বরগুনায় রহস্যজনক মৃত্যু: ঘরে মিললো স্ত্রীর গলাকাটা লাশ, স্বামী ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার

বরগুনা সদর উপজেলায় স্বপন মোল্লা (৩০) ও তার স্ত্রী আকলিমা (২৬) নামের এক দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে আয়লা পাতাকাটা ইউনিয়নের দক্ষিণ ইটবারিয়া এলাকায় মোল্লাবাড়ি থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার হয়।

পুলিশ জানায়, স্বপনকে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় এবং স্ত্রী আকলিমাকে গলাকাটা অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। নিহতদের ঘরে সাদিয়া (৬) ও আফসানা (৯ মাস) নামে দুই শিশু কন্যা রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, দাম্পত্য জীবনে দীর্ঘদিন ধরে স্বপন ও আকলিমার মধ্যে কলহ চলছিল। সকালে শিশুদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা গিয়ে ঘটনাটি দেখতে পান।

স্বপনের চাচাতো বোন রাজিয়া বলেন, “ফজরের নামাজের জন্য পুকুরপাড়ে যাচ্ছিলাম। তখন স্বপনের বড় মেয়ে আমাকে ডেকে বলে, মা পড়ে আছে, কথা বলে না। ঘরে গিয়ে দেখি স্বপন ঝুলে আছে আর আকলিমা মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।”

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা নিশ্চিত করতে পারেনি কেউ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জহিরুল ইসলাম জানান, “ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এরপর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ভোলায় মাদ্রাসাশিক্ষক ও মসজিদের খতিবকে নৃশংসভাবে হত্যা, বিক্ষোভে এলাকাবাসী

ভোলা শহরের উত্তর চরনোয়াবাদ এলাকায় দুর্বৃত্তদের হামলায় মাদ্রাসাশিক্ষক ও মসজিদের খতিব মাওলানা আমিনুল হক নোমানী (৪৫) নিহত হয়েছেন। শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত সোয়া ৯টার দিকে নিজ বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে রাত ১০টার দিকে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত আমিনুল হক ভোলা দারুল হাদিস কামিল মাদ্রাসার শিক্ষক, সদর উপজেলা পরিষদ মসজিদের খতিব ও জনপ্রিয় ইসলামী বক্তা ছিলেন। তাঁর বাবা মাওলানা এনামুল হকও একজন আলেম।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এশার নামাজ শেষে তিনি বাড়ি ফেরেন। ওই সময় স্ত্রী ও সন্তানরা বাইরে থাকায় তিনি একাই ছিলেন। দুর্বৃত্তরা বাড়িতে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে কুপিয়ে জখম করে। চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা গেট ভেতর থেকে বন্ধ পেয়ে টিনের বেড়া ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক জানান, মাথা, গলা, ঘাড়, বুক ও পেটসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষত ছিল।

ঘটনার পর এলাকাবাসী নিহতের বাসায় ভিড় করেন। ড্রইংরুমে রক্তের দাগ, টেবিলে তাঁর টুপি ও ঘড়ি পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয়দের মতে, তিনি একজন শ্রদ্ধাভাজন ও জনপ্রিয় আলেম ছিলেন এবং নিজ উদ্যোগে একটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

এ হত্যাকাণ্ডের পর ভোলার বিভিন্ন ইসলামিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও শত শত মানুষ হাসপাতালে জড়ো হয়ে হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে সদর রোডে বিক্ষোভ মিছিল করেন। তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপরাধীদের গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম দেন।

ভোলা সদর মডেল থানার ওসি আবু শাহদাৎ মো. হাসনাইন পারভেজ বলেন, “এটি একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। অপরাধীদের চিহ্নিত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




কুয়াকাটায় অবৈধ বালু উত্তোলনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা ও কারাদণ্ড

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের ধোলাই মার্কেট এলাকায় বেড়িবাঁধের পাশ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে বাদল সরদার (৩৫) নামের এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে এ অভিযান পরিচালনা করেন কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইয়াসিন সাদেক। এসময় বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত প্রায় ৭৫০ ফুট পাইপ ভেঙে ফেলা হয় এবং উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র বেড়িবাঁধ সংলগ্ন মাছের ঘের থেকে বালু উত্তোলন করে খাল ও সংরক্ষিত বনের জমি ভরাট করছে। এর ফলে বেড়িবাঁধ মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছে এবং পরিবেশেরও মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। তারা ধারণা করছেন, ভরাট করা জমিতে মার্কেট নির্মাণের চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসিন সাদেক বলেন,
“গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা অভিযান পরিচালনা করি। এসময় অবৈধ বালু উত্তোলনের দায়ে একজনকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অনাদায়ে তাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান থাকবে।”

এ ঘটনায় এলাকায় সচেতন মহল সন্তোষ প্রকাশ করলেও, তারা আশঙ্কা করছেন—বড় চক্র ধরা না পড়লে এ ধরনের কার্যক্রম থামবে না।

 

আল-আমিন, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভোলায় মসজিদের খতিবকে ঘরে ঢুকে কুপিয়ে হত্যা

ভোলায় দুর্বৃত্তদের নির্মম হামলায় নিজ বাড়িতে খুন হয়েছেন মসজিদের খতিব ও মাদরাসা শিক্ষক মাওলানা আমিনুল হক নোমানী (৪৫)। শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ৯টার দিকে সদর উপজেলার চরনোয়াবাদ সংলগ্ন বাপ্তা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের একটি রাইস মিলের পাশে তার নিজ বসতঘরে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আমিনুল হক নোমানী ওই এলাকার বিশিষ্ট আলেম মাওলানা এনামুল হকের ছেলে। তিনি ভোলা সদর জামে মসজিদের খতিব এবং ভোলা দারুল হাদিস কামিল মাদরাসার মুহাদ্দিস হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন আগে আমিনুল হকের শ্বশুর অসুস্থ হওয়ায় তার স্ত্রী ও সন্তান বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। ফলে গত দুইদিন তিনি বাড়িতে একাই ছিলেন। শনিবার রাতে স্থানীয় মসজিদে এশার নামাজ শেষে তিনি বাড়ি ফেরেন। কিছুক্ষণ পর প্রতিবেশীরা তার বাড়ি থেকে ডাক-চিৎকার শুনে সেখানে গিয়ে দেখেন রক্তাক্ত অবস্থায় আমিনুল হক মেঝেতে পড়ে আছেন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা মো. রাজন জানান, “আমি নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার সময় হুজুরের বাড়ির ভেতর থেকে চিৎকার শুনতে পাই। পরে কয়েকজন মিলে গিয়ে দেখি তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। এরপর হাসপাতালে নিয়ে যাই।”

ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ইয়াসির হাসনাত বলেন, “রাত সাড়ে ৯টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে আনা হয়। শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ও ব্যাপক রক্তক্ষরণ ছিল। দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা হলেও হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু ঘটে।”

এ ঘটনায় ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু শাহাদাৎ মো. হাচনাইন পারভেজ জানান, “খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছি। হত্যার কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের চিহ্নিত করতে পুলিশ কাজ করছে। এখনো কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।”

স্থানীয়দের মাঝে এ হত্যাকাণ্ডে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এলাকাবাসী দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




টাঙ্গুয়ার হাওরে অবৈধ মাছ ধরায় ৫ জন আটক

সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরে অবৈধভাবে মাছ ধরার অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতারের নির্দেশে শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাদের আটক করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তাহিরপুর উপজেলার ভরত খাল নদীতে বাঁধ দিয়ে অবৈধভাবে মাছ ধরা হচ্ছিল। এ সময় হাওর পরিদর্শনে থাকা মৎস্য উপদেষ্টা বিষয়টি টের পেয়ে পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে বলেন। পরে তাৎক্ষণিকভাবে থানার সদস্যরা অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে আটক করে।

আটককৃতরা হলেন— পাতারগাঁও গ্রামের পাষান মিয়া (৩৫), আবু বক্কর (২০), আলী নুর (২২), নুর আহম্মদ (২৫) এবং সোনাপুর গ্রামের উজ্জ্বল মিয়া (১৯)।

মৎস্য উপদেষ্টা ফরিদা আখতার সুনামগঞ্জ পৌর শহরের সার্কিট হাউস থেকে যাত্রা শুরু করে প্রথমে তাহিরপুর উপজেলায় পৌঁছান। এরপর স্পিডবোটে টাঙ্গুয়ার হাওর, নীলাদ্রি লেকসহ আশপাশের হাওর ও নদী পরিদর্শন করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হোসেন বলেন, “উপদেষ্টা নদীতে অবৈধ মাছ ধরা দেখতে পান। তার নির্দেশে আমরা পাঁচজনকে আটক করে থানায় নিয়ে এসেছি।”

উপদেষ্টার এ সময় সঙ্গী ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. মোহাম্মদ আব্দুর রউফ এবং যুগ্মসচিব ড. আবু নঈম মুহাম্মদ আবদুছ ছবুর।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




দুই বছরের শিশুর গলায় ছুরি ধরে মা’কে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৩

ভোলার মনপুরা উপজেলায় এক নারীর দুই বছরের ছেলের গলায় ছুরি ঠেকিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— খোরশেদ আলমের ছেলে রুবেল, জাহাঙ্গীর পাটোয়ারীর ছেলে নাহিদ এবং সালাউদ্দিন সওদাগরের ছেলে সাব্বির হোসেন ওরফে জিহাদ। এ ঘটনায় সজীব নামে আরও একজন পলাতক রয়েছে। সবাই উপজেলার বিচ্ছিন্ন কলাতলী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা।

ভুক্তভোগী নারী জানান, তার স্বামী ঢাকায় চাকরি করেন এবং তিনি একমাত্র সন্তানকে নিয়ে বাড়িতে থাকেন। গত সোমবার রাত ২টার দিকে কয়েকজন দুর্বৃত্ত ঘরের বেড়া কেটে ঢুকে তার শিশুর গলায় ছুরি ধরে ভয় দেখায়। পরে দুজন তার মুখ ও হাত-পা চেপে ধরে এবং রাতভর পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করে।

এ ঘটনার পর বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) ওই নারী চারজনকে আসামি করে মনপুরা থানায় মামলা দায়ের করেন।

মনপুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসান কবির জানান, “মামলার পর অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি একজন আসামিকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আমি নিজেই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।”

পুলিশের দাবি, এ ঘটনায় জড়িত সবাই একই এলাকার বাসিন্দা। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে চার্জশিট দাখিল করা হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ঢাকায় গ্রেপ্তার

বরগুনার তালতলী উপজেলার নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মো. ছলেমান (৪৮) রাজধানী ঢাকার মিরপুর থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন।

বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে র‍্যাব-৮ (পটুয়াখালী ক্যাম্প) ও র‍্যাব-৪ (মিরপুর ক্যাম্প) যৌথ অভিযানে মিরপুর-১ এলাকায় শাহ আলী থানাধীন তানিয়া জুয়েলার্সের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়।

গ্রেপ্তার ছলেমান তালতলী উপজেলার জাকিরতবক গ্রামের বাসিন্দা এবং ছাদেম আলী মীরের ছেলে। র‍্যাব সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১(ক) ধারায় দায়ের করা মামলায় (মামলা নং–৩৯/০৯) আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। রায় ঘোষণার পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন।

র‍্যাব-৮, পটুয়াখালী ক্যাম্পের কোম্পানি অধিনায়ক স্কোয়াড্রন লিডার মো. রাশেদুল আহসান জানান, “আসামি ছলেমানকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী বরগুনার তালতলী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরগুনায় মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় স্বামী-স্ত্রীকে পিটিয়ে জখম

বরগুনা সদর উপজেলার কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের আঙ্গারপাড়া এলাকায় মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় ঘরে ঢুকে এক দিনমজুর দম্পতিকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই দম্পতি বর্তমানে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বশির ও তার স্ত্রী রোজির বাড়ির সামনে নিয়মিত মাদক সেবন করতেন রাব্বি নামে এক যুবক। এ বিষয়ে বাধা দিলে বৃহস্পতিবার রাতে রাব্বি তার সহযোগীদের নিয়ে ঘরে ঢুকে বশির ও রোজিকে বেধড়ক মারধর করে পালিয়ে যায়।

এ সময় বশিরের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে এবং রোজির ডান হাত ভেঙে যায়। এছাড়া তার মাথায়ও গুরুতর আঘাত পাওয়া গেছে। স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

প্রতিবেশীরা জানান, চিৎকার শুনে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বামী-স্ত্রী দুজনকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।

আহত রোজি অভিযোগ করে বলেন, “আমরা স্বামী-স্ত্রী ভাত খাচ্ছিলাম। হঠাৎ রাব্বি দরজায় ধাক্কা দেয়। দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গেই সে ও আরও কয়েকজন মিলে আমাদের পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। শুধু মাদক সেবনে বাধা দেওয়ার কারণেই এই হামলা।”

বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন জানান, ঘটনার বিষয়ে পুলিশ অবগত হয়েছে। তবে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




কলাপাড়ায় প্রবাসী নারী গণধর্ষণ-ডাকাতি মামলায় গ্রেফতার ৩

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আমেরিকান প্রবাসী নারীকে গণধর্ষণ ও ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস কনফারেন্সে এ তথ্য জানান বাউফল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আরিফ মুহাম্মদ শাকুর।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন—কাওসার, রিপন সোহাগ ও আশীষ গাইন। তাদের কাছ থেকে ভুক্তভোগীর লুটকরা একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার গ্রেফতারদের আদালতে হস্তান্তর করা হয়।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ১৪ জুলাই গভীর রাতে কলাপাড়ার টিয়াখালী ইউনিয়নের পশ্চিম বাদুরতলী গ্রামের একটি একতলা ভবনে এ ঘটনা ঘটে। সেসময় নগদ ৫০ হাজার টাকা, প্রায় ১৩ ভরি স্বর্ণালংকার এবং স্যামসাং গ্যালাক্সি এ-১৩ মডেলের একটি মোবাইল ফোন লুট করা হয়। একই সময়ে আমেরিকান প্রবাসী এক নারী গণধর্ষণের শিকার হন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বজন তরিকুল ইসলাম বাদী হয়ে কলাপাড়া থানায় মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ জানায়, কাওসারকে ঝিনাইদহের মহেশপুর থানার শ্যামকুড় সীমান্ত এলাকা থেকে, রিপন সোহাগকে ঢাকার দারুস সালাম থানার টেকনিক্যাল মোড়ের একটি বস্তি এলাকা থেকে এবং তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আশীষ গাইনকে কলাপাড়া পৌরসভা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

সহকারী পুলিশ সুপার আরিফ মুহাম্মদ শাকুর বলেন, “এই জঘন্য ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। ভুক্তভোগী পরিবারের জন্য এটি একটি ভয়াবহ অভিজ্ঞতা, আমরা ন্যায়বিচার নিশ্চিতে বদ্ধপরিকর।” তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশের এমন পদক্ষেপে এলাকাবাসী স্বস্তি প্রকাশ করেছে। তবে তারা মনে করেন, এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে আরও কঠোর নজরদারি, সামাজিক সচেতনতা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তৎপরতা বৃদ্ধি প্রয়োজন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) শান্তিপূর্ণভাবে পালনে সরকারের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) যথাযোগ্য মর্যাদা ও শান্তিপূর্ণভাবে পালনের লক্ষ্যে সারাদেশে সর্বাত্মক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। আগামীকাল শনিবার দিবসটি উপলক্ষে রাজধানী ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা ও রাজশাহীর মতো প্রধান শহরে নিরাপদ পরিবেশে জামাত ও শোভাযাত্রা নিশ্চিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষত বৃহৎ মসজিদ ও ধর্মীয় স্থানে, যেখানে বড় সমাবেশের সম্ভাবনা রয়েছে, সেখানে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর তিনি জোর দিয়েছেন। ইতোমধ্যে সংবেদনশীল স্থানগুলোতে নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “এই পবিত্র দিনে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি যেন না ঘটে সেজন্য আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি। জনগণের নির্বিঘ্ন চলাচল ও শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মীয় অনুশ्ठান পালনে সরকার বদ্ধপরিকর।”

নিরাপত্তার পাশাপাশি কার্যকর জনসমাগম ব্যবস্থাপনা ও যথাযথ ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মুসলিম বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর জন্ম ও ওফাত দিবস হিসেবে পালিত হয়। আগামীকাল সারা দেশে যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদায় দিবসটি পালন করা হবে।

এ উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

 

আল-আমিন