এস এল টি তুহিন (বরিশাল) : ইলিশের নিরাপদ প্রজননের লক্ষ্যে (১২ অক্টোবর) মধ্য রাত থেকে ২২ দিনের জন্য সারাদেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, ক্রয়-বিক্রয়, মজুদ ও বিনিময় নিষিদ্ধ করেছে সরকার। সরকারের নির্দেশনা মানতে ইলিশ মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞায় অভিযানও শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কিন্তু এসব অভিযানের তোয়াক্কা করছে না কিছু মৌসুমি জেলে। তারা প্রশাসনের নাকের ডগায় বসেই আবাধে করছে ইলিশ শিকার। প্রশাসনও বলছে একই কথা; এরা কেউ প্রকৃত জেলে নয়। তবে আমরা ইলিশের নিরাপদ প্রজননের লক্ষ্যে কঠোর অবস্থানে রয়েছি।
বরিশালের বিভিন্ন নদীতে ইলিশ মাছ শিকারের দায়ে গত ১২ দিনে অভিযানে চালিয়ে এ পর্যন্ত বিভাগে এক হাজার চার শত ৯২টি অভিযানে ৪৩৬ জন জেলেকে আটক করা হয়েছে। ৫৬৭টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জেলেদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ১২দিনের অভিযানে ৯লাখ ৬ হাজার ৪১ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৪ কোটি ৪৮ লাখ ৯৩৫ হাজার টাকা মূল্যের ২১ লাখ ৪শত ৯৯ মিটার অবৈধ জাল জব্দ করা হয়।
মৎস্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ নাসির উদ্দীন বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন, মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর)৷ বরিশাল বিভাগে বিভিন্ন নদীতে ১১৭টি অভিযান চালিয়ে ২১ জন জেলেকে আটক করে ৪৪টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ২ হাজার ৯শত ৯৫ টাকা জরিমানা আদায় করা হয় ।
বরিশাল জেলায় ৪১ টি অভিযান চালিয়ে ১৬ টি মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জেল ১৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে । সাথে ১ লাখ ৪০হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয় । ১৮৫ কেজি ইলিশ ও ৪৭ হাজার মিটার অবৈধ জাল জব্দ করা হয়। গত ১২ দিনে এ সময় এ বিভাগের মধ্যে সব থেকে বেশী অভিযান পরিচালনা বরিশাল, ভোলা ও পটুয়াখালী জেলায়। এর মধ্যে বরিশাল জেলায় বেশি অভিযান ও জরিমানা আদায় করা হয়।
তিনি বলেন, ইলিশের নিরাপদ প্রজননের লক্ষ্যে আমরা অভিযান পরিচালনা করি। প্রথমে আমরা অভিযানে গিয়ে জেলেদের সতর্ক করেছি। এরপর যারা নির্দেশ অমান্য করে তাদের জাল জব্দ করে ধ্বংস করেছি। পাশাপাশি সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের ধরে এনে জেল-জরিমানা করা হচ্ছে। তবে সব থেকে বড় বিষয় হচ্ছে আত্ম সচেতনতা। আমাদের সবাইকে মা ইলিশ রক্ষায় সচেতন হতে হবে। প্রকৃত জেলেরা ইলিশের প্রজনন নিয়ে খুবই সচেতন। আর তাই তারা নদীতে নামছেন না, মৌসুমি জেলেদের রোধ করার জন্য নানান উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ইদানিং দেখা যায় অভিযানিক দলকে দেখতে পেয়ে নৌকা ফেলে অনেকেই পালিয়ে যাচ্ছে। তাদের নৌকা বা বোটগুলোও এবারে জব্দ শুরু করেছি। তাও ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগ থাকছে না, নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে সরকারি কোষাগারে টাকা জমা দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আর নিষেধাজ্ঞার সময়ে বরিশাল বিভাগের ৩ লাখ ৭ হাজার ৮৪১ জেলেকে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে ।
বরিশাল অঞ্চলের পুলিশ সুপার কফিল উদ্দিন এর নির্দেশনায় বরিশালের কীর্তনখোলা ,কালা বদর,আড়িয়াল খাঁ,মেঘনা ও তেতুলিয়া সহ বিভিন্ন নদীত সফল অভিযান করে নৌ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা। বিষয়টি নিশ্চিত করেন বরিশাল অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবির বলেন, ইলিশ মাছ শিকারের দায়ে নিষিদ্ধ জেলেদের ধরতে কঠোর অবস্থান নৌ-পুলিশ। আমাদের টিম প্রতিদিন কীর্তনখোলা,কালা বদর, আড়িয়াল খাঁ, মেঘনা ও তেতুলিয়া সহ বিভিন্ন নদীতে অভিযান চালায় গতকাল মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) সর্বশেষ ৬৮ জন জেলেকে আটক করেছি ১৩ টি মোবাইল কোটের মাধ্যমে ৪ জন (প্রত্যেককে) ১বছর করে কারাদন্ড, ১ জনকে ১ (এক) মাসের কারাদন্ড ও ৮ জনকে জেল জরিমান করা হয়। ২হাজার ২শত ৮৫ কেজি ইলিশ মাছ জব্দ ও বিপুল পরিমাণ জালসহ ১২৪ টি নৌযান উদ্ধার করা হয়েছে । বেশ কিছু দিন আগে আমরা হিজলা উপজেলায় গোপন সংবাদের ভিক্তিতে মেঘনা নদীতে অভিযান চালিয়ে ২শত মন ইলিশ মাছ জব্দ করেছি। এ সময় বিপুল পরিমাণ কারেন্ট জাল উদ্ধার সহ ৩৫ জন জেলেকে গ্রেফতার করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।