পটুয়াখালীতে বিয়ের আলোচনায় রক্তাক্ত সংঘর্ষ, প্রাণ গেল বৃদ্ধের

পটুয়াখালী সদর উপজেলার লোহালিয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডে একটি বিয়ের প্রসঙ্গকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বারেক ফকির (৬৫) নামের এক বৃদ্ধ নির্মমভাবে মারধরের শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। ঘটনাটি ঘটে শনিবার (৩ মে) জোহরের নামাজ শেষে স্থানীয় মোল্লা বাড়ি মসজিদের সামনে।

প্রত্যক্ষদর্শী এবং নিহতের পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা যায়, নামাজ শেষে আজহার খানের বড় ছেলে আব্দুর রহমানের বিয়ের বিষয়ে মেয়েপক্ষ বারেক ফকিরের কাছে জানতে চাইলে তিনি শান্তভাবে উত্তর দেন। কিন্তু বারেক ফকিরের কথায় রহমান ক্ষিপ্ত হয়ে কিল-ঘুষি মারতে শুরু করেন। এরপর তার ভাই আরিফ লাঠি ও রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করে বৃদ্ধকে গুরুতর আহত করেন।

তাকে তাৎক্ষণিকভাবে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন দেখে বরিশালের শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় রবিবার (৪ মে) দুপুরে পরিবারের লোকজন তাকে বাড়িতে নিয়ে আসছিলেন। কিন্তু ফেরার পথে বিকেল ৫টার দিকে বারেক ফকির মারা যান।

নিহতের ছেলে সুমন ফকির বলেন, “আমার বাবা অত্যন্ত সৎ ও শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন। শুধুমাত্র একটি বিয়ের আলোচনায় মতামত দেওয়ার কারণেই রহমান ও আরিফ মিলে তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। তারা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। চিকিৎসা করিয়ে তাকে বাড়ি ফেরাতে চেয়েছিলাম, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচাতে পারিনি। আমি চাই, এই হত্যাকাণ্ডের সঠিক তদন্ত হোক এবং দোষীদের এমন শাস্তি দেওয়া হোক যেন কেউ ভবিষ্যতে এমন নৃশংসতা ঘটাতে সাহস না পায়।”

ঘটনার বিষয়ে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমরা অভিযানে নেমে অভিযুক্ত আজহার খানকে গ্রেপ্তার করেছি। মামলার অন্যান্য আসামিদের ধরতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় শোক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকাবাসী দোষীদের দ্রুত বিচার দাবি করেছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



গাজীপুরে হাসনাত আব্দুল্লাহর গাড়িতে হামলা, আটক ২

গাজীপুরের ব্যস্ততম চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহর গাড়িতে দুর্বৃত্তদের হামলার ঘটনা রীতিমতো চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনায় গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে দুইজনকে আটক করেছে। রোববার (৪ মে) সন্ধ্যায় এ হামলার ঘটনা ঘটে এবং একই রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ জানায়, আটক হওয়া ব্যক্তিরা হলেন গাজীপুর মহানগরের ১৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা মো. নিজাম উদ্দিন এবং কাশিমপুর থানাধীন শেখ রাসেল শিশু কিশোর পরিষদের সভাপতি মাসুম আহসেদ দিপু।

ঘটনার সময় গাড়ির চালক জানান, হাসনাত আব্দুল্লাহ গাড়িতে ছিলেন। ঠিক তখনই পেছন দিক থেকে মোটরসাইকেলে করে আসা একদল দুর্বৃত্ত তাদের গাড়ির ওপর অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। হামলায় গাড়ির জানালার কাচ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) রবিউল হাসান সাংবাদিকদের জানান, হামলার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে দ্রুত অভিযান শুরু করা হয়। অভিযানে দুইজনকে আটক করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আর যারা জড়িত, তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ কঠোরভাবে দমন করা হবে। এর পেছনে রাজনৈতিক কোনো কারণ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।

এই হামলার ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এনসিপির পক্ষ থেকে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। দলটির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা জানিয়েছেন, এ ধরনের ঘটনা গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



রোহিঙ্গা সংকট আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি

রোহিঙ্গা সংকট কেবল বাংলাদেশের জন্য নয়, বরং গোটা অঞ্চলের স্থিতিশীলতার উপর হুমকি তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, সংকটটির সমাধানে আন্তর্জাতিকভাবে কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

রাজধানীতে আয়োজিত একটি সেমিনারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তৌহিদ হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে অবস্থান করলেও এখনো তাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের কোনো সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি নেই। তিনি জানান, মিয়ানমারে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, সামরিক জান্তা এবং বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরোধ – সব মিলিয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ভবিষ্যৎকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর থেকে শুরু হওয়া সহিংসতায় ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে কক্সবাজার ও ভাসানচরে ১৩ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছে। অথচ এই দীর্ঘ সময়ে একজন রোহিঙ্গাও নিজ দেশে ফিরতে পারেনি।

তৌহিদ হোসেন আরও বলেন, এই সংকট প্রথম শুরু হয়নি ২০১৭ সালেই। ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে রোহিঙ্গারা ধীরে ধীরে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এ সংকট বর্তমানে এতটাই দীর্ঘমেয়াদী হয়ে উঠেছে যে, তা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক ভারসাম্যের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, লাখো বাস্তুচ্যুত মানুষ, যাদের অর্ধেকই তরুণ, অনির্দিষ্টকালের জন্য শান্তিপূর্ণ থাকবে— এমন আশা করা অযৌক্তিক। এই অব্যাহত অনিশ্চয়তা উগ্রপন্থা ও অস্থিরতা তৈরির উর্বর ক্ষেত্র তৈরি করছে।

তিনি বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে আরাকান আর্মি, সামরিক জান্তা এবং এনইউজি নামে পরিচিত জাতীয় ঐক্য সরকার – এই তিন পক্ষই বর্তমানে রাখাইন রাজ্যে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। আরাকান আর্মি বর্তমানে রাখাইনের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে, যা প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, কেবল দ্বিপাক্ষিক আলোচনা দিয়ে এই সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। প্রয়োজন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে সমন্বিত কূটনৈতিক তৎপরতা এবং চাপ। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, নাগরিক অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করে টেকসই প্রত্যাবাসনের পথ তৈরি করতে হবে।

সেমিনারে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ সরকার মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে কোনো মানবিক করিডোর গঠনে সম্মতি দেয়নি। তিনি বলেন, এ ধরনের গুজব বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। এমনকি জাতিসংঘ মহাসচিবও ‘করিডোর’ শব্দটি ব্যবহার করেননি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এসএম কামরুল হাসান বলেন, রাখাইনে মিয়ানমারের সরকারি কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণহীনতা এবং আরাকান আর্মির প্রভাব বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে কেবল দ্বিপাক্ষিক নয়, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরালোভাবে প্রয়োজন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শাহাব এনাম খান মূল প্রবন্ধে বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা এখন আর শুধু মানবিক সংকট নয়, বরং এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা কাঠামোর বড় একটি দুর্বলতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই সমাধানও হতে হবে সামগ্রিক ও কৌশলগত।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



সিনিয়র আইনজীবীর মৃত্যুতে স্থগিত চিন্ময়ের জামিন শুনানি

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এম. আই. ফারুকীর ইন্তেকালে শ্রদ্ধা জানাতে আজ রবিবার (৪ মে) সুপ্রিম কোর্টে বিচারিক কার্যক্রম আংশিকভাবে স্থগিত রাখা হয়। এ কারণে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় জামিন পাওয়া সাবেক ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন স্থগিত চেয়ে চেম্বার আদালতে নির্ধারিত আজকের শুনানি হয়নি।

সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আপিল বিভাগের বিচারিক কার্যক্রম সকাল ১১টা পর্যন্ত এবং হাইকোর্ট বিভাগের কার্যক্রম দুপুর ১টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত চলবে। এরপর দিনটিতে আর কোনো বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে না।

প্রয়াত আইনজীবী এম. আই. ফারুকীর (অ্যাডভোকেট রোল নম্বর-৭) মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি। তার সম্মানে এবং প্রধান বিচারপতির নির্দেশে এ দিন সুপ্রিম কোর্টে কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়।

চিন্ময়ের আইনজীবী অ্যাডভোকেট অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য দুপুরে গণমাধ্যমকে জানান, আজকের শুনানি হচ্ছে না। তবে আগামীকাল সোমবার শুনানি হতে পারে।

এদিকে, এই জামিন শুনানিকে ঘিরে চট্টগ্রাম আদালত চত্বরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আদালত চত্বরে প্রবেশ পথে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। বিচারপ্রার্থী ও কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে।

সকাল ১১টার দিকে ‘ছাত্রসমাজ’ নামে একটি সংগঠনের কর্মীরা আদালত প্রাঙ্গণে অবস্থান নেন। তারা আইনজীবী আলিফ হত্যার বিচার ও চিন্ময়ের মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানান।

গত ৩০ এপ্রিল রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন প্রশ্নে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে ৪ মে চেম্বার আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আরশাদুর রউফ তখন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

এর আগে হাইকোর্টের বিচারপতি আতোয়ার রহমান খান ও বিচারপতি আলী রেজা মো. আবু জাফর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ চিন্ময়ের জামিন মঞ্জুর করে রুল যথাযথ ঘোষণা করেন। তবে সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপক্ষ এই আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করে, যার শুনানির জন্য ৪ মে তারিখ নির্ধারিত ছিল।

উল্লেখ্য, চিন্ময় কৃষ্ণ দাস গত পাঁচ মাস ধরে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেফতার হয়ে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




মির্জাগঞ্জে ইউপি সদস্যের বাড়িতে সশস্ত্র ডাকাতি, লুট ২.৮৫ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার আন্দুয়া গ্রামে এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যের বাড়িতে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। ডাকাতেরা অস্ত্রের মুখে বাড়ির সবাইকে জিম্মি করে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মুঠোফোন লুট করে নিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী জাফর সিকদার মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এবং পেশায় একজন ইট-বালুর ব্যবসায়ী। তিনি জানান, “রাতের অন্ধকারে মুখোশ পরা ৮ থেকে ৯ জনের একটি ডাকাত দল হঠাৎ দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে পড়ে। আমাদের হাত-পা বেঁধে রেখে তারা পুরো ঘর তছনছ করে। তারা আমার কাছ থেকে প্রায় ২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা, সাড়ে ৪ ভরি স্বর্ণালংকার ও ৪টি মোবাইল ফোন নিয়ে গেছে।”

ডাকাতির সময় বাড়ির সদস্যরা চরম আতঙ্কে ছিলেন বলে জানা গেছে। ডাকাতেরা দেশি অস্ত্র নিয়ে হুমকি দেয় এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে সবকিছু লুট করে পালিয়ে যায়।

খবর পেয়ে রোববার ভোরে মির্জাগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার বলেন, “ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।”

এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বরগুনায় ধর্ষণ মামলার আসামির স্বীকারোক্তি, পাঠানো হলো কারাগারে

বরগুনার তালতলীতে গণধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। শুক্রবার (২ মে) বিকেলে আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই জবানবন্দি দেওয়ার পর তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।

গ্রেপ্তার হওয়া ওই আসামির নাম ইব্রাহীম ওরফে জসিম (২২)। তিনি বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার দক্ষিণ চরদুয়ানি গ্রামের আবদুল মজিদ হাওলাদারের ছেলে।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার সকালেই পাথরঘাটা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে ২৮ এপ্রিল রাতে বিয়ের প্রলোভনে এক কিশোরীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের পর ফেলে রেখে পালিয়ে যায় জসিম। এ ঘটনায় ওই কিশোরীর পরিবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে থানায় মামলা দায়ের করে।

তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজালাল বলেন, “ঘটনার পর থেকে আসামিদের ধরতে অভিযান চালানো হয়। প্রধান আসামিকে আমরা গ্রেফতার করেছি। অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, এমন ঘটনা প্রায়শই ঘটলেও বিচার না হওয়ায় অপরাধীরা বারবার সাহস পাচ্ছে। দ্রুত তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




পটুয়াখালীর বাউফলে নিখোঁজ যুবকের মরদেহ উদ্ধার, হত্যার সন্দেহে তদন্ত শুরু

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় নিখোঁজের তিন দিন পর ইব্রাহীম খলিল (৩১) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (৩ মে) সকালে উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের একটি বাড়ির খড়ের গাদার পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত ইব্রাহীম দক্ষিণ লক্ষীপাশা গ্রামের মো. হাচন গাজীর ছেলে।

পুলিশ জানায়, গত ২৯ এপ্রিল রাতে বাজারে যাওয়ার কথা বলে ইব্রাহীম বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। পরিবার গতকাল শুক্রবার সকালে বাউফল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে।

আজ শনিবার সকালে এক শিক্ষার্থী খড়ের গাদার পাশে মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়দের জানান। খবর পেয়ে বাউফল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আখতারুজ্জামান সরকার বলেন, “প্রাথমিকভাবে এটি একটি হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। মরদেহে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে কিনা, তা জানতে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। ঘটনাটি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি।”

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ইব্রাহীম খলিলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে চেয়ে দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন তার স্বজন ও স্থানীয়রা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



রাবনাবাদ নদীতে ভেসে উঠলো অজ্ঞাত নারীর মরদেহ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় রাবনাবাদ নদী থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক নারীর (৫৫) মরদেহ উদ্ধার করেছে পায়রা বন্দর নৌ-পুলিশ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের চর চান্দুপাড়া এলাকার বুরুজালিয়া গ্রামের পাশ ঘেঁষে বয়ে চলা নদীর তীরে ভেসে আসা অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পান স্থানীয়রা।

পরে তারা বিষয়টি নৌ-পুলিশকে অবহিত করলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ওই নারীর পরনে ছিল একটি ব্লাউজ। তবে তার নাম-পরিচয় এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

স্থানীয়রা ধারণা করছেন, জোয়ারের স্রোতে হয়তো দুরবর্তী কোনো এলাকা থেকে ভেসে এসে ওই স্থানে আটকে গেছে মরদেহটি।

এ বিষয়ে পায়রা বন্দর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ কাওসার গাজী জানান, “মরদেহটি উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন না থাকায় প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করা যায়নি। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি মর্গে পাঠানো হবে।”

এদিকে ঘটনার পর নদীর আশপাশে উৎসুক জনতার ভিড় লক্ষ করা যায়। এখন পর্যন্ত কেউ মরদেহটি দাবি করেনি বলেও জানিয়েছেন পুলিশ সদস্যরা।

উল্লেখ্য, এ নদীটি বিভিন্ন সময় নিখোঁজ কিংবা দুর্ঘটনাজনিত কারণে ভেসে আসা মরদেহ উদ্ধারের জন্য আলোচনায় এসেছে। তবে এই ঘটনায় ওই নারীর মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



মির্জাগঞ্জে মানসিক রোগে ভোগা বৃদ্ধের আত্মহত্যা

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার কাকড়াবুনিয়া গ্রামে এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় নিজের গলায় ‘দা’ চালিয়ে আত্মহত্যা করেছেন মহব্বত আলী (৮০) নামের এক বৃদ্ধ। তিনি মৃত আলেপ হাওলাদারের পুত্র এবং পেশায় কৃষক ছিলেন। তার দুই ছেলে—সোনাপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ফারুক আলম এবং জাকির হাওলাদার। মহব্বত আলীর নাতি বুলবুল কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বুধবার (৩০ এপ্রিল) বেলা ১২টার দিকে পরিবারের সবার অগোচরে ছোট ছেলে জাকির হোসেনের বসতঘরে বসেই ধারালো ‘দা’ দিয়ে নিজের গলায় কোপ দেন তিনি। মুহূর্তেই রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে গেলে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। কিন্তু বরিশাল শহরের প্রবেশমুখে পৌঁছাতেই মহব্বত আলীর মৃত্যু হয়।

স্থানীয় আশ্রাব হাওলাদার জানান, মহব্বত আলী একজন নম্র ও ধর্মপরায়ণ ব্যক্তি ছিলেন। তিনি সিংবাড়ি বাজার জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে সম্প্রতি প্রায় দুই-তিন মাস ধরে তিনি মানসিক রোগে ভুগছিলেন। ঘটনার দু’দিন আগেও তিনি বাড়ি থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন এবং তাকে অনেক খোঁজাখুঁজির পর মাঠে পাওয়া যায়। তিনি মাঝে মধ্যে নিজের জামাকাপড় খুলে উলঙ্গ হয়ে রাস্তায় ঘোরাফেরা করতেন বলেও জানান তিনি।

বড় ছেলে ফারুক আলম বলেন, বাবার মানসিক সমস্যা গত পাঁচ-ছয় মাস ধরে চলছিল। আমরা তাকে ঢাকাসহ বরিশালের বিভিন্ন মানসিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নিয়েছি। কখনও কখনও তিনি পুরোপুরি সুস্থ থাকতেন, আবার হঠাৎ করে অবস্থা খারাপ হয়ে যেত। শেষ দুই দিন ধরে তিনি খুবই বিষণ্ন ও অস্থির ছিলেন।

এ বিষয়ে মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হাওলাদার জানান, আত্মহত্যার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করেছি। মরদেহের সুরতহাল শেষে আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



শতাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ১৩ হাজার কোটি টাকার বেশি স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : দুর্নীতিবাজ, অর্থপাচারকারী, সরকারি অর্থ লোপাটকারী ও ঋণখেলাপিসহ অন্তত শতাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ১৩ হাজার কোটি টাকার বেশি স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দুর্নীতিবাজদের ধরপাকড়ে স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করার ক্ষেত্রে রেকর্ড সাফল্য দেখিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

গত বছরের আগস্ট থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত মাত্র আট মাসে দেশে ও বিদেশে অবস্থান করা তাদের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন রেহানা সিদ্দিকের পরিবারের সদস্যরাও রয়েছেন।

২০২৪ সালের পুরো সময়ে ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা সম্পদের পরিমাণ ছিল মাত্র ৩৬১ কোটি টাকা। ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় তিন হাজার ৪৫০ কোটি টাকা। অর্থাৎ গেল আট মাসে সম্পদ ক্রোক ও ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার ক্ষেত্রে নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি।

দুদকে দায়ের হওয়া বিভিন্ন দুর্নীতির মামলার পরিপ্রেক্ষিতে গত আট মাসে (আগস্ট-মার্চ) আদালতের নির্দেশনায় এসব সম্পদ ক্রোক বা অবরুদ্ধ করা হয়েছে বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে।