দশমিনায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা স্বত্বেও নির্মিত হচ্ছে বহুতল ভবন

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালী জেলার দশমিনায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বহুতল ভবন নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে। গত মাসের ২৭ তারিখ স্থিতিবস্থা বজায়ের আদেশ কর্যকর ও বলবৎ রাখার জন্য আদালত দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) অবহিত করেন। কিন্তু আদালতের নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করেই নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মো. রমিজ।

তিনি বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়ায় আদালতের নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে নিজ ক্ষমতায় বাউন্ডারি ওয়াল ও বহুতল ভবনের নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন মো. আব্দুল আজিজ মিয়া।

জানা যায়, উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের চরহোসনাবাদ গ্রামের মো. রমিজ ১৯৮৮ সালে এস এ ৫২ নম্বর খতিয়ানের ১১টি দাগ দিয়ে মোট সাড়ে ১৩ শতাংশ জমি আবু বকর মৃধার কাছ থেকে নগদ টাকায় জমি ক্রয় করে ভোগ দখল বুঝিয়ে নেন। জমি ক্রয়ের প্রায় ১০ বছর পর ১৯৯৭ সালে মূল মালিক মো. রমিজকে নাবালক দেখিয়ে তার বাবা মো. আবদুর রহিমের কাছ থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আব্দুল আজিজ ও তার ছেলে এ বি এম সালেহ সুমনের নামে সমহারে পৃথক দুটি দলিল করেন। পরবর্তীতে ২০১২ সালে চেয়ারম্যান আজিজ মিয়া ঘর তুলতে গেলে জমির মূল মালিক মো. রমিজ ঘটনাটি জানতে পারে। এ ঘটনায় রমিজ দুটি দলিল বাতিল চেয়ে ২০১২ সালে আদলতে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় আজিজ মিয়ার পক্ষে জজ কোর্ট রায় প্রদান করেন। অপর মামলায় মূল মালিক রমিজের পক্ষে আদালত রায় প্রদান করেন। মামলার রায়ের বিরুদ্ধে রমিজ হাই কোর্টে সিভিল রিভিশন মামলা দায়ের করলে ২০২১ সালে আদালত স্থাগিতাদেশ রুল জারি করেন। অপর মামলায় এ বি এম সালেহ সুমন রায়ের বিরুদ্ধে ছানি দাখিল করেন যা বর্তমানে বিচারাধীন।

অপরদিকে, রমিজ সব নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার জন্য আদালতে স্থাগিতাদেশের আবেদন করলে চলতি বছরের ৬ মার্চ আদালত তা মঞ্জুর করেন।

এদিকে, দুই মামলায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তা না মেনে নির্মাণ কাজ চলমান থাকায় রমিজ পুনরায় আদালতের শরণাপন্ন হলে আদালত আগেও স্থাগিতাদেশ বহাল রাখে এবং গত ২৭ তারিখে দশমিনা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে আদেশ কার্যকর করার জন্য নির্দেশ দিয়ে থাকেন।




পটুয়াখালীর দশমিনায় পুকুরে ডুবে ছয় বছরের শিশুর মৃত্যু

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): সোমবার (২৩ অক্টোবর) শেষ বিকেলে উপজেলার ২ ওয়ার্ড এর একটি পুকুরের পানিতে ডুবে ছয় বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

নিহত মো: রাজু উপজেলার সদর ইউনিয়নের দশমিনা গ্রামের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সোহরাব প্যাদার ছেলে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার পূর্বমুহূর্তে রাজুকে কোথাও দেখতে না পেয়ে স্বজনদের চিৎকারে শব্দ শুনে বাড়ির ও স্থানীয়রা খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে ঘরের পেছনের পুকুরের পানিতে রাজুকে ভাসতে দেখে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে।

এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাক্তার সাদিয়া খায়ের তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

দশমিনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ইকবাল মাহামুদ লিটন বিষয়টি নিশ্চিত করে­ছেন।




কলাপাড়ায় দ্বিতীয় স্ত্রীর সামনে ঘরে ঢুকে নৃশংসভাবে হত্যা

বরিশাল অফিস: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় তিন কন্যা সন্তানের পিতা সাইদুল সরদারকে (৩৮) ঘরে প্রবেশ করে উলঙ্গ করে খাটের উপর হাত-পা বেঁধে বুকে ধারালো অস্ত্র ঢুকিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে দূবৃত্তরা। এ হত্যাকান্ডের ৪৩ দিন অতিবাহিত হলেও পৃুলিশ এ হত্যার রহস্য উদঘাটন কিংবা হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এ কারণে খুনীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে এখন রাস্তায় নেমেছে নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী।

কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলছেন, তারা হত্যায় ব্যবহৃত একটি ধারালো চাকু উদ্ধার করেছেন। অবিলম্বে হত্যায় জড়িত সকলকে গ্রেপ্তার করা হবে।

সেপ্টেম্বর মাসের ৯ তারিখ আনুমানিক রাত ৯টার দিকে কলাপাড়ার মধ্য টিয়াখালী গ্রামের নিজ বাসার দোতলার শয়নকক্ষের খাটের সাথে হাত-পা বেঁধে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় সাইদুল সরদারকে। এ সময় ওই ঘরে ছিলেন শুধু তার দ্বিতীয় স্ত্রী খাদিজা বেগম। সাইদুলকে মারধরের পর মধ্যযুগীয় কায়দায় হত্যা করা হলেও ওই সময় ঘরে থাকা তার দ্বিতীয় স্ত্রী খাদিজাকে কোন নির্যাতন করা হয়নি। এমনকি ঘরের সব মালামাল ছিলো সুৃরক্ষিত ও অক্ষত। সাইদুলকে হত্যার সময় তার ডাক চিৎকার শোনা গেলেও তার স্ত্রীর কোন চিৎকার শুনতে পায়নি প্রতিবেশীরা। এ সময় সাইদুলের চিৎকার শুনে তার ঘরে গিয়ে প্রতিবেশীরা সাইদুলকে এভাবে হাত-পা বাঁধা রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করে।

কিন্তু চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই রাতেই পুলিশ সাইদুলের মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে প্রেরণ করে। কিন্তু হত্যায় জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। সাইদুলের ঘরে একাধিক চেতনানাশক ঔষধ, জুস ও নাইলনের কট সুতা উদ্ধার করে। ঘরে এখনও রক্তের ছোপ ছোপ দাগ। কিন্তু এ হত্যায় কারা জড়িত এ বিষয়ে এখনও মুখ খোলেনি ঘটনার সময় উপস্থিত তার দ্বিতীয় স্ত্রী খাদিজা।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই শাহজালাল সরদার ১০ সেপ্টেম্বর কলাপাড়া থানায় অজ্ঞাত আসামীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। পুলিশ এ মামলায় গত ২৬ সেপ্টেম্বর সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে দ্বিতীয় স্ত্রী খাদিজাকে গ্রেপ্তার করে এবং আদালতের মাধ্যমে তিনদিনের রিমান্ডে নেয়। কিন্তু রিমান্ডেও সে অপ্রকৃতস্থ্য আচরণ করে। এ কারণে পুলিশ তার কাছ থেকে কোন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদঘাটন করতে না পারায় ৪৩ দিনেও সাইদুল হত্যায় জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

এদিকে এ হত্যাকান্ড ধামাচাপা পড়ে যাওয়ার আশংকায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে সাইদুল সরদারের পরিবার ও তার প্রথম স্ত্রী ও তিন সন্তান। সাইদুলের মা ও স্ত্রী, সন্তানরা বলেন, সাইদুলকে পরিকল্পিতভাবে সম্পত্তির জন্য খাদিজা বেগম অন্যের সহায়তায় হত্যা করেছে। সে একা এ হত্যাকান্ড করতে পারে না। তারা অবিলম্বে এ হত্যাকারীদের সনাক্ত ও দ্রুত বিচারের দাবি জানান। আর সাইদুলের ভাই শাহজালাল সরদার ওরফে খোকন বলেন, প্রথম স্ত্রী কাকলী বেগমের অনুমতি নিয়ে তার ভাই দ্বিতীয় বিয়ে করেছে। প্রথম স্ত্রীর সংসারে তার শাহরিয়া (১১), তাইফা (৬) ও সামিয়া (১২ মাস) নামের তিন কন্যাসন্তান রয়েছে। কিন্তু প্রথম স্ত্রী ও সন্তানদের সে খুব ভালোবাসতো। পরিবারের সবার সে খেয়াল নিতো। কারো সাথে তার কোন বিরোধ ছিলো না। রাজনীতির সাথেও জড়িত ছিলো না।

দ্বিতীয় বিয়ে করার পর তাকে কিছু সম্পত্তি লিখে দিয়ে সাইদুল আবার তা ফিরিয়ে নেয়। এ নিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রী খাদিজার সাথে প্রায়ই বিরোধ হতো। তার ভাইকে সম্পত্তির জন্যই পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। এলাকাবাসীরা বলেন,সাইদুলের নির্মম মৃত্যুতে গোটা এলাকার মানুষ কাঁদলেও দ্বিতীয় স্ত্রী খাদিজার ছিলো না কোন শোকের ছায়া।

এমনকি স্বামীর মৃত্যুর খবর সে কাউকে না জানিয়ে মৃতদেহ দোতলায় আটকে রাখে সিড়ির ঝাঁপ দিয়ে। এটা পরিকল্পিত হত্যাকান্ড বলে তারা ধারনা করছেন। একই সাথে অবিলম্বে এ হত্যাকারীদের পুলিশ গ্রেপ্তার করতে না পারলে ছোট ছোট তিন সন্তান নিয়ে তারা রাস্তায় নামবেন বলে আলটিমেটাম দেন।

এদিকে সাইদুল হত্যার জড়িতদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে শতশত এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা। শনিবার দুপুরে কলাপাড়া শহীদ সুরেন্দ্র মোহন চেীধুরী সড়কে এ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে তার পরিবারের লোকজন। ছোট ছোট প্লাকার্ড নিয়ে রাস্তায় বসে পড়ে তিন সন্তান।

এ বিষয়ে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলী অহমেদ বলেন, তারা মামলাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছেন। সন্দেহভাজন দ্বিতীয় স্ত্রীকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্য তদন্ত করে দেখছেন। খুব শীঘ্রই আসামীদের গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানান।




গাছ থেকে পড়ে দশমিনাতে কৃষকের মৃত্যু

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালী জেলার দশমিনায় গাছ থেকে পড়ে রফিক হাওলাদার (৫০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যার আগে উপজেলার রণগোপালদী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড পূর্ব আউলিয়াপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রফিক একই গ্রামের আমির হোসেন হাওলাদারের ছেলে।

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, দুপুরের দিকে জ্বালানি লাকড়ির জন্য ডাল কাটতে নিজ বাড়ির চাম্বুল গাছে উঠতে গিয়ে হঠাৎ নিচে পড়ে যান রফিক। তার পড়ার শব্দ টের পেয়ে বাড়ির লোকজন ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক ডা. এইচ এম আলভী তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

রণগোপালদী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মো. আনোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।




বরিশালে ৪৪ জেলের কারাদন্ড

বরিশাল অফিস : নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ নিধনের সময় বিভাগের বিভিন্ন নদীতে অভিযান চালিয়ে গত ২৪ ঘন্টায় আটক ৪৪ জেলেকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।পাশাপাশি ২৭ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এনিয়ে গোটা অভিযানে গত ১০ দিনে এখন পর্যন্ত ৩৭৭টি মামলায় ৩৬৬ জন জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২ লাখ ৮৩ হাজার ১০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

রোববার দুপুরে বিভাগীয় মৎস্য অফিস থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত ১২ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর সকাল আটটা পর্যন্ত বরিশাল বিভাগে ১ হাজার ১৩৯টি অভিযান চালানো হয়েছে এবং ৪৩৩টি ভ্রাম্যমাণ আদালত করা হয়েছে। অভিযানে চার হাজার ১৪২ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি তিন কোটি ৪১ লাখ ৭৩ হাজার টাকা মূল্যের ১৬ লাখ ৩৬ হাজার ৭০০ মিটার অবৈধ জাল জব্দ করা হয়েছে।

মৎস্য বিভাগের বিভাগীয় সহকারী পরিচালক মোঃ নাসির উদ্দিন তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।




পটুয়াখালীতে দোকানে মিলল নরসুন্দরের ঝুলন্ত মরদেহ

বরিশাল অফিস: পটুয়াখালী কলাপাড়া উপজেলায় ধুলাসার ইউনিয়নে সুজন (২০) নামের এক নরসুন্দরের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সুজন পাশ্ববর্তী আমতলী উপজেলার চাওড়া গ্রামের বাসিন্দা নির্মল দাসের ছেলে।

স্থানীরা জানান, গত রোববার রাতে সুজন সেলুনে এসে দোকানের শাটার বন্ধ করে ভেতরে প্রবেশ করেন। সোমবার সারাদিন সেলুন বন্ধ দেখে চুল কাটাতে আসা গ্রাহকেরা ডাকাডাকি করেন। এরপর সারা শব্দ না পেয়ে শাটারের ফাঁক দিয়ে সেলুনের সিলিং ফানের সঙ্গে তাঁকে ঝুলতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে রাতে মহিপুর থানা–পুলিশ এসে মরদহে উদ্ধার করে।

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আলম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল গিয়ে মরদেহ উদ্ধার কর হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পটুয়াখালী পাঠান হবে। পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




একাদশ জাতীয় সংসদের ২৫তম অধিবেশন শুরু হচ্ছে আজ

চন্দ্রদীপ নিউজ: একাদশ জাতীয় সংসদের ২৫তম (২০২৩ সালের পঞ্চম) অধিবেশন শুরু হচ্ছে আজ রোববার (২২ অক্টোবর)। সংসদ অধিবেশন চলাকালে জাতীয় সংসদ ভবন ও এর আশপাশের এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

শনিবার (২১ অক্টোবর) ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানের সই করা এক আদেশে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। একাদশ জাতীয় সংসদের ২৫তম অধিবেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ আদেশ বলবৎ থাকবে বলেও জানিয়েছে ডিএমপি।

আদেশে শনিবার রাত ১২টা থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সকল প্রকার অস্ত্রশস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্য, অন্যান্য ক্ষতিকারক ও দূষণীয় দ্রব্য বহন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া যেকোনো প্রকার সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ প্রদর্শন নিষেধ করা হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা যেসব এলাকায়-ময়মনসিংহ রোডের মহাখালী ক্রসিং হতে পুরাতন বিমান বন্দর হয়ে বাংলামোটর ক্রসিং; বাংলামোটর লিংক রোডের পশ্চিম প্রান্ত হতে হোটেল সোনারগাঁও রোডের সার্ক ফোয়ারা; পান্থপথের পূর্ব প্রান্ত হতে গ্রিন রোডের সংযোগস্থল হয়ে ফার্মগেট; মিরপুর রোডের শ্যামলী মোড় হতে ধানমন্ডি-১৬ (পুরাতন-২৭) নম্বর সড়কের সংযোগস্থল; রোকেয়া সরণির সংযোগস্থল হতে পুরাতন নবম ডিভিশন (উড়োজাহাজ) ক্রসিং হয়ে বিজয় সরণির পর্যটন ক্রসিং; ইন্দিরা রোডের পূর্ব প্রান্ত হতে মানিক মিয়া এভিনিউর পশ্চিম প্রান্ত; জাতীয় সংসদ ভবনের সংরক্ষিত এলাকা এবং এই সীমানার মধ্যে অবস্থিত সমুদয় রাস্তা ও গলিপথ।




দুমকিতে ১০ লাখ টাকার কারেন্ট জাল জব্দ

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): দুমকিতে মৎস্য বিভাগের মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে ৩টি জেলে নৌকাসহ ৩৮হাজার ৫শ’ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত কারেন্ট জালগুলোর বর্তমান বাজারমূল্য ৯ লাখ ৬২ হাজার ৫’শ টাকা। এগুলো আগুনে পুড়ে ধ্বংস করা হয়েছে।

উপজেলা মৎস্য বিভাগ সূত্র জানায়, গত ১২ অক্টোবর থেকে ১৯ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত উপজেলার পায়রা, পাতাবুনিয়া, কদম তলা, পাংসিঘাট নদীতে একটানা বিশেষ অভিযানে নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করে ইলিশ শিকারে নামায় ৩টি জেলে নৌকাসহ অন্তত ৩৮ হাজার ৫’শ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। তবে অভিযানের ট্রলার দেখে নৌকা জাল ফেলে জেলেরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল ইমরান, মৎস্য কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম, ফিল্ড মো. সাইফুল ইসলাম ও থানা পুলিশ টিম অভিযানে অংশ নেন।

মৎস্য কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম জানান, প্রজনন মৌসুমে প্রশাসনের বিশেষ অভিযান আগামী ২ নভেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ভ্রাম্যমাণ আদালতের টিমের পাশাপাশি সার্বক্ষণিক পুলিশ, কোস্ট গার্ডের অভিযান চলবে।




সুগন্ধা নদীতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার, দুই জেলের কারাদণ্ড

বরিশাল অফিস: ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ শিকারের অপরাধে দুই জেলেকে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

আজ শুক্রবার (২০ অক্টোবর) সকালে জেলার নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো.নজরুল ইসলাম এ দণ্ড প্রদান করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন-বরিশাল বাকেরগঞ্জ উপজেলার শাকবুনিয়া এলাকার হেমায়েত মোল্লার ছেলে শফিকুল ইসলাম শিমুল (৩০) ও মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে ফজলে রাব্বি (২৮)।

নলছিটি উপজেলা নির্বহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মা ইলিশ রক্ষা অভিযানে সুগন্ধা নদীতে অভিযান পরিচালনা করে দুই জেলেকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।




ঝালকাঠিতে নির্যাতনের অভিযোগে স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন

বরিশাল অফিস :ঝালকাঠিতে স্বামী কর্তৃক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্ত্রী মোসাম্মৎ ডলি আক্তার (৩০)। দ্বিতীয় স্ত্রী মিম্মি আক্তার রিয়া’কে নিয়ে প্রথম স্ত্রী ডলি ও তার নয় বছর বয়সী তৃতীয় শ্রেনিতে পড়ুয়া শিশু কন্যা জিনিয়া ইসলামকে পিটিয়ে আহত করেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।

অভিযুক্ত স্বামী সৈয়দ জুলহাস ঝালকাঠি সদরের কৃষ্ণকাঠি এলাকার লাটিমসার গ্রামের আবদুস সত্তারের ছেলে।

জুলহাস বর্তমানে দ্বিতীয় স্ত্রী নিয়ে সংসার করেন বলেও জানাগেছে। শুক্রবার দুপুরে ঝালকাঠি টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরাম এর সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত যে বক্তব্য পরে শুনান ডলি আক্তার, তাতে লিখা ছিলো, ২০১৩ সালের জানুয়ারীতে জুলহাসের সাথে ডলির আনুষ্ঠানিক বিবাহ হয়। বিয়েতে জুলহাসকে ৩ লাখ টাকার উপহার সামগ্রী দেয় ডলির বাবা আবদুল রশিদ খান।

পরের বছর ২০১৪ সালে তাদের ঘরে একটি কন্যাসন্তান জন্ম গ্রহন করে। এর দেড় বছর পরে ২০১৬ সালে ডলির বাবার পেনশনের টাকা থেকে নগদ ২ লাখ টাকা ধার বাবদ চেয়ে নেয় জুলহাস। শশুরকে ধারের টাকা ফেরৎ না দিয়ে আরো ২ লাখ টাকা ঠিকাদারী কাজের জন্য দাবী করেন। এবার স্ত্রী এবং শশুরকে টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন জুলহাস। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে দ্বিতীয় বিবাহ করেন জুলহাস। এবার জুলহাসের বাড়ির পাশের এলাকা বীরকাঠি গ্রামের শাহজাহান মীরের কন্যা মিম্মি আক্তার রিয়াকে দ্বিতীয় বিবাহ করেন।

বিবাহের ঘটনা জানাজানি হলে স্বামীর সাথে দূরত্ব সৃষ্টি এবং সম্পর্কের অবনতি ঘটতে থাকে প্রথম স্ত্রী ডলির সাথে। বর্তমানে নয় বছরের কন্যা সন্তানকে নিয়ে ডলি থাকেন তার বাবার বাড়িতে।

আর দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে জুলহাস থাকেন তার নিজ বাড়িতে। তাদের কন্যা জিনিয়া ইসলাম মায়ের কাছে থেকে ঝালকাঠি সরকারী হরচন্দ্র বালিকা বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে। এদিকে জুলহাস তার প্রথম স্ত্রী ও কণ্যার ভরণপোষন বন্ধ করে দেয়। এ নিয়ে আত্মীয় স্বজনের মাধ্যমে শালিস বৈঠক করেও কোন সুরাহা হয়নি। তবে সুরাহা পেতে ঝালকাঠি আদালতে একটি মামলা করেছেন ডলি আক্তার। যা বর্তমানে চলমান। আদালতের মামলা তুলে নেয়ার জন্য ডলিকে মারধরসহ বিভিন্ন সময়ে নানা রকম অত্যাচার এবং হুমকি ধমকি দিয়ে আসছে স্বামী জুলহাস।

সংবাদ সম্মেলে ডলি আক্তার বলেন, ‘চলতি মাসের ১৪ অক্টোবর শনিবার সকাল ১১টার দিকে ঝালকাঠি কামারপট্টি সড়ক দিয়ে হেটে যাওয়ার পথে আমার স্বামী তার দ্বিতীয় স্ত্রী মিম্মিকে নিয়ে আমাকে ও আমার মেয়েকে প্রকাশ্যে মারধর করে।তাদের এলোপাথারী আঘাতে আমার মেয়ে জিনিয়া ইসলামের একটি দাঁত পড়ে যায় এবং রক্তাক্ত জখম হয়। আর আমার শরীর ও মুখ মন্ডলে জথম হয়।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীদের প্রশ্নের জবাবে ডলি আক্তার বলেন, ‘হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে থানায় মামলা করতে গেলে ঝালকাঠি থানা পুলিশ মামলা গ্রহণ করেন নাই। বর্তমানে আমাকে এবং আমার মেয়েকে প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে। আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভয়ভীতির মধ্যে জীবন যাপন করছি।’