গলাচিপায় ৪টি ইটভাটাকে জরিমানা

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার গোলখালী, আমখোলা ও গজালিয়া ইউনিয়নে ইটভাটায় উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক অভিযান চালিয়ে তিন লক্ষাধিক টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

জানা যায়, গলাচিপা উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নে ১টি ইটভাটা, মামা ব্রিকস ৫০ হাজার টাকা। গোলখালী ইউনিয়নে ২ টি সততা ব্রিকস ১লাখ ৫০ হাজার টাকা, বিবিসি ব্রিকস ১ লাখ টাকা এবং গজালিয়া ইউনিয়নের ১টি ইটভাটা খান ব্রিকসকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এসময় ইটভাটা গুলোতে যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মহিউদ্দিন আল হেলাল এবং উপজেলা সহকারী কমিশন (ভূমি) মোঃ নাসিম রেজা। এদেরকে অবৈধ ভাবে কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানোর জন্য এই অভিযান চালায় প্রশাসন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহিউদ্দিন আল হেলাল বলেন, ইটভাটা গুলোতে অবৈধ ভাবে কাঠ দিয়ে ইট পোড়া দায়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। ভবিষ্যতে এমন কোন অপরাধ করবেনা বলে তারা মুচলেকা দেয়। এসময় তাদেরকে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।




কারচুপি স্বীকার করে পিটিআই প্রার্থীকে আসন ছেড়ে দিলেন জামায়াত নেতা

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : জামায়াতে ইসলামী (জেআই) করাচির প্রধান হাফিজ নাঈম-উর-রহমান ঘোষণা করেছেন, তিনি কথিত কারচুপির জন্য প্রাদেশিক পরিষদের আসনটি পিটিআই-সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীকে ছেড়ে দিয়েছেন।

পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশনের সরবরাহ করা ‘ফরম ৪৭’ অনুযায়ী, হাফিজ নাঈম করাচির পিএস-১২৯ নম্বরধারী ওই আসনে ২৬ হাজার ২৯৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। এ আসনে পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফ বারির ভোট দেখানো হয়েছে ১১ হাজার ৩৫৭টি।

করাচিতে গণমাধ্যমের উদ্দেশে দেওয়া একটি বক্তব্যে জেআই নেতা হাফিজ নাঈম দাবি করেন, পিটিআই সমর্থিত সাইফ বারির ভোট পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশনের সরবরাহ করা ‘ফরম ৪৭’-এ কম দেখানো হয়েছে। এ অবস্থায় ‘ফরম ৪৫’ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে যে ফলাফল দেখা গেছে, সেটিকে মেনে নিয়েছেন বলেও দাবি করেছেন নাইম।

জামায়াতে ইসলামী নেতা বলেন, আমি এ আসনটি ছেড়ে দিচ্ছি। স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফ বারি সত্যিকারের পদ্ধতিতে জয়ী হয়েছেন। তার ভোট ৩১ হাজার থেকে কমিয়ে ১১ হাজার দেখানো হয়েছে।

জেআই নেতা জানান, বারির ভোট হ্রাস করে নির্বাচন কমিশন ওই আসনের এমকিউএম-পি প্রার্থীর ভোট ৬ হাজার থেকে ২০ হাজারে উন্নীত করে। তারপরও আসনটিতে শেষ পর্যন্ত রানারআপ হন এমকিউএম-পি প্রার্থী।

এদিকে দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিজেদের সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে আসন ছেড়ে দেওয়ায় করাচির জামায়াতে ইসলামীর প্রধান হাফিজ নাঈমের প্রশংসা করেছে পিটিআই।

কারাবন্দি নেতা ইমরান খানের দল পিটিআইয়ের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে এ বিষয়ে এক বিবৃতিতে হাফিজ নাঈমের সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে অন্য রাজনৈতিক প্রার্থীদের কাছ থেকে একই ধরনের সততা দেখানোর আহ্বান জানানো হয়।

পোস্টে বলা হয়েছে, ‘স্বচ্ছতা ছাড়া গণতন্ত্র হয় না।’




এক বছরে খেলাপি ঋণ বাড়লো ২৫ হাজার কোটি টাকা

 

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  দেশের ব্যাংক খাতের প্রধান সমস্যা খেলাপি ঋণ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়ছেই। তবে এই খেলাপি কম দেখাতে এখন বেশ কৌশলী অবস্থানে ব্যাংকগুলো। খেলাপি ঋণের বিদ্যমান পরিমাণের বাইরে বিরাট অংকের ঋণ অবলোপন (রাইট অফ) করা হচ্ছে। যেটা ব্যালান্স শিটে অন্তর্ভুক্ত থাকছে না। এর ফলে খেলাপি ঋণ হিসেবে তা প্রকাশ করছে না ব্যাংকগুলো।

আবার খেলাপি ঋণ বিভিন্ন মেয়াদে রিশিডিউল করা হচ্ছে, সেখানেও পরিশোধে অনাগ্রহী ব্যক্তির এই ঋণ খেলাপি হিসেবে ঋণে গণ্য হচ্ছে না। খেলাপি ঋণের পরিমাণ আশানুরূপ কমছে না। একবার কিছু কমছে তো আবার বাড়ছে বা তার পরেই প্রান্তিকেই আবার বেড়ে যাচ্ছে। চলমান অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে দেশের ব্যাংকিং খাতে অব্যাহতই আছে ঋণ আদায়ে ধীরগতি।

গত বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে পরিমাণের দিক থেকে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে খেলাপি ঋণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, একই বছরের অর্থাৎ ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৪৫ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা, যা তাদের মোট ঋণের ৯ শতাংশ।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন বলছে, সদ্য সমাপ্ত ২০২৩ সালের ডিসেম্বর প্রান্তিক শেষে ব্যাংকিং খাতের মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ১৭ হাজার ৬৮৮ কোটি টাকা। বিরতণ করা এসব ঋণের মধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে এক লাখ ৪৫ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা। যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৯ শতাংশ। এক বছর আগে অর্থাৎ ২০২২ সালের ডিসেম্বর প্রান্তিক শেষে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল এক লাখ ২০ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা।

২০২২ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে এক বছরের ব্যবধানে দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ২৪ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকার বেশি। তবে তার আগের প্রান্তিক অর্থাৎ সেপ্টেম্বর প্রান্তিকের চেয়ে ৯ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা কমেছে। গত বছরের সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল এক লাখ ৫৫ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা। যা তখন বিতরণ করা মোট ঋণের ৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ।

ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করপোরেট গভর্ন্যান্স এবং খেলাপি ঋণ ব্যাংক খাতের প্রধান সমস্যা। খেলাপি কমাতে ঢালাওভাবে ছাড় দেওয়া ঠিক হবে না। বরং খেলাপি দূর করতে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় গ্রহীতা ও দাতার ক্ষেত্রে একইভাবে আইনের প্রয়োগ করতে হবে। আরও কঠোর হতে হবে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বাড়ছেই। খেলাপি ঋণের বিদ্যমান পরিমাণের বাইরে বিরাট অংকের ঋণ রাইট অফ করা হচ্ছে। একটা বড় অংকের খেলাপি ঋণ বিভিন্ন মেয়াদে রিশিডিউল করা হয়। এক্ষেত্রে গ্রাহক ঋণ খেলাপি হলেও রিশিডিউল করার কারণে আর খেলাপি হিসেসে গণ্য হচ্ছেন না। অথচ বিশ্বের অনেক দেশে ঋণ খেলাপিরা নানা প্রতিবন্ধকতায় থাকেন, খেলাপির চাপে অনেক সময় মারাও যান। ঋণ খেলাপি বাড়ি ভাড়া নিতে পারেন না, ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করতে পারেন না, সামাজিতভাবেও নানা প্রতিবন্ধকতা থাকে। কিন্তু আমাদের দেশে ঋণ খেলাপিরা মহা আনন্দে থাকেন।

তথ্য বলছে, ২০২৩ সালের জুন প্রান্তিক শেষে দেশের ব্যাংকিং খাতের মোট বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ছিল ১৫ লাখ ৪২ হাজার ৬৫৫ কোটি টাকা। যার মধ্যে খেলাপি ঋণে পরিণত হয়েছিল এক লাখ ৫৬ হাজার ৩৯ কোটি টাকা। এই খেলাপি মোট বিতরণ করা ঋণের ১০ দশমিক ১১ শতাংশ। এ প্রান্তিকটিতে দেশের ইতিহাসে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছিল খেলাপি ঋণ।

পরের প্রান্তিক সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ কিছুটা কমে এক লাখ ৫৫ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। যেটা ছিল বিতরণ করা মোট ঋণের ৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ। আর সবশেষ ডিসেম্বর প্রান্তিক শেষে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ আরও কিছুটা কমে এক লাখ ৪৫ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকায় নেমেছে। এটি বিতরণ করা ঋণের ৯ শতাংশ। সে হিসাবে ৬ মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ ১০ হাজার ৪০৬ কোটি টাকা কমেছে। যদিও বছরের ব্যবধানে তা প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ৪৭০ কোটি ডলার ঋণের অন্যতম শর্ত হচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা। সবশেষ ডিসেম্বর প্রান্তিক শেষে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোয় মোট বিতরণ করা ঋণের মধ্যে খেলাপির হার ২০ শতাংশ ছাড়িয়েছে।

আলোচিত সময়ে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের হার ৫ দশমিক ৯৩ শতাংশ, বিদেশি ব্যাংকগুলোর ৪ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের হার ১৩ দশমিক ৮৭ শতাংশ। তবে পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠন করা ঋণ, সন্দেহজনক ঋণ ও আদালতের আদেশে খেলাপি স্থগিতাদেশ থাকা ঋণকে খেলাপি দেখালে এর পরিমাণ প্রায় তিন লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি দাঁড়াবে।




৪ টন পাঠ্য বই বিক্রি করে দিলো মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল 

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর কলাপাড়ার মোয়াজ্জেমপুর ছালেহিয়া আলিম মাদ্রাসা থেকে রাতের আঁধারে সরকারি নতুন পাঠ্য বই কেজি দরে বিক্রির পর ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়ার পথে ট্রাকসহ চার টন বই জব্দ করেছে প্রশাসন।

রোববার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কৌশিক আহমেদ মহিপুর থেকে ট্রাকসহ বইগুলো জব্দ করেন।

ঝিনাইদহের ভাঙ্গারি ব্যবসায়ীদের কাছে ২০ টাকা কেজি দরে ৫৪ হাজার টাকায় এ চার টন পাঠ্য বই বিক্রি করেছেন মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল একেএম আবুবকর সিদ্দিক ও বাংলা প্রভাষক মো. হাসান।
জব্দ করা বইগুলো মাধ্যমিক স্তরের বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সাধারণ বিজ্ঞান, বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচিতি, ইসলাম ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা, হিন্দু ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা, ক্যারিয়ার শিক্ষা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, চারুপাঠ, কৃষি শিক্ষা, আনন্দপাঠ, গার্হস্থ্যসহ বিভিন্ন বিষয়ের। বইগুলোর ২০২১ ও ২০২২ শিক্ষাবর্ষের।

কলাপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা মুঠোফোনে বলেন,শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠ্য বই অতিরিক্ত থাকলে তা জমা দিতে হয়। সরকারি পাঠ্য বই বিক্রি করা অপরাধ।

মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আঃ মালেক আকন্দ বলেন, মাদ্রাসার পুরাতন কাগজ বিক্রির অনুমতি দেয়া হয়েছিল। পাঠ্য বই বিক্রির কোন রেজুলেশন হয়নি। এ দায়ভার মাদ্রাসার প্রিন্সিপালের।

এ বিষয়ে মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল একেএম আবুবকর সিদ্দিকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনও বন্ধ রয়েছে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কৌশিক আহমেদ জানান, রাতের আঁধারে সরকারি বই বিক্রি হচ্ছে এমন খবর পেয়ে তারা বইগুলো আটক করে মহিপুর থানা হেফাজতে রেখেছেন।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, সরকারি পাঠ্য বই অব্যবহৃত থাকলে সরকারি গুদামে জমা দিতে হয়। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ কি প্রক্রিয়ার বইগুলো বিক্রি করেছেন তা তদন্ত করা (হচ্ছে। কোন আইনের ব্যত্যয় হলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




পটুয়াখালীতে মাদক মামলায় ৭ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড  

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীতে মাদক মামলায় সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পটুয়াখালী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এসএম এরশাদুল আলম এ রায় দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম বাদল।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- মো. মোশাররফ শিকদার, মো. বাদল খান, মো. ইলিয়াস সরদার, মো. জহির সরদার, মো. আলামিন, মো. কালা ফারুক ও মো. সোহরাব মাঝি। এরা সবাই কলাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে কলাপাড়া উপজেলার কুয়াকাটার গঙ্গামতি সৈকত দিয়ে পাঁচ লাখ পিস ইয়াবার চালান নিয়ে আসছিলেন আসামিরা। এ সময় কোস্ট গার্ড খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ সাতজনকে আটক করে কলাপাড়া থানায় হস্তান্তর করলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম বাদল বলেন, দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে তিনজন কারাগারে ছিলেন এবং তাদের কখনো জামিন‌ হয়নি। এ ছাড়া বাকি চারজন জামিনে ছিলেন এবং আজ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায়ের পর সবাইকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।




গৌরনদীতে গৃহবধুকে পিটিয়ে আহত

বরিশাল অফিস :: বরিশালের গৌরনদীতে বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে গৃহবধু মিনারা বেগম (৪৫) পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহত গৃহবধুকে উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রোববার রাত সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার পূর্ব শরিফাবাদ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আহতের স্বামী স্বপন হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, একই গ্রামের হৃদয় বেপারীর সাথে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে রোববার সন্ধ্যায় আমার তর্ক হয়। পরে বিষয়টি তাৎক্ষনিক ভাবে উভয়ে মীমাংসা হয়ে যাই। এঘটনাকে কেন্দ্র করে হৃদয় বেপারীর পক্ষ নিয়ে স্থানীয় আনিচ কবিরাজ ও মাহাবুব বেপারী আমার বাড়িতে হামলা চালিয়ে বসতঘর ও মোটরসাইকেল ভাংচুর চালায়। এসময় আমি তাদের ভয়ে পালিয়ে গেলে আমার স্ত্রী মিনারা বেগমকে পিটিয়ে গুরুত্বর আহত করে।

 

তিনি আরও বলেন, হামলাকারী আনিচের সাথে আমার বিরোধ রয়েছে। ধারনা করা হচ্ছে পূর্ব বিরোধের জেরধরেই আমার বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। তবে হামলার সাথে নিজেদের কোন সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছেন অভিযুক্ত আনিচ কবিরাজ ও মাহাবুব বেপারী। গৌরনদী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মাজহারুল ইসলাম জানান, এবিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




বরিশালে গৃহবধুর রহস্যজনক মৃত্যু, মামলার প্রস্তুতি

 

বরিশাল অফিস ::বরিশালের আগৈলঝাড়ায় গৃহবধুর মৃত্যু নিয়ে রহস্যজনক আচরণ করা হয়েছে। হাসপাতাল থেকে গৃহবধুর লাশ নিয়ে স্বজনদের পালানোর খবর পেয়ে পুলিশ রবিবার রাতে লাশ উদ্ধার করে সোমবার সকালে বরিশাল মর্গে প্রেরণ করেছে। এ ঘটনায় গৃহবধুর পরিবার থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে।

থানা ভারপ্রাপ্ত ওসি (তদন্ত) মো. জহিরুল ইসলাম ও স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা বারপাইকা গ্রামের শেখ মোহাম্মদ আল হাদীর স্ত্রী সাথী বেগম (৩৪) পারিবারিক কলহের কারণে গত শনিবার রাতে নিজের ঘরে বসে অতিরিক্ত মাত্রায় ঘুমের অসুধ সেবন করে অসুস্থ হয়ে পরলে সাথীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স্রে নেয়ামহয়। সেখানের চিকিৎসকেরা সাথীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রেরণ করেন। ওই রাতেই সাথীকে শের-ই-বাংলামমেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকেরা ওয়াশ করে চিকিৎসা দেন।

অসুস্থ সাথীকে অজ্ঞাত কারনে শনিবার রাতেই হাসপাতাল থেকে চিকিৎসকেরা রিলিজ করে দিলে রবিবার সকালে সাথীকে নিয়ে স্বজনেরা বাড়ি আসেন।

হাসপাতাল থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়ায় রবিবার বাড়িতে এসে সাথী সন্ধ্যার পরেনআবারও অসুস্থ হয়ে পরে। স্বজন ও স্থানীয়রা সাথীকে রাত সাড়ে নয়টার দিকে উপজেলানস্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে হাসপাতালে চিকিৎসজেকরা জানান-অনেক আগে সাথীর মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়ে স্বজনেরা হাসপাতাল থেকে সাথীর লাশ নিয়ে পালিয়ে বাড়ি চলে যায়।

সাথীর স্বজনেরা অভিযোগে জানায়, বরিশাল হাসপাতালে সাথী সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়ার আগেই তার স্বামী শেখ মোহাম্মদ আল হাদী প্রভাব খাটিয়ে সাথীকে রিলিজ করায়। এ কারনে সাথীর অকাল মৃত্যু হয়েছে। সাথী ও মোহাম্মদ আল হাদীর দুজনেরই এটা দ্বিতীয় বিয়ে।

রাতে খবর পেয়ে থানা ভারপ্রাপ্ত ওসি (তদন্ত) মো. জহিরুল ইসলাম সঙ্গিয় ফোর্স নিয়ে সাথীর বাড়ি গিয়ে তার লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। সোমবার সকালে সার্থীর লাশ ময়না তদন্তর জন্য বরিশাল মর্গে প্রেরণ করেন।

থানা ভারপ্রাপ্ত ওসি (তদন্ত) মো. জহিরুল ইসলাম জানান, রবিবার রাতে সাথীর লাশ তার বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। ওই বাড়িতে পুলিশের উপস্থিতিতে সাথীর মৃত্যু নিয়ে বিভিন্ন বাকবিতন্ডা হয়। তাই পুলিশ জিডি মুলে লাশ মর্গে প্রেরন করেছে। সাথীর পরিবার লিখিত অভিযোগ দিলে তা মামলা আকারে গ্রহন করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 




গলাচিপায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেফতার ২

 

 মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী  : পটুয়াখালীর গলাচিপায় এক শিক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়েছে। এতে জড়িত সন্দেহে পুলিশ দুজনকে গ্রেফতার করেছে। তারা হলেন খায়রুল শরিফ ও সোহাগ মেলকার।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার  সন্ধ্যায় বান্ধবীর বাড়ি থেকে ছোট বোনকে নিয়ে বাড়িতে ফিরছিলেন ওই শিক্ষার্থী। এ সময় শাহআলম শরিফের ছেলে খায়রুল শরিফ ও শহিদুল মেলকারের ছেলে সোহাগ মেলকারসহ তিনজন মিলে ওই শিক্ষার্থীকে স্লুইসগেটের পাশের জঙ্গলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে। গ্রেফতার দুজন পুলিশের কাছে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

গলাচিপা থানার ভারপাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফেরদৌস আলম খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। পলাতক আসামিকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




ঝালকাঠিতে গাঁজাগাছ-ইয়াবাসহ আটক ২

বরিশাল অফিস :: ঝালকাঠিতে আটটি গাঁজা গাছসহ শাহারুম হাওলাদার (৫০) ও ১৫ পিস ইয়াবাসহ কবির হাওলাদার (৫১) নামে দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পৃথক অভিযানে চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়। শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আটক শাহারুম হাওলাদার ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার দক্ষিন চেচরী এলাকার মৃত মুজাহার আলী হাওলাদারের ছেলে ও কবির হাওলাদার নলছিটি উপজেলার ডুবিল এলাকার মৃত আব্দুল আজিজ ওরফে আব্দুল হাওলাদারের ছেলে।

ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জাগো নিউজকে জানান, কাঁঠালিয়া উপজেলার চেচরী রামপুর ইউনিয়নের দক্ষিন চেচরী এলাকার শাহারুমের মরিচ ক্ষেতের মধ্যে থেকে আটটি গাঁজা গাছ ও নলছিটি উপজেলার ডুবিল এলাকা থেকে ১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুইজনকে আটক করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তাদের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার রাতে নলছিটি ও কাঁঠালিয়া থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা করা হয়েছে। মাদক মুক্ত সামজ গড়ার লক্ষ্যে আমাদের মাদক বিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।




মির্জাগঞ্জে বৃদ্ধের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় হামেদ হাওলাদার (৬৫) নামে এক বৃদ্ধের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। হামেদ উপজেলার মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের বাসিন্দা।

মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিলন মিত্র জানান, বৃহস্পতিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে এশার নামাজের পর বাড়ির পাশে মাহফিল শুনতে যান হামেদ। পরে রাতে তিনি আর বাড়ি ফিরেননি।

সকালে স্থানীয়রা বাড়ির পশ্চিম পাশের মাঠে তার মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশ খবর দেয়।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।