বাউফলে যুবলীগ নেতার হত্যাচেষ্টা মামলায় ১৪ জনের দণ্ড, অধিকাংশই আসামি বর্তমান হত্যা মামলারও

পটুয়াখালীর বাউফলে দশ বছর আগের একটি আলোচিত হত্যাচেষ্টা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। মামলায় উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. শাহজাহান সিরাজ ও মদনপুরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মাহবুবুর রহমানসহ ১৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ জুন) পটুয়াখালী অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এ কে এম এনামুল করিম এ রায় ঘোষণা করেন।
২০১৫ সালের ১ মে বিকেলে বাউফলের মদনপুরা গ্রামে স্থানীয় যুবলীগ নেতা ও ওষুধ ব্যবসায়ী মো. মনিরুল ইসলাম ওরফে শাহিনকে (৪০) প্রকাশ্যে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন সন্ত্রাসীরা। ঘটনার তিন দিন পর তাঁর বাবা মোসলেম উদ্দিন মৃধা ৩২ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ১৫ জনকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন।
দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত ৪ জনকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেন। অপর ১০ আসামিকে ৯ ও ৬ বছর মেয়াদে কারাদণ্ড দেন। এছাড়া, চার আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে ১৫ জন আদালতে উপস্থিত ছিলেন, তিনজন পলাতক রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আদালতে উপস্থিত ১১ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, মনিরুল ইসলামকে ২০১৫ সালে হত্যাচেষ্টার ৯ বছর পর, ২০২4 সালের ৫ আগস্ট রাতে আবারও ঘরে ঢুকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তাঁর বাবা মোসলেম উদ্দিন মৃধাও হামলার শিকার হন—দুই পা ও দুই হাত ভেঙে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় পৃথক একটি হত্যা মামলা চলমান রয়েছে, যার অধিকাংশ আসামি ২০১৫ সালের মামলারও অভিযুক্ত।
বাদী মোসলেম উদ্দিন মৃধা বলেন, “২০১৫ সালে ছেলেকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছিল। সেই কাজটাই তারা ২০২৪ সালে শেষ করেছে। এখন আমরা পরিবারসহ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এলাকায় ফিরতে পারছি না। আমি আমার ছেলের হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. ফরিদ হোসেন জানান, মামলাটি শুরুতে বাউফল থানা-পুলিশ তদন্ত করলেও পরে বাদীর আপত্তির ভিত্তিতে তদন্তভার দেওয়া হয় পিবিআইকে। ২০১৬ সালে পিবিআই ৩২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। শুনানি শেষে ১৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।
এই মামলার রায়ের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা একটি আলোচিত মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হলো, তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, এখন মনিরুল হত্যার চূড়ান্ত বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে এলাকাবাসী ও পরিবার।








