বরগুনায় ডোপ টেস্টে পজিটিভ ৬ জন যুবক কারাগারে

বরগুনার সদর উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে মাদকসেবী সন্দেহে আটক ছয় যুবকের ডোপ টেস্টে পজিটিভ রিপোর্ট আসায় তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। আদালত পরবর্তী নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে রোববার (১৩ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে। বরগুনা সদর থানার পুলিশ মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা পরিষদের ভেতর থেকে ৬ জনকে আটক করে। রাতেই তাদের ডোপ টেস্ট করা হলে সকলের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। এরপর তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন—

  • মোহাম্মদ মিঠুন (২৭), পিতা: মো. দেলোয়ার হাওলাদার, ঠিকানা: ঢলুয়া, সদর
  • মাহমুদুল হাসান (৪৩), পিতা: মৃত আব্দুল মালেক মিয়া, ঠিকানা: শাহাপট্টি
  • মো. সোহাগ (৪৪), পিতা: মো. আলি আকবর, ঠিকানা: পশ্চিম বরগুনা
  • মোহাম্মদ মহসিন (৪৫), পিতা: তোফায়েল মিয়া, ঠিকানা: ডিকেপি রোড
  • মো. ফারুক (৩৮), পিতা: মৃত আবুল হোসেন
  • শহিদুল ইসলাম (৩৬), পিতা: মৃত শানু মিয়া, ঠিকানা: কলেজ রোড

বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান জানান, “ছয়জনের ডোপ টেস্ট রিপোর্ট পজিটিভ আসায় তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং সোমবার দুপুরে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।”

এ ঘটনায় বরগুনায় আবারও মাদকবিরোধী অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদক নির্মূলে এই ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চালানো হবে।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পটুয়াখালী জেলার শ্রেষ্ঠ এসআই নির্বাচিত বাউফলের মফিজুল ইসলাম

পটুয়াখালী জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ ও অপরাধ পর্যালোচনা সভায় ২০২৫ সালের মার্চ মাসের পারফরম্যান্স বিবেচনায় শ্রেষ্ঠ উপ-পরিদর্শক (এসআই) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বাউফল মডেল থানার মোঃ মফিজুল ইসলাম।

মাদক উদ্ধার, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন দিক বিবেচনায় তার এই কৃতিত্ব স্বীকৃত হয়। দক্ষতা, সততা ও সাহসিকতার মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করে জেলার মাসিক সভায় প্রশংসিত হন তিনি।

পটুয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার জনাব মোঃ আনোয়ার জাহিদ (বিপিএম) এর হাত থেকে এসআই মফিজুল ইসলাম শ্রেষ্ঠ এসআই হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার গ্রহণ করেন।

পুরস্কার প্রাপ্তির অনুভূতি জানিয়ে এসআই মফিজুল ইসলাম বলেন, “আমি কৃতজ্ঞ মাননীয় পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ স্যার, বাউফল সার্কেল স্যার এবং অফিসার ইনচার্জ কামাল হোসেন স্যারের প্রতি, যাদের সঠিক দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতায় এই সম্মান অর্জন করতে পেরেছি।”

তার এই অর্জনে পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা যেমন গর্বিত, তেমনি এলাকাবাসীর মাঝেও প্রশংসার ঝড় উঠেছে।

মোঃ আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বাউফলে জমি সংক্রান্ত বিরোধে হামলা, দুইজন গুরুতর আহত

টুয়াখালীর বাউফলে জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ইব্রাহীম মৃধা (৩২) ও ফিরোজ ফকির (৩৫) নামের দুই ব্যক্তি ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার নওমালা ইউনিয়নের ভাংড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভাংড়া গ্রামের চুন্নু গাজির (৩৮) সঙ্গে একই এলাকার ছালম মৃধা (৬০) ও কালাম মৃধার (৫৫) মধ্যে জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। থানার আদেশে বিরোধপূর্ণ জমিতে চুন্নু গাজি ফসল রোপণ করেন। আজ সকালে চুন্নু ও তার পরিবারের সদস্যরা জমিতে গিয়ে ফসল তুলতে গেলে প্রতিপক্ষ ছালম ও কালাম মৃধা পক্ষের নেতৃত্বে আলাল উদ্দিন (৪০), আনিচ (৩৫), রমিজ (২৫), রিয়াজ (২২), রাব্বি (২৩), ফিরোজ গাজি (৩৮), রাসেল (৩২), সাইফুল (২৮)সহ ১৫-২০ জন তাদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়।

হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে ইব্রাহীম মৃধা ও ফিরোজ ফকিরকে গুরুতর জখম করে। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ফাতেমা আক্তার যুথি জানান, ইব্রাহীমের হাতের কবজি ভেঙে বের হয়ে গেছে এবং ফিরোজের পা ও পিঠে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাত রয়েছে, যা গুরুতর। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রতিপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




মহিপুরে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে অন্তঃসত্ত্বা নারীকে নির্যাতন, হাসপাতালে ভর্তি

পটুয়াখালীর মহিপুরে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে চার সন্তানের জননী অন্তঃসত্ত্বা এক নারীকে (৩০) নির্মমভাবে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি একই এলাকার বাসিন্দা সেলিম খাঁ (৩৫)। শুক্রবার দুপুরে বিপিনপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী নারী বর্তমানে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মারধরের ফলে তার ডান চোখ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়েছে।

ওই নারী জানান, তার স্বামী একটি মামলায় গত দুই মাস ধরে কারাগারে রয়েছেন। এ সময় চার সন্তানকে নিয়ে তিনি মৎস্য শ্রমিক হিসেবে কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন। স্বামী জেলে যাওয়ার পর থেকেই প্রতিবেশী সেলিম খাঁ তাকে একাধিকবার কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, শুক্রবার দুপুরে সেলিম খাঁ তার ঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি বাধা দিলে সেলিম ক্ষিপ্ত হয়ে বেধড়ক মারধর করেন। চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এলে সেলিম পালিয়ে যায়। পরে অজ্ঞান অবস্থায় ওই নারীকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এ বিষয়ে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, “এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, একা ও অসহায় অবস্থার সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ওই নারীকে উত্যক্ত করে আসছিল সেলিম খাঁ। এলাকাবাসীর দাবি, অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।


মো: আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বাউফলে গাঁজাসহ যুবক গ্রেপ্তার

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নওমালা ইউনিয়নের বাবুরহাট এলাকা থেকে গাঁজাসহ মো. আলামিন (২৯) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১১ এপ্রিল) রাতের এই অভিযানে তার বাড়ি থেকে ১০০ গ্রাম গাঁজা জব্দ করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত আলামিন ওই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আ. হালিমের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলামিন স্থানীয় রাজনৈতিক সংগঠন জিয়া মঞ্চের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামাল হোসেন জানান, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই মো. মফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল বাবুরহাট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে আলামিনের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ১০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এরপর তাকে ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেপ্তার করা হয়।”

পুলিশ জানায়, আলামিনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং শনিবার দুপুরে তাকে পটুয়াখালী আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

স্থানীয়দের অনেকে বলেন, আলামিনের বিরুদ্ধে আগে থেকেই নানা অভিযোগ থাকলেও কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়নি। এবার পুলিশের অভিযানে তার গাঁজাসহ গ্রেপ্তারের খবরে সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এমন কঠোর অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছে স্থানীয় সচেতন মহল।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পটুয়াখালীতে তালাবদ্ধ ঘর থেকে পচন ধরা ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

পটুয়াখালী সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের আউলিয়াপুর গ্রামে একটি তালাবদ্ধ বসত ঘর থেকে মো. আলমগীর তালুকদার (৫০) নামের এক ব্যক্তির পচন ধরা ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১২ এপ্রিল) সকাল ১০টায় স্থানীয়দের সংবাদের ভিত্তিতে সদর থানা পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহত আলমগীর তালুকদার ওই গ্রামের মৃত মো. কাসেম সিকদারের মেয়ে জামাই। তার স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে ঢাকায় চাকরির সুবাদে অবস্থান করেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ দিন ধরে তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন ছিলেন।

স্থানীয়দের তথ্য মতে, আলমগীর ঠ্যাংগাই কেশবপুর এলাকার বাসিন্দা হলেও শ্বশুরের দেওয়া জমিতে আউলিয়াপুর গ্রামে একাই বসবাস করতেন। আশেপাশে বাড়িঘর না থাকায় কেউ ঘরে কী ঘটেছে তা টের পাননি।

আলমগীরের ছেলে রিয়াজ তালুকদার জানান, “আমরা সবাই ঢাকায় থাকি। বাবার কোনো শত্রু ছিল না। এক আত্মীয়ের বিয়ের কারণে কিছুদিন আগে আমরা গ্রামে এসেছিলাম। এরপর থেকে বাবার ফোন বন্ধ পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি।”

পটুয়াখালী সদর থানার এসআই মোবাইদুল ইসলাম জানান, “সকাল ১০টায় স্থানীয়দের দেওয়া খবরে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করি। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আমাদের কাছে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলেই মনে হচ্ছে।”

এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মো: আল-আমিন

 




গলাচিপায় নিজেকে ‘ইমাম মাহদী’ দাবির পর মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার

পটুয়াখালীর গলাচিপায় নিজেকে ‘ইমাম মাহদী’ হিসেবে দাবি করায় হাবিবুর রহমান (৩৭) নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে জনতার হাতে আটক হওয়ার পর পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ঘটনাটি ঘটে বুধবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায়। গলাচিপা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে ‘আল্লাহর পক্ষ থেকে মনোনীত ইমাম মাহদী’ পরিচয় দিয়ে জনসমক্ষে নানা ধরনের ধর্মীয় বক্তব্য দিতে থাকেন তিনি। বক্তব্যের এক পর্যায়ে উপস্থিত মুসল্লিদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে আটক করে গলাচিপা এনজেড দাখিল মাদ্রাসার একটি কক্ষে আটকে রাখে।

পরে খবর পেয়ে গলাচিপা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়।

আটক হাবিবুর রহমান কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার পশ্চিম শাহপুর গ্রামের মুন্সিবাড়ি এলাকার মো. আমানত উল্লাহর ছেলে। তিনি গলাচিপা উপজেলার বাহের গজালিয়া ছালেহিয়া দাখিল মাদ্রাসায় গণিত শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।

ঘটনার পর মাদ্রাসার সুপার মো. অলিউল্লাহ বাদী হয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, হাবিবুর দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে ‘ইমাম মাহদী’ দাবি করে আসছিলেন। এমনকি তিনি দাবি করেন, তার কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে একশটি আয়াত নাজিল হয়েছে, যেগুলো ‘মাহদীয়া’ নামে কুরআনের ১১৫তম সূরা হবে।

তার দাবি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩ জুন থেকে দুর্ভিক্ষ শুরু হবে, এবং আল্লাহ ওহির মাধ্যমে তাকে এসব তথ্য দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, তিনি দাবি করেছেন, আল্লাহ তার সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন, এবং তার মা ও চাচি ‘জাহান্নামী’, আর তাকেই জান্নাত দান করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওইদিন সন্ধ্যায় তিনি গলাচিপা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব তাওহীদুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করে এই কথাগুলো পুনরায় বলেন এবং তা জনসম্মুখে প্রচার করেন। এতে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ধরে ফেলে।

গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশাদুর রহমান জানান, অভিযুক্ত হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার অভিযোগে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং তাকে আদালতে পাঠানো হবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাউফলে বিএনপির দুই পক্ষের ভয়াবহ সংঘর্ষে ১০ জন আহত, বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ

পটুয়াখালীর বাউফলে স্থানীয় বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিরোধকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন। সংঘর্ষের সময় এক বিএনপি নেতাসহ দুজনকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে বর্বর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার নওমালা ইউনিয়নের মৈশাদি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্থানীয় বিএনপি কর্মী মো. মফিজ হাওলাদার (৫৫) এবং ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সভাপতি মো. হান্নান হাওলাদার (৪৫)-এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব চলছিল। বুধবার একটি ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে হান্নানপন্থী কর্মীরা মফিজকে মারধর করলে বিষয়টি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এর জেরে বৃহস্পতিবার দুপুরে মফিজের স্ত্রীর বড় ভাই ও কালাইয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জহির উদ্দিনের (৬০) নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের একটি দল হান্নান হাওলাদারের বাড়িতে হামলা চালায়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে স্থানীয় জনতা বিএনপি নেতা জহির উদ্দিন ও তার ছেলে মো. তানভীর (২৯) কে ধরে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন চালায়।

খবর পেয়ে বাউফল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। পরে গুরুতর আহত জহির উদ্দিন, তানভীর ও ফকরুল ইসলামকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এছাড়া কবির হোসেন নামের একজনকে ভর্তি করা হয়েছে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, “ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বাউফলে আধিপত্য নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত ১০

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার মৈশাদি এলাকায় স্থানীয় দুই রাজনৈতিক পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দুই দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

আহতদের মধ্যে জহির মুন্সি (৬০), তার ছেলে মো. তানভীর (২৯) এবং কর্পূরকাঠী গ্রামের মো. ফকরুল ইসলাম (৪৫) কে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, আহত কবির হোসেন কিবরিয়াকে (৪৫) চিকিৎসার জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মৈশাদি এলাকায় বিএনপিকর্মী মো. মফিজ হাওলাদার (৫৫) ও নওমালা ইউনিয়ন ওয়ার্ড শ্রমিকদল সভাপতি মো. হান্নান হাওলাদারের (৪৫) মধ্যে রাজনৈতিক আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলছিল। বুধবার এক ফুটবল খেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে হান্নান হাওলাদারের অনুসারীরা মফিজ হাওলাদারকে মারধর করে। এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় বৃহস্পতিবার দুপুরে মফিজের আত্মীয়, কালাইয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জহির উদ্দিনের নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের একটি দল হান্নান হাওলাদারের বাড়িতে গিয়ে হামলা চালায়।

হঠাৎ এই হামলার ঘটনায় হান্নানের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এতে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে বেশ কিছুক্ষণ। সংঘর্ষ চলাকালে জহির মুন্সি ও মো. শাহাবুদ্দিনকে ধরে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়।

খবর পেয়ে বাউফল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কলাপাড়ায় চাল বিতরণ নিয়ে দ্বন্দ্ব, যুবদল নেতাকে পিটিয়ে পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধুলাসার ইউনিয়নে জেলেদের মধ্যে চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ বিরোধে যুবদলের এক নেতাকে পিটিয়ে পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আহত রাকিব বিশ্বাস (৩০) ধুলাসার ইউনিয়ন যুবদলের ক্রীড়া ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক। বুধবার রাত ৯টার দিকে বাবলাতলা বাজারসংলগ্ন বালুর মাঠে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

রাকিব বর্তমানে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি জানান, জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচির আওতায় নিবন্ধিত জেলেদের মধ্যে ৮০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হচ্ছিল। অভিযোগ রয়েছে, ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর ছিদ্দিক চাল বিতরণে অনিয়ম করেন এবং প্রতি ব্যক্তির কাছ থেকে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করেন।

এই বিষয়ে প্রতিবাদ জানাতে গেলে রাকিবসহ কয়েকজন ছাত্রদল নেতা সেখানে উপস্থিত হন। এর জেরে চাল বিতরণ বন্ধ হয়ে যায় এবং আবু বক্করের সঙ্গে রাকিবের কথাকাটাকাটি হয়।

পরে রাতে রাকিবকে কথা বলার কথা বলে বালুর মাঠে ডেকে নেন ধুলাসার ইউনিয়ন যুবদলের ৩ নম্বর ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক ওসমান গাজী। সেখানে লাঠি, পাইপ ও হাতুড়ি দিয়ে রাকিবের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলায় অংশ নেন যুবদল ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী—যাদের মধ্যে রয়েছেন পিন্টু, সিদ্দিক, আল-আমিন, আবু বক্কর, মহিব, জালাল উদ্দিন কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সোহাগ মোল্লা ও ছাত্রদল সদস্য নাঈম ফরাজী। হামলাকারীরা রাকিবকে মারধরের পর সংজ্ঞাহীন অবস্থায় তার বাড়ির সামনে ফেলে রেখে যান।

তবে অভিযুক্ত আবু বক্কর বলেন, “তার সঙ্গে আমার কোনো কথাই হয়নি। মারধরের বিষয়েও কিছু জানি না।” যুবদল নেতা পিন্টুও ঘটনার বিষয়ে অস্বীকৃতি জানান।

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, “এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

মো: আল-আমিন, স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম