মুন্সীগঞ্জে ট্রিপল হত্যা মামলায় ৩ জনের ফাঁসি, ৫ জনের যাবজ্জীবন

মুন্সীগঞ্জের আলোচিত ট্রিপল হত্যা মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন ঢাকার একটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া অপর ১০ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ মে) ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক মাসুদ করিম এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন পাবলিক প্রসিকিউটর মো. বিলাল হোসেন এবং আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট আব্দুল গণি টিটু ও অন্যান্যরা।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—সৌরভ, শিহাব ও রনি। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—সাকিব, শামীম, অনিক, ছোট জাহাঙ্গীর ও রায়হান। তাদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২১ সালের ২৪ মার্চ মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার উত্তর ইসলামপুরে মনিকে ইভটিজিংকে কেন্দ্র করে রাতে একটি সালিশ বসে। সালিশ শেষে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে আওলাদ হোসেন মিন্টু, শাকিব ও ইমনকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। ঘটনাস্থলে ইমন, পরদিন মিন্টু এবং পরে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাকিব মারা যান।

ঘটনার দুই দিন পর, ২৬ মার্চ নিহত মিন্টুর স্ত্রী খালেদা আক্তার বাদী হয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে ২০২২ সালের ৮ জুন পুলিশ ১৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে।

আদালত ১৭ সেপ্টেম্বর চার্জ গঠন করে এবং বিভিন্ন সময় মোট ২৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আজ রায় ঘোষণা করে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




রমনা বটমূলে বোমা হামলা রায়ের পরবর্তী অংশ ঘোষণা ১৩ মে

 চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি নাসরিন আক্তারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ  রমনা বটমূলে পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠানে বোমা হামলার ঘটনায় হত্যা মামলায় আসামিদের ডেথ রেফারেন্সের (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন)  রায় ঘোষণা শুরু করেন আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে এবং বেলা একটার দিকে আদালত পরবর্তী রায় ঘোষণার জন্য ১৩ মে ধার্য  করেন ।

বেলা সোয়া একটার দিকে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুলতানা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, রায় ঘোষণা শুরু হয়েছে। আজ এজাহার, অভিযোগ ও সাক্ষীদের বক্তব্যের দিকগুলো উল্লেখ করা হয়েছে। রায়ের বাকি অংশ ঘোষণার জন্য আগামী মঙ্গলবার দিন রেখেছেন।

আজ শুরুতে আদালত বলেন, আজ ঘটনা ও সাক্ষী পর্যালোচনা করা হবে। বাকিটা (রায়) পরবর্তী তারিখে হবে।

এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী এস এম শাহজাহান বলেন, ‘তাহলে রায়ের আদেশ অংশ (সিদ্ধান্ত) আজ হচ্ছে না?’

তখন আদালত বলেন, ‘আজ আদেশ অংশ হচ্ছে না।’ এরপর রায় ঘোষণা শুরু হয়।

এর আগে আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) ও আপিলের ওপর শুনানি শেষে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন। এরপর গত ৩০ এপ্রিল বিষয়টি আদেশের জন্য আদালতের কার্যতালিকায় ওঠে। সেদিন আদালত রায়ের জন্য আজ বৃহস্পতিবার (৮ মে) দিন ধার্য করেন। এ অনুসারে মামলাটি রায়ের জন্য আজ আদালতের কার্যতালিকায় ১৬৩ নম্বর ক্রমিকে ওঠে।

২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল রমনা বটমূলে পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠানে বোমা হামলা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ৯ জন নিহত হন। পরে হাসপাতালে মারা যান একজন। এ ঘটনায় করা মামলা রমনায় বোমা হামলা মামলা হিসেবে পরিচিতি পায়।

মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ের পর ২০১৪ সালে আসামিদের ডেথ রেফারেন্স অনুমোদনের জন্য হাইকোর্টে আসে। অন্যদিকে কারাগারে থাকা দণ্ডিত আসামিরা জেল আপিল ও নিয়মিত আপিল করেন। ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য গত বছরের ৮ ডিসেম্বর হাইকোর্টের ওই বেঞ্চের কার্যতালিকায় ওঠে। পেপারবুক উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে শুনানি শুরু হয়।

আদালতে আসামিপক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান ও সরওয়ার আহমেদ। দুই আসামির পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির শুনানি করেন। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুলতানা আক্তার ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসিফ ইমরান।

রাজধানীর রমনা বটমূলে বোমা হামলার ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় ২০১৪ সালের ২৩ জুন ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ রুহুল আমিন রায় দেন। রায়ে মুফতি হান্নানসহ আটজনের মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

মুফতি হান্নান ছাড়া মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত ব্যক্তিরা হলেন আকবর হোসেন, আরিফ হাসান, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর ভাই মো. তাজউদ্দিন, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, আবদুল হাই ও শফিকুর রহমান। তবে সিলেটে গ্রেনেড হামলা মামলায় মুফতি হান্নানের মৃত্যুদণ্ড ইতিমধ্যে কার্যকর হয়েছে।

বিচারিক আদালতের রায়ে যাবজ্জীবন দণ্ডিত ব্যক্তিরা হলেন শাহাদাতউল্লাহ জুয়েল, সাব্বির, শেখ ফরিদ, আবদুর রউফ, ইয়াহিয়া ও আবু তাহের।

কোনো ফৌজদারি মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ে কোনো আসামির মৃত্যুদণ্ড হলে তা কার্যকরে হাইকোর্টের অনুমোদন লাগে। এটি ডেথ রেফারেন্স মামলা হিসেবে পরিচিত। পাশাপাশি দণ্ডাদেশের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের জেল আপিল, নিয়মিত আপিল ও বিবিধ আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। ডেথ রেফারেন্স এবং এসব আপিল ও আবেদনের ওপর সাধারণত একসঙ্গে শুনানি হয়ে থাকে।

বোমা হামলার ঘটনায় করা হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ের পর আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের (ডেথ রেফারেন্স) জন্য রায়সহ নথিপত্র হাইকোর্টে আসে, যা ২০১৪ সালে ডেথ রেফারেন্স মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়। এরপর শুনানির পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে পেপারবুক (মামলার বৃত্তান্ত) তৈরি করা হয়। অন্যদিকে কারাগারে থাকা আসামিরা পৃথক আপিল ও জেল আপিল করেন। হত্যা মামলায় পেপারবুক (মামলার বৃত্তান্ত) প্রস্তুতসহ আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়ার পর ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল ২০১৬ সালে হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চে প্রথম শুনানির জন্য ওঠে।

শুনানিও শুরু হয়। পরে কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। এ নিয়ে আলোচিত এই মামলায় আট আসামির ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) ও আপিল হাইকোর্টের তিনটি বেঞ্চের কার্যতালিকায় উঠলেও শুনানি শেষে মামলাটি নিষ্পত্তি হয়নি। এরপর আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিল হাইকোর্টের ওই দ্বৈত বেঞ্চে শুনানির জন্য গত বছরের ৮ ডিসেম্বর কার্যতালিকায় ওঠে। এর ধারাবাহিকতায় শুনানি শেষে এই মামলায় আজ রায় দেওয়া শুরু হলো।




রমনা বটমূলে বর্ষবরণ হামলার রায়ের ঘোষণা শুরু

রাজধানীর রমনা বটমূলে ২০০১ সালে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে সংঘটিত ভয়াবহ বোমা হামলার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায় ঘোষণা শুরু হয়েছে হাইকোর্টে। আজ মঙ্গলবার বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চে এই রায়ের কার্যক্রম শুরু হয়।

তবে দণ্ডাদেশ সংক্রান্ত আদেশের অংশ আজ ঘোষণা করা হবে না বলে জানিয়েছেন আসামিপক্ষের সিনিয়র আইনজীবী এস এম শাহজাহান। এর আগে, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট এ মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের দীর্ঘ শুনানি শেষে রায় প্রস্তুতের জন্য বিষয়টি সিএভি (Curia Advisari Vult) অর্থাৎ “বিচারাধীন” ঘোষণা করেন। পরে ৮ মে রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়।

হাইকোর্টে আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী এস এম শাহজাহান, সরওয়ার আহমেদ ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুলতানা আক্তার রুবী।

২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষের প্রথম প্রহরে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে রমনা বটমূলে সংঘটিত হয় বর্বরোচিত এই বোমা হামলা। এই হামলায় ঘটনাস্থলেই নয়জনের মৃত্যু হয় এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন মারা যান। হামলার পরপরই নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বরত সার্জেন্ট অমল চন্দ্র চন্দ রমনা থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন।

ঘটনার সাত বছর পর ২০০৮ সালের ৩০ নভেম্বর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ১৪ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। সাক্ষ্য ও প্রমাণ পর্যালোচনার পর ২০১৪ সালের ২৩ জুন বিচারিক আদালত রায় ঘোষণা করেন। সেই রায়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের (হুজি) শীর্ষ নেতা মুফতি আব্দুল হান্নানসহ আটজনের মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— মুফতি আব্দুল হান্নান, মাওলানা আকবর হোসেন, আরিফ হাসান সুমন, মাওলানা তাজউদ্দিন, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, মাওলানা আবু বকর ওরফে মাওলানা হাফেজ সেলিম হাওলাদার, মাওলানা আবদুল হাই এবং মাওলানা শফিকুর রহমান। এদের মধ্যে মুফতি হান্নানের মৃত্যুদণ্ড ইতোমধ্যে সিলেটের গ্রেনেড হামলা মামলায় কার্যকর হয়েছে।

বিচারিক আদালতের রায়ের পর নিয়ম অনুযায়ী মামলাটি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে আসে এবং আসামিপক্ষ জেল আপিলও করে। রমনা বটমূল হামলার রায়ের মাধ্যমে এ দেশের বিচার ব্যবস্থায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রচিত হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ব্যাংককে পাড়ি দিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ




পটুয়াখালীতে কিশোরীকে বাগানে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, আটক ২

পটুয়াখালীর সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নে এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (৬ মে) রাত ১০টার দিকে বাদুরা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরদিন বুধবার সকালে ভিকটিমকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছে সদর থানা পুলিশ।

ভিকটিমের পরিবার জানায়, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে কিশোরীটি নিজ বাড়ি থেকে নিকটবর্তী চাচার বাড়িতে যাওয়ার পথে পাশের গ্রামের তিন যুবক রাসেল মিঠু (৩০), মিরাজ (২৮) ও রানা (৩২) তাকে মুখ চেপে ধরে পাশের একটি নির্জন বাগানে নিয়ে যায়। সেখানে আরও তিন থেকে চারজন আগে থেকেই অবস্থান করছিল। পরে তারা মেয়েটিকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

পরিবারের ভাষ্যমতে, এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে তাস খেলা ও মাদকসেবনের আড্ডাখানা হয়ে উঠেছে। প্রতিবেশীরা এই চক্রের বিরুদ্ধে একাধিকবার অভিযোগ জানালেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তারা দ্রুত বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

খবর পেয়ে পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে রাসেল মিঠু (৩০) ও রাহাত (২২) নামের দুইজনকে আটক করে। তবে ঘটনায় জড়িত আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সদর থানার এসআই মো. কামরুল বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত চলছে, বাকি অভিযুক্তদেরও ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্নের জন্য তাকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

##########
মো: আল-আমিন




কলাপাড়ায় খালে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় একটি খাল থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি বুধবার (৭ মে) সকাল সাড়ে আটটার দিকে ঘটে পৌর শহরের রহমতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের জীন খালে। হঠাৎ এমন ঘটনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য।

স্থানীয়রা জানায়, প্রতিদিনের মতো খালে ময়লা ফেলতে গিয়েই লাশটি ভেসে থাকতে দেখেন তারা। এরপর সাথে সাথে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। নিহত নারীর বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁর পরনে ছিল লাল ও খয়েরি রঙের মেক্সি।

লাশটির মুখ ও শরীরের কিছু অংশ ইতোমধ্যেই পোকায় খেয়ে ফেলায় তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয়দের ধারণা, ওই খালে জোয়ার-ভাটার পানি না থাকায় কেউ হয়তো পরিকল্পিতভাবে এই নারীকে হত্যা করে মরদেহ এখানে ফেলে রেখে গেছে।

এদিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ চলছে।

কলাপাড়া থানার ওসি (তদন্ত) ইলিয়াস তালুকদার বলেন, “ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই আমরা পুলিশ পাঠিয়েছি। লাশটি উদ্ধার করে তদন্ত শুরু হয়েছে।”

এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অজ্ঞাত এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য দ্রুত উদঘাটনের দাবি জানাচ্ছেন স্থানীয়রা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



জামায়াতের নিবন্ধন ফিরে পেতে আপিল শুনানি ১৩ মে

রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বাতিল হওয়া নিবন্ধন ফিরে পেতে দায়ের করা আপিল শুনানির জন্য আগামী ১৩ মে দিন ধার্য করেছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগ।

বুধবার (৭ মে) প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ শুনানির এই তারিখ নির্ধারণ করেন। এদিন আদালতে জামায়াতের পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির মামলা দ্রুত শুনানির জন্য আবেদন জানান।

এর আগে ২০২৪ সালের ১২ মার্চ আপিল বিভাগের বেঞ্চে এই মামলার আংশিক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়, তবে পরে আর তা এগোয়নি।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২২ অক্টোবর আপিল বিভাগ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল নিয়ে করা আপিলটি পুনরুজ্জীবিত করার আদেশ দেন। এর ফলে রাজনৈতিক দল হিসেবে দলটির নিবন্ধন ও প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ ফিরে পাওয়ার লক্ষ্যে আইনি প্রক্রিয়ায় ফের সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ উন্মুক্ত হয়।

জামায়াতের পক্ষে শুনানিতে অংশ নিয়েছেন ব্যারিস্টার এহসান এ. সিদ্দিকী এবং অ্যাডভোকেট শিশির মনির। অন্যদিকে রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড আলী আজম।

প্রসঙ্গত, ১ সেপ্টেম্বর দলটির নিবন্ধন পুনর্বহালের আবেদনের শুনানির জন্য প্রথমে ২২ অক্টোবর তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন চেম্বার আদালত। পরবর্তী সময়ে এই শুনানি নিয়েই ধারাবাহিকভাবে চলছে আদালতের কার্যক্রম।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



কুয়াকাটায় পর্যটককে মারধর ও অর্থ ছিনতাই, যুবদল নেতাসহ আটক ৩

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় হোটেল ব্লু-বার্ডে এক পর্যটককে মারধর করে ৪০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে যুবদল নেতাসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (৬ মে) মহিপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—কুয়াকাটা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদল সভাপতি ও হোটেল ব্লু-বার্ডের ভাড়াটিয়া মালিক মো. বেল্লাল হোসেন (৪৫), তার সহযোগী রিয়াজ (২৪) এবং শাকিল (২৪)। পলাতক রয়েছেন মামলার অপর আসামি ইউসুফ হাওলাদার (২৭)।

পুলিশ সূত্র জানায়, ঢাকা মিরপুরের বাসিন্দা পর্যটক তুহিন চার দিন আগে হোটেল ব্লু-বার্ডে ওঠেন। চুক্তি অনুযায়ী প্রতিদিন ১ হাজার টাকার ভিত্তিতে থাকার কথা থাকলেও হোটেল কর্তৃপক্ষ চার দিনের জন্য ১২ হাজার টাকা দাবি করে। এ নিয়ে আপত্তি জানালে সোমবার রাত ৩টার দিকে তুহিনকে হোটেলের একটি কক্ষে আটকে রেখে মারধর করা হয় এবং জোর করে তার কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা আদায় করা হয়।

পরে আরও ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে কক্ষটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। এই অবস্থায় তুহিন ৯৯৯-এ ফোন করলে মহিপুর থানা পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে এবং তিনজনকে গ্রেফতার করে।

মহিপুর থানার ওসি তারিকুল ইসলাম জানান, “ভুক্তভোগীর ফোন পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। তাকে উদ্ধার করে অভিযুক্তদের আটক করা হয়। মামলা হয়েছে এবং পলাতক আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।”

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, হোটেল ব্লু-বার্ডে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ কর্মকাণ্ড চলছিল, যার মধ্যে রয়েছে পতিতাবৃত্তি। তবে হোটেলটির মালিক বেল্লাল হোসেন দাবি করেন, “ভুক্তভোগী তুহিন আগে থেকেই হোটেলে পতিতা সরবরাহ করতেন। আর্থিক লেনদেন নিয়েই মূল ঘটনা ঘটে।”

এ বিষয়ে কুয়াকাটা পৌর যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মো. ফারুক বলেন, “যদি কেউ যুবদলের নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিগত অপকর্মে লিপ্ত থাকে, তাহলে দল তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



চিন্ময়কে দেওয়া জামিন স্থগিত করেছেন চেম্বার আদালত




বাউফলে দুর্বৃত্তের আগুনে পুড়ে ছাই গোয়ালঘর, প্রাণ গেল গরু-ছাগলসহ শতাধিক প্রাণীর

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় দুর্বৃত্তের দেওয়া আগুনে একটি গোয়ালঘর সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে দুটি গরু, দুটি খাসি ছাগল ও অর্ধশতাধিক হাঁস-মুরগি পুড়ে মারা গেছে। ভয়াবহ এ ঘটনা ঘটে শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের মমিনপুর গ্রামে।

অগ্নিকাণ্ডে বাড়ির মালিক ও অটোরিকশা চালক নিজাম উদ্দিন (৫০) গুরুতর আহত হয়েছেন। আগুন নেভাতে গিয়ে তার মুখমণ্ডল, পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে পোড়ার চিহ্ন রয়েছে।

নিজাম উদ্দিন জানান, গভীর রাতে গোয়ালঘর থেকে গবাদিপশুর ডাক শুনে ঘর থেকে বের হয়ে তিনি দেখতে পান গোয়ালঘরে আগুন লেগেছে। চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এসে চেষ্টা করলেও মুহূর্তেই আগুন গোয়ালঘর গ্রাস করে। আগুনে পুড়ে মারা যায় দুটি গরু, দুটি ছাগল ও অর্ধশতাধিক হাঁস-মুরগি। প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, এর আগেও তাদের বাড়িতে একাধিকবার চুরির ঘটনা ঘটেছে। তাদের ধারণা, পূর্বপরিকল্পিতভাবে দুর্বৃত্তরা এ আগুন লাগিয়েছে। আগুনে তাদের সংসার ধ্বংস হয়ে গেছে বলে দাবি করেন তারা।

বাউফল থানার ওসি আখতারউজ্জামান সরকার জানান, এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্তের মাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করার আশ্বাস দেন তিনি।

মো. আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম