স্বরূপকাঠিতে মাদ্রাসা ছাত্রকে পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগে বৃদ্ধকে পা বেঁধে ঝুলিয়ে নির্যাতন

পিরোজপুর প্রতিনিধি: স্বরূপকাঠি উপজেলায় দ্বিতীয় শ্রেনীর এক মাদ্রাসা ছাত্রকে পাশবিক নির্যাতনের  দায়ে মো. জাকির হোসেন (৫২) নামের এক বৃদ্ধকে পা বেঁধে ঝুলিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার আটঘর—কুড়িয়ানা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়াডের্র উত্তর মাহমুদকাঠি গ্রামে। জানা গেছে ওই গ্রামের মাদ্রাসা পড়ুয়া ৯ বছর বয়সের ছেলেকে একই এলাকার দিনমজুর জাকির হোসেন বিভিন্ন সময় নানা প্রলোভন দেখিয়ে বলাৎকার করে আসছিলো। ছেলেটি সপ্তাহখানেক পূর্বে ঘটনাটি তার পরিবারকে জানায়। এনিয়ে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি এলাকার কয়েকজন গন্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে জানিয়ে বিচার দাবী করেন। তারা এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ না নিলে শিশুটির পরিবার ক্ষিপ্ত হয়ে গত তিনদিন ধরে জাকিরকে খুঁজতে থাকে।  বুধবার ভোররাতে জাকির ভয়ে তাদের বাড়ি সংলগ্ন মাহমুদকাঠি ইছামউদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেয়।

সকালে খবর পেয়ে শিশুটির পিতা ও দাদা ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে জাকিরকে তালাবদ্ধ করে রাখে। জাকির নিজেকে রক্ষার্থে জানালা ভেঙ্গে পালিয়ে যাবার চেষ্টাকালে জাকিরকে দু’ পা বেঁধে বিদ্যালয়ের বারান্দায় ঝুলিয়ে লাঠি দিয়ে নির্যাতন চালায়।

পরে স্থানীয়রা আহত জাকিরকে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। এ ব্যাপারে জাকারিয়ার সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি তার স্ত্রীকে চিকিৎসা করাতে বরিশালে আছেন বলে জানান।

শিশুটির দাদা নির্যাতনের কথা স্বীকার করে বলেন জাকির খুব খারাপ লোক কেউ তার বিচার না করায় আমরা তাকে মেরেছি। তাকে মারার সময় আমার পুত্রবধু আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন।

নির্যাতনের শিকার জাকির হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি শিশুটিকে আদর করেছি মাত্র।  স্থানীয় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিঠুন হালদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, উভয় পরিবারের সাথে কথা বলেছি। এ ধরনের ঘটনার বিচার করা আমাদের এখতিয়ারের বাইরে। তবে পুলিশের মাধ্যমে জাকিরকে বিচারের আওতায় আনা যেতো। কিন্তু তাকে এভাবে অমানবিক নির্যাতন করাটা ঠিক হয়নি।




পটুয়াখালীতে শিশু ধর্ষণের চেষ্টা, অভিযুক্ত কারাগারে

মো: আল-আমিন ( পটুয়াখালী):  পৌর এলাকার টাউন জৈনকাঠিতে শিশু ধর্ষণ চেষ্টায় বশির মৃধা(৫০)নামে দুই সন্তানের জনককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ভিকটিমের বাবা মো. মিজানুর রহমান বাদী হয়ে পটুয়াখালী থানায় একটি মামলা করেছেন, মামলা নং ৮/২৩। সদর থানায় পুলিশ অভিযুক্তকে বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করলে আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণ করেন।

ভিকটিম শিশুকে উদ্ধার করে মেডিকেল পরীক্ষা শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছেন পুলিশ। পটুয়াখালী পৌর এলাকার টাউন জৈনকাঠির হাওলাদার বাড়ীতে এমন ঘটনা ঘটে। সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জসীম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম দ্বিতীয় শ্রেনীর ছাত্রী। ৯ আগষ্ট দুপুরে অঝোরে বৃষ্টিপাত শুরু হলে বাড়ীর আঙিনায় খেলা করছিল। এসময় অভিযুক্ত বশির মৃধা তার ঘরে নিয়ে যান এবং ধর্ষনের চেষ্টায় লিপ্ত হন। পরবর্তীতে ভিকটিম ভয়ে ভীত হয়ে চিৎকার করলে বাড়ীর অন্যান্যরা এগিয়ে আসেন।স দর থানার ওসি মোহাম্মদ জসীম বলেন ভিকটিমের মেডিকেল পরীক্ষা শেষে তার পরিবারের কাছে হস্তান্ত করা হয়েছে।




৯৯৯ এ কলে ভোলায় পুলিশের হস্তক্ষেপে বন্ধ হলো বাল্যবিয়ে, রক্ষা পেলো কিশোরীর ভবিষ্যৎ

তৈয়বুর রহমান (ভোলা): ভোলায় দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নে বাল্য বিবাহ বন্ধ করে দিয়েছে ভোলা সদর মডেল থানা পুলিশ।  ৯৯৯ এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল সদরের দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামের মিরা বাড়িতে গিয়ে বিয়ে বন্ধ করে।

মঙ্গলবার মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণীতে পড়ুয়া অপ্রাপ্তবয়স্ক এক কিশোরীকে তার মতামত ছাড়াই বিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে পরিবারের সদস্যরা। একই জেলার দৌলতখান উপজেলার দক্ষিণ জয়নগর গ্রামের নিজাম উদ্দিনের ছেলে জামালের সাথে বিয়ে ঠিক করে। বিষয়টি এলাকায় জানা জানি হলে দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের এক চৌকিদার বিয়েটি বন্ধ করার জন্য ৯৯৯ -এ কল দেয় এবং বিষয়টি পুলিশকে জানায়। পরে ভোলা সদর মডেল থানার এসআই মোঃ নোমান ঘটনাস্থলে গিয়ে বিয়ে বন্ধ করে।সেই সাথে মেয়ের বাবা ও মা যেন এই ধরনের কাজ ভবিষ্যতে না করে তার জন্য তাদের কাছ থেকে মুচলেখা নেয়।

এদিকে মেয়ের বাবা তার ভুল বুঝতে পেরেছেন এমনটাই সাংবাদিকদের তিনি জানান।সে পুলিশকে মুচলেকা দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, বাল্য বিবাহ দেয়া একটি দন্ডনীয় অপরাধ এটা আমি পুলিশের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। এখন থেকে আমার মেয়ে যতদূর পড়তে চায় আমি পড়াবো এবং মেয়ে প্রাপ্ত বয়স্ক হলে ওর মতামত নিয়েই বিয়ে দিবো।




হৃদয় কবিরাজের হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে বাউফলে মানববন্ধন

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): বাউফলে নবারুণ সার্ভে অ্যান্ড পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থী হৃদয় কবিরাজের হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, এলাকাবাসী ও পরিবারের সদস্যরা।

আজ বুধবার দুপুরে পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন তারা।

ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রী ও এলাকাবাসী অংশগ্রহণ করেন। শিক্ষার্থী হৃদয় কবিরাজকে হত্যাকারী জাফর, কাওসার মৃধা, আবু বকর ও রাকিব প্যাদা ওরফে নয়নসহ জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শান্তি দাবি করেন তারা।

অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, হৃদয় কবিরাজের বাবা হরেন্দ্র কবিরাজ, কাকা আদিত্য কবিরাজ, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, কিশোর ও আবির প্রমূখ।

হৃদয় কবিরাজ বাউফল উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়নের দাসপাড়া গ্রামের বাসিন্দা হরেন্দ্র কবিরাজের একমাত্র ছেলে।

থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও তার সহপাঠীরা জানান, হৃদয় ১১ জুলাই পরীক্ষা শেষে পটুয়াখালী থেকে বাড়িতে যায় সন্ধ্যা ৬ টার দিকে। পরে মোটরসাইকেল নিয়ে নিজের ব্যবসার কাজে বের হন। বাসায় ফিরতে বিলম্ব হওয়ায় রাতে পৌনে ১২টার দিকে তাঁর বাবা ছেলেকে মুঠোফোনে কল করে দ্রুত বাড়ি ফেরার কথা বলেন, কিছুক্ষণের মধ্যেই বাড়ি ফিরবেন বলে হৃদয় জানান। ওই রাতে হৃদয় বাড়ি ফেরেননি। পরে ওই রাতে একাধিকবার কল করলে হৃদয়ের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরের দিন সকাল নয়টার দিকে হৃদয় তাঁর মুঠোফোন নম্বর থেকে বাবা হরেন্দ্র নাথের মুঠোফোনে কল করে জানান, তিনি পটুয়াখালী আছেন। এরপর আর হৃদয়ের সাথে আর যোগাযোগ করা যায়নি।
এ ঘটনায় হৃদয়ের বাবা হরেন্দ্র নাথ কবিরাজ ১৩ জুলাই বাউফল থানায় নিখোঁজ ডায়েরি (জিডি) করেন। হরেন্দ্র নাথ বলেন, সর্বশেষ হৃদয়ের সঙ্গে যখন কথা হচ্ছিল তখন হৃদয় কোনো কক্ষের মধ্যে আটকা ছিল, কথায় তা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল। কারণ, হৃদয়কে পাশ থেকে কেউ পটুয়াখালী আছে বলার কথা শিখিয়ে দেয় ,আমি তা শুনতে পেয়েছিলাম।
পরে খালের মধ্যে থেকে ২৮ জুলাই ছেলের মাথা বিহীন লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তার মাথা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত চার জনকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের ফাঁসি দাবি করেন বাবা।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম আরিচুল হক  বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে, এ ঘটনায় আর জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ভিক্টিমের মাথা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি, উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।




বরিশালে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চুরি

বরিশাল অফিস: জেলার সদর উপজেলার টুঙ্গিবাড়ি ইউনিয়নে সোমরাজির রাড়ি বাড়ি স্টেশনে বন্ধু ডেকারেটর নামে একটি দোকানে দূধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সোমবার দিবাগত রাতের কোন এক সময় এ চুরির ঘটনা ঘটে। চুরির ঘটনায় দোকান মালিক মো.ওসমান শরিফ বাদী হয়ে বরিশাল বন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

দোকান মালিক মামলায় উল্লেখ্ করেন, প্রতিদিনের ন্যায় সারাদিন দোকানদারীর পর সোমবার রাত ১০ টায় দোকান বন্ধ করে বাড়িতে চলে যায়। পরের দিন আজ মঙ্গলবার সকাল ৫টার সময় দোকানে এসে দেখেন তার দোকানের ঝাপের তালা ভাঙ্গা।

এ সময় তিনি স্থানীয় লোকজন ডেকে দোকানে প্রবেশ করে দেখেন তার দোকানের ভেতরে রাখা অনেক মালামাল এলোমেলো অবস্থায় মেঝেতে ছড়িয়ে পড়ে রয়েছে।

পরে দেখতে পায়, সাউন্ড বক্সের চারটি মেশিন, মাইকে ব্যবহৃত দুটি মেশিন, দুটি মিক্সচার মেশিন, দুটি কডলেস তার। দশ কয়েলসহ প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকার মালামাল নিয়ে যায়।

এ বিষয় বন্দর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হরি দাস নাগ জানান, বন্ধু ডেকারেটর চুরির ঘটনায় একটি মামলা নেওয়া হয়েছে তদন্ত পূর্বক আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।




বিচারকদের তথ্য-প্রযুক্তিসহ পেশাগত প্রশিক্ষণের উপর রাষ্ট্রপতির গুরুত্বারোপ

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আধুনিক তথ্য প্রযুক্তিসহ পেশাগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিচারকদের দক্ষ করে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।
সোমবার বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে এক প্রতিনিধিদল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির কাছে কমিশনের বার্ষিক প্রতিবেদন-২০২২ পেশ করতে গেলে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান। খবর বাসস।
পরে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বিচার পাওয়া জনগণের অধিকার, তাই বিচারক স্বল্পতার কারণে বিচারপ্রার্থীরা যাতে ভোগান্তির শিকার না হয় সে লক্ষ্যে বিচারকদের খেয়াল রাখতে হবে।
রাষ্ট্রপ্রধান জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়া আরো গতিশীল করার জন্যে কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন।
বিচারক নিয়োগের পাশাপাশি আধুনিক তথ্য প্রযুক্তিসহ সময়োপযোগী পেশাগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিচারকদের দক্ষ করে গড়ে তোলার উপর গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপতি।
সাক্ষাৎকালে জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগ প্রক্রিয়াসহ কমিশনের সার্বিক কার্যক্রম এবং বার্ষিক প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।
রাষ্ট্রপতি জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের কর্মকান্ডে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
কমিশন তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব আগামীতে আরো নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে পালন করবে, তিনি আশা করেন।
এ সময় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন।




পিরোজপুরে ৪ কেজি গাঁজাসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

এস এম পারভেজ (পিরোজপুর): ডিবি পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৪ কেজি গাঁজাসহ ৩ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পিরোজপুর জেলা গোয়েন্দা শাখা (উত্তর) অফিসার ইনচার্জ মোঃ তাজমিলুর রহমান বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো সুমি ওরফে তাসলিমা বেগম (২৫) ব্রাহ্মনবাড়ীয়া জেলার কসবা থানার গোপিনাথপুর ইউনিয়নের বাতান বাড়ী গ্রামের সামাদ মিয়ার কন্যা, মুক্তা বেগম (২১) ব্রাহ্মনবাড়ীয়া জেলার কসবা থানার হাকর-পশ্চিমপাড়া এলাকার সানু মিয়ার কন্যার এবং দুলাল মিয়া (৩৫) সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের দক্ষিন প্রতাপপুর গ্রামের আঃ সামাদ মিয়ার পুত্র।

জেলা গোয়েন্দা শাখা (উত্তর) অফিসার ইনচার্জ জানান, রোববার রাতে জেলা গোয়েন্দা শাখা(উত্তর) পুলিশের একটি দল জেলার কাউখালী উপজেলার শিয়ালকাঠী ইউয়নের উত্তর শংকরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদক ব্যবসায়ী দুলাল, সুমি ও মুক্তিতে আটক করে। এ সময় তাদের দেহ তল্লাশী করলে সুমি ও মুক্তার শরীরের বিশেষ কায়দায় কসটেপ দিয়ে মোড়ানো ৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
কাউখালী থানার ওসি মো: জাকারিয়া জানান, গাঁজা সহ আটক তিন জনের বিরুদ্ধে কাউখালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। আসামীদের নামে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধীক মামলা রয়েছে।




চোরাই ল্যাপটপসহ ‍চোরচক্রের তিন সদস্যকে প্রেপ্তার

এস এল টি তুহিন (বরিশাল): জেলার গৌরনদী উপজেলার কাসেমাবাদ সিদ্দিকিয়া কামিল মাদ্রাসার শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব থেকে চুরি হওয়া নয়টি ল্যাপটপ উদ্ধার এবং চোরচক্রের তিন সদস্যকে প্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার দিনভর গৌরনদী মডেল থানার ওসি মো. আফজাল হোসেনের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করেন থানা পুলিশের সদস্যরা।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- উপজেলার কাসেমাবাদ গ্রামের আলাউদ্দিন বয়াতীর ছেলে সিয়াম আহম্মেদ (২০), দক্ষিণ বিজয়পুর গ্রামের নাছির শরীফের ছেলে রেজাউল শরীফ ও কলাবাড়িয়া গ্রামের মৃত টমাস রায়ের ছেলে পার্থ রায়। সোমবার সকালে জেলা পুলিশ সুপার ওয়াহিদুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখ্য গত ৩ আগষ্ট দিবাগত রাতে কাশেমাবাদ সিদ্দিকিয়া কামিল মাদ্রাসার শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব থেকে নয়টি ল্যাপটপ চুরির ঘটনায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবু সাঈদ মোঃ কামেল বাদি হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।




স্বজনের প্রতারণার শিকার দিন মজুরের জমি লিখে নেওয়ার পর আত্মসাৎ প্রায় ৯ লক্ষ টাকা!

এস এম পারভেজ (পিরোজপুর): পৈত্রিক ৯২ শতাংশ জমি দলিল করে লিখে নেওয়ার পর প্রায় ৯ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে স্বজনদের বিরুদ্ধে। আত্মসাৎকৃত টাকা এবং পৈত্রিক জমি ফিরে পাওয়ার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে প্রতারণার শিকার ভূক্তভোগী দিন মজুর সঞ্জয় ভক্ত। এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সঞ্জয়ের মা সীতা রানী ভক্ত বুকফাটা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার চরণী পত্তাশী গ্রামের চিত্ত রঞ্জন ভক্ত, তার ছেলে শৈলেন্দ্র নাথ ভক্ত এবং রিপন ভক্তের বিরুদ্ধে এ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেন সঞ্জয়।

আজ রোববার দুপুরে পিরোজপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সঞ্জয় অভিযোগ করেন, তার প্যারালাইজড দাদু ক্ষিরোদ চন্দ্র ভক্তকে পৈত্রিক ভিটা থেকে তাড়িয়ে দেয় তার আপন ভাই শরৎচন্দ্র ভক্ত। এরপর সে তার সন্তান নিরঞ্জন ভক্তকে নিয়ে পার্শবর্তী বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামে আশ্রয় নেয়। এ দীর্ঘ সময়ে সঞ্জয়ের বাবা নিরঞ্জন ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে এবং দাদু বিনা চিকিৎসায় মারা যায়। বাড়ি থেকে তাদেরকে তাড়িয়ে দেওয়ার পর একবার সঞ্জয়ের মা সীতা রানী ভক্ত কিছু টাকার জন্য ওই বাড়িতে গেলে শরৎচন্দ্র ভক্তের ছেলে চিত্ত রঞ্জন ভক্ত তাকেও বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়।

পরবর্তীতে দুই বছর পূর্বে চিত্ত রঞ্জন তার চাচাতো ভাইয়ের ছেলে সঞ্জয়ের বাড়িতে গিয়ে জানায় যে, চিত্ত তাদেরকে কিছু টাকা দিতে চায়। তখন পৈত্রিক জমির বিষয়ে জানতে চাইলে চিত্তের বড় ছেলে শৈলেন্দ্র নাথ ভক্ত সঞ্জয়কে জানায় যে, সে ১০-১২ কাঠা জমি পেতে পারে এবং এজন্য তারা তাকে সর্বসাকূল্যে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দিতে রাজি হয়। এর আগে শৈলেন্দ্র নাথ ভক্ত এবং তার ভাই রিপন ভক্ত একই এলাকার হাজেরা নামের এক নারীর কাছে ৩৩ শতাংশ জমি ৩ লক্ষ ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করবে চুক্তি করে ১ লক্ষ টাকা নগদ গ্রহন করে। পরবর্তীতে গত ১০ জুলাই পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ১০৭১ নং দলিলের মাধ্যমে সঞ্জয়ের নামে থাকা জমি থেকে হাজেরাকে ৩৬ শতাংশ জমি দলিল করে দেওয়া হয় যার মূল্য ৩ লক্ষ ৭২ হাজার টাকা। একই তারিখে ১০৭২ নং দলিলের মাধ্যমে সঞ্জয়ের নামে থাকা অবশিষ্ট বাড়ির ২৮ শতাংশ এবং নাল জমি ২৮ শতাংশ মোট ৫৬ শতাংশ জমি চিত্ত রঞ্জনের ছেলে রিপন ভক্ত, শৈলেন্দ্র নাথ ভক্তের ছেলে শোভন ভক্ত (চিত্ত রঞ্জন ভক্তের নাতি) এবং মৃত স্বপন ভক্তের ছেলে শুভ ভক্ত (চিত্ত রঞ্জন ভক্তের নাতি) নামে দলিল করে নিয়ে যায় যার মূল্য ৬ লক্ষ ৫১ হাজার টাকা।

এরপর ৯২ শতাংশ জমির মূল্য হিসেবে সঞ্জয়কে মাত্র ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা প্রদান করে শৈলেন্দ্র নাথ ভক্ত। পরবর্তীতে বাকী টাকা না দিয়ে ইন্দুরকানী থেকে সটকে পড়ে শৈলেন্দ্র নাথ এবং তার সাথে থাকা লোকজন।

এর আগে হাজেরাকে সঞ্জয়ের জমি থেকে দলিল করে দিতে চাইলে সে আপত্তি জানায়। তখন সব জমিই একই দাগের জানিয়ে শৈলেন্দ্র নাথ বলেন যে, এতে সমস্যার কিছুই নাই। পরবর্তীতে সে তার পরিশোধকৃত ৩৬ শতাংশ জমির মূল্য ৩ লক্ষ ৭২ টাকা সঞ্জয়কে দিতে বললে তারা জানায় যে, একটু পরেই সঞ্জয়কে তারা পুরো টাকা দিয়ে দিচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে সঞ্জয়ের মা সীতা রানী ভক্ত, সঞ্জয়ের ৩৬ শতাংশ জমির ক্রেতা হাজেরা এবং স্থানীয় মোজাম্মেল হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন সঞ্জয়ের মা। তিনি জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর ৪ মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে দিন কাটিয়েছেন। এরপরও সে তার স্বামীর সম্পত্তি থেকে সন্তানদের জন্য সামান্যতম কোন সুবিধা পায় নি। এত বছর তাদের সম্পত্তি ভোগ দখল করার পরও, প্রতারণা করে তার চাচাতো ভাসুর এবং তার ছেলেরা তার সন্তানের জমি কৌশলে লিখে নিয়ে ৮ লক্ষ ৭৩ টাকা আত্মসাৎ করেছে। তিনি আত্মসাৎকৃত টাকা ফেরত পাওয়ার জোর দাবি জানায়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হাজেরা জনায়, তাকে এক জনের জমি দেওয়ার কথা বলে কৌশলে অন্যের জমি লিখে দিয়েছে শৈলেন্দ্র নাথ। এমনকি সে সঞ্জয়কে তার ক্রয়কৃত জমির মূল্য হিসেবে যে টাকা দিয়েছে তাও আত্মসাৎ করেছে শৈলেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত চিত্ত রঞ্জন ভক্ত এবং তার ছেলে শৈলেন্দ্র নাথ ভক্ত ও রিপন ভক্তের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 




হাইকোর্টে চূড়ান্ত নীতিমালা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বুলিং-রেগিং-এ ফৌজদারি মামলা

সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বুলিং ও র‌্যাগিং প্রতিরোধ সংক্রান্ত চূড়ান্ত নীতিমালার গেজেটের অনুলিপি হাইকোর্টে দাখিল করা হয়েছে।

কয়েকদিন আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব (আইন) আবদুল জলিল মজুমদার অনুলিপি অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে জমা দিয়েছেন।

এ নীতিমালা অনুযায়ী-বুলিং-র‌্যাগিংয়ের মাত্রা অনুসারে দায়ীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা যাবে। এর আগে ২৯ জুন চূড়ান্ত নীতিমালার গেজেট জারি করা হয়।

চূড়ান্ত নীতিমালায় বুলিং-র‌্যাগিংয়ের অপরাধে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও গভর্নিং বডির সদস্যদের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

মৌখিক বুলিং-র‌্যাগিংয়ের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে-কাউকে উদ্দেশ করে মানহানিকর বা অপমানজনক এমন কিছু বলা বা লেখা যা খারাপ কোনো কিছুর প্রতি ইঙ্গিত বহন করে ইত্যাদিকে মৌখিক বুলিং বোঝাবে।

যেমন-উপহাস করা, খারাপ নামে সম্বোধন করা বা ডাকা, অশালীন শব্দ ব্যবহার করা, গালিগালাজ করা, হুমকি দেওয়া, শারীরিক অসমর্থতাকে নিয়ে উপহাস করা বা অনুরূপ কার্যাদি।

শারীরিক বুলিং ও র‌্যাগিংয়ের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে-কাউকে কোনো কিছু দিয়ে আঘাত করা, চড়-থাপ্পড়, শরীরে পানি বা রঙ ঢেলে দেওয়া, লাথি মারা, ধাক্কা মারা, খোঁচা মারা, থুথু দেওয়া, বেঁধে রাখা, কোনো বিশেষ ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে/বসে বা বিশেষ অবস্থায় থাকতে নির্দেশ দেওয়া অথবা কোনো কিছু করতে বা না করতে বাধ্য করা, কারও কোনো জিনিসপত্র জোর করে নিয়ে যাওয়া বা ভেঙে ফেলা, অশালীন বা অসৌজন্যমূলক অঙ্গভঙ্গি করা বা অনুরূপ কার্যাদি।

সামাজিক বুলিং ও র‌্যাগিংয়ের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে-কারও সম্পর্কে গুজব ছড়ানো, প্রকাশ্যে কাউকে অপমান করা, ধর্ম, বর্ণ, জাতি, গোত্র, পেশা, গায়ের রং, অঞ্চল বা জাত তুলে কোনো কথা বলা বা অনুরূপ কার্যাদি। সাইবার বুলিং-র‌্যাগিং সম্পর্কে বলা হয়েছে-কারও সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কটু কিছু লেখা বা ছবি বা অশালীন ব্যঙ্গাত্মক কিছু পোস্ট করে তাকে অপদস্থ করা বা অনুরূপ কার্যাদি।

সেক্সুয়াল বুলিং ও র‌্যাগিং সম্পর্কে বলা হয়েছে-ইচ্ছাকৃতভাবে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আপত্তিজনকভাবে স্পর্শ করা বা করার চেষ্টা করা, ইঙ্গিতবাহী চিহ্ন প্রদর্শন করা, আঁচড় দেওয়া, জামা-কাপড় খুলে নেওয়া বা খুলতে বাধ্য করা বা অনুরূপ কার্যাদি।

এছাড়া এমন কর্ম, আচরণ, কার্যাদি যা অসম্মানজনক, অপমানজনক ও মানহানিকর এবং শারীরিক-মানসিক যন্ত্রণার কারণ হতে পারে, তা যে নামেই হোক না কেন তা বুলিং ও র‌্যাগিং হিসাবে গণ্য হবে।

চূড়ান্ত নীতিমালায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বুলিং ও র‌্যাগিং প্রতিরোধে কমিটি গঠন এবং কার্যপরিধি সম্পর্কে বলা হয়েছে-প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে ৩-৫ সদস্যবিশিষ্ট বুলিং ও র‌্যাগিং প্রতিরোধ কমিটি গঠন করতে হবে। প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষ এক বা একাধিক কমিটি গঠন করতে পারবে।

কমিটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। শিক্ষা বছরের শুরুতে কমিটি আবশ্যিকভাবে এবং পরবর্তীতে তিন মাস অন্তর শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের নিয়ে সভা, মতবিনিময় সভা, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও ওয়ার্কশপের আয়োজন করবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বুলিং ও র‌্যাগিং হয় কিনা তা কমিটি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবে।

বুলিং ও র‌্যাগিং প্রতিরোধ ও প্রতিকারে কর্তৃপক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানের করণীয় সম্পর্কে বলা হয়েছে-১. বুলিং ও র‌্যাগিংয়ে উৎসাহিত হয় এ রূপ কোনো কার্যকলাপ, সমাবেশ, অনুষ্ঠান করা যাবে না।

২. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যেসব জায়গায় বুলিং ও র‌্যাগিং হওয়ার আশঙ্কা থাকে, সেসব জায়গায় কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের মাধ্যমে নজরদারির ব্যবস্থা করবে।

৩. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (আবাসিক হলসহ) কর্তৃপক্ষ তাদের নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে বুলিং ও র‌্যাগিংয়ের ঘটনার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষে রিপোর্ট করবে, অন্যথায় নিষ্ক্রিয়তার জন্য দায়ী হবে।

৪. বুলিং ও র‌্যাগিং এর উদাহরণ এবং পরিণতি সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ ওয়েবসাইট এবং প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণে পোস্টারের মাধ্যমে প্রচারণা চালাবে। শিক্ষাবর্ষের শুরুতে বুলিং ও র‌্যাগিং প্রতিরোধ ‘দিবস’ পালন করে এ কুফল সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্টদের সচেতন করবে।

৫. সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী-শিক্ষক ও অভিভাবকদের শপথ নিতে হবে। কখনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বুলিং ও র‌্যাগিং করবে না, কাউকে বুলিং ও র‌্যাগিংয়ের শিকার হতে দেখলে রিপোর্ট করবে, প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন জানিয়ে তারা অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করবেন।

৬. বুলিং ও র‌্যাগিংয়ের কুফল সম্পর্কিত সিনেমা, কার্টুন, টিভি সিরিজ প্রদর্শন, অনলাইনে দায়িত্বশীল আচরণের ব্যাপারে অনলাইন বিহেভিওর সম্পর্কিত কর্মশালা ইত্যাদিসহ সহপাঠ্যক্রমিক কর্মশালা আয়োজনের জন্য কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

৭. বুলিং ও র‌্যাগিং প্রতিরোধে কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের ‘এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিজ’-এ অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করবে। যেমন-শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী ক্ষমতাকে বিকশিত করা লক্ষ্যে বিতর্ক প্রতিযোগিতা, বিজ্ঞান মেলা, গণিত অলিম্পিয়াড, বই পড়ার প্রতিযোগিতা, দাবা খেলা, কেরাম খেলা ও বিভিন্ন খেলাধুলা আয়োজন করবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহমর্মিতা এবং সহানুভূতিশীলতার শিক্ষা দিতে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী কাজে নিযুক্ত করতে হবে।

৭. শিক্ষার্থীরা বুলিং-র‌্যাগিংয়ের কুফল অথবা এর ফলে কীভাবে একজন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে-সে সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়ার জন্য এবং সে সঙ্গে বুলিং ও র‌্যাগিং সম্পর্কিত সমস্যার সমাধান তারা নিজেরাই বের করতে উদ্যোগী হওয়ার জন্য শিক্ষক রোল প্ল্যানের মাধ্যমে উপস্থাপন করবেন।

৮. সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুনির্দিষ্ট কোনো শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের কাউন্সিলিংয়ের দায়িত্ব দিতে হবে। তাদের কাউন্সিলর হিসাবে অভিহিত করা হবে।

৯. বুলিং ও র‌্যাগিং নীতিমালা বাস্তবায়নে প্রতিষ্ঠান প্রধানরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।

১০. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ এবং শিক্ষা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা নিয়মিত বুলিং ও র‌্যাগিং বিষয়ে পরীবিক্ষণ করবেন এবং নীতিমালা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবেন।

প্রসঙ্গত, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী অরিত্রি অধিকারীর আত্মহত্যার পর ২০১৮ সালের ৪ ডিসেম্বর স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে একটি আদেশ দেন হাইকোর্ট। আদেশে ‘বুলিং’ ও শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা প্রতিরোধের উপায় নির্ণয়ে একটি জাতীয় নীতিমালা তৈরির জন্য অতিরিক্ত শিক্ষাসচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করে দেন আদালত।

নির্দেশ অনুযায়ী এই কমিটি একটি নীতিমালা খসড়া করে ২০১৯ সালে আদালতে দাখিল করে। এরপর নীতিমালা কয়েক দফা সংশোধন, পরিমার্জন, সংযোজন-বিয়োজন করা হয়।