মাগুরায় শিশু ধর্ষণ-হত্যা মামলায় হিটু শেখের ফাঁসি

মাগুরা জেলাজুড়ে আলোচিত শিশু ধর্ষণ ও নির্মম হত্যার ঘটনায় অবশেষে ন্যায়বিচার পেল ভুক্তভোগী পরিবার। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে শনিবার মাগুরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান, প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। অন্যদিকে, মামলার আরও তিনজন আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাদের বেকসুর খালাস দেন।

সরকারি কৌঁসুলি এহসানুল হক সমাজী সাংবাদিকদের বলেন, “১৬৪ ধারার জবানবন্দি, মেডিকেল রিপোর্ট এবং প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষ্য—সবকিছু বিশ্লেষণ করেই আদালত এই রায় দিয়েছেন। আমরা আশা করেছিলাম ন্যায়বিচার হবে, এবং সেটাই হয়েছে।”

মামলার শুরুটা ছিল হৃদয়বিদারক। চলতি বছরের ৬ মার্চ, মাত্র আট বছর বয়সী শিশুটি তার বড় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে পাশবিকতার শিকার হয়। পরদিন সকালে গুরুতর আহত ও অচেতন অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে প্রথমে মাগুরা সদর হাসপাতাল ও পরে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ শিশুটির মৃত্যু হয়, যা পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও শোকের সৃষ্টি করে।

৮ মার্চ শিশুটির মা বাদী হয়ে মাগুরা সদর থানায় ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে উঠে আসে ভয়ংকর সব তথ্য। তদন্তে জানা যায়, শিশুটির বড় বোনের স্বামীর বাবা হিটু শেখ তাকে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় ভিকটিমের বোনের স্বামী ও ভাশুর ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং বোনের শাশুড়ি ঘটনাস্থলের আলামত ধ্বংসে যুক্ত ছিলেন বলেও অভিযোগ উঠে।

১৩ এপ্রিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মো. আলাউদ্দিন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরপর ১৭ এপ্রিল মামলাটি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত হয় এবং ২০ এপ্রিল অভিযোগপত্র গ্রহণ করা হয়। ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার।

২৭ এপ্রিল থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় এবং মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে মামলার ১৩ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। ১৩ মে উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে ১৭ মে রায়ের দিন ধার্য করা হয়।

অবশেষে আদালত মামলার মূল আসামি হিটু শেখের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারা অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করে। তার বোনের স্বামী, ভাশুর ও শাশুড়ি বেকসুর খালাস পেলেও এ রায়ের মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে, ন্যায়বিচার পেতে বড় অসাধ্য কিছু নয়।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা আদালতের এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি এই রায় সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



কলাপাড়ার হত্যা মামলার পলাতক আসামি গ্রেফতার

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় হত্যা মামলার পলাতক আসামি এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছাত্রলীগের নেতা নুরুজ্জামান মুন্সী ওরফে নুরছি (২৮) কে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। তিনি কলাপাড়ার মিঠাগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত ছিলেন। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর অবশেষে তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হলো।

কলাপাড়া থানা সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে বর্বরোচিতভাবে রাকিবুল ইসলামকে কুপিয়ে জখম করা হয়। হত্যার উদ্দেশ্যেই চালানো এই হামলায় তার এক হাত কব্জির কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। হত্যাকাণ্ডের পরপরই প্রধান অভিযুক্ত নুরুজ্জামান মুন্সী আত্মগোপনে চলে যান এবং টানা প্রায় তিন বছর ধরেই পলাতক ছিলেন।

বুধবার (১৪ মে) র‍্যাব-১১ এর একটি চৌকস দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। এরপর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বৃহস্পতিবার রাতে তাকে পটুয়াখালীর কলাপাড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়। একইদিন দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে, যেখানে তার বিরুদ্ধে আইনগত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

এই ঘটনায় কলাপাড়াসহ পুরো পটুয়াখালী জেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা ন্যায়বিচার চেয়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছিলেন। অবশেষে প্রধান আসামির গ্রেফতারের খবরে নিহত রাকিবুলের পরিবার ও এলাকাবাসীর মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



কুয়াকাটায় ফিলিং স্টেশনে দুর্বৃত্তদের আগুন, সিসিটিভিতে ধরা পড়ল দুই মুখোশধারী

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় একটি ফিলিং স্টেশনে রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে অল্পের জন্য বড় ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বুধবার (১৪ মে) রাত ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার সময়কার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মুখে কাপড় বাঁধা অবস্থায় দুই ব্যক্তি ফিলিং স্টেশনের দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করে পেছনের অংশে আগুন লাগিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। তখনই সড়কে থাকা কয়েকজন অটোরিকশা চালক আগুন দেখতে পেয়ে ফিলিং স্টেশনের স্টাফদের খবর দেন।

সাদ্দাম নামের এক কর্মচারী জানান, “রাতের ডিউটি শেষে ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ অটোরিকশা চালকদের চিৎকারে ঘুম ভেঙে যায়। তারা জানায় পেছনে আগুন জ্বলছে। আমরা সবাই মিলে পানি ঢেলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি।”

পাম্পের মালিক কাদের ফরাজী বলেন, “রাতে ফোনে খবর পাই, পাম্পে আগুন লেগেছে। সঙ্গে সঙ্গে ছুটে গিয়ে দেখি, দুটি পুরনো পরিত্যক্ত মেশিন ও সাতটি খালি ড্রামে আগুন দেওয়া হয়েছে। পরে সিসিটিভি ফুটেজ ঘেঁটে দেখা যায়, অজ্ঞাতনামা দুজন কাপড় বাঁধা অবস্থায় আগুন দিয়ে পালিয়ে গেছে।”

এ ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মো. আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



 ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার পরবর্তী শুনানি ২৬ মে

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর গুলিস্তানে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার মামলায় খালাসপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের লিভ টু আপিলের পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ২৬ মে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

বৃহস্পতিবার (১৫ মে) দুপুরে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের বেঞ্চ এই দিন ধার্য করেন।

◾ খালাসের রায় ও আপিল প্রক্রিয়া

গত ১ ডিসেম্বর হাইকোর্ট বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ সব আসামিকে খালাস দেন। এরপর ১৯ মার্চ রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল দায়ের করে।

◾ রক্তাক্ত ইতিহাস: ২১ আগস্ট ২০০৪

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গুলিস্তানে আওয়ামী লীগের সমাবেশে সংঘটিত ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় দলের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন এবং বহু নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন। মতিঝিল থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা দায়ের করা হয়।

সিআইডি ২০০৮ সালে মামলার চার্জশিট জমা দিলে বিচার শুরু হয়। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর মামলার অধিকতর তদন্তে বিএনপি নেতাদের নাম যুক্ত হয়।

◾ ২০১৮ সালের বিচারিক রায়

২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ মামলার রায় ঘোষণা করেন। এতে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং তারেক রহমানসহ আরও ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বাকি ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

এই রায়ের বিপরীতে হাইকোর্টের রায়ে সব আসামিকে খালাস দিলে তা নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ভোলায় ১০ বছর পর ডাকাতির ঘটনায় পিটিয়ে হত্যার দায়ে ৪ জনের যাবজ্জীবন

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় ২০১৫ সালে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ১০ বছর পর আদালত চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। পাশাপাশি, আট আসামিকে মামলা থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

আজ (১৪ মে, ২০২৫) দুপুরে চরফ্যাশনের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। আদালতের সহকারী জজ সাখাওয়াত হোসাইন আসামিদের অনুপস্থিতিতে এই রায় দেন, যা রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত কৌঁসুলি (এপিপি) মোহাম্মদ হিরন নিশ্চিত করেছেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা:

১. হাফেজ মনির উদ্দিন (ওসমানগঞ্জ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড, হাজী আ. লতিফ মিয়ার ছেলে)
২. জাভেদ মিয়া (প্রয়াত হাজী আবু তাহেরের ছেলে)
৩. মো. হাবিত (হাফেজ মনির উদ্দিনের ছেলে)
৪. মোস্তফা জমাদার টুটুল (উত্তর ফ্যাশনের শাজাহান মানিক জমাদারের ছেলে)

মনে করা হচ্ছে, মনির উদ্দিন ও টুটুলকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

২০১৫ সালের ২৪ এপ্রিল চরফ্যাশনের ওসমানগঞ্জ ইউনিয়নের উত্তর ফ্যাশন গ্রামে নুর উদ্দীনের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে, যেখানে তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হন। ভুক্তভোগীদের দাবি, ডাকাতির ঘটনায় জাফর ইমাম স্বপন জড়িত ছিলেন।

ঘটনার পরদিন, ২৫ এপ্রিল, স্বপন রিকশায় চড়ে নায়েবের পুল বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় মনির উদ্দিন এবং টুটুল তাকে আটক করে লতিফ মিয়ার হাটে নিয়ে যান। সেখানে তাকে বেঁধে মারধর করা হয়, এবং নির্যাতনের এক পর্যায়ে ঘটনাস্থলেই স্বপন মারা যান।

এ ঘটনায় চরফ্যাশন থানার তৎকালীন এসআই ছগীর মিয়া ১২ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। আদালত এই মামলার শুনানি শেষে, চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন এবং তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা দেন। জরিমানা না দিলে, তাদের আরও তিন মাস কারাবাস করতে হবে।

এ রায়ের মাধ্যমে ১০ বছর পর স্বপনের হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়েছে এবং বিচারপ্রার্থীরা কিছুটা হলেও শান্তি পেয়েছেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




দুমকিতে  দুই পেশাদার ডাকাত অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার

পটুয়াখালী জেলার দুমকিতে পুলিশের চেকপোস্টে তল্লাশির সময় ধরা পড়েছে দুই পেশাদার অস্ত্রধারী ডাকাত। মঙ্গলবার (১৪ মে) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টায় উপজেলার লেবুখালী এলাকার পায়রা সেতুর টোল প্লাজা সংলগ্ন চেকপোস্টে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের নিয়মিত তল্লাশি অভিযানে ধরা পড়ে আল আমিন দুয়ারি (৪৫) ও তারেক বেপারি (৪২) নামের দুই ডাকাত।

তল্লাশিকালে ওই দুই সন্দেহভাজন মোটরসাইকেল আরোহীকে থামিয়ে তাদের ব্যাগে তল্লাশি চালানো হয়। পুলিশ তখন তাদের ব্যাগ থেকে উদ্ধার করে দুইটি অত্যাধুনিক বিদেশি পিস্তল, পুলিশের ব্যবহৃত হ্যান্ডকাফ, তিন সেট বারবের পোষাক, পাঁচটি মোবাইল ফোন, একটি ওয়াকিটকি, দুটি গাড়ির নম্বরপ্লেট, প্লাস, স্ক্রু ড্রাইভারসহ ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম।

ধৃত ডাকাত আল আমিন দুয়ারি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার সূর্যমনি ইউনিয়নের মৃত বারেক দুয়ারির ছেলে এবং অপরজন তারেক বেপারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার কাশেম বেপারির ছেলে। পুলিশ জানায়, এদের বিরুদ্ধে বাউফল, নবীনগরসহ দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক ডাকাতি, ছিনতাই ও চুরির মামলা রয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ জাকির হোসেন বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “তল্লাশিকালে আমরা দুজনকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছি। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে এবং বুধবার তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



জব্দকৃত ৩০ মণ সামুদ্রিক মাছ এতিমখানায় বিতরণ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পরিবহন করা সামুদ্রিক ৩০ মণ মাছ জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। মঙ্গলবার (১৪ মে) রাত ১১টার দিকে পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ‘অন্তরা পরিবহন’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাসে অভিযান চালিয়ে এসব মাছ জব্দ করা হয়।

অভিযান পরিচালনা করেন কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসীন সাদেক। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা।

জব্দ করা মাছের মধ্যে ছিল চিংড়ি, লইট্টা, পোয়া ও অন্যান্য সামুদ্রিক প্রজাতি। এসব মাছ কলাপাড়ার ধুলাসার এলাকা থেকে সংগ্রহ করে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলে জানিয়েছেন মৎস্য কর্মকর্তা। জব্দকৃত মাছের বাজারমূল্য প্রায় তিন লাখ টাকা।

পরবর্তীতে মাছগুলো বিভিন্ন এতিমখানা ও মাদ্রাসায় বিতরণ করা হয়। তবে, নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সামুদ্রিক মাছ পরিবহন না করার মুচলেখা দিলে বাস ও চালককে ছেড়ে দেওয়া হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসীন সাদেক বলেন, “১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত ৫৮ দিনের জন্য সাগরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কিছু অসাধু জেলে সাগর থেকে মাছ আহরণ করছে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, মৎস্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয়ে অভিযান চলমান রয়েছে এবং অবরোধ শতভাগ সফল করতে প্রশাসন তৎপর রয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ছুরিকাঘাতে ঢাবি শিক্ষার্থী নিহত

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে শাহরিয়ার আলম সাম্য (২৫) নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৩ মে) দিবাগত রাত ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত সাড়ে ১২টায় মৃত ঘোষণা করেন।

মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় অন্য আরেকটি মোটরসাইকেলে ধাক্কা লাগায় কথা কাটাকাটির জেরে দুর্বৃত্তরা শাহরিয়ার আলমকে ছুরিকাঘাত করে বলে জানা গেছে।

নিহত শাহরিয়ার আলম সাম্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা গবেষণা বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ছিলেন।




পটুয়াখালীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রনেতা সিফাত গ্রেফতার

পটুয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসম্পাদক এবং বর্তমানে নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত আমিনুর রহমান সিফাতকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৩ মে) রাতের আঁধারে পৌর শহরের বড় চৌরাস্তা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ যৌথ অভিযানে অংশ নেয় জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ও সদর থানা পুলিশ।

পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনুসের কুশপুত্তলিকা পোড়ানোর ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।”

গ্রেফতারকৃত সিফাতকে দুপুরে আদালতে পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম।



কলাপাড়ায় সাগর থেকে অবৈধভাবে আহরণকৃত ১২ মণ মাছ জব্দ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সাগর থেকে অবৈধভাবে আহরণ করা সাড়ে ১২ মণ সামুদ্রিক মাছ জব্দ করেছে পায়রা বন্দরের কোস্টগার্ড। সোমবার (১২ মে) বিকেলে পৌর শহরের লঞ্চঘাট এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

জব্দকৃত মাছের মধ্যে ছিল পাঁচ মণ লইট্টা, তিন মণ ডাডি, তিন মণ টাইগার চিংড়ি ও দেড় মণ পোয়া। কোস্টগার্ড সূত্র জানায়, রাঙ্গাবালী উপকূলীয় এলাকা থেকে মাছগুলো সংগ্রহ করে ঢাকায় পাচারের জন্য কলাপাড়ায় আনা হচ্ছিল। জব্দকৃত মাছের বাজারমূল্য প্রায় এক লাখ টাকা বলে অনুমান করা হচ্ছে।

সরকার ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত সমুদ্র ও উপকূলীয় অঞ্চলে মাছ ধরা, পরিবহন ও বিপণনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এ বিষয়ে কলাপাড়ার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদেক বলেন, “ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বাড়াতে প্রতিবছর ৫৮ দিনের এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। কিন্তু কিছু অসাধু চক্র তা অমান্য করে মাছ শিকার করে চলেছে।”

তিনি আরও জানান, “জব্দকৃত মাছগুলো স্থানীয় এতিমখানা, মাদ্রাসা ও হতদরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল জেলেদের প্রতি নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে, অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম।