রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থায় বিব্রত পটুয়াখালীর সাংসদ

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): রাস্তাঘাটের অবস্থা খারাপ থাকায় নির্বাচনের সময়ে ভোট চাইতে গিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছিলেন  সাংসদ এস এম শাহজাদা।

জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সম্পূরক প্রশ্ন করতে গিয়ে পটুয়াখালী-৩ আসনের এই সংসদ সদস্য এসব কথা বলেন।

সম্পূরক প্রশ্নে এস এম শাহজাদা বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে অনেক উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু টেন্ডার হওয়ার পর থেকে অনেকগুলো কাজ দীর্ঘদিন ধরে অর্ধসমাপ্ত হয়ে আছে। অবস্থাটা এখন এমন হয়েছে যে, ওই রাস্তায় কাজ না ধরলেই ভালো হতো। কাজগুলো থেমে থাকার কারণে জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীকে বার বার তাগাদা দেওয়ার পরও হচ্ছে না। এ জন্য নির্বাচনের সময় ভোট চাইতে গিয়ে অনেক বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছিল।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। জবাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, “বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতার কারণে নির্মাণ সামগ্রীর দাম অনেকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে যেসব কাজে ঠিকাদাররা অংশ নিয়েছিল, পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ঠিকাদাররা কাজ করতে অনীহা প্রকাশ করেছে। আমরা বাস্তবতা উপলব্ধি করে প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নিয়ে এ সমস্ত উপকরণের দাম বৃদ্ধি করি।

“যেহেতু আমাদের আইনগত বাধ্যবাধকতা আছে তাই যে কাজগুলো ঠিকাদাররা বাস্তবায়ন করবেন না সেগুলোর ক্ষেত্রে নতুন টেন্ডার করা ছাড়া আমাদের বিকল্প নেই। এ প্রক্রিয়াটি করতে গিয়ে আমাদের সময়ক্ষেপণ হচ্ছে।”

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, “আমার নির্বাচনী এলাকাসহ অনেক এলাকায় ঠিকাদাররা কাজ পেয়েছিল, কিন্তু বাস্তবায়ন করতে পারেননি, তাদের এ সমস্ত কাজ বাতিল করে নতুন করে ঠিকাদার নিয়োগ করে সেগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।”




বন্ধুরা কিছু বুঝতে পারার আগেই লাপাত্তা ‘বড় ব্যবসায়ী’

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালী শহরের মো. মেহেদী হাসান রাহাত নিজেকে একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের হেড অব অ্যাডভার্টাইজার ও একপোর্ট – ইমপোর্ট ব্যবসায়ী বলে পরিচয় দিতেন। একটি মোবাইল কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি হলেও তিনি মূলত বড় ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে বন্ধুদের ফাঁদে ফেলেছেন। আর এভাবে তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়েছেন তিনি।

তার বিরুদ্ধে সম্প্রতি পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে মামলা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রতারণার শিকার মেহেদী হাসানের দুই বন্ধু আবু সাঈদ খান ও মো.মশিউর রহমান মামলাটি দায়ের করেছেন।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, মেহেদী বলেছিলেন তার ব্যবসায় বিনিয়োগ করলে সবাইকে টাকার অনুপাতে লভ্যাংশ দেওয়া হবে।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, মেহেদী তার বন্ধু আবু সাঈদ খানের কাছ থেকে গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত ধাপে ধাপে ব্যাংকের মাধ্যমে ৩০ লাখ টাকা নেন। এ ছাড়া মশিউর রহমানের কাছ থেকে গত বছরের ৩১ অক্টোবর ১ লাখ টাকা নেন।

আবু সাঈদ খান বলেন, বন্ধু হিসেবে আমাদের সাথে সম্পর্ক করে ব্যবসার কথা বলে বিভিন্ন ভাবে আমার কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা নিয়েছে মেহেদী। ওর আচরণ ও ব্যবহারে মনে হয়নি সে এত বড় প্রতারক। এখন আমি নিঃস্ব হয়ে আদালতের মুখোমুখি হয়েছি।




বরিশালে মাংস বিক্রির দোকানে কুকুর জবাই

বরিশাল অফিস :: বরিশালে মাংস বিক্রির দোকানে কুকুর জবাই করার অভিযোগ উঠেছে। নগরীর বটতলা বাজারে একটি মাংস বিক্রির দোকানে এ ঘটনা ঘটে। তবে জবাইকৃত কুকুর মাংস হিসাবে বিক্রির আগেই স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়ায় ভয়ে পালিয়েছেন রায়হান মোল্লা নামের অভিযুক্ত যুবক। তিনি বটতলা এলাকার বাসিন্দা। সে বাজারের মাংস বিক্রেতাদের কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন।

বটতলার আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন, রবিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকালে বটতলা বাজারের মাংস বিক্রির দোকানের পেছনে নিয়ে মাংস কাটার রামদা দিয়ে কুকুরটিকে জবাইয়ের চেষ্টা চালায় রায়হান। একপর্যায়ে কুকুরটি তার হাত থেকে রক্ষা পেতে দৌড়ে পালিয়ে যায়। এ সময় কুকুরটির গলা থেকে রক্ত ঝরতে থাকে। বটতলা এলাকার অলিগলি দৌড়ে হালিমা খাতুন স্কুল সংলগ্ন এলাকার গলিতে গিয়ে কুকুরটি পড়ে যায়। এরপর অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ারের সদস্যরা এসে চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা চালায়। কিন্তু তার আগে কুকুরটি মারা যায়।

বরিশাল বটতলা পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই সাবু বিন ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় অভিযুক্ত রায়হানের বাসায় অভিযান চালানো হয়েছে। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে। কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

 




ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার ৪নং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে  হতদরিদ্রদের টাকা ও সদস্যদের সম্মানী আত্মসাৎতের অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান চেয়ারম্যান ও সচিবের বিরুদ্ধে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন সদস্যরা।

উপজেলার ৪ নম্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ লিটন ও সচিব মো. সহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ দাখিল করেন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য মোসা. সালমা বেগম, সদস্য মো. সেলিম মোল্লা, মো. হাবিব চৌকিদার, মো. হানিফ মৃধা, মো. অলিউল ইসলাম ও মো. কবির হোসেন।

অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, ইউপি ট্রেড লাইসেন্স, ট্যাক্স, পরিষদের স্টল ভাড়াসহ রাজস্ব থেকে বাৎসরিক আয় ১ কোটি টাকা। ২৪ মাস পর্যন্ত ইউপি সদস্যদের সম্মানী ভাতা ৪ হাজার ৬০০ টাকা হারে ছয়জনের পাওনা ৬ লাখ ৬২ হাজার ৪০০। এর মধ্যে ইউপি সদস্যদের ১০ হাজার টাকা করে ৬০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে। বাকি ৬ লাখ ২ হাজার ৪০০ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। জন্ম নিবন্ধন, মৃত্যু নিবন্ধন আবেদনে ও সার্টিফিকেটে সরকার নির্ধারিত ৫০ টাকা নেওয়ার বিধান থাকলেও ইউপি সচিব সহিদুল ইসলাম ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।
বিডব্লিউবি (ভিজিডি) ২০২৩–২৪ সালে নামের তালিকায় ওয়ার্ডভুক্ত সুবিধাভোগীদের তালিকা ইউপি সদস্যদের দিয়ে বাছাই না করিয়ে চেয়ারম্যান ও সচিবের অনুসারীদের দিয়ে করানো হয়েছে। এতে একই পরিবারে একাধিক সদস্য ও ধনাঢ্য পরিবারের নামও এসেছে।
ইউনিয়নে জেলেদের তালিকায় ১ হাজার ৮৩৫ জনের বিপরীতে ৪০ কেজি করে চাল বরাদ্দ। সে হিসাবে চার মাসে ১৬০ কেজি চাল দেওয়ার কথা। কিন্তু বিতরণ করা হয়েছে ১২০ কেজি।
হতদরিদ্রদের কর্মসূচি প্রকল্পের ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিভিন্ন রাস্তার কাজে চারটি প্রকল্প নেওয়া হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ৫০ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। ৩১৬ জন শ্রমিক দৈনিক ৪০০ টাকা হাজিরায় কাজ করার কথা থাকলেও চেয়ারম্যান ও সচিব জনৈক জাকিরের এস্ককাভেটর দিয়ে নামমাত্র কাজ করিয়ে প্রায় ৪০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ৩১৬ জন জন ভুয়া লোক দিয়ে সিম সংগ্রহ করে সচিবের কাছে সংরক্ষণ করে কৌশলে টাকা উত্তোলন করা হয়।

গত ২১ জানুয়ারি সকাল ১০টায় পরিষদের সচিব সহিদুল ইসলাম ইউপি সদস্যদের জরুরি সভা ডাকেন। সভার শুরুতে পূর্বে সভার বিবরণ ও বর্তমান সভার বিষয় এবং বকেয়া সম্মানী ভাতা চাইলে চেয়ারম্যান ইউপি সদস্যদের বরখাস্ত করার হুমকি দেন।

অভিযোগের বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ লিটন বলেন, ‘ইউনিয়নের ছয়জন সদস্য আমার বিপক্ষের লোকদের দিয়ে প্রভাবিত হয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে মিথ্যা অভিযোগ করেছে।’

হতদরিদ্রদের দিয়ে ৪০ দিনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন না করে এস্ককাভেটর দিয়ে কাজ করার বিষয় জানতে চাইলে চেয়ারম্যান বলেন, ‘প্রশাসনের সবাই এ বিষয় জানেন। আমি এ কাজ করিনি। সিবিসি যারা ছিল তারা করিয়েছে। সাত ইউনিয়নেই ভেকু দিয়ে কাজ করিয়েছে।’

ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. সহিদুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়ে শুনেছি। এ অভিযোগ ভিত্তিহীন ও মনগড়া।’ হতদরিদ্রের ৩১৬ নামে ভুয়া সিম রেজিস্ট্রেশন এবং ওই সিম সংরক্ষণ ও টাকা উত্তোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অভিযোগ পাওয়ার কথা নিশ্চিত করে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মো. নূর কুতুবুল আলম বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




কলাপাড়ায় বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে রাজমিস্ত্রী নিহত

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): জেলার কলাপাড়ায় সেচ মেশিন চালু করতে গিয়ে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে এক রাজমিস্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে।

রোববার সকাল নয়টার দিকে কলাপাড়ার কলেজ বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রুবেল সরদার (২৮) ধানখালীর সুলতান সরদারের ছেলে।

নিহতের স্বজনরা জানায়, সকালে রুবেল ধানখালী কলেজ বাজারের ইউপি সদস্য জসিম মৃধার নির্মাণাধীন দোকানের ইটে পানি দেওয়ার জন্য সেচ মেশিন চালু করার সময় অসাবধানতায় বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে ছিটকে পড়ে অচেতন হয়ে যান । তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধার করে কলাপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী আহমেদ জানান, বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর খবর পেয়েই পুলিশ হাসপাতালে গেছে। নিহতের স্বজনদের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।




বাংলাদেশ পুলিশে এসআই পদে নিয়োগ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  বাংলাদেশ পুলিশে ‘ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র)’ পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

প্রতিষ্ঠানের নাম: বাংলাদেশ পুলিশ

পদসংখ্যা: নির্ধারিত নয়
শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্নাতক
দক্ষতা: কম্পিউটারে দক্ষ

চাকরির ধরন: স্থায়ী
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ
বয়স: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ তারিখ ১৯-২৭ বছর
কর্মস্থল: যে কোনো স্থান

শারীরিক যোগ্যতা

পুরুষ: উচ্চতা ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি, বুকের মাপ স্বাভাবিক ৩২ ইঞ্চি, স্ফীত ৩৪ ইঞ্চি
নারী: উচ্চতা ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহীরা www.police.teletalk.com.bd এর মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।

আবেদন ফি: টেলিটক প্রি-পেইড সিমের মাধ্যমে ৫৫০ টাকা অফেরতযোগ্য হিসেবে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জমা দিতে হবে।

আবেদনের শেষ সময়: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ তারিখ রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।




শেখ জামাল সেতুতে কার্গোর ধাক্কা, সুরক্ষা দেয়াল ক্ষতিগ্রস্থ

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): জেলার কলাপাড়া – কুয়াকাটা মহাসড়কের হাজীপুর এলাকায় সোনাতলা নদীর উপর নির্মিত শেখ জামাল সেতুর দুটি গার্ডারে বালুবোঝাই কার্গোর ধাক্কায় এর সুরক্ষা দেয়াল বা ফেন্ডার পাইল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এ সময় ওই সুরক্ষা দেয়ালের পাশে মাছ ধরতে যাওয়া জেলে নুরুল ইসলাম নৌকাসহ পানিতে ডুবে যান ও পরে সাঁতরে তীরে উঠেন।

সেতুর কাছে নিজামপুর এলাকায় কোস্টগার্ডের একটি আউটপোস্ট আছে। ওই আউটপোস্টের কমান্ডিং অফিসার মো. হুমায়ুন কাদির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘বিষয়টি কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তারা পরবর্তী ব্যবস্থা নেবেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রায় ৩২ হাজার ঘনফুট বালুবোঝাই এমভি ফাহিম মোল্লা কার্গোটি কুয়াকাটা সংলগ্ন খাজুরা থেকে পায়রা বন্দর যাচ্ছিল। এ সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে শেখ জামাল সেতুর গার্ডারের সুরক্ষা দেয়ালে ধাক্কা দেয়।’

কার্গোটির চালক মো. শফিক বলেন, ‘প্রচণ্ড স্রোতের টানে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।’

জানতে চাইলে পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর মোহাম্মাদ কামরুল হাসান বলেন, ‘বিষয়টি আমরা সেতু কর্তৃপক্ষকে জানাবো। সেখানকার টেকনিক্যাল টিম সরেজমিনে পরিদর্শন করে কার্গোর ধাক্কায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করবেন।’
এ ঘটনায় সড়ক ও জনপথ দপ্তরের কার্যসহকারী তারিকুল ইসলাম সৈকত মহিপুর থানায় মহিপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল খায়ের জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।’

উল্লেখ্য, সাড়ে ৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক ও জনপথ দপ্তর নির্মিত ৪৮২ দশমিক ৩৭ মিটার দীর্ঘ ও ১০ দশমিক ২৫ মিটার প্রস্থের এ সেতুটি ২০১৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেন।




বাউফলে মাদক কারবারিকে ৬ মাসের কারাদণ্ড

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর বাউফলে এক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করে ৬ মাসের কারাদণ্ড এবং ৫০০ টাকা অর্থদণ্ডের সাজা দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শুক্রবার রাতে উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের বড় ডালিমা এলাকায় মাদক কারবারিকে এই সাজা দেয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. বশির গাজী।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি একাধিক মাদক মামলার আসামি। তার নাম সাগর শিকদার (৩৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাগরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ের বাউফল থানার ৭টি মাদক মামলা বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। শুক্রবার রাতে মাদক সেবনরত অবস্থায় তাকে আটক করে পুলিশ। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানালে তিনি ঘটনা স্থলে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের আওতায় আসামিকে ৩৬ এর ১৯ (ক) ধারায় ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০০ টাকা অর্থদণ্ডের সাজা প্রদান করেন।

সাগর শিকদার বাউফল উপজেলার বড় ডালিমা গ্রামের মৃত. দেলোয়ার শিকদারের ছেলে।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শোনীত কুমার গায়েন বলেন, ‘সাগর শিকদার নিয়মিত মাদক কারবারিকে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। শুক্রবার রাতে মাদক সেবনরত অবস্থায় তাকে আটক করে পুলিশ। বিষয়টি আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানালে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আসামিকে আইনের আওতায় নিয়ে আসেন।’




গলাচিপায় শ্যালকের হাতে দুলাভাই খুন

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর গলাচিপায় শ্যালকের লাঠির আঘাতে দুলাভাই জহিরুল আলমের (৪১) মৃত্যু হয়েছে।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে শ্যালক তরিকুল ইসলামকে (২৪) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের কুমারখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত জহিরুল পটুয়াখালী সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের মৃত সিরাজুল আলমের ছেলে।

সূত্র জানায়, ৩১ জানুয়ারি দুপুরে জহিরুল তার শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে যায়। বিকেলে পারিবারিক কলহের জেরে শ্যালক তরিকুলের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়।
এক পর্যায়ে জহিরুলকে লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করেন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে পিটিয়ে গুরুতর জখম করেন তরিকুল। মুমূর্ষু অবস্থায় স্থানীয়রা জহিরুলকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।

সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আলম জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।




স্ত্রীর দাবীতে দুমকীতে তরুণীর অনশন

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): ঢাকায় চাকরির সূত্রে পরিচয় থেকে প্রেমের সম্পর্ক; ভাড়া বাসায় স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে এক বছর অবস্থান। এর পর স্ত্রীর মর্যাদা আদায়ে কথিত স্বামীর ভিটেতে অবস্থান নিয়েছেন ওই তরুণী।

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের মোশাররফ মৃধার ছেলে কাইউম মৃধার (৩০) বাড়িতে স্ত্রীর মর্যাদা আদায়ে অবস্থান নিয়েছে এক তরুণী (২৫)। সোমবার দুপুরে ওই বাড়িতে অবস্থান নেওয়া ওই তরুণীর বাড়ি বরগুনার পুরাঘাটা এলাকায়। ওই বাড়িতে অবস্থানের পর পরই কাইউম মৃধা পালিয়ে যায়।

ওই তরুণীর অভিযোগ, ঢাকায় একটি প্রাইভেট কোম্পানির শোরুমে চাকরির সুবাদে কাইউমের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে একত্রে ভাড়া বাসায় স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে এক বছর অবস্থানের পর চলতি বছরের ১ জানুয়ারি গা-ঢাকা দেয়। পরে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।

ওই তরুণী বলেন, বর্তমানে সে বসুন্ধরার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নার্সের চাকরির সময় ভাড়া বাসায় প্রায় এক বছর একসঙ্গে ছিলাম। হঠাৎ কাইউম তাকে না জানিয়ে বাড়ি চলে আসে এবং মোবাইল ফোনেও যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। লোক মারফতে খোঁজ নিয়ে তাই স্ত্রীর অধিকার আদায়ে ওর বাড়িতে এসে অবস্থান নিতে বাধ্য হয়েছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত কাইউম মৃধার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
কাইউমের বাবা মোশাররফ মৃধা বলেন, চাকরির সুবাদে আমার ছেলে ঢাকায় ছিল। সেখানে ওই মেয়েও চাকরি করার সুবাদে হয়তো পরিচয় হয়ে থাকতে পারে। তবে বিয়ে করেছে কিনা তা আমরা জানি না। অথচ ওই মেয়ে আমার ছেলেকে স্বামী দাবি করছে। এখন ছেলে বাড়ি আসুক তার পরে যা করা দরকার তাই করতে হবে।

দুমকি থানার ওসি তারেক মো. আবদুল হান্নান বলেন, ওই এলাকায় স্বামীর স্বীকৃতির দাবিতে এক তরুণী ঢাকা থেকে এসেছে জানতে পেরেছি। এ ঘটনায় সরাসরি কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি। অনশনেরও কোনো খবর পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।