পূর্বাচলে প্লট বরাদ্দে দুর্নীতি: শেখ হাসিনাসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ

রাজধানীর পূর্বাচলে রাজউকের সরকারি প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা পাঁচটি মামলায় পলাতক আসামি হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (১ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. জাকির হোসেন গালিব এ আদেশ দেন।

আদালত বিজি প্রেসের মাধ্যমে এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন এবং পরবর্তী প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২০ জুলাই তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম জানান, প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির ঘটনায় দায়ের করা মোট ছয়টি মামলার মধ্যে একটি মামলায় গত ১৭ জুন গেজেট প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে সেটি এখনও প্রকাশিত হয়নি। বাকি পাঁচটি মামলায় ২৩ আসামির পলাতক থাকার বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ থাকায় দুদক গেজেট প্রকাশের আবেদন করে।

আদালতের আদেশ অনুযায়ী, যাদের নামে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে তারা হলেন—সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, বোন শেখ রেহানা, রেহানার মেয়ে ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক, আরেক মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তী, ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি, জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব শহীদ উল্লা খন্দকার, অতিরিক্ত সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান মিঞা এবং আরও কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান রাজউক কর্মকর্তাসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও রাজনীতিক।

এছাড়া মামলায় আসামি করা হয়েছে সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব সালাউদ্দিনকেও।

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দুর্নীতির অভিযোগে পৃথক ছয়টি মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এসব মামলায় অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে পূর্বাচলে রাজউকের মূল্যবান প্লট আত্মীয়-স্বজন, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সরকারি কর্মকর্তাদের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির প্রতিচ্ছবি।

মামলাগুলোর প্রতিটিতে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। আসামিদের পলাতক থাকায় ইতিমধ্যে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। আগামী ২০ জুলাই এসব মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।




যৌতুক না পেয়ে নবজাতক বিক্রির অভিযোগে স্বামী পলাতক

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় যৌতুকের টাকা না পেয়ে এক পিতা তার নবজাতক সন্তানকে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত স্বামী পলাতক রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাগডাঙ্গা গ্রামের এক গৃহবধূর সঙ্গে প্রায় এক বছর আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় একই উপজেলার আব্দুল্লাহপুর গ্রামের রুবেল হোসেনের (৩০)। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই রুবেল তার স্ত্রী নাজমা খাতুনের (২২) কাছে এক লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিলেন। টাকা না পেয়ে নাজমার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন তিনি।

গত সপ্তাহে নাজমা একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। সন্তানের বয়স যখন মাত্র তিন দিন, তখন রুবেল তার স্ত্রীর অজান্তে নবজাতককে একটি নিঃসন্তান দম্পতির কাছে বিক্রি করে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সন্তান না পেয়ে নাজমা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং স্বামী রুবেলকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি অস্বীকার করেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় জানা যায়, তিনি নবজাতককে গোপনে বিক্রি করেছেন। এ ঘটনায় নাজমা খাতুন স্থানীয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ অভিযুক্ত স্বামীকে খুঁজছে। নবজাতক উদ্ধারের চেষ্টা চলছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।

স্থানীয় সমাজকর্মীরা বলছেন, এটি শুধুই একটি পারিবারিক নিপীড়নের ঘটনা নয়, বরং এটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের চরম উদাহরণ। তারা অবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ১,২৯০

সারাদেশে পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ১,২৯০ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ৮১১ জন বিভিন্ন মামলা ও ওয়ারেন্টভুক্ত, আর বাকি ৪৭৯ জন অন্যান্য অপরাধে জড়িত ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দফতর।

মঙ্গলবার (১ জুলাই) দুপুরে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পুলিশ সদর দফতরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি), মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস ইনামুল হক সাগর।

তিনি জানান, “বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে সারা দেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ধারাবাহিকভাবে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এতে ১,২৯০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় একটি চাপাতি ও তিনটি দা উদ্ধার করা হয়েছে।”

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। সমাজে অপরাধ প্রবণতা কমাতে এই ধরনের অভিযান কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলেও আশা করা হচ্ছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




আসিফ মাহমুদের অস্ত্রের লাইসেন্স নিয়ে মুখ খুললেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের সঙ্গে বিমানবন্দরে যে ম্যাগাজিন পাওয়া গেছে, সেটি একে-৪৭ এর নয়। এটি একটি পিস্তলের খালি ম্যাগাজিন, যা ভুলবশত তাঁর সঙ্গে থেকে গিয়েছিল।

সোমবার (৩০ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “অনেকে বলছেন তিনি একে-৪৭-এর লাইসেন্স পেয়েছেন, কিন্তু এটি একে-৪৭ নয়। এটি একটি পিস্তলের খালি ম্যাগাজিন, যা ভুল করে সঙ্গে থেকে গেছে। অনেক সময় এমন হয়, আপনি চশমা নিতে চান কিন্তু ভুল করে মোবাইল নিয়ে বের হন। ঠিক তেমনই এটি একটি অনিচ্ছাকৃত ভুল। উনি যদি আগে জানতেন, অবশ্যই এটি সঙ্গে নিতেন না।”

উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের অস্ত্রের বৈধ লাইসেন্স থাকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, কারণ আইন অনুযায়ী অস্ত্রের লাইসেন্স পেতে হলে আবেদনের সময় অন্তত ৩০ বছর বয়স হতে হয়। তবে আসিফ মাহমুদের বয়স ত্রিশ না হওয়ায় লাইসেন্সটি তিনি কীভাবে পেলেন, সে প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “আমি যেহেতু ওই আইনটা দেখিনি, তাই এই বিষয়ে মন্তব্য করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।”

বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যর্থতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে, কারণ স্ক্যানিংয়ের প্রথম দুই ধাপে ম্যাগাজিনটি ধরা পড়েনি। এ বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, “আমার ভাই যদি একজন নেতা হন, তাহলে তিনি অনেক সময় কিছু প্রিভিলেজ পান। কিন্তু এই ধরনের প্রিভিলেজ যেন আর কেউ না পান, সে জন্যই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সবার ক্ষেত্রে যেন আইন সমানভাবে প্রয়োগ হয়, সেটিই মূল বিষয়।”

এদিনের কোর কমিটির বৈঠকে ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের অনুষ্ঠান নিরাপদভাবে সম্পন্ন করার বিষয়ে আলোচনা হয়। উপদেষ্টা জানান, অনুষ্ঠানের সময় এখন পর্যন্ত কোনো নিরাপত্তা হুমকির তথ্য নেই এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে থাকবে।




বরগুনায় তিন ভুয়া ডাক্তারকে জরিমানা, একজনের বিরুদ্ধে মামলা

বরগুনা শহরে ভুয়া ডাক্তারচক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অর্থদণ্ড এবং একজনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করেছে প্রশাসন।

শনিবার (২৮ জুন) রাতে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এস. এম. শরিয়ত উল্লাহ্ এর নেতৃত্বে এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। অভিযানে চারজন ভুয়া ডাক্তারকে আটক করা হয়।

অভিযানে দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—

  • বিধান চন্দ্র সরকার
  • ইদ্রিস আলম
  • জাহাঙ্গীর হোসেন

তাদের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে মোট তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এছাড়া জহিরুল ইসলাম সৌরভ নামের একজনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে, কারণ তার অপরাধের মাত্রা তুলনামূলক বেশি ছিল।

বরগুনা জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইকরাম হোসেন জানান, অভিযুক্তরা কেউই বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (BMDC)-এর স্বীকৃত ডাক্তার নন। তবুও তারা চিকিৎসকের পদবী ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন।

তিনি আরও বলেন, “আইন অনুযায়ী, তারা ডাক্তার পরিচয়ে কাজ করার যোগ্যতা রাখেন না। তাই তাদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং একজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

জনস্বাস্থ্য হুমকিতে, প্রশাসনের হুঁশিয়ারি

এ ধরনের প্রতারকচক্রের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ে। প্রশাসন জানিয়েছে, সারাদেশে ভুয়া ডাক্তারদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে সরকার। বরগুনায় এই অভিযান তারই অংশ।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




মুরাদনগরে নারী নির্যাতনের ঘটনায় ক্ষুব্ধ জামায়াত আমির, কঠোর শাস্তির দাবি

কুমিল্লার মুরাদনগরে এক নারীর ওপর সংঘটিত পাশবিক নির্যাতনের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি এ ঘটনায় জড়িতদের ‘খুঁটির জোর যাই হোক’ কঠোর শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

রোববার বিকেলে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “কুমিল্লার মুরাদনগরে একজন নারীর উপর পাশবিক নির্যাতন একান্তই লজ্জাজনক একটি ঘটনা। লম্পটদের যেকোনো মূল্যে পাকড়াও করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং কঠোর শাস্তি দিতে হবে।”

তিনি আরও লেখেন, “খুঁটির জোর যাই হোক, তাকে কোনোভাবেই পাত্তা দেওয়া যাবে না। অন্যথায়, এই সমাজ আপাদমস্তক একটি জংলি সমাজে পরিণত হয়ে যাবে।”

জামায়াত আমিরের এই প্রতিক্রিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নাগরিক সমাজ, মানবাধিকার কর্মী ও সাধারণ মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনার দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, মুরাদনগরে ঘটে যাওয়া নারীর উপর নৃশংস হামলার ঘটনাটি দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া না হলেও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।




জুলাই অভ্যুত্থান সংক্রান্ত মামলায় এসআই সুকান্তকে আবারও জেল হাজতে প্রেরণ

জুলাই অভ্যুত্থানের সময় বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) সুকান্ত কুমার দাশকে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) বিকেল ৫টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের অধীন বর্তমানে কর্মরত এসআই সুকান্ত কুমার দাশের বিরুদ্ধে খুলনায় সংঘটিত ‘জুলাই অভ্যুত্থান’-পরবর্তী সময়ে ছাত্র-জনতার ওপর দমন-পীড়ন ও গণগ্রেপ্তারের অভিযোগ রয়েছে। এই অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার এসআই মো. মিজানুর রহমান ঢাকা পোস্টকে জানান, “খুলনা সদর থানার পাঠানো মামলার অধিযাচনপত্র পাওয়ার পর আমরা সুকান্তকে বিষয়টি জানাই। তিনি স্বেচ্ছায় থানায় উপস্থিত হলে তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত জামিন না মঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে পাঠান।”

এর আগে গত মঙ্গলবার খুলনার ইস্টার্ন গেট এলাকায় এসআই সুকান্তকে স্থানীয় জনতা মারধর করে খানজাহান আলী থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। কিন্তু সেদিন রাতেই তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে বুধবার দুপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) সদর দপ্তর ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন।

বিক্ষোভকারীরা এক পর্যায়ে কেএমপি সদর দপ্তরের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে আন্দোলনকারীরা সরে গেলে তালা ভেঙে বের হন পুলিশ কর্মকর্তারা। তবে আন্দোলন থামেনি; বুধবার বিকেলে ফের কেএমপি ঘেরাও করে পুলিশ কমিশনার মো. জুলফিকার আলী হায়দারের পদত্যাগের দাবি জানায় বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা।

পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) বিকেল ৪টা থেকে, যখন আন্দোলনকারীরা কেএমপি কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। তারা খানজাহান আলী সড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান। এসআই সুকান্তকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

বর্তমানে পরিস্থিতি থমথমে, তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।




এসআই সুকান্তকে ঘিরে উত্তাল খুলনা, পুলিশ কমিশনারের পদত্যাগ দাবি

এসআই সুকান্ত দাসকে জনতা মারধর করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করার পরও ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে খুলনা। এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) সদর দপ্তর ঘেরাও করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্র ও সাধারণ জনতা। আন্দোলনকারীরা কেএমপি কমিশনার মো. জুলফিকার আলী হায়দারের পদত্যাগ দাবি করেন।

বিকেল ৪টা থেকে খানজাহান আলী সড়কে কেএমপির সামনে শুরু হওয়া অবস্থান কর্মসূচিতে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে আন্দোলনকারীরা। এতে ওই এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়, দুর্ভোগে পড়েন পথচারী ও যাত্রীরা।

আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, এসআই সুকান্ত দাস গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার ওপর দমন-পীড়নে জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকলেও পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়েছে। তারা বলেন, “একজন অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর ছেড়ে দেওয়া বিচারহীনতার বহিঃপ্রকাশ। যতদিন না পুলিশ কমিশনার পদত্যাগ করছেন, ততদিন আমাদের আন্দোলন চলবে।”

এদিকে কেএমপি কমিশনার জুলফিকার আলী হায়দার জানিয়েছেন, এসআই সুকান্ত দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বলেন, “খুলনা সদর থানায় দায়ের হওয়া শফিকুল আলম মনার বাড়ি ভাঙচুর মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একজন সরকারি কর্মচারী হিসেবে গ্রেপ্তারে কিছু আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে সময় লেগেছে। তাকে আদালতে পাঠানোর কার্যক্রম চলছে।”

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ সদর দপ্তর, কেএমপি ও চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের যৌথ অভিযানে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা থেকে সুকান্ত দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে খুলনা সদর থানায় একটি মামলা এবং আদালতে আরও একটি মামলা রয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার খুলনার ইস্টার্ন গেট এলাকায় এসআই সুকান্ত দাসকে স্থানীয়রা আটক করে মারধর করেন এবং খানজাহান আলী থানায় সোপর্দ করেন। পরে রাতেই পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়। তার বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার ওপর দমনমূলক অভিযানের অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং পরদিন থেকেই কেএমপি ঘেরাও কর্মসূচি শুরু হয়।

বুধবার দুপুরে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ ও ছাত্রদল নেতাকর্মীরা কেএমপি সদর দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ করেন এবং প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে তারা সেখান থেকে সরে গেলে তালা ভেঙে বের হয় পুলিশ।

পুনরায় বৃহস্পতিবার বিক্ষোভে উত্তাল হয় এলাকা। আন্দোলনকারীরা জানিয়ে দেন, কমিশনার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।




কাউখালিতে ভেজাল ঘি বিক্রির দায়ে ব্যবসায়ীকে ১ লাখ টাকা জরিমানা

পিরোজপুরের কাউখালিতে ভেজাল ঘি বিক্রির দায়ে এক মিষ্টির দোকান মালিককে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার (২৩ জুন) বিকেলে উপজেলার উত্তর বাজার এলাকার ‘আদি নিশি কুন্ডু মিষ্টান্ন ভান্ডার’-এ এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে দেখা যায়, দোকানে বিক্রির জন্য রাখা ঘি পরীক্ষার পর ভেজালের প্রমাণ পাওয়া যায়। এরপর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী চিত্ত কুন্ডকে নিরাপদ খাদ্য আইন অনুযায়ী এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযান পরিচালনা করেন কাউখালি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক সজল মোল্লা। সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ পিরোজপুর জেলা কার্যালয়ের নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা শামীম আহমেদ।

নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা শামীম আহমেদ জানান, “আমাদের নিয়মিত মাসিক অভিযানের অংশ হিসেবে মোবাইল ল্যাবরেটরি ভ্যানের মাধ্যমে খাদ্য পরীক্ষা করে দেখা হয় দোকানে বিক্রি করা ঘিতে ভেজাল রয়েছে। নিরাপদ খাদ্য আইন অনুযায়ী ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে এবং খাদ্যে ভেজাল মিশ্রণের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বাউফলে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন, ৩ নেতা গ্রেফতার

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকার পরও পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় ছাত্রলীগের ব্যানারে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের অভিযোগে তিন ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বুধবার (২৫ জুন) ভোররাতে উপজেলার বগা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন—বগা ইউনিয়নের রাজনগর গ্রামের মজিবর হাওলাদারের ছেলে ও ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রোমান হাওলাদার (৩০), সৈয়দ হুমায়ুন কবীরের ছেলে মো. তাসনিম (২০) এবং মো. রমেজ খানের ছেলে মো. জাহিদ খান (৩৪)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (২৩ জুন) রাতে রাজনগর গ্রামে নিষিদ্ধ ঘোষিত উপজেলা ছাত্রলীগের ব্যানারে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কেটে অনুষ্ঠান পালন করা হয়।

ঘটনার ভিডিও মঙ্গলবার (২৪ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ বিষয়টি আমলে নেয় এবং অভিযানে নামে।

পরে বগা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বুধবার ভোরে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।

বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আকতারুজ্জামান সরকার বলেন, “তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯ এর ৮/৯/১০/১২/১৩ ধারায় মামলা দিয়ে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। পরে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।”

ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম