।

এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “হাদীর ওপর হামলা শুধু অন্যায় নয়, রাজনৈতিক পরিবেশের জন্যও হুমকি। আমাদের জীবনও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, তবুও আমরা গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার রক্ষায় লড়াই চালিয়ে যাব।”

উল্লেখ্য, গত নভেম্বর মাসে দেশি-বিদেশি ৩০টির বেশি নম্বর থেকে হুমকি পাওয়ার কথা প্রকাশ করেছিলেন শরিফ ওসমান হাদী। সেই হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা নিয়ে তার উদ্বেগ বাড়ছিল, আর অবশেষে ঘটলো এই সশস্ত্র হামলা।

ঘটনার পর ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী উপস্থিত হয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে। হামলার উদ্দেশ্য, পরিকল্পনা এবং জড়িতদের পরিচয় অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কক্সবাজারের কৃষক হত্যার পলাতক আসামি আব্দুল করিম র‍্যাব–৮ এর হাতে গ্রেপ্তার

কক্সবাজারে কৃষককে গুলি করে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনার প্রধান পলাতক আসামি আব্দুল করিমকে পটুয়াখালী থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব–৮ এর আভিযানিক দল। বিভিন্ন গণমাধ্যমে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ড জনমনে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছিল। দেশের নানা স্থানে সংঘটিত ভয়াবহ অপরাধে জড়িত পলাতক আসামিদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার করার মাধ্যমে র‌্যাব ইতোমধ্যেই জনগণের আস্থা অর্জন করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় এ সফল অভিযান পরিচালনা করা হয়।

র‌্যাব–৮, সিপিসি–১ পটুয়াখালী ক্যাম্প এবং র‌্যাব–১৫ কক্সবাজারের যৌথ দল স্কোয়াড্রন লিডার রাশেদের নেতৃত্বে ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ সালের সকালে পটুয়াখালী সদর এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে কক্সবাজার জেলার ছনখোলা উত্তর নয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং কৃষক হত্যা মামলার প্রধান আসামি আব্দুল করিম (৩৫) কে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন।

হত্যাকাণ্ডের বিবরণ অনুযায়ী—ভিকটিম একজন কৃষক। ধানক্ষেতে ছাগল প্রবেশ করে ধান নষ্ট হওয়াকে কেন্দ্র করে ভিকটিম ও অভিযুক্ত পক্ষের মধ্যে পূর্ব থেকেই বিরোধ চলছিল। এরই জেরে গত ৩০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে কয়েকজন অভিযুক্ত একত্রিত হয়ে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ভিকটিমের বাড়িতে ঢোকে। তারা পরিকল্পিতভাবে কৃষককে লক্ষ্য করে গুলি করে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় ভিকটিমকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরবর্তীতে নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্তে জানা যায়, গ্রেপ্তার হওয়া আব্দুল করিমের বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলা রয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন।

র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পটুয়াখালী সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। র‌্যাবের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়—অপরাধ দমনে তাদের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




মোহাম্মদপুরে জোড়া খুন: অভিযুক্ত নারী সনাক্ত

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :  রাজধানীর মোহাম্মদপুরের নিজেদের ফ্ল্যাটে মা–মেয়েকে হত্যার ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন গৃহকর্মী ‘আয়েশা’কে শনাক্ত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তার প্রকৃত নাম-পরিচয় এবং স্বামীর পরিচয়ও জানা গেছে। তবে গতকাল মঙ্গলবার রাত ৮টা পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্র জানায়, তরুণীর পরিচয় শনাক্ত হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে তা গ্রেপ্তারের পর প্রকাশ করা হবে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদেই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে ধারণা তদন্তসংশ্লিষ্টদের।

গত সোমবার সকালে শাহজাহান রোডের ১৪ তলা ভবনের সপ্তম তলায় লায়লা আফরোজ (৪৮) ও তার মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিয়াকে (১৫) ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। মঙ্গলবার নাটোরে মা–মেয়ের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। মামলার এজাহারে বাসা থেকে একটি মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, স্বর্ণালংকার, নগদ টাকাসহ বেশ কিছু মূল্যবান জিনিসপত্র খোয়া যাওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।

চার দিন আগে আয়েশা পরিচয় দিয়ে গৃহকর্মীর কাজ নেওয়া প্রায় ২০ বছর বয়সী এই তরুণীকে জোড়া খুনের সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করছেন স্বজনেরা। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক।

পুলিশ, ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো পৃথকভাবে তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তসূত্র বলছে, গৃহকর্মী নিজের আসল নাম ও ঠিকানা গোপন করেছিলেন। বাসার কাজে যোগ দেওয়ার সময় সঙ্গে কোনো মোবাইল ফোনও ছিল না। পরে যে ফোনটি নিয়ে গেছেন, সেটি বাসা থেকে বেরিয়েই বন্ধ করেন। আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার বেশির ভাগই অচল থাকায় তিনি কোনদিকে পালিয়েছেন, তা নিশ্চিত হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

সূত্র বলছে, লায়লা আফরোজের পরিবারের সঙ্গে তরুণীর আগের কোনো ফোনযোগাযোগ পাওয়া যায়নি। তিনি সব সময় বোরকা পরে থাকতেন, তাই ভবনের সিসিটিভিতেও তার মুখ স্পষ্টভাবে ধরেনি। ফলে তাকে শনাক্ত করতে ম্যানুয়ালভাবে বিভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়েছে।

তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান জানিয়েছেন, গৃহকর্মীর দেওয়া নাম-ঠিকানা ভুল হওয়ায় শুরুতে তার পরিচয় নিশ্চিত করা কঠিন ছিল। তবে দ্রুতই তাকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে এবং গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সুরতহাল প্রতিবেদনে বলা হয়, লায়লা আফরোজের শরীরে প্রায় ৩০টি এবং নাফিসার দেহে ৪টি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। হত্যার কারণ এখনও স্পষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দিন।

ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার সকালে মা–মেয়ের মরদেহ নাটোর পৌরসভার দক্ষিণ বড়গাছায় নেওয়া হয়। জোহরের নামাজের পর জানাজা শেষে তাদের দাফন করা হয়।