গৃহকর্মীর মৃত্যু ডেইলি স্টারের নির্বাহী সম্পাদকের বিষয়ে যা বললেন ডিবিপ্রধান হারুন

ডেইলি স্টারের নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আশফাকুল হকের ‘বাসভবন থেকে পড়ে’ কিশোরী গৃহকর্মী প্রীতি উরাংয়ের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত চলছে। তদন্তে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

তিনি বলেন, ‘গৃহকর্মী কীভাবে মারা গেলো সে বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চলছে। আইনের মাধ্যমে সুষ্ঠু তদন্ত করে বের করা হবে। এ বিষয়ে দোষী কেউ থাকলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

হারুন অর রশীদ বলেন, ‘কিশোরী গৃহকর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় মামলা হয় মোহাম্মদপুর থানায়। বর্তমানে মামলাটি আমাদের ডিবি তেজগাঁও বিভাগে এসেছে। আসামিরা রিমান্ডে ছিলেন। রিমান্ড শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। গৃহকর্মী কীভাবে মারা গেলো সে বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চলছে।’

এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে গত কয়েকদিন ধরেই বিক্ষোভ করে আসছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।




পটুয়াখালীর মাছ ব্যবসায়ীর লাশের সন্ধান মেলেনি

মো: আল-আমিন, পটুয়াখালী : পটুয়াখালী জেলার রাঙ্গাবালী থেকে মাছ নিয়ে ট্রলারে গলাচিপায় যাচ্ছিলেন ট্রলারের মালিক  রাশেদ খান। পথে আগুনমুখা নদীর মোহনায় ট্রলারে হামলা করে গত বৃহস্পতিবার মাছ লুট করেন ট্রলারের এক মাঝি। এর পর থেকে ওই ব্যবসায়ী নিখোঁজ।

পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, ট্রলারের মালিককে হত্যার পর লাশ সাগরে ফেলে দিয়েছেন ওই মাঝি।

ট্রলারমালিক রাশেদের বাড়ি রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের দক্ষিণ চরমোন্তাজ গ্রামে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি নিখোঁজ থাকায় দিশাহারা হয়ে পড়েছেন স্বজনেরা। নৌ পুলিশের সঙ্গে রাশেদের ভাইয়েরা তাঁকে বঙ্গোপসাগরে খুঁজছেন। অন্যদিকে বাড়িতে তাঁর স্ত্রী-সন্তানদের আহাজারি থামছেই না।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রাশেদ নিজের ট্রলারে মাছ নিয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চরমোন্তাজ থেকে গলাচিপার উদ্দেশে রওনা দেন। ট্রলারে রাশেদের সঙ্গে মাঝি হিসেবে ছিলেন ইব্রাহিম হোসেন ও জামাল মোল্লা। ট্রলারটি গলাচিপা যাওয়ার পথে পাটুয়া এলাকা অতিক্রম করলে মাঝি ইব্রাহিম অন্য মাঝি ও ট্রলার মালিকের ওপর হামলা করেন।

জামাল আত্মরক্ষায় নদীতে ঝাঁপ দেন এবং সাঁতরে তীরে ওঠেন। কলাপাড়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁকে বরিশালের শের–ই–বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু ট্রলারসহ রাশেদের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।
এ ঘটনায় গত শুক্রবার সকালে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার বিএফডিসি ঘাটে মাছ বিক্রি করতে এসে পুলিশের হাতে আটক হন মাঝি ইব্রাহিম।

পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানায়, ইব্রাহিম মাছ লুটের জন্য অন্য মাঝিকে বেলচা দিয়ে আঘাত করেন। ওই মাঝি নদীতে লাফিয়ে পড়ে নিজেকে রক্ষা করেন। ট্রলারের ভেতরে রাশেদ সম্ভবত ঘুমিয়ে ছিলেন। তাঁর ব্যাপারে ইব্রাহিম মুখ খুলছেন না। জব্দ করা ট্রলার থেকে রক্তমাখা কাপড় জব্দ করা হয়েছে। তাঁকে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হতে পারে বলে পুলিশ ধারণা করছে।

রাশেদের সংসারে স্ত্রী ছাড়া দুই মেয়ে ও এক ছেলে আছে। বড় মেয়ে রাশমনি (১৩) ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছে। অন্য দুজনের একজন নবজাতক ও অন্যটির বয়স এক বছরের একটু বেশি। তিন ভাইয়ের মধ্যে রাশেদ সবার বড়। মাছের ব্যবসা করে অন্য ভাইদের পড়ালেখা করাচ্ছিলেন। রাশেদ নিখোঁজ থাকায় দিশাহারা হয়ে পড়েছে পরিবারটি।

রাশেদের নিখোঁজের ঘটনায় পুরো পরিবার উৎকণ্ঠায়। শিশুসন্তান নিয়ে আহাজারি করছেন স্ত্রী সুরাইয়া। সন্তানদের বুকে নিয়ে অঝোরে কান্নাকাটি করছেন। অবুঝ সন্তানেরা জানে না তাদের বাবার কী হয়েছে?

রাঙ্গাবালী থানার ওসি মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় শুক্রবার নিখোঁজ রাশেদের ভাই আল-আমিন বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। নিখোঁজ রাশেদের সন্ধানে কাজ করছে নৌ পুলিশ। তবে এখন পর্যন্ত লাশের সন্ধান মেলেনি।’




ঋণ খেলাপি হয়েও পৌরসভার নির্বাচনে প্রার্থীতা বৈধ

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): খেলাপী ঋণ গ্রাহকের প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার অভিযোগ উঠেছে পটুয়াখালী পৌরসভার নির্বাচনে রিটানিং কর্মকর্তা বিরুদ্ধে। এমনকি জামিনদারের প্রার্থীতাও বৈধ ঘোষণা করেছে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।

১৫ ফেব্রুয়ারী মনোনয়ন পত্র যাচাই-বাছাইয়ের শেষ দিনে খেলাপী ঋণ উল্লেখ করে পটুয়াখালী পদ্মা ব্যাংক শাখা ব্যবস্থাপক একটি চিঠি দিলেও তা গোপন করে ঋণ গ্রহীতা ও জামিনদারের মনোনয়ন পত্র বৈধ ঘোষণা করেছে জেলা রিটানিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন কর্মকর্তা খান আবি শাহানুর খান।

এ ঘটনায় শনিবার (১৭ ফেব্রুয়ারী) নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা আপীল কর্তৃপক্ষ ও পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক বরাবর আপীল করেছেন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী মেয়র পদ-প্রার্থী ডাঃ মোঃ শফিকুল ইসলাম।

পদ্মা ব্যাংক পটুয়াখালী শাখার অফিসার মেহেদী হোসাইন এবং সিনিয়র অফিসার ও শাখা অপারেশন ম্যানেজার শাহিনুর আক্তার স্বাক্ষরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, আগামী ০৯ মার্চ ২০২৪ ইং তারিখে অনুষ্ঠিতব্য মেয়র পদে নির্বাচনে পটুয়াখালী জেলায় যে সকল প্রার্থীগন অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছেন তাদের মধ্যে মহিউদ্দিন আহম্মেদ, (জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর- ৬৮৬২২৭৮৯০৭/পিন- ১৯৭৬৭৮২৯৫০৫১১৯৬৭৩), পিতা: মোয়াজ্জেম হোসেন, মাতা- সাফিয়া বেগম, বর্তমান ঠিকানাঃ মুসলিম পাড়া, পটুয়াখালী সদর, পটুয়াখালী, একজন সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী।
চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, আবুল কালাম আজাদ, প্রোপাইটর মেসার্স আবুল কালাম আজাদ, আমাদের পদ্মা ব্যাংক পিএলসি (তৎকালীন দি ফার্মার্স ব্যাংক লিমিটেড), পটুয়াখালী শাখার একজন খেলাপী গ্রাহক। যিনি ২৮.১০.২০১৪ ইং তারিখ হতে পদ্মা ব্যাংক লিমিটেড, পটুয়াখালী শাখা হতে সর্বমোট ২৪.৫০ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করেছেন যা ১৬.১০.২০২২ ইং তারিখ মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে। ঋণ’র হিসাবটি নিয়মিত না করায় বিগত ০১.০২.২০২৪ ইং হতে মন্দ ও ক্ষতিজনক মানে শ্রেণিকৃত হয়ে যায় এবং উক্ত ঋণ হিসাবে মহিউদ্দিন আহম্মেদ একজন জামিনদার।

তিনি ঋণ গ্রহণ এর সময় ব্যাংক বরাবর এই মর্মে অঙ্গীকার করেছিলেন যে,আবুল কালাম আজাদ, প্রোপাইটর: মেসার্স আবুল কালাম আজাদ উক্ত ঋণ প্রদানে ব্যার্থ হলে আমি জামিনদার হিসাবে ঋণের সমুদয় টাকা প্রদান করবো।
খেলাপি ঋণ আদায়ের গ্রাহক ও জামিনদারের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ এবং জামিনদার মহিউদ্দিন আহম্মেদ প্রার্থী হয়ে থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এর জন্য আবেদন জানাচ্ছি। পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকসহ ব্যাংকের ও নির্বাচন কমিশন’র উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অনুলিপি দেয়া হয়েছে।

এ ঘটণায় প্রতিদ্বন্দ্বি মেয়র পদ-প্রার্থী শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহাবুদ্দিন’র মাধ্যমে একটি আপীল মোকদ্দমা দাখিল করেছেন শনিবার (১৭ফেব্রুয়ারী)।

এ বিষয়ে পদ্মা ব্যাংকের পটুয়াখালী শাখা ম্যানেজার শামীম আহমেদ বলেন, এ বিষয়ে আমরা কোন কথা বলতে চাই না। প্রয়োজন হলে আমাদের
উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেন।

পদ্মা ব্যাংক ঋণের টাকা পাওয়ার কথা স্বীকার করে আবুল কালাম আজাদ বলেন, কিস্তি বাকি আছে কিন্তু তারা ঋন খেলাপী নয়। আর মহিউদ্দিন তো জামিনদার।

পদ্মা ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এমডি) ফয়সাল আমীন বলেন, আমরা চিঠি দিয়েছি সব ঠিকই আছে। উনি ওনার ঋণটা পরিশোধ করলেইতো শেষ হয়ে যাবে।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা খান আবি শাহানুর খান বলেন, একজন কাউন্সিলর প্রার্থী ছাড়া কেউই ঋণ খেলাপী না। মেয়র প্রার্থী মহিউদ্দিন আহমেদ ঋণ খোলাপী কি না? তা আমার জানা নাই। আমার যাছাই-বাছাই ছিল এই বাছাইয়ের পরে পদ্মা ব্যাংক থেকে চিঠি নিয়ে আসায় তা খুলেই দেখি নাই। কারণ তার পর আমার কোন কিছু করার নাই।

পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক নূর কুতুবুল আলম জানান, আমি ছুটিতে আছি। এবিষয়ে আমার ধারনা নাই। কালকে বলতে পারবো।




পায়রা সেতুতে টোল আদায়ে ডিজিটাল লুটপাট: রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালী-ঢাকা মহাসড়কের আধুনিক প্রযুক্তিতে নির্মিত ‘পায়রা সেতুর’ টোলের দুই-তৃতীয়াংশ অর্থ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে সেতুর টোল আদায় হলেও অর্থ লুটপাট ঠেকাতে পারেনি প্রযুক্তি। সেতু উদ্বোধনের পর থেকেই অর্থ লুটের মহোৎসব অব্যাহত রেখেছে পটুয়াখালী সওজ বিভাগ।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী এএম আতিকুল্লাহর কাছে ২০২৩ সালের ৬ জুন লিখিতভাবে তথ্য চাইলেও আজ পর্যন্ত তিনি তা দেননি। পরে কৌশলে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন- ‘সেতু থেকে ২১ সালের অক্টোবর থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত টানা ৯ মাসে ৮ কোটি ৪৯ লাখ ৭৭ হাজার টাকা এবং ২০২২ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ এর জুন পর্যন্ত টানা এক বছরে ১৩ কোটি ৬৩ লাখ ১৫ হজার ৭৯৫ টাকা টোল আদায় হয়েছে।’
অথচ সূত্র বলছে, সওজের দেয়া ওই তথ্যের চেয়ে পায়রা সেতুতে দুই থেকে আড়াই গুন বেশি টোল আদায় হয়েছে।

এসব জানতে সওজের কাছে একাধিকবার তথ্য চাইলেও তারা নানা কৌশলের আশ্রয় নেন। সর্বশেষ ১৪ ফেব্রুয়ারি ওই প্রকৌশলীর কাছে গেলে তিনি আবার আবেদনের পরামর্শ দেন এবং পূর্বের আবেদন পাননি বলে দাবি করেন।
টোলের দুই-তৃতীয়াংশ লুটপাট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আপনি কি পেয়েছেন সেটা আপনার ব্যাপার। আমাকে তথ্য দিতে হলে জেনে দিতে হবে। অন্য দিকে এসব প্রসঙ্গে গণমাধ্যমে কথা বলতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সওজ। যে কারণে পায়রা সেতু সম্পর্কিত নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।

২০১৩ সালের ১৯ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের পটুয়াখালীর লেবুখালী ফেরিঘাটসংলগ্ন পায়রা নদীর ওপর ‘পায়রা সেতুর’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর কাজ শুরু হয় ২০১৬ সালের জুলাই মাসে। ২০২১ সালে নির্মাণ শেষ হবার পর ২৪ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেতু উদ্বোধন করেন এবং সেতুতে যান চলাচল শুরু হয়। চট্টগ্রামের কর্নফুলী সেতুর আদলে নির্মিত ফোরলেন বিশিষ্ট ১২৬৮ মিটার দৈর্ঘ্যরে অ্যাপ্রোচ সড়কের ‘পায়রা সেতু’ নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১৪৪৭ কোটি টাকা। ২০২১ সালের ৪ মার্চ যানবাহন পারাপারে সেতুর টোল নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়। ওই প্রজ্ঞাপন অনুযায়ীই টোল বহাল রয়েছে।

সূত্র বলছে, সেতু খুলে দেয়ার পর টোল আদায়ে নিযুক্ত করা হয় এমএম বিল্ডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। যানবাহন চলাচল শুরু হলে ওভার লোডেড যানবাহন পারাপারের ক্ষেত্রে স্কেল ব্যবহার না করায় অতিরিক্ত অর্থ আত্মসাৎসহ অব্যস্থাপনার অভিযোগ ওঠে সওজের বিরুদ্ধে। সেতুর অব্যবস্থাপনা নিয়ে ২০২২ সালের ১৯ জানুয়ারি বিভিন্ন গনমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর স্কেল ব্যবহার শুরু করে সওজ। এতে টোলের অর্থ বাড়লেও দুর্নীতি বন্ধ হয়নি।

সূত্র বলছে, শুরু থেকেই আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে টোল আদায় করছে সওজ। ডিজিটাল পদ্ধতিতে টোল আদায় হলেও প্রতিদিন আদায় করা টোলের দুই-তৃতীয়াংশ অর্থ ভাগাভাগি ও লুটপাট করছেন সওজের কর্মকর্তা-কর্মচারী।
এছাড়াও টোল আদায়ে নিয়োজিত সংস্থা ও শ্রমিকরাও যে যার মতো অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন।

অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, পটুয়াখালীর লাউকাঠি নদীতে নির্মিত পটুয়াখালী সেতুতে গড়ে প্রতি মাসে টোল আদায় হচ্ছে প্রায় কোটি টাকা, যা বছরে দাঁড়ায় প্রায় ১১ কোটি টাকা। সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী পটুয়াখালী সেতুর থেকে পায়রা সেতুতে ১৪২.৪৫ শতাংশ বেশি টোল আদায় হচ্ছে। অথচ পটুয়াখালী সেতুর সঙ্গে সমতা রেখে কোষাগারে পায়রা সেতুর টোল জমা দিয়ে আসছে পটুয়াখালী সওজ।

সূত্র আরও বলছে, পটুয়াখালী – বাউফল সড়কের বগা ফেরি থেকে আনুষঙ্গিক খরচ ব্যয়ের পর প্রতিদিন গড়ে ৭৫-৭০ হাজার টাকা টোল আদায় করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। যার পরিমাণ বছরে দাঁড়ায় আড়াই কোটি টাকা। এছাড়াও গলাচিপা-বাউফল-দশমিনা রুটের সব যানবাহনকে পায়রা সেতু পাড় হয়েই গন্তব্যে যেতে হয়।
সূত্রমতে-বগা ফেরি পারাপার হওয়া এসব যানবাহন পায়রা সেতু পাড় হতে গেলে বগা ফেরির তিনগুণ টোল গুনতে হয়। যা বছরে দাঁড়ায় প্রায় ৮ কোটি টাকা।
সওজের সূত্রমতে পটুয়াখালী সেতুর থেকে পায়রা সেতু ১৪২.৪৫ শতাংশ এবং বগা ফেরি টোলের চেয়ে পায়রা সেতুতে ৬৩৫.০৫ শতাংশ বেশি টোল নির্ধারিত রয়েছে। আনুষঙ্গিক খরচ ছাড়া পটুয়াখালী ও বগা ফেরি থেকে বছরে প্রায় ১৯ কোটি টাকা টোল আদায় করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পটুয়াখালী সেতু ও বগা ফেরির টোলের থেকে পায়রা সেতুতে আড়াই/তিনগুণ টোল আদায় করা হচ্ছে। অথচ পটুয়াখালী সড়ক বিভাগ গত বছরের ১৭ জুলাই যুগান্তরকে দেওয়া তথ্যে জানিয়েছে, ২০২২-২৩ অর্থ বছরে ১৩,৬৩,১৫,৭৯৫ টাকা এবং সেতু উদ্বোধনের পর ২১ সালের অক্টোবর থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত ৮,৪৯,৭৭,০০০ টাকা টোল আদায় হয়েছে।

এদিকে পটুয়াখালী সওজের এক কর্মকর্তা বলেন, বর্তমানে পায়রা সেতু থেকে ‘অপারেশন মেন্টেনেজ’ পদ্ধতিতে প্রতিদিন ৭ লাখ টাকা আদায় করছে সিএমএস নামের একটি প্রতিষ্ঠান। যা বছরে দাঁড়ায়-২৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

সূত্র বলছে, পটুয়াখালী সওজের তৎকালীন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেশির ভাগ অর্থ লুটপাট করেছেন যা বিশেষ কৌশলে এখনো অব্যাহত রয়েছে। পটুয়াখালী সওজের নিযুক্ত টোল আদায়কারী সিএমএস প্রতিষ্ঠান শর্তানুযায়ী টোল আদায়ের ১৬ শতাংশ লভ্যাংশ পাচ্ছে। সূত্রের দাবি টোলের অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে সওজ কর্মকর্তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হওয়ায় এএম বিল্ডার্সের চুক্তি বাতিল করে সিএমএসকে নিয়োগ দেয় সওজ।

আরেকটি সূত্র ও অনুসন্ধানে জানা গেছে-সওজের মধ্য ভাগাভাগির দ্বন্দ্ব ও গণমাধ্যম এর পক্ষ থেকে টোল সম্পর্কিত তথ্য চাওয়া হলে ২০২৩ সালের ৯ আগস্ট পটুয়াখালী সওজের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রাকিবুল জাহাঙ্গীর পায়রা সেতুর টোল সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন জমা দেন। ওই প্রতিবেদনে-২০২৩ সালের ৫ আগস্ট ৫,৩৩,২৬০ টাকা, ৬ আগস্ট ৪,৬৬,৯৫৫ এবং ৭ আগস্টে ৩,৯৪,১২৫সহ মোট ১৩,৯৪,৩৪০ টাকা আদায় দেখিয়েছেন। উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জাহাঙ্গীরের প্রতিবেদন অনুযায়ী বছরে টোলের পরিমাণ দাঁড়ায় অন্তত ১৭ কোটি টাকা। অথচ সওজের দাবি ২০২২-২৩ অর্থ বছরে ১৩,৬৩,১৫,৭৯৫ টাকা টোল আদায় হয়েছে।

এছাড়াও টোলের দুর্নীতি ঢাকতে ২০২৩ সালের ২৬ আগস্ট পটুয়াখালী সওজের তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. মাসুদ খান বরগুনা সওজের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী প্রকাশ চন্দ্র বিশ্বাসকে সমন্বয়ক করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন।

এছাড়াও ওই বছরের ৩১ অক্টোবর নামকাওয়াস্তের একটি অডিট করে সওজ।
সূত্র বলছে, সওজ তাদের আর্থিক দুর্নীতি ঢাকতেই এসব তদন্ত ও অডিট করেছে। এ তদন্ত-অডিট নিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলতেও নারাজ সওজ।

এসব প্রসঙ্গে কথা বলতে তৎকালীন পটুয়াখালী সওজের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. মাসুদ খানের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত মুঠোফোনে কল ও খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি সারা দেননি। আর পটুয়াখালী সওজের বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. মাসুদ করিম এবং বরিশাল জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী একেএম আজাদ রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে, তারাও সাড়া দেননি।




১ বছরের সাজার ভয়ে ২৪ বছর পালিয়েও শেষ রক্ষা হলো না

বরিশাল অফিস :: ভোলা জেলার দক্ষিণ আইচায় চুরির মামলায় ১ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মো. হোসেনকে (৫২) গ্রেপ্তার করেছে দক্ষিণ আইচা থানা পুলিশ।

থানা সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দক্ষিণ আইচা থানার (ওসি) সাঈদ আহমেদের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ২৪ বছর পালিয়ে থাকার পর আসামিকে শশীভূষণ থানার এয়াজপুর ইউনিয়নে তার এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আসামি মো. হোসেন চরমানিকা ইউনিয়নের ২ নাম্বার ওয়ার্ডের মজিবুল হকের ছেলে।

তাকে চুরির মামলায় আদালত ১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল। আদালতের ওই রায়ের পর তিনি ২৪ বছর পলাতক ছিলেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে দক্ষিণ আইচা থানার (ওসি) মো. সাঈদ আহমেদ (পিপিএম) জানান, আসামি মো. হোসেন দীর্ঘদিন পর্যন্ত পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে পলাতক ছিলেন। তার বিরুদ্ধে মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। শুক্রবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।




মির্জাগঞ্জে ভুয়া তালিকায় এতিমের টাকা তছরুপ

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): মির্জাগঞ্জে এতিমখানা ও শিশু সদনে মাদ্রাসা ছাত্রদের ভুয়া এতিম ও অসহায় দেখিয়ে লাখ লাখ  টাকা ভাগ-বাটোয়ারার অভিযোগ উঠেছে।

সবচেয়ে বড় অনিয়ম দেখা গেছে মাজার কেন্দ্রিক এতিমখানা গুলোতে। তারা একদিকে এতিম খানার নামে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে লাখ লাখ টাকা আদায় করে অন্য দিকে ভুয়া তালিকা দেখিয়ে সরকারি বরাদ্দ নিয়ে থাকে।
এ ছাড়াও অধিকাংশ শিশু সদনে স্টোক রেজিস্ট্রার, বিল ক্যাশ খাতা, ভাউচারের রেজুলেশন, ভর্তি রেজুলেশন, মেচ কমিটি ও ভাউচারের সঙ্গে মিল রেখে ব্যাংক স্টেটমেন্ট কিছুই নাই। যা বিল উত্তোলনের জন্য একান্তই প্রয়োজন।

কিন্তু সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সভাপতি, সম্পাদক ও উপজেলা সমাজসেবা দপ্তরকে ম্যানেজ করে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট ছাড়াই উত্তোলন করছে সরকারি বরাদ্দ।

জানা যায়, মির্জাগঞ্জে সরকারের তালিকাভুক্ত ক্যাপিটেশন গ্র্যান্টপ্রাপ্ত মোট ১১টি এতিমখানা রয়েছে। যার মধ্যে ক্যাপিটেশন গ্র্যান্ট বরাদ্দের আওতায় এতিম দেখানো হয়েছে ১৭৮ জন। ক্যাপিটেশন বরাদ্দের অনুকূলে এতিমখানার ৬-১৮ বছর বয়সী এতিম ৫০ শতাংশ বরাদ্দের আওতায় আসবে। একজন এতিমকে মাসে দুই হাজার করে টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।

বছরে দুইবারে মোট ২৪ হাজার টাকা বরাদ্দ আসে।




দশমিনায় সেই কেন্দ্রসচিবকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): চলতি বছর এসএসসি, দাখিল ও সমমানের পরীক্ষার প্রথম দিনে পটুয়াখালীর দশমিনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত কেন্দ্রসচিব অধ্যক্ষ নুরে আলম সিদ্দিকীকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাফিসা নাজ নীরা স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

এর আগে গতকাল বেলা ১১টার দিকে পরীক্ষাকেন্দ্রে কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগে ওই কেন্দ্রসচিবকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওয়াশিউজ্জামান চৌধুরী।

দাখিল পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত কেন্দ্র দশমিনা সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কেন্দ্র পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক সচিব নিযুক্ত হন চরহোসনাবাদ ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নুরে আলম সিদ্দিকী। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে ওই কেন্দ্রে অবৈধভাবে প্রবেশ করেন উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ছয়টি দাখিল মাদ্রাসার ছয়জন সুপার।

এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী ওই ছয়জন সুপারের প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। একই সঙ্গে ওই কেন্দ্রসচিবকে দায়িত্বে অবহেলার দায়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে রাতে কেন্দ্র পরিচালনা কমিটির জরুরি সভায় ওই কেন্দ্রসচিবকে অব্যাহতি দিয়ে লিখিত আদেশ দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাফিসা নাজ নীরা।

ইউএনও স্বাক্ষরিত ওই লিখিত আদেশে একই সঙ্গে দশমিনা ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আবুল বাশারকে কেন্দ্রটির সচিব নিযুক্ত করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাফিসা নাজ নীরা বলেন, সুষ্ঠু পরীক্ষার স্বার্থে কেন্দ্র পরিচালনা কমিটির জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সভায় দশমিনা ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আবুল বাশারকে কেন্দ্রসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়।




নৌকার এমপি মহিউদ্দিন বাচ্চুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১০(খুলশি-ডবলমুরিং-পাহাড়তলী) আসনে নৌকা প্রতীকের বিজয়ী প্রার্থী মো. মহিউদ্দিন বাচ্চুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের মামলায় বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম চতুর্থ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সালাউদ্দিনের আদালত এ আদেশ দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী তারিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন বাচ্চুর বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি আইনের ২০০৮-এর বিধি ৩ ধারায় মামলা হয়।

আদালত অপরাধ আমলে নিয়ে মহিউদ্দিন বাচ্চুকে ১৫ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সশরীরে হাজির হয়ে শুনানিতে অংশগ্রহণ করতে নির্দেশ দেন। তবে তিনি হাজির না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

এর আগে প্রচারণা চলাকালে গত বছরের ২২ ডিসেম্বর মহিউদ্দিন বাচ্চু তার নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের ব্যক্তিগতভাবে এক হাজার টাকা করে দেন। এছাড়া ২৬ নম্বর উত্তর হালিশহর ওয়ার্ডের মাদানি মসজিদে এক লাখ টাকার চেক দেন। বিষয়টি ওই মসজিদের ইমাম জুমার নামাজের আগে খুতবায় মুসল্লিদের অবহিত করেন।

একইভাবে ২৪ ডিসেম্বর লালখানবাজারে প্রধান নির্বাচনী কার্যালয় থেকে চট্টগ্রাম-১০ আসনের সব মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ৬০ হাজার টাকা করে সরকারি অনুদানের চেক বিতরণ করেন, যা সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ লঙ্ঘন।

এরপর ২৪ ডিসেম্বর মহিউদ্দিন বাচ্চুর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে টাকা বিলির অভিযোগ করেন একই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মনজুর আলম। পরে ৪ জানুয়ারি মহিউদ্দিন বাচ্চুর বিরুদ্ধে মামলা করতে নির্বাচন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেয় ইসি।

এরপর ১৬ জানুয়ারি ডবলমুরিং থানার নির্বাচন কর্মকর্তা মু. মোস্তফা কামাল বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেন।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহিউদ্দিন বাচ্চু ৫৯ হাজার ২৪ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফুলকপি প্রতীকের প্রার্থী মনজুর আলম পেয়েছিলেন ৩৯ হাজার ৫৩৫ ভোট।




ঘুমন্ত শিশুকে বাগানে নিয়ে ধর্ষণ, বরিশালে একজনের যাবজ্জীবন

বরিশাল অফিস :: মুর্শিদি গানের প্যান্ডেল থেকে ঘুমন্ত শিশুকে বাগানে নিয়ে ধর্ষণের ১৪ বছর পর মামলার একমাত্র আসামি কবির হোসেন ফকিরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন বরিশালের একটি আদালত। পাশাপাশি তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এ তথ্য জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী কাজী মো. হুমায়ুন কবির। বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. ইয়ারব হোসেন এ রায় দেন।

দণ্ডিত কবির হোসেন বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম রাওগা গ্রামের বাসিন্দা। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন।

বেঞ্চ সহকারী কাজী হুমায়ুন কবির মামলার বরাত দিয়ে বলেন, মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার বিদ্যানন্দপুর গ্রামের ব্রিজঘাট এলাকায় ২০০৯ সালের ২৯ অক্টোবর রাতে মুর্শিদি গান হয়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভুক্তভোগী ওই গান শুনতে যায়।

গান শুনতে শুনতে প্যান্ডেলের হোগলায় ঘুমিয়ে পড়ে সাত বছরের ওই শিশু। পরে ঘুমন্ত অবস্থাতেই তাকে পাশের বাগানে নিয়ে ধর্ষণ করেন কবির। এরপর ওই শিশু অসুস্থ হয়ে কান্না করে বিষয়টি তার পরিবারকে জানায়। শিশুটিকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং এলাকাবাসী কবির মারধর করে ছেড়ে দেন।

এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে পরদিন ৩০ অক্টোবর কবিরকে অভিযুক্ত করে মেহেন্দিগঞ্জ থানায় মামলা করেন। একই বছরের ৮ ডিসেম্বর কবিরকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন মেহেন্দিগঞ্জের কাজিরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই বেল্লাল হোসেন। পরে আজ সেই মামলার রায় হলো।




পটুয়াখালীর সংরক্ষিত আসনে আওয়ামী লীগের এমপি নাজনীন নাহার

চন্দ্রদীপ নিউজ: পটুয়াখালী ১ আসন থেকে বারবার নির্বাচিত সাবেক জাতীয় সংসদ সদস্য মরহুম হাবিবুর রহমানের কন্যা নাজনীন নাহার লাইজুকে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

দলের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়।

সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন মোট ৫০টি। স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও আওয়ামী লীগকে সমর্থন দেয়ায় দলটির আসন দাড়াঁয় ৪৮-এ। বাকী দুটো পায় জাতীয় পার্টি।