প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রধান বিচারপতির সৌজন্য সাক্ষাৎ

প্রধান বিচারপতি

বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি মাননীয় বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ আজ মঙ্গলবার দক্ষিণ আফ্রিকার সাংবিধানিক আদালতের প্রধান বিচারপতি মাননীয় বিচারপতি ম্যান্ডিসা মায়ার (Mandisa Maya) সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সাক্ষাৎটি অনুষ্ঠিত হয় দক্ষিণ আফ্রিকার সাংবিধানিক আদালত প্রাঙ্গণে।

সাক্ষাৎকালে দুই দেশের প্রধান বিচারপতি পরস্পরের কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি নিজ নিজ দেশের বিচার বিভাগের অভিজ্ঞতা, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন।

বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি সাক্ষাৎকালে দেশের বিচার ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও কার্যকারিতার উন্নয়নে তাঁর ঘোষিত রোডম্যাপের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন। তিনি জানান, এ রোডম্যাপের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে একাধিক সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

এসময় দক্ষিণ আফ্রিকার প্রধান বিচারপতি বাংলাদেশের বিচার বিভাগ সংস্কারে প্রধান বিচারপতি ড. রেফাত আহমেদের নেতৃত্ব ও দূরদর্শিতার প্রশংসা করেন। পাশাপাশি তিনি মানবাধিকার সুরক্ষায় বাংলাদেশের বিচার বিভাগের ভূমিকাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।

বিচারপতি ম্যান্ডিসা মায়া আরও জানান, দক্ষিণ আফ্রিকার মানবাধিকার কমিশনের সহযোগিতায় সাংবিধানিক প্রশ্নসমূহের সমাধানে তাদের আদালতের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল এবং সেই অভিজ্ঞতা কীভাবে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে প্রভাব ফেলেছে।

সাক্ষাৎটি দুই দেশের বিচার বিভাগের পারস্পরিক সহযোগিতা ও জ্ঞান বিনিময়ের ক্ষেত্রে এক ইতিবাচক অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।




বীর মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে কটুক্তি, সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা

ফেসবুকে একজন খ্যাতিমান বীর মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য এবং অপপ্রচার চালানোর অভিযোগে বরিশালের সাইবার ট্রাইব্যুনালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগকারী হলেন পাঁচটি সম্মাননা পাওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মো. মজিবুর রহমান মাঝি। মামলার আসামির তালিকায় রয়েছেন গৌরনদী পৌরসভার আশোকাঠী এলাকার তুহিন ফকির ওরফে টিএম তুহিন, গোরক্ষডোবা গ্রামের সজিব মাঝি এবং তাঁরাকুপি গ্রামের পপি ও তার স্বামী আজমল সিদ্দিকী সোহাগ।

সোমবার (১৯ মে) বরিশাল সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দাখিল করা হয়। বাদীপক্ষের আইনজীবী এইচ এম মিজানুর রহমান পিকু জানান, বিচারক গোলাম ফারুক মামলাটি আমলে নিয়ে গৌরনদী থানার ওসিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, মো. মজিবুর রহমান মাঝি ১৯৬৮ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং ১৯৭১ সালে কুর্মিটোলা ট্রানজিট ক্যাম্প থেকে পালিয়ে ৯ নম্বর সেক্টরে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। স্বাধীনতার পর তিনি কর্পোরাল হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং ১৯৮১ সালে অবসর গ্রহণ করেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, অভিযুক্তরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে শুধু মজিবুর রহমান মাঝিকে নয়, বরং গোটা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকেই অপমান করেছে। অভিযোগে বলা হয়, পপি ও তার স্বামীর প্ররোচনায় তুহিন ফকির ও সজিব মাঝি তাদের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে একাধিক অশ্লীল, মিথ্যা ও মানহানিকর পোস্ট করেন।

এ বিষয়ে গৌরনদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইউনুস মিয়া জানান, “মামলার কপি এখনো হাতে পাইনি। কপি পাওয়ার পর তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ইশরাকের মেয়র শপথ ঠেকাতে হাইকোর্টে রিট, শুনানি দুপুরে

বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র হিসেবে শপথ নিতে না দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে করা একটি রিট আবেদনের শুনানি হবে আজ (মঙ্গলবার) দুপুর ১টায়। শুনানি অনুষ্ঠিত হবে হাইকোর্টের বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরী ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে।

এর আগে গত সপ্তাহে ঢাকা দক্ষিণ সিটির বাসিন্দা মো. মামুনুর রশিদ এই রিট আবেদন করেন। রিটে উল্লেখ করা হয়েছে, আদালতের রায় এবং নির্বাচন কমিশনের গেজেট অনুসারে ইশরাক হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করা হলেও, তা বাস্তবায়নে অনিয়ম ও অসঙ্গতি রয়েছে। একই সঙ্গে রিটে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের বিচারকের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হয়েছে।

কী ঘটেছিল?

২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শেখ ফজলে নূর তাপস প্রায় পৌনে দুই লাখ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। বিএনপির প্রার্থী ছিলেন ইশরাক হোসেন।

তবে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে চলতি বছরের ২৭ মার্চ ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ ও নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. নুরুল ইসলাম নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে ইশরাক হোসেনকে বৈধ মেয়র ঘোষণা করেন।

এরপর নির্বাচন কমিশন ২৭ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে গেজেট প্রকাশ করে তাকে মেয়র হিসেবে ঘোষণা করে।

সমর্থকদের আন্দোলন

গেজেট প্রকাশের পরও এখনো শপথ গ্রহণ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ইশরাক সমর্থকরা। তারা কয়েকদিন ধরে নগর ভবনের সামনে অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন। সোমবার তারা নগর ভবন ব্লক করে রাখেন এবং আজ মঙ্গলবারও তাদের কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।

সবচোখ এখন দুপুর ১টার হাইকোর্টের শুনানির দিকে, যেখানে নির্ধারিত হবে—ইশরাক হোসেন আদৌ শপথ নিতে পারবেন কি না।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




কলাপাড়ায় যাত্রীবাহী বাসে ৬ মণ সামুদ্রিক মাছ জব্দ, চালককে জরিমানা

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় অভিযান চালিয়ে অন্তরা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে প্রায় ৬ মণ চিংড়ি, লইট্টা ও পোয়া মাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। মাছ পরিবহনের দায়ে গাড়িচালককে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সোমবার (১৯ মে) রাত ৮টার দিকে বালিয়াতলীর বাবলাতলা বাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রার সময় এই মাছ বহনকালে বাসটিকে থামিয়ে অভিযান চালানো হয়। জব্দকৃত মাছের বাজারমূল্য প্রায় ৮০ হাজার টাকা।

পরবর্তীতে কলাপাড়া হেলিপ্যাড মাঠে জব্দকৃত মাছগুলো বিভিন্ন এতিমখানা, মাদ্রাসা ও হতদরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদেক।

তিনি জানান, ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত ৫৮ দিন সাগরে মাছ ধরার ওপর সরকার নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কিছু অসাধু জেলে মাছ আহরণ করছেন, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিতভাবে অভিযান চালিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয়রা ভ্রাম্যমাণ আদালতের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, এভাবে অভিযান অব্যাহত থাকলে সামুদ্রিক মাছের প্রজনন নিরাপদ থাকবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ইশরাক হোসেনের শপথ নিয়ে আইনি জটিলতা রয়েছে: আসিফ মাহমুদ

আসিফ মাহমুদ

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র হিসেবে ইশরাক হোসেনের শপথ গ্রহণ নিয়ে আইনি সমস্যা এবং মেয়াদ সংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

সোমবার (১৯ মে) দুপুরে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ)-এর সঙ্গে এক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, “মেয়র হিসেবে শপথ সংক্রান্ত বিষয়ে এখনো কিছু আইনি জটিলতা রয়েছে। মেয়াদ সংক্রান্ত বিষয়গুলোও স্পষ্ট করতে হবে। এসব জটিলতা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে যাওয়া সম্ভব নয়।”

এ সময় আন্দোলনরত ইশরাক হোসেনের সমর্থকদের উদ্দেশে উপদেষ্টা বলেন, “আন্দোলন গণতান্ত্রিক অধিকার, তবে জনদুর্ভোগের বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। নগরবাসীর ভোগান্তি যেন না হয়, সে দিকেও খেয়াল রাখা জরুরি।”

প্রসঙ্গত, নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের রায়ে বৈধ ঘোষণার পরেও এখন পর্যন্ত ইশরাক হোসেনের শপথ অনুষ্ঠান হয়নি। এতে করে তার সমর্থকরা নগর ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন, যা সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলছে।




ইশরাক হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়ার দাবিতে নগর ভবন ঘেরাও

ইশরাক হোসেন

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) বৈধ মেয়র হিসেবে ইশরাক হোসেনকে দায়িত্ব হস্তান্তরের দাবিতে নগর ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন তার শত শত সমর্থক। সোমবার (১৯ মে) সকাল থেকে তারা এ কর্মসূচি শুরু করেছেন, যা চলবে দুপুর ৩টা পর্যন্ত।

সমর্থকরা নগর ভবন ও আশপাশের এলাকায় জড়ো হয়ে ‘ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করছেন বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। এতে করে নগর ভবনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এর আগেও গত ১৪ মে থেকে চলমান অবস্থান কর্মসূচির কারণে অফিস কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

জানা যায়, ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপসের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন বিএনপি প্রার্থী ও দলটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ইশরাক হোসেন। তবে চলতি বছরের ২৭ মার্চ ঢাকার নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল ওই ফলাফল বাতিল করে ইশরাককে বৈধ মেয়র হিসেবে ঘোষণা করে।

পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন ২৭ এপ্রিল এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করে। তবে গেজেট প্রকাশের পরও এখনো ইশরাক হোসেনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়নি। এ বিষয়টিকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে।

ইশরাকের সমর্থকদের দাবি, বৈধ মেয়র হিসেবে তিনি যে দায়িত্ব গ্রহণে অধিকারী, তা নির্বাচন ট্রাইব্যুনালের রায় এবং ইসির গেজেটেই স্পষ্ট। অথচ বারবার দাবি জানানোর পরও তার শপথ অনুষ্ঠান স্থগিত রাখা হয়েছে—যা অযৌক্তিক ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী।

সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং নগর ভবনের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

ইশরাক হোসেনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া না গেলেও তার ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে জানা গেছে, প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার বিষয়টিও তারা বিবেচনা করছেন।




১৪ দলীয় জোটকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ ঘোষণার দাবি, আইনি নোটিশ

১৪ দলীয় জোট

১৪ দলীয় জোটের সব দলকে “সন্ত্রাসী সংগঠন” হিসেবে ঘোষণা করে তাদের সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর জেলার বাসিন্দা এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কর্মী পরিচয় দেওয়া হোসাইন মো. আনোয়ারের পক্ষে আইনজীবী সালাহ উদ্দিন রিগান এই নোটিশটি রোববার (১৮ মে) পাঠান। নোটিশটি পাঠানো হয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, আইন সচিব এবং প্রধান উপদেষ্টার মুখ্যসচিবের বরাবর।

নোটিশে দাবি করা হয়, আওয়ামী লীগ এককভাবে নয়, বরং ১৪ দলীয় জোটের যৌথ সিদ্ধান্তেই দেশে দমন-পীড়ন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়েছে। অথচ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও জোটের অন্যান্য শরিক দলের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

হোসাইন মো. আনোয়ার বলেন, “আওয়ামী লীগ একা দমন-পীড়ন চালায়নি, ১৪ দলীয় জোটের সিদ্ধান্ত ও সহযোগিতায় তারা এই কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছে। এখন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও জোটের অন্য দলগুলোকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে। তাই আইনি নোটিশের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানানো হয়েছে।”

নোটিশে আরও বলা হয়, ৭৫ বছরের পুরনো আওয়ামী লীগ ৩৬ দিনের আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট পালিয়ে যায় এবং বর্তমানে তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। অথচ, আওয়ামী ফ্যাসিস্ট শাসনের অন্যতম সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে ১৪ দলীয় জোট। যদি আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হয়, তাহলে জোটের অন্যান্য শরিকদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।

নোটিশে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হয়, অন্যথায় হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করা হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।




কুয়াকাটায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য, ১৬ জেলে আটক

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মাছ শিকারের অভিযোগে ১৬ জন জেলেকে আটক করেছে নৌ-পুলিশ। শনিবার (১৭ মে) দুপুরে ফাতরার বনসংলগ্ন সাগর থেকে তিনটি মাছধরা ট্রলারসহ তাদের আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তিনটি ট্রলারের মালিককে মোট ২৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানান, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে মাছ ধরা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। অভিযানে আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের পর তারা মুচলেখা দেন যে, নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে তারা আর সাগরে মাছ শিকার করবেন না। এরপরই ট্রলারসহ জেলেদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

কুয়াকাটা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বিকাশ মন্ডল বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন যে কিছু জেলে গভীর সমুদ্রে জাল ফেলেছেন। এরপর অভিযান চালিয়ে জেলেদের আটক করা হয়।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত মোট ৫৮ দিন বঙ্গোপসাগরে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সামুদ্রিক মাছের প্রজনন ও মজুত বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই সময়কালে প্রতি বছরই এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এ সময় সকল ধরনের মাছধরা ট্রলার ও জেলেদের সাগরে যাওয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

নৌ-পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের সমন্বয়ে এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে টহল কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তবে এরপরও কিছু জেলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গভীর সমুদ্রে প্রবেশ করছে, যা শুধু আইন লঙ্ঘন নয়, বরং সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণের প্রচেষ্টায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, আগামীদিনগুলোতেও কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




গ্রেফতার জেবুন্নেছা আফরোজ

বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও বরিশাল-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শুক্রবার (১৬ মে) দিবাগত রাতে রাজধানীর ঢাকার নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বিষয়টি শনিবার (১৭ মে) গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন ডিবির যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম।

ডিবি জানায়, গ্রেফতারের পর জেবুন্নেছাকে তাদের হেফাজতে রাখা হয়েছে। তবে ঠিক কোন মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে সে বিষয়ে তাৎক্ষণিক বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

জেবুন্নেছা আফরোজ আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ১০ম জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বরিশাল-৫ (মহানগর-সদর) আসন থেকে সংসদ সদস্য ছিলেন। তার স্বামী শওকত হোসেন হিরন ছিলেন ওই আসনের আগের সংসদ সদস্য এবং বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বরিশাল শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি।

২০১৪ সালের ৯ এপ্রিল শওকত হোসেন হিরনের মৃত্যুর পর আসনটি শূন্য হয়। এরপর উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে জয়ী হন জেবুন্নেছা আফরোজ। সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখলেও, গত কয়েক বছরে তার বিরুদ্ধে বরিশালে একাধিক মামলা হয়। বিশেষ করে ৫ আগস্টের ঘটনার পর দায়ের হওয়া মামলাগুলোতে তার নাম আসামি হিসেবে উঠে আসে।

এমন অবস্থায় তার গ্রেফতার বরিশালের রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা গুঞ্জন সৃষ্টি করেছে। আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ এটিকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলেও দাবি করছেন, অন্যদিকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, গ্রেফতার হয়েছে যথাযথ তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতেই।

এ বিষয়ে জেবুন্নেছা আফরোজের পরিবারের পক্ষ থেকেও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আইনজীবীরা বলছেন, তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোতে জামিন আবেদন ও আইনি সহায়তা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



মমতাজ বেগম কারাগারে, জামিন নামঞ্জুর

রাজধানীর মিরপুর মডেল থানার একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। শনিবার (১৭ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মিনহাজুর রহমান শুনানি শেষে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মমতাজ বেগমকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, মিরপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষ জামিন চেয়ে আবেদন করে। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত তার জামিন মঞ্জুর না করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে গত ১২ মে রাত পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে মমতাজ বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ১৩ মে তাকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠান আদালত।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১৯ জুলাই রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে’ অংশ নেন মো. সাগর নামের এক তরুণ। ওই দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আন্দোলন চলাকালে একদল হামলাকারী আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে সাগর বুকে গুলিবিদ্ধ হন, গুলি পেছন দিক দিয়ে বেরিয়ে যায়। ঘটনার পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

তার মা বিউটি আক্তার রাতভর খোঁজাখুঁজির পর মিরপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ছেলের মরদেহ খুঁজে পান। এরপর সাগরের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে দাফন করা হয়।

ঘটনার প্রায় চার মাস পর, ২৭ নভেম্বর, নিহতের মা বিউটি আক্তার বাদী হয়ে মিরপুর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৪৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২৫০-৪০০ জনকে আসামি করা হয়। মামলায় মমতাজ বেগম ছিলেন ৪৯ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম