জুলাই গণহত্যার বিচার বর্তমান সরকারের আমলেই সম্পন্ন হবে: ড. আসিফ নজরুল

জুলাই গণহত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে বর্তমান সরকারের মেয়াদকালেই কাঙ্ক্ষিত মামলাগুলোর রায় পাওয়া যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ‘জুলাই গণহত্যার বিচার’ শীর্ষক এক আলোচনা ও তথ্যচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

আলোচনায় অংশ নিয়ে ড. আসিফ নজরুল বলেন, “জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে হতাশ না হয়ে আশাবাদী হতে হবে। বিচার কার্যক্রম যেভাবে অগ্রসর হচ্ছে, ইনশাল্লাহ বর্তমান সরকারের আমলেই কাঙ্ক্ষিত রায় আমরা পেতে পারব।”

একজন আলোচকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, পরবর্তীকালে বিএনপি, জামায়াত কিংবা এনসিপি যেই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তারা এই বিচার থেকে সরে আসবে না। কারণ তারাও আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনামলে নির্যাতিত হয়েছে এবং শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদ নিজেরাই প্রত্যক্ষ করেছে।”

তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, “আমরা এমন অকাট্য সাক্ষ্যপ্রমাণ রেখে যাব, যাতে কোনো সরকার চাইলেও এই বিচারের ধারা থামাতে না পারে।”

সমাপনী বক্তব্যে ড. আসিফ নজরুল বলেন, “আমি উপদেষ্টা হিসেবে আমার দায়িত্ব পালনে কোনো গাফিলতি করিনি। অন্যায় করিনি। জীবনে কোনো সময় এত পরিশ্রম করিনি। বিচার নিয়ে আমাদের আন্তরিকতা নিয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহ রাখার অবকাশ নেই।”

তিনি আরও বলেন, “আমি যদি শহীদের পিতা হতাম, তাহলে আমিও প্রশ্ন তুলতাম। সন্তান হারানো মানুষদের ইমোশনাল হয়ে পড়া খুবই স্বাভাবিক। তাদের সমালোচনাকে আমাদের সহ্য করতে হবে, বুঝতে হবে।”

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিরাপরাধ মানুষদের নির্মমভাবে হত্যা এবং মরদেহ পুড়িয়ে ফেলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “শেখ হাসিনা এবং তার সহযোগীরা যে অপরাধ করেছে, তা এমন নৃশংস যা পাকিস্তানি বাহিনীর কাছেও দেখা যায়নি। ১৯৭১ সালের যুদ্ধেও আমি এমন ফুটেজ দেখিনি, যেখানে একজন আহত ব্যক্তিকে টেনে নিয়ে যাওয়ার সময় তাকে আবার গুলি করা হচ্ছে।”

তিনি বলেন, “১৯৭১ সালে অনেক ধরনের বর্বরতা হয়েছে, তবে এই মাত্রার নৃশংসতা বিরল। অথচ এত বড় গণহত্যার পরেও আওয়ামী লীগের মধ্যে বিন্দুমাত্র অনুশোচনা নেই।”

ড. আসিফ নজরুল আরও বলেন, “একটি দল ১৫ বছর ধরে শুধু মিথ্যা, দমন-পীড়ন ও অত্যাচারের মাধ্যমে দেশ চালিয়েছে। এখনো তাদের নির্যাতনের প্রবণতা থামেনি। শেখ হাসিনার অডিও শুনলে বোঝা যায়, এখনো সেই মনোভাব বজায় রয়েছে।”

বিচারকে সমালোচনার ঊর্ধ্বে রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমার অনেক দায়িত্ব। কিন্তু এই বিচার যেন প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, সে চেষ্টায় কোনো ঘাটতি রাখিনি এবং রাখব না।”




রাঙ্গাবালীতে গাঁজাসহ নারী আটক, পলাতক স্বামী

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে মাদকবিরোধী অভিযানে এক কেজি ৬০ গ্রাম গাঁজাসহ তাসলিমা বেগম (৩৭) নামে এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (২৮ জুলাই) গভীর রাতে উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের ফুলখালী গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার সকালে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত তাসলিমা ফুলখালী গ্রামের বাসিন্দা বেল্লাল দালালের স্ত্রী। পুলিশ জানায়, স্বামী-স্ত্রী দুজনই এলাকায় মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাত ১০টার দিকে রাঙ্গাবালী থানা পুলিশের একটি দল তাদের বাড়িতে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় ব্যাগভর্তি গাঁজা নিয়ে পালানোর চেষ্টাকালে তাসলিমাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে পুলিশ। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ১ কেজি ৬০ গ্রাম গাঁজা।

তবে এ সময় তাসলিমার স্বামী বেল্লাল পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তাকে ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হাওলাদার বলেন, “তাসলিমা ও তার স্বামী বেল্লালের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আটক নারীকে মঙ্গলবার সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং পলাতক স্বামীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।”

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এ দম্পতির বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ থাকলেও তারা পার পেয়ে যাচ্ছিল। এবার পুলিশের হাতে একজন ধরা পড়ায় এলাকার মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেলেও স্বামী বেল্লালকে দ্রুত ধরার দাবি তুলেছেন তারা।

মাদকের ভয়াবহতা এবং এর সামাজিক বিপর্যয়ের দিকে নজর রেখে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ ধরনের তৎপরতা আরও জোরদার করবে বলেও আশা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



নির্বাচনের আগে লুট হওয়া সব অস্ত্র উদ্ধার করা হবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশে গণঅভ্যুত্থানের সময় ও পরে অবৈধভাবে মজুদ হওয়া অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, এই প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি।

শনিবার (২৬ জুলাই) নারায়ণগঞ্জ পুলিশ লাইন্স পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “সব অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি, তবে নির্বাচনের আগে এই অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হবে। কোনোভাবেই এগুলো দিয়ে কেউ যেন সহিংসতা করতে না পারে, সে বিষয়েও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “সাংবাদিকদের দায়িত্ব হচ্ছে সত্য তুলে ধরা। যদি প্রকৃত তথ্য সামনে আসে, বিভ্রান্তি দূর হবে এবং মানুষ সঠিক বার্তা পাবে। রাজনৈতিক দলগুলো মাঠে থাকবে তাদের কর্মসূচি নিয়ে, আর আমাদের দায়িত্ব হলো নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।”

জুলাই মাসে সংগঠিত গণঅভ্যুত্থান এবং সে সংক্রান্ত মামলাগুলো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “অনেক মামলার অগ্রগতি হয়েছে, তবে কিছু মামলায় উদ্দেশ্যমূলকভাবে আসামি করার কারণে তদন্তে বিলম্ব হচ্ছে। আমরা নিশ্চিত করছি, যেন নিরপরাধ কেউ হয়রানির শিকার না হয়।”

এর আগে উপদেষ্টা পরিদর্শন করেন সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী এলাকায় অবস্থিত র‍্যাব-১১ এর সদর দপ্তর। সেখানে তিনি বলেন, “ভারত থেকে গত এক মাসে ১,৫০০ বাংলাদেশিকে পুশইন করা হয়েছে, যা সত্য। তবে বর্তমানে পুশইনের হার কিছুটা কমেছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের দেশের নাগরিকদের যেভাবেই হোক ফিরিয়ে নিতে হবে—তা ১০ বছর পর হোক বা ২০ বছর পর। তবে রোহিঙ্গাদের আমরা ফিরিয়ে নিচ্ছি না, তাদের নিয়মিতভাবে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।”

ভারতীয় কর্তৃপক্ষের পুশইনের কৌশল নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “নিয়ম মেনে হস্তান্তর না করে নদীর পাড়ে বা জঙ্গলে ফেলে যাচ্ছে আমাদের নাগরিকদের। এটি অত্যন্ত অমানবিক এবং গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা প্রতিবাদ জানিয়েছি এবং এখন কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।”

এ সময় আলোচিত মোহাম্মদপুর ছিনতাই প্রসঙ্গে তিনি জানান, “ঘটনার সঙ্গে জড়িত চারজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ছিনতাইকৃত ফোন উদ্ধার হয়েছে। তদন্ত চলছে, দোষীদের ছাড় দেওয়া হবে না। দায়িত্বে অবহেলা করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও শাস্তির মুখে পড়বেন।”

পুলিশ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা এ সময় উপদেষ্টার সফরসঙ্গী ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন র‌্যাবের মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক, নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার প্রত্যুষ মজুমদার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাসমিন আক্তার, তারেক আল মেহেদী এবং ইসরাত জাহান।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



সচিবালয়ের সামনে শিক্ষার্থী-পুলিশ মুখোমুখি

এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি নিয়ে গভীর রাতে সিদ্ধান্ত ঘোষণার ঘটনায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মঙ্গলবার (২২ জুলাই) বিকেলে সচিবালয়ের সামনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বিকেল ৪টা ১০ মিনিটের দিকে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যখন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সচিবালয়ের ভেতরে প্রবেশ করে সরকারি গাড়ি ভাঙচুর করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল ছুড়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে।

এর আগে বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে সচিবালয়ের ১ নম্বর গেটের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভে অংশ নেন ঢাকার বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা। উত্তেজনা চরমে পৌঁছালে কিছু শিক্ষার্থী গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়েন। ভেতরে ঢুকে তারা সচিবালয়ের একাধিক সরকারি গাড়ির জানালার কাচ ভাঙচুর করেন। পুলিশ তখন লাঠিপেটা করে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

দুপুর থেকেই সচিবালয় চত্বর উত্তপ্ত হয়ে উঠছিল। মূলত মাইলস্টোন কলেজের শিক্ষার্থীদের মৃত্যু ও গভীর রাতে পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তনের ঘটনায় শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান। আন্দোলনে অংশ নেওয়া একজন শিক্ষার্থী জানান, “মাইলস্টোন কলেজের শিক্ষার্থীরা বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে। এমন অবস্থায় গভীর রাতে পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা দিয়ে সকালে জানানো হয় পরীক্ষা বাতিল। আমরা এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ। শিক্ষা উপদেষ্টা ও সচিবের পদত্যাগ চাই।”

জানা গেছে, আন্দোলনে ঢাকার বেশ কয়েকটি কলেজের শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে অংশ নেন। বিক্ষোভ পূর্বাভাস পেয়ে সচিবালয়ের সামনের এলাকায় আগে থেকেই মোতায়েন করা হয়েছিল পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, তারা কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আন্দোলনে নামেনি; বরং নিজেদের নিরাপত্তা, সম্মান ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার জন্য এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।

সরকারের পক্ষ থেকে এখনও এ ঘটনার সরাসরি প্রতিক্রিয়া না এলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের দাবি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



গণগ্রেপ্তার হচ্ছে না, দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

গোপালগঞ্জে সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনায় গণগ্রেপ্তার নয়, শুধুমাত্র দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

রোববার (২০ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা ও ঢাকাসহ তৎসংলগ্ন এলাকার বিশেষ সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

উপদেষ্টা বলেন, “আমরা স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছি—নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন এবং প্রকৃত অপরাধীরা যেন আইনের আওতায় আসেন। গোপালগঞ্জের ঘটনায় কোনো গণগ্রেপ্তার হচ্ছে না। পরিস্থিতি অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে ঢাকা মেট্রোপলিটনের সব ডিসি, র‌্যাব কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সেনা সদস্যদের ডাকা হয়েছিল। তারা জানিয়েছেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলার বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, “আসলেই পরিস্থিতি উন্নত হয়েছে কি না, সেটা আপনারাই ভালো বলতে পারবেন। আমি বললে হয়তো বিশ্বাস করবেন না।”

গোপালগঞ্জের ঘটনায় পুলিশ মামলা করবে কি না—এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “আমি ঘটনাটি অস্বীকার করছি না। রাজনীতিতে এসব অনেক সময় হয়। আমরাও একসময় করেছি। কিন্তু ঘটনা ঘটার পর যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।”

আওয়ামী লীগের ডাকা হরতাল বিষয়ে তিনি বলেন, “দুটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যান্য হরতালের তুলনায় এবার ক্ষতির পরিমাণ অনেক কম। এতে বোঝা যায় আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছি।”

গোপালগঞ্জের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও নির্বাচন সামনে রেখে তাদের প্রস্তুতি নিয়ে আশ্বস্ত করেন উপদেষ্টা। বলেন, “বর্তমান বাহিনী দিয়েই নির্বাচন পরিচালনা সম্ভব। তারা প্রস্তুত আছে, প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। নির্বাচন আয়োজনে কোনো সমস্যা হবে না।”

গণতন্ত্রে মতপ্রকাশের অধিকারকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনার প্রশ্নই প্রমাণ করে দেশে গণতন্ত্র আছে। তবে মতপ্রকাশে যেন অশালীন বা আক্রমণাত্মক ভাষা না ব্যবহৃত হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।”




গোপালগঞ্জে হামলা ও সহিংসতাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মামলা

গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশকে কেন্দ্র করে পুলিশের ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ৪৭৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান পিয়ালসহ ৭৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, বাকি ৪০০ জন অজ্ঞাতনামা।

শুক্রবার (১৮ জুলাই) সকালে গোপালগঞ্জ সদর থানায় পুলিশ পরিদর্শক আহম্মদ আলী বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি দায়ের করেন।

গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপস) ড. রুহুল আমিন সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় মোট ৪৭৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বুধবার এনসিপির ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গোপালগঞ্জে ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। মঙ্গলবার রাত থেকেই জেলায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। তবে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বুধবার পৌর পার্ক এলাকায় সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা সমাবেশস্থলে পৌঁছানোর আগেই সেখানে হামলার ঘটনা ঘটে। সমাবেশ শেষে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরও হামলার শিকার হয়। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে রূপ নেওয়া সহিংসতায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বুধবার প্রথমে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়, তবে তাতে কাজ না হওয়ায় রাত ৮টা থেকে পরদিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জেলাজুড়ে কারফিউ জারি করে সরকার। পরবর্তীতে ওই কারফিউ আরও বাড়ানো হয়।

এনসিপি নেতারা কয়েক ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তায় গোপালগঞ্জ ত্যাগ করেন এবং খুলনার দিকে রওনা হন। সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশ ও হামলাকারীদের মধ্যে একাধিকবার ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




গোপালগঞ্জের ঘটনায় অপরাধীদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

গোপালগঞ্জের সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনায় জড়িত কেউই পার পাবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, “যারা অন্যায় করেছে তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করা হবে, কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”

বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

গোপালগঞ্জে সহিংসতার ঘটনা গোয়েন্দা সংস্থার নজরে ছিল কিনা—এমন প্রশ্নে তিনি জানান, গোয়েন্দাদের কাছে কিছু তথ্য ছিল, তবে ঘটনার ব্যাপকতা এত বড় হবে, তা তারা ধারণা করতে পারেননি।

এনসিপির পক্ষ থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যর্থতার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আপনারও মতামত থাকতে পারে। যার যেটা বলার আছে, সে সেটা বলবে।”

তিনি জানান, ঘটনাস্থলে ইতোমধ্যেই প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের সহিংসতা না ঘটে, সে লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, “অপরাধীদের কাউকে ছাড়া হবে না। আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




বাউফলে ইয়াবাসহ ইউপি সদস্য গ্রেপ্তার

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় ২৫ পিস ইয়াবাসহ এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আটককৃত ব্যক্তি হলেন হারুন মৃধা (৪৬), যিনি নওয়ামালা ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত সদস্য। পাশাপাশি তিনি ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি এবং ১ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন।

বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ইউনিয়নের সোলাবুনিয়া বাজার এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে পুলিশ। এ সময় তার দেহ তল্লাশি করে ২৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হারুন মৃধা উপজেলার ‘নিজ বটকাজল’ এলাকার বাসিন্দা ও মৃত হাফেজ আলী মৃধার ছেলে। স্থানীয়ভাবে তিনি বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সদ্য সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কামাল হোসেন বিশ্বাসের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ থাকলেও এতদিন তার বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এলাকাবাসীর অনেকেই তাকে অপরাধ জগতের ‘খলিফা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকেন।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আকতারুজ্জামান সরকার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করি। অভিযানে তাকে হাতেনাতে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।

ওসি আরও বলেন, আসামিকে সোমবার আদালতে সোপর্দ করা হবে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



জুলাই গণহত্যার দায় স্বীকার করলেন সাবেক আইজিপি, ট্রাইব্যুনালে রাজসাক্ষী

জুলাই-আগস্ট গণআন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায় স্বীকার করেছেন বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায় স্বীকার করে রাজসাক্ষী হতে সম্মতি দিয়েছেন তিনি।

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ দেওয়া বক্তব্যে মামুন বলেন, “জুলাই-আগস্টে চলমান আন্দোলনের সময় আমাদের বিরুদ্ধে যে হত্যা-গণহত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে তা সত্য। আমি নিজেকে দোষী হিসেবে মেনে নিচ্ছি এবং রাজসাক্ষী হিসেবে আদালতের সামনে সব তথ্য তুলে ধরতে চাই। রহস্য উন্মোচনে আদালতকে সহযোগিতা করব।”

এ সময় ট্রাইব্যুনাল তার রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন মঞ্জুর করে আদেশ দেয়। মামুনের আইনজীবী জায়েদ বিন আমজাদ তার নিরাপত্তা নিশ্চিতের আবেদন করেন। চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে আদালত প্রয়োজনীয় আদেশ দেবেন।

এর আগে একই দিনে, ২০২৫ সালের আলোচিত জুলাই গণহত্যার মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

আদালত প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য আগামী ৩ আগস্ট এবং সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ৪ আগস্ট তারিখ ধার্য করেছেন। মামলার অপর দুই বিচারপতি হলেন মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

প্রসিকিউশনের পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এবং আসামিপক্ষের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন ও জায়েদ বিন আমজাদ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

এই মামলার মাধ্যমে ২০২৫ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো।




জুলাই গণহত্যা: শেখ হাসিনাসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার কার্যক্রম শুরুর আদেশ দেন।

এই মামলায় কারাগারে থাকা আসামি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন নিজের দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হিসেবে আদালতে উপস্থিত হন। অপর দুই আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল পলাতক থাকায় রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন তাদের পক্ষে অব্যাহতির আবেদন করেন। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি উপস্থাপন করেন।

গত ১ জুলাই এ মামলার শুনানি সম্পন্ন হয় এবং ৭ জুলাই আদেশ ঘোষণার জন্য ১০ জুলাই তারিখ ধার্য করা হয়। আদেশে ট্রাইব্যুনাল জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ যথেষ্ট সুস্পষ্ট ও প্রমাণযোগ্য হওয়ায় আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে চলমান গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত সহিংসতায় বহু নাগরিক হতাহত হন। অভিযোগ রয়েছে, রাষ্ট্রীয় বাহিনী দ্বারা পরিকল্পিত ও নির্মম দমন-পীড়নের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ওপর হত্যাকাণ্ড চালানো হয়, যা আন্তর্জাতিক আইনে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য।

এই মামলাকে ঘিরে দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ গঠন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এম এম এ / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫