বাউফলে মসজিদের সেপটিক ট্যাংকে মাদ্রাসাছাত্রের লাশ

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): বাউফলে সেপটিক ট্যাংক থেকে আতিকুর রহমান আতিক (১২) নামে এক মাদ্রাসাশিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে উপজেলার কাছিপাড়া ইউনিয়নের পাকডাল মুন্সিবাড়ি জামে মসজিদের সেপটিক ট্যাংক থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত আতিক বাকেরগঞ্জ উপজেলার দুর্গাপাশা ইউনিয়নের মধ্য জিরাইল গ্রামের সরোয়ার হোসেন সরদারের ছেলে। সে পাকডাল ফজলুর রহমান দারুল উলুম মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শনিবার ভোরে মাদ্রাসার সহপাঠী ও শিক্ষকরা ঘুম থেকে জেগে আতিকুল ইসলামকে কোথাও দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। একপর্যায়ে মাদ্রাসার অপর এক শিক্ষার্থী ইসমাইল শিক্ষকদের কাছে সেপটিক ট্যাংকে আতিকের লাশ লুকিয়ে রেখে আসার কথা জানায়। সন্ধ্যার পর ওই মসজিদের সেপটিক ট্যাংকের ঢাকনা খুলে আতিকের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ইসমাইলকে (১৮) আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

বাউফল থানার ওসি আরিচুল হক বলেন, আতিকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্ত শেষে আসল রহস্য বের করা হবে।




কলাপাড়ায় হাসপাতালে গৃহবধূর লাশ ফেলে রেখে স্বজনরা উধাও

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): জেলার কলাপাড়ায় নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পুতুলী (২০) নামে এক গৃহবধূ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

মঙ্গলবার রাতে কলাপাড়া হাসপাতাল থেকে তার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মৃত গৃহবধূ নীলগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা হানিফ হাওলাদারের ছেলে সাগর হাওলাদার (কালামিয়ার) স্ত্রী।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পুতুলী মঙ্গলবার রাতে নীলগঞ্জে স্বামীর বাড়িতে সবার অগোচরে ঘরের দোতলায় চালার সাথে ওড়না দিয়ে ফাঁস দেয়। স্বজনরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে উদ্ধার করে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হসপিটালে ছুটে যায়। কিন্তু সেখানে তারা এসে লাশের সাথে কাউকে দেখতে পাননি।

কলাপাড়া থানার এসআই গোলাম মাওলা বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে স্বামীর সাথে অভিমান করে তিনি এমন ঘটনা ঘটাতে পারেন। তবে ময়নাতদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করে কিছুই বলা যাচ্ছে না।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পুতুলির মৃত্যুর খবর পেয়ে স্বজনরা হাসপাতাল থেকে পালিয়েছে। পরবর্তীতে পুলিশ মৃতের বাড়িতে গিয়ে কাউকে খুঁজে পায়নি।

এ বিষয়ে কলাপাড়া থানার ওসি আলী আহমেদ বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তিনি আরো জানান, বুধবার দুপুর পর্যন্ত মৃত্যুর বিষয়ে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।




দ্বিগুণ বন্দি নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগার

এস এল টি তুহিন,বরিশাল :: চলমান হরতাল-অবরোধে নাশকতা-মূলক কর্মকান্ড করার অভিযোগে বর্তমানে প্রায় প্রতিদিন বরিশাল মহানগর ও জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আটক-গ্রেফতার হচ্ছেন বিএনপি-জামায়াতের অসংখ্য নেতাকর্মী। আইনী প্রক্রিয়ায় এসব নেতাকর্মীদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।

বরিশাল জেলার একমাত্র কারাগার হিসাবে স্বাভাবিকভাবেই সব বন্দীদের আশ্রয় এই কারাগারটিতে। যে কারনে সাম্প্রতিক সময়ে এই কারাগারটিতে চাপ বেড়েছে । বর্তমানে ধারন ক্ষমতার প্রায় দ্বিগুন বন্দী রয়েছে কারাগারটিতে। যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বন্দী যুক্ত হয়েছেন গত এক মাসের মধ্যে। বন্দী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ ধারন ক্ষমতার চেয়ে বেশী বন্দী থাকায় দুর্বিসহ নানা সমস্যা নিয়ে মানবেতর অবস্থায় আছেন বন্দীরা। তবে জেল কর্র্তৃপক্ষ বলছে বন্দীদের সংখ্যা বেশী হলেও কোন ধরনের সংকটাপন্ন অবস্থা তৈরী হয়নি।

জেল কোড মেনে সব সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে বন্দীদের। গতকাল মঙ্গলবারের তথ্য অনুযায়ী বরিশাল কারাগারে মোট বন্দী ছিলেন ১ হাজার ৭৫ জন। যার বিপরীতে ধারন ক্ষমতা রয়েছে মাত্র ৬৩৩ জনের। ফলে স্বাভাবিকভাবেই কারাভ্যন্তরে সংকট তৈরী হয়েছে। এর সাথে রয়েছে খাওয়া,গোসলসহ বসবাসের নানা সমস্যা।

জানা গেছে,বরিশাল কারাগারে স্বাভাবিক সময়ে ধারন ক্ষমতার চেয়ে একটু বেশী বন্দী থাকে। তবে এর সংখ্যা ৮ থেকে সাড়ে ৮’শ এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। দেশে রাজনৈতিক সংকট তথা হরতাল অবরোধ ডাকা হলেই বন্দীদের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যায়। কারাগার সংশ্লিষ্টরা বলছেন গত এক মাস ধরে দৈনিক গড়ে ২০ থেকে অর্ধশতাধিক বন্দী কারাগারে প্রবেশ করছে। যার বিপরীতে দৈনিক মুক্তি পাচ্ছে কম বন্দী। যে কারনে কারাগারে বন্দীদের সংখ্যা বর্তমানে অনেক বেশী। তাদের ধারনা সংসদ নির্বাচনের পূর্বে বন্দীদের সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পাবে।

বন্দীদের অভিযোগ, ভেতরে তাদের সংখ্যা বাড়লে অনিয়মের মাত্রা বাড়ে। এ ছাড়া বন্দীদের বেশ কয়েকটি সিন্ডিকেট সক্রিয়ভাবে কাজ করে। যাদের দ্বারা সাধারণ বন্দীরা হয়রানির শিকার হন। এ ছাড়া অসুস্থ নয় এমন বন্দীরা টাকা দিয়ে মাসের পর মাস কারা হাসপাতালে থাকেন। জামিনে বের হওয়া কয়েকজন রাজনৈতিক কর্মী জানিয়েছেন, সবচেয়ে বেশি চাহিদা কারা হাসপাতালের। টাকার বিনিময়ে ওখানে স্বাচ্ছন্দে থাকা যায়। এ কারণে যারা একটু বিত্তশালী এবং প্রভাবশালী তারা ওখানেই থাকেন। জামিনে মুক্ত হয়ে আসা আরো কয়েকজন আসামী বলেন, কারাগারে ধারন ক্ষমতার দ্বিগুণ বন্দির জন্য টয়লেটের ব্যবস্থাও পর্যাপ্ত নয়। দিনে ব্যবহারের জন্য অর্ধশতাধিক এবং রাতে ব্যবহারের জন্য আরো কম টয়লেট রয়েছে। যা মহা দুর্ভোগের সৃষ্টি করে।

বরিশাল কারাগারের জেলার জয়নাল আবেদীন ভুঞা বলেন, কারাগারে মঙ্গলবার মোট বন্দী সংখ্যা ছিলো ১ হাজার ৭৫ জন আর ধার ক্ষমতা রয়েছে ৬৩৩ জনের। বেশী বন্দী থাকায় কারা কর্র্তৃপক্ষ ও বন্দীদের তেমন বেগ পেতে হচ্ছে না। এছাড়া অর্থের বিনিময়ে কাউকে কোন সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে না ।

কারাগার সূত্রে জানা যায়, ১৮২৯ সালে বরিশাল শহরের মূল অংশের ২১ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠা করা হয় জেলা কারাগার। ১৯৯৭ সালের ৩ মার্চ এটিকে কেন্দ্রীয় কারাগারের মর্যাদা দেওয়া হয়। কারাগারের ভেতরে ৫৮ শয্যার একটি হাসপাতাল, পাঁচটি বন্দী ভবন, ১২টি সেল এবং একটি লাইব্রেরি রয়েছে।




তালতলীতে গাঁজাসহ পিতা পুত্র আটক

বরিশাল অফিস: বরগুনার তালতলীতে বুধবার সকাল ১১ টার দিকে সাড়ে তিন কেজি গাঁজা সহ হিমু তালুকদার ও তার পুত্র সোহানকে দক্ষিণ নলকনিয়া এলাকা থেকে আটক করেছে ডিবি পুলিশ।

জানা গেছে, বরগুনা ডিবি পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে উপজেলার শারিকখালি ইউনিয়নের দক্ষিণ নলবুনিয়া এলাকার মন মিয়া তালুকদারের ছেলে হেমায়েত উদ্দিন হিমু তালুকদার (৫০) ও তার পুত্র সোহানকে (২৫)আটক করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম গাঁজা, নগদ ৮৮ হাজার টাকা ও দুটি ব্যবহৃত মোবাইল উদ্ধার করে।

তালতলী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শহিদুল ইসলাম খান মিলন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বরগুনা ডিবি পুলিশ গাঁজাসহ হিমু তালুকদার ও তার পুত্রকে আটক করে থানায় সোপর্দ করে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে তাদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।




কলাপাড়ায় জাল টাকাসহ আটক ১

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): জেলার কলাপাড়ায় জাল টাকাসহ মো.হাবিবুর রহমান (৫২) নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার দুপুর ২ টার দিকে পৌর শহরের লঞ্চঘাট এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

এসময় তার কাছ থেকে ৪৬ হাজার ৫০০ টাকার জাল নোট উদ্ধার করা হয়েছে।

সে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার সূর্যমনি গ্রামের মোতালেব মোল্লার ছেলে ।

এ ঘটনায় কলাপাড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

কলাপাড়া থানার উপ-পরিদর্শক মো.জহুরুল ইসলাম জানান, প্রতারক হাবিবুর রহমানের ভাষ্যানুযায়ী সে পুরান ঢাকার একটি হোটেলে কর্মচারী হিসেবে কাজ করে আসছেন। সোমবার দুপুরে লঞ্চঘাট এলাকায় একরামুল কফি হাউসে সে কেনাকাটা করতে গিয়ে কফিহাউসের মালিককে ১ হাজার টাকার একটি জাল নোট দেয় । বিষয়টি কফি হাউসের মালিক বুঝতে পেরে জাল টাকাটি পরিবর্তন করে দিতে বলেন। এসময় প্রতারক হাবিবুর রহমানের গতিবিধি সন্দেহজনক হলে কফি হাউসের মালিক পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ তার কাছ থেকে ৪০ টি ১ হাজার টাকার এবং ১৩ টি ৫০০ টাকার জাল নোট উদ্ধার করে।




পটুয়াখালী-৪ আসনে আ’লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী দুই ডজন

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): দ্বাদশ জাতীয় সংসদের ১১৪, পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের মনোনয়ন ফরম কিনেছেন প্রায় দুই ডজন মনোনয়ন প্রত্যাশী। এদের মধ্যে ক’জন হেভিওয়েট প্রার্থী ছাড়া অধিকাংশই তরুণ। বেশ কয়েকজন এলাকায় একদম অপরিচিত। দলীয় কর্মকান্ডে তাদের কখনও দেখেনি কেউ, এমনটাই বলছেন স্থানীয়রা।

এছাড়া সাংবিধানিক এ আইন প্রণেতার পদটি পেতে দলীয় ফরম ক্রয়ে নির্বাচনী এলাকায় মুখরোচক আলোচনা শোনা যাচ্ছে অনেককে নিয়ে। তবে দু’এক দিনেই অপেক্ষার প্রহর কেটে যাবে মনোনয়ন ঘোষণার মধ্য দিয়ে, এমনটাই বলছে ক্ষমতাসীন দলের একাধিক সূত্র।

সূত্র জানায়, আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৪ আসনে নৌকার মাঝি হতে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন ২০ জন মনোনয়ন প্রত্যাশী। এদের মধ্যে বর্তমান এমপি অধ্যক্ষ মো. মহিব্বুর রহমান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোঃ মাহবুবুর রহমান, তাঁর ছোট ভাই বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) মোঃ হাবিবুর রহমান, বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এস এম রাকিবুল আহসান, বর্তমান পৌরসভা মেয়র বিপুল চন্দ্র হাওলাদার, তাঁর পুত্র কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য বিকাশ চন্দ্র হাওলাদার, জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ সৈয়দ নাসির উদ্দীন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মোতালেব তালুকদার, জেলা আওয়ামীলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিষ্টার জুনায়েদ হাসিব, বর্তমান সাংসদ’র স্ত্রী উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক অধ্যক্ষ ফাতেমা আক্তার রেখা, আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক নীহার রঞ্জন সরকার মিল্টন, আব্দুল্লাহ আল ইসলাম লিটন, যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. শামীম আল সাইফুল সোহাগ, আওয়ামীলীগ নেতা সৈয়দ আখতারুজামান কোক্কা, তাঁর পুত্র যুবলীগ নেতা সৈয়দ মশিউর রহমান শিমু, ইঞ্জিনিয়ার মোঃ নাসির উদ্দিন, শহিদুল্লাহ ওসমানী, উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম বাবুল, মোঃ বাশেদ সিমন, গৌতম চন্দ্র হাওলাদার প্রমূখ।

সূত্রটি আরও জানায়, অফেরত যোগ্য ৫০ হাজার টাকা করে প্রত্যেক দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ফরম সংগ্রহ করেছেন। এদের মধ্যে অনেকের নির্বাচন করার মত ক্লিন ইমেজ, আর্থিক স্বচ্ছলতা কিংবা জনপ্রিয়তা কোনটাই নেই। তবুও তারা এমপি হওয়ার প্রার্থীতা পোষণ করছেন। তবে দু’এক দিনেই অপেক্ষার পর প্রহর কেটে যাবে। এরপর চাপা পড়ে যাবে এদের নাম। যেমনটা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩২জন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহকারীর নাম এসেছিল আলোচনায়। মনোনয়ন ঘোষণার পর চাপা পড়ে যায় তাদের নাম।

উপজেলা নাগরিক কমিটির আহবায়ক কমরেড নাসির তালুকদার বলেন, একজন আইন প্রণেতার পদটি সাংবিধানিক। এটি রাষ্ট্রের বড় একটি পদ। এবং এ পদের দায়িত্ব মহান। রাষ্ট্র বিনির্মানে তাদের মূল্যবান ভূমিকা রাখতে হয়। সুতরাং তাদের যোগ্যতা ও সামর্থ্যের প্রশ্ন আছে। কিন্তু এখন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন প্রশ্নে আমরা এগুলো ক্রমশ: দূর করে দিচ্ছি। এতে দেশ ও জাতীয় সংকটে পড়ছে।




বরিশালে ইয়াবা-গাঁজাসহ ৪ কারবারি আটক

 বরিশাল অফিস:  বরিশাল নগরে পৃথক অভিযান চালিয়ে গাঁজা ও ইয়াবা ট্যাবলেটসহ চারজনকে আটক করেছে থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) দুপুরে পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেল। এরআগে, সকালে নগরের ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের গড়িয়ারপার এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুইজনকে দুই কেজি গাঁজাসহ আটক করে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ।

আটকরা হলেন পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার ছৈলাবুনিয়া এলাকার তপন মালী (৪৯) ও পটুয়াখালী সদরের লাউকাঠীর শ্রীরামপুর এলাকার মো. আলম ফরাজি (৫২)। এরআগে, অপর এক অভিযানে বরিশাল নগরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লাকুটিয়া সড়কে অভিযান চালিয়ে ৬০০টি ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুইজনকে আটক করে কাউনিয়া থানা পুলিশ।

আটকরা হলেন ভোলার লালমোহন উপজেলার নয়ানী এলাকার বাসিন্দা মোস্তফা খানের ছেলে ও বরিশাল নগরের কাউনিয়া এলাকার জনৈকি রফিক হাওলাদারের বাড়ির ভাড়াটিয়া মো. আরিফ (২১) এবং বরগুনার বেতাগী উপজেলার বিবিচিনি এলাকার সজিব (২৫)।

আটকদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছেন মিডিয়া সেলের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. মুনির।




বরিশালে হাসপাতাল থেকে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার

বরিশাল অফিস: রহস্যজনকভাবে মৃত্যুর ঘটনায় জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলা হাসপাতাল থেকে দুই সন্তানের জননী এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে সোমবার দুপুরে মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

উপজেলার বাগধা গ্রামের মজিবর হাওলাদার জানিয়েছেন, তার মেয়ে ফাতেমা বেগমের (২৬) রোববার দুপুরে বাকাল ইউনিয়নের যবসেন গ্রামের স্বামী জাফর পাইকের বাড়িতে বসে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয়।

ফাতেমার মৃতদেহ নিয়ে তার শশুর বাড়ির লোকজনে নাটকীয়ভাবে প্রথমে পয়সারহাট উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে আসলে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে। পরে ফাতেমার লাশ নিয়ে উপজেলা হাসপাতালে আসলে কর্মরত চিকিৎসক ডাঃ অংকুর কর্মকার ফাতেমাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ফাতেমার শ্বশুর পরিবারের দাবি নিজের ঘরেই তার (ফাতেমা) স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। তবে ফাতেমার বাবার দাবি রহস্যজনকভাবে তার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে।

থানার ওসি মোঃ আলম চাঁদ জানিয়েছেন, খবর পেয়ে হাসপাতাল থেকে রোববার রাতে ফাতেমার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে লাশের ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়। ওসি আরও জানিয়েছেন, মৃত ফাতেমার গলায় একটি দাগের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।




বরগুনায় অস্ত্রসহ ডাকাত আটক

বরিশাল অফিস : বরগুনার বামনা উপজেলার মো. আব্দুল মালেক (৫২) নামে এক ডাকাত সদস্যকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে এলাকাবাসী। এ সময় তার কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত অস্ত্র (শর্টগান) উদ্ধার করা হয়।

সোমবার (২০ নভেম্বর) রামনা ইউনিয়নের পূর্ব বলইবুনিয়া গ্রামে খতিব বাড়ি সংলগ্ন এলাকা রাত আনুমানিক পৌনে ১টার স্থানীয় জনতা শট গানসহ তাকে আটক করে।

বামনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাঈনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ডাকাতের ভাষ্যমতে, তার বাড়ি কাঠালিয়া উপজেলার মহেশখালী গ্রামের মো. সেকান্দার আলীর ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, তাদের এলাকায় ঢুকে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল ওই ডাকাত। পরে এলাকাবাসীর সবাই মিলে অস্ত্রসহ তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।

ওসি মাঈনুল ইসলাম বলেন, ডাকাতির প্রস্তুতিকালে পুলিশ ও স্থানীয়দের যৌথ প্রচেষ্টায় অস্ত্রসহ এক ডাকাত সদস্যকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কাঠালিয়া থানায় তার বিরুদ্ধে একাধিক ডাকাতিসহ ১৩টি মামলা রয়েছে।




প্রতারণার নতুন ফাঁদ : প্রলোভনে পাঠানো লিংকে ক্লিক বা ফোনে কল করলেই হ্যাক হচ্ছে একাউন্ট

বরিশাল অফিস: প্রতারণার নতুন কৌশলে এবার ফোন নম্বর ধরে ধরে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ ও হতদরিদ্র মানুষের থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার পায়ঁতারা করছে এক বা একাধিক প্রতারক চক্র। তাদের এই প্রতারণা মেসেজ পাচ্ছে পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তাও। তারপরও এদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব হচ্ছে না প্রকৃত অভিযোগ ও তথ্য না থাকায়। আর এ কারণে সাইবার ক্রাইম বিভাগের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।

সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, অনলাইনে বিভিন্ন প্রতারণার পর এ নিয়ে প্রশাসন সতর্ক থাকায় এবার ফোন নম্বর ধরে মেসেজ প্রতারণায় নেমেছে প্রতারক চক্র। বরিশাল নগরীর বিভিন্ন শ্রেনীপেশার কম হলেও ১০ হাজার মানুষের ফোনে ইতিমধ্যেই চাকুরী পাওয়ার, লটারি জেতা, উপহার কিম্বা স্কলারশীপ পাওয়া ইত্যাদি প্রলোভনে এক বা একাধিক মেসেজ এসেছে। আর এই মেসেজ নিশ্চিত হতে ওদের পাঠানো লিংক বা নম্বরে ক্লিক বা ফোন করতেই সর্বশান্ত হচ্ছেন তারা।

বরিশালের একটি হাসপাতালের নার্স সমিতা দাস জানান, আমার কাছে এবং আমার সহকর্মীর কাছে এরকম মেসেজ আসে। আমি যেহেতু কোথাও কোনো ইন্টারভিউ দেইনি তাই বিষয়টি গুরুত্ব দেইনি। কিন্তু আমার সহকর্মী স্টুডেন্ট। সে স্কলারশিপ মেসেজ পেয়ে ক্লিক করতেই তার ফোন হ্যাক হয়ে যায়। অন-অফ সুইচও কাজ করেনা। প্রায় পনের বিশ মিনিট পর ঠিক হয়। পরদিন জানতে পারি তার বিকাশ একাউন্ট থেকে ২১ হাজার টাকা উধাও হয়ে গেছে।

(যঃঃঢ়ং://ধি.সব /৮৮০১৮৯২৭৬৪৯৪০) ক্লিক করতেই প্রথমে হোয়াটসঅ্যাপ ওপেন হয় এবং তার ফোন হ্যাক হয়ে যায় বলে জানান সমিতা।

একই অভিযোগ করেন কলেজ পড়ুয়া আফসানা। তিনি বলেন, +৮৮০ ১৮৭০-৪৭৩৩৯৮ এই নম্বরে ফোন করার পর তার নগদ একাউন্ট থেকে ৭০০ টাকা উধাও হয়ে গেছে।

এছাড়াও কুরিয়ারে উপহার আসাসহ অসংখ্য প্রতারণার অভিযোগ পাচ্ছি বলে জানালেন বরিশালের আইটি বিশেষজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ার বিডি ডটকম এর পরিচালক জিহাদ রানা। তিনি বলেন, একটি চক্র বিভিন্ন কৌশলে ডাটাবেইজ থেকে ফোন নম্বর সংগ্রহ করে। ওরা জানেনা কোন ফোন নম্বর কার? ওরা গণহারে প্রলোভন মেসেজ পাঠায়। যা অনেকসময় পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তার কাছেও চলে যায়। এদের এখুনি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে লাখো নিরীহ মানুষের ক্ষতি হয়ে যাবে বলে জানান জিহাদ রানা।

বরিশাল নগরীর সাংবাদিক, পুলিশ, গৃহকর্মী, গৃহিণী এরকম প্রায় সকলের কাছেই এই প্রলোভন মেসেজ পাঠানো হয়েছে বলে ধারণা সিনিয়র সাংবাদিক সালেহ টিটুর। কেননা তার ও তার সহধর্মিণীর কাছেও ১৫/২০টি এরকম মেসেজ এসেছে বলে জানান তিনি।

নগরীর বাসিন্দা মো. সাইদুজ্জামান জানান, তার মোবাইল ফোনে পৌনে চারটার দিকে ০১৬১৮৭৪০৩৭১ নম্বর থেকে একটি ম্যাসেজ এসেছে। সেখানে ইংরেজীতে লেখা ছিলো। যার বাংলা অর্থ হলো- প্রিয় ছাত্র। আপনি বৃত্তি পেয়েছেন ৫ হাজার ২০০ টাকা। অনুগ্রহ করে ০১৭৯৫৫৭৭৯৫৯ ও ০১৭৬০৭০০৩৫২ নম্বরে যোগাযোগ করুন। এছাড়াও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েব সাইটের নম্বর দেয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তার মোবাইল ফোনেও এ ধরনের ম্যাসেজ এসেছে। কি আর করা। কেউ যদি প্রলোভনে সাড়া দেয়। সেই ভোগবে।

গৃহিণী রোমানা জিহাদ বলেন, তার কাছেও এরকম মেসেজ এসেছে। তার ছোট মেয়ে বুঝতে না পেরে ক্লিক করতেই ফোন প্রচন্ড গরম হয়ে পরে বন্ধ হয়ে গেছে। তবে তার কোনো একাউন্ট ছিলোনা।

সব তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, প্রতারক চক্রটি ফোনের মেসেজ অপশনে ইংরেজিতে মেসেজ করে। যে মেসেজ এর অর্থ দাঁড়ায়… আপনি স্কলারশিপ পেয়ে কানাডা বা ইউরোপ বা লন্ডনে পড়াশোনার সুযোগ পেয়েছেন। ইন্টারভিউ বা লটারি জিতে আপনি ২ থেকে ৫ হাজার টাকাও পেয়েছেন। বিস্তারিত জানতে নীচের লিংকে ক্লিক করুন অথবা ফোন নম্বর দিয়ে বলছে কল করুন।

আর লিংক ক্লিক করা বা ফোন করা মাত্রই ঐ ব্যাক্তির বিকাশ বা নগদ বা অন্য কোনো একাউন্টে থাকা সব টাকা হাওয়া হয়ে যাচ্ছে।

স্বয়ং বরিশাল পুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার ফজলুল করিম এ নিয়ে বিব্রত। গতকাল তিনি সাংবাদিকদেরই সতর্ক করে বললেন, খবরদার এই লিংকে কখনো কেউ ক্লিক করবেন না। আপনার ফোনের গোপন তথ্য সব নিয়ে যাবে ওরা। আমার কাছেও এরকম একাধিক মেসেজ এসেছে। এই প্রতারক চক্রকে ধরতে তাই আমাদের সাইবার নিরাপত্তা বিভাগকে সতর্ক করা হয়েছে। তারাও কৌশলী ফাঁদ তৈরি করছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।