বরিশালে গণধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ থানার চাঞ্চল্যকর গণধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি মেহেদী হাসানকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৮। বৃহস্পতিবার বিকেলে র‌্যাব-৮ এর মিডিয়া সেল থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত মেহেদী হাসান মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার হাসানপুর গ্রামের নান্নু দেওয়ানের ছেলে। র‌্যাব জানায়, র‌্যাব-৮ ও র‌্যাব-৪ এর মিরপুর ক্যাম্পের একটি বিশেষ আভিযানিক দল যৌথভাবে বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে রাজধানীর দারুস সালাম থানাধীন মাজার রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে আত্মগোপনে থাকা মেহেদীকে গ্রেপ্তার করে।

মামলার নথি অনুসারে, ২০২৩ সালের ১০ জুলাই সন্ধ্যায় ভিকটিম নারীর (৩১) বাড়ির পাশের সুপারি বাগানে কৌশলে তাকে জোরপূর্বক গণধর্ষণ করা হয়। এসময় ধর্ষকরা মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে রাখে এবং বিষয়টি প্রকাশ করলে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। ভুক্তভোগীর চিৎকারে তার মা ও বোন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে আদালতের মাধ্যমে মেহেন্দীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। র‌্যাব-৮ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক অমিত হাসান জানান, মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করে ছায়া তদন্ত ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। পরে গ্রেপ্তারকৃতকে দারুস সালাম থানায় হস্তান্তর করা হয়।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




নববধূ ছাড়া ফিরতে হলো বরযাত্রীকে, বাল্যবিয়ে বন্ধ করলেন ইউএনও

অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা করেছে প্রশাসন। পাশের উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বয়স জালিয়াতি করে জন্মসনদ সংগ্রহ করে বিয়ের আয়োজন করা হলেও শেষ পর্যন্ত উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মেহেদী হাসান ঘটনাস্থলে পৌঁছে তা বন্ধ করে দেন।

বুধবার দুপুরে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের বড় দুলালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বরযাত্রী আসার পর কনের বাড়িতে আপ্যায়নের সময় স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বাল্যবিয়ে বন্ধ করা হয়।

প্রশাসন জানায়, কনের বাবা মাজেদ আলী খন্দকারের মেয়ে বাউরগাতি জুনিয়র মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী, বয়স ১৬ বছর। অথচ কালকিনি উপজেলার রমজানপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ভুয়া জন্মসনদ তুলে বয়স ১৯ বছর দেখানো হয়েছিল। যাচাই-বাছাইয়ে স্কুলের নথি অনুযায়ী কনের প্রকৃত বয়স প্রমাণিত হয়।

এ ঘটনায় প্রতারণার মাধ্যমে বাল্যবিয়ের আয়োজন করার দায়ে বর অহেদ হোসেন মৃধা ও কনের বাবাকে ২৫ হাজার টাকা করে মোট ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি মেয়ের বয়স ১৮ পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দেবেন না—এ মর্মে লিখিত মুচলেকাও নেওয়া হয়।

অভিযানে গৌরনদী মডেল থানা পুলিশ, উপজেলা মহিলা বিষয়ক দপ্তরের কর্মকর্তাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। কনের বাড়িতে আসা বরযাত্রীরা পরে খালি হাতে ফিরে যান।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান বলেন, “ভুয়া জন্মসনদ প্রদানকারী সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সচিবের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনস্বার্থে বাল্যবিয়ে রোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ভোলায় স্ত্রী-সন্তান হত্যা মামলায় স্বামী-দেবরের যাবজ্জীবন

ভোলার চরফ্যাশনে স্ত্রী ও সন্তানকে নির্মমভাবে জবাই করে হত্যার দায়ে স্বামী মাহাবুব আলম ও তার ছোট ভাই ইব্রাহিমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে মামলার অপর অভিযুক্ত পিতা মান্নান মাঝিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চরফ্যাশন চৌকি আদালতের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. শওকত হোসাইন এ রায় ঘোষণা করেন।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, চরফ্যাশন উপজেলার চরমাদ্রাজ ইউনিয়নের চরআফজাল গ্রামের বাসিন্দা মাহাবুব আলম ওরফে মফু আলম (৪৮) জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে ২০১৮ সালের ৩০ মার্চ রাতে নিজের স্ত্রী জাহানারা বেগম ও ৮ বছরের ছেলে আবিরকে হত্যা করেন। এ কাজে তাকে সহায়তা করেন ছোট ভাই ইব্রাহিম (৩৫)।

ঘটনার রাতে মাহাবুব প্রথমে ঘুমন্ত অবস্থায় স্ত্রী জাহানারাকে জবাই করে হত্যা করেন। এসময় তার ছেলে আবির জেগে গেলে তাকেও নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। পরে মা-ছেলের মরদেহ বাড়ির পাশের একটি ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়। হত্যার দায় অন্যের ওপর চাপানোর জন্য পরিকল্পিতভাবে মাহাবুবকে ঘরের সামনে গাছে বেঁধে রাখা হয় এবং ইব্রাহিম চিৎকার করে প্রচার করতে থাকে যে প্রতিপক্ষ মিলন নক্তি এসে স্ত্রী-সন্তানকে হত্যা করে পালিয়েছে।

পরবর্তীতে নিহত জাহানারার বাবা সৈয়দ আলী চৌকিদার বাদী হয়ে মাহাবুব, তার ভাই ইব্রাহিম এবং তাদের পিতা মান্নান মাঝিকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে চরফ্যাশন থানা পুলিশ তিনজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে। পরে বাদীপক্ষের নারাজির পর আদালতের নির্দেশে ডিবি পুলিশ পুনঃতদন্ত করে এবং ২০২১ সালের ৩০ জানুয়ারি পুনরায় একই তিনজনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট জমা দেয়।

দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় মোট ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। এ সময় প্রধান আসামি মাহাবুব আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। সব প্রমাণ-সাক্ষ্য বিবেচনা করে আদালত রায় ঘোষণা করেন।

এই রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘ সাত বছরের বিচারিক প্রক্রিয়ার অবসান হলেও নিহত জাহানারা ও শিশু আবিরের পরিবার এখনো গভীর শোকের মধ্যে রয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




লোহালিয়া নদীতে দুই যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু

পটুয়াখালীর লোহালিয়া নদী থেকে একদিনের ব্যবধানে দুই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারগুলো দাবি করছে, মৃত্যুর পেছনে রহস্যজনক ঘটনা রয়েছে এবং তারা এর সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।

মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত গভীর রাতে পৌর শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা তুহিন হাওলাদারের (২৫) মরদেহ উদ্ধার করা হয় লোহালিয়া সেতুর নিচ থেকে। তিনি স্থানীয় বাসিন্দা কালাম হাওলাদারের ছেলে। পরিবারের অভিযোগ, আগের রাতেই ডিবি পুলিশের ধাওয়া খেয়ে নদীতে ঝাঁপ দেন তুহিন। ঝাঁপ দেওয়ার পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর ভেসে ওঠে তার লাশ। এ ঘটনায় ভেঙে পড়েছেন তার স্ত্রী সুখী আক্তার। তিনি রেখে গেছেন পাঁচ বছর বয়সী কন্যা জান্নাতুল ফেরদৌস এবং মাত্র দুই মাস বয়সী নবজাতক পুত্র আবু তাহেরকে।

অন্যদিকে, বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে একই নদীর ধলু হাওলাদার বাড়ি সংলগ্ন এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় অটোরিকশাচালক রেজাউল (২৮)-এর মরদেহ। তিনি সদর উপজেলার ভুরিয়া ইউনিয়নের নুরু বয়াতির ছেলে। পরিবার জানায়, সোমবার সকালে অটোরিকশা নিয়ে বের হওয়ার পর থেকে আর বাড়ি ফেরেননি তিনি। সেদিন রাতেই কাশিপুর রোড এলাকা থেকে তার অটোরিকশা উদ্ধার করে পুলিশ। এক দিন পর নদী থেকে ভেসে ওঠে তার নিথর দেহ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পটুয়াখালী জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিদর্শক জসিম উদ্দিন বলেন, সোমবার রাতে তাদের কোনো ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হয়নি। অন্যদিকে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, “মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুই যুবকের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে।”

এমন ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিবার ও স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনার সঠিক তদন্ত ও দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ডিবি এড়াতে লোহালিয়া নদীতে ঝাঁপ, প্রাণ গেল তুহিনের

পটুয়াখালীতে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অভিযানের সময় নদীতে ঝাঁপ দিয়ে তুহিন হাওলাদার (৩০) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার লোহালিয়া নদীর ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা। নিহত তুহিন পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের টাউন জৈনকাঠী এলাকার বাসিন্দা মো. কালাম হাওলাদারের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, সোমবার রাত প্রায় ১১টার দিকে লোহালিয়া সেতুর ডকইয়ার্ড এলাকায় ডিবি পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। পুলিশ দেখে তিনজন নদীতে ঝাঁপ দেন—তাদের মধ্যে ছিলেন তুহিন হাওলাদার, কসাই আল-আমিন এবং সিডি আল-আমিন। কসাই আল-আমিন ও সিডি আল-আমিন সাঁতরে ওপারে উঠতে সক্ষম হলেও নিখোঁজ হন তুহিন। টানা প্রায় ২৪ ঘণ্টা খোঁজাখুঁজির পর মঙ্গলবার রাতে নদীতে ভেসে ওঠে তার নিথর দেহ।

তুহিনের মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তিনি রেখে গেছেন স্ত্রী সুখি আক্তার, পাঁচ বছরের কন্যা জান্নাতুল ফেরদৌস এবং মাত্র দুই মাস বয়সী নবজাতক পুত্র আবু তাহেরকে। পরিবার জানায়, হঠাৎ করে এই মৃত্যুর ঘটনায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

নিহতের চাচাতো ভাই মো. মিরাজ বলেন, “আমরা শুনেছি ডিবি পুলিশ এলাকায় অভিযান চালায়। তুহিনসহ তিনজনকে ধাওয়া করা হলে তারা নদীতে ঝাঁপ দেয়। কসাই আল-আমিন নদীর ওপারে উঠতে পারলেও তুহিন আর উঠতে পারেনি। অবশেষে নদীতে তার লাশ পাওয়া গেছে।”

তুহিনের মামা জানান, “মঙ্গলবার ভোরে কসাই আল-আমিন এসে তুহিনের স্ত্রীকে জানায়, ডিবি ধরতে এসেছিল, আমি আর তুহিন নদীতে ঝাঁপ দিয়েছি। আমি ওপারে উঠেছি কিন্তু তুহিনকে পাইনি। পরে সে নিজ শ্বশুরবাড়ি চলে যায় এবং সেখান থেকে ঢাকায় গিয়েছে বলে শুনেছি। এরপর আর যোগাযোগ করা যায়নি।”

ঘটনার বিষয়ে জানতে পটুয়াখালী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক জসিম উদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পটুয়াখালী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, “খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। থানা পুলিশের পাশাপাশি সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট কাজ করছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর মরদেহ পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে।”

হঠাৎ ঘটে যাওয়া এই মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই স্বচ্ছ তদন্তের দাবি তুলেছেন, যাতে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পবিপ্রবিতে ১৪ কর্মকর্তার নিয়োগ অনিয়মে দুদকের তদন্ত শুরু

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) প্রশাসনের ১৪ কর্মকর্তার নিয়োগে বড় অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে নিয়োগ সংক্রান্ত যাবতীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দুদকের পটুয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক তানভীর আহমেদ এই তদন্তের দায়িত্বে রয়েছেন। রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, প্রশাসনিক অনুমোদন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ছাড়পত্র, আবেদনকারীদের তালিকা ও বাছাই কমিটির নথি দাখিল করতে হবে।

অভিযোগ অনুসারে, গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রভাবশালী নেতা, সাংসদ, সচিব ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতাদের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের নিয়োগে ৮ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছে:

  • ডেপুটি রেজিস্ট্রার তাজবির হোসেন সুমন: ২০ লাখ
  • সহকারী রেজিস্ট্রার অ্যানি চক্রবর্তী: ২০ লাখ
  • উপপরিচালক বেল্লাল হোসেন: ১২ লাখ
  • সহকারী পরিচালক রাশেদুল করিম: ৮ লাখ
  • সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তুহিন সিকদার: ১৮ লাখ
  • উপপরিচালক রাজিব মিয়া: ২০ লাখ
  • প্রকিউরমেন্ট কর্মকর্তা মশিউর রহমান: ১৭ লাখ
  • ডেপুটি লাইব্রেরিয়ান ইলিয়াছ: ১৮ লাখ
  • ডেভেলপমেন্ট কর্মকর্তা মেহেদী হাসান: ২০ লাখ
  • সহকারী পরিচালক নাদিমুজ্জামান: ১২ লাখ
  • ডকুমেন্টেশন কর্মকর্তা আখিনুর বেগম: ১০ লাখ
  • সহকারী পরিচালক আবু সুয়েম: ১৮ লাখ
  • টেকনিক্যাল কর্মকর্তা মাধব চন্দ্র দাস: ২০ লাখ
  • উপপরিচালক (অডিট) মনিরুজ্জামান খান: রাজনৈতিক কোটা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. ইকতিয়ার উদ্দিন বলেন, “দুদকের অনুরোধ অনুযায়ী নথি প্রস্তুত করা হচ্ছে। তবে একসাথে অনেক তথ্য চাওয়ার কারণে সময় বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের নিয়োগ বাণিজ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ মনে করেন, টাকা দিয়ে নিয়োগপ্রাপ্তরা কখনো যোগ্যতা ও নৈতিকতার প্রতীক হতে পারেন না। ফলে দক্ষ মানবসম্পদ বঞ্চিত হচ্ছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় দুর্নীতির অভয়ারণ্যে পরিণত হচ্ছে।

নাগরিক সমাজ এবং শিক্ষার্থীরা দাবি করছেন, অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের অবিলম্বে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিতে হবে এবং ঘুষের সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালী ব্যক্তিদেরও আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। তারা সতর্ক করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠা ছাড়া মেধা ও নৈতিকতার জায়গা হবে না, বরং দুর্নীতি ও অর্থশক্তিই নিয়ন্ত্রণ নেবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ভোলায় বৃদ্ধা খুন, অচেতন অবস্থায় স্বামী-গৃহবধূ উদ্ধার

ভোলার লালমোহনে এক বৃদ্ধাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে নিহতের স্বামী ও পুত্রবধূকে। সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে উপজেলার চরভূতা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত বৃদ্ধার নাম আকিমজান (৭০)। তিনি ওই এলাকার তোফাজ্জল হোসেনের স্ত্রী। অচেতন অবস্থায় উদ্ধার হওয়া দুজন হলেন— নিহতের স্বামী তোফাজ্জল হোসেন ও তার পুত্রবধূ তানিয়া বেগম। বর্তমানে তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে সবাই খাবার শেষে ঘুমিয়ে পড়েন। ভোরে নিহতের নাতি দৌড়ে এসে প্রতিবেশীদের জানান, তাদের ঘরে হামলা হয়েছে। পরে স্থানীয়রা গিয়ে দেখতে পান আকিমজানের রক্তাক্ত মরদেহ মেঝেতে পড়ে আছে এবং তার স্বামী ও পুত্রবধূ অচেতন অবস্থায় পড়ে রয়েছেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। তবে প্রাথমিকভাবে ডাকাতির আলামত মেলেনি। পুলিশের ধারণা, খাবারে চেতনানাশক মেশানো হতে পারে এবং আকিমজান রাতের খাবার না খাওয়ায় ঘটনাটি তিনি টের পান। এ সময় তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহতের মাথার সামনে ও পেছনে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

লালমোহন থানার ওসি মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি রহস্যজনক মনে হচ্ছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। আহতদের জ্ঞান ফিরলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ডাকসু নির্বাচন স্থগিতাদেশ নিয়ে আপিল বিভাগে শুনানি বুধবার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন স্থগিতাদেশ সংক্রান্ত মামলার শুনানি আগামীকাল বুধবার আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে। আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত হাইকোর্টের দেওয়া স্থগিতাদেশের ওপর জারি করা স্থগিতাদেশ ওইদিন পর্যন্ত বহাল রেখেছেন।

মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের করা আবেদনের শুনানি শেষে চেম্বার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব এ আদেশ দেন। আদালতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

এর আগে সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্ট ডাকসু নির্বাচন আগামী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত রাখার আদেশ দেন। তবে ওই দিনই চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেন।

ডাকসু নির্বাচনে এস এম ফরহাদের প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করে ‘অপরাজেয় ৭১’, ‘অদম্য ২৪’ ও বামজোট মনোনীত প্যানেলের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক প্রার্থী বি এম ফাহমিদা আলম গত ২৮ আগস্ট হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৯ সেপ্টেম্বর ডাকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ ও বামপন্থি সংগঠনসহ অন্তত ১০টি পূর্ণ ও আংশিক প্যানেল ঘোষণা করা হয়েছে।

এবারের ডাকসু নির্বাচনে মোট ২৮টি পদের বিপরীতে ৪৭১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে নারী প্রার্থী রয়েছেন ৬২ জন। সদস্যপদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সবচেয়ে বেশি ২১৭ জন প্রার্থী। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হলে ১৩টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এক হাজার ৩৫ জন প্রার্থী।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ভোলায় র‍্যাবের অভিযানে প্রতারক ‘জ্বীনের বাদশা’ গ্রেপ্তার

অভিনব কৌশলে প্রতারণা করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি টাকার বেশি হাতিয়ে নেওয়া এক প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৮ ভোলা ক্যাম্প। সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার দক্ষিণ বাসস্ট্যান্ড ডাইভারসন রোডের একটি চায়ের দোকান থেকে মো. কামাল উদ্দিন মীর (৪৭) নামে ওই প্রতারককে আটক করা হয়।

র‍্যাব-৮ ভোলা ক্যাম্প থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কামাল উদ্দিন মীর ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে ‘জ্বীনের বাদশা’ পরিচয়ে অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারণা করে আসছিল। তারা পারিবারিক সমস্যা সমাধান ও বশীকরণের নামে বিভ্রান্ত করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিত।

সম্প্রতি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি থানার বাসিন্দা মো. দিদারুল আলম (৪০) অনলাইনে তাদের বিজ্ঞাপন দেখে যোগাযোগ করলে প্রতারক চক্র তাকে বশীকরণের আশ্বাস দিয়ে গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত বিকাশের মাধ্যমে প্রায় ৫৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।

ঘটনা বুঝতে পেরে ভুক্তভোগী আদালতের শরণাপন্ন হন। আদালতের নির্দেশে ফটিকছড়ি থানায় মামলা রুজু হলে তদন্তকারীর আবেদনের ভিত্তিতে র‍্যাব অভিযান চালিয়ে কামাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে।

র‍্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃত কামাল উদ্দিন ছাড়াও এই চক্রের অন্যান্য সদস্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জনগণের জানমাল রক্ষা ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড দমনে র‍্যাবের এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




হাইকোর্ট রায়: বিচার বিভাগের নিয়ন্ত্রণ সুপ্রিম কোর্টের হাতে, পদোন্নতি ও বদলি বিষয়ে নতুন নির্দেশনা

সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলার দায়িত্ব এককভাবে সুপ্রিম কোর্টের হাতে থাকবে বলে মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্ট রায় ঘোষণা করেছেন। বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন। একইসঙ্গে, নিম্ন আদালতের বিচারকদের বদলি, পদোন্নতি ও শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে পঞ্চদশ সংশোধনী ও চতুর্থ সংশোধনীর বিধান বাতিল করা হয়েছে।

হাইকোর্ট আগামী তিন মাসের মধ্যে আলাদা সচিবালয় গঠনের নির্দেশও দিয়েছে। রায়ের সময় প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব তারেক রহমান, যিনি বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, “বিচার বিভাগের নিয়ন্ত্রণ সুপ্রিম কোর্টের হাতে থাকায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।”

এর আগে সকালে বিচার বিভাগের নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের বৈধতা প্রশ্নে জারি করা রুলের রায় ঘোষণা শুরু হয়। ১৩ আগস্ট এই সংক্রান্ত চূড়ান্ত শুনানি সম্পন্ন হয়। রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির, রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। ইন্টারভেনর হিসেবে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম।

রিটটি গত বছরের ২৫ আগস্ট দায়ের করা হয়েছিল, যেখানে ১০ জন আইনজীবী মূল সংবিধানের ১৯৭২ সালের ১১৬ অনুচ্ছেদ পুনর্বহালের নির্দেশনা চেয়ে আবেদন করেছিলেন। বর্তমান সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অধস্তন আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত। তবে ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে এই দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপর ছিল। হাইকোর্টের এ রায় অনুযায়ী, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পুনঃস্থাপিত হবে এবং নির্বাহী বিভাগের প্রভাব কমে আসবে।

 

আল-আমিন