কলাপাড়ায় ইউপি সদস্যকে পিটিয়ে জখম

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় জাকির হোসেন দুলাল (৫০) নামের এক ইউপি সদস্যকে পিটিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা।

আজ মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর বারোটার দিকে উপজেলার মহিপুর ইউনিয়নের চৌরাস্তা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিক স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করেছে। আহত দুলাল মহিপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য।

আহত দুলাল জানান, সে বারোটার দিকে মহিপুর থেকে কলাপাড়া উপজেলার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। এ সময় চৌরাস্তা এলাকায় পৌঁছলে স্থানীয় জাকিরের নেতৃত্বে ৫/৭ জন তার উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তার মাথা ফেটে যায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত প্রাপ্ত হয়। তিনি আরও জানান, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মোয়াজ্জেমপুর গ্রামে দুটি মসজিদ রয়েছে। এই দুই মসজিদে মুসুল্লী যাওয়াকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই জাকিরের সঙ্গে ইউপিস সদস্য দুলালের বিরোধ হয়। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে তার উপর হামলা চালানো হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত জাকির হোসেন বলেন, মসজিদ নিয়ে তার সঙ্গে কোন বিরোধ নেই। তবে পাশাপাশি দুটি মসজিদ হওয়ায় তার বাড়ির মসজিদের মুসুল্লীদের সে সরকারী ত্রান সহায়তা দেয়। অন্য মসজিদে যারা যায় তাদের সঙ্গে ব্যবহার ভালো করেনা। আর আমি দুলাল মেম্বরকে মারি নাই। সে নিজেই আমার উপর হামলা চালিয়েছে। আমি আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি।

মহিপুর থানার ওসি আনোয়ার হোসেন তালুকদার জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইবে।




পটুয়াখালীতে ২১ মামলার আসামি ডিবির হাতে আটক

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীতে গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে মো. সোহেল মাদবর (৩২) নামে এক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী আটক হয়েছে।

এ সময় তার কাছ থেকে ৩০০ পিস ইয়াবা এবং একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।

আটক সোহেলের বিরুদ্ধে মাদক আইনে আরও ২১ টি মামলা রয়েছে। এছাড়াও তার বাবা শাহ আলম মাদবর, মা, বোন এবং বোন জামাতার নামে অন্তত শতাধিক মাদক মামলা রয়েছে।

পটুয়াখালী গোয়েন্দা পুলিশের ইনচার্জ একেএম আজমল হুদা এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মঙ্গলবার দিবাগত রাতে পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ড এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

ডিবির ওসি একেএম আজমল হুদা বলেন, আটককৃত সোহেল মাদবর শহরের চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। এর পূর্বে মাদকসহ তাকে একাধিকবার আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেলে পাঠানো হয়েছে।

কিন্তু জেল থেকে মুক্ত হয়ে ফের মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পরেন। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার দিবাগত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালান ডিবি পুলিশের সদস্যরা।
এ সময় এসআই সঞ্জিব কুমার সরকারের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসকের সরকারি বাসভবনের দক্ষিণ পাশে মূল সড়কে মাদক নিয়ে অবস্থানরত সোহেলকে আটক করা হয়। পরে তার দেহ তল্লাশি করে ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।




বরিশালে গায়ে হলুদে কনেকে চুমু, ভেঙে গেল বিয়ে

বরিশাল অফিস : বরিশালের আগৈলঝাড়ায় গায়ে হলুদে কনেকে চুমু দেওয়ায় বিয়ে ভেঙে যায় কনের। তবে চুমু দেওয়ার অভিযোগে যুবককে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা।

গতকাল রোববার এ ঘটনায় করা মামলায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে গত শনিবার রাতে উপজেলার বাগধা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তার জিহাদ হাওলাদার (২৪) উজিরপুর উপজেলার সাতলা গ্রামের ছত্তার হাওলাদারের ছেলে।

আগৈলঝাড়া থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা (এসআই) শফিকুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাগধা ইউনিয়নে স্কুলে পড়াশোনার সময় ভুক্তভোগী এবং পার্শ্ববর্তী উজিরপুর উপজেলার সাতলা গ্রামের বাসিন্দা জিহাদ হাওলাদারের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘদিন তাঁদের সম্পর্ক ছিল। তবে পরে জিহাদ হাওলাদার অন্যত্র বিয়ে করেন। সম্প্রতি ওই তরুণীর বিয়ে ঠিক হয়। গত শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাড়িতে গায়েহলুদ ছিল। বরপক্ষের লোকজনও এসেছিলেন।

অনুষ্ঠান চলাকালে হঠাৎ জিহাদ হাওলাদার সেখানে উপস্থিত হন। তিনি নিমন্ত্রিত ছিলেন না বলে জানা গেছে। জাহিদ লোকজনের সামনেই কনেকে চুমু দেন। উপস্থিত লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে জিহাদকে গণধোলাই দিয়ে রাতেই আগৈলঝাড়া থানা-পুলিশের হাতে সোপর্দ করে। পরে ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করলে পুলিশ জিহাদকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।

এদিকে এ ঘটনার পরে বরের বাবা বিয়ে ভেঙে দিয়েছেন বলে মেয়ের পরিবারকে জানিয়ে দেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (এসআই) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গায়েহলুদের আসরে কনেকে চুমু দেওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত ছেলে জিহাদকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছি। আমরা বরের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’




পটুয়াখালী পৌরসভা নির্বাচনে মানা হচ্ছে না আচরণবিধি

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালী পৌরসভা নির্বাচনে আচারণবিধি মানছেননা মেয়র প্রার্থী বর্তমান মেয়র মহিউদ্দিন আহমেদ। প্রার্থীর প্রতীকসহ পোষ্টার টানানোর ক্ষেত্রে অন্যান্য প্রার্থীরা পলিথিন ব্যবহার না করলেও মেয়র মহিউদ্দিন সেটি করছেন।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পরপরই প্রায় সকল প্রার্থীরা নির্বাচন কশিনের নিয়ম অনুযায়ী পোষ্টার ব্যবহার করলেও গতরাত থেকে মেয়র প্রার্থী মহিউদ্দিন আহমেদ নির্বাচন অফিসের নির্দেশনা অমান্য করছেন। যা নিয়ে অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশ ইলেকশন কমিশনের পরিপত্র ২ এর ২১ নং ক্রমিকে স্পষ্টভাবে বলা আছে, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ পূর্বক প্রচার প্রচালনা পরিচালনায় এবং নির্বাচনী প্রচারনায় পোষ্টার ব্যবহারে প্লাষ্টিক দিয়ে মোড়ানো বা পোষ্টার প্লাষ্টিক পলিথিন লেমেনিটিং করে ব্যবহার না করাসহ ইতিপূর্বে নির্দেশনা প্রদান করতে হবে। এই ধারা উল্লেখ করে প্রতিক বরাদ্দের দিন জেলা নির্বাচন অফিসার স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, ‘পোষ্টারে পলিথিন ব্যবহার করা যাবেনা’।

অথচ গত রাত থেকে মেয়র প্রার্থী মহিউদ্দিন আহমেদ পলিথিন মোড়ানো পোষ্টার টানিয়েছে গোটা শহরে। মুহুর্তের মধ্যে বিষয়টি অন্যান্য সকল প্রার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। কারণ ২৩ তারিখ থেকে গত রাত পর্যন্ত অন্যান্য প্রার্থীদের পলিথিন ছাড়া টানানো পোষ্টার গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি আর কুয়াশায় নষ্ট হয়েছে কয়েকবার।

অথচ শহরের পৌরসভা মোড়, সিঙ্গারা পয়েন্ট, কলেজ রোড, জুবিলী স্কুল সড়কসহ বেশকিছু সড়কে জগ মার্কার মেয়র প্রার্থী মহিউদ্দিনের টানানো পোষ্টারে পলিথিন ব্যবহার করতে দেখা গেছে।

মেয়র প্রার্থী ডাঃ মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, সকালে পোস্টার লাগানো হলেও বিকালে হাল্কা বৃষ্টি হওয়ার কারনে সেই পোষ্টার নষ্ট হয়ে যায়। তাই পরেরদিন সকালে আবার পোষ্টার লাগাই তবুও পোষ্টারে পলিথিন ব্যবহার করিনাই। কিন্তু কেন শুধু মাত্র একজন প্রার্থী তার পোষ্টারে পলিথিন ব্যবহার করবে? এগুলো কি জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা দেখেন না? এমনিতেই জেলা নির্বাচনের কার্যক্রম নিয়ে ইতিমধ্যে বিভিন্ন মিডিয়ায় আর্থিক অনিয়ম নিয়ে মেয়র মহিউদ্দিন এর পক্ষালম্বনের রিপোর্ট আসছে। আমার মতে, উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের উচিত বিষয়টি দেখার।

পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী বর্তমান কাউন্সিলর মোঃ জাহিদ হোসেন জানান, প্রতীক বরাদ্দের দিন জেলা নির্বাচন অফিস থেকে আমাদেরকে বলা হয়েছে পোষ্টারে পলিথিন ব্যবহার করা যাবেনা। পোষ্টারে পলিথিন লাগানো আইনগত দন্ডনীয় অপরাধ। যে কারণে আমরা পোষ্টারে পলিথিন ব্যবহার করি নাই।

৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মোঃ খলিলুর রহমান জানান, নির্বাচন অফিসের নিষেধাজ্ঞা থাকায় পোষ্টারে পলিথিন লাগাইনাই। দেযালে পোষ্টার আঠা পলিথিন লাগানো সম্পূর্ন নিষেধ।

জানতে চাইলে জগ মার্কার মেয়র প্রার্থী বর্তমান মেয়র মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, ওগুলো ভুলে লাগানো হয়েছে। যারা লাগিয়েছে তারা ভুল করেছে। আমি তাদেরকে সরিয়ে ফেলতে বলেছি।

পটুয়াখালী জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা সিনিয়র নির্বাচন অফিসার খান আবি শাহানুর খান জানান, নির্বাচনী আচরণবিধিতে বলা হয়েছে কোন প্রার্থী তাদের পোষ্টারে পলিথিন ব্যবহার করতে পারবে না। যদি কেউ পলিথিন ব্যবহার করে থাকে তবে আমাদের বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে।
জগ মার্কার প্রার্থী পলিথিনসহ পোষ্টার টানিয়েছে এ ব্যপারে জানতে চাইলে তিনি জানান, এমন একটা অভিযোগ পাওয়া গেছে বিষয়টি আমি দেখতেছি।




বাউফলে যুবককে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর বাউফলে পূর্ব শত্রুতার জেরে এক যুবককে পথ রুদ্ধ করে এলোপাথাড়ি পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার দাসপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত একমাস পূর্বে উপজেলার দাসপাড়ার ইউনিয়নের বাসিন্দা দুলাল মেলকারের ছেলে আরিফ হোসেনের সাথে একই এলাকার মঞ্জু ভান্ডারের ছেলে তাহেরের সাথে সিনিয়র জুনিয়র নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। পরে বিষয়টি ঘটনাস্থলে বসেই মিমাংসা হয়ে যায়।
কিন্তু তাহেরের ভিতরে ঘটনার রেষ থেকে গেলেও আরিফ তা বুঝতে পারেনি। হঠাৎ রোববার সন্ধ্যার দিকে আরিফ বাউফল থেকে মোটরসাইকেল যোগে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়ে দাসপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকা পৌঁছালে তাহের ৮/১০জনের একটি সংঘবদ্ধ দল নিয়ে আারিফের পথ রুদ্ধ করে লোহার রড ও জিআই পাইপ দিয়ে এলোপাথাড়ি পেটাতে থাকে। আরিফের ডাক চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে আসেন। আরিফকে বাঁচাতে পথচারি মমিন তালুকদার এগিয়ে আসলে তাকেও মারধর করা হয়। পরে তাদেরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় ওই রাতেই আরিফের বাবা দুলাল মেলকার বাদী হয়ে ৮/১০ জনকে আসামি করে বাউফল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক মারজানা আফরিন বলেন, রোগীর শরীরের বিভিন্ন অংশে ক্ষতের চিহ্ন রয়েছে আমরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ভর্তি করা হয়েছে।

বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শোনিত কুমার গায়েন বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।




গলাচিপায় যৌতুকের জন্য গৃহবধূকে মারধর

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): জেলার গলাচিপায় এক সন্তানের জননীকে মধ্যযুগীয় কায়দায় মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে স্বামীর বিরুদ্ধে।

হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় কাতরাচ্ছে ওই গৃহবধূ ও তার সন্তান।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার গলাচিপা সদর ইউনিয়নের পক্ষিয়া লঞ্চঘাট ছয় নম্বর ওয়ার্ড মোসলেম গাজীর মেয়ে ফাতেমা বেগম (২২) নামের এক গৃহবধূকে মারধর করে তার স্বামী হোচেন হাওলাদার।

হোচেন হাওলাদার হচ্ছেন গোলখালী ইউনিয়নের দুই নম্বর ওয়ার্ডের সুহরী গ্রামের রফিক হাওলাদারের ছেলে।

আহত ফাতেমা বেগম জানান, যৌতুকের জন্য প্রায়ই আমার স্বামী আমাকে মারধর করতো। রবিবার রাতে যৌতুকের জন্য পুনরায় আমাকে আমার বাবার কাছ থেকে টাকা এনে দিতে বললে আমি রাজী না হওয়ায় আমার স্বামী আমাকে সারা শরীরে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে।
আমার বাবা গরিব মানুষ। রিক্সা চালিয়ে কোন রকম দিন আনে দিন খায়। আমার বাবা আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে। তারপর আবার বাবার কাছে কীভাবে টাকা চাইবো। আমার স্বামীকে এ কথা বুঝিয়ে বললেও তিনি কোন কথা না শুনে আমাকে মারতে থাকেন। আমি এর বিচার চাই। যাতে আর কোন স্বামী স্ত্রীর কাছে যৌতুক দাবি না করে। আমার স্বামীর ঔরসে দুই বছরের একটি ছেলে সন্তান আছে। ছেলের নাম আব্দুল্লাহ। এলাকাবাসী আমাকে উদ্ধার করে গলাচিপা হাসপাতালে ভর্তি করে।

হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার মেজবাহউদ্দিন বলেন, ফাতেমা বেগম আমার চিকিৎসাধীনে ৩য় তলায় ১১ নং বেডে ভর্তি আছে। তার শরীরের বিভিন্ন অংশে ফুলাজখম ও কালো কালো দাগ আছে ও মাথায় চোট লেগেছে।

এ বিষয়ে ফাতেমার বাবা রিক্সাচালক মোছলেম গাজী জানান, আমি গরিব অসহায় মানুষ। যখন যেটা পারি আমি আমার মেয়ে ও মেয়ের জামাইকে দেয়ার চেষ্টা করি। আমার কাছে বেশী দাবী করলে আমি কীভাবে দেবো। আর এর জন্য হোচেন আমার মেয়েকে পিটিয়ে আহত করেছে। আমি মেয়ের অসুস্থতার কথা শুনে হাসপাতালে এসে দেখি মেয়ের দিকে তাকানো যায় না। নাতিটা শুধু কান্না করে। আমি ঔষধপত্র ও চিকিৎসা খরচ চালিয়ে যাচ্ছি কিন্তু এখন পর্যন্ত আমার মেয়ের জামাই হাসপাতালে দেখতেও আসে নাই। আমি সকলের কাছে এর বিচার চাই।

এ বিষয়ে ফাতেমার মা রিনা বেগম জানান, আমার মেয়েকে যৌতুকের জন্য প্রায়ই মারধর করে। আমি মেয়ের সুখের জন্য মেয়ের জামাইকে গরু দিয়েছি, গাড়ির জন্য টাকা দিয়েছি। তারপরও জামাই মন ভরাতে পারি নাই। মেয়ের জামাই এখনও যৌতুকের জন্য আমার মেয়েকে মারধর করতে থাকে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত হোচেন হাওলাদারের জানান একটু কথা কাটাকাটি হয়েছে। এছাড়া কিছু হয়নি বলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

এ বিষয়ে গোলখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন হাওলাদার বলেন, বিষয়টি শুনেছি। দু্ইপক্ষকে ডেকে মীমাংসার ব্যবস্থা করবো।

গলাচিপা সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন টুটু বলেন, আমার ইউনিয়নে কোন মানুষের উপর নির্যাতন হবে এটা হতে দেয়া যাবে না। মোছলেম গরিব মানুষ ওর সাথে এরকম হবে বিষয়টি মেনে নেয়া যায় না। আমি মোছলেমকে এ বিষয়ে সহযোগিতা করব।

গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফেরদাউস আলম খান বলেন, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




কুয়াকাটায় বৌদ্ধ বিহারের জমি দখলের অভিযোগ

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): কুয়াকাটা শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ বিহারের জমি দখল করে পাবলিক টয়লেট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র মো. আনোয়ার হাওলাদারের বিরুদ্ধে। এর প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছে বৌদ্ধ বিহার কর্তৃপক্ষ। রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) জেলা প্রশাসকের বরাবরে অভিযোগটি দেয়া হয়।

কুয়াকাটা শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ বিহার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও বিহারাধ্যক্ষ ইন্দ্রবংশ ভান্তে স্বাক্ষরিত অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, কুয়াকাটার কেরানীপাড়া সংলগ্ন এস এ ৫৩০নং খতিয়ানের ৫৩৭৪ নং দাগে ২-৪৪ একর জমি গত ০৭/১১/১৯৪৭ তারিখে রেজিস্ট্রিকৃত ০৯ নং চুক্তিপত্র দলিলের মাধ্যমে বৌদ্ধ বিহার নির্মাণের জন্য কেরানীপাড়ার মগদের পক্ষে পাড়া মাদবর নোলাউ মগ বরাবরে হস্তান্তর করে। ভূমির দখল বুঝাইয়া দিলে দলিল মূলে শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ বিহার কর্তৃপক্ষ ওই জমির মালিক।

কিন্তু এস এ ৫৩৭৪ নং দাগের পূর্ব অংশে রাখাইন মার্কেট সংলগ্ন জমিতে কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র পাবলিক টয়লেট নির্মাণ কাজ শুরু করেন। শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ বিহার কর্তৃপক্ষ ওই কাজ বন্ধে উচ্চ আদালতের স্থগিত আদেশ দিয়ে আপত্তি জানান। নির্মাণ কাজ সাময়িক বন্ধ রাখার পর হঠাৎ করে আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে গত শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে পাবলিক টয়লেটটির ছাদ ঢালাই কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করেন। পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করার জন্য কুয়াকাটা পৌরসভা এলাকায় অঢেল জমি থাকা সত্ত্বেও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জমি দখল করে পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করার বিষয়টি উদ্দেশ্য প্রণোদিত। বৌদ্ধ বিহারের পবিত্রতা রক্ষায় এ পাবলিক টয়লেট নির্মাণ কাজ বন্ধ করা প্রয়োজন। কাজটি বন্ধ করা না হলে বিহার কর্তৃপক্ষের অপূরণীয় ক্ষতি হবে।

এ বিষয়ে কুয়াকাটা পৌর মেয়র মো. আনোয়ার হাওলাদারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কলটি রিসিভ করেননি।

এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক নুর কুতুবুল আলম  জানান, শনিবার রাতে মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে উভয় পক্ষকে কাগজপত্র নিয়ে বসতে বলা হয়েছে। সকল পক্ষের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে কোথায় পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা হবে সে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।




রাজধানীতে প্রেমিকের সঙ্গে ‘মদ্যপানে’ তরুণীর মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক : রাজধানীর হাজারীবাগে প্রেমিক ও তার বন্ধুর সঙ্গে মদ্যপানে রুবি আক্তার (১৮) নামে এক তরুণীর মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে হাজারীবাগের কালুনগর পানির পাম্প এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

জানা যায়, রুবি আক্তারের বাড়ি টাঙ্গাইলের মধুপুর এলাকায়। বর্তমানে তিনি ধানমন্ডির এক বাসায় ভাড়া থাকতেন।

হাসপাতালে নিয়ে আসা রুবির প্রেমিক মো. রিফাত বলেন, আমার আর রুবির চার মাসের সম্পর্ক। রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ঘোরাফেরা শেষে গভীর রাতে আমার বন্ধু আরমানের হাজারীবাগের কালিনগরের বাসায় নিয়ে যাই। রাতে মদ খাওয়ার পর হঠাৎ রুবি অচেতন হয়ে পড়ে। পরে সোমবার সকালের দিকে তাকে ঢামেকে আনা হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আরমান বলেন, ‘গতরাতেই রুবি ও রিফাত আমার বাসায় আসে। রাতে মদ খেয়ে রুবি অচেতন হয়ে পড়ে। পরে অচেতন অবস্থায় আমি, রিফাত ও শাওন মিলে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে এলে দায়িত্বরত চিকিৎসক জানায় রুবি আর বেঁচে নেই।

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, আমাদের ধারণা অতিরিক্ত মদ্যপানে ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এই ঘটনায় আরমান, রিফাত ও শাওন নামে তিনজনকে পুলিশ ক্যাম্পে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। পরে তাদের হাজারীবাগ থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশকে জানানো হয়েছে।




ঝালকাঠিতে শ্রমিক লীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা

চন্দ্রদীপ নিউজ: ঝালকাঠির নলছিটিতে ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেল সমিতির সভাপতি ও শ্রমিক লীগের কর্মী ইমরান হোসেনকে (৩৫) কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে পৌরসভার নান্দিকাঠি এলাকায় তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যায়। গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে নলছিটি পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানায়, নলছিটি শহর থেকে বাজার নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে খাজুরিয়া গ্রামের বাড়ি ফিরছিলেন শ্রমিক লীগের কর্মী ইমরান হোসেন।

নান্দিকাঠি এলাকায় আসলে রাস্তার মধ্যে রশি দিয়ে আটকে মোটরসাইলেসহ তাকে ফেলে দেয় দুর্বৃত্তরা। এ সময় তাকে কুপিয়ে রাস্তার পাশে ফেলে চলে যায় হামলাকারীরা। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র, লাঠি ও রশি উদ্ধার করেছে।

নিহত ইমরান হোসেন খাজুরিয়া গ্রামের আব্দুর রশীদ হাওলাদারের ছেলে। তিনি উপজেলা শ্রমিক লীগের সদস্য এবং ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল সমিতির সভাপতি ছিলেন। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।

নিহতের বড় ভাই রাসেল হাওলাদার বলেন, ইমরানের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী এলাকার ইদ্রিস হাওলাদার ও তার ছেলে আল আমিনের বিরোধ ছিল। এর আগেও ইমরানকে তারা কুপিয়ে আহত করেছিল। এবার তাকে মেরেই ফেলল।

নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরাদ আলী বলেন, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুইজনকে আটক করা হয়েছে।




পটুয়াখালী জেলা বার নির্বাচনে ৯ পদেই লড়ছে বিএনপি

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনে ৯টি পদের পূর্ণ প্যানেলে প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম।

আগামী ২৯শে ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ২০২৪-২০২৫ খ্রি. মেয়াদের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন।

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের পক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন- সভাপতি পদে এটিএম মোজাম্মেল হোসেন তপন,  সহ-সভাপতি পদে মো. মিজানুর রহমান পিকু, সাধারণ সম্পাদক পদে মো. আবুল কালাম আজাদ, সহ-সাধারণ সম্পাদক দুটি পদে মো. মিজানুর রহমান হীরন ও মো. মেহেদী হাসান উজ্জ্বল, লাইব্রেরি সম্পাদক পদে মো. রুহুল আমীন,  ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে গাজী মো. আল আমীন ও  দুটি সদস্য পদে মো. জসিম উদ্দীন এবং মো. আমির হোসাইন।

নির্বাচন  সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করার জন্য প্রবীণ আইনজীবী আনছার আলীকে চেয়ারম্যান করার জন্য ৩ সদস্যবিশিষ্ট নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে। কমিশনের  তফসিল মোতাবেক  ১৯শে ফেব্রুয়ারি  প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীগণের পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ২ল৯শে ফেব্রুয়ারি বৃহষ্পতিবার সকাল ১০ ঘটিকা হতে বিকাল ৪ ঘটিকা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ হবে।  নির্বাচনে ৫১৯ জন ভোটার তাদের ভোট প্রদান করবেন।