রাজধানীতে সমাবেশ, পরীক্ষার দিনে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে ডিএমপি’র নির্দেশনা

রাজধানী ঢাকায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থান, শোক ও বিজয়ের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে একাধিক রাজনৈতিক সংগঠনের সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক আয়োজনকে কেন্দ্র করে রবিবার (৩ আগস্ট) দিনব্যাপী যান চলাচলে সীমিত নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)

শনিবার প্রকাশিত ডিএমপির এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সমাবেশ ও অনুষ্ঠানস্থল ঘিরে ‍গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ থাকবে। একইদিনে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা এবং বিসিএস পরীক্ষাও অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য পরীক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট সময়ের আগেই রওনা হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর স্বাক্ষরিত ওই গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,

  • দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত শাহবাগ মোড়ে বিএনপিপন্থী ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের ‘ছাত্র সমাবেশ’ অনুষ্ঠিত হবে।
  • বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত শহীদ মিনারে এনসিপি আয়োজিত ‘জুলাই ঘোষণাপত্র ও সনদের’ দাবিতে জনসমাবেশ হবে।
  • ১-৪ আগস্ট প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘জুলাই জাগরণ’ চলমান থাকবে।

ফলে ঢাকা শহরের নিচের এলাকাগুলোতে যান চলাচল নিয়ন্ত্রিত থাকবে:
📍 শাহবাগ মোড়
📍 শহীদ মিনার এলাকা
📍 সোহরাওয়ার্দী উদ্যান চত্বর

পরিবর্তে বিকল্প রুট হিসেবে যেসব পথ ব্যবহার করতে বলা হয়েছে:

  • হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়: সোনারগাঁও বা বাংলামোটর হয়ে মিন্টু রোড বা হেয়ার রোড ব্যবহার
  • কাটাবন মোড়: সায়েন্সল্যাব হয়ে নীলক্ষেত/পলাশী বা বাংলামোটর লিংক রোড ব্যবহার
  • মৎস্য ভবন মোড়: হাইকোর্ট বা মনসুর আলী সরণি হয়ে চলাচল
  • কাকরাইল থেকে: গুলিস্তান বা বিশ্ববিদ্যালয়মুখী চলাচল
  • টিএসসি/রাজু ভাস্কর্য: দোয়েল চত্বর বা নীলক্ষেত ব্যবহার
  • শহীদ মিনার ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আশপাশের রাস্তা যথাসম্ভব এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে

ডিএমপি বলেছে, যেহেতু ওই দিন এইচএসসি/সমমানবিসিএস পরীক্ষাও অনুষ্ঠিত হবে, তাই পরীক্ষার্থীদের যেন প্রচুর সময় হাতে নিয়ে কেন্দ্রে রওনা হওয়া উচিত।

ডিএমপির পক্ষ থেকে ঢাকাবাসীকে অনুরোধ করা হয়েছে, জনসাধারণ যেন সমাবেশ ও অনুষ্ঠানস্থল ঘিরে সংঘটিত ভিড় ও যানজট এড়িয়ে চলে এবং নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক চলাচলে পুলিশের নির্দেশনা মেনে চলে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




গোপন তৎপরতা তদন্তাধীন, জড়িত কেউ রেহাই পাবে না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বর্তমানে নিষিদ্ধ, তাই তারা কোনো অপকর্মে জড়ালে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

শনিবার (২ আগস্ট) রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “যেহেতু তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সেহেতু তারা কোনো অপকর্ম করতে চাইলে কোনোভাবেই ছাড় পাবে না। কে কোন বাহিনীর, সেটা বিবেচ্য নয়—আইনের আওতায় সবাই আসবে।”

আওয়ামী লীগের গোপন তৎপরতা ও এক সেনা কর্মকর্তার জড়িত থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে উপদেষ্টা জানান, বিষয়টি তদন্তাধীন। তিনি বলেন, “তদন্ত করলে সব জানা যাবে। যে-ই জড়িত থাকুক, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”

৫ আগস্ট উপলক্ষে দেশে কোনো নিরাপত্তা শঙ্কা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আল্লাহ চাইলে কোনো শঙ্কা নেই। আপনারা যেভাবে সহায়তা করছেন, তাতে আমরা আত্মবিশ্বাসী।”

সাংবাদিকদের ভূমিকার প্রশংসা করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “মিডিয়া সত্য প্রচার করছে বলেই আজ দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। সত্য ঘটনাগুলো প্রচার করলে জনগণ উপকৃত হয়, আইনশৃঙ্খলার উন্নতি ঘটে।”

তিনি আরও বলেন, “আপনারা সত্য প্রকাশ করছেন বলেই বিদেশি মিডিয়াগুলোর তীব্রতা কমে আসছে। তারা আগের মতো সরব হতে পারছে না, কারণ বাস্তবতা স্পষ্ট হচ্ছে।”

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার এ বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত দল হিসেবে আওয়ামী লীগের তৎপরতা এবং তার বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান যে কঠোর, তা এ বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।




দুমকিতে গৃহবধূর মৃত্যু, পরিবারের দাবি যৌতুকের জন্য নির্যাতন

পটুয়াখালীর দুমকিতে মুক্তা আক্তার (২২) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে রহস্য। শুক্রবার সকালে উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের চরবয়েড়া গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শ্বশুরবাড়ির দাবি, মুক্তা স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তবে মুক্তার পরিবারের অভিযোগ ভিন্ন। নিহতের ভাই মাসুম হোসেনের ভাষ্য, বিয়ের পর থেকেই মুক্তার ওপর যৌতুকের জন্য নির্যাতন চালানো হতো। তার দাবি, এসব নির্যাতনের ফলেই মুক্তার মৃত্যু হয়েছে।

খবর পেয়ে দুমকি থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। যদিও নিহতের ভাই থানায় স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিলেও, পুলিশ তা আমলে নেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন জানান, “ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। অভিযোগের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

নিহত মুক্তা আক্তারের মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিষয়টি এখন পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

 




পরকীয়ার সন্দেহ, প্রভাষক স্ত্রীকে গলা কেটে খুন করে থানায় স্বামীর আত্মসমর্পণ

পটুয়াখালীর বাউফলে নির্মম এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। স্ত্রীকে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার পর থানায় আত্মসমর্পণ করেছেন স্বামী সরোয়ার হোসেন (৪০)। নিজের চার বছরের সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে তিনি বাউফল থানায় হাজির হন এবং পুলিশের কাছে স্বেচ্ছায় খুনের দায় স্বীকার করেন।

নিহত সালমা আক্তার (৩২) পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার ধাওয়া গ্রামের বাসিন্দা ও মৃত রুস্তুম আলীর মেয়ে। তিনি বাউফলের নুরাইনপুর নেছারিয়া ডিগ্রি মাদ্রাসায় বাংলা বিভাগের প্রভাষক ছিলেন। অভিযুক্ত স্বামী সরোয়ার হোসেন একই উপজেলার নদমুলা গ্রামের মৃত মোকসেদ আলীর ছেলে।

সূত্র জানায়, চাকরির সুবাদে সালমা আক্তার বাউফলের চন্দ্রপাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছিলেন স্বামী ও সন্তানসহ। তবে দীর্ঘদিন ধরেই তাদের সংসারে কলহ চলছিল। সম্প্রতি সেই দাম্পত্য দ্বন্দ্ব আরও চরমে পৌঁছায়। বুধবার (৩০ জুলাই) বিকেলে সেই দ্বন্দ্বেরই করুণ পরিণতি ঘটে। পারিবারিক কলহের জেরে সরোয়ার হোসেন ধারালো দা দিয়ে স্ত্রীর ঘাড়ে কুপ দেন। ঘটনাস্থলেই মারা যান সালমা আক্তার।

হত্যার পর দ্রুত বাড়ির দরজা-জানালা বন্ধ করে সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে পালিয়ে যান সরোয়ার। দীর্ঘ সময় লুকিয়ে থাকার পর বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তিনি নিজেই থানায় এসে উপস্থিত হন। সঙ্গে থাকা সন্তান সারফারাজকে পুলিশের জিম্মায় দেন এবং নিজেই খুনের ঘটনা খুলে বলেন। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে। একইসঙ্গে উদ্ধার করা হয় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা।

বাউফল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত স্বামীর স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে আমরা লাশ উদ্ধার করি এবং ঘটনাস্থল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত দা জব্দ করি। শিশুটিকেও আমাদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আকতারুজ্জামান সরকার জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সরোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, স্ত্রী পরকীয়ায় জড়িত ছিলেন—এই সন্দেহেই তিনি এ হত্যাকাণ্ড ঘটান। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এ ঘটনা স্থানীয় এলাকাজুড়ে চরম চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষককে এভাবে নির্মমভাবে হত্যার বিষয়টি ঘিরে সাধারণ মানুষ, সহকর্মী ও স্থানীয়রা গভীর শোক এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। একইসঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, পরকীয়ার সন্দেহ কিংবা দাম্পত্য কলহ কি এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের কারণ হতে পারে?

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



কুয়াকাটা সৈকত থেকে জেলের লাশ উদ্ধার

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিখোজ ৫ জেলের মধ্যে নজরুল ইসলাম (৬০) নামের এক জেলের লাশ উদ্ধার করেছে নৌ-পুলিশ।

শুক্রবার সকাল সাড়ে নয়টায় সৈকতের মিরা পয়েন্ট থেকে ওই জেলের লাশ উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুয়াকাটা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বিকাশ মন্ডল। এখনো ৪ জেলের কোন সন্ধান মেলেনি।

নৌ পুলিশ জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে লাশের খবর পেয়ে সৈকত থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে। এরমধ্যে মীরাবাড়ি পয়েন্টে কালো রংয়ের রেইনকোট পরিহিত ব্যক্তির পরিচয় তার ছেলে সনাক্ত করেছে। এছাড়া গঙ্গামতি এলাকায় একটি লাশ ভেসে আসার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠালেও সেখানে কোন লাশের সন্ধান পাওয়া যায়নি। উদ্ধারকৃত লাশটি মহিপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৫ জুলাই বঙ্গোপসাগরের শেষ বয়ার ৭৫ কিলোমিটার গভীরে ১৫ জেলে সহ এফবি সাগরকন্যা নামের একটি মাছধরা ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটে। সমুদ্রে ৪ দিন ভেসে থাকার পর ১০ জেলেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পাঁচ জেলে নিখোঁজ ছিলেন। তাদের মধ্যে আজ সকালে নজরুল ইসলাম এর লাশ পাওয়া গেছে।

আল-আমিন



পূর্বাচল প্রকল্পে দুর্নীতি: শেখ হাসিনাসহ পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সরকারি প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তার পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের বিরুদ্ধে করা ছয়টি দুর্নীতি মামলার বিচার শুরু হয়েছে। ঢাকার পৃথক দুটি বিশেষ জজ আদালত বৃহস্পতিবার এসব মামলায় অভিযোগ গঠন করেন এবং পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন তিনটি মামলায় শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা, ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ২৩ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

অপরদিকে, বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক মো. রবিউল আলম বাকি তিনটি মামলায় টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, আজমিনা সিদ্দিক, রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকসহ শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম জানিয়েছেন, মামলাগুলোর সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আদালত যথাক্রমে ১১ ও ১৩ আগস্ট তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

উল্লেখ্য, গত জানুয়ারিতে দুদক পৃথকভাবে ছয়টি মামলা দায়ের করে। মামলায় অভিযোগ করা হয়, প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে শেখ হাসিনা ও তার পরিবার পূর্বাচল ২৭ নম্বর সেক্টরে ১০ কাঠা করে সরকারি প্লট বরাদ্দ নেন, যদিও তারা এই বরাদ্দ পাওয়ার জন্য যোগ্য ছিলেন না। এতে সরকারের ক্ষমতা অপব্যবহার হয়েছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্লট বরাদ্দ সংক্রান্ত এসব মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়াও আসামিদের মধ্যে রয়েছেন তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, বোন শেখ রেহানা, রেহানার কন্যা ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, রেহানার পুত্র রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক এবং মেয়ে আজমিনা সিদ্দিকসহ আরও অনেকে।

সাক্ষ্যগ্রহণের সময়সূচি:

  • বিশেষ জজ আদালত-৫: ১১ আগস্ট
  • বিশেষ জজ আদালত-৪: ১৩ আগস্ট

এদিকে, আসামিরা পলাতক থাকায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

এই মামলাগুলো দেশের রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের জন্ম।




রাজউক প্লট দুর্নীতিতে শেখ হাসিনা, জয় ও পুতুলসহ ৪৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জগঠন

রাজউকের প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ আরও বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চার্জগঠনের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এতে মামলাটির বিচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

৩১ জুলাই (বৃহস্পতিবার) ঢাকার পাঁচ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন এ আদেশ দেন। চার্জগঠন শুনানিতে আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আগামী ১১ আগস্ট সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ধার্য করা হয়েছে।

এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম জানান, মামলার অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে আদালত তিনটি পৃথক মামলায় চার্জগঠন করেছেন। শেখ হাসিনাসহ ১২ জন, জয়সহ ১৭ জন এবং পুতুলসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে এসব চার্জ গঠন করা হয়।

জানা গেছে, ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত গত ২০ জুলাই পৃথক তিন মামলার বিচারের জন্য পাঁচ ও চার নম্বর বিশেষ জজ আদালতে পাঠানোর আদেশ দেন। দুর্নীতির এসব মামলায় অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন সাবেক ও বর্তমান সরকারি কর্মকর্তারাও। যেমন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব শহীদ উল্লা খন্দকার, অতিরিক্ত সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান মিঞা, সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, কবির আল আসাদ, তন্ময় দাস, নুরুল ইসলাম, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরীসহ অনেকে।

তালিকায় আরও আছেন শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানা, তার মেয়ে ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি, আরেক মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তী। এছাড়াও মামলায় নাম রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব সালাউদ্দিন এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদেরও।

উল্লেখ্য, গত জানুয়ারিতে রাজউকের প্লট বরাদ্দে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ এনে ছয়টি মামলা দায়ের করে দুদক। দীর্ঘ তদন্ত শেষে সম্প্রতি আদালতে এসব মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। মামলাগুলোর মূল অভিযোগ—সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে আত্মীয়স্বজনদের নামে অবৈধভাবে প্লট বরাদ্দ দেওয়া, যেগুলোর বাজারমূল্য কোটি কোটি টাকা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই মামলার বিচার কার্যক্রম দেশের উচ্চপর্যায়ের দুর্নীতির বিচার ও জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে এক বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছে সারা দেশ।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



কলাপাড়ায় স্ত্রীর সঙ্গে অভিমান করে স্বামীর আত্মহত্যা

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীর সঙ্গে অভিমান করে আত্মহত্যা করেছেন নুর উদ্দিন (৩২) নামের এক যুবক। বুধবার (৩০ জুলাই) সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতের কোনো এক সময় কলাপাড়া পৌর শহরের বাদুরতলী এলাকায় নিজ ঘরে গলায় ফাঁস দেন নুর উদ্দিন। তিনি ওই এলাকার ফারুক মিয়ার ছেলে। পারিবারিক কলহের কারণে কয়েকদিন আগে তার স্ত্রী বাবার বাড়ি চলে যান এবং তালাকের দাবি জানান। এ নিয়ে দাম্পত্য জীবনে টানাপোড়েন চলছিল। এতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন নুর উদ্দিন এবং অবশেষে অভিমানে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুয়েল ইসলাম বলেন, “মৃতদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি ইউডি (অপমৃত্যু) মামলা রুজু করা হয়েছে।”

আল-আমিন

 




সালমান এফ রহমানকে ১০০ কোটি টাকা জরিমানা, পুঁজিবাজারে আজীবন অবাঞ্ছিত ঘোষণা

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানকে ১০০ কোটি টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। পাশাপাশি তাকে পুঁজিবাজারে আজীবন অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে।

বুধবার (৩০ জুলাই) বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিএসইসির মুখপাত্র মো. আবুল কালাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

অনিয়মের বিষয়টি ঘনীভূত হয় ‘আইএফআইসি গ্যারান্টেড শ্রীপুর টাউনশিপ গ্রিন জিরো কুপন বন্ড’ ইস্যু নিয়ে, যার মাধ্যমে শ্রীপুর টাউনশিপ লিমিটেড নামে একটি কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে। কিন্তু কোম্পানিটি মাত্র কয়েক মাস আগেই গঠিত হয়েছিল এবং পরিশোধিত মূলধন থাকা সত্ত্বেও অস্বাভাবিক দ্রুত গতিতে ২৪৮ কোটি টাকা উত্তোলন করেছিল, যা বিএসইসির কাছে সন্দেহজনক হয়ে ওঠে।

এই বন্ড ইস্যুতে আইএফআইসি ব্যাংক মূল ইস্যুকারী না হলেও জামিনদার হিসেবে যুক্ত ছিল, অথচ বিজ্ঞাপনে এমনভাবে প্রচার করা হয় যেন এটি ব্যাংকের নিজস্ব বন্ড। এতে করে বিনিয়োগকারীরা বিভ্রান্ত হন ও প্রতারিত হন বলে তদন্তে উঠে আসে।

বিএসইসির গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তসমূহ:

১. সালমান এফ রহমান – ১০০ কোটি টাকা জরিমানা; পুঁজিবাজারে আজীবন অবাঞ্ছিত।
২. সায়ান ফজলুর রহমান (ছেলে) – ৫০ কোটি টাকা জরিমানা; আজীবন অবাঞ্ছিত।
৩. ইমরান আহমেদ (আইএফআইসি ইনভেস্টমেন্টের তৎকালীন সিইও) – ৫ বছরের জন্য নিষিদ্ধ।
৪. শাহ আলম সারওয়ার (আইএফআইসি ব্যাংকের তৎকালীন এমডি) – এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ।
৫. আইএফআইসি ব্যাংক ও পরিচালকদের সতর্ক করা।
৬. ইমার্জিং ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড (ECRL) – ১০ লাখ টাকা জরিমানা।
৭. অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম (তৎকালীন বিএসইসি চেয়ারম্যান) – আজীবন অবাঞ্ছিত।
৮. ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ (কমিশনার) – ৫ বছরের জন্য অবাঞ্ছিত।

এই ঘটনায় দেশের পুঁজিবাজারে বড় ধরনের অনিয়ম, স্বচ্ছতার অভাব এবং প্রভাবশালী মহলের অপব্যবহারের চিত্র স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। অনেকেই একে “পুঁজিবাজারে আস্থা সংকটের গভীর রূপ” হিসেবে দেখছেন।

মো. আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার | চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



৫ আগস্ট ঘিরে নিরাপত্তা শঙ্কা নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

আসন্ন ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে দেশজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

বুধবার (৩০ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, “৫ আগস্ট ঘিরে কোনো ধরনের নিরাপত্তা সমস্যা নেই। সবকিছু আল্লাহর ইচ্ছায় ভালোভাবেই সম্পন্ন হবে।”

তিনি আরও জানান, “বর্তমানে যে ১১ দিনের অভিযান চলছে, এটি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে। কেন অভিযান চালানো হচ্ছে—সেটি ডিএমপি জানে। প্রয়োজনের ভিত্তিতেই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।”

অন-অ্যারাইভাল ভিসা সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ অন-অ্যারাইভাল ভিসা বাতিল করেনি। যেসব দেশের সঙ্গে চুক্তি আছে, তাদের নাগরিকদের এখনো অন-অ্যারাইভাল ভিসা দেওয়া হচ্ছে। তবে চুক্তিহীন দেশগুলোর ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়।”

মালয়েশিয়ায় গ্রেফতার হওয়া বাংলাদেশিদের বিষয়ে উপদেষ্টা জানান, মালয়েশিয়ার একটি টিম বাংলাদেশ সফরে এসেছে এবং তাদের সঙ্গে পুলিশ সদর দপ্তরে আলোচনা হবে। তিনি বলেন, “প্রতিটি দেশের সঙ্গে আলাদা আলাদা চুক্তি রয়েছে। সে অনুযায়ী আলোচনা ও সমঝোতা চলবে।”

রংপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে হিন্দু সম্প্রদায়ের বসতিতে হামলার বিষয়ে তিনি কড়া অবস্থানের কথা জানিয়ে বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম