ইন্দুরকানীতে চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম, র‍্যাবের অভিযানে আটক ২

পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে চাঁদা না পেয়ে এক মুদি ব্যবসায়ীকে হাতুড়ি ও দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে স্থানীয় দুই মাদকসেবী। র‍্যাব-৬ এর অভিযানে ওই দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে গত ৭ আগস্ট সকালে উপজেলার পশ্চিম বালিপাড়া গ্রামে। আহত ব্যবসায়ীর নাম আব্দুল হাই খান।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পশ্চিম বালিপাড়া গ্রামের চিহ্নিত মাদকসেবী রাকিব সেপাই ও জসিম খান দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। তারা আব্দুল হাইয়ের কাছে নেশার টাকার জন্য চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ও দা দিয়ে কুপিয়ে ব্যবসায়ীকে গুরুতর জখম করে।

স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এ ঘটনায় আহতের ছোট ভাই মো. জাহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে ইন্দুরকানী থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার পর আসামিরা পলাতক থাকলেও, রোববার (১৮ আগস্ট) বিকাল ৪টার দিকে র‍্যাব-৬ যশোর ক্যাম্পের একটি দল নোয়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে। তারা হলেন পশ্চিম বালিপাড়া গ্রামের নুরুজ্জামানের ছেলে জসিম (২২) এবং জলিল সেপাইয়ের ছেলে রাকিব সেপাই।

এ বিষয়ে ইন্দুরকানী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মারুফ হোসেন জানান, মামলাটি র‍্যাবের কাছে হস্তান্তরের পর র‍্যাব অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালে স্বাস্থ্যখাত আন্দোলনের নেতা মহিউদ্দিন রনির বিরুদ্ধে মামলা

জাতীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যখাত সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক মহিউদ্দিন রনির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার বাদী শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের কর্মচারী বাহাদুর সিকদার।

সোমবার (১৮ আগস্ট) রাতে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় এ মামলা দায়ের করা হয়। এতে রনিকে একমাত্র নামধারী আসামি করা হয়েছে এবং আরও অজ্ঞাত ৮০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত কয়েকদিন ধরে রনির নেতৃত্বে শেবাচিম এলাকায় আন্দোলন চলছে। এর ধারাবাহিকতায় রোববার দুপুর আড়াইটার দিকে আন্দোলনকারীরা চিকিৎসক ডা. দিলিপ রায়ের পথরোধ করে মারধর করেন। এসময় বাদী বাহাদুর সিকদারকেও আঘাত করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, রনি লোহার পাইপ দিয়ে বাহাদুরের মাথায় আঘাত করেন। পরে অন্য কর্মচারীরা তাকে উদ্ধার করেন।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, আন্দোলনকারীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে রোগীর স্বজনসহ কয়েকজন কর্মচারীকে রক্তাক্ত করেন।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৪ আগস্ট শেবাচিম হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার জুয়ের চন্দ্র শীল বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। তবে সেটি এজাহারভুক্ত হয়নি। সেই অভিযোগে মহিউদ্দিন রনি ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফিসহ ৪২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ইন্দুরকানীতে ইয়াবাসহ যুবক আটক

পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলায় ইয়াবাসহ এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (১৮ আগস্ট) রাতে এসআই পলাশ বিশ্বাসের নেতৃত্বে বালিপাড়া বাজারের মৃধা বাড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

আটককৃত ব্যক্তি উপজেলার সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা মো. গফুর শেখের ছেলে মো. কালাম। তার কাছ থেকে ৮ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




আগৈলঝাড়ায় নারী মাদক ব্যবসায়ীসহ দুইজন গ্রেপ্তার

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ইয়াবা ব্যবসার সময় এক নারীসহ দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। স্থানীয় জনতা তাদের আটক করে থানায় সোপর্দ করে।

থানা সূত্রে জানা যায়, রোববার উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের রত্নপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মাদক ব্যবসায়ী আসাদুল হাওলাদারের স্ত্রী লিজা বেগম (৩০) এর কাছ থেকে মোহনকাঠি গ্রামের নকুল বৈরাগীর ছেলে নিরব বৈরাগী ইয়াবা কিনতে গেলে স্থানীয়রা নিরবকে হাতেনাতে আটক করে।

পরে এলাকাবাসী লিজা বেগমকে ৮ পিস ইয়াবাসহ আটক করে। তবে এ সময় মাদক ব্যবসার মূল ডিলার ফরিদ হাওলাদার পালিয়ে যায়।

খবর পেয়ে আগৈলঝাড়া থানার এসআই ওমর ফারুক ঘটনাস্থলে গিয়ে নিরব ও লিজাকে আটক করে থানায় নিয়ে যান। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে লিজা, নিরব এবং পলাতক ফরিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।

স্থানীয়দের দাবি, লিজা বেগম, তার স্বামী আসাদুল হাওলাদার ও ফরিদ হাওলাদার দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ইয়াবা ব্যবসা করে আসছে। তাদের হাতে স্থানীয় তরুণ সমাজ ধ্বংস হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এলাকাবাসী এই চক্রের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছে।

প্রসঙ্গত, এর আগেও লিজা ও ফরিদ একাধিকবার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলেও পরবর্তীতে মুক্তি পেয়ে পুনরায় মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫





বাবার সঙ্গে অভিমানে যুবকের আত্মহত্যা

বরগুনার আমতলী পৌর শহরে বাবার সঙ্গে অভিমান করে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন সাকিব মণ্ডল (২৮) নামে এক যুবক। সোমবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে পৌরসভার খোন্তাকাটা এলাকায় একটি পরিবহন এজেন্সি অফিস থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত সাকিব ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বারিবাথান গ্রামের ট্রাকচালক কালাম মণ্ডলের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার সকালে সাকিব বাড়ি থেকে একটি সাইকেল বিক্রি করে পরিবারের কাউকে না জানিয়ে কুয়াকাটা যান। পরে আমতলীতে এসে বাবার কাছে টাকা চেয়ে ফোন করেন। কিন্তু তার বাবা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এতে অভিমান করে তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ী জসিম গাজীর পরিবহন অফিসে রাত কাটান।

ব্যবসায়ী জসিম গাজী জানান, সাকিবের বাবার অনুরোধে তিনি তাকে রবিবার রাতে অফিসে থাকার ব্যবস্থা করে দেন। সোমবার সকালে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে পুলিশে খবর দিলে তারা দরজা ভেঙে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহতের বাবা কালাম মণ্ডল বলেন, “আমার ছেলে ব্যবসায় লোকসানের কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল। আমি টাকা না দেওয়ায় হয়তো অভিমানে সে আত্মহত্যা করেছে।”

আমতলী থানার ওসি (তদন্ত) মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫





স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন: হারুনসহ ১৮ পুলিশ কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সাবেক প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদসহ পুলিশের ১৮ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে সরকার।

সোমবার (১৮ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এ প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন উপসচিব নাসিমুল গনি।

বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন—তিনজন ডিআইজি, ছয়জন অতিরিক্ত ডিআইজি, চারজন পুলিশ সুপার, চারজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং একজন সহকারী পুলিশ সুপার।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর ৩(গ) অনুযায়ী পলায়নের শাস্তিযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত হওয়ায় বিধি ১২ উপবিধি (১) অনুসারে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে তারা খোরপোষ ভাতা পাবেন। জনস্বার্থে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।




আইজিপি মামুনের জবানবন্দির আদ্যপান্ত: ক্ষমতা পিপাসু হিংস্র নারীর প্রতিচ্ছবি শেখ হাসিনা

বিশেষ প্রতিবেদন: ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার হিংস্রতা এবং দুর্নীতির চিত্র এখন কারো কাছেই আর অজানা নয়। এমনকি দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গণেও ছড়িয়ে পড়েছে। জাতিসংঘ তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, আল জাজিরাসহ বিভিন্ন বিশ্ব মিডিয়াতেও ফলাও করে প্রচারিত হয়েছে।

এই স্বৈরশাসক তার মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে  এখন বিচারের মুখোমুখি। আদালতে ফ্যাসিস্ট হাসিনার অপ্রকাশিত লোমহর্ষক হিংস্রতা আর শেষ পর্যন্ত ক্ষমতার মসনদে টিকে থাকার প্রাণান্তকর চেষ্টার বিশদ বর্ণনা উপস্থাপিত হয়েছে রাজস্বাক্ষী হিসেবে দেয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী মামুনের লিখিত জবানবন্দিতে।

আইনজ্ঞরা বলছেন, এই জবানবন্দির সাক্ষ্যগত মূল্য অনেক। মামলা প্রমাণে যথেষ্ট সহায়ক হবে।

ছাত্র-জনতার গণআন্দোলন দমাতে অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এই বল প্রয়োগ করা হয়। এতে বিপুল সংখ্যক মানুষের প্রাণহানি ঘটে। আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করে হাজার হাজার মানুষ। এমন ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন হাসিনা সরকারের পুলিশ প্রধান চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন।

জবানবন্দিতে জুলাই আন্দোলন ঠেকাতে হেলিকপ্টার থেকে নজরদারি, গুলি করা ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের যেসব নির্দেশনা এসেছিলো সে সম্পর্কে বিস্তারিত বয়ান দিয়েছেন তিনি। এমনকি হাজার হাজার ছাত্র-জনতা হতাহতের পরেও পুলিশ দিয়ে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চেয়েছিলেন তিনি। যা উঠে এসেছে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে।

চাকরিতে কোটা পদ্ধতি ফিরিয়ে আনার রায়ের প্রতিবাদে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। শান্তিপূর্ন আন্দোলন দমাতে ঢাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করে ছাত্রলীগ। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশে এ হামলা হয়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর হামলার প্রতিবাদে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা রাজপথে নামে।

১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হয় আবু সাঈদ। আবু সাঈদ নিহতের পর আন্দোলন অগ্নিস্ফুলিঙ্গ ধারণ করে। এই আন্দোলন এক পর্যায়ে সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। সরকার নিজের গদি রক্ষায় সর্বশক্তি প্রয়োগ করে। কিভাবে এই শক্তি প্রয়োগ করা হয়েছিলো এবং কাদের নির্দেশে হয়েছিলো তা উঠে এসেছে আইজিপি মামুনের জবানবন্দিতে।

জবানিতে মামুন বলেছেন, আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে এক পর্যায়ে হেলিকপ্টার এর মাধ্যমে আন্দোলনকে নজরদারি, গুলি করা ও ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে গোপন পরিকল্পনা করা হয়। মূলত রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়। আন্দোলন দমন করার উদ্দেশ্যে পরবর্তীতে সরাসরি লেথাল উইপেন -মরণাস্ত্র ও আন্দোলন প্রবন এলাকাগুলোতে এলাকা ভাগ করে ব্লক রেইড পরিচালনার সিদ্ধান্ত সরাসরি রাজনৈতিকভাবে নেয়া হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল নিজে আইজিপিকে জানান যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনার প্রেক্ষিতে আন্দোলন দমন করার জন্য লেথাল উইপেন ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয়। ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান ও ডিবি প্রধান হারুনুর রশিদ লেথাল উইপেন ব্যবহারে অতি উৎসাহি ছিলেন।

ব্যারিস্টার সারোয়ার হোসেন বলেন, প্রাণঘাতি অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশনা এসেছে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে। যা বাস্তবায়িত হয়েছে আইজিপির মাধ্যমে। চৌধুরী মামুনের জবানবন্দি পড়লে গা শিউরে উঠে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্বিঘ্নে গুলি চালানোয় বাসা-বাড়িতে থাকা শিশুরাও নিহত হন।

চৌধুরী মামুন তার জবানবন্দিতে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ফজলে নূর তাপস, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মির্জা আজম, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোঃ আলী আরাফাত, জাসদের সাধারন সম্পাদক হাসানুল হক ইনু এবং ওয়ার্কাস পার্টির রাশেদ খান মেনন মারনাস্ত্র ব্যবহার করে ছাত্র জনতার আন্দোলনকে নির্মূল করার জন্য শেখ হাসিনাকে পরামর্শ এবং উসকানি দিতেন।

দেশব্যাপী এত অধিক সংখ্যায় মানুষ মারা যাওয়ার পরেও তারা তাদের উসকানি বন্ধ করেননি কিংবা প্রধানমন্ত্রীকে থামতে বলেননি। সরকারকে বিপথে পরিচালিত করে ও আন্দোলনকে কঠোরভাবে দমন করার জন্য আওয়ামী লীগপন্থী বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, পুলিশ অফিসার সকলে আগ্রহী ছিলেন।

অ্যাডভোকেট এম. মাসুদ রানা বলেন, জুলাই আন্দোলনে যেসব নৃশংসতা দেখেছি ছাত্র-জনতার উপর, এই জবানবন্দির সঙ্গে তা মিলে যায়।

আইনজ্ঞরা বলছেন সাবেক আইজিপি চৌধুরী মামুনের  এই জবানবন্দি মামলা প্রমাণে সহায়ক হবে।

ব্যারিস্টার মো. সোলায়মান তুষার বলেন, এই জবানবন্দির ফলে ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার সহযোগীদের অপরাধ প্রমাণে সহায়ক হবে।

জুলাই গণ আন্দোলনে পতন হয় ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের। ৫ আগস্টের পর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার হন চৌধুরী মামুন।  তার জবানবন্দিতে উঠে এসেছে সর্বোচ্চ বল প্রয়োগ করেও ক্ষমতায় টিকে থাকতে চেয়েছিলেন স্বৈরাচার শেখ হাসিনা। কিন্তু ছাত্র- জনতার হার না মানা আন্দোলনে পতন হয় গত দেড় দশক ধরে দেশে ফ্যাসিজম আর উন্নয়নের মিথ্যে বয়ানের আড়ালে লুটপাটতন্ত্র কায়েমকারী স্বৈরাচার হাসিনার সরকারের।




স্ত্রীর মানসিক যন্ত্রণা সইতে না পেরে দর্জির আত্মহত্যা

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় স্ত্রীর অবহেলা ও সংসারের টানাপোড়েন সইতে না পেরে চিরকুট লিখে আত্মহত্যা করেছেন লোকমান সরদার (৩২) নামের এক দর্জি। শনিবার (১৬ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পাখিমারা বাজারসংলগ্ন একটি ভাড়া বাসা থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত লোকমান সরদার উপজেলার পশ্চিম সোনাতলা গ্রামের বাসিন্দা জাকির সরদারের ছেলে। পেশায় তিনি একজন দর্জি ছিলেন এবং পাখিমারা বাজারে নিজের দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। স্থানীয়রা জানান, পরিবারের ভেতরে নানান অশান্তি ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপে ভুগছিলেন তিনি।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুর আগে লোকমান একটি নোটপ্যাডে হাতে লেখা চিরকুট রেখে গেছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, স্ত্রী তাকে ভালোবাসেন না এবং সংসারে টাকার অভাবে অশান্তি লেগেই থাকত। এমনকি স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যেতে পারেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। মানসিক যন্ত্রণায় ক্লান্ত হয়ে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেই ওই চিরকুটে উল্লেখ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুয়েল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলেই ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয়দের অনেকে বলছেন, অর্থনৈতিক চাপ ও পারিবারিক সমস্যার কারণে বহু পরিবার ভেঙে যাচ্ছে এবং এর ফলে অনেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছেন। তারা মনে করছেন, এমন পরিস্থিতি এড়াতে পারিবারিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করা এবং মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পটুয়াখালীতে এটিএম বুথসহ ৩ দোকানে ডাকাতি

পটুয়াখালী শহরের সদর রোডে শুক্রবার দিবাগত রাতে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ফাস্টট্র্যাক এটিএম বুথসহ তিনটি স্থানে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এসময় এটিএম বুথের নিরাপত্তাকর্মীকে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর আহত করেছে ডাকাতদল। ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত সাড়ে ৩টার দিকে আদালতপাড়ার পাশে অবস্থিত ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ফাস্টট্র্যাক বুথে প্রবেশ করে একদল ডাকাত। তারা প্রথমেই নিরাপত্তাকর্মী মুজিবুরকে নির্দয়ভাবে মারধর করে এবং পরে তাকে কম্বল দিয়ে পেঁচিয়ে বুথের ভেতরের অন্ধকার কক্ষে ফেলে রাখে। এরপর বুথের টাকার মেশিন ভাঙচুর করে এবং একটি ল্যাপটপ নিয়ে দ্রুত সটকে পড়ে। গুরুতর আহত অবস্থায় নিরাপত্তাকর্মীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

একই রাত সাড়ে ৩টার কিছুক্ষণ পর সদর রোডের ফ্যাশন অপটিক্যাল নামের দোকানের তালা ভেঙে প্রায় দুই লাখ টাকা ও মালামাল নিয়ে যায় ডাকাতদল। দোকান মালিক জাকির হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বৃহস্পতিবার নতুন আনা সব মালামাল নিয়ে গেছে। আমি পথে বসে গেলাম।”

পরে রাত সাড়ে ৪টার দিকে শিকদার স্টোরেও একইভাবে তালা ভেঙে নগদ টাকা, সিসি ক্যামেরার মনিটর, রিচার্জ কার্ডসহ নানা মালামাল লুটে নেয় তারা। দোকানের মালিক কামরুল ইসলাম বলেন, “ফজরের নামাজের সময় খবর পাই দোকান ভেঙে সব নিয়ে গেছে। ফাঁড়ির একেবারে পাশেই ঘটনা ঘটেছে, তাহলে নিরাপত্তা কোথায়?”

এটিএম বুথের চ্যানেল অফিসার রিংকু জানান, “আমাদের নিরাপত্তাকর্মীর মাথায় আঘাত করে বেঁধে রাখা হয়েছে। বুথের মেশিন ভাঙচুর করে এবং ল্যাপটপ নিয়ে গেছে ডাকাতরা।”

ঘটনার পর পটুয়াখালী সদর থানার ওসি মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। খুব দ্রুতই জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।”

এই ধারাবাহিক ডাকাতির ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা চরম আতঙ্কে রয়েছেন। তারা নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন।


আল-আমিন



সাদাপাথর লুটপাটে পুলিশের জালে ৫

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর পর্যটন এলাকা থেকে পাথর লুটপাটের ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৫ আগস্ট) গভীর রাতে কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে তাদের আটক করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উজায়ের আল মাহমুদ আদনান।

তবে গ্রেফতারকৃতদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করতে পারেনি পুলিশ। জানা যায়, এর আগে একইদিন ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর এলাকা থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের অভিযোগে খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর (বিএমডি) মহা-পরিচালক ও যুগ্ম সচিব আনোয়ারুল হাবিব বাদী হয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাত ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে ধলাই নদীর তীরবর্তী সাদাপাথর এলাকায় একের পর এক পাথর চুরির ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে গত দুই সপ্তাহে কোটি কোটি টাকার পাথর লুটপাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব পাথর উদ্ধারে বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) মধ্যরাত থেকে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিশেষ অভিযান শুরু হয়।

এ অভিযানে ইতোমধ্যে প্রায় ১ লাখ ঘনফুট পাথর উদ্ধার করে পুনরায় ধলাই নদীতে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এখনো অভিযান চলমান রয়েছে এবং অবৈধ লুটপাটকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম