মঙ্গলবার ভাগ্য নির্ধারণ হতে পারে শাম্মী-শামীম-সাদিকের

ঢাকা: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বৈত নাগরিকত্ব, ঋণ খেলাপি ও এক শতাংশ ভোটারের সমর্থনে গড়মিলসহ বিভিন্ন কারণে নির্বাচন কমিশনে মনোনয়ন বাতিল হওয়া অন্তত ১৮ প্রার্থীর বিষয়ে সর্বোচ্চ আদালতে মঙ্গলবার শুনানি হবে।

এদিন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃ্ত্বে ছয় বিচারপতি বেঞ্চে শুনানির জন্য এসব আবেদন কার‌্যতালিকায় উঠেছে।

এর মধ্যে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ এনে ফরিদপুর-৩ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শামীম হকের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে আপিল করেছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যবসায়ী এ কে আজাদ। শামীম হক নেদারল্যান্ডসের নাগরিক বলে অভিযোগ আনেন তিনি।

এরপর শুনানি শেষে ১৫ ডিসেম্বর আপিল মঞ্জুর করে শামীম হকের মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেয় ইসি। তার বিরুদ্ধে রিট করেন শামীম হক। ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট তার রিট সরাসরি খারিজ করে দেন। পরে ১৮ ডিসেম্বর আপিল বিভাগে প্রার্থিতা ফেরত চেয়ে শামীম হক আবেদন করেন।

ওই দিন চেম্বার আদালত তার প্রার্থিতা ফিরিয়ে দেন। এরপর এ আদেশ প্রত্যাহার চেয়ে আবেদন করেন এ কে আজাদ। যে আবেদনের ওপর শুনানির জন্য ২ জানুয়ারি দিন ধার‌্য রয়েছে। আবেদনটি কা্যতালিকার ২ নম্বর ক্রমিকে রয়েছে।
বরিশাল-৪ আসনে নৌকার প্রার্থী শাম্মী আহমেদ ও একই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী পঙ্কজ দেবনাথ পরস্পরের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে আপিল করেছিলেন ইসিতে। শাম্মী আহমেদ অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক হলেও তা গোপন করেছেন বলে অভিযোগ ছিল পঙ্কজের।

নির্বাচন কমিশন বর্ণিত আপিলকারীর দ্বৈত নাগরিকত্ব সম্পর্কে তথ্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ঢাকার অস্ট্রেলিয়া দূতাবাসের সহায়তায় সংগ্রহের জন্য নির্দেশনা দেয়।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকার অস্ট্রেলিয়া দূতাবাসের সহায়তায় শাম্মী আহমেদের অস্ট্রেলিয়ার দ্বৈত নাগরিকত্ব সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে জরুরি ভিত্তিতে ১৪ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠানোর পর ১৫ ডিসেম্বর শাম্মী আহমেদের মনোনয়ন বাতিল করে দেন। আর একই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী পঙ্কজ দেবনাথের প্রার্থিতা বহাল রাখেন।

পরে শাম্মী আহমেদ হাইকোর্টে রিট করেন। যেটি ১৭ ডিসেম্বর সোমবার খারিজ হয়ে যায়।

পরদিন তিনি আপিল বিভাগে আবেদন করেন। শুনানি শেষে চেম্বার আদালত ‘নো অর্ডার’র আদেশ দেন। ফলে হাইকোর্টের আদেশ বহাল থেকে যায়।

ফলে আর নির্বাচনের সুযোগ থাকছেনা শাম্মী আহমেদের। এরপর তিনি ফের আবেদন করেন। তার আবেদনটি শুনানির জন্য কার্যতালিকার ৪ নম্বর ক্রমিকে রয়েছে।

বরিশাল-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে আপিল করেছিলেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহিদ ফারুক। ১৫ ডিসেম্বর নির্বাচন ভবনে আপিল শুনানি শেষে বরিশাল-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সিটির সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর প্রার্থিতা বাতিল করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পরে এ আদেশ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন সাদিক আব্দুল্লাহ।

তার করা রিটের শুনানি নিয়ে ১৮ ডিসেম্বর হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনের আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ। ফলে সাদিক আবদুল্লাহর মনোয়নপত্র বৈধতা পায়। পরদিন হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করেছেন জাহিদ ফারুক। ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন চেম্বার আদালত। এর ফলে সাদিক আব্দুল্লাহর নির্বাচন আটকে যায়। পরে তিনি স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার চেয়ে আবেদন করেন। যেটির শুনানির জন্য ৩ নম্বর ক্রমিকে রয়েছে।

এছাড়া যশোর-৪ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এনামুল হক বাবুল, গাজীপুর-৪ আসনে তাজউদ্দীন আহমদের ভাগিনা আলম আহমেদসহ আরও প্রার্থীদের নিয়েও আবেদনগুলো শুনানির জন্য কার্যতালিকাভুক্ত রয়েছে।




ড. ইউনূসসহ চারজনের জামিন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় ছয় মাসের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ড. ইউনূসসহ চারজনকে আপিলের শর্তে জামিন দিয়েছেন শ্রম আদালত। রায় ঘোষণার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই আসামিদের জামিন দেন আদালত।

সোমবার (১ জানুয়ারি) দুপুরে ড. ইউনূসসহ একই মামলায় দণ্ডিত চারজনকে সাজার রায় ঘোষণার পর তাদের জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন শ্রম আদালতের বিচারক শেখ মেরিনা সুলতানা।

২০২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের শ্রম পরিদর্শক আরিফুজ্জামান বাদী হয়ে ড. ইউনূসসহ চারজনের বিরুদ্ধে ওই মামলা করেন। মামলায় শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনে নির্দিষ্ট লভ্যাংশ জমা না দেওয়া, শ্রমিকদের চাকরি স্থায়ী না করা, গণছুটি নগদায়ন না করায় শ্রম আইনের ৪-এর ৭, ৮, ১১৭ ও ২৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

এ মামলায় ড. ইউনূস ছাড়াও গ্রামীণ টেলিকমের এমডি মো. আশরাফুল হাসান, পরিচালক নূরজাহান বেগম ও মো. শাহজাহানকে বিবাদী করা হয়।




পটুয়াখালীতে বাংলাদেশ কংগ্রেস প্রার্থীর প্রচার গাড়ি ভাঙচুর

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-১ আসনে বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী নাসির উদ্দিন তালুকদারের ডাব মার্কার প্রচার গাড়ি ভাঙচুর ও মোবাইল ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।

এই ঘটনার জন্য জাতীয় পার্টির প্রার্থী রুহুল আমিন হাওলাদারকে দায়ী করেছেন নাসির উদ্দিন।

শনিবার বিকেলে দুমকি উপজেলার চারটি ইউনিয়নের ডাব প্রতীকের চারটি প্রচার গাড়ি ভাঙচুর ও ড্রাইভারের মোবাইল ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা।

আক্রান্তরা জানায়, ডাব প্রতীকের প্রচার গাড়ির অটোরিক্সা ড্রাইভার বলু প্রতিদিনের মত মাইক নিয়ে প্রচারকালে দুমকি উপজেলার পাংগাসিয়া ইউনিয়নের হাজিরহাট এলাকায় পৌঁছালে কিছু দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেলে এসে মাইক ভাঙচুর করে চলে যায়।

লেবুখালী ইউনিয়নের পাগলার মোড় এলাকায় প্রচার গাড়িতে থাকা সোহাগের মাইকের মেশিন ভেঙে ফেলা ও জীবননাশের হুমকি দেয় দুর্বৃত্তরা।

আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের পাতাবুনিয়া এলাকায় প্রচার গাড়ির সুমনের ব্যানার ও মেশিন ভেঙে ফেলা হয়। রাকিব নামে আরেক অটোচালক শ্রীরামপুর ইউনিয়নের তালতলী এলাকায় গেলে প্রচার গাড়ি থামিয়ে অটোরিক্সা ভাঙচুর ও তার মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

অটোরিক্সা চালক রাকিব বলেন, মোটর সাইকেলে করে আসা ১০ থেকে ১৫ জন আমার গাড়ি থামায় এবং তারা বলে ডাব মার্কার কোনো প্রচার এই এলাকায় চলবে না। এসময় তারা গাড়ির ব্যানার ও মাইকের মেশিন ভেঙে ফেলে এবং আমার কাছের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।

প্রচার গাড়ির দায়িত্বে থাকা অটোরিক্সাচালক সুমন বলেন, আমাকে প্রচার বন্ধ করার হুমকি দেওয়া হয়। দুর্বৃত্তরা মাইক ভাঙে এবং ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে।

বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী নাসির উদ্দিন তালুকদার বলেন, দুমকিতে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল মার্কার সমর্থকরা আমার চারটি প্রচার মাইক ভাঙচুর করেছে এবং প্রচার গাড়ির দুইজন ড্রাইভারকে মারধর করেছে৷ আমি এ বিষয়ে জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসককে জানিয়েছি। তারা ব্যবস্থা নেবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।

দুমকি থানার ওসি আব্দুল হান্নান বলেন, লোকমুখে ভাঙচুরের সংবাদ পেয়েছি। তবে এখন পর্যন্ত লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে সে অনুযায়ী অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




উঠান বৈঠকে বিরিয়ানি, স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থককে জরিমানা

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহবুবুর রহমানের এক সমর্থক আচরণবিধি লঙ্ঘন করে উঠান বৈঠকে বিরিয়ানি বিতরণ করায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) রাতে উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের হাজিপুর বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কৌশিক আহমেদ।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের বেঞ্চ সহকারী সূত্রে জানা যায়, হাজীপুর বাজারের কলাপাড়া-কুয়াকাটা সংলগ্ন মহাসড়কের কিছু অংশ ব্লক করে উঠান বৈঠক শেষে বিরিয়ানি বিতরণ করছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহবুবুর রহমানের সমর্থক ইসমাইল। এ অপরাধে তাকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কৌশিক আহমেদ বলেন, প্রচারণা শুরুর পর থেকে নির্বাচনি পরিবেশ শান্ত রাখতে আমরা মাঠে রয়েছি। আচরণবিধি লঙ্ঘন করে বিরিয়ানি বিতরণ করায় এক সমর্থককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।




বরিশালে অস্ত্র তৈরির সময় যুবক আটক

বরিশাল অফিস :: বরিশাল জেলার হিজলা উপজেলার গৌরবদী থেকে অস্ত্র তৈরির সময় আজিজ সরদার (২৫) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

রোববার (৩১ ডিসেম্বর) বিকালে একটি বাসা থেকে দুটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামসহ আটক করার পড়ে তা জব্দ করে পুলিশ।

বরিশাল হিজলা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুবাইর আহমেদ তিনি বলেন, আমাদের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে আটক করি। আটককৃত যুবক টাকার বিনিময়ে দেশীয় অস্ত্র তৈরি করে বটিশালসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবারহ করতেন সে আমাদের কাছে এই বিষয়ে স্বীকার করেছেন। এ ছাড়া আমরা তদন্ত করেও পেয়েছি। এখন তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

 




বাউফলে মাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় হামলা ও ভাংচুরের অভিযোগ

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী):  জেলার বাউফল উপজেলায় মাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় বসতঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

উপজেলার কনকদিয়া ইউপির ৫নং ওয়ার্ডের হোগলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তোভোগীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, এলাকার কয়েকজন চিহ্নিত মাদক কারবারি দীর্ঘদিন ধরে মাদক বিক্রি করে আসছিল। এতে বাধা দেন স্থানীয় রিপন হাওলাদার। ফলে ক্ষিপ্ত হয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে রিপনকে মারধর করে মাদক কারবারিরা।

আহত রিপন বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে গেলে রাতে রিপনের বসতঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করা হয়। এ সময় রিপনের স্ত্রী ও স্কুলপড়ুয়া মেয়ে আহত হন।

এর আগে ‘মৃত্যু ও সম্পদ নষ্ট করার হুমকি’ উল্লেখ করে ২৬ ডিসেম্বর রিপন হাওলাদার বাদী হয়ে বাউফল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

রিপন হাওলাদারের স্ত্রী রাবেয়া বেগম বলেন, মাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় সবুজ, আনোয়ার ও বাচ্চু আমার স্বামীকে মারধর করে। সে (রিপন) অসুস্থ অবস্থায় বাউফল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে রাত সাড়ে ৮টার দিকে সবুজ, আনোয়ার ও বাচ্চুর নেতৃত্বে ৮-১০ জন লোক সন্ত্রাসী কায়দায় আমার বসত ঘরে হামলা চালায়। এ সময়ে তারা আমাকে ও আমার মেয়েকে মেরে স্টিলের আলমারি ভেঙে নগদ টাকা ও সোনার চেইন নিয়ে যায়।

অভিযোগ অস্বীকার করে বাচ্চু মিয়া বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমাকে ফাঁসানোর জন্য আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছে।

এ বিষয়ে কনকদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহীন হাওলাদার বলেন, আমি যতটুকু জানি রিপন ও বাচ্চুর মধ্যে জমি সংক্রান্ত বিরোধ আছে। সহকারী পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশে আমি এবং স্থানীয় আরেক ব্যক্তি সালিশ করে দেই। রিপন সালিশ মানেনি এবং বাচ্চুকে জমি বুঝিয়ে দেয়নি। এটা নিয়ে সমস্যা হতে পারে।

এ বিষয়ে বগা তদন্ত কেন্দ্রের এসআই বাদল কৃষ্ণ বলেন, খবর পেয়ে আমরা গতকাল রাতেই ঘটনাস্থল পরদির্শন করে রিপন হাওলাদারকে থানায় লিখিত অভিযোগ করার পরামর্শ দিয়েছি। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




বরিশালে ১৭ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

বরিশাল অফিস :: আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় বরিশাল জেলায় ১৭ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) থেকেই বিজিবির সদস্যরা মেট্রোপলিটন এলাকা ও জেলার বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন।

বরিশালের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ সোহেল মারুফ চন্দ্রদ্বীপ নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, নির্বাচনী মাঠে স্ট্রাইকিং ফোর্স এবং মোবাইল টিম হিসাবে দায়িত্ব পালনের জন্য বরিশাল সিটি ও জেলায় মোট ১৭ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। তারা ৯ জানুয়ারী পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন।

বিজিবির বাইরে আনসারের একটি টিম ও জেলা প্রশাসনের ১৯ জন ম্যাজিষ্ট্রেট নির্বাচনী মাঠে আইন শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করছেন ।




স্বতন্ত্র প্রার্থীর ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীর ছবি বিকৃতির অভিযোগ

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): জাতীয় সংসদের ১১৪, পটুয়াখালী-৪ নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত স্বতন্ত্রপ্রার্থী মোঃ মাহবুবুর রহমান তাঁর ফেসবুক আইডিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি বিকৃত করে তার হাতে ঈগল রেখে ভোটারদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন।

এতে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মোতালেব তালুকদার বলেন, ‘১৮ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দের দিন জেলা রিটার্নিং অফিসার স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রচারণায় দলীয় পদ পদবী, দলীয় প্রধানের ছবি ব্যবহার, দলীয় স্লোগান ব্যবহার না করার ব্যাপারে স্পষ্টত বলে দেন। তবে জয় বাংলা উচ্চারণে বাঁধা নেই, এটি রাষ্ট্রীয় স্লোগান।’

মোতালেব তালুকদার জানান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক নৌকা। আর দলের প্রধান শেখ হাসিনা।
সেক্ষেত্রে আচরণবিধি অনুযায়ী শুধুমাত্র নৌকাকে শেখ হাসিনার ছবির সঙ্গে যুক্ত করে প্রচারণা চালানো যাবে। অন্য কোন প্রতীকের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ছবি ব্যবহার করে প্রচারণা চালানো আচরণবিধি লঙ্ঘন।
আর যেখানে প্রার্থী নিজেই তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে এই চিত্র ব্যবহার করে ভোট প্রার্থনা করেছেন, সেহেতু আচরণবিধি অবশ্যই লঙ্ঘন হয়েছে।

মোতালেব তালুকদার আরো বলেন, এছাড়া মাহবুবুর রহমান যেহেতু দলের পদে আছেন, সেক্ষেত্রে তিনি দলীয় শৃঙ্খলাও ভঙ্গ করেছেন। আমরা সাংগঠনিক ভাবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো এবং সেই সাথে নির্বাচন কমিশন বরাবরও লিখত অভিযোগ দেবো।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও কলাপাড়া ইউএনও মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থী কোন দলের প্রধানের ছবি ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারবে না। কেউ এ ধরণের কাজ করলে সেটি আচরণবিধি লঙ্ঘনের মধ্যে পড়বে। প্রার্থী নিজে তার ফেসবুক আইডিতে এ ধরনের চিত্র পোস্ট করে থাকলে, সেটি আমরা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

এদিকে এ অভিযোগ ওঠার পর স্বতন্ত্রপ্রার্থী মোঃ মাহবুবুর রহমানের ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীর বিকৃত ওই ছবিটা সরিয়ে ফেলা হয়। এ বিষয়ে ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ মাহবুবুর রহমান জানান, এটা অন্য কেউ করতে পারেন, কিন্তু এর দায় ভার আমার নয়। আমি এ ধরনের কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত নই।

পটুয়াখালী রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মোঃ নূর কুতুবুল আলম বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের কাছে কেউ কোন লিখিত অভিযোগ করেনি। তথ্য, প্রমাণসহ অভিযোগ পেলে ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটির কাছে প্রেরণ করা হবে, বিষয়টি তারা দেখবেন।




পটুয়াখালীতে অটোরিকশার মালামালসহ চোর চক্রের ৭ সদস্য আটক

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীতে অটোরিকশার মালামালসহ চোর চক্রের ৭ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৮ ডিসেম্বর) জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. সাজেদুল ইসলাম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আটককৃতরা হলেন, পটুয়াখালী কমলাপুর ইউনিয়নের দেলোয়ার সিকদারের ছেলে মো. সিদ্দিক সিকদার (২৫),
লেবুখালী ইউনিয়নের আঠারোগাছিয়া গ্রামের সুলতান জোমাদ্দারের ছেলে সুমন জোমাদ্দার (৩০), শহরের আদালত পাড়া এলাকার আ. রহিমের ছেলে মো. কামরুল ইসলাম (৩০), বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার সোভাকাঠি গ্রামের মৃত ছত্তার ডাকুয়ার ছেলে জাহাঙ্গীর ডাকুয়া (৩৫), দুধল মৌ এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের লালু শরীফের ছেলে মো. বাচ্চু শরীফ (৩৫), ভরপাশা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আলতাফ হোসেন কাজীর ছেলে মস্তফা কাজী (৫৫), রুনসীর মোজাম তালুকদারের ছেলে মো. রফিকুল ইসলাম (৫৬)।

এঘটনায় পটুয়াখালী সদর থানায় একটি চুরির মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, মামলার বাদী পটুয়াখালী কলের পুকুর এলাকার মো. ফরিদ উদ্দিন খান পেশায় একজন অটোগাড়ির ব্যবসায়ী। বাদীর ৮টি ব্যাটারিচালিত অটোগাড়ি আছে। অটোগাড়িগুলো পটুয়াখালী পৌরসভাধীন ২ নম্বর ওয়ার্ডের লোহালিয়া খেয়াঘাটের সাথে একটি ভাড়াটিয়া গ্যারেজে রাখেন। এ ছাড়াও বাদীর গ্যারেজে অন্যান্য লোকদের অটোগাড়ি ভাড়ায় রাখেন ও ব্যাটারি চার্জ দেন। গত ১৯ ডিসেম্বর সকাল আনুমানিক সাড়ে ৫টায় সজিব হাওলাদার নামের এক অটোচালক দুটি বড় অটোগাড়ি গ্যারেজের সামনে রাস্তার উপর রেখে গ্যারেজের মধ্যে কাজ করতে যান। ঘণ্টাখানেক পরে বের হয়ে দেখতে পান ২টি অটোগাড়ির মধ্যে একটি নেই। তখন বাদী ফরিদ উদ্দিন ও তার ছেলে শুভ ও অন্যান্য লোকজন নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। এক পর্যায় তারা জানতে পারেন অটোগাড়িটি সিদ্দিক, সুমন ও কামরুল নামের তিনজনের সাথে আরও বেশ কয়েকজনকে নিয়ে অটোগাড়িটি নিয়ে গেছে। ফরিদ বিষয়টি পটুয়াখালী থানা পুলিশকে জানালে গত ২৭ ডিসেম্বর রাতে কলের পুকুর পার হতে চুরির সাথে জড়িত কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা প্রাথমিকভাবে চুরি করার কথা স্বীকার করে।




রাঙ্গাবালীতে মোটরসাইকেল শোডাউন করায় নৌকার কর্মীকে জরিমানা

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): মোটরসাইকেল নিয়ে শোডাউন করে আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকার প্রার্থীর এক কর্মীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বুধবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে উপজেলার মৌডুবি ইউনিয়নের নিজকাটা বাজারে গিয়ে আচরণবিধি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে নিয়োজিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াউল হাসান সৌরভ এ জরিমানা করেন ।

জরিমানা করা নৌকা প্রতীকের ওই সমর্থক রওশন আহম্মেদ মৃধা উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি।

স্থানীয়রা জানান, রওশন মৃধার নেতৃত্বে মৌডুবিতে মোটরসাইকেল নিয়ে নৌকার পক্ষে শোডাউন করা হচ্ছিল। এ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে জরিমানা করে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াউল হাসান সৌরভ বলেন, লোকজন নিয়ে মোটরসাইকেল শোডাউন করছিলেন রওশন মৃধা। এটি বিধিসম্মত নয়। তাই তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।