টিউলিপ সিদ্দিককে ফের দুদকে তলব, ইস্টার্ন হাউজিং থেকে ঘুষের অভিযোগ

ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের কাছ থেকে ঘুষ হিসেবে ফ্ল্যাট নেওয়ার অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগনি ও যুক্তরাজ্যের এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিককে ফের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে গতকাল (১৫ জুন) পাঠানো নোটিশে আগামী ২২ জুন সকাল ১০টায় দুদক কার্যালয়ে হাজির হওয়ার জন্য টিউলিপ সিদ্দিককে অনুরোধ জানানো হয়েছে। নোটিশটি তার ঢাকার মোহাম্মদপুরের জনতা হাউজিং সোসাইটি, ধানমন্ডি ও গুলশানের একাধিক ঠিকানায় পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি গুলশান ও ধানমন্ডি থানার মাধ্যমেও নোটিশ প্রেরণ করা হয়েছে।

এর আগে গত ১৪ মে একই মামলায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেন দুদকের উপসহকারী পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন। সে সময় রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা শাহ খসরুজ্জামান ও সর্দার মোশাররফ হোসেনকেও তলব করা হয়। তবে ওই সময় টিউলিপসহ কেউই দুদকের ডাকে সাড়া দেননি।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ঢাকার গুলশানে এক বিঘা ১৯ কাঠা ১৩ ছটাক আয়তনের একটি প্লট ১৯৬৩ সালে তৎকালীন বিচারপতি ইমাম হোসেন চৌধুরীর নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়। সরকারি ইজারা চুক্তি অনুযায়ী, ৯৯ বছরের মধ্যে এ জমি হস্তান্তর বা বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল।

তবে ১৯৭৩ সালে বিচারপতি ইমাম হোসেন আমমোক্তারনামার মাধ্যমে মো. মজিবুর রহমান ভূঁইয়ার কাছে প্লটটি হস্তান্তর করেন। এরপর ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেড এ প্লটের ওপর ভবন নির্মাণ শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলামের মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয় এবং মামলাও শুরু হয়। মামলার চলমান অবস্থায় রাজউকের আইন উপদেষ্টারা ইস্টার্ন হাউজিংকে ফ্ল্যাট হস্তান্তরের অনুমোদন দেয়। অথচ কোম্পানিটি লিজ হোল্ডার বা বৈধ প্রতিনিধি ছিল না।

এভাবে রাজউকের আইন উপদেষ্টাদের সহায়তায় ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে ইস্টার্ন হাউজিংকে আমমোক্তার দিয়ে ৩৬টি ফ্ল্যাট নির্মাণ ও হস্তান্তরের অনুমোদন দেওয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে ইস্টার্ন হাউজিং থেকে ঘুষ হিসেবে টিউলিপ সিদ্দিক একটি ফ্ল্যাট গ্রহণ করেছেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১২০বি, ৪০৯, ১৬১, ১৬২, ১৬৩, ১৬৪, ১৬৫(ক), ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

উল্লেখ্য, দুদকের উপপরিচালক মো. মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি দল শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান করছে। এর আগে পূর্বাচলে প্লট দুর্নীতির মামলায় টিউলিপ সিদ্দিকসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে। ওই মামলায় শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব সালাউদ্দিন এবং গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ১৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মোট ছয়টি চার্জশিট দেওয়া হয়।

এই ছয় মামলার মধ্যে একমাত্র টিউলিপ সিদ্দিক পূর্বাচলের কোনো প্লট বরাদ্দ না নিয়েও আসামি হয়েছেন।




দশমিনা ও গলাচিপায় উত্তেজনার জেরে ১৪৪ ধারা জারি বহাল

পটুয়াখালীর দশমিনা ও গলাচিপায় বিএনপি এবং গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে ১৪৪ ধারা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। শুক্রবার (১৩ জুন) রাতে এই আদেশ জারি করা হয়, যা বলবৎ থাকবে রোববার (১৫ জুন) সকাল ৮টা পর্যন্ত।

প্রশাসনের জারি করা ১৪৪ ধারার আওতায় থাকবে—দশমিনা উপজেলার দশমিনা সদর ইউনিয়ন ও বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়ন, এবং গলাচিপা পৌর শহর ও এর আশপাশের এলাকা। যথাক্রমে দশমিনা ও গলাচিপার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও) পৃথকভাবে আদেশ জারি করেন এবং স্থানীয়ভাবে মাইকিং করে জনগণকে বিষয়টি জানিয়ে দেন।

আদেশে বলা হয়েছে, এই সময়ের মধ্যে সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল, বিক্ষোভ, গণজমায়েত, বিস্ফোরক দ্রব্য বা দেশীয় অস্ত্র বহন সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ থাকবে। একই সঙ্গে পাঁচজন বা ততোধিক মানুষের একসঙ্গে চলাফেরা বা অবস্থান করাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীর চারাবুনিয়ায় দা দিয়ে গলা কেটে সৎমা ও দাদিকে হত্যা

এর আগে বৃহস্পতিবার (১২ জুন) রাত ৮টার দিকে চরবিশ্বাস বাজারে বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে বিএনপির কার্যালয়ে ভাঙচুর এবং কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। একই রাতে গলাচিপার পাতাবুনিয়া গ্রামে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ ওঠে, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেয়।

প্রশাসনের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পটুয়াখালীর চারাবুনিয়ায় দা দিয়ে গলা কেটে সৎমা ও দাদিকে হত্যা

পটুয়াখালীর সদর উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের চারাবুনিয়া গ্রামে সৎমা সাহিদা বেগম (৪৮) ও শতায়ু দাদি কুলসুম বিবি (১২৫) কে নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যা করেছে মানসিক ভারসাম্যহীন আল-আমিন (২৭) নামের এক যুবক। গতকাল (১০ জুন) দুপুর ১টার দিকে এ রক্তাক্ত ঘটনা ঘটে।

নিহত সাহিদা বেগম ছিলেন আল-আমিনের সৎমা এবং কুলসুম বিবি তার দাদি। ঘাতক আল-আমিন ওই গ্রামের আবদুর রাজ্জাক খানের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেশ কিছুদিন আগে আল-আমিন নিখোঁজ হন। পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের খোঁজাখুঁজির পর ৩-৪ দিন আগে তাকে পাওয়া যায় এবং বাড়িতে আনা হয়। পরিবার সূত্রে জানা যায়, আল-আমিনের মানসিক অসুস্থতা ছিল, এবং তাকে পাবনার মানসিক হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছিল। ঘটনার দিন দুপুরে তার বড় ভাই পরিচয়পত্রের কাগজপত্র আনতে স্থানীয় মহিলা ইউপি সদস্যের কাছে যান এবং পিতা রাজ্জাক খান ছিলেন বাইরে কাজে।

এই সুযোগে আল-আমিন ঘরে একা পেয়ে তার সৎমা সাহিদা বেগম ও শতায়ু দাদি কুলসুম বিবিকে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে গলা কেটে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের পরপরই সে পালিয়ে যায়।

ঘটনার খবর পেয়ে পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে। পটুয়াখালী সদর থানার ওসি (তদন্ত) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, “দুইটি মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত আল-আমিনকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলছে।”

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আতঙ্কে রয়েছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়রা বলছেন, “মানসিক রোগীর চিকিৎসায় পরিবারের অবহেলা ছিল। যদি আগে থেকেই তাকে হাসপাতালে পাঠানো হতো, তাহলে এমন ভয়াবহ ঘটনা ঘটতো না।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



গলাচিপায় নূরকে অবরুদ্ধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, ১৪৪ ধারা জারি

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় পুরো এলাকায় জারি করা হয়েছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা। বৃহস্পতিবার (১২ জুন) রাতে বকুলবাড়িয়া ইউনিয়নের পাতাবুনিয়া বটতলা বাজার এলাকায় গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূরকে কয়েক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এই উত্তেজনার সূত্রপাত।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শুক্রবার (১৩ জুন) সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে ১৪৪ ধারা জারির ঘোষণা দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপন জারির পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলাজুড়ে মাইকিং করে জনগণকে সতর্ক করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, গলাচিপার চরবিশ্বাস ও বকুলবাড়িয়া ইউনিয়নে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদ উভয়েই একই সময় পৃথক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এতে বড় ধরনের সংঘর্ষ ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটতে পারে বলে গলাচিপা থানা প্রশাসন ইউএনওকে অবহিত করে। ফলে ১৩ জুন সকাল ৮টা থেকে ১৫ জুন সকাল ৮টা পর্যন্ত গলাচিপা পৌরসভা ও সংলগ্ন এলাকায় পাঁচজন বা ততোধিক মানুষের জমায়েত, মিছিল, সভা-সমাবেশ, বিক্ষোভ এবং দেশীয় অস্ত্র ও বিস্ফোরক বহন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।

ইউএনও মাহমুদুল হাসান বলেন, “সাধারণ মানুষের জানমাল ও সরকারি সম্পত্তি রক্ষার স্বার্থেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।”

গণঅধিকার পরিষদের দাবি, গলাচিপা ও দশমিনার বিভিন্ন স্থানে তাদের দলীয় অফিস ও নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। এর প্রতিবাদে শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টায় সংবাদ সম্মেলন এবং ৪টায় বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল সংগঠনটি।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে এক ফেসবুক পোস্টে নুরুল হক নূর অভিযোগ করেন, পটুয়াখালী-৩ আসনের বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও মনোনয়নপ্রত্যাশী হাসান মামুনের অনুসারীরা তাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহায়তায় তিনি মুক্ত হন।

উল্লেখ্য, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে প্রশাসন নিয়েছে বাড়তি নজরদারির উদ্যোগ।

রিপোর্টার: আল-আমিন,
চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



টিউলিপের সঙ্গে দেখা করছেন না প্রধান উপদেষ্টা ; হতাশা প্রকাশ টিউলিপের

যুক্তরাজ্যে চার দিনের সফরে থাকা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ও নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের সাক্ষাতের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন। এ ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করেছেন টিউলিপ।

বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস জানান, টিউলিপের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এখন আইনি প্রক্রিয়াধীন। তাই সাক্ষাৎ করলে সেটি আইনি প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের শামিল হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিবিসির এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এটি আদালতের বিষয়। আদালতই সিদ্ধান্ত নেবে মামলা চলার মতো যথেষ্ট উপাদান আছে কিনা। প্রসিকিউটরদের আরও স্বচ্ছ হওয়া উচিত কিনা, সে প্রশ্নের উত্তরে ইউনূস জানান, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ওপর তার পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং কমিশন সঠিক কাজটিই করছে।”

এদিকে যদি টিউলিপ বাংলাদেশে কোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন, তবে তাকে প্রত্যর্পণ চাওয়া হবে কিনা— এমন প্রশ্নের জবাবে ড. ইউনূস বলেন, “যদি তা আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হয়, তবে অবশ্যই।”

এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় এক বিবৃতিতে হতাশা প্রকাশ করেছেন টিউলিপ সিদ্দিক। তিনি বলেন, “মিডিয়ার কাছে কোনো প্রমাণ ছাড়াই, কাল্পনিক অভিযোগের ভিত্তিতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ছড়ানো হচ্ছে। ইউনূস সে প্রতিহিংসার কেন্দ্রে রয়েছেন। যদি এটা প্রকৃত আইনি প্রক্রিয়া হতো, তবে তারা আমার আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করত, ঢাকায় এমন এক ঠিকানায় ভুয়া চিঠিপত্র পাঠাত না, যেখানে আমি কখনও থাকিনি।”

টিউলিপ আরও বলেন, “আমি আশা করি তিনি এখন সংবাদমাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে অপবাদ দেওয়ার অভ্যাস বন্ধ করবেন এবং আদালতকে প্রমাণ করার সুযোগ দেবেন যে তদন্তের সাথে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। আমি একজন ব্রিটিশ নাগরিক এবং যুক্তরাজ্যের সংসদের একজন গর্বিত সদস্য।”

উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নৈতিক উপদেষ্টা স্যার লরি ম্যাগনাস টিউলিপের বিরুদ্ধে তদন্ত করেন। প্রতিবেদনে কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়নি; তবে আত্মীয়তার কারণে সম্ভাব্য সুনামের ক্ষতির বিষয়ে সতর্কতা জানানো হয়।

বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, শেখ হাসিনার শাসনামলে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার অবৈধভাবে পাচার হয়েছে, যার একটি বড় অংশ যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছে। এ অভিযোগের তদন্তে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ব্রিটিশ আইনজীবী নিয়োগ করেছে।

ড. ইউনূস জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্য সরকার এই তদন্তে অত্যন্ত সহযোগিতামূলক। আন্তর্জাতিক দুর্নীতি সমন্বয় কেন্দ্র (আইএসিসিসি) বাংলাদেশের অনুসন্ধানে সহায়তা দেওয়ার সম্ভাবনা যাচাই করছে।

তবে সফরকালে ড. ইউনূসের সঙ্গে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের বৈঠক হয়নি। এ বিষয়ে ইউনূস বলেন, “আমি জানি না আমি হতাশ নাকি তিনি হতাশ। এটা এক প্রকার সুযোগ হারানো। বাংলাদেশে এলেই হয়তো পরিস্থিতি বোঝা যেত।”

স্টারমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ না হওয়ার পেছনে ডাউনিং স্ট্রিট কোনো ব্যাখ্যা দিয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এমন কোনো ব্যাখ্যা আমরা পেয়েছি বলে মনে হয় না। সম্ভবত তিনি অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ব্যস্ত ছিলেন।”




মহিপুরে ৩টি অবৈধ ট্রলিং বোট জব্দ

পটুয়াখালীর মহিপুরে কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযানে জব্দ করা হয়েছে ৩টি অবৈধ ট্রলিং বোট। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে কাগজপত্র ও নিরাপত্তা সরঞ্জামবিহীন বোটগুলো আটক করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার হারুন-অর-রশীদ।

মঙ্গলবার দুপুরে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি জানান, সোমবার সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড স্টেশন নিজামপুরের একটি টিম মহিপুর থানার অলীপুর এলাকার শীপবাড়ীয়া ঘাটসংলগ্ন খাপড়াভাঙ্গা নদীতে এই অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে অংশ নেওয়া টিমটি নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ঘুরে ঘুরে বোটগুলো পরীক্ষা করে।

চলমান অভিযানে দেখা যায়, ‘এফ বি ফেরদৌস’, ‘এফ বি সাইম’ এবং ‘এফ বি বিসমিল্লাহ’ নামের তিনটি ট্রলিং বোটে কোনো বৈধ কাগজপত্র ও বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা সরঞ্জাম, যেমন লাইফ জ্যাকেট বা লাইফ বয়া, নেই। এছাড়াও এসব বোটে ছিল না কোনো বৈধ ফিশিং লাইসেন্স বা চলাচলের অনুমতিপত্র।

এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ট্রলিং বোটগুলোকে মহিপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তীতে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের লেফটেন্যান্ট কমান্ডার হারুন-অর-রশীদ আরও বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও চোরাচালান প্রতিরোধে কোস্ট গার্ড নিয়মিত টহল ও নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। দেশব্যাপী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় তারা সর্বদা তৎপর এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

স্থানীয়দের অনেকে এই অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং কোস্ট গার্ডের ভূমিকাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, এ ধরনের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকলে উপকূলীয় অঞ্চলে অবৈধ কার্যক্রম হ্রাস পাবে এবং জেলেদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত হবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পটুয়াখালীর বাউফলে বিএনপি নেতাদের রক্তাক্ত করে পালালো হামলাকারীরা

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নে রক্তক্ষয়ী হামলার শিকার হয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক দল এবং জিয়া সৈনিক দলের গুরুত্বপূর্ণ দুই নেতা। রোববার (৮ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যকর্পূরকাঠী গ্রামের উত্তরকান্দা এলাকায় এই বর্বর হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন কালাইয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাইফুল আলম রেজভি (৩০) ও জিয়া সৈনিক দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক আল আমিন ওরফে সবুজ (৩৫)। তাদেরকে প্রথমে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। জানা যায়, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-দপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেনের সঙ্গে দলীয় কার্যক্রম শেষে রাতে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন আহতরা। পথে উত্তরকান্দা এলাকায় আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তাদের গতিরোধ করে অতর্কিত হামলা চালায়। দেশি অস্ত্র ব্যবহার করে চালানো এই হামলায় তারা রক্তাক্ত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। আহতদের পরিবার ও ঘনিষ্ঠদের অভিযোগ, এই হামলার নেতৃত্ব দেন হালিম চৌধুরী নামে একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি, যিনি নিজেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য এ কে এম ফারুক আহম্মেদ তালুকদারের অনুসারী হিসেবে পরিচয় দেন। তবে পাল্টা বক্তব্যে হালিম চৌধুরী দাবি করেছেন, তার ওপরই হামলার চেষ্টা করা হয়েছে এবং তিনি পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে বাউফল থানার ওসি মো. আকতারুজ্জামান সরকার জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং লিখিত অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় এখন চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং সাধারণ মানুষ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। দলের নেতাকর্মীদের দাবি, এই হামলা পরিকল্পিত এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে করা হয়েছে। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনার পাশাপাশি, দোষীদের বিচারের আওতায় আনার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



অরাজনৈতিকীকরণের পথে শিক্ষা ব্যবস্থা: অন্তর্বর্তী সরকারের নজরকাড়া সিদ্ধান্ত

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে গত ১০ মাসে দেশের মোট ২২৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। ইতিহাসে এই প্রথম কোনো সরকারের আমলে এত স্বল্প সময়ে এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম বদলের ঘটনা ঘটল। এসব পরিবর্তনে বাদ পড়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা, তাঁদের পরিবার ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত নেতাদের নাম।

সরকারি সূত্র জানিয়েছে, সর্বশেষ গত ৪ জুন ২৪টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।

নামকরণে পরিবর্তনের দৃষ্টিভঙ্গি

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণে এখন থেকে ব্যক্তিনির্ভরতার পরিবর্তে স্থানীয়তা ও গণগ্রাহ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পূর্ববর্তী সরকার যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম রাজনৈতিক বা পারিবারিক ভিত্তিতে নির্ধারণ করেছিল, সেগুলোর নাম সংশ্লিষ্ট জেলা, উপজেলা বা এলাকা অনুযায়ী পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে।

নাম পরিবর্তনের কিছু উদাহরণ

২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ছয়টি সরকারি মেডিকেল কলেজের নাম পরিবর্তন করা হয়। এর মধ্যে মানিকগঞ্জের কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজের নতুন নাম রাখা হয়েছে ‘মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ’ এবং ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ‘ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ’।

২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি দেশের ১৩টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বদল করা হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নতুন নাম সংশ্লিষ্ট জেলার নামে নির্ধারিত হয়। যেমন, নেত্রকোনার ‘শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়’ এখন ‘নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়’ এবং কিশোরগঞ্জের ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়’ এখন পরিচিত ‘কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে।

১৫ এপ্রিল অধ্যাদেশ জারি করে আরও তিনটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করা হয়। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) নতুন নাম হয় ‘বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়’। খুলনার শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম হয় ‘খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়’ এবং সিলেটের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়’।

২৯ মে প্রকাশিত আরেক প্রজ্ঞাপনে ৩৭ জেলার ৬৮টি সরকারি কলেজের নাম পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ ডিগ্রি কলেজের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করলে সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী জানান, ওই কলেজের নাম পরিবর্তন করা হবে না।

কারিগরি ও প্রাথমিক শিক্ষাতেও পরিবর্তন

১৩ এপ্রিল কারিগরি শিক্ষাক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়। এদিন ১৫টি সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে শেখ হাসিনা ও অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের নাম বাদ দেওয়া হয়। ২৪ এপ্রিল আরও ২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করা হয়, যার মধ্যে ছিল ১৬টি স্কুল, ৩টি স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ২টি কলেজ।

প্রাথমিক স্তরেও ব্যাপক নাম পরিবর্তন হয়েছে। গত ১০ মাসে পাঁচ দফায় মোট ৭৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম বদলানো হয়েছে। সর্বশেষ ১৮ মে ১১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

সরকারের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষকদের মত

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “জাতীয় প্রতিষ্ঠান বা স্থাপনার নামকরণ কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের নামে হওয়া উচিত নয়। এটি হওয়া উচিত দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ভৌগোলিক পরিচয়ের ভিত্তিতে। আমরা সেই নীতিতেই কাজ করছি।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, এটি একটি ‘অরাজনৈতিকীকরণ প্রক্রিয়া’, যার মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত করার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে, কেউ কেউ এটিকে কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং একটি রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও দেখছেন। তাঁদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকার এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নিজেদের নিরপেক্ষতা এবং অরাজনৈতিক রাষ্ট্র পরিচালনার অঙ্গীকার তুলে ধরতে চাইছে।

প্রসঙ্গত, ২০০৯ সাল থেকে টানা তিন মেয়াদে রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকার তাদের শাসনামলে বিভিন্ন স্তরের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানের নামকরণে রাজনৈতিক ও পারিবারিক প্রতীক ব্যবহার করেছিল। শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নামে অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সেতু, রাস্তাঘাট, মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা কেন্দ্র, এমনকি প্রকল্প ও ভবনের নামকরণ করা হয়। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকার সেই ধারা থেকে সরে এসে একটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।




ড. ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ চেয়ে চিঠি দিলেন টিউলিপ সিদ্দিক

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাতের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাজ্যের এমপি ও সাবেক মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিক। এ উদ্দেশ্যে তিনি ড. ইউনূসকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন, যেখানে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক বিষয়ে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ মীমাংসার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি।

চিঠিতে টিউলিপ সিদ্দিক উল্লেখ করেন, তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে যে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, তার প্রকৃত তথ্য তুলে ধরতেই তিনি এই সাক্ষাৎ চান। তিনি বলেন, “আমি যুক্তরাজ্যের একজন নাগরিক, লন্ডনে জন্মেছি এবং গত এক দশক ধরে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড হাইগেট এলাকার মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে আসছি। বাংলাদেশে আমার কোনো সম্পত্তি নেই, এবং সেখানে কোনো বাণিজ্যিক আগ্রহও নেই।”

প্রসঙ্গত, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার পতনের পর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। অভিযোগ অনুযায়ী, রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প থেকে অর্থ আত্মসাৎ এবং লন্ডনে একটি ফ্ল্যাট গ্রহণসহ নানা দুর্নীতির সঙ্গে তার নাম জড়ায়। যদিও টিউলিপ দাবি করেছেন, ফ্ল্যাটটি তিনি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন এবং এর প্রকৃত উৎস সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন না।

চিঠিতে টিউলিপ অভিযোগ করেন, তার আইনজীবীরা দুদকের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও সংস্থাটি তাদের সঙ্গে কথা বলেনি এবং বাংলাদেশে যে ঠিকানায় চিঠি পাঠানো হয়েছে, সেটিও ভুল। পাশাপাশি, তদন্তের নানা তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হলেও তার লিগ্যাল টিমকে কিছু জানানো হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

টিউলিপ সিদ্দিক চিঠিতে আরও লেখেন, “আপনি যুক্তরাজ্যে সফর করছেন জেনে আমি অত্যন্ত আগ্রহ নিয়ে আপনার সঙ্গে সাক্ষাতের অনুরোধ জানাচ্ছি। আমার সঙ্গে আমার আত্মীয়তা নিয়ে দেশে যে ভ্রান্ত ধারণা তৈরি হয়েছে, আমি আশা করি, আপনার সঙ্গে সাক্ষাতের মাধ্যমে তা দূর করা সম্ভব হবে।”

উল্লেখ্য, ড. মুহাম্মদ ইউনূস আগামীকাল ৯ জুন রাজা তৃতীয় চার্লসের আমন্ত্রণে যুক্তরাজ্যে চার দিনের সরকারি সফরে যাচ্ছেন। এ সফরে তাঁর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেইর স্টারমার ও রাজপরিবারের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।




দুমকিতে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আটক

পটুয়াখালীর দুমকিতে এক সময়ের আলোচিত ও প্রভাবশালী ছাত্রলীগ নেতা নাঈম হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ। নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাঈমকে শনিবার (৭ জুন) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার লেবুখালী সরকারি হাবিবুল্লাহ স্কুল এলাকায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরির সময় আটক করা হয়।

আটককৃত নাঈম হোসেন লেবুখালী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং মরহুম দেলোয়ার সরদারের ছেলে। তিনি পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি) শাখা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তাকে আটক করে থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব সুমন শরীফ ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন ছাত্র-জনতা।
সুমন শরীফ জানান, নাঈম হোসেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হারুন হাওলাদারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে পবিপ্রবি ও উপজেলা প্রশাসনে প্রভাব খাটানো, চাকরির দালালি, ঠিকাদারি কাজের কমিশন আদায়সহ একাধিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এমনকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য সরকারি প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাতের কথাও স্থানীয়দের মাঝে প্রচলিত।

তিনি আরও জানান, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন নাঈম। ঈদের দিন বিকেলে তাকে এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়।

আটকের সময় নাঈম হোসেন কোনো শারীরিক নির্যাতনের শিকার হননি বলেও জানান তিনি।

ঘটনার বিষয়ে দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকির হোসেন বলেন, “আটকের ঘটনা সত্য। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ নাঈমের গ্রেফতারে সন্তোষ প্রকাশ করলেও, তার রাজনৈতিক পরিচিতি ঘিরে আলোচনার ঝড় উঠেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ স্থানীয় মহলে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম