বাউফলে মোটরসাইকেল চুরি: তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বাইক উদ্ধার, এক যুবক গ্রেপ্তার

পটুয়াখালীর বাউফল থেকে চুরি যাওয়া একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ও পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশ। একইসঙ্গে মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় জড়িত এক যুবককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে জেলা শহরের ডিসি বাংলো সংলগ্ন একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে চোরাই মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়। অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয় মো. ইমরান হোসেন (২৫) নামের এক যুবককে। তিনি পটুয়াখালী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুস সালামের ছেলে।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সূত্র জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইমরান হোসেন মোটরসাইকেল চুরির কথা স্বীকার করেছেন। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাইকটি উদ্ধার করা হয়।

জানা গেছে, গত ২৬ মে (সোমবার) সন্ধ্যায় বাউফল পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের চন্দ্রপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. জুয়েল রানার দোকানের সামনে থেকে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি চুরি হয়। পরে তিনি বাউফল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে ডিবি পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চুরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আখতারুজ্জামান সরকার বলেন, “ঘটনার পরপরই আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত শুরু করি। ইতোমধ্যে একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। চুরির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

জেলার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন তৎপরতায় স্থানীয় বাসিন্দারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

মোঃ আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



কিশোরীকে ধ’র্ষ’ণচেষ্টার অভিযোগে জেলে গ্রে’ফ’তা’র রাঙ্গাবালীতে

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নে কওমি মাদ্রাসায় পড়ুয়া এক কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে আবুল প্যাদা (৩২) নামে এক জেলেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৬ মে) রাতে নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরী নিজে বাদী হয়ে রাঙ্গাবালী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত আবুল প্যাদা বেশ কিছুদিন ধরে কিশোরীকে কুপ্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করে আসছিল।

রোববার রাতে সাড়ে তিনটার দিকে ওই কিশোরী প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের পেছনের টয়লেটে গেলে অভিযুক্ত আবুল প্যাদা সেখানে গিয়ে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। কিশোরীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আবুল প্যাদাকে হাতেনাতে আটক করে।

পরে তাকে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশে হস্তান্তর করা হয়।

রাঙ্গাবালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এমারৎ হোসেন বলেন, “ঘটনার পর পরই মামলা রুজু হয়েছে। আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।”

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে সাবেক এমপি জেবুন্নেছা

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক নেতার দায়ের করা বিস্ফোরক মামলায় বরিশাল-৫ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার (২৬ মে) দুপুরে বরিশালের অতিরিক্ত চিফ ম্যাট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাকে হাজির করা হলে বিচারক হাবিবুর রহমান এই আদেশ দেন। মামলার শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ বলেন, সাবেক এই এমপির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং তাকে রাজধানী ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বরিশাল জেলার সদ্য স্থগিতকৃত যুগ্ম সদস্য সচিব মারজুক আব্দুল্লাহ বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় জেবুন্নেছার বিরুদ্ধে শোন অ্যারেস্টের আবেদন করা হয়, যা আদালত মঞ্জুর করে তাকে দৃশ্যমান গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন।

আসামিপক্ষ আদালতে জামিন আবেদন করলে বিচারক তা খারিজ করেন। একইসঙ্গে কারাগারে ডিভিশনের বিষয়ে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী বিবেচনা করে জেল সুপার যেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন।

উল্লেখ্য, গত ১৬ মে রাতে রাজধানী ঢাকার ভাটারা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর ১৭ মে তাকে ভাটারা থানার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় আদালতে হাজির করা হলে সেখানেও কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি কাশিমপুর কারাগারে আছেন।

জেবুন্নেছা আফরোজ আওয়ামী লীগের বরিশাল মহানগর শাখার সহ-সভাপতি ছিলেন। তার স্বামী শওকত হোসেন হিরণ ছিলেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র। ২০১৪ সালে হিরণের মৃত্যুর পর উপ-নির্বাচনে জেবুন্নেছা এমপি নির্বাচিত হন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তিতে নিষেধাজ্ঞা: ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে হার্ভার্ডের মামলা

বিশ্বখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। মামলাটি করা হয়েছে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি বন্ধের সরকারি নির্দেশনার বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (২২ মে), মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানায়, এখন থেকে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে পারবে না। পাশাপাশি বর্তমানে অধ্যয়নরত বিদেশি শিক্ষার্থীদের ট্রান্সফার না করলে তাদের ভিসা বৈধতা বাতিল হবে বলেও জানানো হয়।

এর প্রতিবাদে শুক্রবার (২৩ মে) বোস্টনের ফেডারেল আদালতে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয় হার্ভার্ড।

হার্ভার্ড তার অভিযোগে বলে,“আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ছাড়া হার্ভার্ড, হার্ভার্ড নয়।”

মামলায় দাবি করা হয়, সরকারের সিদ্ধান্ত ৭ হাজারেরও বেশি বিদেশি শিক্ষার্থী এবং পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর তাৎক্ষণিক ও ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থীর এক-চতুর্থাংশকে কার্যত বাদ দেওয়া হচ্ছে এই সিদ্ধান্তে।

হার্ভার্ড আরও জানায়, তারা শিগগিরই এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন থেকে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারির আবেদন জানাবে।

গত ১৬ এপ্রিল হোমল্যান্ড সিকিউরিটির মন্ত্রী ক্রিস্টি নোয়েম হার্ভার্ড কর্তৃপক্ষকে একটি চিঠিতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের তথ্য এবং তাদের পাঠক্রম সংক্রান্ত বিস্তারিত চায়। এই তথ্য না দিলে ভর্তি নিষিদ্ধ করার হুমকি দেওয়া হয়।

ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে “বেআইনি ও বৈষম্যমূলক” হিসেবে আখ্যায়িত করে হার্ভার্ড জানায়, এটি শুধুমাত্র শিক্ষার্থীদের ক্ষতিগ্রস্ত করবে না, বরং বৈশ্বিকভাবে শিক্ষা ও গবেষণার মানেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।


 




দুমকিতে শহিদ কন্যাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, তিন কিশোরের বিরুদ্ধে ডিএনএ ও পর্নোগ্রাফির প্রমাণ

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার আলোচিত শহিদ কন্যা লামিয়াকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় তিন কিশোর সরাসরি জড়িত ছিল বলে পুলিশ তদন্তে উঠে এসেছে। শুধু ধর্ষণই নয়, তারা ভুক্তভোগীর বিবস্ত্র ছবি তুলে পর্নোগ্রাফি তৈরিরও প্রমাণ রেখেছে।

ঢাকার ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো আলামতে পাওয়া গেছে তিনজনের ডিএনএ। এর মধ্যে আসামি সাকিব মুন্সী ও সিফাত মুন্সীর ডিএনএ প্রোফাইল শনাক্ত হয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য ও আসামিদের জবানবন্দি অনুযায়ী, তৃতীয় ডিএনএ নমুনাটি ইমরান মুন্সীর বলে মনে করছে পুলিশ।

তদন্তে আরও বলা হয়েছে, তিনজন মিলে ধর্ষণে অংশ নেয় এবং সিফাত তার ব্যবহৃত মোবাইলে ভুক্তভোগীর বিবস্ত্র ছবি ধারণ করে, যা পর্নোগ্রাফি হিসেবে শনাক্ত হয়।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায়, সহপাঠী ইমরান কৌশলে লামিয়াকে বাগানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। এ সময় তার চিৎকার শুনে সেখানে যায় সাকিব ও সিফাত। তারা ঘটনাটি ফাঁস করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ইমরানের সহায়তায় পালাক্রমে লামিয়াকে ধর্ষণ করে।

তদন্ত শেষে তিনজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০২০) এর ৯ (৩) ধারা ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২ এর ৮ (১) ও (৭) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাকির হোসেন বলেন, “তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উল্লেখ্য, গত ১৮ মার্চ সন্ধ্যায় পটুয়াখালীর পাঙ্গাসিয়া ইউনিয়নে বাবা শহিদ জসীম উদ্দিনের কবর জিয়ারত শেষে নানাবাড়ি ফেরার পথে লামিয়া ধর্ষণের শিকার হন। পরে মানসিক চাপে ২৬ এপ্রিল রাতে ঢাকার শেখেরটেক এলাকায় নিজ বাসায় আত্মহত্যা করেন তিনি।

মো:আল-আমিন



পটুয়াখালীতে সরকারি জমি দখলে সোহেল দেওয়ানের কারাদণ্ড ও জরিমানা

পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌরসভার নতুন বাজার এলাকায় সরকারি খাস জমি পুনরায় দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগে মোঃ সোহেল দেওয়ানকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বৃহস্পতিবার (২২ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক ১০টার দিকে কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসীন সাদেকের নেতৃত্বে পরিচালিত এক অভিযানে এই রায় ঘোষণা করা হয়।

জানা যায়, কলাপাড়ার নতুন বাজারের সিকদার বুটিকস্ হাউজের সামনে যে সরকারি খাস জায়গাটি আগেই উচ্ছেদ করা হয়েছিল, সেই স্থানটি আবারো দখল করে নির্মাণকাজ শুরু করেন মোঃ সোহেল দেওয়ান। এ ঘটনায় স্থানীয়দের অভিযোগ ও তদন্তের ভিত্তিতে অভিযানে নামে প্রশাসন।

ভূমি অপরাধ প্রতিকার ও প্রতিরোধ আইন, ২০২৩-এর ১১ ধারা অনুযায়ী সোহেল দেওয়ানকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। অনাদায়ে আরও দুই দিনের কারাদণ্ডের আদেশ ছিল, তবে তিনি জরিমানার অর্থ পরিশোধ করায় অতিরিক্ত কারাদণ্ডটি মওকুফ করা হয়।

উল্লেখ্য, সোহেল দেওয়ান কলাপাড়া উপজেলা শ্রমিকদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে এই দণ্ডাদেশ স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সরকারি সম্পত্তি দখলের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে প্রশাসন। যারা নিয়ম লঙ্ঘন করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে বলে জানান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসীন সাদেক।

এদিকে, প্রশাসনের এমন পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে এলাকাবাসী। তারা আশা করছেন, সরকারি জায়গা রক্ষায় এ ধরনের কঠোর আইন প্রয়োগে জনসচেতনতা যেমন বাড়বে, তেমনি দখলদারদের দৌরাত্ম্যও কমবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



দুদকের চিঠি: শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনে অনুরোধ 

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে নির্বাচনী হলফনামায় সম্পদের তথ্য গোপন ও অসত্য তথ্য দেওয়ার অভিযোগে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (আরপিও)-এর আওতায় ব্যবস্থা নিতে চিঠিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ মে) দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (২০০৮) ইসিতে দাখিল করা হলফনামায় শেখ হাসিনা তার নিজের নামে ৬ দশমিক ৫০ একর কৃষিজমি এবং তার মূল্য এক লাখ ৭৫ হাজার টাকা উল্লেখ করেন। কিন্তু দুদকে জমা দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে তার নামে থাকা জমির পরিমাণ ২৮ দশমিক ৪১১ একর এবং সেগুলোর মূল্য ৩৩ লাখ ৬৬ হাজার ১০ টাকা বলে পাওয়া গেছে। এতে দেখা যায়, তিনি ২১ দশমিক ৯১ একর জমির তথ্য গোপন করেছেন এবং ৩১ লাখ ৯১ হাজার ১০ টাকা কম দেখিয়েছেন।

এছাড়াও চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, শেখ হাসিনা তৎকালীন মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোহাম্মদ সিরাজুল আকবরের শুল্কমুক্ত কোটা ব্যবহার করে বেনামে ২ লাখ ৩০ হাজার ইউরো মূল্যের একটি মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ি আমদানি করেন। গাড়িটি তার ধানমন্ডির ঠিকানা ব্যবহার করে রেজিস্ট্রেশন করা হয় (ঢাকা মেট্রো-ঘ-১১-৬৩৬৪) এবং তিনি নিজে এটি ব্যবহার করেন। তবে ডা. সিরাজুল আকবরের আয়কর নথি বা নির্বাচন কমিশনে দাখিলকৃত হলফনামায় এই গাড়ির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

দুদক চিঠিতে জানিয়েছে, কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে হলফনামায় অসত্য তথ্য দেওয়ার বিষয়ে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।




বিএনপি অফিস ভাঙচুর মামলায় গ্রেফতার দেখানো হলো সাবেক এমপি শম্ভুকে

বরগুনা জেলা বিএনপির কার্যালয়ে হামলা ও বিস্ফোরণের মামলায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (২২ মে) বরগুনার আদালত এই আদেশ দেন।

সেদিন শম্ভুকে আদালতে হাজির করলে বিএনপির নেতাকর্মীরা আদালত প্রাঙ্গণে তীব্র প্রতিবাদ জানায়। কেউ ডিম নিক্ষেপ করেন, আবার কেউ স্লোগানে মুখর করে তোলেন চত্বর।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১৭ মার্চ বরগুনা জেলা বিএনপি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। এসময় বিস্ফোরক দ্রব্যের ব্যবহারের ঘটনাও ঘটে। এতে জেলা আওয়ামী লীগসহ অঙ্গসংগঠনের ১৫৮ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে মামলা করেন জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম নজরুল ইসলামের ছেলে নাঈমুল ইসলাম। অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুকে মামলার প্রধান আসামি করা হয়।

আদালতে শম্ভুর আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করলে রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন এর বিরোধিতা করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন খারিজ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এই মামলার প্রেক্ষাপটে বরগুনা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বিশ্লেষকরা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




৪৮ ঘণ্টার জন্য বিরতি, মাঠে নামার হুঁশিয়ারি ইশরাকের

অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা পর্যবেক্ষণের জন্য ৪৮ ঘণ্টার বিরতির ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র ইশরাক হোসেন। তবে সময়সীমা পেরিয়ে কোনও অগ্রগতি না হলে আবারও আন্দোলনে ফেরার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ মে) বিকেলে রাজধানীর কাকরাইল মোড়ে চলমান আন্দোলনস্থলে উপস্থিত হয়ে ইশরাক বলেন, “ছাত্র উপদেষ্টাদের পদত্যাগের বিষয়ে আমরা ৪৮ ঘণ্টা অপেক্ষা করব। এই সময়ের মধ্যে সরকার যদি ইতিবাচক কোনো পদক্ষেপ না নেয়, তবে শুক্রবার সকাল থেকেই আন্দোলন নতুনভাবে শুরু হবে।”

তিনি আরও বলেন, “মানুষ তাদের অধিকার আদায়ে রাজপথে নেমেছে, কিন্তু সরকারের অনড় অবস্থানের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। আমরা দায়িত্বশীল আচরণ করছি, তাই অস্থায়ী বিরতি দিচ্ছি।”

শপথ নিয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

ঢাকা দক্ষিণ সিটির নবনির্বাচিত মেয়র ইশরাক হোসেন অভিযোগ করেন, “একটি ভুয়া রিটের মাধ্যমে আমার শপথগ্রহণ বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। আদালতে সেই রিট খারিজ হয়ে গেছে, এখন আর কোনো আইনি বাধা নেই।”

প্রসঙ্গত, ইশরাক হোসেনকে শপথ না পড়ানোর নির্দেশনা চেয়ে একজন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন, যা বৃহস্পতিবার খারিজ করে দেন আদালত।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্দোলন স্থগিতের এই ঘোষণা কৌশলগত হলেও সরকারের জন্য এটি একটি চাপের বার্তা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /


 




অপসারণ হলেন হাইকোর্টের বিচারপতি দিলীরুজ্জামান

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানকে অপসারণ করা হয়েছে। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের সুপারিশের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ক্ষমতাবলে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

বৃহস্পতিবার (২২ মে) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদের দফা (৬) অনুযায়ী বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানকে ২১ মে তারিখে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকের পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, এই আদেশ রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরে কার্যকর হয়েছে এবং আইনগতভাবে চূড়ান্ত।

এর আগে, ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর বিচারপতি দিলীরুজ্জামানসহ আরও ১১ জন বিচারপতির বিরুদ্ধে ‘সরকারঘেঁষা ভূমিকা’ পালনের অভিযোগ উঠলে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নির্দেশে তাদের বিচারকাজ থেকে বিরত রাখা হয়। ওই সময় তারা ছুটিতে পাঠানো হয় এবং হাইকোর্ট বেঞ্চে বিচারকার্য পরিচালনার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামান ২০১৮ সালের ৩১ মার্চ অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। পরে ২০২০ সালের ৩০ মে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তাঁকে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেন।

এই অপসারণের খবরে দেশের বিচারাঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকে বলছেন, বিচার বিভাগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এটি একটি দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /