পূর্বাচলে প্লট কেলেঙ্কারি, আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় আলোচিত ১৮ জন

রাজধানীর পূর্বাচল এলাকায় জমি বরাদ্দ সংক্রান্ত এক প্রতারণামূলক ঘটনায় আলোচিত হয়ে উঠেছে দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গন। অভিযোগ উঠেছে, রাষ্ট্রীয় প্রভাব খাটিয়ে একটি সরকারি আবাসন প্রকল্পের নিয়ম ভেঙে অবৈধভাবে প্লট বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলার অভিযোগ গঠন করে ঢাকার একটি আদালত দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তার কন্যাসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. জাকির হোসেন গালিব মামলার অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে এই গ্রেপ্তারি আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ৪ মে’র মধ্যে এ সংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দুদকের দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়, রাজধানীর ধানমন্ডি, গুলশান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ফ্ল্যাট কিংবা জমি থাকা সত্ত্বেও তা গোপন করে পূর্বাচল নতুন শহর আবাসন প্রকল্পে ১০ কাঠার একটি প্লট বরাদ্দ নেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, কোনো আবেদন না করেই মা শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করে তিনি প্লটটি গ্রহণ করেন।
তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় জড়িত ১৮ জনের সবাই একে অপরের সঙ্গে যোগসাজশ করে এই অনিয়ম ও দুর্নীতিতে অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সরকারের উচ্চপদস্থ আমলা, রাজউকের প্রাক্তন কর্মকর্তাসহ সাবেক প্রতিমন্ত্রী এবং একান্ত সচিবও।
এই মামলায় চার্জশিট দাখিল করেন দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া। এতে বলা হয়, একে অপরকে লাভবান করার উদ্দেশ্যে বেআইনি অনুগ্রহ প্রদর্শনের মাধ্যমে নিয়মবহির্ভূতভাবে প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়। পুতুলের নামে বরাদ্দকৃত প্লটটি পরবর্তীতে রেজিস্ট্রিভুক্ত করে বাস্তব দখলেও নেওয়া হয়।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, বিশ্বাস ভঙ্গ, সরকারি সম্পত্তি আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা করা হয়েছে। মামলায় মোট ১৬ জনকে সাক্ষী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের এই মামলাটি বর্তমানে দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। মামলার প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোড়ন উঠেছে এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার দিকে এখন পুরো জাতি নজর রাখছে।
মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম








