বরিশালে হত্যা মামলার প্রধান আসামীসহ গ্রেপ্তার তিন

 

বরিশাল অফিস: বরিশালের মুলাদীতে আবদুর রব হাওলাদার হত্যা মামলার প্রধান তিন আসামীসহ ৭জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার ভোর রাত পৌনে ৪টার দিকে হিজলা উপজেলার গৌরব্দী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী কানীবগীরচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাজের চৌধুরীর পরিত্যাক্ত ঘর থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এ সময় তাদের কাছ থেকে ২টি পাইপগান, ৪টি ক্রিচ, ৩টি রামদা, ৬ রাউ- গুলিসহ বিভিন্ন অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহাবুবুর রহমান ও হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জুবায়ের আহম্মেদের নেতৃত্বে দুই থানার পুলিশ যৌথ অভিযান চালায়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মুলাদী উপজেলার কাজিরচর ইউনিয়নের চরকমিশনার গ্রামের মৃত আবুল কালাম ওরফে কলম সরদারের ছেলে কামাল সরদার (৪০) ও জামাল সরদার (৩৫), মুজাহার সরদারের ছেলে মানিক সরদার (৪২), ভোলা সদর উপজেলার চরমোনষা গ্রামের বশার মীরের ছেলে আলম মীর (৩৫), একই উপজেলার রামদাসপুর গ্রামের রত্তন বেপারীর ছেলে জুয়েল বেপারী (৩৫), মৃত মালেক সরদারের ছেলে মাসুম সরদার (২৬) কন্দ্রকপুর গ্রামের জহিরুল ইসলাম মাঝির ছেলে মেহেদী হাসান মাঝি (২২)। এদের মধ্যে কামাল সরদার, জামাল সরদার এবং মানিক সরদার মুলাদীর চরকমিশনার গ্রামের আবদুর রব হাওলাদার হত্যা মামলার আসামী। এ ছাড়া জুয়েল বেপারীর নামে হিজলা থানায় ডাকাতি মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

পুলিশ জানায়, আসামিরা কানীবগীরচরে পরিত্যাক্ত ঘরের মধ্যে জোটবদ্ধ হয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিলো। অভিযানের সময় আসামিরা পুলিশের ওপর ৩ রাউ- গুলি করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলো।

মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহাবুবুর রহমান জানান, আবদুর রব হাওলাদার হত্যার পরে প্রধান আসামি কামাল সরদারসহ অন্যান্যরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করে। শুক্রবার দিবাগত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার ভোর রাতে কানীবগীরচরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারের পাশাপাশি অস্ত্র ও ডাকাতি প্রস্তুতি, পুলিশের ওপর হামলা অভিযোগে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। রোববার আদালতে হাজির করে রিমা-ের আবেদন করা হবে।

অপরদিকে, আসামীদের গ্রেপ্তারের সংবাদ পেয়ে উপজেলার কাজিরচর ইউনিয়নের তিন শতাধিক মানুষ থানার সামনে জড়ো হয় এবং আসামীদের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন।




দুমকিতে ফেসবুক লাইভে শিক্ষকের গলায় ফাঁসের চেষ্টা

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী : পটুয়াখালীর দুমকীতে ফেসবুক লাইভে এসে রুবেল হোসেন (৩৫) নামে এক শিক্ষক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। শুক্রবার মধ্যরাতে ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটান তিনি।

রুবেল দুমকী এ কে মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিষয়ের সহকারী শিক্ষক। তিনি বাউফল উপজেলার বাসিন্দা।

স্থানীয়রা বলেন, রুবেল দু’টি বিয়ে করেছেন এবং দুটি সন্তান রয়েছে। উপজেলার একটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করার সময় প্রেমে জড়িয়ে এক ছাত্রীকে বিয়ে করেন। কিছুদিন পর ঢাকায় বিসিএসের প্রস্তুতি নিতে গিয়ে সেখানে প্রেমে জড়ান। পরে স্ত্রীকে তালাকের নোটিশ দিলে তিনি আইনের আশ্রয় নেন। গত মার্চ মাসে রুবেল আবার সংসার করবেন বলে আদালতে মুচলেকা দেন।
এর আগে বাউফলে আরেকটি বিয়ে করে সন্তান রেখে স্ত্রীকে তালাক দেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, কিছুদিন আগে এক ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়ানোর সুবাদে বড় বোন কে বিয়ের প্রস্তাব দেন। তবে ওই পরিবার প্রস্তাব প্রত্যাখান করায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। শুক্রবার রুবেল ফেসবুকে আবেগঘন এক স্ট্যাটাস দিলে তা ভাইরাল হয়। এ ছাড়া নিজ কর্মস্থল বিদ্যালয় নিয়ে নেতিবাচক স্ট্যাটাস দিলে অনেকে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয় নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার বিষয়টি থেকে রেহাই পেতে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছেন। তার লাইভ ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি আত্মহত্যার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। গলায় রশি দিয়ে ঝুলে পড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই কয়েকজন তাকে উদ্ধার করেন।

দুমকী এ কে মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মাহামুদা আক্তার হেপি জানান, খবর পেয়ে তিনি হাসপাতালে গিয়েছেন । তবে শিক্ষক রুবেলের বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাননি।

ছাত্রীর মায়ের ভাষ্য, রুবেলের আচরণ শিক্ষক সূলভ মনে না হওয়ায় তাকে পড়াতে আসতে নিষেধ করেন। পরে মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দিলেও প্রত্যাখান করেন। কয়েক দিন আগে তাদের বাসায় এসে হুইল পাউডার খেয়ে রুবেল অসুস্থ হয়ে পড়েন ।

এ বিষয়ে রুবেল হোসেনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তা বন্ধ পাওয়ায় বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক আবিদ হাসান জানান, রাতে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

দুমকী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারেক মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান বলেন, আত্মহত্যার চেষ্টার বিষয়টি জেনে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয়দের সহায়তায় ওই শিক্ষককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।




গলাচিপায় নিজ গলায় বটি চালিয়ে যুবকের আত্মহত্যা

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী: পটুয়াখালীর গলাচিপায় গলায় বটি চালিয়ে এক যুবক আত্মহত্যা করেছে। বৃহস্পতি বার সন্ধ্যায় উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের আটখালী গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে।

নিহতের নাম আবু বক্কর মুন্সি (৪৫)। তিনি বোয়ালিয়া গ্রামের আব্দুল রব মুন্সির সন্তান ।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার গলাচিপা সদর ইউনিয়নের তরমুজ চাষী আবু বক্কর মুন্সি পর পর কয়েক বছর তরমুজ চাষে লোকসান দিয়ে দেনা গ্রস্ত হয়ে পড়েছেন ।
এ নিয়ে স্ত্রী মমতাজ বেগমের সাথে তার প্রায়ই ঝগড়া ঝামেলা হতো। গত ৫/৬ মাস যাবৎ আবু বক্কর অসংলগ্ন কথা বার্তা বলতেন। মঙ্গলবার রাতে বোয়ালিয়া নিজ বাড়িতে আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে বিষ পান করে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বুধবার শ্বশুরবাড়ি উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের আটখালী সিকদার বাড়ি নেয়া হয়।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার ঘরের বটি দিয়ে নিজ গলায় আঘাত করলে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শোণিত কুমার গাইন বলেন, পরিবারের লোকজন জানিয়েছে তিনি মানসিক রোগী। এখনো কেউ অভিযোগ করেনি, অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




কর ফাঁকির মামলায় খালাস নোবেলজয়ী মারিয়া রেসা

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : ফিলিপাইনে শান্তিতে নোবেলজয়ী সাংবাদিক মারিয়া রেসাকে কর ফাঁকির মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন দেশটির আদালত। একই মামলায় মঙ্গলবার তার প্রতিষ্ঠান র‌্যাপলারকেও খালাস দেওয়া হয়েছে। রেসার মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়াকে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। খবর রয়টার্স।

মামলার রায় ঘোষণার পর রেসা বলেন, ‘আদালতের সিদ্ধান্তে তিনি ‘স্বস্তি’ বোধ করছেন।’

মারিয়া রেসা ২০২১ সালে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তিনি তার সংবাদ প্রতিষ্ঠান র‍্যাপলারের মাধ্যমে ফিলিপাইনের সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তের কড়া সমালোচনা করতেন। বিশেষ করে দুতের্তে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানোর নামে বিচারবহির্ভূত হত্যার যে কার্যক্রম শুরু করেছিলেন মারিয়া রেসা ছিলেন তার ঘোর বিরোধী।

এদিকে, ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র জানিয়েছেন-তিনি রেসা এবং র‍্যাপলারের বিরুদ্ধে আদালত যে রায় দিয়েছে তাতে তিনি হস্তক্ষেপ করবেন না।




পিরোজপুরে ছাত্রলীগের উপর হামলা : সাধারন সম্পাদকসহ আহত-৫

এস এম পারভেজ (পিরোজপুর): পিরোজপুরে জেলা ছাত্রলীগের ২ নেতাসহ ৫ জনকে কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার মাহমুদ সজলের প্রাইভেটকার ও ৫টি মোটর সাইকেল ভাংচূর করা হয়েছে।

সোমবার রাতে শহরের বলেশ্বর ব্রীজ এলাকার টোল প্লাজার নিচে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রকি, জেলা ছাত্রলীগ সদস্য মোঃ তামিম , সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইসা, মোঃ কাফী, পৌর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি লিওন আল জাবির। আহত ব্যাক্তিদের জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে উন্নত চিকিৎসার জন্য দুই জনকে বরিশাল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার মাহমুদ সজল জানান, চা খেয়ে ফেরার পথে আমাদের উপরে পরিকল্পিত ভাবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জের ধরে হামলাকারীরা এ হামলা চালিয়েছে। এ সময় ৩০-৩৫ জন দুর্বৃত্তরা দেশীয় অস্ত্র, দা ও চাপাটি নিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়ে, কুপিয়ে আমার নেতাকর্মীদের গুরুতর জখম করে। দুর্বৃত্তরা আমার প্রাইভেটকার ও ৫টি মোটর সাইকেল ভাংচূর করেছে।

সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবির মোহাম্মদ হোসেন এ ব্যাপারে জানান, ঘটনা শুনেই তাৎক্ষনিকভাবে ঘটনা স্থলে পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। হামলাকারীদের গ্রেফতারে অভিযান চালানো হচ্ছে।




বরিশাল রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ পুলিশ সুপার নির্বাচিত হয়েছেন পিরোজপুরের মোহাম্মদ শফিউর রহমান

এস এম পারভেজ (পিরোজপুর): বরিশাল রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ পুলিশ সুপার (বিশেষ পুরস্কার) নির্বাচিত হলেন পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শফিউর রহমান।

সোমবার সকালে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে বরিশাল রেঞ্জে আগস্ট মাসের অপরাধ পর্যালোচনা শেষে পিরোজপুর পুলিশ সুপারকে শ্রেষ্ঠ নির্বাচিত করা হয়। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শফিউর রহমানের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো:জামিল হাসান( বিপিএম-সেবা, পিপিএম)। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিভাগে কর্মরত বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. জামিল হাসান ( বিপিএম-সেবা, পিপিএম) জানান, অপরাধ পর্যালোচনা সভার মাধ্যমে উত্তম কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ পিরোজপুর জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শফিউর রহমাকে বরিশাল রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ পুলিশ সুপার ( বিশেষ পুরস্কার) নির্বাচিত করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত মাসে পিরোজপুরের ৩টি ক্লু লেস হত্যাকান্ডের রহস্য দ্রুত সময়ের মধ্যে উদঘাটন করে জেলা পুলিশ। এগুলো হলো ১৭ আগস্ট সন্ধ্যায় স্বর্ণালংকার নেয়ার উদ্দেশ্যে সদর থানার শিকারপুরে হাসি রানী ঘরামীকে হত্যা, ১৮ আগস্ট নাজিরপুর থানার বৈবুনিয়া গ্রামের কোমেলা বেগমকে ধর্ষন ও অর্থ আত্মসাতের জন্য হত্যা এবং ২ সেপ্টেম্বর ভান্ডারিয়া থানার নিজ ভান্ডারিয়া গ্রামের সাদিয়া আক্তার মুক্তাকে হত্যার ঘটনা।




মার্কিন দূতাবাসে আশ্রয় চেয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান


 চন্দ্রদ্বীপ ‍নিউজ ডেক্স:  নিরাপত্তাহীনতায় ভোগার কারণে মার্কিন দূতাবাসে পরিবারসহ আশ্রয় চেয়েছেন বরখাস্ত হওয়া ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান আহম্মদ ভূঁইয়া। বন্ধের দিন হওয়ায় দূতাবাসের মূল ফটকের পাশে একটি কক্ষে তাদের বসিয়ে রেখেছেন নিরাপত্তাকর্মীরা।

শুক্রবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় মার্কিন দূতাবাসে আশ্রয় চাওয়ার বিষয়টি নিজেই জানিয়েছেন তিনি।

সাংবাদিকদের এমরান আহম্মদ বলেন, ‘আমি মার্কিন দূতাবাসে আজকে পুরো পরিবারসহ আশ্রয়ের জন্য বসে আছি। আজকে আমাকে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে। আমার ফেসবুক মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে গত ৪-৫ দিন যাবৎ অনবরত হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে। এই সরকার ভালোবাসার প্রতিদান দেয় জেল দিয়ে। আমার আমেরিকার কোনো ভিসা নেই। স্রেফ তিনটি ব্যাগে এক কাপড়ে আমার তিন মেয়েসহ কোনোক্রমে বাসা থেকে বের হয়ে এখানে বসে আছি। আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’

এর আগে ড. ইউনূসের বিপক্ষে বিবৃতি দিতে অস্বীকৃতির কথা গণমাধ্যমে জানানো ও তিনি বিচারিক হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে মন্তব্য করার জেরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান আহম্মদ ভূঁইয়ার নিয়োগ বাতিল করে দায়িত্ব থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

আজ (শুক্রবার) তার নিয়োগ বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে আইন মন্ত্রণালয়ের সলিসিটর উইং। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এ প্রজ্ঞাপন জারি করেছেন সলিসিটর রুনা নাহিদ আক্তার।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দ্য বাংলাদেশ ল অফিসার্স অর্ডার, ১৭৭২ (পিও নম্বর ৬) এর ৪ (১) অনুচ্ছেদ অনুসারে, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান আহম্মদ ভূঁইয়ার নিয়োগাদেশ জনস্বার্থে বাতিল করা হলো। পাশাপাশি তাকে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো। অবিলম্বে তা কার্যকর হবে।

কী করেছেন এমরান আহম্মদ ভূঁইয়া

শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ও গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে চলমান বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত করা এবং বাংলাদেশের আগামী সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গত মাসে খোলা চিঠি দিয়েছেন ১৭৫ জন বিশ্বনেতা।

এরপর এ চিঠির বিপক্ষে বেশ কিছু বিবৃতি দেওয়া হয়েছে দেশের ভেতর থেকে। এরকমই একটি বিবৃতিতে স্বাক্ষর করবেন না বলে সোমবার (৪ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমকে জানান সরকারের আইন কর্মকর্তা ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান আহম্মদ ভূঁইয়া। একইসঙ্গে তিনি বলেন যে, ড. ইউনূস বিচারিক হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

এমরান আহম্মদ ভূঁইয়া বলেন, ড. ইউনূসের পক্ষে ১৭৫ জন বিদেশি ব্যক্তি বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিদাতাদের মধ্যে বারাক ওবামা, হিলারি ক্লিনটনও রয়েছেন। ওই বিবৃতির বিরুদ্ধে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় থেকে পাল্টা বিবৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমাকে বিবৃতিতে স্বাক্ষর করতে বলা হয়েছে। কিন্তু আমি ইউনূসের বিপক্ষে বিবৃতিতে স্বাক্ষর করব না।

কে এই ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান?

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এমরানের পৈত্রিক বাড়ি কুমিল্লায়। বাবা সুলতান আহম্মদ ভূঁইয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন তিনি। তখন তিনি ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর অধীনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে গবেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

এমরান আহম্মদ ভূঁইয়ার মায়ের নাম সুরাইয়া সুলতানা। তিনি মহিলা পরিষদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পর পর দুবারের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। সুলতান আহম্মদ ভূঁইয়ার চাকরির সুবাদে তার পরিবার পরবর্তীতে চট্টগ্রামে স্থায়ী হন।

সুলতান আহম্মদ ভূঁইয়া ড. ইউনূসের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তিনি যখন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিলেন ড. ইউনূসও ওই সময়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। আর এমরান ১৯৯২-৯৩ সেশনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হন। তিনি আইন বিভাগের দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক দুই শিক্ষার্থী (বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী) ঢাকা পোস্টকে বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় এমরান ছাত্রলীগ করতেন। আইন পড়া শেষ করে তিনি ঢাকায় চলে আসেন। ২০০৩ সালের ২৭ এপ্রিল হাইকোর্টে প্র্যাকটিসের অনুমতি পান এবং ২০০৫ সালের ২১ জুলাই সদস্য পদ লাভ করেন। এরপর ২০১৮ সালের ৪ জানুয়ারি তিনি একজন মন্ত্রীর সুপারিশে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হন।

হঠাৎ কেন ইউনূসের পক্ষে অবস্থান?

অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান আহম্মদ ভূঁইয়ার ফেসবুক প্রোফাইল ঘুরে দেখা যায়, তার ফেসবুকের কভারে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি রয়েছে। ফেসবুক ব্যবহার শুরুর পর থেকে তিনি আওয়ামী লীগের নীতি-আদর্শ-সরকারের উন্নয়নের কথাই তুলে ধরেছেন। কিন্তু হঠাৎ নোবেলজয়ী ড. ইউনূসের পক্ষে সরাসরি অবস্থান নিয়েছেন। তার অবস্থান পরিবর্তনে হতবাক অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের সহকর্মীরা।

অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের তার তিন জন সহকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা পোস্টকে বলেন, এমরান বিচারপতি হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে তদবির করে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হয়েছিলেন। কিন্তু পরপর দুই নিয়োগে তিনি বিচারপতি হতে পারেননি। এতে তার মনে ক্ষোভ জন্মেছে। আবার কেউ বলছেন, এমরানের আত্মীয়-স্বজনদের অনেকে আমেরিকায় থাকেন। আমেরিকান ভিসা নিশ্চিত করতেই তিনি ড. ইউনূসের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

এমরান কোনো লোভের বশবর্তী হয়ে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন বলে মনে করেন আরেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান মনির। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, তিনি কিছু লোভের বশবর্তী হয়ে কাজটা করেছেন। ড. ইউনূস ও তার লোকজন দীর্ঘদিন ধরে অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস অর্থাৎ দেশের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তার অফিস থেকে ইউনূসের পক্ষে বিবৃতি নেওয়ার ষড়যন্ত্র করে আসছিলেন। এ ষড়যন্ত্রের ফাঁদে ও লোভে পা দিয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান। সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য তার এসব কর্মকাণ্ড।

আসাদুজ্জামান মনির বলেন, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান উচ্চভিলাষী। তিনি বিভিন্ন জায়গায় বলে বেড়াতেন বিচারপতি নিয়োগের তালিকায় তার নাম প্রথমদিকে রয়েছে। কিন্তু গত নিয়োগেও যখন তিনি বিচারপতি হতে পারলেন না, তখন তিনি হতাশ হয়ে পড়েন। অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের কারো সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক ছিল না।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরানের অবস্থান পরিবর্তন নিয়ে ফেসবুক পোস্ট করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কুমার দেবুল দে। ফেসবুক পোস্টের একাংশে তিনি লিখেছেন, ‘একজন ব্যক্তি যদি মনে করে শেখ হাসিনার পক্ষে থেকে বা বাংলাদেশের সঙ্গে থেকে কি সুবিধা বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে বা পাওয়া যাবে তার চেয়ে অধিক সুবিধা যদি ড. ইউনূসের পক্ষে বা আমেরিকার সঙ্গে থেকে পাওয়া যায় তাহলে একজন ব্যক্তি কেন শেখ হাসিনার পক্ষে থাকবেন? কোনো ব্যক্তি যদি দেখেন শেখ হাসিনার পক্ষে থেকে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হওয়া গেছে। এরপর বিচারপতি হওয়ার রিপিটেড চেষ্টা করেও আর এগোতে পারেননি। তারপরে হতাশ হয়ে দেশের ওপর ভীতশ্রদ্ধ হয়ে সপরিবারে আমেরিকা চলে যাওয়ার চেষ্টা করে দুইবার ভিসা রিফিউজ হলে সেই ব্যক্তির আর কীইবা করার থাকে! শতভাগ ভিসা কনফার্ম করার মিশন নিয়ে ড. ইউনূস বা আমেরিকার পক্ষ নেওয়া ছাড়া!’

‘অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের কাগজে সাইন না করা এটা ব্যক্তিগত পর্যায়ে হতে পারত, গোপন থাকতে পারত, যখন সাংবাদিক ডেকে সংবাদ সম্মেলন করে কোনো কাগজে সাইন না করার বিষয় প্রচার করা হয় তখন বুঝতে হবে এখানে অনেক বড় কোনো লাভের বিষয় আছে। এখানে শুধু ভিসা কেন? ড. ইউনূস তো আবার বড় লোক, টাকা গুনেন এক কোটি-দুই কোটিতে নয়, গুনেন হাজার কোটিতে। তাই *** (অশালীন শব্দ) বিষয় আছে, *** পেটে পড়লে আর যাই হোক মাথা ঠিক থাকে না। না হলে বিচার বিভাগের সঙ্গে কাজ করে বিচার বিভাগ তথা বিচারিক প্রক্রিয়াকে কেউ প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে?’




চেক ডিজঅনার মামলায় বাবুগঞ্জের এক ইউপি চেয়ারম্যানের কারাদন্ড, জরিমানা

বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি: চেক ডিজঅনার মামলায় জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরে আলম বেপারী’র ১ বছরের সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে ১৩ লাখ ৯৫ হাজার ৩৮৫ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

গতকাল বরিশালের ১ম যুগ্ম ও দায়রা জজ মোঃ ইফতেখার আহমেদ এক রায়ে এ আদেশ দিয়েছেন। দন্ডপ্রাপ্ত আসামী মোঃ নুরে আলম উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের আঃ রশিদ বেপারীর ছেলে।

মামলার অভিযোগে জানা গেছে, বরিশাল নগরীর ৩০ নং ওয়ার্ড কাশিপুর গড়িয়ারপাড় সেতুবন্ধন আদর্শ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মিজানুর রহমান আসামী নুরে আলম ইট দেবার কথা বলে ১৩ লাখ ৯৫ হাজার ৩৮৫ টাকা নেয়। কিন্তু টাকা দিতে পারে নাই। এর মধ্যে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার ইট দেয়। পরে বাদীকে আসামী ১৩ লাখ ৯৫ হাজার ৩৮৫ টাকার চেক দেয় ২০২২ সনের ১৩ মার্চ চেকটি বরিশাল কেন্দ্রীয় সেন্টাল বাস টার্মিনালে অবস্থিত রূপালী ব্যাংকে জমা দিলে ২০২২ সনের ১৩ মার্চ চেকটি বাতিল হয়।

২০২৩ সনের ২৯ মার্চ লিগ্যাল নোটিশ দেয়া হলেও কোন জবাব দেয় নাই। তিনি টাকা না দেওয়ায় আদালতে মামলা করেন মিজানুর রহমান। মামলার সাক্ষ্য প্রমাাণ শেষে আসামি নুরে আলম বেপারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাকে ১ বছরের সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন। একই সাথে ১৩ লাখ ৯৫ হাজার ৩৮৫ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আসামী পলাতক থাকায় বিচারক গ্রেফতারী পরোয়ানা জারীর নির্দেশ দেন।

বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তুষার কুমার মন্ডল বলেন আদালত থেকে আমাদের কাছে কোন আদেশ আসে নাই। আদেশ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান বরখাস্ত

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ  ডেক্স:  শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিষয়ে বিবৃতি-সংক্রান্ত বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় আসা ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান আহম্মদ ভূঁইয়াকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। আজ শুক্রবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলস্টেশনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে শ্রম আইন লঙ্ঘন ও দুর্নীতির মামলা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে খোলাচিঠি (বিবৃতি) পাঠিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্বস্থানীয় দেড় শতাধিক ব্যক্তি। তাঁদের মধ্যে শতাধিক নোবেলজয়ী রয়েছেন। এ বিষয়ে গত সোমবার হাইকোর্টের বর্ধিত ভবনের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, ড. ইউনূস একজন সম্মানিত ব্যক্তি। তাঁর সম্মানহানি করা হচ্ছে এবং এটি বিচারিক হয়রানি।’ শতাধিক নোবেলজয়ীদের ওই খোলা চিঠির বিপরীতে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দেওয়ার কথা রয়েছে, এমন দাবি করে এমরান আহম্মদ বলেন, ‘অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসে কর্মরত সবাইকে এতে স্বাক্ষর করার জন্য নোটিশ করা হয়েছে। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করব না।’

এর পরদিন ৫ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের আইনমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি (এমরান আহম্মদ ভূঁইয়া) অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন ডিএজি (ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল)। তিনি যদি সাংবাদিকদের সামনে কথা বলেন, তাহলে তাঁকে হয় পদত্যাগ করে কথা বলা উচিত, অথবা অ্যাটর্নি জেনারেলের অনুমতি নিয়ে কথা বলা উচিত। তিনি সেটি করেননি। তিনি শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন।’




মানহীন ও নকল কসমেটিকস পণ্য মজুতে জেল-জরিমানা’

চন্দ্রদীপ নিউজ : মানহীন ও নকল কসমেটিকস বিপণন ঠেকাতে জাতীয় সংসদে বিল পাস হয়েছে। বিদ্যমান ওষুধ আইনে কসমেটিকস শব্দটি যুক্ত করে ‘ঔষধ ও কসমেটিকস’ বিলে ওষুধের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও বেশি মুনাফার লোভে মজুত করলে ১৪ বছর জেল ও ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এ ছাড়া কসমেটিকস ব্যবসায় ঔষধ প্রশাসন থেকে লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক বিলটি পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। তবে বিলের উপর জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব করেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা। তারা বাজারের ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ এবং লাগামহীনভাবে ওষুধের মূল্য বৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সরকার জনস্বার্থে এ সব বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

বিলটি পাসের প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে বিরোধীদল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, ‘ওষুধের যে আন্তর্জাতিক মান রয়েছে সেই লেভেলটা আমাদের ঠিক রাখতে হবে। নিবিড় নজরদারি থাকতে হবে। স্যালাইনের দাম ১০০ টাকা নির্ধারিত থাকলেও বিক্রি হয় ২০০ বা ৩০০ বা ৪০০ টাকায়। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এগুলো করা হয়। এসবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

একই দলের পীর ফজলুর রহমান বলেন, ‘ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণই করতে পারছি না, এর সঙ্গে আবার কসমেটিকস্ কেন আনা হলো। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব যে কাজ সেইটা ঠিক মতো করতে আমরা পারছি না। ওষুধের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে, কোনো ব্যবস্থা নেই। ওষুধ ও কসমেটিস্ দুইটা এক জায়গায় আনা হলো কেন?’

গণফোরামের মোকাব্বির খান বলেন, ‘ওষুধ জীবন রক্ষার উপাদান। এই বিলটি এমনভাবে আনা হয়েছে যা জনস্বার্থের পরিপন্থি হতে পারে। ওষুধ ও কসমেটিকস্ বিভিন্ন জিনিস, কাজও ভিন্ন। কিছু মানুষের স্বার্থ রক্ষার জন্য এটা করা হয়েছে। এতে ওষুধ উৎপাদন ও মান নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে না। এর মধ্যে অসৎ উদ্দেশ্য আছে।’

জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কারও ব্যবসা ক্ষতি করার জন্য কসমেটিকস্ বিষয়টি আমরা এখানে নিয়ে আসিনি। বহু দেশে আমেরিকা, ভারত, সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডসহ বহু দেশে এই আইনটি একসঙ্গে আছে। আমাদের উদ্দেশ্য কারও ক্ষতি করা নয়, প্রস্তুতকারীদের অবৈধ সুবিধা দেওয়া নয়। আমাদের উদ্দেশ্য মানুষের স্বাস্থ্য যাতে ঠিক থাকে, ক্ষতি যেন না হয়। অনেক ভেজাল কসমেটিকস ও ওষুধ তৈরি হচ্ছে। যেগুলো মুখে লাগানো হয় এবং বিভিন্নভাবে ব্যবহার করা হয়। এই কসমেটিকস ব্যবহারের কারণে মানুষের স্কিন ক্যানসার হচ্ছে। লিভার, কিডনি ফেইল হচ্ছে, অনেক ধরনের সমস্যা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দোকানে আমরা যাব না। তাদের ম্যানুফ্যাকচারিং প্রসেসটা আমরা দেখব। ইমপোর্ট-এক্সপোর্ট প্রসেসটা দেখব। সর্বোপরি আমরা কসমেটিকস পরীক্ষা-নিরীক্ষা করব।’

এদিকে, পাস হওয়া বিলে ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের দায়িত্ব ও কর্মপরিধি সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কসমেটিকস বিক্রি, আমদানি ও উৎপাদন করতে হলে লাইসেন্স নিতে হবে। ঔষধ প্রশাসন অধিদফতর লাইসেন্স অথোরিটি হিসেবে কাজ করবে। এখন যারা কসমেটিকসের ব্যবসা বা উৎপাদন করছেন তাদের লাইসেন্স নিতে হবে। এজন্য ঔষধ প্রশাসন বিধি প্রণয়ন করবে।

১৯৪০ সালের ড্রাগস আইন ও ১৯৮২ সালের দ্য ড্রাগস কন্ট্রোল অ্যাক্ট-এ দুটোকে এক করে যুগোপযোগী করে এই বিল আনা হয়েছে। বিলে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি করলে ২০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।