এবার বরগুনায় প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যু : ভুল চিকিৎসার অভিযোগ

বরিশাল অফিস : খতনা করাতে গিয়ে রাজধানীর ইউনাইটেড মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলায় শিশু আয়ানের মৃত্যুর পর এবার বরগুনা জেলার বামনা উপজেলায় একটি অবৈধ বেসরকারি হাসপাতালে এক প্রসূতি ও তার নবজাতক সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। ভুল চিকিৎসায় তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।

তারা জানান, সোমবার রাত পৌনে ১১টার দিকে বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশে সুন্দরবন হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করা হয় প্রসূতি মেঘলা আক্তারকে। অনুমোদনহীন এই হাসপাতালে তাকে সিজার অপারেশন করেন এক হাতুড়ে ডাক্তার। ভুল চিকিৎসায় মা ও নবজাতকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় গতকাল ঐ হাসপাতালটি সিলগালা করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সারাদেশে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে ও আশপাশে হাজার হাজার অবৈধ হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তারা অবৈধভাবে ব্যবসা করলেও স্বাস্থ্য বিভাগ ঠিকমতো মনিটরিং করছে না। উল্টো তাদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এগুলো দেখভাল করার জন্য মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে অধিদপ্তর, বিভাগীয় পরিচালকের (স্বাস্থ্য) কার্যালয়, সিভিল সার্জন কার্যালয়, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তারা রয়েছেন। পাশাপাশি রয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে মনিটরিং কমিটি। কিন্তু এসব কমিটি ঠিকমতো কাজ করছে না। মনিটরিংয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ৯০ ভাগ কর্মকর্তা নিয়মিত নির্ধারিত হারে মাসোহারা পেয়ে থাকেন। এ কারণে আয়ান ও মেঘলা আক্তারের মতো কত মানুষ যে অবহেলা ও ভুল চিকিৎসায় মারা যাচ্ছে তার কোন হিসাব নেই।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেন, দায়িত্বে অবহেলা, ভুল চিকিৎসায় যারা জড়িত এবং এসব মনিটরিং যারা করছেন না তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে, জেল-জরিমানা করে কিছুই হবে না। এদের কারণে শিশু আয়ান ও প্রসূতি মেঘলার মতো প্রতিদিনই অনেকের জীবন যাচ্ছে, এটা হত্যার শামিল। তাই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা (ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট) নিতে হবে। তাহলেই অবৈধ হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক করে মানুষ মারার বাণিজ্য কমে আসবে বলে তারা জানান।

এদিকে অবৈধ ও অননুমোদিত সব হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্যখাতে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্যখাতে অনেক সমস্যা রয়েছে। আমি বলেছি দুর্নীতির ব্যাপারে ছাড় দেব না। এই অননুমোদিত, লাইসেন্স ছাড়া হাসপাতাল , ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার-এগুলো চলতে দেওয়া যাবে না। বিষয়টি আমি এক দিনে পারব না। কিন্তু আমার মেসেজ হচ্ছে যে এই অননুমোদিত ক্লিনিক, হাসপাতাল বন্ধ করে দিতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অবশ্যই নেওয়া হবে। আমি নিজেও ভুক্তভোগী এগুলোর জন্য।’




দশমিনায় দুই শিক্ষার্থীকে ব্যাট দিয়ে পেটাল কিশোর গ্যাং

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): জেলার দশমিনায় সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা চলাকালে বিদ্যালয়ে ঢুকে দুই শিক্ষার্থীকে ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে বেদম পিটিয়েছে কিশোর গ্যাং সদস্যরা।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দশমিনা সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

হামলায় নেতৃত্ব দেন উপজেলার আলোচিত কিশোর গ্যাং লিডার দুই সহোদর ইয়াসিন ও আরাফাত। ওই সহোদর উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুল মুন্সির ছেলে।

হামলার শিকার দুজন হলেন- উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের গছাণি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. শাহিন (১৭) ও মো. মিহাদুল ইসলাম। তারা দুজনই দশমিনা হাসপাতালে ভর্তি।

আহত দুই শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার দিন দশমিনা সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত চলছিল। ওই দিন বিদ্যালয়ের মাঠে বাংলাবাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সঙ্গে তাদের বিদ্যালয়ের ভলিবল প্রতিযোগিতা থাকায় তারা দুজন অংশ নিতে সেখানে যান। পরে সেখানে গেলে কিশোর গ্যাং লিডার ইয়াসিন – আরাফাতের নেতৃত্বে ১০-১২ জন তাদের দুজনকে ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে প্রকাশ্যে বেদম মারধর করেন।

আহত দুজনের মধ্যে মো. মিহাদুল ইসলাম দাবি করেন, ৩ মাস আগে দশমিনা সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী হামিদুলের সঙ্গে তার সিনিয়র – জুনিয়র নিয়ে তর্কবিতর্ক হয়। ওই তর্কবিতর্কে জের ধরে তাদের ওপর হামলা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

এদিকে ইয়াসিন-আরাফাতের ফের এমন কাণ্ডে জনমনে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয় দশমিনা থানার ওসি নূরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




বাউফলে ঘরের জানালার গ্রিল কেটে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ডাকাতি

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): বাউফলে ঘরের জানালার গ্রিল কেটে ঘরে ঢুকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে সোনার গহনা, রুপা, মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ সহ দামি মালামাল নিয়ে গেছে দুবৃর্ত্তরা।

উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড ফাজিলপুর গ্রাম ও একই ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড ভরিপাশা গ্রামে সোমবার (১৫ জানুয়ারী) গভীর রাতে মোতাহার শিকদার (৭৫) ও সাইদুর রহমান (২৫) নামের দুটি পরিবারের ঘরে এ ঘটনাটি ঘটে।

এ ঘটনায় বাউফল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে,গত সোমবার (১৫ জানুয়ারী) গভীর রাতে বাউফল উপজেলার কেশবপুর ইউনিযনের ৭নং ওয়ার্ড ফাজিলপুর গ্রামের মৃত্যু টুলু শিকদারের ছেলে মোতাহার শিকদারের (৭৫) সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ও একই ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড ভরিপাশা গ্রামের মৃত্যু হেলাল উদ্দিন মৃধার ছেলে মোঃ সাইদুর রহমান (২৫) এর বসত ঘরের জানালার গ্রিল কেটে ৬ থেকে ৭ জনের একটি ডাকাত দল দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ঘরের নারী পুরুষের হাত-পা বেঁধে কয়েক ভরি সোনার চেইন, কানের পাশা, রুপার চেইন ও নুপুর সহ নগদ টাকা নিয়ে যায়।

এ সময় ডাকাতরা যাওয়ার সময় ডাকাতির বিষয়ে পুলিশকে ও স্থানীয় কাউকে কিছূ না বলার জন্য হুমকি দিয়ে যায়।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহজাহান গাজী ও ৬নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মোঃ তাইমুর রহমান বাবুল ডাকাতির ঘটনার সত্যতা শিকার করে বলেন, এ ইউনিয়নে প্রায়ই চুরি,ডাকাতির ঘটনা ঘটে থাকে।
এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন কোন পদক্ষেপ দেখছি না। ডাকাতির ঘটনাকে পুলিশ চুরির ঘটনা বলে দায় এড়িয়ে যায়।

এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শোনিত কুমার গাইন বলেন, কেশবপুরে চুরির ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। চোর সনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।




দুমকীতে চোরাই গরুসহ ট্রাক আটক

চন্দ্রদীপ নিউজ: পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার ৩নং মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডে ৬টি চোরা গরু সহ একটি ট্রাক আটক করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ৬ টি চোরাই গরু ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের ধাওয়া খেয়ে গত রাত ভোর ৫ টার সময় মুরাদিয়া ইউনিয়নের চরগরবদী ৭ নং ওয়ার্ডে পৌছেঁ। পরে এখানেও খবর পেয়ে পুলিশ ও স্হানীয় জনতা আবার ধাওয়া দিলে ট্রাক ফেলে চোর পালিয়ে যায়। জনতা উদ্ধার করে ট্রাক ও গরু দুমকী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

বর্তমানে গরুসহ ট্রাকটি দুমকী থানা হেফাজতে আছে।




মহিপুরে বাবা-ছেলেকে পিটিয়ে জখম

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর মহিপুর থানায় জমি-জমা সংক্রান্ত পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বাবা -ছেলেকে এলোপাথাড়ি ভাবে পিটিয়ে জখম করেছে প্রতিপক্ষরা।

সোমবার সকাল ৯ টার দিকে মহিপুর থানার ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের পূর্বডালবুগঞ্জ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এতে গুরুতর আহত অবস্থায় মো.বাছেদ ঘরামী (৭০) এবং তার ছেলে মো. মিজানুর ঘরামী (৩৭) কে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তবে বাছেদ ঘরামীর অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।

এ ঘটনার মামলার প্রস্তুতি চলছে।

আহত মো.মিজানুর ঘরামী জানান, ডালবুগঞ্জ এলাকায় তাদের পৈত্রিক জমি রয়েছে, যা দীর্ঘ ৫০/৬০ বছর ধরে আমরা ভোগ দখল করে আসছি। প্রতিবেশী সোহরাফ হোসেন গং’রা জোর পূর্বক জমি দখল করতে একাধিকবার আমাদের উপর হামলা, নির্যাতন, অত্যাচার চালিয়ে আসছে। পূর্বপরিকল্পিত ভাবে আমার এবং আমার বাবাকে হত্যার উদ্দেশে্ লাঠি সোটা নিয়ে এলোপাতাড়ি ভাবে পিটিয়ে জখম করে। এ ঘটনার সাথে বারেক হাওলাদার, রহিম গাজি, খলিল গাজি, শাহা গাজি, রাব্বি মৃধা জড়িত ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তবে বক্তব্য নিতে অভিযুক্তদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদেরকে পাওয়া যায়নি।

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.আনোয়ার হোসেন তালুকদার জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।




বাউফলে শ্বশুরবাড়ি পুড়িয়ে দিলেন জামাই

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলায় মাদকাসক্ত জামাইয়ের কাছে মেয়ে না দেয়ায় শ্বশুরের বাড়িঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

চাচা শ্বশুর শাহ আলম হাওলাদারেরও বাড়ি সম্পূর্ণভাবে ভস্মীভূত হয়।

সোমবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুর আড়াইটার দিকে বাউফল পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। এ সময়ে শ্বশুর রফিকুল হাওলাদার ও চাচা শ্বশুর শাহ আলম হাওলাদারের দুটি বাড়িঘর সম্পূর্ণভাবে ভস্মীভূত হয়ে যায়।

জানা যায়, তিন বছর আগে আগে স্থানীয় রফিকুল ইসলামের মেয়ে আখি বেগমের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিলো একই বাড়ির ফয়সাল হাওলাদারের। বিয়েতে রাজি ছিলো না আখির বাবা। সম্প্রতি ফয়সাল মাদক সেবন ও ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে এবং কয়েকবার পুলিশের হাতে আটক হন ফয়সাল। মেয়েকে বাসায় নিয়ে এসে ফয়সালের সঙ্গে ডিভোর্সের ব্যবস্থা করেন আখির বাবা রফিকুল। দুপুরে আখিকে নিয়ে যেতে শ্বশুর বাড়িতে আসে ফয়সাল।
এ সময় আঁখিকে নিয়ে যেতে চান তিনি। বাধা দিলে শাশুড়িকে মারধর করেন ফয়সাল। তখন আখি জরুরি সেবা ৯৯৯ এ ফোন দিলে পুলিশ আসার খবর পেয়ে ফয়সাল কেরোসিন ঢেলে শ্বশুরের ঘরে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। একই আগুনে তার চাচা শ্বশুর বাক-প্রতিবন্ধী শাহ আলম হাওলাদারের ঘরও পুড়ে যায়।

ফয়সাল ও আখির দেড় বছরের একটি কন্যা সন্তান আছে।

ভস্মীভূত ঘর মালিক বাক-প্রতিবন্ধী শাহ আলম হাওলাদারের স্ত্রী নুন নাহার বলেন, বউ দিতে না চাওয়ায় আমার ভাসুরের ছেলে ফয়সাল তার শ্বশুরের ঘরে আগুন দিয়েছে। পাশাপাশি ঘর হওয়ায় সেই আগুন আমার ঘরেও লাগছে।

প্রতিবেশী সবুজ সরকার বলেন, ’সোমবার দুপুর ১২টার দিকে ফয়সাল তার শাশুড়িকে মারধর করে। অসুস্থ শাশুড়ি বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে গেলে ফাঁকা ঘরে অগ্নিসংযোগ করে পালিয়ে যায় ফয়সাল।’

বাউফল পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল লতিফ খান বাবুল বলেন, ‘ফয়সাল একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। ফয়সালের পরিবারকে বেশ কয়েকবার বলার পরেও তারা ফয়সালকে সংশোধন করেনি বলেই এই ঘটনাটি ঘটেছে।

বাউফল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নাসির উদ্দিন বলেন, মাদকাসক্ত ফয়সাল দুটি ঘরে অগ্নিসংযোগ করে। ফয়সালের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।




বাউফলে চোর সন্দেহে লঞ্চ থেকে তুলে নিয়ে যুবককে নির্যাতন

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): জেলার বাউফল উপজেলায় চোর সন্দেহে লঞ্চ থেকে এক যুবককে উঠিয়ে স্পিডবোটে করে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর নির্জন জায়গায় নিয়ে চুরির স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য রাতভর চলে নির্যাতন।

আহত ওই যুবককে উদ্ধার করে রোববার সন্ধ্যার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

বাউফল উপজেলার ধূলিয়া ইউনিয়নের ধূলিয়া লঞ্চঘাট থেকে ওই যুবককে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

আহত ব্যক্তির নাম মো. সোহাগ মুন্সি (২৭)। সোহাগ চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরওয়াডেল গ্রামের বাসিন্দা ওমর আলী মুন্সির ছেলে। তিনি পেশায় একজন জেলে।

আহত যুবকের স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, বাবা ওমর আলীর সঙ্গে রাগারাগি হয় সোহাগের। এর জেরে শনিবার বিকেলে কালাইয়া লঞ্চঘাট থেকে এমভি ইগল লঞ্চে করে ঢাকায় যাচ্ছিলেন সোহাগ। সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে লঞ্চটি ধূলিয়া ঘাটে পৌঁছায়। ওই সময় সোহাগের প্রতিবেশী মো. লোকমান খানের (৩০) নেতৃত্বে ছয়-সাতজনের একটি দল স্পিডবোটে করে সেই ঘাটে আসে। তাঁরা লঞ্চে উঠে সোহাগকে জোর করে স্পিডবোটে তুলে নিয়ে যান।

স্বজনেরা আরও বলেন, গত বুধবার রাতে লোকমান খানের দুটি ও আলী আহম্মেদ খানের চারটি গরু চুরি হয়। ওই ছয়টি গরু চুরির সন্দেহে তাঁরা সোহাগকে ধরে নিয়ে যান। তাঁরা প্রথমে সোহাগকে চর রায়সাহেব এলাকায় নদীর পাড়ে নিয়ে মারধর করেন। পরে মোটরসাইকেলে করে একটি মাছের ঘেরের কাছে নিয়ে দ্বিতীয় দফায় নির্যাতন করেন। এরপর আকবর আলীর ঘরে নিয়ে আটকে আবার নির্যাতন করা হয়। সেখান থেকে রোববার বেলা ১১টার দিকে চরওয়াডেল খানকা এলাকায় নিয়ে মারধর করা হয়। গরু চুরির স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য সোহাগের হাত ও পায়ের আঙুলে সুই ফোটানো হয়। পরে স্থানীয় চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান বিষয়টি জানেন। তাঁর হস্তক্ষেপে সোহাগকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।

ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক বলেন, গরু চুরির অভিযোগে ওই যুবককে মারধর করা হয়েছে। যেহেতু চুরির কোনো প্রমাণ নেই, তাই তাঁকে (সোহাগ) স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন তিনি।

সোহাগের বাবা ওমর মুন্সি বলেন, তাঁর ছেলে যদি অপরাধী হন, তাহলে পুলিশের হাতে না দিয়ে আটকে রেখে নির্যাতন করা কোন আইনে আছে? তিনি এ ঘটনার বিচার দাবি করেন।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য লোকমানের মুঠোফোনে কল করলে বন্ধ পাওয়া যায়। তাঁর বড় ভাই মো. ফোরকান বলেন, গরু চুরির বিচারের খবর পেয়ে সোহাগ পালিয়ে যাচ্ছিলেন। এ কারণে তাঁকে ধরে আনার পর কয়েকটি চড়থাপ্পড় দেওয়া হয়েছে। নির্যাতনের অভিযোগ সত্য নয়। তবে সোহাগকে আটকে রাখা হয়।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শোনিত কুমার গায়েন বলেন, এ বিষয়ে তাঁকে কেউ জানাননি। তবে কাউকে চুরির অভিযোগে আটক করে মারধর করার সুযোগ নেই। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




শিশু আয়ানের মৃত্যু: ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বন্ধের নির্দেশ

চন্দ্রদীপ নিউজ: খতনার জন্য অজ্ঞান করা শিশু আয়ানের মৃত্যুর ঘটনায় নিবন্ধন না থাকা ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক অফিস আদেশে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিককালে ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশু আয়ান আহমেদের (৫+ বছর) মৃত্যুতে তার বাবার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অধিদপ্তরের পরিচালকের (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) নেতৃত্বে ১০ জানুয়ারি হাসপাতালটি পরিদর্শন করা হয়। পরিদর্শনকালে ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রদত্ত লাইসেন্স দেখাতে ব্যর্থ হয়।

এছাড়া দপ্তরের অনলাইন ডাটাবেজ পর্যালোচনা এবং পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে দেখা যায় যে, ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নামে কোনো প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিকট নিবন্ধন/লাইসেন্স প্রাপ্তির জন্য কখনোই অনলাইন আবেদন করেনি।

প্রতিষ্ঠানটি কোনো প্রকার আইনানুগ নিবন্ধন অথবা লাইসেন্স ব্যতিরেকে চিকিৎসা সেবা নির্মাণাধীন ভবনে পরিচালনা করে আসছে, যা সরকারের প্রচলিত আইনের পরিপন্থী। তাই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সুপারিশক্রমে এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নির্দেশে এ আদেশ জারি করা হলো।

এর আগে এ ঘটনায় কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট করেছেন এক আইনজীবী।




বাউফলে মৃত্যুর ১২ বছর পর জীবিত দেখিয়ে আবেদন!

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): যশোদা দেবনাথ নামের এক ব্যক্তি মারা গেছেন প্রায় ১২ বছর আগে। অথচ তাকে জীবিত দেখিয়ে পল্লী বিদ্যুতের মিটার পরিবর্তনের আবেদন করা হয়েছে। আবেদন যাছাই বাছাই না করেই কর্তৃপক্ষ তার নামে নেওয়া মিটারটি পরিবর্তন করে শান্তি রঞ্জন দেবনাথ নামের অন্য এক ব্যক্তির নামে দিয়েছেন। শান্তি রঞ্জন দেবনাথ মৃত যশোদা দেবনাথের বাসার ভাড়াটে।

অভিযোগ রয়েছে, যশোদার বাড়িটি দখলে নেওয়ার জন্যই অবৈধভাবে ভাড়াটে শান্তি রঞ্জন তার নামে ওই মিটার সংযোগ নিয়েছেন।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বাউফল জোনাল অফিসের আওতাধীন বাউফল আদর্শ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় সড়ক এলাকায় এমন ঘটনা ঘটেছে।

এ বিষয়ে ভূক্তভোগী পরিপারের পক্ষ থেকে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করলেও রহস্যজনক কারণে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

জানা গেছে, বাউফল পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় সড়ক এলাকায় যশোদা দেবনাথের পাকা টিনসেড ঘর রয়েছে। প্রায় ৪০ বছর পূর্ব থেকে ওই ঘরে তাঁর নামে বিদ্যুতের মিটার (হিসাব নম্বর-২৪৫/১৪২০) ছিল। তিনি ২০১১ সালের ২৬ জানুয়ারিতে মারা যান। দীর্ঘদিন ধরে ওই ঘর ভাড়া দিয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যরা পাশের দশমিনা উপজেলার গোপালদি গ্রামে থাকেন। সেই সুযোগে শান্তি রঞ্জন দেবনাথ নামে তাঁর এক আত্মীয় মৃত যশোদা দেবনাথকে জীবিত দেখিয়ে তাঁর নামের মিটারটি হস্তান্তরের জন্য পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কাছে আবেদন করেন এবং একই স্থানে ২০২২ সালের ৭ ডিসেম্বর শান্তি রঞ্জন দেবনাথের নামে একটি নতুন মিটারের (যার হিসেব নম্বর ২৪৫/১৪৪৫) সংযোগ দেন এবং ওই ঘরটি তিনি দখল করে নেন।

যশোদা দেবনাথের ছেলে কানাই চন্দ্র দেবনাথ অভিযোগ করেছেন, পৌরসভার হোল্ডিং ট্যাক্স ও বিদ্যুৎ বিল নিয়মিত পরিশোধ করে আসছেন। কোনো বকেয়া নাই। এরপরেও তাঁর মৃত বাবাকে প্রায় ১২ বছর পর জীবিত দেখিয়ে তাঁর (যশোদা) নামে আবেদন করে মিটার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এবং একই স্থানে অন্য নামে নতুন মিটারের সংযোগ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জানার পর পুনঃসংযোগ দেওয়ার জন্য পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বাউফল জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) বরাবরে আবেদন করেন। এক বছর পর্যন্ত দেই, দিচ্ছি বলে ঘুরাতে থাকে পল্লী বিদ্যুত কর্তৃপক্ষ। নিরুপায় হয়ে তিনি পল্লী বিদ্যুতের প্রধান কার্যালয়ের চেয়ারম্যান বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

শান্তি রঞ্জন দেবনাথ বলেন, মৃত ব্যক্তির নামে কে বা কারা আবেদন করেছেন তা তিনি জানেন না।’ তবে তিনি যে তাঁর নামে মিটার নিয়েছেন, তা তাঁর ঘরেই স্থাপন করেছেন বলে দাবি করেন।

পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বাউফল জোনাল অফিসের উপ মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছেন।’




বরিশালে জাল সনদে চাকরি: জামিন চাইতে গিয়ে কারাগারে গেলেন শিক্ষক

বরিশাল অফিস :: বরিশালের বানারীপাড়া উপেজেলায় জাল সনদে চাকরি করার মামলায় বরখাস্ত এক প্রধান শিক্ষকের জামিন আবেদন নাকচ করে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন  আদালত।

রোববার দুপুরে বরিশালের মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক মহিবুল হাসান এ আদেশ দেন বলে আদালতের বেঞ্চ সহকারী নাসির খান জানান।

আসামি ৪৮ বছর বয়সী মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বানারীপাড়া উপজেলার আউয়ার গ্রামের আছমত আলী খানের ছেলে এবং ওই এলাকার সৈয়দ বজলুল হক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন।

নাসির খান চন্দ্রদীপ নিউজকে বলেন, জাহাঙ্গীর আদালতে হাজির হয়ে জামিন মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেন। বিচাররক তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলার বরাতে তিনি বলেন, জাহাঙ্গীর ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সৈয়দ বজলুল হক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। পরে তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সন্দেহ হওয়ায় স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি তারিকুল ইসলাম খান জাহাঙ্গীরের সনদ পরীক্ষা করেন। এ সময় চাকরিতে যোগদানের সময় তার দাখিল করা বিএ, এমএ ও এমএড পরীক্ষায় উত্তীর্ন সনদ নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করা হয়।

তদন্তে জাহাঙ্গীরের ঢাকার রয়েল ইউনিভার্সিটির এমএ এবং দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএড ও এমএড পরীক্ষার সনদ জাল বলে প্রমাণ পায় কমিটির সদস্যরা। এর প্রেক্ষিতে ২০২০ সালের ২০ সেপ্টেম্বর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরে ২০২২ সালের ৪ অক্টোবর তারিকুল আদালতে মামলা করেন।

মামলার আসামি হিসেবে জাহাঙ্গীর অন্তবর্তীকালীন জামিনে ছিলেন বলে নাসির জানান।