পটুয়াখালী-৪: নির্বাচনের পরও থামছে না সহিংসতা, আত্মগোপনে অনেক নেতাকর্মী

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): গত ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অুনষ্ঠিত হয়েছে। ভোটের আগে থেকেই পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া – রাঙ্গাবালী) আসনের মহিপুরের কয়েকটি ইউনিয়নে ছড়িয়ে পরে উত্তেজনা। নির্বাচনের ১৫ দিন পার হলেও থামছে না সহিংসতা। এখন পর্যন্ত অন্তত অর্ধশত নেতাকর্মী মারধরের শিকার হয়েছেন। মারধরের ভয়ে এখনও বাজার ঘাটে উঠতে পারছেন না অনেকে। আত্মগোপনে চলে গেছেন বেশ কয়েকজন ছাত্রলীগের নেতা। মামলা করতেও সাহস পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা। যার ফলে কোণঠাসা হয়ে পরেছে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত আওয়ামী লীগের নেতারা। এতে ঝিমিয়ে পড়েছেন মাঠ পর্যায়ের সাধারণ কর্মীরা।

সর্বশেষ গত শুক্রবার সন্ধ্যায় লতাচাপলী ইউনিয়নের ডংকুপাড়া গ্রামের বটতলা নামক স্থানে প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হন বরিশাল বিএম কলেজের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্র আসাদ মোল্লা। নৌকার প্রতীকের কর্মী আব্দুর রহিম মুসুল্লী ও তার ছেলে রাব্বী মুসুল্লী কুপিয়ে আসাদ মোল্লাকে রক্তাক্ত জখম করেছেন। তার মাথায় ছয়টি ও হাতে একটি কোপের চিহ্ন পাওয়া গেছে। গুরুতর আহত আসাদ বর্তমানে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। আসাদ মোল্লা লতাচাপলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান মো. আনছার উদ্দিন মোল্লা এবং কুয়াকাটা পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল বারেক মোল্লার ভাতিজা। তার বাবার নাম ফারুক মোল্লা। এ ঘটনায় আসাদ মোল্লার মামা নাসির গাজী বাদী হয়ে মহিপুর থানায় চারজনের নামে একটি মামলা দায়ের করেছে।

এ প্রসঙ্গে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন তালুকদার বলেন, শুক্রবার রাতেই থানায় মামলা হয়েছে। তদন্ত পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শুক্রবার একই সময় আলীপুর থ্রিপয়েন্ট এলাকায় হামলার শিকার হন ইসমাইল ফরাজী নামের এক যুবক। নৌকার কর্মীরা হাতুরি দ্বারা পিটিয়ে ইসমাইল ফরাজীর দুই পায়ের হাটু পর্যন্ত থেতলে দিয়েছেন। ইসমাইল ফরাজী বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। সে লতাচাপলী ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের পান্না মিয়া ফরাজীর ছেলে।

এর আগে নির্বাচনের পরদিন আলীপুর চৌরাস্তায় নৌকার কর্মীদের হামলার শিকার হন মোশাররফ মোল্লা। তাকেও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে দুই পায়ের হাটু পর্যন্ত থেতলে দেয়া হয়েছে। সপ্তাহখানেক বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বাসায় আনা হয়েছে। হাঁটুসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানের ক্ষত ভালো হলে দু’পায়ের অপারেশনের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন চিকিৎসক। মোশাররফ মোল্লা লতাচাপলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান মো.আনছার উদ্দিন মোল্লা এবং কুয়াকাটা পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল বারেক মোল্লার ছোট ভাই।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জানুয়ারি (রোববার) রাতে ফলাফল ঘোষণার পর থেকে আজ সোমবার (২২ জানুয়ারি) এখন পর্যন্ত পটুয়াখালী-৪ আসনের মহিপুরের লতাচাপলী, মহিপুর, ধুলাসার, ডালবুগঞ্জ ইউনিয়ন ও কুয়াকাটা পৌর এলাকায় অন্ততপক্ষে অর্ধশত হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এছাড়া স্বতন্ত্র ঈগল প্রতীকের সমর্থক বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলতে পারছেন না। এমনকি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার মতো ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া পরিবহন কাউন্টার ও শ্রমিক সংগঠনগুলোতে এসেছে নতুন নেতৃত্ব।

লতাচাপলী ইউনিয়নে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব মাহবুবুর রহমান তালুকদারের আলীপুরস্থ নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর, প্রদীপ ও স্বপন নামের ২ জন সংখ্যালঘুর বাড়িতে হামলা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়ছে।

এছাড়া আলীপুরের বাজার পাহারাদার আব্দুর রহিম, ভ্যানচালক হাচান প্যাদা, মুরগী ব্যবসায়ী আলী হোসেন, মাছ ব্যবসায়ী সোহাগ, ইউপি সদস্য মিজান মুসুল্লী হামলার শিকার হয়েছেন। এখনো দোকান খুলতে পারছেন না অপু গাজী, আবু বক্কর মল্লিক। এমন অভিযোগ করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান আনছার উদ্দিন মোল্লাসহ অনেক নেতারা।

এ বিষয়ে লতাচাপলী ইউনিয়ন আ. লীগ সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান আনছার উদ্দিন মোল্লা বলেন, প্রতিনিয়ত আমার হাত, পা কেটে ফেলার বিভিন্ন হুমকি ধামকি আসছে। আমি চাই এই প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধ করা হোক। সুষ্ঠু ধারায় রাজনীতি চলুক।

লতাচাপলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. সিদ্দিকুর রহমান বিশ্বাস বলেন, নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার বিষয়গুলো উপজেলা নেতাদের অবহিত করা হচ্ছে। তারা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিবেন বলে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।

এদিকে কুয়াকাটা পৌর আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় থাকা নৌকা প্রতীকের নির্বাচনী অফিস পৌর আ’লীগের কার্যালয়ের সাইনবোর্ড টানিয়েছেন পৌর মেয়র আনোয়ার হাওলাদার। তবে কুয়াকাটা পৌর মেয়র আনোয়ার হাওলাদার এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য পদ লাভ করতে পারেন নি। কুয়াকাটা পৌরসভায় দু’টি দলীয় কার্যালয় হওয়ায় বিভ্রান্তিতে পরেছেন পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ নেতাকর্মীরা।

এ বিষয়ে কুয়াকাটা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল বারেক মোল্লা বলেন, পৌর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কোণঠাসা করার জন্য বর্তমান মেয়র নির্বাচনী অফিস দলীয় কার্যালয় বানিয়েছেন। যা সম্পূর্ণ দলের গঠনতন্ত্র পরিপন্থি। তিনি জাতীয় পার্টির সাবেক নেতা, এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের দলীয় সদস্য পদ পাননি। বিষয়টি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী আলমগীরকে অবহিত করা হয়েছে বলে তিনি দাবী করেছেন।

এ প্রসঙ্গে কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোতালেব তালুকদার বলেন, কুয়াকাটায় আওয়ামী লীগের কার্যালয় একটি। মেয়র আনোয়ার হাওলাদার যেটি করেছেন ওটি নির্বাচনী অফিস।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন পরবর্তী যারা সহিংসতা করছে তাদের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নির্বাচনী পরবর্তী কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে স্বীকার করে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন তালুকদার বলেন, নির্বাচনী পরবর্তী সহিংসতা রোধে মহিপুর থানা পুলিশ সবসময় সতর্ক আছে। যারা সহিংসতা করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, পটুয়াখালী-৪ সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগ দলীয় নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন পেয়ে টানা দ্বিতীয় বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন অধ্যক্ষ আলহাজ্ব মহিববুর রহমান মহিব। তিনি বর্তমানে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন স্বতন্ত্র ঈগল প্রতীকের প্রার্থী সাবেক পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব মাহবুবুর রহমান তালুকদার। হেভিওয়েট এ দুই প্রার্থীর কর্মী সমর্থকরা জড়িয়ে পরেছেন নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায়।




বরিশালে ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

বরিশাল অফিস :: র‌্যাব-৮ এর একটি আভিযানিক দল অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে।

এ ঘটনায় র‌্যাব বাদি হয়ে থানায় মামলা দায়েরের পর রোববার  সকালে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২০ জানুয়ারি বিকেলে গৌরনদী উপজেলার সাউদেরখাল ব্রিজ এলাকার উত্তর পাশে অভিযান চালিয়ে ২১৪ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো-কটকস্থল গ্রামের মৃত নুর মোহাম্মদ মোল্লার ছেলে দেলোয়ার হোসেন মোল্লা ও একই গ্রামের মৃত ইসকেন্দার খানের ছেলে চাঁন মিয়া খান।




কলাপাড়ায় নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগে ২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর কলাপাড়ার দৌলতপুর ছালেহিয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী পদে চাকরিতে নিয়োগ দেয়ার কথা বলে ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে।

গত বুধবার ভুক্তভোগী মো: মাহবুব এলাহী বাদী হয়ে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো: মোস্তাফিজুর রহমান ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মো: আব্দুল মান্নানকে আসামি করে আদালতে মামলা করেছেন।

জানা যায়, অফিস সহকারী পদে চাকরিতে নিয়োগ দেয়ার জন্য ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ  মোস্তাফিজুর রহমান মাদ্রাসায়  ডোনেশন বাবদ মাহবুব এলাহীকে ১০ লাখ টাকা  দেয়ার জন্য বলেন। তারা লিখিতভাবে নগদ ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। তার পিতা মোস্তাফিজুরকে আট লাখ টাকা। আব্দুল মান্নান নগদ দুই লাখ টাকাসহ মোট দশ লাখ টাকা গ্রহণ করেন।

মাহবুব উল্লেখ করেন, তারা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ২য় আসামি আব্দুল মান্নানের ছেলে ফয়সাল শরীফকে মাদ্রসার অফিস সহকারী পদে চাকরিতে নিয়োগ প্রদান করেন। এরপরে দশ লাখ টাকা ফেরত চাইলে আসামিরা তাদেরকে টাকা গ্রহণের বিষয়টি অস্বীকার করেন। এ বিষয়ে বাড়াবাড়ি করলে তাকে জীবনের তরে  শেষ করে দেবে বলে হুমকি প্রদান করেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ  মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে  মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।




কলাপাড়ায় বিয়ের প্রলোভনে ‘ধর্ষণ’, অতঃপর অন্তঃসত্ত্বা

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): জেলার কলাপাড়ায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীকে (৩৩) টানা ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে সোহাগ হাওলাদার (৩৫) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছেন।

শুক্রবার রাতে ওই নারী সোহাগসহ দুইজনের বিরুদ্ধে কলাপাড়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সোহাগ এবং এক সন্তানের জননী ওই নারীর বাড়ি বালিয়াতলী ইউপির পক্ষিয়াপাড়া গ্রামে। ২০১৯ সালে তার স্বামীর সঙ্গে ডিভোর্স হওয়ার পর থেকেই পূর্ব পরিচিত হওয়ায় বিভিন্ন সময় প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল সোহাগ। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে ওই নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। এরপর ঢাকায় নিয়ে একাধিকবার ধর্ষণে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে সোহাগ তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।

পরে ওই নারী বিষয়টি সোহাগের পরিবারকে জানালে তার সন্তান নষ্ট করতে বলে তারা। অবশেষে সোহাগসহ দুই জনের বিরুদ্ধে কলাপাড়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করছেন।

কলাপাড়া থানার ওসি আলী আহম্মদ জানান, এ ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।




বাউফলে ধর্ষণের শিকার ৭ বছরের শিশু

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): জেলার বাউফলে ৭ বছরের শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত মো. সেলিমকে (৫৫) গ্রেপ্তার করছে বাউফল থানা পুলিশ।

ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দিনমজুর বাবার শিশুসন্তানটি তার নানির বাড়িতে থাকত। প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার পৌর শহরের ৯নং ওয়ার্ডের শের-ই-বাংলা সড়কের বালুর মাঠে অন্যান্য শিশুর সঙ্গে খেলছিল। দুপুর ১২টার দিকে সেলিম শিশুটির হাত ধরে টেনে পাশের ঝোপের ভেতর নিয়ে ধর্ষণ করে। তখন শিশুটির চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে অভিযুক্ত সেলিম পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা শিশুটিকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে।

একই এলাকার বাসিন্দা অভিযুক্ত সেলিম ২ সন্তানের বাবা।

ধর্ষণের শিকার শিশুর নানি খালেদা বলেন, সেলিম আমার নাতনির ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দিয়েছে। আমি সেলিমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

এ বিষয়ে বাউফল থানার ওসি শোনিত কুমার গায়েন বলেন, অভিযুক্ত সেলিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পটুয়াখালী পাঠানো হয়েছে।




মির্জাগঞ্জে দণ্ড প্রাপ্ত পলাতক দুই আসামী গ্রেফতার

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে দন্ডপ্রাপ্ত পলাতক দুই আসামীকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।

ঢাকার উত্তরা থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করে পরদিন পটুয়াখালী কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মজিদবাড়িয়া ইউনিয়নের সত্তার হাওলাদারের ছেলে শাকিল হাওলাদার এবং সুবিদখালীর আবদুল গনি মাস্টারের ছেলে গিয়াস মাহমুদ।

পুলিশ জানায়, আসামী শাকিল হাওলাদারকে ২০১৮ সালে বেতাগী থানায় দায়েরকৃত মাদক মামলায় এক বছর এবং অপর আসামী গিয়াস মাহমুদকে ২০১৭ সালে ঢাকা কোর্টে দায়েরকৃত এন আই অ্যাক্টথর মামলায় এক বছর সাজা প্রদান করে আদালত। তারপর থেকে ওই দুই আসামী পলাতক ছিলেন।

মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান বলেন, ওই দুই আসামীকে ঢাকা থেকে গ্রেফতারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।




নবীজির (সা.) মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন যাঁরা

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : আইয়ামে জাহেলিয়াতে আরবরা ছিল প্রধানত দুটি অংশে বিভক্ত : মরুবাসী বেদুইন যাযাবর ও আরব উপদ্বীপের শহরবাসী। শহরবাসীর নগররাষ্ট্র, সরকার ও সংস্কৃতির অস্তিত্ব ছিল। ঐতিহাসিকদের মতে, মক্কাবাসীদের ‘দারুণ নদওয়া’ নামক City Hall (সম্মেলনকেন্দ্র) ছিল।

আরো ২১টি প্রতিষ্ঠানের কথা উল্লেখ করেছেন ড. হামিদুল্লাহ।

যথা : ১) নদওয়া, ২) মশওরা, ৩) কিয়াদাহ, ৪) সেদানা, ৫) হিজাবা, ৬) সেকায়া, ৭) ইমারাতুল বাইত, ৮) ইফাদা, ৯) ইজাজাহ, ১০) নসি, ১১) কুব্বা, ১২) আন্নাহ, ১৩) রিফাদাহ, ১৪) আমওয়ালে মাহজরা, ১৫) ইসার, ১৬) এশনাক, ১৭) হুকুমাহ, ১৮) সেফারা, ১৯) ইকাব, ২০) বুয়া এবং ২১) হিলওয়া নুন নফর।

মদিনা সনদের গুরুত্ব : অন্যদিকে জনমত ও ন্যূনতম মানবিক মূল্যবোধে শান্তির লক্ষ্যে ৪৭টি শর্ত সংবলিত মদিনা সনদের ভিত্তিতে প্রিয় নবী (সা.) ‘ইসলামী রাষ্ট্রদর্শন’-এর  সূত্রপাত করেন। ‘মদিনা সনদ’ হলো সংস্কৃতির Social contract, মানব-ইতিহাসের প্রথম Written  constitution। মদিনা সনদের প্রধান লক্ষ্য ছিল ‘Peace & Submission’ (শান্তি ও আনুগত্য-আত্মসমর্পণ)।

ফলে প্রিয় নবী (সা.) গোত্রপ্রধান শাসিত ১০/১১ লাখ বর্গমাইলের বেশি এলাকার ২৭৬টি দেশীয় রাজ্যকে একত্র করেন। তাঁর জীবদ্দশায়ই এ রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রায় ১৯ লাখ বর্গমাইল এলাকায় বিস্তৃত হয়।

প্রিয় নবী (সা.) তাঁর শাসনব্যবস্থা ১০টি প্রদেশে বিভক্ত করে নিয়োগ করেন : আল-ওয়ালি (গভর্নর), আল-আমিল (কর আদায়কারী), আল-কাজি (বিচারক)। কেন্দ্রীয় প্রশাসনে প্রিয় নবী (সা.)-এর প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন আবু বকর, ওমর, ওসমান ও আলী (রা.)।

খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা.) ছিলেন স্বরাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা বিভাগের প্রধান। স্বভাব কবি জায়েদ বিন সাবিত (রা.) ছিলেন প্রিয় নবী (সা.)-এর ব্যক্তিগত সচিব, প্রধান ওহি লেখক, রাষ্ট্রীয় পত্রলেখক, সভাকবি ও দোভাষী। হানজালা বিন আল রাবি ছিলেন প্রিয় নবী (সা.)-এর সিলমোহর ও প্রশাসনিক গোপন তথ্যাদির সংরক্ষক।

মহানবী (সা.)-এর মন্ত্রিসভার সদস্য : 

প্রিয় নবী (সা.)-এর মন্ত্রিসভায় অন্যতম সদস্যরা ছিলেন—

১. জাকাত ও সদকার সংরক্ষণ : জুবায়ের বিন আল আওয়াম এবং জুহায়ির বিন আল সালত (রা.)।

২. খেজুর বৃক্ষের কর : হুজায়ফা বিন আল ইয়ামান (রা.)।

৩. রাষ্ট্রীয় হিসাব সংরক্ষণ : মুয়ান কিব বিন আবী ফাতিমা (রা.)।

৪. বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগসূত্র রক্ষা : মুগিরা বিন শুবা ও হুসায়েন বিন নুমির (রা.)।

৫. সেচ ও আনসারদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় : আবদুল্লাহ বিন আকরাম এবং আল বিন উকবা (রা.)।

প্রিয় নবী (সা.)-এর গভর্নরবৃন্দ

১. হাজরামাউত : জিয়াদ বিন লাবিদ। ২. নাজরান : আলী বিন আবু তালিব। ৩. ইয়েমেন : মুয়াজ বিন জাবাল। ৪. আল জানাদ : ইয়ালা বিন উমাইয়া। ৫. বাহরাইন : আলবিন হাজরানি।

অন্যান্য প্রদেশ হলো : মক্কা, তায়মা, বনুকিন্দা অঞ্চল, ওমান প্রভৃতি। (সূত্র : মুসলিম প্রশাসন ব্যবস্থার ক্রমবিকাশ, অধ্যাপক ড. আলী আসগর খান প্রমুখ)।




এমপি-ওসি সেজে সরকারি দপ্তরে ফোন করে গালমন্দ, টাকা দাবি

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী: পটুয়াখালীর দশমিনায় ওসির নাম ভাঙিয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে হুমকি-ধমকি দিয়ে টাকা দাবি করছে প্রতারক চক্র। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে করা হচ্ছে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ।

অন্যদিকে পটুয়াখালী-৩ আসনের এমপি এসএম শাহজাদার পরিচয় দিয়ে হজে নেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কাছে মোটা টাকা দাবি করা হচ্ছে। অনেকে প্রভাবিত হয়ে প্রতারক চক্রের বিকাশ বা নগদে পাঠিয়ে দিচ্ছেন টাকাও। পরে প্রতারক চক্রের সেসব নাম্বারে ভুক্তভোগী ফোন দিলে পাচ্ছেন বন্ধ বা হুমকি-ধমকি।

তবে এমপি বলছেন, প্রতি বছরই এমন ঘটনা ঘটছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসে কর্মরত সুজানা বলেন, দশমিনা থানার ওসি পরিচয় দিয়ে তাকে ফোন করে টাকা দাবি করা হয়।
একই অফিসের মো. বশির বলেন, নগদের ২০ হাজার টাকার একটি ভুয়া ম্যাসেজ তার ফোনে পাঠিয়ে ওসি পরিচয় দিয়ে তাকে ফোন করা হয়। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাকে তুইতুকারি করে ২০ হাজার টাকা ফেরত চেয়ে গালমন্দ করা হয়।
তিনি বলেন, একইভাবে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ফোন করে একইভাবে হুমকি-ধমকি ও গালমন্দ করা হচ্ছে।

দশমিনা থানার ওসি মো. নূরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, একটি নম্বর থেকে প্রতারক চক্র ফোন করে টাকা দাবি করছে। একজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। থানায় একটি ডায়েরি হয়েছে এবং প্রতারককে ধরার চেষ্টা চলছে। তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার আহবান জানান।

এমপি এসএম শাহজাদা বলেন, আমার নাম ভাঙিয়ে শিক্ষকদের ফোন করে হজে নেওয়ার কথা বলে টাকা দাবি করা হচ্ছে। প্রায় প্রতি বছরই প্রতারকরা এমন ঘটনা ঘটাচ্ছেন। তিনি সবাইকে সতর্ক এবং কাউকে টাকা না দেওয়ার অনুরোধ জানান।




কুয়াকাটায় বিদ্যালয় ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের মুসুল্লীয়াবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। স্কুল নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় কাজ বন্ধ করে দিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) স্কুল কর্তৃপক্ষ কাজ পরিদর্শনের সময় অনিয়ম দেখে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

জানা গেছে, ঢালাইয়ের কাজে পরিমাণের কম সিমেন্ট ব্যবহার, উন্নতমানের খোয়ার পরিবর্তে রাবিশ ব্যবহার করা,মাটি-বালির উপরে বেইজ ঢালাই, বেশ কিছু স্থানে পরিমাণের কম রড ব্যবহার করেছে নির্মাণাধীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আল-মদিনা মটরস। তাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে স্কুল ম্যানেজিং কমিটি নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়।

কাজ বন্ধের খবর শুনে ঘটনাস্থলে আসেন  জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের দায়িত্বে থাকা মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার মো. সোহেল।

স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সহ-সভাপতি মো. হযরত আলী বলেন, এই ওয়াশ ব্লকের নির্মাণ কাজের শুরু থেকে তারা অনিয়ম করে আসছে। আমরা যখন আসি তখন ভালো করে কাজ করে। চলে গেলেই অনিয়ম শুরু করে। তারা দিনের পরিবর্তে রাতে ঢালাই করে। এসব করে মূলত অনিয়ম করার জন্য।

মুসুল্লীয়াবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইউনুস হাসান জানান, সিডিউল অনুযায়ী কাজ করছে না ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিশুদের জন্য নির্মিত ভবন তৈরীতে অনিয়ম মেনে নেওয়া যায় না।

এ কাজের দায়িত্বে থাকা মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার মো. সোহেল জানায়, স্কুল কর্তৃপক্ষ যে অভিযোগ করেছে তার সত্যতা পাওয়া গেছে। আমি বিষয়টি নিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আল-মদিনা মটরসের দায়িত্বে থাকা মো.আজিজ জানান, এই উপজেলায় আমার অনেকগুলো কাজ চলমান। তাই বিভিন্ন জায়গায় যেতে হয়। রড কম দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগের  বিষয়গুলো আমার অজান্তে ঘটেছে। আমরা এটা সংশোধন করে নিব।

কলাপাড়া উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. জিহাদ হোসাইন জানান, আমি একটু অসুস্থ তাই ডাক্তার দেখাতে এসেছি। সে কারণে এই সমস্যাটা হয়েছে। আমি থাকলে এরকম ভুল হতো না। আমি জানার পর সংশোধন করার জন্য নির্দেশ দিয়েছি।




বাউফলে শাশুড়িকে মারধরের ঘটনায় জামাই গ্রেপ্তার

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর বাউফলে মাদক সেবনের প্রতিবাদ করায় শাশুড়িকে হাত-পা বেঁধে মারধর করে জামাই ফয়সাল।

এ ঘটনায় শ্বশুরের দায়ের করা মামলায় জামাই মো. ফয়সাল হোসেন (২৮)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গতকাল সকালে তাকে পটুয়াখালী আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ফয়সাল কাগুজিরপুর এলাকার জয়নাল আবেদিনের ছেলে।

জানা গেছে, বিয়ের পর থেকেই মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে ফয়সাল। এ নিয়ে প্রায়ই ফয়সাল ও তার স্ত্রী আঁখি বেগমের মধ্যে ঝগড়াঝাটি হতো। ফয়সালের এই মাদকসেবনে প্রতিবাদ করে শাশুড়ি নাসিমা বেগম। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে গত সোমবার দুপুর ১২টার দিকে শাশুড়িকে মারধর করেন ফয়সাল। এ ঘটনায় ওইদিন রাতে শ্বশুর রফিক হাওলাদার বাদী ফয়সালসহ চার ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে গত সোমবার রাত ৯টার দিকে স্থানীয়রা ফয়সালকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শোনিত কুমার গায়েন বলেন, ফয়সালকে গ্রেপ্তার করে গতকাল সকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।