নিরাপত্তা শঙ্কায় থানায় জিডি, আতঙ্কে হাদির পরিবার

নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন শহীদ ওসমান হাদির মেঝো ভাই ওমর বিন হাদি। দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাহীনতা, হত্যার আশঙ্কা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের শিকার হওয়ায় বাধ্য হয়ে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা চান।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর শাহবাগ থানায় এই জিডি করা হয়। জিডিতে ওমর বিন হাদি উল্লেখ করেন, ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তিনি এবং হাদির সন্তান চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এখনো হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল অপরাধী চক্র গ্রেপ্তার না হওয়ায় যে কোনো সময় তাদের ওপর হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

জিডির বিবরণে বলা হয়, হত্যার ঘটনার পর থেকে পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একাধিক গ্রুপ ও ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে পরিবারের সুনাম নষ্ট করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে ওমর বিন হাদিকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।

ওমর বিন হাদি জিডিতে আরও জানান, এসব হুমকি ও অপপ্রচারের কারণে তিনি এবং হাদির সন্তান মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। স্বাভাবিক জীবনযাপন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কায় তারা সার্বক্ষণিক আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

এ বিষয়ে রমনা জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম বলেন, ওসমান হাদির পরিবারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা শঙ্কার কথা উল্লেখ করে শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ সূত্র জানায়, জিডির ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। হুমকি ও অপপ্রচারের পেছনে কারা জড়িত, তা শনাক্ত করতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তাও নেওয়া হতে পারে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




গৌরনদীতে প্রচারণায় উত্তেজনা, স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ

বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনের নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে গৌরনদীতে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহানের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অন্তত তিনজন আহত হওয়ার দাবি করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে গৌরনদী উপজেলার শরিকল বাজার ও আশপাশের এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন শাহ আলম ফকির, আনিস ফকির ও কামাল। স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের দ্রুত গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান অভিযোগ করে বলেন, শুক্রবার জুমার নামাজের আগে শরিকল বাজার এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা ও লিফলেট বিতরণ চলাকালে বিএনপি প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপনের সমর্থকরা অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তার কর্মীদের কাছ থেকে লিফলেট ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ধস্তাধস্তি ও মারধরের ঘটনা ঘটে।

তিনি আরও জানান, ঘটনার পরপরই গৌরনদী মডেল থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। পরে বিষয়টি রিটার্নিং কর্মকর্তার নজরে আনা হয়েছে। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

এ বিষয়ে বিএনপি প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির একটি খবর তারা পেয়েছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

এদিকে নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে এ ধরনের সহিংসতার ঘটনায় স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে প্রচারণা ও নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে সচেতন মহল প্রশাসনের কঠোর ভূমিকা প্রত্যাশা করছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




৫০ কোটি টাকার মানহানি মামলায় কুমার শানুর পক্ষে রায়

ভারতের প্রখ্যাত প্লেব্যাক গায়ক কুমার শানুকে ঘিরে দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত জীবনের বিতর্কে এবার আইনি রায় এলো। প্রাক্তন স্ত্রী রীতা ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে দায়ের করা ৫০ কোটি টাকার মানহানি মামলায় আদালত কুমার শানুর পক্ষেই রায় দিয়েছেন। একইসঙ্গে আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, ভবিষ্যতে কুমার শানুকে নিয়ে কোনো ধরনের মানহানিকর বা বিরূপ মন্তব্য করতে পারবেন না রীতা ভট্টাচার্য।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সাক্ষাৎকারে কুমার শানুর বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তুলেছিলেন তার প্রাক্তন স্ত্রী। এসব মন্তব্যে গায়কের ব্যক্তিগত জীবন, সামাজিক মর্যাদা এবং পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে আদালতে দাবি করেন কুমার শানু।

রীতা ভট্টাচার্য একাধিক সাক্ষাৎকারে অভিযোগ করেছিলেন, বিয়ের পর তিনি অন্তঃসত্ত্বা থাকাকালীন সময়েই কুমার শানু বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং সে সময় তাকে চরম মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন দাবি করে আদালতের দ্বারস্থ হন জনপ্রিয় এই গায়ক।

কুমার শানুর আইনজীবী আদালতে জানান, প্রাক্তন স্ত্রীর এসব প্রকাশ্য মন্তব্যের কারণে গায়কের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে, কাজের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি হয়েছে এবং তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া মানহানিকর সাক্ষাৎকার ও মন্তব্যগুলো অপসারণের আবেদনও জানানো হয়।

মামলার শুনানিকালে রীতা ভট্টাচার্য আদালতে মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করেছিলেন বলে জানা গেছে। তবে আদালত বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে কুমার শানুর অভিযোগ আমলে নেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের মন্তব্য থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে এমন মন্তব্য অন্যের সম্মান ও মর্যাদায় আঘাত হানতে পারে।

এই বিতর্কের সূত্রপাত ঘটে অভিনেত্রী কুনিকা সদানন্দের একটি মন্তব্যকে ঘিরে। একটি রিয়েলিটি শোতে অংশ নিয়ে কুনিকা অতীতে কুমার শানুর সঙ্গে তার সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে উল্লেখ করেন। এরপরই বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে এবং তার ধারাবাহিকতায় রীতা ভট্টাচার্যের বক্তব্য গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

আইনি এই রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের আলোচিত এই ব্যক্তিগত বিরোধে আপাতত ইতি টানল আদালত। সংশ্লিষ্টদের মতে, তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রকাশ্য মন্তব্য ও অভিযোগের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




মুছাব্বির হত্যায় আরেক শুটার গ্রেপ্তার, অস্ত্র উদ্ধার

রাজধানীতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান ওরফে মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় আরও এক ধাপ এগোল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এই মামলার অন্যতম শুটার রহিমকে নরসিংদী থেকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মুছাব্বির হত্যা মামলার তদন্তে ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে নরসিংদী জেলার একটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে রহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রও জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের ধরতে ডিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল এবং এতে একাধিক ব্যক্তি সরাসরি জড়িত ছিল। গ্রেপ্তার হওয়া শুটার রহিমকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার পেছনের মূল পরিকল্পনা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত তথ্য এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না বলে জানায় পুলিশ প্রশাসন। তবে আগামী দিনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পুরো ঘটনার বিবরণ তুলে ধরা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

এর আগে এই মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছিল ডিবি পুলিশ। গত ১০ জানুয়ারি মানিকগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে জিন্নাতকে, আব্দুল কাদির ও মো. রিয়াজকে আটক করা হয়। তদন্তে উঠে আসে, হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিল এবং তাদের মধ্যে পেশাদার শুটারও ছিল।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত ৭ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ৮টা ২০ মিনিটে রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সের পেছনে স্টার হোটেলের সামনে মুছাব্বিরকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড রাজধানীতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

পরদিন ৮ জানুয়ারি নিহতের স্ত্রী সুরাইয়া আক্তার তেজগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়। ঘটনার পর থেকেই গোয়েন্দা পুলিশ বিভিন্ন সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে এবং ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে একের পর এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, মুছাব্বির হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। কোনো অপরাধীই ছাড় পাবে না—এমন আশ্বাস দিয়ে পুলিশ প্রশাসন বলছে, রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ওয়েবসাইটে দেখা যাবে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ:মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে ৪৫৭ পৃষ্ঠার দলিলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড দিয়ে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে।

প্রসঙ্গত, বিগত বছরের ১৭ নভেম্বর বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফাঁসির আদেশ ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়।

এর আগে, গত ১ জুন শেখ হাসিনাসহ এই তিন আসামির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। আনুষ্ঠানিক অভিযোগে এই তিন আসামির বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়।

অভিযোগগুলো হলো— গত বছরের ১৪ জুলাই গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান; হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের নির্মূল করার নির্দেশ প্রদান; রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা; রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় ছয় আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা এবং আশুলিয়ায় ছয়জনকে পোড়ানোর অভিযোগ। এই পাঁচ অভিযোগে তিন আসামির বিরুদ্ধে গত ১০ জুলাই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল।

সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান পলাতক হলেও সাবেক আইজিপি মামুন এ মামলার একমাত্র গ্রেফতারকৃত আসামি। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের দিন (১০ জুলাই) সাবেক আইজিপি মামুন গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। এদিন রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদনও করেন তিনি।




পটুয়াখালীতে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ডিভাইসসহ পরীক্ষার্থী আটক

পটুয়াখালীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষার স্বচ্ছতা নষ্টের অভিযোগে এক নারী পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। তার কাছ থেকে অবৈধ ইলেকট্রনিক ডিভাইস, সিম কার্ড ও প্রবেশপত্র জব্দ করা হয়।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে পটুয়াখালী পৌরসভাধীন পিটিআই ভবনের ১ নম্বর কক্ষে এই ঘটনা ঘটে। দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের সন্দেহজনক আচরণ চোখে পড়লে ওই পরীক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে দেহ তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস (VIP Pro Max No-20260918), একটি সিম কার্ড এবং পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড উদ্ধার করা হয়।

আটক পরীক্ষার্থীর নাম মোসা. সুমাইয়া বেগম (২৫)। তিনি কলাপাড়া উপজেলার লোন্দা এলাকার বাসিন্দা মো. নূরুল ইসলামের মেয়ে। সুমাইয়া বেগম ওই কেন্দ্রে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কেন্দ্রে উপস্থিত হন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আকিব রায়হান। তিনি ঘটনাস্থলেই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। শুনানি শেষে মোবাইল কোর্ট আইন অনুযায়ী এবং দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ১৮৮ ধারায় অভিযুক্ত পরীক্ষার্থীকে তিন দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা জালিয়াতি বরদাস্ত করা হবে না। পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে জেলা জুড়ে কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা

জনশৃঙ্খলা ও সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে রাজধানী ঢাকার কয়েকটি অতি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ ও গণজমায়েত নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে একটি আনুষ্ঠানিক গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্সের ২৯ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আগামী ১০ জানুয়ারি ২০২৬, শনিবার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।

ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রধান বিচারপতির সরকারি বাসভবন এলাকা, বিচারপতি ভবন, জাজেস কমপ্লেক্স, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের প্রধান গেট, মাজার গেট, জামে মসজিদ গেট, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ও ট্রাইব্যুনাল-২-এর প্রবেশপথ এবং বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবনের সামনের এলাকা। এসব স্থানে কোনো ধরনের সভা, সমাবেশ, গণজমায়েত, মিছিল, মানববন্ধন, অবস্থান কর্মসূচি বা শোভাযাত্রা আয়োজন করা যাবে না।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিভিন্ন দাবি-দাওয়া বা প্রতিবাদ কর্মসূচির নামে ইচ্ছামতো সড়ক অবরোধ করে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকতে সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ জানানো হচ্ছে। নগরবাসীর স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করা এবং জনদুর্ভোগ কমানোর বিষয়টি মাথায় রেখেই এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ডিএমপি জানায়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখাই এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য। নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জাতীয় পার্টি ও গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের বিরুদ্ধে রিট

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পতিত ফ্যাসিস্ট এর সহচর  জাতীয় পার্টি (জিএম কাদের) এবং জাতীয় পার্টির (একাংশ) আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও জেপির আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের (এনডিএফ) প্রার্থীদের অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে।

জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ভোলার বাসিন্দা আবদুল্লাহ আল মাহমুদ রিটটি দায়ের করেন। রিটকারীর আইনজীবী এ এস এম শাহরিয়ার কবির জানান, আজ বুধবার রিটটির শুনানি হতে পারে।

রিটে আইন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশন সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।

এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির (জিএম কাদের) অংশ ২৪৩টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। গত ২৬ ডিসেম্বর গুলশানের লেকশোর হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দলের মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে জাতীয় পার্টি (আনিসুল ইসলাম) ও জেপির নেতৃত্বে গঠিত নতুন রাজনৈতিক জোট জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট ১১৯টি আসনে ১৩১ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। গত ২৩ ডিসেম্বর রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনের বলরুমে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির নির্বাহী চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চুন্নু প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন।




রাঙ্গাবালী ও গলাচিপায় নদী থেকে ৩৩ লাখ টাকার অবৈধ জাল ধ্বংস

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী ও গলাচিপা উপজেলায় বিশেষ অভিযান “কম্বিং অপারেশন–২০২৬” এর আওতায় নদী ও খালে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল জব্দ করা হয়েছে। এই অভিযান চলাকালীন ধ্বংস করা জালের বাজারমূল্য প্রায় ৩৩ লাখ টাকা বলে জানানো হয়েছে।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) দিনব্যাপী অভিযান পরিচালনা করে রাঙ্গাবালী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় ও গলাচিপার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়। অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।

অভিযানটি রাবনাবাদ নদী, জাহাজ মারা, মায়ার চর ও সোনার চর এলাকায় বিশেষভাবে চালানো হয়। এসময় নিষিদ্ধ বেহুন্দি ও চরঘেরা জাল জব্দ করা হয়। পরে স্থানীয় জনগণের উপস্থিতিতে এসব জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়, যা নদীতে বৈধ মাছ আহরণের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, ইলিশসহ মাছের প্রজনন ও সংরক্ষণের জন্য এই ধরনের অভিযান অত্যন্ত জরুরি। নিয়মিত অভিযান চালিয়ে নদীতে অবৈধ জালমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে তারা কাজ করে যাচ্ছেন।

স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা এই ধরনের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলেন, নদী ও মাছের প্রজনন রক্ষা করতে এমন অভিযান আরও জোরদার করা উচিত। মৎস্য বিভাগও জানাচ্ছে, অবৈধ জাল জব্দ ও ধ্বংসের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কুয়াকাটায় ভাড়া বাসায় গৃহবধূর গলাকাটা মরদেহ, স্বামী আটক

পটুয়াখালীর পর্যটন শহর কুয়াকাটায় ভাড়া বাসা থেকে এক কিশোরী গৃহবধূর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিহত গৃহবধূর নাম আরিফা আক্তার (১৭)। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার স্বামী রিফাত (২১)-কে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে কুয়াকাটা পৌর এলাকার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কুয়াকাটা গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত আরিফা আক্তার বরিশাল জেলার বায়োরগাতি এলাকার আ. খালেক হাওলাদারের মেয়ে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত প্রায় চার মাস ধরে স্বামী-স্ত্রী ওই এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। রিফাত স্থানীয় একটি রেস্তোরাঁয় কর্মরত ছিলেন। প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের সংসারে প্রায়ই পারিবারিক কলহ ও ঝগড়াঝাঁটি লেগে থাকত, যা নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা ছিল।

ঘটনার রাতে হঠাৎ করে ওই বাসা থেকে কান্নাকাটির শব্দ শুনতে পান আশপাশের লোকজন। পরে প্রতিবেশীরা ঘরের ভেতরে ঢুকে আরিফা আক্তারকে রক্তাক্ত ও নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। বিষয়টি দেখে সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে মহিপুর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে। ওই সময় স্বামী রিফাতকে ঘরের কাছেই পাওয়া যায়। পরিস্থিতি সন্দেহজনক হওয়ায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা আক্কাস বলেন, রাতের নিরবতা ভেঙে হঠাৎ কান্নার শব্দ শুনে সবাই ছুটে আসে। ঘরের ভেতরের দৃশ্য ছিল ভয়াবহ। আরিফা নিথর হয়ে পড়ে ছিল। আরেক বাসিন্দা শহিদ জানান, তিনি ঘুমের মধ্যেই কান্নার শব্দে জেগে ওঠেন। বাইরে এসে দেখেন এলাকায় মানুষের ভিড়, পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহব্বত খান জানান, ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি অত্যন্ত সন্দেহজনক মনে হচ্ছে। সঠিক রহস্য উদঘাটনে সিআইডির একটি টিমকে অবহিত করা হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্ন করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো কুয়াকাটা এলাকায় শোকের পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম