বরিশালের সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামি ঢাকায় গ্রেফতার

বরিশাল অফিস:  বরিশালে পৃথক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

তারা হলেন- ধর্ষণচেষ্টা মামলার ৬ মাসের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত মানিক ব্যাপারীকে (৪৬) ও মাদক মামলায় সাত বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত রানা সরদারকে (৩৫)। মানিককে ঢাকার রামপুরা এলাকা থেকে ও রানা পল্টন থেকে গ্রেফতার করা হয়। মানিক ১৮ বছর ধরে পলাতক।

গৌরনদী মডেল থানার এএসআই আসাদুল ইসলাম জানান, বুধবার দিবাগত রাতে দীর্ঘ ১৮ বছর পলাতক থাকা ধর্ষণচেষ্টা মামলার ছয় বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি মানিক ব্যাপারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি গৌরনদীর বয়সা গ্রামের মোতলেব ব্যাপারীর ছেলে।

তিনি আরও জানান, একই অভিযানে ঢাকার পল্টন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদক মামলায় সাত বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি রানা সরদারকে গ্রেফতার করা হয়। রানা গৌরনদীর খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ডুমুরিয়া গ্রামের দলিল উদ্দিন সরদারের ছেলে।

গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফজাল হোসেন বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামির অবস্থান শনাক্ত করে ঢাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।




বাইকের মামলা দেওয়ায় পুলিশের ওপর হামলা

এস এল টি তুহিন, বরিশাল: আমরা ছাত্রলীগ, তোরা পুলিশ লীগ। আজকে পুলিশ পেটাবো” বলেই ট্রাফিক সার্জেন্ট মনিরুল ইসলামের ওপর অর্তকিতভাবে হামলা চালায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০/২৫ জন শিক্ষার্থীরা। মোবাইল ফোনে হামলার ভিডিও ধারণ করায় ট্রাফিক পুলিশের কনস্টেবল মোস্তফা জামালকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়েছে।

এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সার্জেন্ট মনিরুল ইসলামের ওয়ারলেস ও বডি অন ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। যদিও পরবর্তীতে তা উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে নগরীতে কাগজপত্র বিহীন মোটরসাইকেল আটক করার অপরাধে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় মোটরসাইকেল চালকসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন ছাত্রকে আটক করেছেন কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ।

নগরীর বান্দ রোডের পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ের সামনের সড়কে সাজেন্ট ও কনস্টবলের ওপর হামলার পর উল্টো পুলিশের বিরুদ্ধে হেনস্থার অভিযোগ এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ঢাকা-পটুয়াখালী মহাসড়কে শিক্ষার্থীরা ঘন্টাব্যাপী অবরোধ করে অগ্নিসংযোগ করেন। এ সময় তারা আটককৃত শিক্ষার্থীদের মুক্তির দাবি করেন।

সড়ক অবরোধের ফলে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে দুরপাল্লার যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পরতে হয়েছে। পরবর্তীতে বন্দর থানার ওসি আবদুর রহমান মুকুল সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে এনে যান চলাচল স্বাভাবিক করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হামলায় আহত সার্জেন্ট মনিরুল ইসলাম ও কনস্টেবল মোস্তফা জামালকে শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বুধবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর খোরশেদ আলম বলেন, দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। তার ওপর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের ঘটনা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়ক অবরোধ করার কোনো মানে হয় না। শিক্ষার্থীরা অঙ্গীকার করেছে তারা আর সড়ক অবরোধ করবে না।

আহত সার্জেন্ট মনিরুল ইসলাম বলেন, রাত সোয়া সাতটার দিকে নগরীর শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইমার্জেন্সি গেটের সামনে তিনজনকে বহনকারী একটি মোটরসাইকেলের গতিরোধ করা হয়। গাড়ির কোন কাগজপত্র না থাকায় মামলা দিয়ে মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়। তখন একজন পুলিশকে উদ্দেশ্য করে বলে, আজকে পুলিশ পিটাবো। এ কথা বলেই তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। মনিরুল ইসলাম আরও বলেন, রাত সোয়া আটটার দিকে ২০/২৫ জনের একটি দল ঘটনাস্থলে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও ছাত্রলীগ নেতা পরিচয় দিয়ে কেন মোটরসাইকেলটি আটক করা হয়েছে তা জানতে চায়। এ সময় তাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগেই তারা বলে, আমরা ছাত্রলীগ-তোরা পুলিশ লীগ। বলেই অর্তকিতভাবে হামলা চালায়।

বুধবার সকালে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শরিফুল ইসলাম, মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী আনভির ইসলাম ও রমজান হোসেন সোহাগ নামের তিনজনকে আটক করা হয়েছে। ওসি আরও জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আটককৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনার তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




বরগুনায় শিশু আইন ২০১৩ বাস্তবায়ন শীর্ষক সমন্বয় সভা

বরগুনা  অফিস:  বরগুনায় শিশু আইন ২০১৩ বাস্তবায়ন শীর্ষক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। (৪ সেপ্টেম্বর) সোমবার বিকেল সাড়ে ৪ টায় বরগুনা জেলা জজ আদালতের সম্মেলন কক্ষে এ সভার আয়োজন করেন স্ট্রেনথেনিং ক্যাপাসিটি অব জুডিসিয়াল সিস্টেম ফর চাইল্ড প্রোটেকশন ইন বাংলাদেশ (এসসিজেএসসিপিবি)” প্রকল্প।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মো: রফিকুল ইসলাম, সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ বরগুনা। সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জনাব মো: মশিউর রহমান খান,(বিচারক জেলা ও দায়রা জজ) নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইবুনাল বরগুনা, জনাব মোহাম্মাদ মাহবুব আলম চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বরগুনা, জনাব মোজাম্মেল হোসেন রেজা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বরগুনা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা, জেলা শিশু বিষয়ক,জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তার প্রতিনিধি, বিজ্ঞ পাবলিক প্রসিকিউটরগণ ও জেলা তথ্য অফিসার ও ছয়টি থানার অফিসার্স ইনচার্জ ও শিশু বিষয়ক পুলিশ কর্মকতা গণ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মো.জুলহাস মোল্লা, ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর,বরিশাল বিভাগ, এসসিজেএসসিপিবি প্রকল্প।

এসময় তারা আলোচনা করেন, শিশু আইন ২০১৩ বাংলাদেশে শিশু সুরক্ষার প্রধানআইনের সহিত সংঘাতে জড়িত শিশু, আইনের সংস্পর্শে আসা শিশু ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুর যতœ, পরিচর্যা ও সুরক্ষার নিশ্চয়তা বিধান করা। এই আইনের মূল উদ্দেশ্য। এই আইনের প্রাসঙ্গিক ব্যক্তিবর্গ হচ্ছে শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা, প্রবেশন কর্মকর্তা, বিচারক, শিশু আদালত।

শিশু আইন ২০১৩ অনুসারে আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত শিশুদের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহনের প্রাথমিক দায়িত্ব শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তার। এই আইন অনুসারে শিশুকে গ্রেপ্তার করা হলে শিশুবিষয়ক পুলিশ কর্মক আবশ্যক গৃহীত পদক্ষেপসমূহ হচ্ছে, প্রবেশন কর্মকর্তা ও ওই শিশুর মাতাপিতাকে উক্তরূপ রাফতার সম্পর্কে অবহিত করা, প্রবেশন কর্মকর্তার সাথে আলোচনা ও পরামর্শক্রমে রাফতারকৃত শিশুর বিষয়ে অপ্রাতিষ্ঠানিক গ্রহণ করা অর্থাৎ শিশুকে থানা থেকে মুক্তি প্রদান অথবা বিকল্প পন্থায় প্রেরণ করা অথবা থানা থেকে করা। উক্তরূপ কোন পন্থা, গ্রেপ্তারকৃত শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থের পরিপন্থী হলে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা যেমন কে কোন নিরাপদ স্থানে প্রেরণের ব্যবস্থা করা এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভ্রমন সময় ব্যতীত) শিশু আদালতে হাজির করা।

শিশু আদালত কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেসমূহ হচ্ছে আইনের সাথে সংঘাতে জড়িত শিশুর ক্ষেত্রে বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ গ্রহণের জন্য প্রবেশন কর্মকর্তাকে নির্দেশ প্রদান, বিকল্প পন্থায় প্রেরণ ও জামিন প্রদান। উক্তরূপ ব্যবস্থাসমূহ গ্রহণ করা সম্ভব না হলে প্রাতিষ্ঠানিক পরিচর্যার অংশ হিসাবে আদালত হতে যুক্তিসঙ্গত দূরত্বে মধ্যে অবস্থিত কোন প্রেরণের আদেশ প্রদান। আদালতে শিশুর প্রথম উপস্থিতির তারিখ হতে ৩৬০ দিনের মধ্যে এবং প্রয়োজনে আরো ৬০ দিন বর্ণিত চারকার্য সম্পন্ন করা।




প্রেমিকার অশ্লীল ছবি ফেসবুকে পোষ্ট, যুবকের ৮ বছরের কারাদণ্ড

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী: পটুয়াখালীতে প্রেমিকার ফেসবুক পাসওয়ার্ড নিয়ে তার অশ্লীল ছবি বানিয়ে পোস্ট করার অপরাধে প্রেমিককে তিন ধারায় মোট ৮ বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তিন লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে চার মাস করে মোট এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে তাকে।

সোমবার (৪ সেপ্টেম্বর) বরিশাল সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. গোলাম ফারুক এ রায় প্রদান করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বিশেষ পিপি শেখ ইসতিয়াক আহম্মেদ রুবেল।

দণ্ডিত প্রেমিকের নাম তাহসিন মিরাজ মৃধা (২৮)। তিনি পটুয়াখালী জেলার মরিচবুনিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শানু মৃধার ছেলে। রায় ঘোষণার সময় আসামি তাহসিন পলাতক ছিলেন।আদালতের বেঞ্চ সহকারী নুরুল ইসলাম কাকন মামলার বরাত দিয়ে জানান, পটুয়াখালীর বাজার খোলা এলাকার এক তরুণীর সঙ্গে তাহসিন মিরাজ মৃধার সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তারা বিভিন্ন এলাকায় একসঙ্গে ঘুরতেও যেতেন। এক পর্যায়ে কৌশলে তরুণীর ফেসবুকের পাসওয়ার্ড নেন প্রেমিক যুবক। পরে তরুণীকে অনৈতিক প্রস্তাব দেন। এতে তরুণী রাজি না হলে তার ছবি এডিট করে অশ্লীল ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন। এ ঘটনায় ২০২০ সালের ৫ আগস্ট প্রেমিকার দাদা বাদী হয়ে পটুয়াখালী থানায় মামলা করেন। থানার এসআই রুনা লায়লা মামলার তদন্ত করে ২০২১ সালের ১১ জানুয়ারি চার্জশিট জমা দেন।
তিনি আরও জানান, বিচারক তিন ধারায় ৩, ২ ও ৩ বছর করে মোট ৮ বছর কারাদণ্ড ও এক লাখ করে মোট তিন লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ৪ মাস করে মোট এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আসামি তাহসিনকে।




বরিশালের আলোচিত হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

বরিশাল অফিস : জেলার গৌরনদী মডেল থানা পুলিশ অবশেষে বরিশালের বহুল আলোচিত স্কুল ছাত্র হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি দুর্ধর্ষ ডাকাত কার্তিক ভক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে গ্রেপ্তারকৃতকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দিবাগত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গৌরনদী মডেল থানার ওসি মোঃ আফজাল হোসেনের দিকনির্দেশনায় থানার এসআই মোঃ সাহাব উদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে আগৈলঝাড়ার পশ্চিম মোল্লাপাড়া গ্রামে অভিযান পরিচালনা করেন।

একপর্যায়ে ওই গ্রামে আতক গোপনে থাকা সাজাপ্রাপ্ত আসামি কার্তিক ভক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় কার্তিকের সহযোগি বিশ্বদেব হালদার, রনজিত ও সুভাষ বিশ্বাসের নেতৃত্বে ২০/২৫জনে অর্তকিত হামলা চালিয়ে এসআইসহ দুইজন পুলিশ কনস্টবলকে আহত করে হ্যান্ডকাফ পরিহিত অবস্থায় তাকে (কার্তিক) ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
খবর পেয়ে গৌরনদী ও আগৈলঝাড়ার দুই থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে চারঘন্টা পর (রাত বারোটার দিকে) ঘটনাস্থল থেকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দূরত্বের রামের বাজার এলাকায় আত্মগোপন করা সাজাপ্রাপ্ত আসামি দুর্ধর্ষ ডাকাত কার্তিক ভক্তকে (৩৫) গ্রেপ্তার করে।

হামলার ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেছে। গ্রেপ্তারকৃত সাজাপ্রাপ্ত আসামি ও দুর্ধর্ষ ডাকাত কার্তিক ভক্ত গৌরনদী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সুন্দরদী মহল্লার মথুরা ভক্তর ছেলে।

২০১৩ সালের ১৩ জানুয়ারি বিকেলে গৌরনদীর সুন্দরদী মহল্লার ব্যবসায়ী কৃষ্ণ দাসের ছেলে ও উপজেলার টরকী বন্দর ভিক্টোরী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেনীর মেধাবী ছাত্র রানা দাসকে কৌশলে স্থানীয় কার্তিক ভক্ত, সুলতান শরীফসহ তাদের সহযোগিরা পাচারের উদ্দেশ্যে অপহরন করে। তাৎক্ষনিক ওইসময় অপহরনকারীদের নাম প্রকাশ পাওয়ায় ১৪ জানুয়ারি রাতে অপহৃতার বাবা বাদি হয়ে কার্তিক ভক্ত, সুলতান শরীফ ও তার স্ত্রী হেনা বেগমকে আসামি করে গৌরনদী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ তাৎক্ষনিক অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে ১০দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে সোর্পদ করেন। আদালতের বিচারক কার্তিক ও সুলতানের দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরবর্তীতে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের প্রথমদিনেই আসামিরা পাচারের উদ্দেশ্যে স্কুল ছাত্র রানা দাসকে অপহরন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন। পরবর্তীতে অপহরনের বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় অপহৃত রানাকে হত্যা করে লাশ গুমের কথা স্বীকার করেন। এরপর অপহরনের পাঁচদিন পর আসামিদের স্বীকারোক্তিমতে টরকীরচর এলাকার একটি পানবরজের পাশের ডোবার কচুরিপানার নিচ থেকে রানার লাশ উদ্ধার করা হয়।

ওইসময় এলাকাবাসী ও নিহতের সহপাঠিরা স্কুল ছাত্র রানার লাশ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিলসহ ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের নীলখোলায় অবরোধ করে হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবি করেন। পরে বিক্ষুব্ধরা আসামিদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেছিলো।




বাউফলে ভূমি ও কৃষিতে নারীর অধিকার শীর্ষক সেমিনার

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী: বাউফলে নারীর ভূমি অধিকার নিশ্চিতে দাঁড়াই একসাথে এই শ্লোগানে “ভুমি ও কৃষিতে নারীর অধিকার স্থানীয় বাস্তবতা, নাগরিক ভাবনা ও করনীয়” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্টিত হয়েছে। বেসরকারি সংস্থা স্পিড ট্রাস্টের আয়োজনে ও এসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট (এএলআরডি) সহযোগিতায় মঙ্গলবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন কক্ষে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
স্পিড ট্রাস্ট মিশন হেড সামসুল ইসলাম দিপু সভাপতিত্বে ও স্পিড ট্রাস্ট উজ্জীবকা সাইফুল ইসলামের সঞ্চলনায় সেমিনারে প্রধান অতিথি উথেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. বশীর গাজী।
ভূমি ও কৃষিতে নারীর অধিকারের নিয়ে এএলআরডি উপ-নির্বহী পরিচালক রওশন জাহান মনি সেমিনারে বলেন, বাংলাদেশে নারী ও পুরষের মধ্যে সমতাযনের পতে একটি উল্লেখযোগ্য প্রতিবন্ধকতা হরো ভূমিতে নারীর অধিকারহীনতা। মূলত বৈষম্যমূলক সামজিক ক্ষমতা কাঠামো এবং পিতৃতানিএক ক্ষমতা সস্পকেৃর কারণেই নারীরা ভূমি অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। শুধু ভূমি নয়, কৃষি বা কৃষিজ উৎপাদন থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে নারীরা।

এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি প্রতীপ কুমার কুন্ড, বাউফল প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিরুল ইসলাম, সাবেক ভাইস চেযারম্যান শামসুল আলম মিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান, স্লোব-বাংলাদেশ প্রকল্প কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন, সাংবাদিক অহিদুজ্জামান ডিউক, সাংবাদিক জসিম উদ্দিন, কৃষি সম্প্রসারন উপ-সহকৃষি কর্মকর্তা আনছার মোল্লা, আরডিএস পরিচালক আ. খালেক প্রমুখ।

প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বহী অফিসার মো. বশীর গাজী বলেন, বর্তমান সরকার সর্বক্ষেত্রে নারীদের অগ্রাধিকার দিচ্ছে। আগামী দিন থেকে পুরুষের পাশাপাশি সম হারে উপজেলা থেকে কৃষি প্রনোদনা দেয়া হবে। যাতে নারীরা কৃষি কাজে অংশগ্রহন করে নিজেরা প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।




সর্বোচ্চ কারাবন্দি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে, সর্বনিম্ন ঝালকাঠিতে

চন্দ্রদীপ নিউজ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন, দেশের কারাগারগুলোতে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ বেশি বন্দি রয়েছেন। বর্তমানে কারাগারগুলোর ধারণক্ষমতা ৪২ হাজার ৮৬৬ জন। আর মোট বন্দির সংখ্যা ৭৭ হাজার ২০৩ জন। এরমধ্যে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে সর্বোচ্চ ৯ হাজার ৭৬৫ জন বন্দি রয়েছেন। আর ঝালকাঠি জেলা কারাগারে সর্বনিম্ন ১৮৯ জন বন্দি আছেন।

রবিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে লিখিত প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানান। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিকেল ৫টায় একাদশ জাতীয় সংসদের ২৪তম ও ২০২৩ সালের চতুর্থ অধিবেশন শুরু হয়। দেশের সব কারাগারের লাইব্রেরিতে ‘বঙ্গবন্ধু বুক কর্নার’ স্থাপন করা হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সংসদে সরকারি দলের এমপি এম আব্দুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের কারাগারগুলোতে ধারণক্ষমতা ৪২ হাজার ৮৬৬ জন। তবে মোট বন্দির সংখ্যা ৭৭ হাজার ২০৩ জন। এরমধ্যে যশোর, সিলেট, দিনাজপুর, ফেনী, পিরোজপুর ও মাদারীপুর কারাগার ছাড়া দেশের অন্য সব কারাগারে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত বন্দি রয়েছে। এরমধ্যে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে সর্বোচ্চ ৯ হাজার ৭৬৫ জন বন্দি রয়েছেন। এই কারাগারের ধারণক্ষমতা ৪ হাজার ৫৯০ জন। অন্যদিকে ঝালকাঠি জেলা কারাগারে সর্বনিম্ন ১৮৯ জন বন্দি রয়েছেন।

কারাগারের ধারণক্ষমতা বাড়ানো একটি চলমান প্রক্রিয়া চলছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, কারাগারের ধারণক্ষমতা বাড়ানো একটি চলমান প্রক্রিয়া। বর্তমানে ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, খুলনা, নরসিংদী ও জামালপুর- এ ৫টি জেলা কারাগার নির্মাণ ও সম্প্রসারণের কাজ চলছে। কারাগারগুলোর নির্মাণকাজ শেষ হলে বন্দির ধারণক্ষমতা প্রায় পাঁচ হাজার জন বাড়বে।

সরকারি দলের এমপি নিজাম উদ্দিন হাজারীর প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কারাগারে আটক বন্দিদের মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োজিত আছেন। এছাড়া বন্দিদের বিভিন্ন ধরনের ইনডোর খেলাধুলা, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, মেডিটেশন এবং বই ও পত্রপত্রিকা পড়ার ব্যবস্থা রয়েছে। আর কারা অভ্যন্তরে অপরাধের কুফল সংক্রান্ত সচেতনামূলক ডকুমেন্টারি বা চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হয়। এছাড়া কারা কর্মকর্তা ও কারা পরিদর্শক কর্তৃক কারা অভ্যন্তরে পরিদর্শনকালে মানবিক মূল্যবোধ সম্পর্কিত বিষয়ে আলোকপাত করা হয়।




গুদাম থেকে ৫৫ কেজি সোনা বেহাত, ফাঁসছেন কাস্টমসের ৪ কর্তা

চন্দ্রদীপ নিউজ:

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাস্টম হাউসের নিজস্ব গুদামে দিনভর অভিযান চালিয়ে ৫৫ কেজি সোনা চুরি বা বেহাত হওয়ার সত্যতা পাওয়া গেছে। গুদাম থেকে সোনা চুরি বা বেহাতের ঘটনায় চার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দায়ী করে মামলার প্রস্তুতি নিয়েছে ঢাকা কাস্টম হাউস।

রোববার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতেই বিমান বন্দর থানায় এ ঘটনায় মামলা দায়ের হতে যাচ্ছে। মামলায় গুদাম ইনচার্জসহ মোট চারজনকে আসামি করা হচ্ছে। একইসঙ্গে পুরো ঘটনা তদন্তের জন্য যুগ্ম-কমিশনার মিনহাজ উদ্দীনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি টিম গঠন করা হয়েছে।

ঢাকা কাস্টমস হাউসের কমিশনার নুরুল হুদা আজাদ বলেন, বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি। এজন্য দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত চারজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হচ্ছে। আমাদের আইনি পদক্ষেপ চলমান থাকবে।

অন্য একটি সূত্র বলছে, গুদামে আনুমানিক ২০০ কেজির বেশি সোনা ছিল। যার মধ্যে ৫৫ কেজি চুরি হয়েছে এটা অনেকটা নিশ্চিত। সেটি ভিত্তি করেই মামলা দায়ের করা হচ্ছে।

জানা গেছে, ২০২০ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সময়ে জমা হওয়া সোনা থেকে ওই চুরির ঘটনা ঘটেছে।

এর আগে সকালে ঢাকা কাস্টমস হাউসের কর্মকর্তারা গুদাম থেকে চুরি হওয়া সোনার পরিমাণ ২০-২৫ কেজি হতে পারে বলে জানিয়েছিলেন।

কাস্টমস হাউসের একাধিক কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে বলেন, বেশ কিছুদিন ধরেই জব্দ করা মালামাল গুদাম থেকে চুরি হচ্ছে- এমন অভিযোগের ভিত্তিতে ঢাকা কাস্টমস হাউস কাজ করছিল। শুক্রবার ও শনিবার কাস্টমস হাউজের আলাদা দুটি টিম গুদামের মালামালের তালিকা প্রস্তুত করা এবং গুদাম পরিষ্কারের কাজ শুরু করে। গতকাল (শনিবার) একটি টিম দেখতে পায় যে, বাইরে থেকে তালা অক্ষত থাকলেও ভেতরের লকার ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। এরপরই সন্দেহ সত্যি বলে প্রমাণিত হয়। গুদামের মালামালের চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। দ্রুতই চুরি হওয়া প্রকৃত মালামাল সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য বের করা সম্ভব হবে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভেতরে ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড’ অর্থাৎ হারিয়ে যাওয়া ও খুঁজে পাওয়া পণ্য রাখার স্থানের পাশেই রয়েছে কাস্টমসের গুদাম। বিমানবন্দরে কাস্টমসহ বিভিন্ন এজেন্সির জব্দ করা মূল্যবান সামগ্রী জমা থাকে এই গুদামে।




পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় গৃহবধুকে শ্বাসরোধ করে হত্যা : স্বামী ও শাশুরীসহ আটক ৫ জন

এস এম পারভেজ (পিরোজপুর): জেলার ভান্ডারিয়ায় সাদিয়া আক্তার মুক্তা (১৮) নামের এক গৃহবধুকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগে স্বামী ও শাশুরীসহ ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। সে ভান্ডারিয়া পৌর শহরের টিএন্ডটি সড়কের মুনিম জমাদ্দারের স্ত্রী।

স্থানীয় ও ভান্ডারিয়া থানাসুত্রে জানাগেছে, ভান্ডারিয়া পৌর শহরের টিএন্ডটি সড়কের মামুন জমাদ্দারের ছেলে মুনিম জমাদ্দার বছর খানেক আগে ভান্ডারিয়া শ্রীপুর গ্রামের মজিবুর রহমান মুন্সির মেয়ে মুক্তাকে বিয়ে করে। কয়েক দিন আগে পারিবারিক কলহের কারনে মুক্তাকে তার স্বামী মারধোর করে। এ ঘটনার পর মুক্তা বাবার বাড়ি চলে যায়। গতকাল শুক্রবার সকাল ৯ টার দিকে মুনিম গিয়ে মুক্তাকে নিয়ে আসে। পরে সে মুক্তাকে নিয়ে ভান্ডারিয়ার চেচরী রামপুর ব্রীজের কাছে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকেই মুনিমের বেশ কয়েকজন বন্ধুবান্ধব উপস্থিত হয়। তাদের সহযোগীতায় হিজাব পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে কাছে থাকা বেরীবাঁধের পাশে ফেলে রাখে। ঘটনাটি মুনিম তার মা ছবি আক্তারকে জানালে ছবি সেখানে লাশ দেখতে যায় এবং সেখান থেকে লাশ এনে ভান্ডারিয়ার কানুয়া গ্রামের একটি ইট ভাটার পাশে কচুরীপানার মধ্যে লুকিয়ে রাখে।

এদিকে লাশের ব্যাপারে গভীর রাতে অজ্ঞাত নম্বর থেকে ভান্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ফোনে একটি কল আসে। সংবাদ পেয়ে ভান্ডারিয়া থানা পুলিশ রাত পৌনে ৪ টায় সেখানে যায় এবং লাশ উদ্ধার করে আজ শনিবার সকালে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ মুক্তার স্বামী মুনিম, শাশুরী ছবি এবং শাকিব খন্দকার, মারুফ ও সিয়াম খান সজিব নামের ৫ জনকে আটক করে।

ভান্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুজ্জামান জানান, রাতে অজ্ঞাত নামা একটি ফোন থেকে হত্যা ঘটনা জানতে পারি সাথে সাথে আমি সহ থানা অফিসার পুলিশও ফায়ার সার্ভিসের লোক নিয়ে ঘটনা স্থলে যাই এ ঘটনায় ৫ জনকে আটক করা হয়েছে। এবং একটি হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে।




এমটিএফই কেলেঙ্কারি : নজরদারিতে সিইওরা, তদন্তে ব্যবহার হচ্ছে এআই-রোবট

চন্দ্রদীপ নিউজ : কেউ বিক্রি করেছেন শখের মোটরসাইকেল, কেউ নিয়েছেন ব্যাংক থেকে ঋণ। কেউ আবার রেখেছেন জমি বন্ধক, নয়তো করেছেন ধারদেনা কিংবা গরু-ছাগল বিক্রি। সবাই হতে চেয়েছেন রাতারাতি ধনী। এই প্রলোভন দেখিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটে নিয়েছে ফরেন এক্সচেঞ্জ গ্রুপ ইনকরপোরেটেড (এমটিএফই)। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে রয়েছেন এমটিএফই-র সিইওরা। মামলাও হয়েছে কয়েকটি। তদন্তে সহায়তা নেওয়া হচ্ছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবটের।

মূলত এটা মোবাইলভিত্তিক অ্যাপস। এই অ্যাপস ডাউনলোড করে যে কেউ অ্যাকাউন্ট খুলতে পারতেন। অ্যাকাউন্ট খোলার পরেই মূলত লেনদেন শুরু হতো। গত ১৭ আগস্ট হঠাৎ এমটিএফই-র অ্যাপ বন্ধ হওয়ায় লাখ লাখ মানুষের বিনিয়োগ করা অর্থ উধাও হয়ে যায়। উল্টো বেড়েছে তাদের ঋণের বোঝা।

প্রথমদিকে এমটিএফই অ্যাপে যুক্ত প্রত্যেকেই ৬১, ২০১, ৫০১, ৯০১ ও ২ হাজার ডলার ডিপোজিট করেন। বেশি টাকা আয় করতে কেউ কেউ পাঁচ হাজার ডলারের বেশিও বিনিয়োগ করেছিলেন। এমটিএফইতে করা বিনিয়োগ হারিয়ে অনেকে ফতুর হলেও পুলিশের শরণাপন্ন হচ্ছেন না কেউ। কারণ ক্রিপ্টো কারেন্সিতে লেনদেন বাংলাদেশে নিষিদ্ধ। তবে এর মধ্যে সাহস করে কেউ কেউ থানায় অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এরই মধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। দেশের বাইরে থেকে পরিচালিত এ অ্যাপের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। টাকা কীভাবে পাচার হলো এবং কারাইবা এর সঙ্গে জড়িত এসব খুঁজতে ব্যস্ত সময় পার করছে পুলিশের সাইবার ইউনিটগুলো।

পুলিশ বলছে, এমটিএফই অ্যাপে রেজিস্ট্রেশনের জন্য প্রয়োজন হতো মোবাইল নম্বর, বিকাশ অথবা নগদ নম্বর, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর। ভার্চুয়ালি ক্রিপ্টো কারেন্সি ও ডলার কেনাবেচা করা হলেও লভ্যাংশ দেওয়া হতো মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে। মোবাইল নম্বর, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দিয়ে যারা অ্যাপে অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন তাদের আইনের আওতায় আনতে কাজ চলছে। এজন্য পুলিশের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) কাজে লাগানো হচ্ছে।

যেভাবে কাজ করবে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স:

তথ্য-প্রযুক্তির এই যুগে অনলাইনে হরহামেশাই যে কেউ অ্যাপ ডাউনলোড করে অনেক কিছু করছে। এমটিএফই অ্যাপে যারা অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন তাদের ফুটপ্রিন্ট রয়ে গেছে। অ্যাপে যারা মোবাইল নম্বর, মোবাইল ব্যাংকিং নম্বর, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দিয়েছেন তাদের খুব সহজেই খুঁজে বের করা সম্ভব হবে। এরই মধ্যে দেশের কয়েকটি থানায় মামলা হয়েছে। মামলার তদন্তে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে কাজ চলছে। অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এ বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সিআইডির ফরেনসিকও এমটিএফই অ্যাপ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেছে।

প্রতারণার ঘটনায় দেশের বিভিন্ন স্থানে করা কয়েকটি মামলা বিশ্লেষণ করে এবং মানুষের কাছ থেকে আসা তথ্য থেকে এমনটিই ধারণা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি)। এ কারণে এই সিইওদের খোঁজে মাঠে নেমেছে সিআইডি।

এমটিএফই নিয়ে ঢাকায় মামলা: খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সম্প্রতি সিআইডি ফাঁদে পড়া গ্রাহকদের কাছ থেকে তথ্য চেয়ে বিবৃতি দেয়। এরপর ২৮ আগস্ট রাতে মারুফ রহমান ফাহিম নামে এক ভুক্তভোগী মামলা করেন। রাজধানীর খিলগাঁও থানায় দায়ের করা মামলার এজাহারে তিনি প্রধান আসামি করেন মাসুদ আল ইসলামকে। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগরের সাতপুরায়।

বলছেন তদন্ত কর্মকর্তারা

ডিএমপি, বগুড়া, কুমিল্লা ও কুষ্টিয়ায় করা কয়েকটি মামলা বিশ্লেষণ করে সিআইডির কর্মকর্তারা বলছেন, দেড় থেকে দুই কোটি টাকা যারা বিনিয়োগ করিয়েছিলেন, এমন ব্যক্তিদের সিইও ঘোষণা করেছিল এমটিএফই। বিনিয়োগকারীদের টাকার ওপর মোটা অঙ্কের কমিশনও ছিল তাদের জন্য। এই সিইওদের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাও আছেন। তাদের অনেককে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তবে নজরদারিতে থাকা কয়েকজনের দাবি, তারা নিজেরাও লাখ লাখ টাকা খুইয়েছেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দুবাইভিত্তিক এমটিএফইর প্রতিষ্ঠাতা ও মালিক কুমিল্লার মাসুদ আল ইসলাম। তিনিও দুবাইয়ে এমন একটি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেছিলেন। পরে নিজেই দেশে ব্যবসা করতে এ অ্যাপ চালু করেন। মাসুদকে দেশে ফেরানো না গেলে এমটিএফইতে বিনিয়োগকারীদের টাকা ফেরত আনা সম্ভব নয়। তাই ইন্টারপোলের সহায়তায় তাকে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে। অবশ্য টাকা পাচার করে বিদেশে চলে যাওয়া কোনো অভিযুক্তকেই এখনো ফেরাতে পারেনি পুলিশ।

এ বিষয়ে কথা হয় সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহার সঙ্গে। তিনি বলেন, এমটিএফইতে অ্যাকাউন্ট খোলার পর বিন্যান্স নামে যে অ্যাপস ছিল সেটিতে অফিসিয়ালি সবকিছু রয়েছে। সেখানে কারা জড়িত এবং কারা কত টাকা ইনভেস্ট করেছে তাও রয়েছে। বিন্যান্স অ্যাপসের কোনো তথ্য জানতে হলে তাদের কাছে সহায়তা চাইতে হবে। অ্যাপসের তথ্যগুলো নিতে হলে মামলা রুজু করে ইন্টারপোলের মাধ্যমে এই তথ্য চাওয়া যেতে পারে এবং কর্তৃপক্ষ তথ্য দিতে বাধ্য থাকবে।

সিআইডির সাইবার ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ইউনিটের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. রেজাউল মাসুদ বলেন, এমটিএফই নিয়ে ভুক্তভোগীরা প্রথমে মামলা না করতে চাইলেও এখন দেশের কোনো না কোনো থানায় মামলা হচ্ছে। সিআইডি মামলার তদন্ত শুরু করেছে। অ্যাপে যারা অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন এবং লেনদেন করেছেন তাদের ফুটপ্রিন্ট অনলাইনে রয়েছে। এই তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ও রোবট ব্যবহার করেও কাজ চলমান।