বরগুনায় সন্তান হত্যাকারীদের বিচারের দাবীতে মা’য়ের আহাজারি

অর্ণব শরীফ (বরগুনা): বরগুনায় আলোচিত কিশোর সুজন হৃদয় হত্যাকারীদের ন্যায় বিচার ও শাস্তির দাবীতে বরগুনায় মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে হৃদয়ের মা’ ফিরোজা বেগম, স্কুল কলেজ ছাত্র ছাত্রী ও এলাকাবাসী। (৫,আগষ্ট) শনিবার বেলা-১১ টায় প্রেসক্লাব চত্তরে মানববন্ধন ও সমাবেশে হৃদয়ের মায়ের আর্তনাদে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে।

এসময় তিনি অভিযোগ করেন,আদালতে প্রকাশ্যে আসামীরা আমাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। বরগুনাবাসী আর সাংবাদিকদের স্বাক্ষী রেখে বলে গেলাম, ছেলের মত আমাকেও আসামীরা যে কোন মুহূর্তে হত্যা করতে পারে।

ফিরোজা বেগম বলেন,মামলার আসামী প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, আমাকে মামলার তদবির না করার জন্য বারবার হুমকি দিচ্ছে।

২০২০ সালের ঈদুল ফেতরের দিন বিকেলে ৬নং বুড়িরচর ইউনিয়নের গোলবুনিয়া এলাকার পায়রা নদীর পাড়ে হৃদয়কে পূর্ব শত্রুতার জেরধরে পরিকল্পিত ভাবে দেশীয় অস্র দিয়ে শতশত মানুষের সামনে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

হৃদয়ের মা গৃহপরিচারিকা ফিরোজা বেগম বাদী হয়ে ১৯ জন কিশোরসহ ২৮ জনের বিরুদ্বে মামলা দায়ের করে। উচ্চ আদালত থেকে জামিনে এসে মামলা তুলে নেয়ার জন্য আসামীরা বাদীকে হুকমি দিচ্ছেন বলে বক্তারা মানববন্ধনে জানান।




তোশাখানা মামলায় ইমরান খানের ৩ বছরের কারাদণ্ড, গ্রেপ্তার

তোশাখানা দুর্নীতি মামলায় পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। রায় ঘোষণার পর তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়। এ রায়ের কিছুক্ষণের মধ্যেই লাহোর থেকে ইমরান খানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

শনিবার ইসলামাবাদের একটি আদালত তোশাখানা মামলায় ইমরান খানকে দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় দেন। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ রুপি অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রাষ্ট্রীয় কোষাগার তোশাখানার মালামাল অবৈধভাবে আত্মসাৎ ও তথ্য গোপন করার অভিযোগে ইমরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে দেশটির নির্বাচন কমিশন। গত ১০ মে এ মামলায় তাকে অভিযুক্ত করা হয়।

আজ ইসলাবামাদের আদালতে তোশাখানা মামলার রায় ঘোষণার সময় আদালতে হাজির ছিলেন না ইমরান খান। তাঁর আইনজীবীরাও আদালতে ছিলেন না। ওই মামলায় তাঁর ‘দুর্নীতিচর্চা’ প্রমাণিত হয়েছে উল্লেখ করে আদালত তাঁকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তাঁকে ১ লাখ পাকিস্তানি রুপি জরিমানা করা হয়।

এদিন দুপুরে আদালতের রায় ঘোষণার পরপরই লাহোরের জামান পার্কের বাসভবন থেকে তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তার করে পাঞ্জাব পুলিশ। শনিবার টুইটবার্তায় পিটিআই জানায়, ‘ইমরান খানকে গ্রেপ্তার করে কোট লাখপত জেলে নেওয়া করা হচ্ছে।’

আইন বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এ মামলায় দণ্ডিত হওয়ায় নভেম্বরের শুরুতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনে ইমরান খানের অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা শেষ হয়ে যেতে পারে।




বরগুনায় ১২ বছর আগের হত্যা মামলায় বরখাস্ত হলেন ইউপি চেয়ারম্যান

বরগুনার বামনায় ১২ বছর আগের হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সাইদুর রহমান সবুজ নামে এক ইউপি চেয়ারম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকৃত সাইদুর রহমান সবুজ উপজেলার বুকাবুনিয়া ইউনিয়নের বর্তমান ও তৎকালীন চেয়ারম্যান।

বুধবার (২ আগস্ট) পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জেসমিন প্রধান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ নির্দেশনা দেয়। আরও একটি চিঠিতে কেন তাকে চূড়ান্তভাবে অপসারণ করা হবে না তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত চেয়ারম্যানকে আগামী ১০ দিনের মধ্যে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে চিঠির জবাব দিতে বলা হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালে ২২ মার্চ বামনা উপজেলার বুকাবুনিয়া ইউনিয়নের শিংড়াবুনিয়া গ্রামে মো. হাবিবুর রহমান সিকদার নামে এক ব্যক্তিকে চোর সন্দেহে আটক করে গ্রামবাসী। বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী ওই ব্যক্তিকে নির্যাতনের পর ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যায়। সেখানে চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান সবুজ ও তার সহযোগীরা ওই ব্যক্তিকে পুনরায় বেধড়ক মারধর করে। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর সেই ঘটনায় চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততা রয়েছে এবং সিআইডির তদন্তে তিনিই প্রধান আসামি উল্লেখ করে বুকাবুনিয়া ইউনিয়নের বড় তালেশ্বর গ্রামের মো. লিটন মোল্লা নামে এক ব্যক্তি স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব বরাবর তার অপসারণ দাবি জানিয়ে একটি আবেদন করেন।




বরগুনায় শ্যালিকাকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে দুই শিশুকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ

অর্ণব শরীফ (বরগুনা): শ্যালিকাকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে দুই শিশুকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ইলিয়াস পহলান (৩০) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (৩ আগস্ট) দিনগত রাতে সদর উপজেলার রোডপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত দুই শিশুর নাম- হাফিজুর (১৩) ও তাইফা (৩)। নিহত হাফিজুল একই এলাকার গোলাম খবিরের ছেলে ও তাইফা আহত রিগানের মেয়ে। এছাড়া গুরুতর আহত রিগান আক্তারকে চিকিৎসার জন্য বরিশালের শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে।

ইলিয়াস পহলান সদর উপজেলার পূর্ব কেওড়াবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আহত রিগানের আপন বড় বোনের স্বামী।

পুলিশ জানায়,  বড় বোনের সঙ্গে বিচ্ছেদ হলেও দীর্ঘদিন ধরে রিগানকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল ইলিয়াস। বৃহস্পতিবার রাতে খাবার খেয়ে রিগান, তার কন্যা তাইফা ও প্রতিবেশী হাফিজুলকে নিয়ে বাড়িতে ঘুমাচ্ছিলেন। গভীর রাতে ওই বাড়িতে গিয়ে ইলিয়াস রিগানের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করতে না পেরে রিগানকে কুপিয়ে জখম করে ইলিয়াস। এ সময় জেগে গেলে দুই শিশুকেও কুপিয়ে পালিয়ে যায় ইলিয়াস। ঘটনাস্থলে শিশু হাফিজুলের মৃত্যু হয় এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাইফা মারা যায়।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আবদুল হালিম বলেন, অভিযুক্ত ইলিয়াস পহলানকে আটক করা হয়েছে। ভুক্তভোগী নারীকে গুরুতর জখম অবস্থায় উদ্ধার করে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।