বরগুনার আমতলী উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মূল প্রবেশপথ দুই জরাজীর্ণ পরিত্যক্ত ভবনের মাঝ দিয়ে। এ কারণে প্রতিদিন বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী ও আদালতের কর্মচারীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই পথ ব্যবহার করছেন। সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন, ভবন দুটি দ্রুত অপসারণ করা উচিত, নতুবা বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
জানা গেছে, ১৯৭৫ সালে বিএডিসি কর্তৃপক্ষ আদালতের সামনে দুটি দ্বিতল পাকা ভবন নির্মাণ করে, যেটি মূলত মেশিনারিজ যন্ত্রাংশ ও কৃষি উপকরণ সংরক্ষণের জন্য। প্রায় ১৫ বছর আগে উপজেলা প্রশাসন এই ভবনগুলোকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়েও সেগুলো অপসারণ করা হয়নি।
বর্তমানে ভবন দুটির মধ্যে দিয়ে আদালতের প্রধান প্রবেশদ্বার নির্মিত হওয়ায় হাজারো মানুষ প্রতিদিন ঝুঁকিপূর্ণ পথ ব্যবহার করছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, ইট, পাথর ও বিম খসে পড়ছে, দেয়ালে পরগাছা জন্মেছে এবং ভিতরের অবস্থা এমন যে দিনের বেলাতেও সেখানে ঢুকতে মানুষ ভয় পাচ্ছেন।
বিচারপ্রার্থী আব্দুল মাজেদ বলেন, “আদালতের সামনে এভাবে দুটি পরিত্যক্ত ভবন থাকা যেমন দৃষ্টিকটু, তেমনি আমাদের জীবনের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। দ্রুত ভবন দুটি অপসারণ করা প্রয়োজন।”
আদালতের পেশকার মো. আবুবকর বলেন, ভবন ধসে পড়লে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারে। জেলা বার সদস্য ও অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মো. জসিম উদ্দিন উল্লেখ করেছেন, উপজেলা প্রশাসনকে একাধিকবার অবহিত করা হয়েছে, কিন্তু কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
উপজেলা বিএডিসির উপসহকারী প্রকৌশলী সৈয়দ মোহাইমিনুল ইসলাম বলেন, ভবনগুলো বহু আগেই পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে, কেন এখনো অপসারণ হয়নি, তা তারও বোধগম্য নয়। উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী মো. ইদ্রিস আলী জানিয়েছেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইউএনও মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, ভবন দুটি যথাযথ প্রক্রিয়ায় দ্রুত অপসারণ করা হবে।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫