প্রেম নিয়ে বিরোধে কিশোরী ঊর্মীকে হত্যা, বাবা-মা ও ভগ্নিপতি গ্রেপ্তার

পটুয়াখালীর বাউফ‌লে প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে পারিবারিক বাগ্‌বিতণ্ডার জেরে মাত্র ১৪ বছরের কিশোরী ঊর্মী ইসলামকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার নিজের বাবা, মা ও ভগ্নিপতির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং আদালতে সোপর্দ করলে তারা হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

পুলিশ জানায়, স্থানীয় এক যুবকের সঙ্গে ঊর্মীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি পরিবার জানতে পারলে ২০ আগস্ট রাতে এ নিয়ে ঝগড়া বাঁধে। এক পর্যায়ে বাবা নজরুল ইসলাম, মা আসেনা বেগম ও ভগ্নিপতি কামাল হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে মেয়েটির গলা টিপে শ্বাসরোধ করেন। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ঊর্মীর। পরে লাশ গোপন করার চেষ্টা করা হয়।

জেলা পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (বাউফল সার্কেল) আরিফ মুহাম্মদ শাকুর বলেন, তদন্তে হত্যার সত্যতা পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার রাতে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার কথা স্বীকার করে। বুধবার (২৭ আগস্ট) আদালতে হাজির করা হলে তিনজনই ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

এর আগে গত শনিবার সকালে কনকদিয়া ইউনিয়নের বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে কুম্ভখালী খাল থেকে ঊর্মীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রথমে ঘটনাটি রহস্যজনক মনে হলেও পুলিশের ধারাবাহিক তদন্তে আসল চিত্র সামনে আসে।

বাউফল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, শুরু থেকেই বিষয়টি সন্দেহজনক ছিল। তদন্তে নানা প্রমাণ হাতে এলে অবশেষে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, এ হত্যাকাণ্ডে কিশোরীর বাবা, মা ও ভগ্নিপতি জড়িত।

স্থানীয়রা এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, পরিবার যে সন্তানের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়, সেই পরিবারেই যদি এভাবে প্রাণ দিতে হয়, তবে এটি সমাজের জন্য এক ভয়াবহ সতর্ক সংকেত।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সেজো ভাইয়ের চোখ উৎপাটনের ঘটনায় ছোট ভাই গ্রেপ্তার

বরিশালের উজিরপুর থেকে সেজো ভাইয়ের চোখ উৎপাটনের ঘটনায় ছোট ভাই স্বপন ব্যাপারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে গ্রেপ্তার হয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

মুলাদী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত স্বপন ব্যাপারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য বিশেষ অভিযান চলমান আছে।

ঘটনার ভুক্তভোগী রিপন ব্যাপারী বর্তমানে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চোখ উৎপাটনের বিষয়ে মুলাদী থানা পুলিশ এখনও মামলা নেনি, তবে ২৫ আগস্ট তার স্ত্রী নূরজাহান বেগম বাদী হয়ে স্বপন ব্যাপারী, রোকন ব্যাপারী, আর্শেদ ব্যাপারীসহ ৮ জনকে আসামি করে বরিশাল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।

ভুক্তভোগীর ছেলে শাহিন ব্যাপারী জানান, বাড়ির জমি মীমাংসা এবং গচ্ছিত টাকা-স্বর্ণালঙ্কার ফেরত চাওয়ার জেরে শুক্রবার রাতে তার বাবাকে ধরে নিয়ে তার দাদা আর্শেদ ব্যাপারীর উপস্থিতিতে চোখ তুলে দেওয়া হয়। ভিডিওতে দেখা গেছে, বাবার বুকে চেপে যাকে আঙুল দিয়ে বাম চোখ উৎপাটন করতে দেখা যায়, তিনি রোকন ব্যাপারী। বাবার পা চেপে ধরা ব্যক্তি স্বপন ব্যাপারী। উৎপাটিত চোখের সঙ্গে মারধর করেন রোকনের স্ত্রী নুরুন্নাহার বেগম ও মেয়ে সুবর্ণা আক্তার।

শাহিন আরও জানান, ঘটনার পর পরিবার আতঙ্কে আছে এবং এলাকায় যেতে পারছে না।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালে বাস-মাহিন্দ্রা শ্রমিক সংঘর্ষে আহত ৬

বরিশালের গৌরনদীতে বাস ও মাহিন্দ্রা শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দু’জনকে উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের বাটাজোর বাসস্ট্যান্ড এলাকায়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নথুল্লাবাদ এলাকায় যাত্রী তোলা নিয়ে মাহিন্দ্রা চালকের সঙ্গে বাস শ্রমিকদের কথা কাটাকাটি হয়। এসময় বাস শ্রমিকরা মাহিন্দ্রার পেছনে লাঠি দিয়ে আঘাত করে চালককে সরিয়ে দেয়। পরে ক্ষুব্ধ চালক হুমায়ুন অন্য শ্রমিকদের সঙ্গে নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখান। কিছুক্ষণ পর নথুল্লাবাদ থেকে ছাড়ানো এসআর পরিবহনের একটি বাস বাটাজোরে পৌঁছালে মাহিন্দ্রা শ্রমিকরা বাসে হামলা চালায়। এতে চালক, হেলপার ও সুপারভাইজার আহত হন। প্রতিবাদ করতে গেলে আরও দুইজন যাত্রীকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ বাস শ্রমিকদের।

ঘটনার জেরে ক্ষুব্ধ বাস শ্রমিকরা মহাসড়কে বাস আড়াআড়ি করে প্রায় আধা ঘণ্টা অবস্থান নিলে দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মাহিন্দ্রা চালক হুমায়ুন জানান, বাস শ্রমিকরাই প্রথমে তার মাহিন্দ্রা ভাঙচুর ও তাকে মারধর করে। এরপর উত্তেজিত শ্রমিকরা বাসটি আটকায়। তবে হামলা বা যাত্রী মারধরের ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে গৌরনদী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




চুরির মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা রেজাউল গ্রেপ্তার

ঢাকায় চুরির মামলার পলাতক আসামি বরিশালের গৌরনদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা সফিকুর রহমান রেজাউল সিকদার ও তার ব্যক্তিগত গাড়ির চালক জুয়েল হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন গৌরনদী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. মাহবুবুর রহমান। তিনি জানান, ঢাকার পল্লবী থানা পুলিশ গৌরনদী মডেল থানা পুলিশের সহযোগিতায় ২৭ আগস্ট উপজেলার খ্রিষ্টানপাড়ার একটি বাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে।

রেজাউল সিকদার গৌরনদী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের টরকী বন্দরের সুন্দরদী এলাকার মৃত হাবিবুর রহমান সিকদারের ছেলে। তিনি এর আগে গৌরনদী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান এবং পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী ছিলেন।

ঢাকার পল্লবী থানার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জয় দাস জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা মিরপুরের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অফিসে কেয়ারটেকারকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও কাগজপত্র ভর্তি ব্রিফকেস লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় কোম্পানির ম্যানেজার বাদি হয়ে থানায় মামলা করেন।

এর আগে রেজাউলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তার তৃতীয় স্ত্রীকে হত্যা করে লাশ গুমের চেষ্টা, নিজ পিতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, টরকী বন্দরে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ নানা অপরাধের ঘটনায় তার নাম উঠে এসেছে। তবে রহস্যজনকভাবে তিনি প্রতিবারই আইনের ফাঁক গলে রেহাই পেয়ে যান।

গত বছর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি নতুন বাংলাদেশ পার্টিতে (এনবিপি) যোগ দেন এবং সেখানে অতিরিক্ত রাজনৈতিক সম্পাদক পদে নামেমাত্র দায়িত্ব পালন করেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ভোলায় ব্যবসায়ী হত্যা: আবু কালামের যাবজ্জীবন

ভোলার মনপুরায় ব্যবসায়ী হত্যা মামলায় আবু কালাম নামের এক আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক শওকত হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর মনপুরা উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের চর ফৈজউদ্দীন গ্রামে ফকিরহাট বাজারের ব্যবসায়ী মো. আলাউদ্দীনকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। পরদিন নিহতের ভাই জাফর হোসেন বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে সাতজনের বিরুদ্ধে দুটি চার্জশিট দাখিল করা হয়।

ঘটনার পর গ্রেফতার হওয়া আসামি মো. আবু কালাম হত্যার দায় স্বীকার করেন। আদালত তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

চরফ্যাশন আদালতের অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট মো. আলী হিরণ সাংবাদিকদের জানান, এই রায়ের মাধ্যমে নিহত আলাউদ্দীনের পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




আবু সাঈদ হত্যা মামলা: সূচনা বক্তব্য শেষ, বৃহস্পতিবার থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার সূচনা বক্তব্য বুধবার শেষ হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) থেকে এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে।

ট্রাইব্যুনাল-২-এ চিফ প্রসিকিউটর মো. তাজুল ইসলাম মামলার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে সূচনা বক্তব্য দেন। এ সময় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরীসহ গ্রেফতার ৬ আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাকিদের মধ্যে সাবেক ভিসিসহ ২৪ আসামি পলাতক রয়েছেন।

এর আগে, ২৪ জুন তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা পড়ে এবং ৩০ জুন ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ আমলে নেয়। ২২ জুলাই চারজন আইনজীবী আসামিদের পক্ষে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। পরে, ৬ আগস্ট ৩০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করার আদেশ প্রদান করা হয়।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




আমতলীতে তানজিলা ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় হৃদয়কে মৃত্যুদণ্ড, জাহিদুলের ৫ বছর জেল

বরগুনার আমতলী উপজেলার পুজাখোলা গ্রামের মাদ্রাসা শিক্ষার্থী তানজিলাকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় আদালত কঠোর শাস্তি দিয়েছে। বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালত  মামলার প্রধান আসামী হৃদয়কে মৃত্যুদণ্ড দেন। অপর আসামী জাহিদুলকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আদালতের তথ্য অনুযায়ী, মামলার প্রমাণ ও সাক্ষ্য নিরীক্ষার পর বিচারকরা অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কার্যকর করেছেন। নিহত তানজিলার পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা ন্যায় বিচার প্রার্থনা করেছিলেন। আদালতের এই রায় তাদের জন্য কিছুটা স্বস্তির বার্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বরগুনা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, আসামী হৃদয় ও জাহিদুলের বিরুদ্ধে মামলাটি স্থানীয় পুলিশ তদন্তের মাধ্যমে আদালতে প্রমাণসহ উপস্থাপন করা হয়। মামলায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সাক্ষীদের জবানবন্দি এবং মামলার অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে এই রায় দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এ রায় হত্যাকাণ্ড ও নারীর নিরাপত্তা সংক্রান্ত সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে তারা আশা করছেন, ভবিষ্যতে এমন নৃশংস ঘটনা ঘটবে না এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




চরফ্যাসনে সুপারি পাড়াকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ১৫ আহত

বরিশালের চরফ্যাসনে গাছের সুপারি পাড়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) দুপুর ১২ টার দিকে ওমরপুর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের গরীব বেপারী বাড়িতে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন—সবুজ (৩৫), রুহুল আমিন (৬০), তানজিম (১৪), কবির (৪০), বিলকিস (৫০), মোরশেদা (৩০), হাসনাইন, নজরুল, খালেদা, লিমা, লিপি, মিনারা, আবুল হাসনাথ, মমতাজ (৩৫) এবং আপনান। আহতদের মধ্যে সবুজ ও রুহুল আমিনের মাথায় গুরুতর আঘাত থাকায় তারা চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, সংঘর্ষের পেছনে দীর্ঘদিনের জমিজমা ও পারিবারিক বিরোধ রয়েছে। গরীব বেপারী বাড়িতে ১৮–২০টি ঘর থাকায় উভয় পক্ষের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে সুপারি পাড়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজিত হয়ে আসছিলেন। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের প্রায় ২৫–৩০ জন অংশ নেয় এবং মারামারিতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিলেন। সংঘর্ষ থামাতে প্রায় ২৫–৩০ মিনিট লেগেছে।

আহত সানু বেপারী পক্ষের রুহুল আমিনের স্ত্রী কহিনুর বেগম জানান, “আমাদের দেবর কবির সুপারি পাড়ে বাধা দেয়ার কারণে আবুল হাসনাথ পক্ষের সদস্যদের সঙ্গে তর্কে জড়াই। এক পর্যায়ে মারামারি শুরু হয়।”

একই বাড়ির মিনারা বেগম বলেন, “সুপারি পাড়াকে কেন্দ্র করে এত বড় সংঘাত হওয়া কাম্য নয়। উভয় পক্ষই উত্তেজিত ছিল, যা বড় সংঘর্ষে রূপ নেয়।”

চরফ্যাসন থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) জানিয়েছেন, “উভয় পক্ষের অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




সিলেটে সাদা পাথর লুট: সরকারি কর্মকর্তাদের সাক্ষ্যসহ গণশুনানি

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জের সাদাপাথর পর্যটন কেন্দ্র ও রেলওয়ে বাংকার এলাকায় অবৈধ পাথর উত্তোলনের ফলে পরিবেশ ও নান্দনিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের গঠিত তদন্ত কমিটি গণশুনানি করেছে।

বুধবার সকালে সিলেট সার্কিট হাউজে শুরু হওয়া শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন তদন্ত কমিটির আহবায়ক ও মন্ত্রীপরিষদ সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) জাহেদা পারভীসসহ অন্যান্য সদস্যরা। গণশুনানিতে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া পরিবেশবাদী সংগঠন, ট্রাক পরিবহন মালিক সমিতি, পাথর ব্যবসায়ী সমিতি ও প্রেসক্লাবের প্রতিনিধিরাও তাদের বক্তব্য প্রদান করেন।

মন্ত্রীপরিষদ গঠিত এই উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি মঙ্গলবার থেকে কার্যক্রম শুরু করেছে। কমিটি সরেজমিনে সাদাপাথর এলাকা পরিদর্শন করেছে।

গত ২০ আগস্ট মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের উদ্যোগে গঠিত এই তদন্ত কমিটি, দুদকের প্রাথমিক প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে কাজ করছে। দুদকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সাদাপাথর লুটে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাসহ ৫৩ জনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। এতে বিভাগীয় কমিশনার, ডিসি, এসপি, ইউএনও, ওসি-সহ অন্যান্যদের নাম অভিযুক্ত করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজনৈতিক নেতা ও ব্যবসায়ীদের লুটপাটে জড়িত থাকার কারণে ৪২ জনের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নিষ্ক্রিয়তা ও যোগসাজশে পাথর লুটের ঘটনা সম্ভব হয়েছে। জেলা প্রশাসনের নিজস্ব তদন্ত কমিটিও প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এতে শতাধিক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে, যদিও তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




নির্বাচনকালীন সরকার ইস্যুতে স্থায়ী সমাধান চায় আপিল বিভাগ

প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেছেন, নির্বাচনকালীন সরকার ইস্যুতে সাময়িক নয়, কার্যকর ও স্থায়ী সমাধান চায় আপিল বিভাগ। তিনি বলেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে দিয়ে আমরা অস্থায়ী সমাধান চাই না। এমন একটি সমাধান চাই যা ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বারবার বিঘ্নিত করবে না এবং সুদূরপ্রসারী প্রভাব রাখবে।”

বুধবার (২৭ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) আবেদনের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি এ মন্তব্য করেন।

তিনি আরও প্রশ্ন রাখেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা যদি ফিরিয়ে দেওয়া হয়, তবে তা কখন থেকে কার্যকর হবে।

শুনানির অগ্রগতি

সকাল ৯টা ৩৫ মিনিট থেকে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে সাত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ দ্বিতীয় দিনের শুনানি শুরু করে। আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

এর আগে মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) প্রথম দিনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

পটভূমি

১৯৯৬ সালে সংবিধানের ১৩তম সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত হয়। তবে এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মামলা হলে ২০১১ সালের ১০ মে আপিল বিভাগ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে এ ব্যবস্থা বাতিল ঘোষণা করে। এরপর পাস হয় সংবিধানের ১৫তম সংশোধনী।

তবে পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এ রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও ব্যক্তিরা। এর মধ্যে আছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ আরও কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি।