বরিশালে অবৈধ ইটভাটা গুঁড়িয়ে দিল ভ্রাম্যমান আদালত

বরিশাল অফিস :: বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় কলসকাঠী ইউনিয়নের পূর্ব বাগদিয়া গ্রামে সকাল ১১ টায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অবৈধ ড্রাম চিমনি ইটভাটার বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়েছে।

হাইকোর্টের নির্দেশ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সোমবার (২৯ জানুয়ারি) উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সরকারি কমিশনার (ভূমি) ম্যাজিস্ট্রেট সানজিদা রিকতা।

অবৈধ ইটভাটা বিরোধী অভিযানে পূর্ব বাগদিয়া গ্রামের পান্ডব নদীর তীরে গড়ে ওঠা অবৈধ ড্রাম চিমনি ইটভাটাবএ ওয়ান ব্রীকস, বঙ্গ ব্রিকস ও মৃধা ব্রীকস ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়। এসময় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনায় সঙ্গে থাকা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কাচাঁ ইট পানি দিয়ে নষ্ট করে দেয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ তিন ইটভাটাকে ১০ হাজার টাকা করে মোট ৩০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন। ভ্রাম্যমান অভিযান পরিচালনায় সহযোগিতা করেন বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশের একটি টিম। অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানায় বাকেরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন।




বরিশালের হত্যা মামলার আসামি ঢাকায় গ্রেপ্তার

বরিশাল অফিস :: বরিশালের মুলাদী এলাকার আকবর হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি দিদার বেপারীকে (৩২) গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-১০।

সোমবার র‌্যাব-১০ এর উপপরিচালক আমিনুল ইসলাম দৈনিক বাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তারের আগে তিনি দীর্ঘ ৬ বছর যাবৎ পলাতক ছিলেন। গতকাল রোববার রাত সোয়া ১০টার দিকে তাকে রাজধানীর গেন্ডারিয়ার মিলব্যারাক এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব-১০ এর উপপরিচালক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘গোয়েন্দা তথ্যে রোববার রাতে গেন্ডারিয়ার মিলব্যারাক এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে বরিশাল জেলার মুলাদী এলাকার আকবর হাওলাদার হত্যা মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি দিদার বেপারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি দীর্ঘ ৬ বছর পলাতক থাকার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিকি জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দিদার বেপারী ওই মামলার পলাতক আসামি বলে স্বীকার করেছেন। মামলা হওয়ার পর থেকে তিনি গেন্ডারিয়াসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন।’

গ্রেপ্তার আসামিকে সংশ্লিস্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান এই র‌্যাব কর্মকর্তা।




অনাগত শিশুর লিঙ্গ প্রকাশ করা যাবে না, হাইকোর্টে নীতিমালা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  মাতৃগর্ভে থাকা সন্তানের লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ করা যাবে না জানিয়ে নতুন নীতিমালা করে হাইকোর্টে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এতে বলা হয়েছে, হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও চিকিৎসকসহ সবাইকে এ নীতিমালা মানতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, অনাগত শিশুর লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ করা যাবে না মর্মে নীতিমালা করে ছয় মাস আগে জমা দেওয়া হয়েছিল। মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) হাইকোর্টে এ বিষয়ে শুনানি রয়েছে।

জানা যায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যার পরিচালক ডা. তাহমিনা সুলতানা এ প্রতিবেদন জমা দেন। এর আগে ২০২০ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি মাতৃগর্ভে থাকাকালীন অবস্থায় শিশুর লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ কেন অবৈধ নয় জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট। একই বছরের ২৬ জানুয়ারি এ বিষয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়।

স্বাস্থ্য সচিব, নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ও সমাজ কল্যাণ সচিবকে এ নোটিশ পাঠান অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান। নোটিশে তাদের তিন দিনের মধ্যে সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে মাতৃগর্ভের শিশুর লিঙ্গ পরিচয় জানার উদ্দেশ্যে পরীক্ষা-লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ বন্ধ করতে নির্দেশনা জারি করতে বলা হয়।

এ বিষয়ে আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, আমাদের দেশে এখনো বেশির ভাগ মানুষের ছেলে সন্তানই আশা করেন। কারণ তারা মনে করেন, ছেলেরা বংশের ধারক, তারা আয় করে, বেশি শক্তিশালী। এমন কি অনেক নারীও মনে করে ছেলে সন্তান তাদের ভবিষ্যতের সুরক্ষা দেবে। এ অবস্থায় যদি পরীক্ষার মাধ্যমে গর্ভে থাকা সন্তানের লিঙ্গ পরিচয় জানা যায় এবং তা মা-বাবার কাঙ্ক্ষিত না হলে গর্ভবতী মায়ের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার ওপর প্রভাব ফেলে। মা যদি হতাশায় ভোগেন, তবে বাচ্চার মস্তিষ্ক গঠন /বিকাশ সঠিকভাবে হয় না। চীন-ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গর্ভে থাকা সন্তানের লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাই বাংলাদেশে নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিতে গর্ভে থাকা শিশুদের লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ বন্ধ হওয়া জরুরি।

তিনি বলেন, গর্ভবতী মা ও শিশুর কল্যাণের জন্য বা অনাগত সন্তানের সুস্থতা জানতে তারা যেকোনো পরীক্ষা করতেই পারেন। কিন্তু শুধু পেটে থাকা সন্তান ছেলে না মেয়ে তা জানার উদ্দেশ্যে ডাক্তারি পরীক্ষা বা রিপোর্টে লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ কোনোভাবেই কাম্য নয়।

মাতৃগর্ভের সন্তানের লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ করা সম্পর্কে এর আগেই আইনে নিষেধ করা হয়। তবে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সোমবার থেকে এটি তাদের নতুন নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করলো।




দ্বাদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন বসছে কাল

চন্দ্রদীপ অন লাইন : একাদশ জাতীয় সংসদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আজ সোমবার (২৯ জানুয়ারি)। আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে শুরু হবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা। এদিন বিকাল ৩টায় বসবে সংসদের প্রথম অধিবেশন।

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে টানা চতুর্থবারের মতো রকার গঠন করেছে আওয়ামী লীগ। একাদশ সংসদের মতো এবারও স্পিকার হিসেবে ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও ডেপুটি স্পিকার পদে শামসুল হক টুকুকে মনোনীত করেছে দলটি। সংসদে আওয়ামী লীগের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় এবারও ভোটে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ও ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকুই বিজয়ী হবেন।

প্রথম অধিবেশনে নির্বাচিত করা হবে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার। এরপর ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। প্রথম অধিবেশনের জন্য সব প্রস্তুতি শেষ করেছে সংসদ সচিবালয়। এরইমধ্যে সংসদ নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আর উপনেতা মতিয়া চৌধুরী। বিরোধী দলীয় নেতা হয়েছেন জাতীয় পার্টির জি এম কাদের ও উপনেতা আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।

দ্বাদশ সংসদে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ২২৩ জন, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ৬২ জন, জাতীয় পার্টির ১১ জন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের একজন, ওয়ার্কার্স পার্টির একজন ও কল্যাণ পার্টির একজন সংসদ সদস্য আছেন।




বরিশালে পাঁচ জাটকা ব্যবসায়ীকে জরিমানা

বরিশাল অফিস :: বরিশাল নগরীতে অভিযান চালিয়ে ৬০ কেজি জাটকা ইলিশ জব্দসহ ৫ খুচরা ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে মোট ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন বিচারক মারজানুর রহমান।

জেলা মৎস্য অধিদফতরের উদ্যোগে রোববার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে নগরীর রূপাতলী হাউজিং এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে জব্দ করা মাছ স্থানীয় এতিমখানায় বিতরণ করা হয়।

অর্থদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন- বরিশাল সদর উপজেলার চন্দ্রমোহন এলাকার কাজল হাওলাদার, একই এলাকার রিয়াজ সরদার, বরিশাল সদর উপজেলার টুঙ্গীবাড়িয়া এলাকার মো. শাওন হাওলাদার ও চন্দ্রমোহন এলাকার মো. দেলোয়ার হোসেন ও নগরীর বেলতলা এলাকার মিলন হোসেন।

বরিশাল সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিমল চন্দ্র দাস জানান, অভিযানে পাঁচ ভ্রাম্যমাণ খুচরা ব্যবসায়ীকে জাটকা মাছসহ আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে ৬০ কেজি জাটকা ইলিশ উদ্ধার করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কান্তি ঘোষ, নৌ পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার দ্বীন এ আলম ও বরিশাল সদর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল জলিল।




আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ড. ইউনূসের জামিন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ৪ আসামির জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাদের জামিন দিয়েছেন শ্রম আপিলেট ট্রাইব্যুনাল।

রোববার (২৮ জানুয়ারি) সংশ্লিষ্ট আপিল ট্রাইব্যুনালে শ্রম আইন লঙ্ঘন মামলার ৬ মাসের দণ্ড দিয়ে রায় বাতিল ও সাজা থেকে খালাস দিতে ২৫ যুক্তিতে আপিল আবেদন করেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ তাদের আইনজীবী।

এ বিষয়ে সকালে আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন  জানান, গত ২৪ জানুয়ারি দেশে ফিরেছেন ড. ইউনূস। খালাস চেয়ে আপিল করবেন আজ।

এর আগে, শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে করা মামলায় নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ চারজনকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছিলেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। রায়ে গ্রামীণ টেলিকমের সব শ্রমিককে তাদের ন্যায্য পাওনা ৩০ দিনের মধ্যে দিতে বলা হয়েছে।

শ্রম আইনের ৩০৩ (ঙ) ধারায় সর্বোচ্চ ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ১০ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অন্যদিকে, ৩০৭ ধারায় ২৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেন আদালত।

চলতি বছরের শুরুর দিন ১ জানুয়ারি রায়ের জন্য ধার্য দিনে ঢাকার শ্রম আদালত-৩ এর বিচারক বেগম শেখ মেরিনা সুলতানা এ রায় ঘোষণা করেন। এরপর আসামিপক্ষ আপিলের শর্তে জামিন আবেদন করেন। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে পাঁচ হাজার টাকা বন্ডে এক মাসের জন্য জামিন দেন।

এই সময়ের মধ্যে শ্রমিকদের ক্ষেত্রে আইন লঙ্ঘন করে যেসব সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, তা বিধি সংশোধন করে সেসব সুবিধা প্রদান করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।




বাউফলে ভুয়া নামজারি: জমির প্রকৃত মালিকদের হয়রানি করা হচ্ছে

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী:  বাউফলের দাসপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের দেয়া ভুয়া ওয়ারিশ সার্টিফিকেট দিয়ে কয়েক লাখ টাকার জমি নামজারি করিয়ে কয়েকটি পরিবারকে বাড়ি ছাড়া করার পায়তারা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে আবেদন করেও কোনো সুফল পায়নি ওই পরিবারগুলো। অনৈতিকভাবে চেয়ারম্যানের দেয়া ভুয়া ওয়ারিশ এবং সহকারী কমিশনারের একগুয়েমির কারণেই হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ জানান ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়নের খাজুরবাড়িয়া গ্রামের ১২২ নম্বর জেএলের ১২১৯ খতিয়ানের ৬৬০৪, ৭৩৪৬ ও ৭৩৪৭ এবং ১২২০ খতিয়ানের ৬৬০১, ৬৬০৪, ৬৬০৮ এবং ৬৬২৪ নম্বর দাগের মোট ৫.৭৮ একর জমির পৈত্রিক মালিক যথাক্রমে গোকুল মন্ডল, সুধন্য মন্ডল, তপন মন্ডল এবং সুদেব মন্ডল। সিএস, আরএস এবং এসএ খতিয়ানেও তাদের রেকর্ড ঠিক রয়েছে। সহজ-সরল প্রকৃতির ওই পরিবারগুলো পূর্বপুরুষ থেকে ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন। ওই বাড়িতে ওকরাইত হিসেবে বসবাস করা সুবল মিস্ত্রি গংরা গোপণে ওই বাড়ির মালিক দাবি করে ২০২৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ইউপি চেয়ারম্যান এম এন জাহাঙ্গীর হোসাইনকে দালালদের মাধ্যমে ভুল বুঝিয়ে এবং অনৈতিক সুবিধা দিয়ে ওয়ারিশ সার্টিফিকেট নিয়ে ২০২৩ সালের ১৬ মে বাউফলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. বায়েজেদুর রহমানের মাধ্যমে নামজারি করিয়ে ২০২৭ নম্বর নতুন একটি খতিয়ান খোলেন। এরপর জমি দখল করতে গেলে ভুয়া ওয়ারিশ সার্টিফিকেটের কথা জানাজানি হয়।

এরপর প্রকৃত মালিকরা নামজারি বাতিল চেয়ে সহকারী কমিশনার প্রতীক কুমার কুন্ডুর কাছে আবেদন করলে তিনি কালাইয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা মো. হামিদুল হক বাচ্চুকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিলে ওই কর্মকর্তা তদন্ত করে সুবল গংরা চেয়ারম্যানকে ভুল বুঝিয়ে ভুয়া ওয়ারিশ সার্টিফিকেট নিয়েছেন এবং সেই সার্টিফিকেট দিয়ে প্রতারণা করে নামজারি করে ২০২৩ সালের ৮ নভেম্বর প্রতিবেদন দাখিল করেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে সুস্পষ্ট মিথ্যা ও প্রতারণা করে নামজারি করেছেন উল্লেখ থাকলেও সহকারী কমিশনার (ভূমি) পূর্বের সহকারী কমিশনারের আদেশ বহাল রাখেন। এ ঘটনায় আবেদনকারীদের পরিবারসহ এলাকার সাধারণ মানুষ হতভম্ব হয়ে যান।

একটি সূত্র জানায়, বাউফল পৌর শহরের বিএনপির এক প্রভাশালী নেতা কর্তৃক সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতীক কুমার কুন্ডু প্রভাবিত হয়ে ওই রায় দিয়েছেন। এদিকে চেয়ারম্যান কর্তৃক প্রদত্ত মিথ্যা ওয়ারিশ সার্টিফিকেট বাতিল করে প্রকৃত মালিকদের ওয়ারিশ সার্টিফিকেট দেয়ার জন্য এলাকার গণ্যমান্য ও বয়োজ্যেষ্ঠরা চেয়ারম্যান এম এন জাহাঙ্গীরের কাছে লিখিত অনুরোধ করলেও তিনি কর্ণপাত করছেন না।

ভুক্তভোগী সুদেব মন্ডল গংরা জানান, আমরা নিজ ভূমিতে পরবাস হয়ে পড়েছি। আমরা ঠিকমতো খেতেও পারি না। চেয়ারম্যানের কাছে ওয়ারিশ সার্টিফিকেটের জন্য বহুদিন ঘুরেছি। চেয়ারম্যানের দালালরা ওয়ারিশ সার্টিফিকেটের জন্য কয়েক লাখ টাকা দাবি করছেন। চেয়ারম্যান ও ভূমি অফিস যোগসাজস করে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।

বিষয়টি সম্পর্কে চেয়ারম্যান এম এন জাহাঙ্গীর জানান, আমাকে ভুল বুঝিয়ে সুবল গংরা ওয়ারিশ সার্টিফিকেট নিয়েছে। আমি ওই ওয়ারিশ সার্টিফিকেট বাতিল করে দেব। প্রকৃত জমির মালিকদেরকে ওয়ারিশ সার্টিফিকেট দিচ্ছেন না কেন এমন প্রশ্ন করা হলে, দেখছি বলে জানান। ওয়ারিশ সার্টিফিকেটের জন্য আমি কোনো টাকা-পয়সা চাইনি। কেউ দাবি করলে সেটার দায়দায়িত্ব আমার না।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতীক কুমার কুন্ড জানান, আবেদনকারীরা কোনো ওয়ারিশ সার্টিফিকেট দেখাতে পারেনি। তাই পূর্বের আদেশ বহাল রেখেছি। আপনার অফিসেরই ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা প্রতারণা করে ভুয়া ওয়ারিশ সাটিফিকেট নিয়েছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন।
সেই প্রতিবেদনের আলোকে কি আপনি পূর্বের আদেশ বহাল রাখতে পারেন? এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

উল্লেখ্য, বাউফলের সাধারণ মানুষ কিছু চেয়ারম্যানদের থেকে ওয়ারিশ সার্টিফিকেট নেয়া থেকে শুরু করে ভূমি কর দেয়া, নামজারি করাসহ অন্য কাজে ভূমি অফিসের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। বাউফলের ভূমি অফিস দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে বলে সাধারণ মানুষ অভিযোগ করেন।




ভুয়া সার্টিফিকেটে ও ভোটার নিবন্ধন করে চাকরি, নারীর বিরুদ্ধে মামলা

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী : পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার মোসা. লাকী আক্তার নামের এক নারী নাম পরিবর্তন করে দুই বার ভোটার নিবন্ধন করেছেন। অন্যের সার্টিফিকেট দিয়ে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের পরিবার কল্যাণ সহকারী হিসেবে নিয়েছেন চাকরি।

ওই নারীর পৃথক নাম ব্যবহার করে ভোটার নিবন্ধনের প্রমাণ পেয়েছে নির্বাচন অফিস।

পরে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে বাউফল উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আরিফুর রহমান বাদি হয়ে ১১ জানুয়ারি বাউফল থানায় ওই নারীর বিরুদ্ধে মামলা করেন।

মোসা. লাকী আক্তার পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার কাছিপাড়া ইউনিয়ন পাকডাল গ্রামের মো. আলী আজম হাওলাদারে মেয়ে।

নির্বাচন অফিস ও মামলা সূত্রে জানা যায়, মোসা. লাকী আক্তার ২০০৭ সালে প্রথম ভোটার নিবন্ধন করেছেন। তাতে দেখা যায় পিতা মো. আলী আজম হাওলাদার, মাতা মোসা. শাহানারা বেগম, স্বামী মো. হাবিবুর রহমান। পেশায় গৃহিনী, শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি পাস। জন্ম তারিখ ০১/০২/১৯৮৭ ইং। গ্রাম পাকডাল, ইউনিয়ন কাছিপাড়া, উপজেলা বাউফল এবং জেলা পটুয়াখালী।

পরে সামিয়া নামের একজনের সার্টিফিকেট দিয়ে সরকারি চাকরি নেন লাকী আক্তার। ২০১৭ সালের ২০ আগস্ট সব তথ্য গোপন করে সামিয়া নামে পুনরায় ভোটার নিবন্ধন করেন তিনি। এতে উল্লেখ করা হয়, তার পিতা আলী আহমেদ, মাতা মৃত হেলেনা বেগম, স্বামী মো. হবিবুর রহমান। পেশা গৃহিনী, শিক্ষাগত যোগ্যতা মাধ্যমিক, জন্ম তারিখ ০১/০২/১৯৯৭ ইং। গ্রাম পাকডাল, ইউনিয়ন কাছিপাড়া, উপজেলা বাউফল এবং জেলা পটুয়াখালী।

বাউফল উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আরিফুর রহমান জানান, নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ফিঙ্গার প্রিন্ট ক্রস গ্রুপ ম্যাচ যাচাইয়ে মোসা. লাকী আক্তার/ সামিয়া দ্বৈত ভোটার হিসেবে শনাক্ত হন। তদন্ত প্রতিবেদনটি জেলা জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কর্মকর্তা নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠান।
প্রতিবেদনে বিবাদী নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে ২০২১ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর চিঠি দিয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর প্রেক্ষিতে ১১ জানুয়ারি বাউফল থানায় মামলা হয়েছে।

এ ঘটনার ব্যাপারে জানতে লাকী আক্তারের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার স্বজনরা জানান, চাকরির জন্য মোসা. লাকী আক্তার বয়স কমিয়ে এবং নাম পরিবর্তন করে সামিয়া রেখেছেন। ওই নামে দ্বিতীয় বার ভোটার হন ২০১৭ সালে। সামিয়া বাউফল কাছিপাড়ার পাকডাল (২ ইউনিট) পরিবার কল্যাণ সহকারী হিসেবে চাকরি নিয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, লাকী পলাতক রয়েছে। কাছিপাড়া পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক মো. সাইফুদ্দিন আহমেদ জানান, তিনি এখানে সামিয়া নামে চাকরি করতেন। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে মামলা হয়েছে। মামলা দায়েরের দিন থেকেই তিনি কর্মস্থলে অনুপুস্থিত রয়েছেন।

বাউফল উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জাকির হোসেন জানান, লাকী আক্তার কর্মস্থলে যোগদান করেন বলে তার স্বামী হবিবুর রহমান তাকে জানিয়েছেন।

পটুয়াখালী জেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের উপ-পরিচালক ড. জসিম উদ্দিন মুকুল বলেন, ঘটনা জানার পর তাকে শোকজ নোটিস দেওয়া হয়েছে। জবাব পেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমআর শওকত আনোয়ার ইসলাম জানান, মামলার তদন্ত কাজ চলছে।




দশমিনায় গরীবের সরকারি চালে উকিল, ব্যবসায়ী, চালের ডিলারের ভাগ!

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালী জেলার দশমিনায় গ্রামীণ নারীদের চরম দরিদ্র অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকারি সহায়তা কর্মসূচির আওতায় অসচ্ছল, বিধবা, তালাকপ্রাপ্তদের দুই বছর মেয়াদে মাসে ৩০ কেজি চাল দেওয়ার চূড়ান্ত তালিকায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভিডব্লিউবি চূড়ান্ত তালিকা অনুমোদন আটকে দিয়েছেন।

বিষয়টি অধিকতর তদন্তের জন্য উপজেলা প্রশাসনের নিজস্ব ফেজবুক পেজে ৭টি ইউনিয়নের প্রায় ৫০০ নামের তালিকাও প্রকাশ করা হয়।

প্রকাশিত নামের তালিকা ধরে সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অসচ্ছলদের পরিবর্তে উকিল, ব্যবসায়ী, চালের ডিলার, সাংবাদিক এবং স্বচ্ছল পরিবারসহ প্রভাবশালীদের নাম ভিডব্লিউবি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

জানা যায়, প্রতি বছরের মতো ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দুঃস্থ মহিলা উন্নয়ন (ভিজিডি) কর্মসূচি ১ জানুয়ারি থেকে যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শুরু করে ইউনিয়ন পরিষদ। এ বছর মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ভিজিডি কার্যক্রমের নাম পরিবর্তন করে ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) করেছে। দশমিনা উপজেলায় ৭টি ইউনিয়নে মোট ৩ হাজার ৮৭২টি ভিডব্লিউবি কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়। ইউনিয়ন পরিষদ ৩ হাজার ৮৭২টি নাম যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত তালিকা করেন। পরে তা অনুমোদনের জন্য উপজেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়।

নিয়ম অনুযায়ী আগের বছর কোনো ব্যক্তি সুবিধা নিলে ও সচ্ছল কোনো পরিবার সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হবেন না। কিন্তু দশমিনায় বাস্তবে হয়েছে তার উল্টো। ওই তালিকায় উকিল, সাংবাদিক, জুয়েলারি ব্যবসায়ী এবং চালের ডিলারসহ প্রভাবশালী ও অধিকাংশ ধনী পরিবারের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রকৃত অসচ্ছল এবং দুঃস্থ নারীরা।

ভিডব্লিউবি তালিকায় অনিয়ম থাকায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার অনুমোদন না দিয়ে অধিকতর তদন্তের স্বার্থে আটকে দেয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া হলে এ নিয়ে আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠে।

সদর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রিপন কর্মকার বলেন, ‘কেউ মারা গেলে বা এলাকা ছেড়ে চলে গেলে তখন আমরা কী করবো। এ কারণে আমাদের অতিরিক্ত কিছু নাম অন্তর্ভুক্ত করতে হয়। তাই আমার ভাই এবং নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছি।’

দশমিনা সদর ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. ইকবাল মাহামুদ লিটন বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী যাচাই-বাছাই চূড়ান্ত করে অনুমোদনের জন্য উপজেলায় পাঠিয়েছি। এ তালিকায় এদের নাম আসলো কীভাবে, তা আমার বোধগম্য নয়।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন আল হেলাল বলেন, ‘পরিপত্র মেনে যাচাই-বাছাই করার বিষয়ে আমি জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টদের বলেছি। টাকা লেনদেনের বিষয়ে সতর্ক করেছি বিভিন্ন উঠান বৈঠকে ও সোশ্যাল মিডিয়ায়। তারপরও অনিয়মের বিষয়টি স্পষ্ট। আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি বঞ্চিতদের নেওয়া ও অযোগ্যদের বাদ দিতে। যারা অনিয়ম করেছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’




‘ওসি মহসীন’ সেজে ৭০০ নারীর সঙ্গে প্রতারণা যুবকের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  ‘প্রিন্টিং প্রেস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন (৩০)। পেশায় প্রেসের কর্মী হলেও স্থানীয়দের কাছে তিনি ‘ফেসবুক মাস্টার’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ অনলাইনের বিভিন্ন আইডির সমস্যা সমাধান করে ‘মাস্টার’ উপাধি পেয়েছেন।

আর এ যোগ্যতা কাজে লাগিয়ে অভিনব প্রতারণায় নামেন এই যুবক। ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপে পুলিশ কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা, মন্ত্রীসহ বিভিন্ন জনপ্রিয় ব্যক্তিদের নামে আইডি খুলে শতশত নারীদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে প্রতারণা করে আসছিলেন।

সম্প্রতি রাজধানীর তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীনের নামে ফেসবুক আইডি ও হোয়াটসঅ্যাপ খুলেন আনোয়ার। আর এর মাধ্যমে ৭৭১ নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেন। সবশেষ আপত্তিকর ছবি আদান-প্রদানের ঘটনায় বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী নারী থানায় এসে হাজির হন।

এতে ওসি মহসীন নিজে বাদী হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করেন। তদন্তে নেমে শুক্রবার গাইবান্ধার স্টেশন রোডের দাশ বেকারি মোড়ের ইসলাম প্রিন্টিং প্রেস নামের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে গ্রেফতার করা হয় আনোয়ারকে।

শনিবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) লিটন কুমার সাহা।

তিনি বলেন, আনোয়ার মাত্র পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করলেও ইন্টারনেট ঘেঁটে ফেসবুকসহ প্রযুক্তির বিভিন্ন বিষয়ে অভিজ্ঞ হয়ে ওঠেন। এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ব্যক্তি, মন্ত্রী, পুলিশ কর্মকর্তা, জনপ্রিয় ব্যক্তিদের ছবি ব্যবহার করে তাদের নামে ফেসবুক আইডি খুলত। এরপর বিভিন্ন নারীদের টার্গেট করে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করত। তাদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে আপত্তিকর ছবিসহ টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিত।

ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার আরও বলেন, আনোয়ারকে গ্রেফতারের পর তার কম্পিউটার ও মোবাইলে রাষ্ট্রপতি, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও খনিজ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, তেজগাঁও থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন, চিত্রনায়ক শান্ত খান, অভিনেতা ও মডেল আব্দুন নুর সজল, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নামে ফেসবুক আইডি পাওয়া যায়। এরমধ্যে কয়েকটি আইডি ডিজেবল পেলেও বাকিগুলো সচল অবস্থায় ছিল।

তিনি বলেন, আনোয়ার কখনো ওসি, কখনো নায়ক, কখনো জনপ্রতিনিধি সেজে প্রতারণা করতেন। ভুয়া আইডি খুলে এ পর্যন্ত তিনি ৭০০ এর বেশি নারীর সঙ্গে কথা বলতেন। শিক্ষার্থী, গৃহিণী, প্রবাসী, মডেল সবাই আছেন এ তালিকায়। ম্যাসেঞ্জারে কথা বলার পর হোয়াটসঅ্যাপেও তাদের সঙ্গে কথা বলতেন। কথা বললেও কারো সঙ্গে ভিডিও কলে আসতেন না তিনি।

আবার কেউ তাকে দেখতে চাইলে কিংবা সন্দেহ করলে সঙ্গে সঙ্গে ব্লক দেন আনোয়ার। তিনি মূলত মেয়েদের সঙ্গে আপত্তিকর কথাবার্তা বলতেন। তাদের মধ্যে কারো কারো সঙ্গে ছবিও আদান-প্রদান করেন। আবার কারও কারও কাছে টাকাও দাবি করেন।

এ বিষয়ে মামলার বাদী তেজগাঁও থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, গ্রেফতার আনোয়ারের ডিভাইস বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ৭৭১ নারীর সঙ্গে ‘ওসি মহসীন’ সেজে তিনি চ্যাটিং করেছেন। এটি পুলিশের জন্য মানহানিকর, ব্যক্তি মহসীনের জন্যও মানহানিকর।

তিনি বলেন, চ্যাটিংয়ে বিভিন্ন নারী ওসি মহসীন ভেবে সহযোগিতার জন্য নক করেছিলেন। আর আনোয়ার তাদের সঙ্গে প্রথমে ভালোভাবে কথা বলেন। এরপর ধীরে ধীরে অশ্লীলভাবে চ্যাটিং করেন। অনেক নারী সন্দেহ হরে লিখেছেন, ‘আপনি ওসি মহসীন তো’। অনেকেই আনোয়ারের কথার প্রতিবাদও করেছেন চ্যাটিংয়ে।