আজও ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রধান ফটক বন্ধ, ইশরাকপন্থিদের কর্মসূচি অব্যাহত

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান ফটক আজও তালাবদ্ধ। মেয়র হিসেবে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে দেখতে চাওয়া তার অনুসারীরা রোববার (২২ জুন) আবারও নগরভবনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন।

‘ঢাকাবাসী’ ব্যানারে স্লোগান ও মিছিল নিয়ে সকাল থেকেই নগরভবনে জড়ো হন ইশরাকপন্থি শত শত কর্মী-সমর্থক। তারা নগরভবনের মূল সিঁড়িতে বসে কর্মসূচি চালিয়ে যান। আন্দোলনকারীরা এ সময় ‘ইশরাক ভাইয়ের শপথ চাই’, ‘মেয়র নিয়ে তালবাহানা চলবে না’, ‘নগর পিতা ইশরাক ভাই’—এমন নানা স্লোগানে নগরভবন প্রাঙ্গণ মুখরিত করেন।

জানা গেছে, ডিএসসিসির বিভিন্ন এলাকা থেকে ছোট-বড় মিছিল এসে একত্রিত হচ্ছে নগরভবনে। এতে নগর ভবনের স্বাভাবিক কার্যক্রম কার্যত ব্যাহত হচ্ছে।

গত ১৫ মে থেকে ৩ জুন পর্যন্ত ইশরাকপন্থি কর্মচারীরা নগরভবনের প্রধান ফটক আটকে ও বিভাগগুলোতে তালা ঝুলিয়ে সেবা কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছিল। এরপর ঈদের বিরতির পর গত ১৫ জুন থেকে আবারও শুরু হয় অবস্থান কর্মসূচি।

ইশরাক হোসেন এর আগে এক বিবৃতিতে জানান, “নাগরিকদের জরুরি সেবা যেমন জন্ম নিবন্ধন সনদ চালু থাকবে। তবে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নিয়োজিত কর্মকর্তারা অফিস করতে পারবেন না। প্রধান ফটক খোলা হবে না, এটি আমাদের আন্দোলনের প্রতীক।”

এদিকে গত কয়েকদিন ধরে ইশরাক হোসেন ৭০টি ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্নতা পরিদর্শক, ওয়ার্ড সচিব, স্বাস্থ্য বিভাগ ও ডিএসসিসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে বৈঠক করছেন বলে জানা গেছে।

আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা নগরভবনে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। তবে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।




তিন বিতর্কিত নির্বাচনের কমিশনারদের বিরুদ্ধে মামলা করবে বিএনপি

দশম, একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য কমিশনারদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

রোববার (২২ জুন) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় এ মামলার আবেদন করবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তার সঙ্গে দলের আরও তিন সদস্য উপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।

শায়রুল জানান, মামলার আগে সকাল ১০টায় নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে নির্বাচন কমিশনারদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের একটি কপি জমা দেওয়া হবে। এরপর থানায় মামলা দায়ের করা হবে।

বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের বিতর্কিত জাতীয় নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা কমিশনাররা সংবিধান ও নির্বাচন আইন লঙ্ঘন করে নিরপেক্ষতা হারিয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে দলটি।

এর আগে, গত ১৬ জুন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন উপদেষ্টা পরিষদ এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেয়। বৈঠকে বিতর্কিত তিনটি নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কমিশনার, সচিব ও কর্মকর্তাদের ভূমিকা তদন্তে একটি স্বাধীন কমিটি গঠনের আহ্বান জানানো হয়।

বিএনপির এই আইনি উদ্যোগকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সংলাপ ও নির্বাচন ব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আলোচনা আরও তীব্র হবে।




এনবিআর-বিডা এলাকায় সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর কার্যালয় এবং তার আশপাশের এলাকায় সব ধরনের সভা, সমাবেশ, মিছিল ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। জননিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

শনিবার (২১ জুন) ডিএমপির কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নিষেধাজ্ঞার কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, শেরেবাংলা নগর থানার আওতাধীন শিশু মেলা থেকে আগারগাঁও রোডে অবস্থিত এনবিআর এবং বিডা কার্যালয় সংলগ্ন এলাকায় যে কোনো ধরনের সভা, মিছিল, শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিষিদ্ধ থাকবে।

ডিএমপির মতে, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো—জনশৃঙ্খলা রক্ষা, চলাচলে ব্যাঘাত রোধ এবং সরকারি কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখা। নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুনিশ্চিত রাখতে সংশ্লিষ্ট এলাকাজুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রাখা হবে।

এ নিষেধাজ্ঞা আগামী ২২ জুন (রোববার) সকাল থেকে কার্যকর হবে এবং নতুন নির্দেশ না আসা পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। ডিএমপি সূত্রে জানা যায়, পরিস্থিতির উন্নয়ন বা পরিবর্তনের ওপর ভিত্তি করে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।

এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে সাধারণ জনগণকে এই নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং নির্দেশনা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতির পরিবর্তনে একমত রাজনৈতিক দলগুলো: আলী রীয়াজ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া সংস্কারে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার(১৯ জুন) বিকালে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে অনুষ্ঠিত সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য দেন অধ্যাপক রীয়াজ।

তিনি বলেন, “রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা খুবই ফলপ্রসূ হয়েছে। সব রাজনৈতিক দলই মনে করে, বর্তমান ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদের সংস্কার নিয়ে সকলেই একমত। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত আসবে ভবিষ্যতের আলোচনায়।”

অধ্যাপক রীয়াজ জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে আলোচনায় দ্বিকক্ষ পার্লামেন্টের বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে এসেছে। তিনি বলেন, “রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতির সঙ্গে উচ্চকক্ষের সম্পর্ক রয়েছে। অনেক দলই দ্বিকক্ষ আইনসভার পক্ষে মত দিয়েছে। এমনকি উচ্চকক্ষের সদস্যসংখ্যা ১০০ নির্ধারণের প্রস্তাবও এসেছে। তবে এসব প্রস্তাব এখনও চূড়ান্ত নয়।”

প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদসীমা নিয়েও সংলাপে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। তার ভাষায়, “একই ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না— এ বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। কয়েকটি দল বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে।”

অন্য বিষয়ে ঐকমত্য নিয়ে প্রশ্নে আলী রীয়াজ বলেন, “আমরা সব বিষয়ে একমত হতে পারব না, তা আগেই জানতাম। তবে আশা করছি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে ঐকমত্যে পৌঁছানো যাবে। যেসব বিষয়ে ঐক্য হবে না, সেগুলোও আমরা ইতিবাচকভাবে তুলে ধরব।”

তিনি আরও জানান, আগামী রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় আবারও সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে এই সপ্তাহে যেসব বিষয় অনিষ্পন্ন রয়েছে, সেগুলো আলোচনায় আনা হবে।




‘জুলাই শহীদ’ ও ‘জুলাই যোদ্ধা’র স্বীকৃতি দিতে সরকারি অধ্যাদেশ জারি

‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে’ শহীদ ও আহতদের স্বীকৃতি এবং পুনর্বাসনের জন্য নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছে সরকার। মঙ্গলবার (১৭ জুন) ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ কার্যকর করা হয়।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী, আন্দোলনে প্রাণ হারানোদের ‘জুলাই শহীদ’ এবং আহতদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। আহতদের তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করে তাদের পুনর্বাসন ও কল্যাণে বহুমুখী কার্যক্রম পরিচালনার কথা বলা হয়েছে।

অধ্যাদেশে প্রতারণা রোধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। যদি কেউ মিথ্যা তথ্য দিয়ে নিজেকে শহীদ পরিবারের সদস্য বা আহত যোদ্ধা দাবি করে সরকারি সহায়তা গ্রহণ করে, তাহলে তার সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ডদুই লাখ টাকা জরিমানা বা নেওয়া আর্থিক সহায়তার দ্বিগুণ অর্থদণ্ড হবে।

পুনর্বাসন কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে—

  • শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি
  • দক্ষতা অনুযায়ী উপার্জনমুখী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা
  • আত্মকর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে সহজ শর্তে ঋণ বা আর্থিক সহায়তা
  • প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদান

অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নের মাধ্যমে শহীদ পরিবার ও আহতদের মর্যাদা রক্ষা এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।




শেয়ারবাজারে কারসাজি: সাকিব আল হাসানের বিরুদ্ধে দুদকের বড় পদক্ষেপ

শেয়ারবাজারে প্রতারণার মাধ্যমে ২৫৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার (১৭ জুন) দুপুরে দুদকের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন বাদী হয়ে সংস্থার সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১-এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলার তথ্য নিশ্চিত করেছেন দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন।

তিনি জানান, সাকিব আল হাসান তিনটি কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করেন এবং সেখানে বাজার কারসাজিতে তার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। শেয়ারবাজারে চলমান অনিয়মে তিনি সরাসরি লাভবান হয়েছেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

এর আগে, গতকাল সাকিবসহ মামলার অন্য ১৪ আসামির বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেন আদালত। বাকি আসামিরা হলেন: সমবায় অধিদপ্তরের উপনিবন্ধক মো. আবুল খায়ের ও তার স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসান, আবুল কালাম মাদবর, কনিকা আফরোজ, মোহাম্মদ বাশার, সাজেদ মাদবর, আলেয়া বেগম, কাজী ফুয়াদ হাসান, কাজী ফরিদ হাসান, শিরিন আক্তার, জাভেদ এ মতিন, মো. জাহেদ কামাল, মো. হুমায়ুন কবির ও তানভির নিজাম।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, প্যারামাউন্ট ইস্যুরেন্স লিমিটেড, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড ও সোনালী পেপারস লিমিটেড—এই তিনটি কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগের মাধ্যমে সাকিব শেয়ারবাজারে কারসাজিতে জড়িত ছিলেন। তিনি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ওই শেয়ারে বিনিয়োগে প্রলুব্ধ করে ২ কোটি ৯৫ লাখ টাকারও বেশি লাভ নিজের নামে উত্তোলন করেন।

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে সাকিবের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। অর্থপাচার ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের উপপরিচালক মাহবুবুল আলমের নেতৃত্বে দুই সদস্যের একটি তদন্ত দল গঠন করা হয়।

 




নির্বাচনের তারিখ নিয়ে অস্থির না হয়ে ধৈর্য ধরার আহ্বান আমীর খসরুর

নির্বাচনের দিনক্ষণ নিয়ে অস্থির না হয়ে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের দিন ঘোষণা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য রয়েছে, তাই এই মুহূর্তে সহনশীলতা এবং আস্থা ধরে রাখাই সবচেয়ে জরুরি।

মঙ্গলবার (১৭ জুন) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত পাওলো ফার্নান্দো ডায়াস ফেরেসের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

আমীর খসরু বলেন, “নির্বাচনের দিনক্ষণ নিয়ে সবার মধ্যে জাতীয় ঐকমত্য রয়েছে। কোথাও দ্বিমত আছে বলে আমরা মনে করি না। এটা একান্তই নির্বাচন কমিশনের বিষয়। সরকার বা কোনো রাজনৈতিক দল এটা নির্ধারণ করতে পারে না।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের ধৈর্য ধরতে হবে। একদম অস্থির হয়ে গেলে চলবে না। নির্বাচন কমিশন নিশ্চয়ই সময়মতো দিনক্ষণ ঘোষণা করবে। আমরা সবাই অপেক্ষা করছি।”

লন্ডনে বিএনপি নেতাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠককে ইতিবাচক উল্লেখ করে আমীর খসরু বলেন, “বৈঠকের পর জাতির মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। আমাদের ভবিষ্যৎ পথচলাকে প্রশ্নবিদ্ধ না করে ধৈর্য ধরে এগিয়ে যেতে হবে। সঠিক পথে এগোলে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসবে—এ বিশ্বাস আমাদের সবার মধ্যে থাকতে হবে।”

সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যকার যোগাযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে সরকারের সঙ্গে কমিশনের যোগাযোগ থাকা স্বাভাবিক। এটা রুটিন কার্যক্রমের অংশ। তাই আমাদের ধৈর্য ধরে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে হবে।”

বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের শপথ বিষয়ে আমীর খসরু বলেন, “কোর্টের রায় হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের দিক থেকেও বিষয়টি এসেছে। এখন আমরা দেখছি সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয়। সবার উচিত অপেক্ষা করা এবং আইনের শাসনের প্রতি আস্থা রাখা।”

বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক লক্ষ্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা বাংলাদেশে একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চাই। জাতীয় স্বার্থে ঐক্য ও ঐকমত্যের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি।”




মানবতাবিরোধী অপরাধে হাসিনা-আসাদুজ্জামানকে ট্রাইব্যুনালের হাজিরার নির্দেশ

জুলাই-আগস্ট গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আত্মসমর্পণের নির্দেশ পেয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মঙ্গলবার তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।

ট্রাইব্যুনাল জানিয়েছে, নির্ধারিত তারিখে আদালতে হাজির না হলে, নিয়ম অনুযায়ী অনুপস্থিতিতেই বিচারকাজ চলবে। এ বিষয়ে আগেই সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল।

গতকাল সোমবার (১৬ জুন) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই নির্দেশ দেন। অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। একইসঙ্গে মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে ২৪ জুন।

এই মামলায় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামানের পাশাপাশি পুলিশের তৎকালীন মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনও অভিযুক্ত। তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।




ইশরাকের নগর ভবন দখল দায়িত্বহীন: উপদেষ্টা আসিফ

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ইস্যুতে কোনো আইন লঙ্ঘন হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ভূঁইয়া। তিনি বলেন, বিষয়টি বিচারাধীন অবস্থায় গেজেটের মেয়াদ এবং পরবর্তী সময়ে সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় শপথ নেওয়ার আর কোনো আইনি সুযোগ নেই।

সোমবার (১৬ জুন) বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের নগর ভবনে সভা করার পর এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা।

আসিফ মাহমুদ তার বিবৃতিতে বলেন, ‘এভাবে ক্ষমতা প্রদর্শন করে নগর ভবন দখলের চেষ্টা দক্ষিণ ঢাকার দৈনন্দিন নাগরিক সেবায় বিঘ্ন ঘটানো দায়িত্বহীনতা এবং আইনের শাসনের প্রতি অবমাননাকর। ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের একজন নেতার কাছ থেকে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ প্রত্যাশিত নয়। আমরা আরও দায়িত্বশীল ও পরিপক্ব আচরণ আশা করি।’

নগর ভবনে অবরোধের কারণে নাগরিক সেবা ব্যাহত হচ্ছে জানিয়ে উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘গত মাসে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ৩০-৪০ শতাংশ নাগরিক সেবা কমেছে। আমাদের কর্মকর্তারা ওয়াসা অফিসে বসে সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন যাতে নাগরিক সেবা পুরোপুরি বন্ধ না হয়।’

তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে অংশ নেওয়া নেতাদের কাছ থেকে আমরা আরও দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করি।’




উপদেষ্টাদের গাড়িবহর আটকে বিক্ষোভ, শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা

সিলেটের জাফলংয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের দুই উপদেষ্টার গাড়িবহর আটকে বিক্ষোভের ঘটনায় যুবদল নেতা জাহিদ খানকে প্রধান আসামি করে মোট ১৫৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।

রোববার রাতে গোয়াইনঘাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওবায়দুল্লাহ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার তোফায়েল আহমেদ জানান, মামলায় বেআইনিভাবে সংঘবদ্ধ হয়ে অবরোধ সৃষ্টি, সরকারি কর্মচারীর কাজে বাধা প্রদানসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে সদ্য বহিষ্কৃত যুবদল নেতা জাহিদ খানকে। দ্বিতীয় আসামি হিসেবে রাখা হয়েছে পূর্ব জাফলং ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি আজির উদ্দিনকে। এছাড়া আসামিদের মধ্যে রয়েছেন জেলা ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক সোহেল আহমদ, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইউসুফ আহমেদ, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আবদুল জলিল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুস সালাম ও ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রমজান মোল্লা।

এর আগে শনিবার (১৫ জুন) সকালে সিলেটের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র জাফলংয়ে পরিদর্শনে যান অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।

পরিদর্শন শেষে ফেরার পথে জাফলংয়ের প্রধান সড়কে তাদের গাড়িবহরের গতিরোধ করে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। ঘণ্টাব্যাপী চলা এই বিক্ষোভে পাথর কোয়ারি চালুর দাবিতে স্লোগান দেন তারা।

বিক্ষোভ চলাকালে গাড়িবহরের চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।