পিলখানার দুঃসহ স্মৃতির ১৫ বছর

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  পিলখানায় বার্ষিক ‘দরবার’ চলছিল। শুরুতেই উচ্চ পদস্থ সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখেন বেশ কয়েকজন তৎকালীন বিডিআর (বাংলাদেশ রাইফেলস) জওয়ান। তাদের বক্তব্যের ভাষা ছিল ঝাঁঝালো। তারা চান সেনা কর্মকর্তাদের মতো সমান অধিকার। এরপরই বক্তব্য রাখেন তৎকালীন বিডিআর মহাপরিচালক মেজর শাকিল আহমেদ।



পটুয়াখালীতে মন্দিরে চুরি, স্বর্ণালঙ্কার লুট

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালী সদর উপজেলার মৌকরণ ইউনিয়নে শ্রী শ্রী শ্যামসুন্দর মদন মোহন জিউর মন্দিরে পিতলের প্রতিমা ও স্বর্ণালঙ্কার চুরির ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার গভীর রাতে ললিতা হাওলাদারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এ ঘটনায় পটুয়াখালী সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মন্দির কমিটির সভাপতি গৌতম দেবনাথ।

অভিযোগে জানানো হয়, আজ ভোরের দিকে মন্দিরের সেবায়েত অমরি দেবনাথ প্রণাম করার উদ্দেশ্যে মন্দিরে গিয়ে দেখে মন্দিরের লোহার গেট ভাঙ্গা। এ সময় মন্দিরে থাকা পাঁচটি পিতলের প্রতিমা, স্বর্ণালঙ্কার ও দানের নগদ অর্থসহ আনুমানিক দেড় লক্ষাধিক টাকার মালামাল চুরি হয়েছে।

মন্দিরের সেবায়েত অমরি দেবনাথ বলেন, আমি রাতে সেবা পূজা শেষ করে মন্দিরে তালা দিয়ে ঘরে যাই। পরের দিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে মন্দিরে গিয়ে দেখি মন্দিরের গ্রিল ভাঙ্গা ও মন্দিরের সব মালামাল এলোমেলো। তখন মন্দিরের মধ্যে ঢুকে দেখি ভিতরে ঠাকুরের বিগ্রহ নাই। ঠাকুরের গলায় ও হাতে সোনা-রুপার অনেক অলঙ্কার ছিল। মন্দিরে নগদ টাকা ছিল, সেগুলো কিছুই নেই। পরে আমি চিৎকার দিলে আশেপাশের লোকজন চলে আসে।

মন্দিরের সভাপতি গৌতম দেবনাথ বলেন, আমি সকালে ঘুমানো ছিলাম নিজ ঘরে। মন্দিরের সামনে চিৎকার শুনে দৌড়ে যাই। গিয়ে দেখি মন্দিরের দরজা ভাঙ্গা। আর ভেতরে প্রতিমার কয়েকটি কাপড় ও কয়েকটি ছবি ব্যতীত আর কিছুই নাই। এ ব্যাপারে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

মৌকরন ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ডের সদস্য কাজী সুমন জানান, তিনি মন্দির চুরির ঘটনাটি জানতে পেরেছেন। নিজে মন্দির পরিদর্শন করেছেন। মন্দিরের দরজা ভাঙ্গা দেখতে পেয়েছেন। এ বিষয়ে প্রশাসনের সর্বোচ্চ সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। ঘটনাটি তদন্ত করা হবে। তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




দুমকিতে ৪০ দিনের কর্মসূচির নামে নানা অনিয়ম

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর দুমকিতে অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থানের জন্য ৪০ দিনের কর্মসূচিতে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

এসব কর্মসূচির প্রকল্প তালিকায় দরিদ্র ব্যক্তিদের নাম থাকলেও বাস্তবে কাজ করানো হচ্ছে বাইরের শ্রমিক দ্বারা।

এতে প্রকল্পের বরাদ্দের বড় একটি অংশের ভাগ দিতে হয় প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রকল্প বাস্তবায়ন দপ্তরকে। এমন ঘটনায় জনৈক ইউপি সদস্য উপজেলা প্রশাসনকে লিখিত অভিযোগ করলেও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, উপজেলার পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আল আমিন খান ৪০ দিনের কর্মসূচিতে অনিয়মের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগে বলা হয়, উপজেলার পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নে ৪০ দিনের কর্মসূচিতে প্রকল্প তালিকার শ্রমিক দ্বারা কাজ না করিয়ে কন্ট্রাক্ট শ্রমিক দ্বারা কাজ করাচ্ছেন; যা প্রকল্পের নিয়মবহির্ভূত কাজ। তাই প্রকল্পের চলমান কাজ দ্রুত বন্ধ করে এলাকার গরিব অসহায় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

সরেজমিন দেখা যায়, ৪০ দিনের কর্মসূচির আওতায় ২ লাখ ৮ হাজার টাকা বরাদ্দে দক্ষিণ পাঙ্গাশিয়ায় নুরুল হক বিশ্বাসের বাড়ি হতে রাজ্জাক জোমাদ্দারের বাড়ি পর্যন্ত ১৭শ’ ফুট রাস্তার মাটির কাজ করানো হয়েছে।

পাঙ্গাশিয়ায় ইউপির সংরক্ষিত ইউপি সদস্য রাশিদা বেগম সিপিসি (প্রকল্প সভাপতি) কাজটি সম্পন্ন করেছেন। নিয়মানুযায়ী প্রকল্প তালিকার বাছাইকৃত শ্রমিকদের প্রত্যেকে দৈনিক ২শ’ টাকা মজুরিতে আট হাজার টাকা পাওয়ার কথা। ৪০ দিনের কাজের স্থলে বাইরের শ্রমিক দিয়ে মাত্র ৫ দিনেই কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

প্রকল্পের তালিকাভুক্ত শ্রমিক মোতালেব হাওলাদার, নিজাম উদ্দিন মৃধা, শেফালী বেগমের অভিযোগ করেন, তালিকায় নাম আছে কিনা তা তারা জানেন না। তারা কোনোদিন কাজও করেননি এবং কোনো টাকাও পাননি!

পাঙ্গাশিয়ায় ইউনিয়নে এমন আরো ২টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে সেখানেও একই অবস্থা।

সিপিসি সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য রাশিদা বেগম বলেন, আমি অল্প একটু কাজ পাইছি। তবে ২শ’ টাকা হাজিরায় কেউ কাজ করতে চায় না। তাই অন্য লেবার দিয়ে করাতে হয়।

টাকার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, বাবা এই টাকার ভাগ সবাইকে দিতে হয়।

কাকে কাকে দিতে হয় এমন প্রশ্নে বলেন, পিআইও অফিস টাকা কেটে রাখে এবং ওখান থেকে ইউএনও অফিসসহ সবখানেই যায়। সবমিলিয়ে আমার অল্পকিছু থাকে।

টাকা কেটে নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজিব বিশ্বাস বলেন, আপনার কাছেই শুনলাম তবে বিষয়টি আমি গিয়ে দেখব।

উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে ৪০ দিনের কর্মসূচির কতটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে তার তথ্য চাইলে তিনি বলেন, চাইলেই আপনাকে তথ্য দেয়া যাবে না; আমার স্যারের সঙ্গে বুঝতে হবে।

যোগাযোগ করা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ আব্দুল্লাহ সাদীদ বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে কাজ পরিদর্শন করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে।




পটুয়াখালীতে জমে উঠছে জেলা বার’র নির্বাচনী প্রচারণা

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালী জেলা আইনজীবী সমিতির  ২০২৪-২০২৫ খ্রিঃ মেয়াদের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকসহ নয়টি পদে আওয়ামীলীগের বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদের ৮ জন  ও বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ৯ জন মোট ১৭ জন প্রতিদ্বন্দী প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারনা জমে উঠেছে।

প্রার্থীরা কোর্ট চলাকালিন সময় সহকর্মী আইনব্যবসায়ীদের কাছে পৃথক পৃথক ভোট প্রার্থনার পাশাপাশি গলাচিপা, কলাপাড়া, দশমিনা ও মির্জাগঞ্জ উপজেলায় কোর্ট চলাকালে সহকর্মী ভোটারদের কাছে গিয়ে কুশল বিনিময়করে দোয়া ও ভোট প্রার্থনা করছেন। জেলা শহরে অবস্থানকারী ভোটার আইনজীবীদের কাছে গিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চাচ্ছেন।

প্রতিদ্বন্দী প্রার্থীরা হচ্ছেন- জাতীয়বাদী আইনজীবী ফোরাম সমর্থিত প্রার্থীরা হচ্ছে সভাপতি পদে এটিএম মোজাম্মেল হোসেন তপন (বিএনপি),  সহ- সভাপতি পদে মো. মিজানুর রহমান পিকু, সাধারন সম্পাদক পদে মো. আবুল কালাম আজাদ, সহ- সাধারন সম্পাদক দুটি পদে মো. মিজানুর রহমান হীরন ও মো. মেহেদী হাসান উজ্জল, লাইব্রেরী সম্পাদক পদে মো. রুহুল আমীন, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিষয় সম্পাদক পদে গাজী মো. আল আমীন (বিএনপি) ও দুটি সদস্য পদে মো. জসিম উদ্দীন ও মো. আমির হোসাইন।

আওয়ামীলীগের বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদ সমর্থিত প্রার্থীরা হচ্ছে- সভাপতি পদে মো. নুরুজ্জামান মৃধা, সহ- সভাপতি পদে মিসেস লুৎফুননেছা বেগম, সাধারন সম্পাদক পদে আলহাজ্ব মোঃ লুৎফর রহমান খোকন, সহ- সাধারন সম্পাদক পদে কে. এম. রেজাউল করিম অভি, লাইব্রেরী সম্পাদক পদে মো. আশরাফ আলী, ক্রীড়া সম্পাদক পদে মোহাম্মদ সুমন চৌধুরী, দুটি সদস্য পদে মো. আল আমিন ভুঁইয়া ও মো. মুশফিকুর রহমান তুহিন।

পটুয়াখালী জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন  সুষ্ঠু ও শান্তিপুর্ন পরিবেশে সম্পন্ন করার জন্য প্রবীন আইনজীবী আনছার আলীকে চেয়ারম্যান করার জন্য  তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে।

কমিশনের তফসিলে মোতাবেক ১৯ ফেব্রুয়ারী প্রতিদ্বন্দী প্রার্থীগণের পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ২৯ ফেব্রুয়ারী বৃহষ্পতিবার সকাল ১০ ঘটিকা হতে বিকাল ৪ ঘটিকা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহন অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত বার নির্বাচনে ৫১৯ জন ভোটার তাদের ভোট প্রদান করবেন।

কমিশনের অপর দুইজন সদস্য হলেন আলহাজ্জ মো. আবুল কাশেম খান ও অ্যাডভোকেট আশীষ কুমার চক্রবর্তী।




প্রতিবেশীর ‘গাছ খাওয়ায়’ ছাগল আটক, মালিককে বেঁধে নির্যাতন 

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় প্রতিবেশীর মরিচ খেতে গিয়ে ছাগল গাছ খাওয়ার অভিযোগে মালিককে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে।

উপজেলার আরোজবেগী গ্রামের গুচ্ছগ্রামে আজ শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

পরে সকাল ১০টার দিকে ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দশমিনা সদর ইউনিয়নের আরোজবেগী ৭ নম্বর ওয়ার্ড গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা মো. মোস্তফা ফকির। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে প্রতিবেশী মো. খোকন সরদারের ছাগল তাঁর মরিচ খেতে ঢুকে গাছ খায়। সে কারণে মোস্তফা ছাগল নিয়ে বেঁধে রাখেন।
খোকন আজ শুক্রবার সকালে ছাগল চাইতে গেলে মোস্তাফা, তাঁর স্ত্রী এবং পুত্রবধূ খোকনকে গাছের সঙ্গে বেঁধে লাঠি দিয়ে মারধর শুরু করেন। খোকনের স্ত্রী তাঁর স্বামীকে রক্ষা করতে গেলে তাঁকেসহ ৮ ও ১০ বছরের দুই শিশু সন্তানকেও মারধর করেন তাঁরা। পরে স্থানীয়রা খোকনকে উদ্ধার করে দশমিনা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

আহত খোকন সরদার বলেন, ‘মোস্তফা আর আমি গুচ্ছ প্রামের পাশাপাশি ঘরে বাস করি। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ছাগলে নাকি মোস্তফার খেতের মরিচ চারা খায়। মোস্তফা ছাগল নিয়ে বেঁধে রাখে। আমি সকালে স্থানীয় ইউপি সদস্যের কাছে গিয়ে বললে, তিনি আমাকে ছাগল চাইতে বলেন। আমি সকালে ছাগল চাইতে গেলে মোস্তফা, তাঁর স্ত্রী ও পুত্রবধূ আমাকে মারধর করে হাত-পা বেঁধে ঘরের সামনে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে। স্থানীয়রা আমাকে উদ্ধার করে দশমিনা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা করায়। আমি উপজেলা প্রশাসনের কাছে এমন কাজের জন্য বিচার দাবি করি।’

খোকনের স্ত্রী আজকের বলেন, ‘আমাদের ছাগলের বাচ্চা নাকি মোস্তফার খেতের মরিচের চারা খাইছে। আমার স্বামী সকালে ছাগল চাইতে গেলে আমাকে মারধর করে, আমার ছোট শিশু সন্তানকে মারে এবং আমার স্বামীকে মারধর করে টানাহেঁচড়া করে নিয়ে তার ঘরের সামনে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে। আমি এর বিচার চাই।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য সিকদার দেলোয়ার বলেন, ‘বিষয়টি জানান পর আমি ছাগল আনতে পাঠিয়েছি। কিন্তু তারপর কি হয়েছে জানি না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখলাম হাত–পা বেঁধে গাছের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় খোকন। এটা একটি দুঃখজনক ঘটনা।’

এ বিষয়ে জানতে মোস্তফার বাড়ি গেলে তাঁকে পাওয়া যায়নি।

দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, ‘ঘটনার বিষয় আপনার মাধ্যমে শুনলাম। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’




গলাচিপায় নিখোঁজের ১০ দিনেও সন্ধান মেলেনি স্কুল ছাত্রীর

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): জেলার গলাচিপায় নিখোঁজের ১০ দিনেও সন্ধান মেলেনি অপু রানী (১৬) নামের এক স্কুল ছাত্রীর।

অপু রানী হচ্ছেন উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামের কেশব চন্দ্র দাসের মেয়ে। তিনি গলাচিপা সরকারি টেক্সটাইল স্কুল এন্ড কলেজের ২০২৩ সেশনের ৯ম শ্রেণির ছাত্রী। তার রোল নম্বর ৫৪। অপু রানীর সন্ধান চেয়ে তার মা মালতী রানী গলাচিপা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। যার ডায়েরী নম্বর ৭০৭, তারিখঃ ১৭/০২/২০২৪। নিখোঁজের ১০ দিনেও অপু রানীর সন্ধান মেলেনি।

নিখোঁজ ডায়েরি ও অপু রানী মা মালতী রানীর কাছ থেকে জানা যায়, স্বরেস্বতী পূজার দিন সকালে পূজার অঞ্জলী নেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। দুপুর পেরিয়ে গেলেও অপু রানী বাড়ি না ফেরায় তার খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে সন্ধ্যায় সাধারণ ডায়েরী করা হয়।
তিনি আরো বলেন, পরে দুলাল দাস নামের একজন লোক একটি বাংলালিংক নম্বর (০১৯৩৬৯৪১২৮১) থেকে ফোন করে বলে অপু পটুয়াখালীর ছোট বিঘাই ৮ নম্বর ওয়ার্ডে আছে।
অপু রানীর মা মালতী রানী ও বাবা কেশব চন্দ্র দাস পটুয়াখালীর ছোট বিঘাই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আলতাফ হাওলাদার ও শাহ আলম চৌকিদারের সাথে যোগাযোগ করলে তারা বলেন, আপনারা মামলা তুলে নিলে আপনাদের মেয়ে বেরিয়ে যাবে।

এ বিষয়ে ছোট বিঘাই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আলতাফ হাওলাদার বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমি ঐ বাড়িতে লোক পাঠিয়েছি এবং দেখব।

এ বিষয়ে গোলখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. নাসির উদ্দিন হাওলাদার বলেন, আমি ছোট বিঘাই চেয়ারম্যানকে বিষয়টি দেখার জন্য বলেছি।

এ বিষয়ে গলাচিপা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফেরদাউস আলম খান বলেন, অপু রানী নিখোঁজের একটি সাধারণ ডায়েরী থানায় করা হয়েছে। তাকে উদ্ধারের সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে।




পটুয়াখালী মহিপুরে ইয়াবাসহ একজন গ্রেফতার

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী :  ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪  তারিখে রাত ১১ ঘটিকায় মহিপুর থানার একটি টিম বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মোঃ বেল্লাল হোসেন বিল্লু (৪৫), পিতা-মৃত আলী আকাব্বর, সাং-আলীপুর, কুয়াকাটা খানাবাদ কলেজ এর পশ্চিম পাশে, থানা-মহিপুর থেকে ৪০১ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট সহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে।

আটককৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

উক্ত আসামীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে ০৫(পাঁচ) টি মামলা ও ০১(এক) টি ওয়ারেন্ট রয়েছে।




বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিককে মানতে হবে ১০ নির্দেশনা

চন্দ্রদীপ ডেস্ক: বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স প্রবেশপথে টানানো, তথ্য কর্মকর্তা নিয়োগ ও লেবার রুম প্রটোকল বাধ্যবাধকতাসহ ১০ দফা নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এসব নির্দেশনা আবশ্যকভাবে পালন করতে হবে বলে জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানটি।

বৃহস্পতিবার অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট সবার অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জানানো যাচ্ছে যে, বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর পরিচালনার ক্ষেত্রে বর্ণিত শর্তাবলি আবশ্যকভাবে প্রতিপালন করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো।

নির্দেশনাগুলো হলো:

১. বেসরকারি ক্লিনিক হাসপাতাল ও ডায়াগনষ্টিকের লাইসেন্সের কপি প্রতিষ্ঠানের মূল প্রবেশপথের সামনে দৃশ্যমান স্থানে অবশ্যই স্থায়ীভাবে প্রদর্শন করতে হবে;

২. সব বেসরকারি স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় তথ্যাদি সংরক্ষণ ও সরবরাহের জন্য একজন নির্ধারিত দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকতে হবে। একইসঙ্গে তার ছবি ও মোবাইল নম্বর দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে;

৩. যেসব প্রতিষ্ঠানের নাম ডায়াগনস্টিক ও হাসপাতাল হিসেবে আছে কিন্তু শুধুমাত্র ডায়াগনস্টিক অথবা হাসপাতালের লাইসেন্স রয়েছে তারা লাইসেন্স প্রাপ্ত ব্যতিরেকে কোনোভাবেই নামে উল্লেখিত সেবা প্রদান করতে পারবে না;

৪. ডায়াগনস্টিক সেন্টার, প্যাথলজিক্যাল ল্যাবরেটরির ক্ষেত্রে যে ক্যাটাগরিতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত শুধুমাত্র সে ক্যাটাগরিতে নির্ধারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া কোনোভাবেই অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যাবে না। ক্যাটাগরি অনুযায়ী প্যাথলজি বা মাইক্রোবায়োলজি, বায়োকেমিস্ট্রি ও রেডিওলজি বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করতে হবে।

৫. বেসরকারি ক্লিনিক, হাসপাতালের ক্ষেত্রে লাইসেন্সের প্রকারভেদ ও শয্যা সংখ্যা অনুযায়ী সকল শর্তাবলী বাধ্যতামূলকভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে;

৬. হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়োজিত সকল চিকিৎসকের পেশাগত ডিগ্রির সনদ, বিএমডিসি’র হালনাগাদ নিবন্ধন ও নিয়োগপত্রের কপি অবশ্যই সংরক্ষণ করতে হবে;

৭. হাসপাতাল, ক্লিনিকের ক্ষেত্রে যে কোনো ধরনের অপারেশন বা প্রসিডিউরের জন্য অবশ্যই রেজিস্ট্রার্ড চিকিৎসককে সার্জনের সহকারী হিসেবে রাখতে হবে;

৮. কোনো অবস্থাতেই লাইসেন্সপ্রাপ্ত বা নিবন্ধিত হাসপাতাল ও ক্লিনিক ব্যতীত চেম্বারে অথবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অ্যানেস্থেশিয়া প্রদান করা যাবে না। বিএমডিসি স্বীকৃত বিশেষজ্ঞ ছাড়া যে কোনো ধরনের অপারেশন/সার্জারি/ ইন্টারভেনশনাল প্রসিডিউর করা যাবে না;

৯. সব বেসরকারি নিবন্ধিত লাইসেন্সপ্রাপ্ত হাসপাতাল, ক্লিনিকে লেবার রুম প্রটোকল অবশ্যই মেনে চলতে হবে;

১০. নিবন্ধিত বা লাইসেন্সপ্রাপ্ত হাসপাতাল, ক্লিনিকে অপারেশন থিয়েটারে অবশ্যই ‘অপারেশন থিয়েটার এটিকেট’ (শিষ্টাচার) মেনে চলতে হবে।




ঘুম থেকে উঠে বাবা-মায়ের ঝুলন্ত মরদেহ পেল চার বছরের মেয়ে

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় স্বামী-স্ত্রীর গলায় ফাঁস লাগানো মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের আছালতখাঁ পাড়া এলাকার নিজঘর থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলেন, ওই এলাকার আলী হোসেনের ছেলে আরিফ হোসেন (২৬) ও তার স্ত্রী রিয়া মনি (২২)। ওই বাড়িতে আরিফ স্ত্রী-সন্তান নিয়ে থাকতেন। পেশায় তিনি কুয়াকাটা সৈকতের ফটোগ্রাফার। পরিবারের বাকি সদস্যরা ঢাকায় থাকেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে ওই বাড়িতে আরিফ, তার স্ত্রী রিয়ামনি ও ৪ বছরের মেয়ে সুমাইয়া ছিলেন। বিকেলে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে বাগবিতণ্ডা হয়। সন্ধ্যায় সুমাইয়া ঘুমিয়ে পড়ে। রাত ১১টার দিকে ঘুম ভাঙলে সে তার বাবাকে ঘরের আঁড়ার সঙ্গে ও মাকে বারান্দার আঁড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে প্রতিবেশীদের ডেকে আনে। পরে স্থানীয়রা তাদের গলায় ফাঁশ লাগানো অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়।

শিশু সুমাইয়া বলে, সন্ধ্যায় আব্বু-আম্মু ঝগড়া করে। পরে আমি ঘুমিয়ে যাই। হঠাৎ ঘুম থেকে উঠে আব্বু আম্মুকে দেখি ঝুলে আছে। পরে আমি পাশের বাসার ফুপুকে ডেকে আনি।

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন তালুকদার জানান, ঘটনা জানার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ গিয়ে স্বামী ও স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। প্রাথমিক কাজ শেষে মর্গে পাঠানো হবে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।




কলাপাড়ায় শ্রমিক লীগ নেতা জুয়েলকে হত্যার পর সদস্যদের গৃহছাড়া

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি জুয়েল প্যাদাকে হত্যার পর তার ও স্বজনের চারটি পরিবারের সদস্যদের গৃহছাড়া করেছে মামলার আসামিরা। মামলার আসামিরা জামিনে এসে এখন মামলা তুলে নেয়ার হুমকি দিয়ে দুটি বাড়ি কুপিয়ে সব মালামাল তছনছ করে। চারটি বাড়ির মালামাল ও পুকুরের মাছ পর্যন্ত লুট করে নেয়।

কলাপাড়া থানা থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে খোকন ও তুহিন প্যাদার ঘরে কুপিয়ে তছনছ করে মালামাল লুট করলেনও পুলিশ ঘটনাস্থলে যেতে পারেনি।
এর আগে জুয়েলের স্বজন সিদ্দিকুর রহমান, খোকন, তুহিন ও মধুর ঘরে হামলা করে মালামাল লুট করে নেয়।

আজ (সোমবার) দুপুরে কলাপাড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নিহত জুয়েল প্যাদার স্ত্রী মনিরা বেগম তাদের পরিবারের উপর ঘটে যাওয়া এ নির্যাতনের কথা জানান।

তিনি বলেন, জুয়েল হত্যা মামলার আসামী মিজানুর রহমান, বশির চৌকিদার, সোহেল হাওলাদার, দেলোয়ার মৃধা, শিপন চৌকিদার, ইদ্রিস প্যাদার নেতৃত্ব সন্ত্রাসীরা এ হামলা ও লুটপাট চালায়। তাদের নির্যাতনে চারটি পরিবারের ১৯ সদস্য ঘরবাড়ি ছেড়ে জীবন বাঁচাতে এখন কলাপাড়া ও চট্টগ্রামে অবস্থান নিয়েছে।

তাদের আর্তি দফায় দফায় এ হামলা ও লুটপাট চললেও পুলিশ এখন পর্যন্ত ঘটনাস্থলে যায়নি। থানায় অভিযোগ দায়ের করতে এলেও তারা অভিযোগ গ্রহণ করেনি। জুয়েলের মতো তারাও এখন জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় আছেন বলে জানান।

এ ব্যাপারে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, আলী আহমেদ জানান, বসত ঘরে হামলার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করে। তবে কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। আর এ বিষয়ে এখনও থানায় অভিযোগ দায়ের হয়নি বলে জানান।