বরিশাল অফিস: প্রতারণার নতুন কৌশলে এবার ফোন নম্বর ধরে ধরে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ ও হতদরিদ্র মানুষের থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার পায়ঁতারা করছে এক বা একাধিক প্রতারক চক্র। তাদের এই প্রতারণা মেসেজ পাচ্ছে পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তাও। তারপরও এদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব হচ্ছে না প্রকৃত অভিযোগ ও তথ্য না থাকায়। আর এ কারণে সাইবার ক্রাইম বিভাগের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, অনলাইনে বিভিন্ন প্রতারণার পর এ নিয়ে প্রশাসন সতর্ক থাকায় এবার ফোন নম্বর ধরে মেসেজ প্রতারণায় নেমেছে প্রতারক চক্র। বরিশাল নগরীর বিভিন্ন শ্রেনীপেশার কম হলেও ১০ হাজার মানুষের ফোনে ইতিমধ্যেই চাকুরী পাওয়ার, লটারি জেতা, উপহার কিম্বা স্কলারশীপ পাওয়া ইত্যাদি প্রলোভনে এক বা একাধিক মেসেজ এসেছে। আর এই মেসেজ নিশ্চিত হতে ওদের পাঠানো লিংক বা নম্বরে ক্লিক বা ফোন করতেই সর্বশান্ত হচ্ছেন তারা।
বরিশালের একটি হাসপাতালের নার্স সমিতা দাস জানান, আমার কাছে এবং আমার সহকর্মীর কাছে এরকম মেসেজ আসে। আমি যেহেতু কোথাও কোনো ইন্টারভিউ দেইনি তাই বিষয়টি গুরুত্ব দেইনি। কিন্তু আমার সহকর্মী স্টুডেন্ট। সে স্কলারশিপ মেসেজ পেয়ে ক্লিক করতেই তার ফোন হ্যাক হয়ে যায়। অন-অফ সুইচও কাজ করেনা। প্রায় পনের বিশ মিনিট পর ঠিক হয়। পরদিন জানতে পারি তার বিকাশ একাউন্ট থেকে ২১ হাজার টাকা উধাও হয়ে গেছে।
(যঃঃঢ়ং://ধি.সব /৮৮০১৮৯২৭৬৪৯৪০) ক্লিক করতেই প্রথমে হোয়াটসঅ্যাপ ওপেন হয় এবং তার ফোন হ্যাক হয়ে যায় বলে জানান সমিতা।
একই অভিযোগ করেন কলেজ পড়ুয়া আফসানা। তিনি বলেন, +৮৮০ ১৮৭০-৪৭৩৩৯৮ এই নম্বরে ফোন করার পর তার নগদ একাউন্ট থেকে ৭০০ টাকা উধাও হয়ে গেছে।
এছাড়াও কুরিয়ারে উপহার আসাসহ অসংখ্য প্রতারণার অভিযোগ পাচ্ছি বলে জানালেন বরিশালের আইটি বিশেষজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ার বিডি ডটকম এর পরিচালক জিহাদ রানা। তিনি বলেন, একটি চক্র বিভিন্ন কৌশলে ডাটাবেইজ থেকে ফোন নম্বর সংগ্রহ করে। ওরা জানেনা কোন ফোন নম্বর কার? ওরা গণহারে প্রলোভন মেসেজ পাঠায়। যা অনেকসময় পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তার কাছেও চলে যায়। এদের এখুনি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে লাখো নিরীহ মানুষের ক্ষতি হয়ে যাবে বলে জানান জিহাদ রানা।
বরিশাল নগরীর সাংবাদিক, পুলিশ, গৃহকর্মী, গৃহিণী এরকম প্রায় সকলের কাছেই এই প্রলোভন মেসেজ পাঠানো হয়েছে বলে ধারণা সিনিয়র সাংবাদিক সালেহ টিটুর। কেননা তার ও তার সহধর্মিণীর কাছেও ১৫/২০টি এরকম মেসেজ এসেছে বলে জানান তিনি।
নগরীর বাসিন্দা মো. সাইদুজ্জামান জানান, তার মোবাইল ফোনে পৌনে চারটার দিকে ০১৬১৮৭৪০৩৭১ নম্বর থেকে একটি ম্যাসেজ এসেছে। সেখানে ইংরেজীতে লেখা ছিলো। যার বাংলা অর্থ হলো- প্রিয় ছাত্র। আপনি বৃত্তি পেয়েছেন ৫ হাজার ২০০ টাকা। অনুগ্রহ করে ০১৭৯৫৫৭৭৯৫৯ ও ০১৭৬০৭০০৩৫২ নম্বরে যোগাযোগ করুন। এছাড়াও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েব সাইটের নম্বর দেয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তার মোবাইল ফোনেও এ ধরনের ম্যাসেজ এসেছে। কি আর করা। কেউ যদি প্রলোভনে সাড়া দেয়। সেই ভোগবে।
গৃহিণী রোমানা জিহাদ বলেন, তার কাছেও এরকম মেসেজ এসেছে। তার ছোট মেয়ে বুঝতে না পেরে ক্লিক করতেই ফোন প্রচন্ড গরম হয়ে পরে বন্ধ হয়ে গেছে। তবে তার কোনো একাউন্ট ছিলোনা।
সব তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, প্রতারক চক্রটি ফোনের মেসেজ অপশনে ইংরেজিতে মেসেজ করে। যে মেসেজ এর অর্থ দাঁড়ায়… আপনি স্কলারশিপ পেয়ে কানাডা বা ইউরোপ বা লন্ডনে পড়াশোনার সুযোগ পেয়েছেন। ইন্টারভিউ বা লটারি জিতে আপনি ২ থেকে ৫ হাজার টাকাও পেয়েছেন। বিস্তারিত জানতে নীচের লিংকে ক্লিক করুন অথবা ফোন নম্বর দিয়ে বলছে কল করুন।
আর লিংক ক্লিক করা বা ফোন করা মাত্রই ঐ ব্যাক্তির বিকাশ বা নগদ বা অন্য কোনো একাউন্টে থাকা সব টাকা হাওয়া হয়ে যাচ্ছে।
স্বয়ং বরিশাল পুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার ফজলুল করিম এ নিয়ে বিব্রত। গতকাল তিনি সাংবাদিকদেরই সতর্ক করে বললেন, খবরদার এই লিংকে কখনো কেউ ক্লিক করবেন না। আপনার ফোনের গোপন তথ্য সব নিয়ে যাবে ওরা। আমার কাছেও এরকম একাধিক মেসেজ এসেছে। এই প্রতারক চক্রকে ধরতে তাই আমাদের সাইবার নিরাপত্তা বিভাগকে সতর্ক করা হয়েছে। তারাও কৌশলী ফাঁদ তৈরি করছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।