তারেকের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে সরানোর নির্দেশ

চন্দ্রদ্বীপ ‍নিউজ: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সম্প্রতি দেওয়া সব বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে সরাতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-কে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (২৮ আগস্ট) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

রোববার (২৭ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদন করেন অ্যাডভোকেট নাসরিন সিদ্দিকা লিনা।

গত ২২ আগস্ট গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত রুলে শুনানির জন্য কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্তির নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।
এর মধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা প্রশ্নে রুল শুনানিতে পক্ষভুক্ত হওয়ার আবেদন করেছেন বিএনপিপন্থি একজন আইনজীবী।
বুধবার (২৩ আগস্ট) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে পক্ষভুক্তির এ আবেদন উপস্থাপন করেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সহ-সভাপতি ও বিএনপির আইনজীবীদের সংগঠন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সুপ্রিম কোর্ট ইউনিটের সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুল জব্বার ভূইয়া। ওইদিন শুনানি নিয়ে ওই আবেদন খারিজ করেন হাইকোর্ট।
এদিকে, একই দিন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা বিষয়ে রুলের লিখিত জবাব দেওয়ার কথা আদালতকে জানিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

এর আগে গত মঙ্গলবার (২২ আগস্ট) হাইকোর্টের একই বেঞ্চ তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা বিষয়ে রুলের চূড়ান্ত শুনানির জন্য বুধবার (২৩ আগস্ট) দিন ধার্য করেন। তারই ধারাবাহিকতায় সেটির শুনানি শুরু হয়।
তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচার নিয়ে প্রায় সাড়ে আট বছর শুনানি না হওয়া রুলটি রিটকারীদের পক্ষ থেকে সম্প্রতি শুনানির আবেদন করা হয়।
হাইকোর্টের নির্দেশে রুলের নোটিশ তারেক রহমানের গুলশানের বাসার ঠিকানায় পাঠানো হয় বলে আদালতকে জানান রিটকারী পক্ষের আইনজীবীরা। এছাড়া সুপ্রিম কোর্টের নোটিশ বোর্ডে এবং একটি জাতীয় দৈনিকে প্রচার করা হয়।
জবাবে বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা আদালতকে বলেন, গুলশানের যে ঠিকানায় নোটিশ পাঠানো হয়েছে সেটি তারেক রহমানের সর্বশেষ ঠিকানা নয়। তিনি এখন লন্ডনে, তাই তার ওই ঠিকানায় নোটিশ পাঠাতে হবে।
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্যের অভিযোগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়াম্যান (তৎকালীন জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান) তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ২০১৫ সালে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নাসরিন সিদ্দিকী লিনা। ওই রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ রুল জারিসহ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন।

হাইকোর্টের রুলে তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দিতে কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। তথ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, বিটিভির মহাপরিচালক, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, একুশে টিভির প্রধান বার্তা সম্পাদক, কালের কণ্ঠের সম্পাদক ও তারেক রহমানকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।
অন্যদিকে, অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে হাইকোর্ট তারেক রহমানের অবস্থান জানাতে পররাষ্ট্র সচিবকে নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি পুলিশ মহাপরিদর্শককে তারেক রহমানের পাসপোর্টের মেয়াদ জানিয়ে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।

পরবর্তীকালে ঠিকানা ভুলের পরিপ্রেক্ষিতে তারেক রহমান বাদে রিট আবেদনের অন্য সব বিবাদী বরাবর রুলের নোটিশ জারি হয়। গত ৩ আগস্ট রুল শুনানির আবেদন করেন রিটকারী পক্ষের আইনজীবী কামরুল ইসলাম।ও

ওইদিন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচার বন্ধের বিষয়ে জারি করা রুল শুনবেন বলে জানিয়েছিলেন হাইকোর্ট।

আইনের দৃষ্টিতে পলাতক তারেক রহমানের বক্তব্য বা বিবৃতি সব ধরনের গণমাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশ নিষিদ্ধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারি বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন এ আদেশ দেন।
একই সঙ্গে তারেক রহমানের বিদেশে অবস্থান সম্পর্কে জানাতে পররাষ্ট্র সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তার পাসপোর্টের মেয়াদের বিষয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) একটি প্রতিবেদন দিতেও বলেছিলেন আদালত।




ভুল চিকিৎসায় পিরোজপুরে প্রসূতির শরীরে পচন, মামলা

বরিশাল অফিস: পিরোজপুরে ভুল চিকিৎসায় ফাতেমা বেগম (২৫) এক প্রসূতি নারীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে পচন ধরেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নষ্ট হয়ে গেছে চোখ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. জান্নাতুল মাওয়ার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে পিরোজপুরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম রসুলের আদালতে মামলাটি করেন ওই নারীর স্বামী দিনমজুর হযরত আলী। আদালতের বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে বিষয়টি পিরোজপুরের সিভিল সার্জনকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। ভুক্তভোগী ফাতেমা বেগম পিরোজপুর পৌরসভার পশ্চিম শিকারপুর এলাকার বাসিন্দা।

বাদীপক্ষের আইনজীবী আবু সালেহ ওমান জানান, ফাতেমা বেগমকে বাচ্চা প্রসবের পর ভুল চিকিৎসা করে ওভার ডোজ ওষুধ দেওয়ায় তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে পচন ধরেছে। চোখ নষ্ট হয়ে গেছে। এমন অভিযোগে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের গাইনি বিভাগের চিকিৎসক ডা. জান্নাতুল মাওয়ার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন ফাতেমার স্বামী হযরত আলী। চলতি বছরের ৩১ শে মার্চ মুসলিম এইড কমিউনিটি হাসপাতালে ডা. জান্নাতুল মাওয়া ভিকটিম ফাতেমার সিজার করেন। পরবর্তীতে ওষুধ দেন। ওই ওষুধ সেবনের পর থেকে ফাতেমার মুখমন্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ ফুলে উঠে পচন ধরে। মুখমন্ডল ও চোখের পর্দা ফুটো হয়ে যায়। বারবার ডা. জান্নাতুল মাওয়ার কাছে গেলেও তিনি কোনো রকম সেবা না দিয়ে ঢাকায় রেফার্ড করে দেন। ডা. জান্নাতুল মাওয়ার অপচিকিৎসা ও অবহেলা রোগীর জীবন হুমকিতে ফেলেছে।

মামলার বাদী হযরত আলী বলেন, বাচ্চা প্রসবের আগে ও পরে রোগী ডা. জান্নাতুল মাওয়ার তত্ত্বাবধানে ছিল। ভুল চিকিৎসা, অতিরিক্ত ওষুধ প্রদান ও অবহেলায় রোগীর অবস্থা মৃত্যুপ্রায়। তার মুখমন্ডলে পচন ধরেছে। চোখের পাতা ছিদ্র হয়ে গেছে। রোগীকে শেষ পর্যায়ে তিনি রেফার্ড করেছেন। আমরা ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা করেও আজ ব্যর্থ। তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম এখন গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় আছেন। তাই অপচিকিৎসার বিচার চেয়ে আদালতে মামলা করেছি। তবে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. জান্নাতুল মাওয়া বলেন, তার চিকিৎসায় কোনো ভুল ছিল না। রোগীর ওষুধের সকল কাগজপত্র দেখে বিস্তারিত জানাতে পারবো।




মুলাদীতে হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ

বরিশাল অফিস : আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্য দিবালোকে বৃদ্ধ আবদুর রব হাওলাদারকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারপূর্বক সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার সকালে জেলার মুলাদী উপজেলার কাজিরচর ইউনিয়নের চরকমিশনার গ্রামবাসীর ব্যানারে স্থানীয় ফেরিঘাটে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন শেষে শত শত নারী ও পুরুষদের অংশগ্রহণে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় ইউপি সদস্য এনামুল হক বেপারীর সভাপতিত্বে মানববন্ধন চলাকালীন সময় অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, নিহতের ভাই তোতা হাওলাদার, সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল মালেক হাওলাদার, সেলিম হাওলাদার, নিহতের ছেলে আব্বাস হাওলাদার, ছালাম হাওলাদার প্রমুখ।

উল্লেখ্য, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত ২২ আগস্ট সকাল নয়টার দিকে ইজিবাইক থেকে নামিয়ে আবদুর রব হাওলাদারকে (৬০) নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহতের ছেলে আব্বাস হাওলাদার বলেন, প্রতিপক্ষের কামাল সরদার, জামাল সরদার, মাহিদ সরদার, তোতা সরদার, আহসান সরদার, ইব্রাহিম সরদারসহ ৩০/৩৫ জনে তার বাবাকে ধারালো দা, রামদা, লোহার রড, টেটাসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে হত্যা করে ফেলে রাখে। এর আগেও উল্লিখিত সন্ত্রাসীরা মনির হাওলাদার নামে এক যুবককে হত্যা করেছে।

মুলাদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানান, মুলাদী-বাবুগঞ্জ উপজেলার মীরগঞ্জ ফেরিঘাট এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে স্থানীয় হাওলাদার ও সরদার বংশের মধ্যে দীর্ঘদিন থেকে বিরোধ চলে আসছে।

দুই বংশের বিরোধে ইতোমধ্যে সংঘর্ষ ও একাধিক হত্যার ঘটনাও ঘটেছে। তারই ধারাবাহিকতায় সরদার বংশের লোকজন হাওলাদার বংশের বৃদ্ধ রব হাওলাদারকে কুপিয়ে হত্যা করেছে।

এ ঘটনায় ইতোমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যান্যের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




মির্জাগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধে নারীসহ তিনজনকে কুপিয়ে জখম

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধে এক পরিবারের তিনজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহত ব্যক্তিরা হলেন, কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম গাবুয়া গ্রামের মো: শাহ আলম (৬০) মো: শামীম (২৬), শারমিন আক্তার (২৩)। আহতরা মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শনিবার (২৬) আগস্ট সকালে উপজেলার কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম গাবুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।

হামলায় নেতৃত্বকারী ব্যাক্তিরা হলেন- একই এলাকার মৃত খলিফ হাওলাদারের ছেলে সেলিম হাওলাদার, তপেজ হাওলাদারের দুই ছেলে সেন্টু হাওলাদার ও মন্টু হাওলাদার।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বৃদ্ধ শাহ আলম জানান, বাড়ি এবং বাড়ি সংলগ্ন ভিটায় পৈত্রিক সূত্রে তিনি পাওয়া ২৪০ শতক জমি নিয়ে সেলিম ও তপেজ হাওলাদারের সাথে তিন বছর ধরে দ্বন্দ্ব চলছে। জমি দখল নিয়ে কয়েকবার সালিস হয়েছে। সালিস মীমাংসার মাধ্যমে আমরা জমির দখলে যাওয়ার অনুমতি পাই। গতকাল (শুক্রবার) তারা জোরপূর্বক আবার ওই জমি চাষ করতে গেলে আমরা বাধা দেই পরে তারা সেখান থেকে চলে যায়। সন্ধ্যার পরে পার্শ্ববর্তী কুমরাখালী বাজারের থেকে ফেরার পথে তারা আমার ছেলে শামীমকে মারধর করে। পরে আমরা রাত বারোটায় অভিযোগ দিতে থানায় গেলে কর্তব্যরত পুলিশ আজ সকালে পুলিশ আসবে বলে আমাদেরকে পাঠিয়ে দেয়। সকালে শারমিন মুখ ধোয়ার জন্য বাড়ির টিউবওয়েলে যায়। এ সময় সেলিম হাওলাদার এসে গতকাল (শুক্রবার) রাতে কেন থানায় গেছ বলে রড দিয়ে অতর্কিত পিটিয়ে আহত করে। এ সময় চিৎকার শুনে আমি ও আমার ছেলে ঘটনাস্থলে গেলে সেলিম সেন্টু ও মন্টু হাতে থাকা রড দিয়ে আমাদের এলোপাতাড়ি পিটিয়ে জখম করে। স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে আসেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সেলিম হাওলাদার সেন্টু ও মন্টু হাওলাদারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্তকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে থানার একজন উপপরিদর্শক পাঠানো হয়েছিল। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।




সাবেক স্বামীর পরিকল্পনায় নারী কর কর্মকর্তাকে অপহরণ

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : সাবেক স্বামীর পরিকল্পনায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) যুগ্ম কমিশনার মাসুমা খাতুনকে অপহরণ করা হয়। সাবেক স্বামী অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা হারুন অর রশিদের রাগ-ক্ষোভ ছিল মাসুমার ওপর। সেই ক্ষোভ থেকেই মাসুমা খাতুনকে অপহরণের পরিকল্পনা করেন হারুন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, হাতিরঝিলে ৫০ হাজার টাকায় একটি বাসা ঠিক করা হয়। কৌশলে নেওয়া হয় ভুক্তভোগী মাসুমার সাবেক ড্রাইভার মাসুদকে। মাসুদের নেতৃত্বে অপহরণ মিশনে অংশ নেয় সাতজন। গত ১৭ আগস্ট অপহরণের রাতে তাকে ওই বাসায় নেওয়া সম্ভব না হওয়ায় নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর এলাকার একটি গ্যারেজে নেওয়া হয় এবং সেসময় গাড়িতেই করা হয় মারধর।

পরদিন মাদারটেক এলাকায় যাওয়ার পর সেখানে ওই নারী কর্মকর্তার চিৎকারে এলাকাবাসীর হাতে আটক হয় তিনজন। পালিয়ে যায় সাবেক ড্রাইভার মাসুদসহ চারজন। অপহরণ ও নির্যাতনের ঘটনায় এরপর মাসুমা রমনা থানায় মামলা করেন। মামলার প্রধান আসামি মাসুম ওরফে মাসুদসহ জড়িত তিনজনকে গ্রেফতারের পর এসব তথ্য জানিয়েছে র‌্যাব।

গ্রেফতার তিনজন হলো মো. মাসুম ওরফে মাসুদ (৪২), আব্দুল জলিল ওরফে পনু (৪৮) এবং হাফিজ ওরফে শাহনি (৪৮)।

শনিবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি বলেন, গত ১৭ আগস্ট রাত সোয়া ৮টার দিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) একজন যুগ্ম কর কমিশনার রাজধানীর মগবাজার এলাকা থেকে অপহৃত হন। অপহরণের ১৮ ঘণ্টা পর গত ১৮ আগস্ট রাজধানীর মাদারটেক এলাকা থেকে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী নিজেই তার সাবেক গাড়িচালক মাসুদ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে বাদী হয়ে রাজধানীর রমনা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। আটক সাইফুল ইসলাম, আবু বকর সিদ্দীক ও ইয়াছিন আরাফাত ওরফে রাজুকে গ্রেফতার দেখায় রমনা থানা পুলিশ। তবে এ ঘটনায় জড়িত শান্ত পলাতক

র‌্যাব জানায়, শুক্রবার (২৬ আগস্ট) গভীর রাতে মামলার প্রধান আসামি মাসুম ওরফে মাসুদ সহযোগী আব্দুল জলিল ও হাফিজকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার মাসুদ আগে ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ১ আগস্ট ব্যক্তিগত শৃঙ্খলাজনিত কারণে ভুক্তভোগী তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেন। ফলে গ্রেফতার মাসুদের মধ্যে ভুক্তভোগীর প্রতি ব্যক্তিগত ক্ষোভ ও আক্রোশের জন্ম হয়।

তিনি আরও বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার মাসুদ জানান, তাকে চাকরিচ্যুতির পর ভুক্তভোগীর প্রথম স্বামী হারুন অর রশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ভুক্তভোগী নারী কর কর্মকর্তাকে উচিত শিক্ষা দিতে রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকার একটি বাসায় নিয়ে যাওয়ার জন্য মাসুদকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখানো হয়। হারুন এজন্য অগ্রিম ৭০ হাজার টাকা দেন। কাজের পরে তাকে আর ড্রাইভিং করতে হবে না ও উন্নত জীবনযাপন করার সব ব্যবস্থা করে দেবেন বলে আশ্বাস দেন।

গত ১৫ আগস্ট রাজধানীর সবুজবাগ এলাকায় মাসুদ তার পরিচিতি হাফিজ, পনু, রাজু, সাব্বির, সাইফুল ও শান্তকে পরিকল্পনার কথা জানান ও সবাইকে টাকা ভাগ করে দেন। তারা রাজধানীর বেইলী রোড এলাকা থেকে ভুক্তভোগীকে অপহরণের সিদ্ধান্ত নেয়। ভুক্তভোগীর বর্তমান গাড়িচালকের সঙ্গে গ্রেফতার করা হাফিজের সুসম্পর্ক থাকায় ভুক্তভোগীর অবস্থান গাড়িচালক থেকে জেনে মাসুদকে জানান।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ১৭ আগস্ট রাত ৮টার দিকে তারা রাজধানীর বেইলী রোড এলাকায় অবস্থান নেয়। ভুক্তভোগী রাত সোয়া ৮টার দিকে রাজধানীর মগবাজার থেকে নিজ গাড়িযোগে বেইলী রোড এলাকায় পৌঁছলে একটি মোটরসাইকেল ও একটি রিকশা দিয়ে ভুক্তভোগীর গাড়ির সঙ্গে লাগিয়ে দিয়ে দুর্ঘটনার নাটক সাজিয়ে গতিরোধ করে। এসময় ভুক্তভোগীর গাড়িচালক মোটরসাইকেল ও রিকশা সরানোর জন্য নামলে তাকে মারধর করে। মাসুদ গাড়ির ড্রাইভিং সিটে বসে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সহযোগীদসহ ভুক্তভোগী নারীকে অপহরণ করে হাতিরঝিলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন।

র‌্যাব জানায়, নারী কর কর্মকর্তাকে অপহরণের পরই বিষয়টি প্রথম স্বামী হারুনকে জানানো হয়। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, আগেই ৫০ হাজার টাকায় হাতিরঝিলে ভাড়া করা একটি বাসার ঠিকানায় নেওয়ার কথা জানান হারুন। কিন্তু সেখানে বাসার মেইন গেট বন্ধ পাওয়ায় ভুক্তভোগীকে নিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গাড়িতে করে ঘুরে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে তারা।

কমান্ডার মঈন বলেন, গ্রেফতার মাসুদের দেওয়া তথ্যমতে, বাসায় ঢুকতে না পারায় সাবেক স্বামী হারুন ভুক্তভোগী নারীকে রাতে অন্যত্র রাখার নির্দেশ দিলে মাসুদ গাড়িসহ রাত ১২টার দিকে কাঁচপুর এলাকায় পরিচিত একটি গ্যারেজে নিয়ে যায়। সেখানে নেওয়ার পথে অপহৃত নারীকে নির্যাতন করা হয়, প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ভুক্তভোগীর কাছে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে তারা। তার কাছে থাকা নগদ দেড় লাখ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

পরদিন ১৮ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর মাদারটেক এলাকায় যায় তারা। সেখানে জুমার নামাজ পর্যন্ত অবস্থান করে। এ সময় গ্রেফতার মাসুদ ভুক্তভোগীর প্রথম স্বামীর সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ করেন। তিনি জুমার নামাজের পর হাতিরঝিলের সেই আগের বাসায় নেওয়ার নির্দেশ দেন।

দুপুরে খাবার সময় হলে মাসুদ, রাজু ও সাব্বির খাবার আনতে যায় এবং পনু, সাইফুল ও শান্ত গাড়ির বাইরে পাহারায় থাকে। এসময় সুযোগ বুঝে ভুক্তভোগী বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার শুরু করলে স্থানীয় লোকজন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে সাইফুল, সাব্বির ও রাজুকে আটক করে। মাসুদ, পনু ও শান্ত পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ এসে ভুক্তভোগীকে হেফাজতে নেয় এবং সাইফুল, সাব্বির ও রাজুকে গ্রেফতার করে। তাদের কাছ থেকে ভুক্তভোগীর ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করে।

গ্রেফতার মাসুদ সম্পর্কে কমান্ডার মঈন বলেন, ২৫ বছর ধরে পেশায় গাড়িচালক মাসুদ আগে বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের ভারী যানবাহন চালিয়েছেন। পরে বাস চালানোর সময় একটি সড়ক দুর্ঘটনায় কয়েকজন নিহতের ঘটনায় তার নামে মামলা হলে তার ভারী যান চালানোর লাইসেন্স বাতিল হয়। এছাড়া গাড়ি চুরিসহ এলাকায় বিভিন্ন ধরনের অপকর্মের সঙ্গে জড়িত মাসুদ।

তিনি বলেন, রাজধানীর বাবুবাজার এলাকায় তার এক বন্ধুর বাসায় এবং গাজীপুরের শ্রীপুর এলাকায় তার এক আত্মীয়ের বাসায় আত্মগোপনে ছিলেন মাসুদ। পরে গাজীপুরের শ্রীপুর এলাকা থেকে র‌্যাব তাকে গ্রেফতার করা হয়। পনু পেশায় একজন সিএনজিচালক। একই এলাকায় বসবাস করার কারণে গ্রেফতার মাসুদের সঙ্গে সুসম্পর্ক ছিল। অপহরণের ঘটনায় গ্রেফতার মাসুদ তাকে সাড়ে ৬ হাজার টাকা অগ্রিম প্রদান করে।

এছাড়া হাফিজ দূরপাল্লার বাসচালক। ২০২২ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে সিলেট যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনার ফলে তার চাকরি চলে যায়। অপহরণের ঘটনায় তিনি পেয়েছেন মাত্র ৫ হাজার টাকা।

নারী কর কর্মকর্তাকে অপহরণের মূল পরিকল্পনাকারী সাবেক স্বামী হারুন কোথায়? জানতে চাইলে কমান্ডার মঈন বলেন, তিনি মগবাজারের বাসায়ই অবস্থান করছেন বলে জেনেছি। অপহরণে তার সংশ্লিষ্টতার তথ্য পেয়েই কেন এখনো তাকে গ্রেফতার করা হয়নি? জানতে চাইলে কমান্ডার মঈন বলেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানাতে পারে। তবে র‌্যাব গ্রেফতারের পর মামলার মূল আসামি মাসুদ আজ সকালে নারী কর কর্মকর্তা অপহরণে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে সাবেক স্বামী হারুনের সম্পর্কে তথ্য দিয়েছে। হারুনের নাম মামলার এজাহারে নেই। যে কারণে প্রাপ্ত তথ্য তদন্ত সংস্থাকে জানানো হবে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবে।




ভোলায় দুই হাজার ইয়াবাসহ যুবক আটক

মোঃ তৈয়বুর রহমান (ভোলা): জেলায় ইয়াবাসহ মো: আ‌নোয়ার হো‌সেন না‌মে এক মাদক কারবারী‌কে আটক ক‌রে‌ছে কোস্টগার্ড দ‌ক্ষিণ জো‌নের সদস‌্যরা। আটকৃত আ‌নোয়ার হো‌সেন ভোলা পৌর কাঠা‌লি এলাকার ইউনুছ মিয়ার ছে‌লে। গতকাল দুপু‌রের দি‌কে ভোলা সদ‌রের মাদ্রাসা বাজার এলাকা থে‌কে তা‌কে আটক করা হয়।

কোস্টগা‌র্ড দ‌ক্ষিণ জো‌নের স্টাফ অ‌ফিসার অপা‌রেশন লে. এম হাসান মে‌হেদী গতকাল বি‌কে‌লে ভোলার খেয়াঘাট সংলগ্ন ক্স্টেগার্ড দ‌ক্ষিণ জো‌নের কার্যাল‌য়ে এক সংবাদ স‌ম্মেল‌নে জানান, গোপন সংবা‌দের ভি‌ত্তি‌তে কোস্টগার্ড দ‌ক্ষিণ জো‌নের সদস‌্যরা এক‌টি অ‌ভিযান প‌রিচালনা ক‌রে ২ হাজার পিস ইয়াবা ও নগদ ১ হাজার ৪০৪ টাকাসহ আ‌নোয়ার হো‌সেন না‌মে মাদক কারবারী‌কে আটক করা হয়।




রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে এনবিআরের নারী কর্মকর্তাকে নির্যাতন

চন্দ্রদীপ নিউজ ডেস্ক :রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআরের এক নারী কর্মকর্তাকে তুলে নিয়ে গ্যারেজে আটকে নির্যাতন এবং অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার সাবেক গাড়িচালক ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে।

গত শুক্রবারের ওই ঘটনায় অপহরণ ও নির্যাতনের একটি মামলা হয়েছে রমনা মডেল থানায়। পুলিশ এ পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেফতার করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন ওসি আবুল হাসান।

নির্যাতনের শিকার মাসুমা খাতুন এনবিআরের যুগ্ম কমিশনারের (ট্যাক্স) কর অঞ্চল-২-এ কর্মরত আছেন। গ্রিন রোডের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ বলছে, গত ১৮ আগস্ট রাত ৮টার দিকে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে মাসুমা ও তার গাড়িচালককে মারধর করে কয়েকজন। এর পর সেখান থেকে মাসুমাকে তুলে নিয়ে সবুজবাগ থানা এলাকার একটি গ্যারেজে ১৮ ঘণ্টা আটকে রাখে তারা। সেই সময় নির্যাতনে এ কর্মকর্তার পা ভেঙে যায়। তার চোখও মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

মাসুমার করা মামলার এজাহারে বলা হয়, ওই দিন বড় মগবাজার থেকে নিজের গাড়িতে করে সিদ্ধেশ্বরীর বাসায় ফিরছিলেন এই কর কর্মকর্তা। ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে পৌঁছালে তাদের গাড়িতে ধাক্কা দেয় একটি মোটরসাইকেল। চালক গাড়ি থেকে নামলে সংঘবদ্ধ কয়েকজন চাবি কেড়ে নিয়ে গাড়িচালক আনোয়ার ও মাসুমাকে মারধর শুরু করে।

এর পর আনোয়ারকে রেখে মাসুমা ও তার গাড়ি সবুজবাগের একটি গ্যারেজে নিয়ে যান অপহরকারীরা। মাসুমার মুখ টেপ দিয়ে আটকে রাতভর নির্যাতন করা হয়। পর দিন দুপুর ২টা পর্যন্ত তাকে আটকে রেখে নির্যাতন চলে।

ওসি আবুল হাসান বলেন, দুপুর ২টার পর দুর্বৃত্তরা তাদের চক্রের দুই-তিনজনকে গাড়ি পাহারায় রেখে খাবার কিনতে যায়। ওই সুযোগে মাসুমা খাতুন গাড়ি থেকে নেমে চিৎকার শুরু করেন। এর পর আশপাশের লোকজন এগিয়ে তাকে উদ্ধার করে। অপহরণকারীদের তিন সদস্যকে আটক করে শাহবাগ থানায় খবর দেয় তারা। পরে সবুজবাগ থানার পুলিশ মাসুমাকে উদ্ধার করে এবং ওই তিনজনকে গ্রেফতার করে।

মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিতে মাসুমার সাবেক গাড়িচালক মো. মাসুদের পরিকল্পনায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানান রমনা থানার ওসি।

মাসুদকে ‘সংঘবদ্ধ অপহরণকারী চক্রের সদস্য’ অ্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, মাসুদই পরিকল্পনা করে তাদের বাহিনীর সদস্যদের তথ্য দেয়। মাসুমা খাতুনকে অপহরণ করে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী সহযোগীদের নিয়ে মাসুদ এ ঘটনা ঘটায়।

এজাহারে মাসুদসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করেছেন এনবিআরের ওই কর্মকর্তা। ঘটনার সময় গ্রেফতার সাইফুল ইসলাম, আবু বক্কর সিদ্দিক ওরফে সাব্বির ও ইয়াছিন আরাফাত রাজু নামের তিনজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মাসুদসহ এই চক্রে চারজন রয়েছে এবং তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে জানিয়ে ওসি আবুল হাসান বলেন, অপহরণের রাতে যুগ্ম কমিশনার মাসুমার কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা এবং তার মোবাইল ছিনিয়ে নেয় চক্রটি। তাকে অপহরণ করতে পারলে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা যাবে, এমন আশ্বাস মাসুদ দিয়েছিলেন তার সহযোগীদের।




বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনে ৭৫ শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারবে

চন্দ্রদীপ রিপোর্ট: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে প্রতি সেমিস্টারে ৫০ জনের পরিবর্তে ৭৫ জন ভর্তি হতে পারবে বলে রায় দিয়েছেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন বিভাগে ১০০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে ৬ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ রায় দেন।

এছাড়া রায়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ৫০ জনের অধিক ভর্তিকৃত শিক্ষার্থী প্রতি ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন সর্বোচ্চ আদালত। এ জরিমানারা টাকার ৮০ শতাংশ বাংলাদেশ বার কাউন্সিলকে ও ২০ শতাংশ সুপ্রিম কোর্টের ডে কেয়ার সেন্টারকে দিতে বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই জরিমানার টাকা পরিশোধ করবে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে অতিরিক্ত ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের রিভিউ আবেদনের শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।

এদিন আদালতে শিক্ষার্থীদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। বার কাউন্সিলের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এস এম কফিল উদ্দিন।

আইনজীবী আহসানুল করিম আদালতের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ২০১৭ সাল থেকে আপিল বিভাগের এই আদেশ কার্যকর হবে।




তারেকের বক্তব্যে নিষেধাজ্ঞার রুল শুনানিতে এজলাস কক্ষে হট্টগোল

চন্দ্রদীপ নিউজ ডেস্ক: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা রুলের শুনানিতে হাইকোর্টের এজলাস কক্ষে হট্টগোল হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ আগস্ট) বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানির একপর্যায়ে বিএনপি ও আওয়ামীপন্থি আইনজীবীদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হট্টগোল হয়।

শুনানির একপর্যায়ে বিএনপির ব্যারিস্টার কায়সার কামাল শুনানির সময় পিছিয়ে আগামীকাল (বুধবার) ধার্য করার কথা বলেন। এসময় সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, কায়সার কামালকে উদ্দেশ করে বলেন, শুনানি কখন হবে সেটা আপনি বলার কে? এসময় কোর্টে উপস্থিত বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা হইচই করে উঠেন। তারা কামরুল ইসলামকে উদ্দেশ করে ‘গম চোর’, ‘গম চোর’ বলে উচ্চ স্বরে হইচই করতে থাকেন। আওয়ামী লীগের আইনজীবীরা কামরুল ইসলামের বক্তব্যে সমর্থন জানান। বিএনপির আইনজীবীরা বলেন, এটা বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ পাননি। এটা হাইকোর্ট।

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল আদালতে বলেন, কোর্টের ভেতরে তিনি (কামরুল ইসলাম) যে ভাষায় কথা বলছেন, আমাদের তো বাইরে বের হতে ভয় হচ্ছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। পরে আদালতের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং শুনানির জন্য দুপুর ২টা সময় নির্ধারণ করেন।

গত ১৩ আগস্ট ঠিকানা সংশোধন করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞায় জারি করা রুলের নোটিশ পাঠাতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী কামরুল ইসলাম, সাঈদ আহমেদ রাজা, সানজিদা খানম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।

এর আগে গত ১০ আগস্ট ঠিকানা সংশোধন করে আবেদন করতে বলেন হাইকোর্ট। পরে রিটকারী ঠিকানা সংশোধনের আবেদন করলে আদালত এ আদেশ দেন।

২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারি এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে তৎকালীন বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ অর্ন্তবর্তীকালীন আদেশ দিয়েছিলেন। একইসঙ্গে তারেক রহমানের বিদেশে অবস্থানের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানাতে পররাষ্ট্রসচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়। তারেক রহমানের পাসপোর্টের মেয়াদ বিষয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) একটি প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন আদালত।

তারেক রহমানের বক্তব্য প্রকাশ ও প্রচার নিষিদ্ধ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কেন বিবাদীদের নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত।

 




জয়কে হত্যাচেষ্টা: শফিক রেহমান, মাহমুদুর রহমানসহ ৫ জনের কারাদণ্ড

চন্দ্রদীপ নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তার তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ এবং হত্যাচেষ্টার মামলায় সাংবাদিক শফিক রেহমান ও আমার দেশ পত্রিকার সাবেক ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানসহ ৫ জনকে পৃথক দুই ধারায় সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান নূরের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত অপর তিন আসামি হলেন- জাসাস নেতা মোহাম্মদ উল্লাহ, রিজভী আহমেদ সিজার ও মিজানুর রহমান ভুইয়া।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মো. আবদুর রহমান খান কাজল বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, আসামিদের দণ্ডবিধির ৩৬৫ ধারায় (অপহরণ) পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। জরিমানার টাকা অনাদায়ে তাদের আরও একমাসের কারাভোগ করতে হবে। এছাড়া একই আইনে ১২০-খ ধারায় (অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র) দুই বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দুই ধারার সাজা একসঙ্গে চলবে বলে বিচারক রায়ে উল্লেখ করেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরের আগে যে কোনো সময় থেকে এ পর্যন্ত বিএনপির সাংস্কৃতিক সংগঠন জাসাসের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ উল্লাহ মামুনসহ বিএনপি ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটভুক্ত অন্যান্য দলের উচ্চপর্যায়ের নেতারা রাজধানীর পল্টনের জাসাস কার্যালয়ে, আমেরিকার নিউ ইয়র্ক শহরে, যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার আসামিরা একত্রিত হয়ে প্রধানমন্ত্রীর ছেলে ও তার প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে আমেরিকায় অপহরণ করে হত্যার ষড়যন্ত্র করেন। ওই ঘটনায় ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফজলুর রহমান ২০১৫ সালের ৩ আগস্ট বাদী হয়ে পল্টন মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

২০১৮ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি এই পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। এ মামলায় সজীব ওয়াজেদ জয়সহ ১২ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।