বাউফলে যুবলীগ নেতার হত্যাচেষ্টা মামলায় ১৪ জনের দণ্ড, অধিকাংশই আসামি বর্তমান হত্যা মামলারও

পটুয়াখালীর বাউফলে দশ বছর আগের একটি আলোচিত হত্যাচেষ্টা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। মামলায় উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. শাহজাহান সিরাজ ও মদনপুরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মাহবুবুর রহমানসহ ১৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ জুন) পটুয়াখালী অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এ কে এম এনামুল করিম এ রায় ঘোষণা করেন।

২০১৫ সালের ১ মে বিকেলে বাউফলের মদনপুরা গ্রামে স্থানীয় যুবলীগ নেতা ও ওষুধ ব্যবসায়ী মো. মনিরুল ইসলাম ওরফে শাহিনকে (৪০) প্রকাশ্যে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন সন্ত্রাসীরা। ঘটনার তিন দিন পর তাঁর বাবা মোসলেম উদ্দিন মৃধা ৩২ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ১৫ জনকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন।

দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত ৪ জনকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেন। অপর ১০ আসামিকে ৯ ও ৬ বছর মেয়াদে কারাদণ্ড দেন। এছাড়া, চার আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে ১৫ জন আদালতে উপস্থিত ছিলেন, তিনজন পলাতক রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আদালতে উপস্থিত ১১ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, মনিরুল ইসলামকে ২০১৫ সালে হত্যাচেষ্টার ৯ বছর পর, ২০২4 সালের ৫ আগস্ট রাতে আবারও ঘরে ঢুকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তাঁর বাবা মোসলেম উদ্দিন মৃধাও হামলার শিকার হন—দুই পা ও দুই হাত ভেঙে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় পৃথক একটি হত্যা মামলা চলমান রয়েছে, যার অধিকাংশ আসামি ২০১৫ সালের মামলারও অভিযুক্ত।

বাদী মোসলেম উদ্দিন মৃধা বলেন, “২০১৫ সালে ছেলেকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছিল। সেই কাজটাই তারা ২০২৪ সালে শেষ করেছে। এখন আমরা পরিবারসহ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এলাকায় ফিরতে পারছি না। আমি আমার ছেলের হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।”

অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. ফরিদ হোসেন জানান, মামলাটি শুরুতে বাউফল থানা-পুলিশ তদন্ত করলেও পরে বাদীর আপত্তির ভিত্তিতে তদন্তভার দেওয়া হয় পিবিআইকে। ২০১৬ সালে পিবিআই ৩২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। শুনানি শেষে ১৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।

এই মামলার রায়ের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা একটি আলোচিত মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হলো, তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, এখন মনিরুল হত্যার চূড়ান্ত বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে এলাকাবাসী ও পরিবার।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পটুয়াখালীর আউলিয়াপুরে ডেভিল হান্ট অভিযানে মহিলা মেম্বারের জামাতা গ্রেপ্তার

পটুয়াখালী সদর উপজেলার ১১ নম্বর আউলিয়াপুর ইউনিয়নে পুলিশের বিশেষ অভিযানে মহিলা মেম্বারের জামাতা ও স্থানীয় শ্রমিক লীগ নেতাকে আটক করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় চলমান ‘ডেভিল হান্ট’ অভিযানের অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

বুধবার (৪ জুন) দুপুরে আউলিয়াপুর ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযানে আটক হন মো. লোকমান মৃধা, যিনি ইউনিয়ন আওয়ামী শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। একইসাথে তিনি ১১ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত নারী সদস্য হেপি বেগমের জামাতা বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুর থেকে ‘ডেভিল হান্ট’ অভিযানের আওতায় একাধিক স্থানে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় একাধিক সন্দেহভাজনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং মো. লোকমান মৃধাকে আটক করা হয়।

পটুয়াখালী সদর থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মো. লোকমানকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পূর্বেও একাধিক অভিযোগ ছিল বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে তদন্ত চলমান এবং পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয়দের মাঝে এই ঘটনা মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অনেকেই বলছেন, প্রশাসনের এমন কঠোর পদক্ষেপে অপরাধ দমনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে, অন্যদিকে কেউ কেউ বলছেন, গ্রেপ্তারের বিষয়টি সঠিকভাবে যাচাই করে দেখা দরকার।

উল্লেখ্য, পটুয়াখালী জেলায় সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের পক্ষ থেকে ‘ডেভিল হান্ট’ নামক বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। এই অভিযানে জেলার বিভিন্ন স্থানে একাধিক সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পটুয়াখালীতে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার নারায়ণগঞ্জের অপহৃত ব্যবসায়ী

নারায়ণগঞ্জ থেকে অপহৃত এক ব্যবসায়ীকে পটুয়াখালীর পায়রাকুঞ্জ ফেরিঘাট এলাকা থেকে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সোমবার দুপুরে পটুয়াখালী সদর উপজেলার পায়রাকুঞ্জ ফেরিঘাট এলাকায় স্থানীয় লোকজন একটি গাড়ির ভেতরে এক ব্যক্তিকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে থানায় খবর দেয়। খবর পেয়ে পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশ, ডিবি ও নৌ পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। আহত ব্যক্তি হলেন নারায়ণগঞ্জের চাষারা এলাকার মিম শরৎ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ সোহাগ (৪৫)। তিনি নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালকও।

উদ্ধার হওয়ার পর পুলিশ জানায়, সোহাগকে ইলেকট্রিক শক ও বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। তার গাড়ির ভিতরেই তার হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায়। পাশেই আরও একটি গাড়িও উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযুক্ত অপহরণকারীরা এবং তার ব্যক্তিগত চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছে।

ব্যবসায়ী সোহাগ জানান, রোববার রাত ৯টার দিকে তিনি তার নিতাইগঞ্জ অফিস থেকে বাসায় ফিরছিলেন। পথিমধ্যে তুলারাম কলেজ গেট এলাকায় পৌঁছালে একটি সাদা মাইক্রোবাস থেকে ৫-৬ জন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী তার গাড়ি থামিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়ে। এরপর তাকে মারধর করে চোখ, মুখ ও হাত-পা বেঁধে ফেলে। সন্ত্রাসীরা তার শরীরে বারবার ইলেকট্রিক শক দেয়, এতে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন।

সোমবার বেলা ১১টার দিকে তার জ্ঞান ফেরে। তখন তিনি নিজেকে একটি গাড়ির ভেতরে বাঁধা অবস্থায় পায়রাকুঞ্জ ফেরিঘাটে দেখতে পান। কোনোরকমে স্থানীয়দের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সাহায্য চান। পরে স্থানীয়রা এসে পুলিশকে খবর দেয় এবং পুলিশের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পটুয়াখালী পুলিশ জানায়, ধারণা করা হচ্ছে অপহরণকারীরা নির্মাণাধীন সেতুর পাশে বালির মাঠে গাড়ি রেখে একটি আলাদা গাড়িতে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা দুটি গাড়ির একটি ছিল ভিকটিমের, অন্যটি অপহরণকারীদের হতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জ পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করলে, একটি দল ওইদিন সন্ধ্যায় ব্যবসায়ী সোহাগের স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে হেলিকপ্টারে পটুয়াখালী আসে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপারেশন) মো. সাজেদুল ইসলাম সজল জানান, দুপুরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং গাড়ির ভেতর থেকে মো. সোহাগকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। তিনি আরও বলেন, অপহরণের পেছনে ভুক্তভোগীর ড্রাইভারের জড়িত থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না, কারণ ঘটনার পর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করছে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ।

এ ঘটনায় পটুয়াখালীতে একটি সাধারণ ডায়েরি হয়েছে। তবে যেহেতু ভুক্তভোগী ও মূল ঘটনাস্থল নারায়ণগঞ্জে, তাই বিস্তারিত তদন্তের দায়িত্ব সেই জেলার পুলিশের ওপর থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



দুমকিতে আধিপত্য বিস্তারের জেরে কিশোরকে কুপিয়ে জখম, গ্রেফতার ২

পটুয়াখালীর দুমকিতে আধিপত্য বিস্তারের পুরনো দ্বন্দ্বের জেরে আবদুল কাদের (১৯) নামে এক কিশোরকে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার (১ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার বোর্ড অফিস বাজার এলাকা থেকে মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামি মনির হোসেন ও মহিবুল্লাহকে গ্রেফতার করা হয়।

থানা সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৩১ মে) রাত ৮টার দিকে চরবয়েড়া গ্রামের হোসেন মৃধার ছেলে কিশোর আবদুল কাদের বোর্ড অফিস ব্রিজের পাশের এক চায়ের দোকানে বসে ছিল। এ সময় প্রতিপক্ষ গ্রুপের হাসিব ও আনোয়ারের নেতৃত্বে ৫-৬ জন কিশোর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। ছুরি, চাপাতি ও ক্ষুর দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপানোর পর হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

স্থানীয়রা গুরুতর আহত কিশোর কাদেরকে প্রথমে দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

এ ঘটনায় আহতের মা সেলিনা বেগম বাদী হয়ে হাসিব, আনোয়ারসহ ৬ জনকে আসামি করে দুমকি থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেছেন। দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন জানান, “মামলার প্রেক্ষিতে অভিযান চালিয়ে মনির হোসেন ও মহিবুল্লাহকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতার দুই আসামিকে সোমবার আদালতে পাঠানো হবে।”

এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ বলছে, অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



মেজর সিনহা হত্যা: বহুল আলোচিত মামলার আপিলের রায় আজ হাইকোর্টে

বহুল আলোচিত অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের দাখিল করা আপিলের রায় ঘোষণা করবেন হাইকোর্ট। সোমবার (২ জুন) বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেবেন।

গত ২৯ মে এ মামলার আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষ হয়। শুনানি শেষে আদালত রায়ের জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। তার সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শামীমা দিপ্তী, জসিম সরকার এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার সুমাইয়া আজিজ ও লাবনী আক্তার।

২০২৩ সালের ২১ এপ্রিল প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ মামলাটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে মামলার যাবতীয় নথি বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমান ও সগীর হোসেনের বেঞ্চে পাঠানো হয়। এরপর ২৩ জুন শুরু হয় ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের মূল শুনানি।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর সিনহা। ঘটনার পাঁচদিন পর নিহত সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস টেকনাফ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পরবর্তীতে তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর র‍্যাব ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। এতে সিনহার হত্যাকে একটি ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বাহারছড়া তদন্তকেন্দ্রের তৎকালীন ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলী ও টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে মৃত্যুদণ্ড এবং আরও পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মামলার অপর সাত আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।

মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য মামলার ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে এবং দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আপিল করেন। আজকের রায়ে উচ্চ আদালত এ মামলার বিচারিক আদালতের রায় বহাল রাখবে নাকি সংশোধন করবে, তা নির্ধারিত হবে।




গণতন্ত্রে অংশগ্রহণমূলক ধারায় ফিরছে রাজনীতি: বিএনপি নেতারা

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন ফিরে পাওয়ায় দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পরিপূর্ণতা এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। তাঁদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এ রায় অংশগ্রহণমূলক রাজনীতির পক্ষে একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে।

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন বাতিল ছিল রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। তবে রবিবার (১ জুন) আপিল বিভাগ হাইকোর্টের সেই আদেশকে অবৈধ ঘোষণা করে, ফলে দলটির আবারও নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধনের পথ উন্মুক্ত হয়।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, “বিএনপি শুরু থেকেই বহু মত ও পথের সমর্থক। গণতন্ত্রে ভিন্নমতের অবস্থান থাকা স্বাভাবিক ও প্রয়োজনীয়। আদালতের এই সিদ্ধান্ত বহুত্ববাদী রাজনীতির চর্চাকে শক্তিশালী করবে।”

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “এই সংগ্রামে জনগণের সমর্থন যার সঙ্গে থাকবে, সেই শক্তিই হবে প্রকৃত রাজনৈতিক শক্তি। অতীতের বিভাজন ভুলে আমরা সবাই মিলে একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে চাই।”

বিএনপি নেতারা মনে করেন, গণতন্ত্রের বিকাশ ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। জামায়াতের নিবন্ধন ফিরে পাওয়া সেই বহুদলীয় রাজনৈতিক কাঠামোর অংশ বলেই তাঁরা মনে করছেন।




সুপ্রিম কোর্টের রায়: আবারও রাজনীতিতে ফিরছে জামায়াত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন পুনর্বহাল করতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। এক যুগ পর দলটি আবারও বৈধ রাজনৈতিক দলের স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছে।

রোববার (১ জুন) সকালে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার সদস্যের একটি বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

সর্বশেষ শুনানিতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আইনজীবী আদালতকে জানান, জামায়াতকে নিবন্ধন প্রদানের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ওপর নির্ভর করছে তাদের সিদ্ধান্ত। তিনি আরও বলেন, আদালতের প্রশাসনিক নির্দেশনার ভিত্তিতে প্রতীক তালিকা থেকে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক বাদ দেওয়া হয়েছে। যদি দলটি নিবন্ধন ফিরে পায়, তবে তাদেরকে নতুন প্রতীক গ্রহণ করতে হবে।

অন্যদিকে, জামায়াতের পক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেন, ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক ব্যবহারে কোনো আদালতের নিষেধাজ্ঞা নেই। তাই দলটি চাইলে পূর্বের প্রতীক পুনরায় ব্যবহার করতে পারে।

প্রসঙ্গত, একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৩ সালের ১ আগস্ট হাইকোর্ট জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে। পরবর্তীতে, ২০১৮ সালের ৭ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে দলটির নিবন্ধন বাতিল করে গেজেট প্রকাশ করে।

সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘ আইনি জটিলতার অবসান ঘটল, যা জামায়াতের রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের পথ সুগম করল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।




নতুন মামলায় ফের রিমান্ডে মমতাজ

হরিরামপুর থানায় দায়ের করা হামলা ও ভাঙচুরের মামলায় দুই দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে কণ্ঠশিল্পী ও মানিকগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমকে।

শুক্রবার (৩০ মে) দুপুরে মানিকগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এর বিচারক দোলন বিশ্বাস এ আদেশ দেন। এর আগে সিংগাইর থানার একটি হত্যা মামলায় চার দিনের রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হয়।

আদালত এলাকায় নেয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। তবে আগের দুই দিনের মতো এবার আদালত চত্বরে বিএনপি কিংবা তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি দেখা যায়নি।

কোর্ট ইন্সপেক্টর মো. আবুল খায়ের জানান, “সিংগাইর থানার হত্যা মামলায় চার দিনের রিমান্ড শেষে মমতাজ বেগমকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়। এরপর হরিরামপুর থানার মামলায় তাকে আবারও দুই দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।”

এর আগে ২২ মে সিংগাইরের চারটি হত্যা মামলায় মমতাজের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। একইদিন হরিরামপুর থানার আরেক মামলায় দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। ওই দিন আদালতের হাজতখানা থেকে তাকে প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা ডিম নিক্ষেপ করে।

২৭ মে ফের আদালতে হাজির করা হলে জামিন নামঞ্জুর করে হরিরামপুর থানার মামলায় আবারও দুই দিনের রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। এ সময়ও প্রিজনভ্যানে তোলার সময় মমতাজকে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়ে মারে উত্তেজিত জনতা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ইশরাকের শপথ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে ইসি, গেজেট বহাল: আপিল বিভাগ

বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সাংবিধানিকভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে রায় দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে, ইশরাককে মেয়র ঘোষণা করে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের রায় ও নির্বাচন কমিশনের গেজেট স্থগিত চেয়ে করা ‘লিভ টু আপিল’ নিষ্পত্তি করে দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ মে), প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এ আদেশ দেন। শুনানিতে ইসির পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার ড. মুহাম্মদ ইয়াসিন খান এবং ইশরাকের পক্ষে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও এ কে এম এহসানুর রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার অনিক আর হক। আপিলকারীর পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন লিপু।

ইসির আইনজীবী জানান, গেজেট প্রকাশে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতের দরকার থাকলেও, ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর ১০ দিন সময় বাকি ছিল। তাই ইসি আপিল না করে গেজেট প্রকাশ করেছিল। এখন নতুন করে গেজেট প্রকাশের প্রয়োজন নেই। শপথ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিতে ইসি স্বাধীন এবং তাদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।

ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, গেজেট বহাল রয়েছে এবং ইসির হাতে এখন সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা আছে। চাইলে তারা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে পারে।

উল্লেখ্য, শপথের জন্য গেজেটের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২৬ মে। এখনো ইশরাক শপথ নেননি। তার আইনজীবীরা বলছেন, তার মেয়র পদ পাওয়ার দাবি এখনো আইনগতভাবে বহাল।

এর আগে, হাইকোর্ট গত ২২ মে রায় দিয়ে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের রায় এবং গেজেটের কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে করা রিট খারিজ করেন। এরপর ২৫ মে আপিল করা হয়। এই আবেদন শুনানির জন্য চেম্বার আদালত ২৯ মে দিন নির্ধারণ করে। সেই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগ চূড়ান্ত আদেশ দেয়।

পেছনের প্রেক্ষাপটে, ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শেখ ফজলে নূর তাপস মেয়র নির্বাচিত হন এবং পরদিন গেজেট প্রকাশিত হয়। ২০২০ সালের ৩ মার্চ ইশরাক ফলাফল বাতিল চেয়ে মামলা করেন। এরপর ২০২৪ সালের ২৭ মার্চ আদালত তাকে মেয়র ঘোষণা করে এবং ২৭ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করে।

এখন সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র এখতিয়ার ইসির। এর ফলে, এখন ইশরাকের শপথ নেওয়া না নেওয়ার বিষয়টি নির্ভর করছে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর।




নতুন মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয় ৯ সাবেক আওয়ামী লীগ নেতাকে

জুলাই মাসে ধানমন্ডিতে মো. রিয়াজ (২৩) নামের এক যুবক হত্যার ঘটনায় শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও আওয়ামী লীগ নেতা নুরু মিয়ার রিমান্ড মঞ্জুরের পর এবার নতুন মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে আরও ৯ জন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাকে।

বুধবার (২৮ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেরা মাহবুব পৃথক শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

যাত্রাবাড়ী থানার বিভিন্ন হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননসহ নয়জনকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত।

বাকি গ্রেফতার দেখানো নেতারা হলেন:

  • সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম
  • তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক
  • সাবেক ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম
  • সাবেক সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলাম মনু
  • সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম
  • আওয়ামী লীগ নেত্রী রজনী আক্তার টুসী

তদন্ত কর্মকর্তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত এই নেতাদের বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন।

এছাড়া, একই থানা দায়ের করা আরও দুটি মামলায় সালমান এফ রহমানকে একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় এবং আনিসুল হককে একটি হত্যা ও একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, আমির হোসেন আমুকে একটি হত্যাচেষ্টা মামলায়, ইনু ও মেননকে একটি হত্যাচেষ্টা এবং দুটি করে হত্যা মামলায়, পলককে একটি হত্যা ও একটি হত্যাচেষ্টা মামলায়, মনিরুল ইসলাম মনুকে দুটি হত্যা মামলায়, কামরুল ইসলাম ও আতিকুল ইসলামকে একটি করে হত্যাচেষ্টা মামলায় এবং জাহাঙ্গীর আলম ও রজনী আক্তার টুসীকে একটি করে হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।এবং সব মামলাগুলো যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা হয়েছে।

এই বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।