গডফাদারদের ধরতে না পারলে মাদক দমন অসম্ভব : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

মাদকবিরোধী অভিযানকে কার্যকর করতে শুধু বাহকদের গ্রেপ্তার করলেই হবে না, তাদের পেছনের গডফাদারদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

বুধবার (২৫ জুন) ‘মাদকের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস ২০২৫’ উপলক্ষে রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ৩২টি বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়। পরবর্তীতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “মাদকের বাহকদের ধরার পাশাপাশি এখন সময় এসেছে গডফাদারদের আইনের আওতায় আনার। শুধু বাহকদের ধরে মাদক সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। গডফাদারদের শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “সরকার ইতোমধ্যে মাদকবিরোধী কার্যক্রমে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে মাদক নিরাময় কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, জনবল বৃদ্ধি করা হয়েছে। আপনারা যেসব দাবি করেছেন, তা পূরণ করা হয়েছে। এখন লক্ষ্য হওয়া উচিত চক্রের মূল হোতাদের খুঁজে বের করা।”

সীমান্ত এলাকা দিয়ে মাদক পাচারের বিষয়টি উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, “একটি দেশের বাহিনী সীমান্ত দিয়ে মাদক পাচার করে রোজগার করছে, সংসার চালাচ্ছে—এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। এই চক্র ভাঙার চেষ্টা করছি। যদিও এখনো পুরোপুরি সফল হইনি, তবে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “এখন অনেক নতুন ‘বদি’ তৈরি হয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করতে হলে বাহক নয়, মূল গডফাদারদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপই একমাত্র উপায়।”




নিবন্ধন ফিরে পেয়ে সাংবাদিক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কৃতজ্ঞতা জামায়াত সেক্রেটারির

দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর দলীয় প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’সহ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পুনরায় নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন ফিরে পেয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ জুন) রাতে রাজধানীর বসুন্ধরায় দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি জানান, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সর্বসম্মত রায়ের ভিত্তিতে এবং নির্বাচন কমিশনের ২৪ জুনের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধন ফিরে পেয়েছে। এর আগে, ১ জুন আপিল বিভাগ জামায়াতের নিবন্ধন ফিরিয়ে দেওয়ার আদেশ দেয় এবং ৪ জুন নির্বাচন কমিশন নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

সংবাদ সম্মেলনে গোলাম পরওয়ার বলেন, “এই জয় ন্যায়বিচারের, এই জয় গণতন্ত্রের। দীর্ঘদিন ধরে গণতান্ত্রিক ও আইনি প্রক্রিয়ায় আমরা আমাদের অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য লড়াই করেছি। আজকের এই অর্জনে আমরা মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি।”

তিনি গণমাধ্যম, আইনজীবী এবং দেশ-বিদেশের শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “আপনারা জাতির বিবেক। সংবাদ মাধ্যমে ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সাংবাদিকতার মহত্ত্ব অটুট রেখেছেন।”

গোলাম পরওয়ার আরও জানান, ২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে জামায়াতে ইসলামী বৈধভাবে নিবন্ধিত হয়েছিল। তবে ২০১৮ সালের ২৮ অক্টোবর এক আদালতের আদেশে দলটির নিবন্ধন বাতিল করা হয়। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জামায়াত দীর্ঘ আইনি লড়াই চালিয়ে যায়।

তিনি বলেন, “২০০৯ সালের একটি রিট পিটিশনের প্রেক্ষিতে যে আদেশে আমাদের নিবন্ধন বাতিল হয়েছিল, তা ছিল রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত। আজকের রায় এবং প্রজ্ঞাপন আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের স্বীকৃতি।”

সংক্ষিপ্ত এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি জামায়াতের নিবন্ধন পুনর্বহালের বিষয়টি দলীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন এবং ভবিষ্যতে গঠনমূলক রাজনৈতিক ভূমিকা পালনের প্রতিশ্রুতি দেন।




গুম প্রতিরোধে দ্রুত আইন প্রণয়ন করবে সরকার: আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল

গুম প্রতিরোধে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এতে গুমের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

মঙ্গলবার (২৪ জুন) বিকেলে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘কমনওয়েলথ চার্টার যুব কর্মশালা’র সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

ড. আসিফ নজরুল বলেন, “কমনওয়েলথ চার্টারে বর্ণিত গণতান্ত্রিক ও মানবিক মূল্যবোধের আলোকে সরকার ইতোমধ্যে একাধিক আইনি সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। বিচারিক ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, গতিশীল ও জবাবদিহিমূলক করতে আদালতসমূহ ডিজিটালাইজেশনের আওতায় আনা হচ্ছে।”

তিনি জানান, বিচারক নিয়োগে স্বচ্ছতা ও মেধার ভিত্তিতে নতুন নিয়ম চালু করা হবে। সেই সঙ্গে ফৌজদারি কার্যবিধি (সিআরপিসি) যুগোপযোগী করার উদ্যোগও নেয়া হয়েছে এবং আইনটির খসড়া প্রস্তুত রয়েছে।

গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে জুলাই-আগস্টে ঘটে যাওয়া গণজাগরণ সম্পর্কে আইন উপদেষ্টা বলেন, “এটি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং গুম, হত্যা, অবিচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তরুণদের আত্মপ্রকাশ। এটি একটি সামাজিক আন্দোলন যা দেশের ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক বার্তা দেয়।”

 




ভোলায় ছাত্রদল কর্মীর মৃত্যু নিয়ে তদন্ত দাবি, বিক্ষোভ সমাবেশ

ভোলা সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ছাত্রী ও ছাত্রদল কর্মীর মৃত্যু নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন স্থানীয় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা।

মঙ্গলবার (২৪ জুন) দুপুর ১২টার দিকে কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে ছাত্রদল। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ভোলা প্রেসক্লাবের সামনে এসে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন নেতারা।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, নিহত ওই ছাত্রীর মৃত্যু রহস্যজনক। চার দিন নিখোঁজ থাকার পর নদীতে ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। যদিও তাকে ঢাকা যাওয়ার পথে লঞ্চ থেকে ‘ঝাঁপ দিয়েছেন’ বলে দাবি করা হয়, কিন্তু এই ঘটনাকে ঘিরে বহু প্রশ্ন ও সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

নেতারা অভিযোগ করেন, একটি মহল ঘটনাটি নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তারা এই মৃত্যুর পেছনের কারণ অনুসন্ধানে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানান।

সমাবেশে বক্তব্য দেন ভোলা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক তানভীর হোসেন, আরাফাত ইসলাম ইফতি ও সদস্যসচিব ফজলুল করিম ছোটন।

উল্লেখ্য, ভোলা সরকারি কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী ও ছাত্রদল কর্মীকে চার দিন নিখোঁজ থাকার পর নদীতে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলেজপাড়ায় শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।




বিয়ের নামে প্রতারণা, নিঃস্ব কাতারপ্রবাসী রুবেল

বরিশালের নলছিটি উপজেলার দক্ষিণ রানাপাশা গ্রামের এক তরুণীর বিরুদ্ধে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে কাতারপ্রবাসী এক যুবকের কাছ থেকে প্রায় ১১ লাখ টাকার বেশি অর্থ ও উপহার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী মো. রুবেল সিকদার জানান, পারিবারিকভাবে বিয়ের প্রস্তাবের মাধ্যমে তার পরিচয় হয় মোসা. মনুজা আক্তার (২৩)-এর সঙ্গে। পরিচয়ের পর দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে এবং প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। রুবেল জানান, মনুজার সঙ্গে বিয়ে হবে এমন প্রত্যাশায় তিনি তাকে স্বর্ণালঙ্কার, দামী মোবাইল, নগদ অর্থসহ বিভিন্ন উপহার পাঠান।

রুবেল অভিযোগ করেন, মনুজার অনুরোধে তিনি তার ভাই সগির হোসেনকে কাতারে নিয়ে আসতেও সহযোগিতা করেন। কিন্তু এরপর থেকেই মনুজা তার সঙ্গে সকল যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। একপর্যায়ে তিনি জানতে পারেন, মনুজা এরই মধ্যে সোহেল খলিফা নামের এক ব্যক্তিকে বিয়ে করেছেন এবং তার সঙ্গে পূর্ব থেকেই প্রেমের সম্পর্ক ছিল।

রুবেল বলেন, “আমার সরল বিশ্বাসকে করে ও আমাকে ভালোবাসার অভিনয় করে। আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি।”

তিনি আরও জানান, যোগাযোগের চেষ্টা করেও মনুজা তার ফোন রিসিভ করেননি। উকিল নোটিশ পাঠানো হলেও তিনি কোনও সাড়া দেননি। বিষয়টি নিয়ে বরিশালের স্থানীয় আদালতে মামলা করা হয়েছে।

রুবেলের দাবি অনুযায়ী, তার পাঠানো টাকার লেনদেন, মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালঙ্কার প্রদানের বেশ কিছু প্রমাণ তার কাছে রয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মনুজা আক্তারের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া সম্ভব হয়নি।




বরিশালের বাকেরগঞ্জে গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় আসমা আক্তার (৪০) নামে এক গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ জুন) রাতে উপজেলার কলসকাঠী ইউনিয়নের কলসকাঠী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আসমা আক্তার ওই গ্রামের আবুল হোসেনের স্ত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে হঠাৎ চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা তাদের বাড়িতে ছুটে গিয়ে আসমা আক্তারকে রক্তাক্ত অবস্থায় ঘরের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাকে উদ্ধার করে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

চিকিৎসক নাহিদ হাসান জানান, নিহতের শরীরে একাধিক ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাৎক্ষণিকভাবে মৃত্যুর কারণ হিসেবে ধারালো অস্ত্রের আঘাতকেই প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে এবং মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। বুধবার সকালে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, “এটি একটি রহস্যজনক হত্যাকাণ্ড। ঘটনাটি পারিবারিক বিরোধ, জমিজমা সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব অথবা অন্য কোনো কারণে ঘটে থাকতে পারে। সব দিক বিবেচনায় তদন্ত চলছে।”

তিনি আরও জানান, অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্তে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে

 

 




কৃষি কর্মকর্তাকে বাঁশ দিয়ে ‘পেটালেন’ বিএনপি ও ছাত্রদল নেতা

বরিশালের হিজলা উপজেলায় এক কৃষি কর্মকর্তাকে বাঁশ দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির এক সাবেক নেতা ও তার ছেলে ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। রোববার (২২ জুন) রাত ৯টার দিকে উপজেলার টেকেরবাজার এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে কৃষি কর্মকর্তা গুরুতর আহত হন এবং রাতেই থানায় মামলা দায়ের করেন।

আহত ব্যক্তি হলেন ফখরুল ইসলাম, তিনি উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ফখরুল ইসলাম জানান, প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় নারিকেল চারা বিতরণের তালিকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা গিয়াস দেওয়ান একটি নামের তালিকা জমা দেন। তবে যাচাই-বাছাইয়ে তালিকাভুক্ত ব্যক্তিরা চারা পাওয়ার যোগ্য না হওয়ায় তাদেরকে চারা দেওয়া হয়নি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি এবং তার ছেলে রিয়াজুল ইসলাম জিসান (ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক, হিজলা সরকারি কলেজ) রোববার রাতে ৪-৫ জন সহযোগী নিয়ে ফখরুলের ওপর হামলা চালান।

তিনি আরও বলেন, “টেকেরবাজারে অফিসের কাজ শেষে ফেরার পথে আমাকে একটি চায়ের দোকানে ধরে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধর করে রক্তাক্ত করা হয়। আমি ইউএনও স্যারের নির্দেশে হিজলা থানায় অভিযোগ করি।”

রাতেই হিজলা থানায় দায়ের করা মামলায় গিয়াস দেওয়ান, তার ছেলে রিয়াজুল ইসলাম জিসান এবং আরেকজনের নাম উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৩-৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এদিকে অভিযুক্ত গিয়াস দেওয়ান তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমরা এই ঘটনায় জড়িত নই। কে বা কারা হামলা করেছে জানি না।”

তবে হিজলা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল গাফফার তালুকদার বলেন, “গিয়াস দেওয়ান ও তার ছেলে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতাদের জানানো হয়েছে।”

হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আমিনুল ইসলাম জানান, “ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটি তাৎক্ষণিক এজাহারভুক্ত করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”




পুলিশ জনগণের হতে পারলেই মুছে যাবে কলঙ্ক: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

পুলিশ যদি প্রকৃত অর্থে জনগণের হয়ে কাজ করতে পারে, তাহলে তাদের গায়ে লেগে থাকা কলঙ্ক দূর হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট (অব.) জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

সোমবার (২৩ জুন) বিকেলে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “পুলিশকে মানবিক হতে হবে, জনবান্ধব হতে হবে। আমরা ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছি, যার ফলে পুলিশ আগের মতো আচরণ করছে না। ইতিমধ্যে কেউ কেউ আইনের আওতায় এসেছে। পুলিশ যখন জনগণের হয়ে ওঠবে, তখনই তাদের অতীতের কলঙ্ক মুছে যাবে।”

সম্প্রতি মব সৃষ্টির ঘটনা নিয়ে তিনি বলেন, “এ ধরনের ঘটনা যেন আর না ঘটে, সে লক্ষ্যে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে ঘিরে ঘটে যাওয়া ঘটনায় যদি আমাদের বাহিনীর কেউ দায়ী থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে যারা মব সহিংসতায় জড়িত, তারাও ছাড় পাবে না।”

সন্তুষ্টি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “জনগণ যদি পুলিশের কাজে সন্তুষ্ট থাকে, তবেই আমি সন্তুষ্ট। সন্তুষ্টির কোনো নির্দিষ্ট মানদণ্ড নেই—কেউ দুই টাকায় সন্তুষ্ট হয়, কেউ দুই কোটি টাকায়। তবে আমরা চেষ্টা করছি সবাইকে সন্তুষ্ট রাখতে।”

তিনি আরও বলেন, “৫ আগস্টের পর থেকে পুলিশের মধ্যে পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি পুলিশকে জনবান্ধব করতে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সব বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।”

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক রেজা, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক ও পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।




পটুয়াখালী জেলা নির্বাচন অফিসে দুদকের অভিযান

সেবা নিতে এসে ভোগান্তি, ঘুষ, দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে পটুয়াখালী সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসে হঠাৎ অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার (২৩ জুন) সকাল ১০টার দিকে দুদকের পটুয়াখালী জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক তাপস বিশ্বাসের নেতৃত্বে একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানের সময় জেলা সিনিয়র নির্বাচন অফিসার খান আ.বি. সাহানুরসহ অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। বেশ কিছু সময় ধরে অফিসের নথিপত্র ও সেবাপ্রক্রিয়া খতিয়ে দেখা হয় এবং একাধিক সেবাগ্রহীতার সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাদের অভিজ্ঞতা শোনা হয়।

দুদকের সহকারী পরিচালক তাপস বিশ্বাস জানান, কমিশনের হেড অফিসের নির্দেশেই দেশের বিভিন্ন জেলার নির্বাচন অফিসে ধারাবাহিকভাবে এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। তিনি বলেন, “আজকের অভিযানে পটুয়াখালী জেলা নির্বাচন অফিসে বেশ কিছু অসামঞ্জস্য লক্ষ্য করা গেছে। সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে কিছু গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে আমরা তদন্ত চালাবো।”

আরো পড়ুন : শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড জিতে দেশসেরা পটুয়াখালীর সুন্নাহ

তিনি আরও বলেন, “অনেকেই অভিযোগ করেছেন সেবা পেতে ঘুষ দিতে হয়েছে, কেউ কেউ আবার অভিযোগ করেছেন নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি দেরি হচ্ছে, কেউ আবার সঠিক সেবা পাচ্ছেন না। এসব অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধান কার্যালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।”

এছাড়াও অফিসে কর্মরতদের আচরণ, সেবাদানের মান, আবেদন নিষ্পত্তির সময়সীমা ও স্বচ্ছতা নিয়ে নানা প্রশ্নের মুখে পড়ে নির্বাচন অফিস। অভিযানকালে বেশ কিছু নথিপত্র ও দলিল যাচাই করে তাৎক্ষণিক কিছু নির্দেশনাও দেওয়া হয়।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, শুধু পটুয়াখালী নয়, দেশজুড়ে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে জনসেবায় ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কমিশন মনে করছে, এসব অভিযান নিয়মিত হলে সাধারণ মানুষ সরকারি সেবা গ্রহণে আরও উৎসাহী হবে এবং দুর্নীতিবাজদের শিকারে পরিণত হবে না।

অভিযানের সময় নির্বাচন অফিসে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি ও উদ্বেগ দেখা যায়। তবে নির্বাচন অফিসের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য জানানো হয়নি।

স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা দুদকের এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন, নির্বাচন অফিসের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি জারি থাকবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পটুয়াখালীতে ৯ মামলার আসামি জলিল ডাকাত গ্রেফতার

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ থেকে একাধিক মামলার আসামি ও চাঞ্চল্যকর ক্লুলেস ডাকাতির মূল হোতা মো. আঃ জলিল খাঁনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। তার বিরুদ্ধে ডাকাতি ও অস্ত্র আইনে মোট ৯টি মামলা রয়েছে।

শুক্রবার (২১ জুন) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ (পটুয়াখালী) ও র‍্যাব-৬, সিপিএসসি (খুলনা) এর যৌথ আভিযানিক দল এই অভিযান পরিচালনা করে। পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া থানায় সংঘটিত এক ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনার তদন্তের সূত্র ধরেই তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত জলিল খাঁন (৪০), পিতা আলী আকবর খাঁন, বরগুনা জেলার বেতাগী থানার হোসনাবাদ গ্রামের বাসিন্দা।

জানা গেছে, ভুক্তভোগী মো. গিয়াস উদ্দিন নামের এক প্রবাসী চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন। ৮ এপ্রিল গভীর রাতে তার মঠবাড়িয়া থানাধীন বাড়িতে একদল সশস্ত্র ডাকাত দল হামলা চালায়। ১০-১২ জনের এই দলটি গ্রিল কেটে বাড়িতে ঢুকে অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা নগদ, ২৯ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, ২টি স্মার্টফোন এবং একটি ল্যাপটপ লুট করে। লুটকৃত সম্পদের মূল্য প্রায় ৪৫ লাখ ২০ হাজার টাকা।

এই ঘটনার পর মঠবাড়িয়া থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়। র‍্যাব তাৎক্ষণিকভাবে গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে এবং তদন্তের মাধ্যমে জলিল খাঁনকে চিহ্নিত করে।

অবশেষে, ২১ জুন বিকেলে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে তাকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মির্জাগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

র‍্যাব সূত্র জানিয়েছে, জলিল খাঁনের বিরুদ্ধে ৫টি ডাকাতি এবং ২টি অস্ত্র মামলাসহ মোট ৯টি মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আরও তদন্ত চলছে, এবং চক্রের অন্যান্য সদস্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম