বরগুনায় হৃদয় হত্যা মামলা: ১৬ কিশোরকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা

 

বরিশাল অফিস: বরগুনায় চাঞ্চল্যকর হৃদয় হত্যা মামলায় জড়িত ১৯ শিশুর রায় মংগলবার ঘোষণা করা হয়েছে। বরগুনা জেলা কারাগারের সেফহোম থেকে ১৬ শিশুকে সকাল ৯টায় আদালতে হাজির করা হয়। বাকি ৩ শিশু জামিন নিয়ে পলাতক রয়েছে।

বরগুনার শিশু আদালতের বিচারক ও সিনিয়র জেলা জজ মশিউর রহমান খান এ রায় ঘোষণা করেন। বরগুনার আলোচিত রিদয় হত্যা মামলার শিশু আদালতের রায় ঘোষনা করেন। ১২ জন আসামীকে ১০ বছর মেয়াদে আটক আদেশ প্রদান করা হয়, ইউনুছ কাজী অরফে ইউনুছ, মো: রানা আকন, মো: ইমন হাওলাদার, মো: জুয়েল কাজী, মো: নয়ন হাওলাদার (পলাতক), মো: সজিব (পলাতক), নাজমুল শিকদার, রাইয়ান বিন অন্তর অরফে অন্তর, সিফাত ইসলাম (পলাতক), মো: মোশারেফ, মো: সাইফুল মৃধা, মো: রাব্বি। ৪ জন আসামি ৭ বছর মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়, মো: সাগর গাজী, মো: সাইফুল কাজী, সোহাগ কাজী, মো: ফাইজুল ইসলাম। ৩ জন আসামি বেখসুর খালাস দেওয়া হয়, মো: শফিকুল ইসলাম, মো: নাঈম কাজী, মো: রবিউল ইসলাম।

উল্লেখ্য ২০২০ সালের ২৫ মে ঈদের দিন সে বন্ধুদের সঙ্গে পায়রা নদীর পাড়ে ঘুরতে যায়। সেখানে নদী তীরে বসা নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। এরই জেরে বন্ধুরা তাকে পিটিয়ে হত্যা করে। পরদিন হৃদয়ের মা ফিরোজা বেগম বরগুনা থানায় হত্যা মামলা করেন। হৃদয়ের মা বলেন,আমার আইনজীবীগন টাকায় বিক্রি হয় নায়। আমি রায়ে খুশি দেশে এখনও সত্যের জয় হয়।প্রধান মন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাই আমাকে জেনো নিরাপত্তা দেওয়া হয়।




শপথ নিলেন নতুন প্রধান বিচারপতি

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : নবনিুক্ত দেশের ২৪তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে আজ শপথ নিয়েছেন আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রধান বিচারপতিকে শপথ বাক্য পাঠ করান।

মঙ্গলবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে শপথ পাঠ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।




আমতলীতে নারী শিক্ষককে যৌন হয়রানির অভিযোগ

 

বরিশাল অফিস: বরগুনার আমতলী পৌর শহরের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক পুরুষ শিক্ষকের বিরুদ্ধে সহকর্মী আরেক নারী শিক্ষককে যৌন হয়রানির লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগের পর ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এঘটনা এভাবে চলতে থাকলে আফরোজ জাহান তানিয়া আত্মসম্মান বাঁচাতে আত্মহত্যারও হুমকি প্রদান করেন।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আমতলী পৌর শহরের ২নং ওয়ার্ডে অবস্থিত আমতলী একে হাই সংলগ্ন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মাইনুল ইসলাম বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে ওই বিদ্যালয়ের আরেক সহকর্মী নারী শিক্ষক আফরোজা জাহান তানিয়াকে একা পেয়ে প্রায়ই নানা ধরনের কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছে। এ ঘটনায় আফরোজ জাহান তানিয়া সহকর্মীর এধরনের আচরনে বিব্রত হলেও লজ্জার ভয়ে কাউকে কিছু না জানিয়ে চুপ করে থাকেন।

একপর্যায়ে মাইনুলের যৌন হয়রানির মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় গত ২১ সেপ্টেম্বর আফরোজ জাহান তানিয়া সহকর্মী মাইনুলের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির বিচার চেয়ে বরগুনা জেলা শিক্ষা অফিসারের বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। লিখিত অভিযোগে তানিয়া এঘটনা এভাবে চলতে থাকলে আত্মসম্মান বাঁচাতে তিনি আত্মহত্যার হুমকি প্রদান করেন। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস নিশ্চিত করেন।

লিখিত অভিযোগের পর বরগুনা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবদুর রাজ্জাক ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে আমতলী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলামকে। সদস্য করা হয়েছে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান ও সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আল আমিনকে।

যৌন হয়রানির শিকার আমতলী হাই সংলগ্ন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আফরোজ জাহান তানিয়া বলেন, একই বিদ্যালয়ের সহকর্মী শিক্ষক মাইনুল ইসলাম বিদ্যালয়ে আমাকে একা পেলেই নানা ধরনের অঙ্গ ভঙ্গি করে অশালীন কথাবার্তা বলত এবং কুপ্রস্তাব দিত। প্রথম দিকে সহকর্মী ভেবে কিছু না বললেও দিন দিন তার মাত্রা বেড়ে যায় এবং এ থেকে তাকে নিবৃত্ত থাকতে বললেও তার মাত্রা আর বেড়ে যায়। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে আমি মাইনুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেই। মাইনুল শুধু আমাকেই নয় বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির নারী শিক্ষার্থীদেরকে যৌন হয়রানি করত। অনেক মেয়েকে অভিভাবকরা মাইনুলের ভয়ে এখান থেকে অন্যত্র নিয়ে গেছে। আমি এঘটনা সুষ্ঠু বিচার চাই। তিনি আরো বলেন মাইনুলের এঘটনা এভাবে চলতে থাকলে আমার আত্মহত্যা করা ছাড়া আর কোন পথ থাকবে না।

অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মাইনুল ইসলাম সহকর্মী শিক্ষীকাকে যৌন হয়রানি বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, এধরনের অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে কেন করা হয়েছে তা আমি জানি না। আমতলী একেহাই সংলগ্ন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবদুল মান্নান বলেন, এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে কিছু বলবো না যা বলার তদন্ত কমিটির সামনে বলবো।

আমতলী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, আমতলী একেহাইসংলগ্ন সরকারী প্রথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আফরোজ জাহান তানিয়াকে আরেক সহকর্মী শিক্ষক মাইনুল ইসলাম যৌন হয়রানি করার বিষয়ে লিখিত অভিযোগের পর বরগুনার জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আমাকে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।
চিঠি হাতে পেয়েছি। খুব দ্রুত তদন্ত কাজ শুরু করা হবে।

বরগুনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবদুর রাজ্জাক বলেন, লিখিত অভিযোগের পর আমতলী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া সাপেক্ষে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।




আমতলীতে জমির দখল নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৬

 

বরিশাল অফিস: আমতলীর কুকুয়া ইউনিয়নের কৃষ্ণ নগর গ্রামে রোববার দুপুরে বিরোধীয় জমিতে ধানের চারা লাগানোকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ৬ জন আহত হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহতদেরকে স্বজনরা উদ্ধার করে পটুয়াখালী ও বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেছে।

স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, আমতলী উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের কৃষ্ণ নগর গ্রামের শাহ আলম মুসুল্লী ও আনোয়ার হোসেন ফকিরের মধ্যে ৯০ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।

বিরোধীয় ওই জমি দখলে নিতে আনোয়ার হোসেন ফকির রোববার দুপুরে জোর করে ধানের বীজ লাগতে জায়। এ সময় খবর পেয়ে শাহ আলম মুসুল্লী বাধা দিলে বাকবিতন্ডার একপর্যায়ে উভয়ে দা লাঠি নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে ৬জন আহত হয়। আহতরা হল শাহ আলম মুসল্লী, স্ত্রী মমতাজ বেগম, ছেলে ওমর ফারুক, নসির আকন, বেল্লাল আকন ও অনোয়ার হোসেন ফকির। আহতদেরকে উদ্ধার করে স্বজনরা পটুয়াখালী ও বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেছে।

শাহ আলম মুসল্লী অভিযোগ করে বলেন, আমার জমিতে আনোয়ার হোসেন ফকির জোর করে দখলে নেওয়ার জন্য ধানের বীজ লাগাতে জায় আমি বাধা দিলে আমার উপর হামলা করে ৫জনকে আহত করেছে।

আনোয়ার হোসেন ফকির হামলার কথা অস্বীকার করে বলেন, আমার ক্রয় করা সম্পত্তি জোর করে শাহ আলম মুসল্লী দখল করে রেখেছে। আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী শাখয়াত হোসেন তপু বলেন,খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মামলা হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




ঢাকার ট্রাফিক সিগন্যালে এআই, সাদা দাগ পার হলেই অটো মামলা

যানজট কমানো ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নিয়েছে এ উদ্যোগ। ডিএনসিসির তথ্য বলছে, গত এক মাস এ এলাকার গাড়ি চলাচল পর্যবেক্ষণ করে যে তথ্য পাওয়া গেছে সেটা ভয়াবহ। আইন ভেঙেছে তিন লাখ বাহন। সেন্ট্রাল কমান্ড সেন্টারের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে আইন ভঙ্গের হার বলছে, এ সিস্টেম চালু হলে রাজধানীজুড়ে একদিকে ভয়াবহ যানজট কমবে, অন্যদিকে যত্রতত্র পার্কিং কিংবা ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করার প্রবণতাও কমবে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে তখন সিগন্যাল সিস্টেমে আসবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকা শহরে যেভাবে প্রতিদিন গাড়ির সংখ্যা বাড়ছে সেভাবে ঢাকার রাস্তা বাড়ছে না। বরং অনেকাংশে রাস্তা কমছে। যানজটের কারণে অর্থনৈতিক ক্ষতি যেমন হচ্ছে তেমন কর্মঘণ্টাও বাড়ছে। ঢাকা শহরে বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক ছুটির দিনেও রাস্তায় চলাচল করা দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ভালো না হলে ঢাকার যতই উন্নয়ন হোক না কেন তা কাজে আসবে না। পুলিশ সদস্যরা হাত দিয়ে যে ট্রাফিক সিগন্যাল দিতেন এআই চালু হলে সেটা আর দেওয়া লাগবে না।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) পরিসংখ্যান বলছে, শুধু ঢাকা শহরে ২০২০ সালে নতুন গাড়ি রেজিস্ট্রেশন হয়েছে এক লাখ ১৮ হাজার ২৫৪টি, ২০২১ সালে এক লাখ ৫০ হাজার ৫৬১টি, ২০২২ সালে রেজিস্ট্রেশন হয়েছে এক লাখ ৭৪ হাজার ৮১২টি এবং চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত নতুন গাড়ি রেজিস্ট্রেশন হয়েছে ৮৭ হাজার ৩৬২টি।

 

তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে ঢাকায় সবচেয়ে বেশি রেজিস্ট্রেশন হয়েছে মোটরসাইকেল, এক লাখ ২০ হাজার ৮৪৮টি। এরপরে রয়েছে প্রাইভেটকার ১৪ হাজার ৯৪৬টি, জিপ গাড়ি ৯ হাজার ৩৫০টি এবং মাইক্রোবাস রেজিস্ট্রেশন হয়েছে ৬ হাজার ৬৯৫টি।

অর্থাৎ, বিআরটিএর পরিসংখ্যানেই দেখা যায়, প্রতি বছর ঢাকা শহরে হু হু করে বাড়ছে গাড়ির সংখ্যা। কিন্তু সেই তুলনায় তৈরি হচ্ছে না নতুন রাস্তা। বিআরটিএর রেজিস্ট্রেশন ছাড়াও ঢাকা শহর দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছে আরও অনেক গাড়ি।

ঢাকার বেশকিছু সড়কে সরেজমিনে দেখা যায়, হাত দিয়ে ট্রাফিক পুলিশ গাড়ি থামার সিগন্যাল দেওয়ার পরেও অনেক গাড়ি সিগন্যাল ভেঙে সামনে যাওয়ার চেষ্টা করে। অনেক সময় ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা দৌড়ে গিয়ে মামলা দেন, আবার অনেক সময় চালক পালিয়ে গেলে মামলা দেওয়া সম্ভব হয় না।

সংশ্লিষ্টরা জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন সিগন্যাল মেনটেন্যান্স সরঞ্জাম, সিসি ক্যামেরা, ইমেজ ক্যামেরা, ভিডিও ক্যামেরা ও অন্য সরঞ্জমাদি দিয়ে এই সিস্টেম চালু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ঢাকা শহরের প্রতিটি পয়েন্ট এআই-এর আওতায় আনা হবে।

গুলশান-২ নম্বর সিগন্যালে কর্মরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা বলছেন, লালবাতি জ্বলা অবস্থায় সাদা দাগ অতিক্রম করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রাফিক মামলা হবে। এ প্রযুক্তির ফলে অনেকেই সচেতন হয়েছেন। এতে ট্রাফিক আইন ভাঙার প্রবণতা কমে আসবে ৯৯ শতাংশ। লালবাতি জ্বলা মাত্র সবাই সতর্ক হয়ে যাবেন। এই আধুনিক ব্যবস্থাপনায় ট্রাফিক পুলিশের কষ্টও কমে আসবে অনেকাংশে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা গবেষণা কেন্দ্রের সহকারী অধ্যাপক সাইফুন নেওয়াজ জাগো নিউজকে বলেন, ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের একদিকে যেমন কাজের চাপ কমবে অন্যদিকে এই সিস্টেমের আওতায় আনতে পারলে ঢাকার যানজটও কমে আসবে।

গুলশান ট্রাফিক বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) আব্দুল মোমেন জাগো নিউজকে বলেন, গুলশান-২ নম্বর সিগন্যালে পরীক্ষামূলকভাবে সিটি করপোরেশন এ পদ্ধতি চালু করেছে। তবে আগে যে টাইমিং সিস্টেম ছিল সেটি এখন আর নেই। ফলে সাধারণদের মধ্যে কিছুটা লাল, হলুদ আর সবুজ বাতি নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। ট্রাফিক সদস্যদেরও কাজের পরিধি বেড়েছে। তবে ইন্টেলিজেন্স ক্যামেরাসহ আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন এআই সিস্টেম ঢাকা শহরের একযোগে সবকয়টি পয়েন্টে চালু হলে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে। কারণ রাজধানীর প্রতিটি সড়ক একটির সঙ্গে আরেকটি লিংক।

জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত সচিব) মো. সেলিম রেজা জাগো নিউজকে বলেন, সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি প্রেজেন্টেশন দেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি হয়েছে। এই কমিটি একটি প্রতিবেদন দাখিল করবে। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এআই প্রযুক্তিসম্পন্ন ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চূড়ান্ত হবে। এটি প্রাথমিকভাবে চালু হবে গুলশানসহ ১৭টি পয়েন্টে।




রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাচার হওয়া ৬ হাজার টন কয়লা জব্দ, ৬ জন আটক

 

এস এম পারভেজ , পিরোজপুর: পাচারের উদ্দেশ্যে পিরোজপুরের কচা নদীতে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য আমদানীকৃত পাথর কয়লা ভর্তি নোঙর করা একটি কার্গো জাহাজ আটক করা হয়েছে । এ সময় কার্গো জাহাজ থেকে ৬ হাজার টন পাথর কয়লা জব্দ করেছে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল ।

সুত্র জানায়, এ সময় ক্রয়-বিক্রয়ের সাথে জড়িত আরও ৬ কালোবাজারির সদস্যকে আটক করা হয়েছে । আটককৃতরা হলেন -মোহাম্মদ আলাউদ্দীন হাওলাদার, আব্দুর রশিদ, মোহাম্মদ সোহেল ফকির, মোহাম্মদ শাহাদত হোসেন, মোহাম্মদ বল্লোল গাজী ও দবির উদ্দিন ।

জব্দকৃত পাথর কয়লার বাজার মূল্য আনুমানিক ৬ কোটি ৬০ লাখ  টাকা। এ সংক্রান্ত প্রেস কনফারন্স করেছে নৌ-পুলিশ সুপার । রবিবার বিকেলে নিজস্ব দপ্তরে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শফিউর রহমান এসব সব তথ্য গনমাধ্যম র্কমীদেরকে জানান।

তিনি বলেন, কক্সবাজারে কুতুবদিয়ায় মাদারভেসেল হতে এম.ভি  বাই. কুইন  নামে  কার্গো  জাহাজটিতে কয়লা লোড করে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল । পথিমধ্যে পাচারের উদ্দেশ্য পিরোজপুরের কচা নদীতে নোঙর করলে গোয়েন্দা পুলিশের দল গোপন  তথ্যের ভিত্তিতে  জাহাজটিকে আটক করতে সক্ষম হয় ।  কয়লা ক্রয়-বিক্রয়ের সাথে জড়িত ৬ জন কে আটক করা হয় । এ বিষয়ে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে । মামলা প্রক্রিয়াধীন।

 




দশমিনার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী: পটুয়াখালীর দশমিনা থানা পুলিশ মাদক মামলায় পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত মিন্টু (৪৫) নামে এক পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সংশ্লিস্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রনগোপালদী ইউনিয়নের রনগোপালদী নিবাসি আঃ রউফ  হাওলাদারের ছেলে  মিন্টু (৪৫) গত ২০০৪ সনে তিন শত পিচ ফিনসিডিল পাচার কালে ঢাকার ধামরাইল থানা পুলিশ আট করে জেল হাজতে পাঠায়। ৬/০৮/২০০৪ইং সনে  ঢাকার বিশেষ ট্রাইবুনাল আদলতে মামলা নং ০৬(৮)০৪ বিচার কার্য শুরু হলে ৮/০১/২০১৭ ইং সনে বিশেষ ট্রাইবুনাল আদালতের বিচারক ৫ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৬ মাসের সাজার রায় ঘোষনা করেন। রায় ঘোষনার পর থেকে মোঃ মিন্টু পলাতক। দীর্ঘ দিন পলাতক থাকার পর দশমিনা থানার উপপুলিশ পরিদর্শক(এসআই) মনিরুজ্জামান ওয়ারেন্ট তামিল মূলে গত ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ইং তারিখ রোজ শুক্রবার বিকেলে ঢাকার যাত্রবাড়ি থানা পুলিশের সহয়তায় ধোলাইপার এলাকা থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

উপপুলিশ পরিদর্শক(এসআই) মনিরুজ্জামান বলেন, ওয়ারেন্ট আসার পর থেকে মিন্টুকে বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি করি কিন্তু একএক সময় একএক জায়গায় স্থান পরিবর্তন করে। পরে বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফেনসিডিল মামলার সাজা প্রাপ্ত আসামী মোঃ মিন্টুর লোকেসন সনাক্ত করে গত ২২ সেপ্টেম্ব বিকেলে ঢাকার ধোলাইপাড় এলাকা থেকে গ্রেফতার করে দশমিনা থানায় নিয়ে আসি।

দশমিনা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আনোয়ার হোসেন তালুকদার  জানান, ফেনসিডিল পাচার মামলার সাজাপ্রাপ্ত পালাতক আসামী  মিন্টুকে সাড়ে ছয় বছর পর উপপুলিশ পরিদর্শক(এসআই) মনিরুজজ্জামান সহ যাত্রবাড়ির সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ২২ সেপ্টেম্বর বিকেলে ঢাকার ধোলাইপাড় এলাকা থেকে আটক করা হয় এবং রাতেই দশমিনা থানায় আনা হয়। শনিবার দশমিনা আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়।




দুমকিতে বুদ্ধি প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণ

 

 মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার একটি গ্রামে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী তরুণী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।

শুক্রবার সকালে টানা বৃষ্টি ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া চলাকালে বসতঘরে একা পেয়ে মোক্তার হোসেন মৃধা ও তার সহযোগী ওই নারীকে ধর্ষণ করে।

ওই নারীর বাবা বাদী হয়ে শনিবার দুমকি থানায় অভিযুক্ত মোক্তার হোসেন মৃধা ও রাসেল হাওলাদারের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন এবং ধর্ষণের মামলা করেছেন। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা পালিয়ে গেছে।

পুলিশ ওই নারীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হান্নান বলেন, আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।




দুমকিতে ফেনসিডিলসহ শাশুড়ি-জামাই আটক

 মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী: পটুয়াখালীর দুমকিতে ৪০০ বোতল ফেনসিডিলসহ আলেয়া বেগম (৫৫) ও  মোহসীন শেখ (৩৮) নামে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার গভীর রাতে উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের সাতানী গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

আলেয়া ও মোহসীন সম্পর্কে শাশুড়ি-জামাই।
অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে আলেয়ার স্বামী আ. মান্নান হাওলাদার ও ছেলে রিপন কৌশলে পালিয়ে যান।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি ইন্সপেক্টর একেএম আজমল হুদা জানান, শনিবার রাত ২টার দিকে সাতানী গ্রামের আব্দুল মান্নান হাওলাদারের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। বাড়ির পাশে বাগানের মাটি খুঁড়ে চারটি পলিথিনব্যাগের মধ্যে ১০০ পিস করে মোট ৪০০ পিস ভারতীয় ফেনসিডিল সিরাপ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় মান্নানের স্ত্রী আলেয়া বেগম ও তাদের জামাই মোহসিন শেখকে আটক করা হয়।

আজমল হুদা আরও জানান, মোহসীন বর্তমানে এখানে বসবাস করলেও তার বাড়ি গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার উত্তর হিরন গ্রামে। অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে পালিয়ে যান মান্নান ও তার ছেলে রিপন হাওলাদার।

দুমকি থানার ওসি আব্দুল হান্নান জানান, মান্নানের পরিবার চিহ্নিত মাদক কারবারি। মান্নানের ছেলে রিপনের বিরুদ্ধে মাদক মামলা রয়েছে।




আটক চোর সাথে নিয়ে পুলিশের অভিযান

 

বরিশাল অফিস: দীর্ঘদিন থেকে একাধিক টেলিকম সেন্টার ও বিকাশ এজেন্টের দোকানে কৌশলে চুরি করে ধরাছোয়ার বাহিরে ছিলো দুর্ধর্ষ চোর আরিফ হাওলাদার। অবশেষে একটি দোকানের ২০টি মোবাইল ফোন চুরি করে ফেঁসে গেছেন আরিফ। জেলার গৌরনদী মডেল থানা পুলিশ চুরির একটি অভিযোগের সূত্রধরে প্রযুক্তির মাধ্যমে শনিবার দিবাগত রাতে ঢাকা থেকে চোরাইকৃত চারটি মোবাইল সেটসহ আরিফ হাওলাদারকে আটক করেছে।

রোববার সকালে আটককৃত আরিফের স্বীকারোক্তি মতে তার (আরিফ) উপস্থিতিতে গৌরনদীর খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের বাকাই বাজার সংলগ্ন একটি বাগানের পরিত্যক্ত স্থান থেকে আরও দুইটি চোরাই মোবাইল সেট উদ্ধার করা হয়। আটককৃত দুর্ধর্ষ চোর আরিফ হাওলাদার বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার আগরপুর ইউনিয়নের ব্রাহ্মনদিয়া গ্রামের বাসিন্দা ইউনুস হাওলাদারের ছেলে।

তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আফজাল হোসেন জানিয়েছেন, বাকাই বাজারের সাহা টেলিকম সেন্টার নামের একটি দোকানের চালার টিন কেটে গত ১০ আগস্ট দিবাগত রাতে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটে। সংঘবদ্ধ চোরেরা ওই দোকান থেকে বিভিন্ন ব্যান্ডের প্রায় ২০টি মোবাইল চুরি করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ১১ আগস্ট ব্যবসায়ী জুয়েল সাহা গৌরনদী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে চুরি হওয়া মোবাইল ফোনের আইএমই নাম্বার ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রযুক্তির মাধ্যমে চোর আরিফ হাওলাদারের অবস্থান নিশ্চিত করা হয়। পরবর্তীতে শনিবার দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে ঢাকা থেকে আরিফ হাওলাদারকে আটক করে থানায় আনা হয়।

ওসি আরও জানিয়েছেন, রোববার সকালে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরিফ হাওলাদার চুরির কথা স্বীকার করে। এরপর তাকে নিয়ে চোরাই মোবাইল ফোন উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে দুইটি মোবাইল সেট উদ্ধার করা হয়।

ওসি আরও জানান, এরপূর্বে গত বছরের ১৮ জুলাই গৌরনদীর বাটাজোর বন্দরের পার্থ কম্পিউটার সার্ভিসিং, বিক্রয় ও বিকাশ এজেন্টে একইভাবে চালের টিন কেটে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটে। সংঘবদ্ধ চোরেরা ওই দোকান থেকে নগদ ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। ওই চুরিরও আটক আরিফ হাওলাদার করেছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে। চুরির ঘটনার সাথে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ ঘটনায় আটক আরিফ হাওলাদারকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ড আবেদন করে রোববার দুপুরে আদালতে সোর্পদ করা হয়েছে বলেও ওসি উল্লেখ করেন।