বাবুগঞ্জে ডিবি পুলিশের ওপর হামলায় মামলা, তিনজন আহত

 

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। শুক্রবার (৫ জুলাই) ডিবি পুলিশের এসআই মোহাম্মদ গোলাম আজাদ বাবুগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করেন। অভিযানে অংশ নেওয়া কনস্টেবল মো. ইমরান, ডিবি সোর্স মো. শাওন ও মো. সাগর হামলায় গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের দারোগারহাট এলাকায় হারুন খার ফার্মের বাগানে মাদকবিরোধী অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। অভিযানের সময় হঠাৎ করে সংঘবদ্ধ মাদক কারবারিরা তাদের ওপর হামলা চালায়। কনস্টেবল ইমরানকে চাকুর আঘাতে তার বাম গালসহ শরীরের অন্তত তিনটি স্থানে আঘাত করা হয়। একইসঙ্গে সোর্স শাওন ও সাগরও গুরুতর জখম হন। হামলার পরপরই অভিযুক্ত মাদক কারবারিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মোস্তফা আনোয়ার বলেন, “হামলাকারীদের চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আলম জানান, “হামলাকারীরা এখনো পলাতক। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।”

এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মাঝে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে এবং স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




১৭ বছর পর পটুয়াখালীর হত্যা মামলার পলাতক আসামি ঘুডু আরিফ গ্রেফতার

পটুয়াখালীর আলোচিত মোটরসাইকেল চালক হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আরিফুর রহমান ওরফে ঘুডু আরিফ (৩৪) দীর্ঘ ১৭ বছর পর অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন। গত ৩ জুলাই আশুলিয়া থানা এলাকার পল্লীবিদ্যুৎ সংলগ্ন একটি মাছের আড়ত থেকে তাকে গ্রেফতার করে পটুয়াখালী জেলা পুলিশ।

গ্রেফতার হওয়া আরিফ পটুয়াখালী পৌর শহরের সরকারি কলেজ রোড এলাকার মৃত সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে।

ঘটনার সূত্রপাত ২০০৯ সালে। পটুয়াখালী সদর উপজেলার ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালানো মো. মামুন মিয়াকে অপহরণ করে আরিফ ও তার সহযোগীরা। অপহরণের পর মামুনের পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। মুক্তিপণ না দেওয়ায় মামুনকে নির্মমভাবে হত্যা করে লাশ গুম করে তারা। এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতের পরিবার পটুয়াখালী সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয় এবং প্রমাণিত অপরাধের ভিত্তিতে পটুয়াখালী জেলা জজ আদালত আরিফুর রহমানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন।

তবে রায় ঘোষণার আগেই আরিফ আত্মগোপনে চলে যায়। ২০১৬ সালের ১৫ জুন তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। দীর্ঘ সময় পুলিশের নজর এড়িয়ে বিভিন্ন নামে আত্মগোপনে থেকে সে আশুলিয়ায় মাছের আড়তে কাজ করছিল।

সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইমতিয়াজ আহম্মেদ বলেন, “গোপন তথ্য ও নির্ভরযোগ্য সোর্সের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, আরিফ আশুলিয়ায় অবস্থান করছে। এরপর অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।”

ওসি আরও জানান, “এছাড়াও বিশেষ ক্ষমতা আইনে ২০১৭ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর পটুয়াখালী স্পেশাল জজ আদালত তার বিরুদ্ধে আরও এক মামলায় ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও দুই হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন।”

গ্রেফতারের পর শুক্রবার দুপুরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

দীর্ঘ ১৭ বছর পর ঘুডু আরিফের গ্রেফতারে নিহত মামুন মিয়ার পরিবার কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। জেলা পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে এমন অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



কুয়াকাটায় ভয়ংকর আইসসহ চার মাদককারবারি আটক

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় ভয়ংকর মাদক আইস (ক্রিস্টাল মেথ) ও ইয়াবাসহ চারজনকে আটক করেছে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের যৌথ দল। বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) দিনভর অভিযানে কলাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে এই চারজনকে আটক করা হয়।

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পটুয়াখালী ও কলাপাড়া ইউনিটের যৌথ অভিযানে দুইজনের কাছ থেকে ৮ গ্রাম আইস এবং অন্য দুইজনের কাছ থেকে মোট ৭৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন—গঙ্গামতি এলাকার মতি মল্লিকের ছেলে মো. রাসেল মল্লিক (৩২), একই এলাকার নুরুল হকের ছেলে আব্দুর রহমান (৩২), ধুলাস্বার ইউনিয়নের মো. রাকির (২৯) এবং কুয়াকাটা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মো. খলিলের ছেলে মেহেদী হাসান (২৫)। তাদের মধ্যে কেউ মোটরসাইকেল চালক, কেউ হোটেল বয়ের কাজ করেন।

অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর পটুয়াখালীর উপপরিচালক হামিমুর রশিদ কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, উপকূলীয় নৌপথে মাদকের সক্রিয়তা সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার পরই এই অভিযান চালানো হয়। আটককৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এক গোপন আস্তানা থেকে ‘আইস’ উদ্ধার করা হয়, যা ইয়াবার চেয়ে কয়েকশ গুণ বেশি ক্ষতিকর।

তিনি বলেন, “আমরা এই মাদকচক্রের সহযোগীদের আটক করতে সক্ষম হয়েছি। মূল লক্ষ্য হলো চক্রের মূলহোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা।”

উপপরিচালক আরও জানান, “এই প্রথম কুয়াকাটা এলাকায় ভয়ংকর আইস উদ্ধার হওয়ায় এই অঞ্চলকে মাদকের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে সতর্ক অবস্থানে থাকতে হবে। আমরা চাই সামাজিকভাবে সবাই মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হোক।”

আটকদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে তাদের মহিপুর থানায় হস্তান্তর করা হবে বলেও জানান তিনি।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



রাজধানীতে ধারালো অস্ত্রের শোডাউন দেওয়া ‘টুন্ডা বাবু’ গ্রেপ্তার

৩ জুলাই—রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় ধারালো অস্ত্র হাতে প্রকাশ্যে শোডাউন দিয়ে আলোচনায় আসা কিশোর গ্যাং নেতা মো. বাবু খান ওরফে ‘টুন্ডা বাবু’ (৩১)‑কে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। বুধবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয় বলে বৃহস্পতিবার র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

র‍্যাব-২ এর পরিচালক মোহাম্মদ খালিদুল হক হাওলাদার জানান, টুন্ডা বাবু কুখ্যাত সন্ত্রাসী ‘কবজিকাটা গ্রুপ’-এর প্রধান আনোয়ারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তার নেতৃত্বে মোহাম্মদপুর ও আশপাশের এলাকায় চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসা, ভূমি দখল, ডাকাতি ও খুনের মতো অপরাধ সংঘটিত হতো। বিশেষ করে দিনে তারা ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে পথচারীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ছিনতাই চালাত এবং রাতে ফ্ল্যাট বা বাসায় ঢুকে ডাকাতি করত।

র‍্যাব জানায়, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি শ্যামলী হাউজিংয়ে দুই হাতে ধারালো অস্ত্র নিয়ে টুন্ডা বাবুর শোডাউনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। পরে ২৪ ফেব্রুয়ারি তাকে প্রথমবার গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। কিন্তু ৫ মে জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ায়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে টুন্ডা বাবু স্বীকার করেছে যে, শুটার আনোয়ার ওরফে কবজিকাটা আনোয়ারের নির্দেশে সে মোহাম্মদপুরে একাধিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছে। রাজধানীর বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যা প্রচেষ্টা, ডাকাতি, ছিনতাইসহ ১০টির বেশি মামলা রয়েছে।

র‍্যাব আরও জানায়, সম্প্রতি মোহাম্মদপুরে ধারাবাহিক অভিযানে মাদক কারবারি ভূঁইয়া সোহেল, চুয়া সেলিম, এবং কবজিকাটা আনোয়ারসহ আরও কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাজধানীর কিশোর গ্যাং ও মাদক–সন্ত্রাসচক্র নির্মূলে র‍্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




ভোলায় গৃহবধূ গণধর্ষণ: প্রধান আসামিসহ আরও দুইজন গ্রেফতার

ভোলা, ৩ জুলাই—তজুমদ্দিনে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় প্রধান আসামি যুবদল কর্মী মো. আলাউদ্দিন ও শ্রমিক দল নেতা মো. ফরিদ উদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতের অভিযানে নোয়াখালীর হাতিয়া ও ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলা থেকে এই দুইজনকে আটক করা হয়। তারা মামলার এজাহারে ১ ও ২ নম্বর আসামি।

এর আগে, র‌্যাব ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাট এলাকা থেকে মামলার ৫ নম্বর আসামিকে এবং পুলিশ ভুক্তভোগীর সতিনকে গ্রেফতার করে। এখন পর্যন্ত মোট চারজন গ্রেফতার হলেও মামলার সাত আসামির মধ্যে তিনজন এখনো পলাতক। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন তজুমদ্দিন থানার ওসি মোহাম্মদ মহব্বত খান।

ঘটনার পর ৩ জুলাই বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ভোলার পুলিশ সুপার মো. শরীফুল হক। তিনি সাংবাদিকদের জানান, “অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। ভুক্তভোগী পরিবার যাতে ন্যায়বিচার পায়, সে লক্ষ্যে সব ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

প্রসঙ্গত, ১ জুলাই রাতের ঘটনায় চাঁদার দাবিতে তজুমদ্দিন উপজেলার মোল্লার পুকুর পাড় এলাকায় এক গৃহবধূর স্বামীকে আটকে রেখে তাকে মারধর করা হয় এবং ওই গৃহবধূকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে ছাত্রদল, যুবদল এবং শ্রমিকদলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা রয়েছেন।

ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগীর স্বামী সাতজনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে এবং সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

ভোলার পুলিশ প্রশাসন আজ বিকেল ৩টায় আনুষ্ঠানিক প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে মামলার অগ্রগতির বিষয়ে গণমাধ্যমকে বিস্তারিত জানাবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ১৯ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আবুল খায়ের আবদুল্লাহ ওরফে খোকন সেরনিয়াবাতসহ ১৯ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগের প্রেক্ষিতে এসব কর্মকর্তার ব্যক্তিগত নথি এবং সংশ্লিষ্ট তথ্যাদি চেয়ে নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) দুদকের বরিশাল কার্যালয় থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। সংশ্লিষ্টদের মধ্যে রয়েছেন সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সাবেক সচিব।

কারা আছেন তদন্তের আওতায়?

তদন্ত তালিকায় রয়েছে:

  • উচ্ছেদ শাখার প্রধান স্বপন কুমার দাস
  • সার্ভেয়ার তাপস, নাছির, মশিউর
  • আর্কিটেক্ট সাইদুর
  • জনসংযোগ কর্মকর্তা রোমেল
  • প্রশাসনিক কর্মকর্তা লকিতুল্লাহ
  • সম্পত্তি শাখার ফিরোজ ও মাহবুবুর রহমান শাকিল
  • প্ল্যান শাখার লোকমান ও কালটু
  • হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মশিউর রহমান
  • বাজার সুপারিনটেনডেন্ট নুরুল ইসলাম
  • ট্রেড লাইসেন্স সুপারিনটেনডেন্ট আজিজুর রহমান
  • উপসহকারী প্রকৌশলী এইচ এম কামাল ও সাইফুল ইসলাম মুরাদ
  • তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির
  • সাবেক সচিব মাছুমা আক্তার

কী ধরনের নথি চাওয়া হয়েছে?

দুদক চেয়েছে সংশ্লিষ্টদের নাম, পদবি, বিভাগ, স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, মোবাইল নম্বরসহ ব্যক্তিগত তথ্য সংবলিত নথিপত্র।
এছাড়াও চাওয়া হয়েছে বিভিন্ন নিয়োগ সংক্রান্ত রেকর্ড, সম্পত্তি ও অর্থ বরাদ্দ সংক্রান্ত তথ্য, যেমন:

  • দীঘির মালিকানা ও বালু ভরাট সংক্রান্ত নথি
  • ঈদ উপলক্ষে ব্যানার তৈরির জন্য বরাদ্দকৃত ১৩ লাখ টাকার হিসাব
  • খোকন সেরনিয়াবাতের ফেসবুক পেজ বুস্টিংয়ের বরাদ্দকৃত ১.৫৮ লাখ টাকার রেকর্ড
  • ল্যাপটপ, ড্রোন, ফার্নিচার, মনিটরসহ প্রায় ৫০ লাখ টাকার কেনাকাটার কাগজপত্র

কী বলছে দুদক?

দুদক সূত্রে জানা যায়, কিছু কিছু নথি ইতোমধ্যে জমা পড়েছে, তবে অধিকাংশ এখনো মেলেনি। অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণের জন্যও পৃথক চিঠি পাঠানো হয়েছে।

দুদক পরিচালক মোজাহার আলী সরদার জানান, “সাবেক মেয়র ও অন্যান্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান রয়েছে। বর্তমানে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ চলছে, তাই বিস্তারিত মন্তব্য করা যাচ্ছে না।”

অভিযোগ কী?

অভিযোগে বলা হয়, মেয়রের নেতৃত্বে কর্মকর্তাদের যৌথ কারসাজিতে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়। নিয়োগে অনিয়ম, ঘুষ, সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অবৈধ অর্থ গ্রহণসহ নানা দুর্নীতি হয়েছে।

বিশেষভাবে অভিযুক্ত উচ্ছেদ শাখার প্রধান স্বপন কুমার দাস—যিনি প্রকৃতপক্ষে পরিসংখ্যানবিদ—সাবেক মেয়রের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে দুর্নীতির মূল ভূমিকা পালন করেন। ২০২১ সালের বরিশাল সংঘর্ষ মামলার আসামিও তিনি। তার বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।

তবে স্বপনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, জনসংযোগ কর্মকর্তা রোমেল বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে দুদকের একটি চিঠি পেয়েছি। দ্রুত প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়া হবে। তবে অন্যদের ব্যাপারে আমি কিছু জানি না।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম 

 

 




মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশনে বিআরটিএ’র নতুন নির্দেশনা, জালিয়াতি ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা

মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি ও অনিয়ম রোধে কড়াকড়ি আরোপ করেছে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিআরটিএ সদর দপ্তরের অনুমোদন ছাড়া কোনো আমদানি করা মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন করা যাবে না।

গত ৩০ জুন বিআরটিএ’র পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) শীতাংশু শেখ বিশ্বাস স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়। এতে দেশের সব সার্কেল অফিসকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সদর দপ্তরের অনুমোদন ব্যতীত রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।

বিআরটিএ জানায়, কিছু অসাধু আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এসকেডি (সেমি নকড ডাউন) ও সিকেডি (কমপ্লিটলি নকড ডাউন) কনফিগারেশনে মোটরসাইকেল এনে সিবিইউ (কমপ্লিটলি বিল্ড ইউনিট) হিসেবে দেখিয়ে রেজিস্ট্রেশন করিয়ে নিচ্ছে। এমনকি ১৬৫ সিসির বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন বাইককে ১৬৫ সিসির কম দেখিয়ে কাস্টমস ও বিআরটিএ থেকে ছাড় করানোর চেষ্টা করছে।

এ ধরনের প্রতারণা বন্ধে বিআরটিএ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আগামী ৩১ জুলাইয়ের পর থেকে সিবিইউ/এসকেডি অবস্থায় আমদানি করা মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন শুধুমাত্র সদর দপ্তরের অনুমোদিত চেসিস ও ইঞ্জিন নম্বরের তালিকার ভিত্তিতে দেওয়া হবে। এ তালিকা বিআরটিএ আইএস (ইনফরমেশন সিস্টেম)-এ আপলোড করা হবে এবং সেখান থেকে যাচাই করে সার্কেল অফিসগুলো রেজিস্ট্রেশন প্রদান করবে।

বিআরটিএ জানিয়েছে, এ নির্দেশনা অমান্য করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্দেশনার সঙ্গে বিআরটিএ চেয়ারম্যানের অনুমোদনও রয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরিশাল সফর করলেন আইজিপি

বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ বাহারুল আলম আজ (বুধবার) বরিশালে দিনব্যাপী সফর করেছেন। তার এই সফরকে কেন্দ্র করে নগরজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কঠোর ও সুসংগঠিত।

বুধবার সকালেই বিমানযোগে বরিশাল পৌঁছান আইজিপি। এরপর সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তিনি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ ও জেলা পুলিশের বিভিন্ন দপ্তর ও কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। দুপুরে তিনি বরিশাল বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতাল পরিদর্শনে যান। সেখানে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ মঞ্জুর মোর্শেদ আলম, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত ডিআইজি মোঃ নাজিমুল হক এবং জেলা পুলিশ সুপার মোঃ শরিফ উদ্দীন।

আইজিপির সফরের অংশ হিসেবে তিনি বরিশাল পুলিশ লাইন ও র‌্যাব ইউনিট পরিদর্শন করেন। পরে বিকেলে তিনি বিমানযোগে ঢাকায় ফিরে যান।

তবে এই সফরের বিষয়ে গণমাধ্যমের প্রতি ছিলো অস্পষ্টতা। সফর ঘিরে সাংবাদিকদের কোনো আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। সংবাদ সংগ্রহের চেষ্টা চালালে পুলিশ লাইনের প্রবেশপথে সাংবাদিকদের ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়।

আইজিপির এই সফরের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল কিংবা সাংবাদিকদের এড়িয়ে চলার কারণ কী – এ বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /

 




আদালত অবমাননায় শেখ হাসিনাকে কারাদণ্ড

আদালত অবমাননার মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের শাকিল আকন্দ বুলবুলকে দুই মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ জুলাই) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করেন। অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. মোহিতুল হক চৌধুরী ও বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ।

রায়ে বলা হয়, ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি, মামলার বাদী ও সাক্ষীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগে এই সাজা দেওয়া হয়েছে। সাজাপ্রাপ্তরা আদালতে আত্মসমর্পণের পর অথবা গ্রেপ্তার হওয়ার দিন থেকে দণ্ড কার্যকর হবে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কোনো মামলায় সাজা ঘোষণা করল কোনো আদালত। দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রথম সাজার রায়।

মামলায় রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন আসামিদের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ ওয়াই মশিউজ্জামান। প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এবং প্রসিকিউটর তানভীর জোহা।

এর আগে ১৯ জুন আদালত মামলার স্বচ্ছ বিচারের স্বার্থে অ্যামিকাস কিউরি নিয়োগ দেয়। ট্রাইব্যুনালের আদেশ অনুযায়ী, শেখ হাসিনা ও শাকিল বুলবুলকে ৩ জুন আদালতে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। কিন্তু তারা কেউই আদালতে হাজির হননি বা কোনো ব্যাখ্যাও দেননি।

ফলে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে তাদের ৩ জুন ট্রাইব্যুনালে সশরীরে হাজির হতে বলা হয়। এরও কোনো সাড়া না মেলায় আদালত আজ তাদের অনুপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করেন।

মামলার মূল অভিযোগে বলা হয়, শেখ হাসিনার একটি অডিও বক্তব্যে ‘২২৬ জনকে হত্যার লাইসেন্স পেয়েছি’—এমন মন্তব্য উঠে আসে, যা আদালতের প্রতি অবমাননাকর এবং বিচার ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করার প্রচেষ্টা হিসেবে গণ্য হয়। এই অভিযোগের ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনাল চিফ প্রসিকিউটর আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করেন।




বাউফলে পূর্ব বিরোধের জেরে কিশোরকে কুপিয়ে হত্যা, বাবা গুরুতর আহত

পটুয়াখালীর বাউফলে পূর্ব বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় ফাহিম বয়াতি (১৮) নামে এক তরুণ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তার বাবা জাকির বয়াতি। মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার নওমালা ইউনিয়নের ভাংরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে একই গ্রামের সানু মীর (৪৫) ও জাকির বয়াতির (৫০) মধ্যে জমি ও পারিবারিক বিষয়কে কেন্দ্র করে বিরোধ চলছিল। কিছুদিন আগে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতায় একটি সালিস বৈঠকে বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা হলেও সানু মীর সেই রায় মানতে অস্বীকৃতি জানান।

এরই জেরে মঙ্গলবার বিকেলে সানু মীরের নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জাকির বয়াতির ওপর হামলা চালায়। এ সময় ছেলে ফাহিম বয়াতি বাবাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা তাকেও কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। ঘটনাস্থলেই ফাহিমের মৃত্যু হয়।

আহত জাকির বয়াতিকে গুরুতর অবস্থায় বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত সানু মীর ও তার সহযোগীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।

বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আক্তারুজ্জামান সরকার জানান, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫