গাজায় কয়েকটি ‘গণহত্যা’ চালিয়েছে ইসরাইল : জাতিসঙ্ঘ বিশেষজ্ঞ

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : জাতিসঙ্ঘ অধিকারবিষয়ক এক বিশেষজ্ঞ সোমবার বলেছেন, এ কথা বলার ‘যৌক্তিক কারণ’ রয়েছে যে ইসরাইল গাজার যুদ্ধে কয়েকটি ‘গণহত্যা’ চালিয়েছে এবং ‘জনজাতি নির্মূলীকরণে’র (এথনিক ক্লেনজিং) উদ্যোগ নিয়েছে।

অভিযোগটি করেছেন ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অধিকার অবস্থা বিষয়ক জাতিসঙ্ঘ বিশেষ প্রতিনিধি আলবানিজ ফ্রাঞ্চেস্কা।

আলবানিজ বলেন, স্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে যে জাতিসঙ্ঘ গণহত্যা কনভেনশনে (জেনোসাইড কনভেনশন) তালিকাবদ্ধ পাঁচটি আইনের তিনটি লঙ্ঘন করেছে ইসরাইল।

এক প্রতিবেদনে তিনি বলেন, ‘গাজার উপর ইসরাইলের হামলার নজিরবিহীন ধরন ও ব্যাপকতা এবং জীবনের যে ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতি তারা তৈরি করেছে তা বুঝিয়ে দেয়, জাতিগোষ্ঠী হিসেবে ফিলিস্তিনিদের অস্তিত্ব লোপ করে দেয়ার অভিপ্রায় রয়েছে তাদের।’

ইসরাইল তাৎক্ষণিকভাবে এই প্রতিবেদনকে ‘বাস্তবতার অশ্লীল বিকার’” বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

আলবানিজ একজন স্বতন্ত্র বিশেষজ্ঞ। জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার পরিষদ তাকে নিযুক্ত করেছে। তবে তিনি জাতিসঙ্ঘের পক্ষে (বা মুখপাত্র হিসেবে) কথা বলেন না।

‘অ্যানাটমি অফ এ জেনোসাইড’

তার কথায়, তিনি ‘বিশ্বাস করার মতো যুক্তিগ্রাহ্য কারণ খুঁজে পেয়েছেন যে, গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে যে ধরনের গণহত্যামূলক কার্যকলাপ চালানো হয়েছে, তা গণহত্যা নির্ধারনের মাত্রায় পৌঁছেছে।’

‘অ্যানাটমি অফ এ জেনোসাইড’ শীর্ষক এই প্রতিবেদনে বিভিন্ন কার্যকলাপকে তালিকাবদ্ধ করা হয়েছে এইভাবে : ‘কোনো গোষ্ঠীর মানুষকে হত্যা করা; গোষ্ঠীর মানুষদের শারীরিক ও মানসিকভাবে গুরুতর ক্ষতি করা; গোষ্ঠীর মানুষদের অস্তিত্ব সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বিলুপ্ত করতে হিসেব করে তাদের জীবনের পরিস্থিতির উপর ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত হানা।’

জেনেভাতে ইসরাইলের কূটনৈতিক মিশন বলেছে, ‘এই প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছে’ তাদের দেশ এবং একে ‘নির্দিষ্ট ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাকে খর্ব করার উদ্দেশ্যে এক প্রচারণার সম্প্রসারিত অংশ’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

আলবানিজের ‘আপত্তিকর অভিযোগগুলোর নিন্দা করে এক বিবৃতিতে এই মিশন বলেছে, ‘ইসরাইলের যুদ্ধ হামাসের বিরুদ্ধে, ফিলিস্তিনের বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে নয়।’

আলবানিজ ও তাকে দেয়া দায়িত্বকে দীর্ঘদিন ধরে কঠোরভাবে সমালোচনা করে আসছে ইসরাইল।

হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলা (যা গাজায় যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটায়) ইহুদি-বিদ্বেষী ছিল না বলে মন্তব্য করায় গত মাসে আলবানিজের ভিসা নিষিদ্ধ করে দিয়েছিল ইসরাইল।

গণহত্যামূলক অভিপ্রায়

আলবানিজ তার প্রতিবেদন আজ মানবাধিকার পরিষদে উপস্থাপন করবেন। এই প্রতিবেদনে তিনি বলেছেন যে, ইসরাইলের ‘গণহত্যামূলক কাজ’ তাদের ‘গণহত্যামূলক অভিপ্রায়-সম্বলিত বিবৃতি’র পরেই ঘটে থাকে।

তিনি বলেন, ইসরাইলের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বিবৃতিতে ফিলিস্তিনিদের জোর করে বাস্তুচ্যুত করে ওই জায়গায় ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারীদের বসানোর অভিপ্রায় ধরা পড়েছে এবং এ থেকে ইঙ্গিত মিলছে যে ‘জনজাতি নির্মূলীকরণ ঘটাতে গণহত্যার হাতিয়ার হিসেবে এলাকা খালি করার নির্দেশিকা ও নিরাপদ অঞ্চলের ধারণাকে ব্যবহার করা হয়েছে।’

এই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ইসরাইল সকল ফিলিস্তিনি ও তাদের অবকাঠামোকে ‘সন্ত্রাসী’ বা ‘সন্ত্রাসে মদতকারী’ হিসেবে বিবেচনা করে এবং এইভাবে সবকিছু ও সবাইকে হয় লক্ষ্যবস্তু নয়ত যুদ্ধজনিত ক্ষতিতে রূপান্তরিত করা হচ্ছে।

এতে বলা হয়েছে, ‘এইভাবে গাজার কোনও ফিলিস্তিনি সংজ্ঞা অনুসারে নিরাপদ নয়। এর ধ্বংসাত্মক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রভাব রয়েছে, যাতে হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে জীবন দিতে হয়েছে।’

এই প্রতিবেদনে জোর দেয়া হয়েছে, ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরাইলের দুর্ব্যবহার ৭ অক্টোবরে শুরু হয়নি।

আলবানিজ তার প্রতিবেদনে বলেছেন, ‘গাজায় ফিলিস্তিনিদের উপর ইসরাইলের গণহত্যা, তাদের অস্তিত্ব মুছে দেয়ার জন্য বসতি স্থাপনকারী-উপনিবেশিক দীর্ঘস্থায়ী প্রক্রিয়ার সর্বোচ্চ পর্যায়।’
সূত্র : ভয়েস অব আমেরিকা




পাকিস্তানি বাহিনীর নির্যাতন সেলে ৩৩ ধরনের নিপীড়নের বিবরণ

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : পাকিস্তানি ও তাদের সহযোগী রাজাকার-আলবদর বাহিনী বাঙালিদের ওপর যে অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়েছে তার বর্ণনা এ প্রজন্মের জানা জরুরি বলে মনে করেন গবেষকরা। দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় আটটি নির্যাতন কেন্দ্র শনাক্ত করে সেখানে নির্যাতনের যে ধরনগুলো উঠে আসে, তার ভয়াবহতায় শিউরে উঠতে হয়।

তারা বলছেন, এর বাইরেও নির্যাতনের নানা ধরনের খবর পাওয়া যায় বেঁচে ফেরা মানুষদের মুখে। এর প্রচুর বিবরণ থাকা উচিত ছিল, যাতে ভবিষ্যতে নাগরিকরা বুঝতে পারে বাংলাদেশবিরোধীরা কী রকম প্রতিহিংসাপরায়ণ ছিল।

মুনতাসির মামুন ২০১৯ সালে ড. এ আর মল্লিক মেমোরিয়াল ট্রাস্ট ফান্ড উদ্বোধনী বক্তৃতায় গণহত্যার রাজনীতি নিয়ে কথা বলেন। পরবর্তী সময়ে সেই বক্তব্যটি বুকলেট হিসেবে প্রকাশ করে বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। সেখানে তিনি বলেন, বিভিন্ন জেলার জরিপ ও বিবরণীতে কিছু নির্যাতনের ধরন উঠে এসেছে। জরিপের বিবরণী থেকে মোটাদাগে ৩৩ রকমের নির্যাতনকে আলাদা করা যায়।

একাত্তরে নির্যাতন সেলের নিপীড়নের ধরন

বেশিরভাগ সেলেই হাত-পা বেঁধে, পা ওপরের দিকে তুলে ঝুলিয়ে রাখা ছিল একটি ‘সাধারণ’ নির্যাতন। খুলনা সার্কিট হাউজ, বিভিন্ন বধ্যভূমিতে গাছের সঙ্গে এভাবে ঝুলিয়ে রাখা হতো, যাতে পথচারীরা তা দেখতে পায়। এসব নির্যাতন সেলে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হতো, চাকু বা ব্লেড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশ কাটা হতো। এমনকি হাত-পা বেঁধে রান্নার বড় পাতিলের মধ্যে করে পানির হাউজে নিক্ষেপ করা হতো। নাটোরের নির্যাতন সেলে এমন ভয়াবহতার চিত্র পাওয়া যায়।

কিছু কিছু নির্যাতন সেলে বিকৃত চিত্রও পাওয়া গেছে। নাটোরের নির্যাতন সেলেই অন্য কারও যৌনাঙ্গে মুখ ঘষে নির্যাতন চালানো হতো। নারীদের বিবস্ত্র করে ফ্যানের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হতো। সেলগুলোতে পুরুষ ও নারীদের বন্দুকের বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে নির্যাতন করতো। সাতক্ষীরার নির্যাতন সেলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

জুটমিলের বয়লারে আগে মাথা ঢুকিয়ে, পরে পুরো শরীর ঢুকিয়ে পুড়িয়ে ফেলার ঘটনা পাওয়া গেছে। খুলনা ও সৈয়দপুরে এমন ভয়াবহ নির্যাতনের খোঁজ মিলেছে। এছাড়া খুলনায় হাত-পা বেঁধে জীবিত মানুষকে বস্তায় ভরে নদীতে ফেলা কিংবা কুড়াল দিয়ে বুক চিরে কলিজা বের করার মতো নৃশংস ঘটনার খোঁজ পাওয়া গেছে।

কোথাও ব্লেড বা ছুরি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশ কেটে লবণ ও মরিচের গুঁড়ো মাখিয়ে দেওয়া, পানি চাইলে মুখে প্রস্রাব ঢেলে দেওয়া, শরীরের বিভিন্ন অংশ কেটে রক্ত না বেরোনো পর্যন্ত অশ্রাব্য গালিগালাজ করা, সিগারেটের আগুন দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে ছ্যাঁকা দেওয়ার তথ্যও পাওয়া যায়। বিশেষ করে কুমিল্লার লাকসামে বন্দি নারীদের ওপর এমন নির্যাতন চালানো হতো। হাত পায়ের নখে সুচ ঢুকিয়ে দেওয়া এবং হাত পায়ের নখ উপড়ে ফেলার মতো বর্বরতাও চালানো হতো।

দড়িতে পা বেঁধে ঝুলিয়ে গরম পানিতে বারবার ডোবানো, সূর্যের দিকে মুখ করে শুইয়ে রাখাও হতো। আবার মলদ্বারে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া, নারীদের স্তন বা যোনি কেটে ফেলা কিংবা পুরুষদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কেটে ফেলেও নির্যাতন চালিয়েছে পাকবাহিনী। কোথাও গাড়ির পেছনে বেঁধে গাড়ি চালানোর তথ্যও পাওয়া গেছে। নীলফামারীতে পাট বেলিং প্রেসারের নিচে রেখে দিয়েও নির্যাতন চালানো হতো। আবার কখনও কখনও কাঁচা বাঁশের মধ্যে রেখে শরীর থেঁতলে দেওয়া হতো। এছাড়া খেজুর বা বরইয়ের কাঁটা রেখে তার ওপর গড়াগড়ি দিতে বাধ্য করা, পিচঢালা রাস্তায় সূর্যের দিকে মুখ করে দাঁড় করিয়ে রাখাও হতো।

চট্টগ্রামের পাহাড়তলি অঞ্চলে নির্যাতনের চিত্রে উঠে এসেছে। সেখানে বন্দিদের গলা কেটে ফেলা হতো। এছাড়া মাটির মধ্যে গলা পর্যন্ত পুঁতে রাখা, বিষ পিঁপড়া শরীরে লেলিয়ে দেওয়ার (বেলতলি গণহত্যা) ঘটনাও ঘটেছে।

আবার দড়ি দিয়ে বেঁধে নৌকা বা লঞ্চের সঙ্গে বেঁধে টেনে নেওয়া, নগ্ন করে বরফের স্লাবে শুইয়ে রাখা, অন্ধকার ঘরে ২৪ ঘণ্টা আলো জ্বেলে রাখা এবং চোখে এসিড ঢেলে দেওয়ার (নাটোর) তথ্য পাওয়া গেছে।

মুনতাসির মামুন তার বক্তৃতায় বলেছেন, এগুলো কিছু উদাহরণ মাত্র। আরও কত রকমের অত্যাচার করা হতো তা বর্ণনা করা যাবে মুক্তিযুদ্ধের ওপর বিভিন্ন বই পড়লে।

আগামী প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আরও ব্যাপকভাবে তুলে ধরা জরুরি কেন এবং করণীয় কী জানতে চাইলে শহীদ সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেনের সন্তান তৌহীদ রেজা নূর বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধকালে নির্যাতনের ইতিহাস পরবর্তী প্রজন্মের কাছে বারবার তুলে ধরতে হবে। বিশ্বে যত জেনোসাইড হয়েছে, প্রতিটির ক্ষেত্রে প্রজন্ম পর প্রজন্ম ইতিহাসটাকে ধরে রাখার চেষ্টা দেখা গেছে। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গবেষণা কাজের সঙ্গে আগ্রহী তরুণদের ব্যাপক হারে যুক্ত করা দরকার। বিশেষত যার যার এলাকার মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিভিন্ন সাইট শনাক্ত করা এবং সংরক্ষণ করার কাজে ছেলেমেয়ে নির্বিশেষে তরুণদের যুক্ত করতে হবে। সঠিক তথ্য ও ইতিহাসের উপাদান নিশ্চিত করতে ওয়াকিবহাল ও যোগ্য একটি টিমের ছায়াতলে সার্বিক কাজ বাস্তবায়ন করা জরুরি।’

মুনতাসির মামুন তার বক্তৃতায় করণীয় উল্লেখ করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের সহযোগী রাজাকার-আলবদর বাহিনী বাঙালিদের ওপর যে নির্যাতন চালিয়েছে, তার প্রচুর বিবরণ লিপিবদ্ধ করা উচিত, যাতে তরুণ প্রজন্ম বুঝতে পারে কীভাবে পাকিস্তানবিরোধীরা অত্যাচার করেছিল। এবং তারা যেন প্রশ্ন তুলতে পারে, যারা এসব ঘটিয়েছে এবং যারা এদের সমর্থন করে বাংলাদেশে তাদের রাজনীতির অধিকার থাকতে পারে কিনা?




চালকের গাফিলতিতে অ্যাম্বুলেন্সেই রোগীর মৃত্যু

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

পটুয়াখালীতে চালকের দ্বায়িত্বহীনতার কারণে অ্যাম্বুলেন্সেই রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় ট্রাফিক পুলিশ গাড়ি আটকে রেখেছে এমন কথা ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যের ওপর হামলা চালায়। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা ঢাকা কুয়াকাটা মহাসড়কে এসে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করে।

রোববার (২৪ মার্চ) সন্ধ্যায় পটুয়াখালীর হেতালিয়া বাধঘাট এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

ঘণ্টাব্যাপী রাস্তায় বিক্ষোভ চলার কারণে সড়কের প্রায় চার কিলোমিটার রাস্তা জুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থলে থানা পুলিশ এসে পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে নেয়।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালী থেকে অ্যাম্বুলেন্স চালক ফাঁকা রাস্তায় হুইসেল বাজিয়ে যাচ্ছিলেন।
হেতালিয়া বাধঘাট এলাকায় দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জন মাখন লাল অ্যাম্বুলেন্সে কোনো রোগী না থাকায় তাকে জবাবদিহির আওতায় আনেন। তার  অ্যাম্বুলেন্সের বৈধ কাগজপত্রে ত্রুটি থাকায় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণে উদ্যোগ নেন। পরে অ্যাম্বুলেন্সচালক মুমূর্ষু রোগী আনতে যাওয়ার কথা বললে তার ড্রাইভিং লাইসেন্স রেখে তাকে ছাড়া হয় এবং রোগী নিয়ে ফেরার পথে লাইসেন্স ফেরত নেওয়ার কথা জানান।

কিছুক্ষণ পরে ড্রাইভার রোগী নিয়ে ফেরার পথে ট্রাফিক বক্সের সামনে দাঁড়ায় এবং ট্রাফিক পুলিশকে খুঁজতে থাকেন। অ্যাম্বুলেন্সে মুমূর্ষ রোগী থাকা সত্ত্বেও এভাবেই তিনি ২৫-৩০ মিনিট অপেক্ষা করেন। এ সময় চিকিৎসার উদ্দেশ্যে আসা বেবি বেগম (৫৫) নামের এক মুমূর্ষ রোগী অ্যাম্বুলেন্সেই মৃত্যুবরণ করেন। মৃত বেবি বেগম পটুয়াখালী সদর উপজেলার মরিচবুইয়া ইউনিয়নের কলাগাছিয়া গ্রামের শাহ শহিদুল ইসলামের স্ত্রী।

পরে স্থানীয়রা জানতে চাইলে ড্রাইভার বলেন, ট্রাফিক সার্জন তাকে দাঁড় করিয়ে রাখায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে রাস্তায় দায়িত্বরত জাকির ট্রাফিক সদস্যের ওপর হামলা করে। আহত ট্রাফিক সদস্যকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

আরো পড়ুন : টকটকে লাল ও সুস্বাদু রাঙ্গাবালীর ‘রাঙা তরমুজ’

অ্যাম্বুলেন্স চালক বিজন হাওলাদার বলেন, আমি রোগী আনতে যাওয়ার সময় হুইসেল বাজিয়ে যাচ্ছিলাম তখন মাখনলাল স্যারে আমার লাইসেন্স রাইখা দেয় আর কয় যে যাওয়ার কালে লাইসেন্স লইয়া যাইতে। আমি লাইসেন্স নেওয়ার জন্য দাঁড়ায়ে ছিলাম। আর তখনই রোগী মারা যায়।

বেবি বেগমের ছেলে মেহেদী বলেন, আমি কলাগাছিয়া থেকে পটুয়াখালী পর্যন্ত আইন্নাও আমার মারে হাসপাতালে নিতে পারিনি। ড্রাইভারকে বার বার অনুরোধ করার পরও তিনি কইছে আমি এহন গেলে পরে লাইসেন্স পামু না। আমি এর বিচার চাই।

হামলার শিকার হওয়া আহত ট্রাফিক সদস্য জাকির বলেন, আজ আমার ও মাখনলাল স্যারের হেতালিয়া বাধঘাট এলাকায় ডিউটি ছিল। আমি মাগরিবের আগ মুহূর্তে বাসায় আসি এবং ইফতার ও মাগরিবের নামাজ শেষ করে আবারও ডিউটিতে যাই। আমি যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাবলিক ‘আইছে’ বলে আমার দিকে দৌড়ে আসে এবং মারধর করে। এসময় তারা আমার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও ভাঙচুর করে।




গলাচিপায় কলেজছাত্র জিসান হত্যা ঘটনায় ২ জন আটক

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

পটুয়াখালীর গলাচিপায় কলেজছাত্র জিসান হত্যা মামলার দুই আসামিকে আটক করেছে র‌্যাব সদস্য।

রোববার (২৪ মার্চ) দুপুরে পটুয়াখালী র‌্যাব ক্যাম্পে র‌্যাবের বরিশাল বিভাগীয় অধিনায়ক যোবায়ের আলম শোভন এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

আটকরা হলেন প্রধান অভিযুক্ত বাপ্পি চৌকিদার (১৮) এবং তার অন্যতম সহযোগী মাহিন শিয়ালী (১৮)।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, শ্বাসরুদ্ধকর ৬৫ ঘণ্টার অভিযান চালিয়ে শুক্রবার ভোলার দক্ষিণ আইচা থানার করিমপাড়ার একটি বিচ্ছিন্ন চর এলাকা হতে পলাতক প্রধান অভিযুক্ত বাপ্পিকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-৮।

এর আগে শনিবার ভিন্ন একটি অভিযানে র‌্যাব-১৫-এর সহযোগিতায় দ্বিতীয় আসামি মাহিনকে বান্দরবান পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ড আর্মি পাড়া হতে গ্রেফতার করা হয়।

আরো পড়ুন : কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে আসছে মৃত জেলিফিশ

প্রেস ব্রিফিংয়ে র‌্যাব আরো জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার আসামিরা ঘটনার সাথে তাদের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছে। মামলা হওয়ায় গ্রেফতার থেকে বাঁচতে তারা আত্মগোপন করেছিল। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

উল্লেখ্য, ৮ মার্চ গলাচিপা উপজেলার দক্ষিন চর বিশ্বাস গ্রামের বাসিন্দা মশিউর রহমান ডাকের মারধর শিকার হয়। এ ঘটনায় ১১ দিন চিকিৎসার পর গত ১৯ মার্চ জিসানের মৃত্যু হয়। পরে জিসানের বাবা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গালাচিপা থানায় মামলা করেন।




সম্পত্তি লিখে নিয়ে মাকে পিটিয়ে ঘরছাড়া করল ১০ সন্তান

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : সব সম্পত্তি লিখে নিয়ে মাকে মারধরের পর ঘর থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সন্তানদের বিরুদ্ধে। ৮২ বছরের হতভাগ্য ১০ সন্তানের মা ফরিদা বেগম এখন ঘুরছেন রাস্তায় রাস্তায়। মাদারীপুর সদর উপজেলার পৌর পেয়ারপুর গ্রামের এ ঘটনায় তোলপাড় এলাকা।

জানা যায়, স্বামী কলম গড়িয়া মারা গেছেন ৩৫ বছর আগে। অনেক কষ্ট করে চার ছেলেকেই করেছেন প্রতিষ্ঠিত। এর মধ্যে বড় ছেলে দেলোয়ার গড়িয়া কাঁচামাল ব্যবসায়ী, মেজ ছেলে কামাল টিটিসিতে চাকরি করেন, এর পর সেজ ছেলে হেমায়েত পল্লী চিকিৎসক, আর ছোট ছেলে কাজল গড়িয়া এলজিইডিতে টেকনিশিয়ান হিসেবে কর্মরত। এ ছাড়া ৬ মেয়েকে বিয়েও দিয়েছেন সম্ভ্রান্ত পরিবারে।

এই ১০ সন্তানের বিরুদ্ধেই ফরিদার অভিযোগ। তবে এই অভিযোগের তীর সবচেয়ে বেশি বড় ছেলে দেলোয়ার, আর ছোট ছেলে কাজলের ওপর।

ফরিদা বেগম জানান, স্বামীর দান করা ও রেখে যাওয়া ৬৭ শতাংশ ফসলি জমি বিক্রি করে সন্তানদের মানুষ করেছেন। আর বাড়ির ৪৫ শতাংশ জমি বিভিন্ন সময়ে কারণে-অকারণে লিখে নিয়ে গেছে সন্তানরা। দলিলে লাখ লাখ টাকা জমির মূল্য দেখালেও ফরিদাকে দেওয়া হয়নি একটি টাকাও। সম্প্রতি সব কিছু লিখে নেওয়ার পর মারধর করে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছোট ছেলে কাজল গড়িয়ার বিরুদ্ধে।

এমন অবস্থায় বড় ছেলে দেলোয়ার তার মাকে বিষ খেয়ে মরে যেতে বলেছে। এর পর রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন হতভাগ্য এই মা।

ছোট ছেলে মারধর করে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার পর আশ্রয় নিয়েছিলেন বড় মেয়ে সুফিয়া বেগমের বাড়িতে। সম্পত্তির ভাগ কম হওয়ায় বড় মেয়েও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মাকে দেখভাল করবেন না। আর অন্য ছেলেদের মুখেও একই কথা।

তবে মাকে মারধর করে ঘর থেকে বের করে দেওয়া আর জোর করে সব সম্পত্তি লিখে নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তরা। ফরিদার ১০ সন্তানের এমন কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীও। দোষীদের বিচারের পাশাপাশি ফরিদার সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি তাদের। সরকারিভাবে আইনগত সহায়তার পাশাপাশি ফরিদা বেগমের পাশে দাঁড়ানোর কথা জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

ফরিদা বেগমের ছোট ছেলে কাজল গড়িয়া বলেন, আমার মায়ের মাথায় একটু সমস্যা আছে। তাই মাঝে মাঝে উল্টাপাল্টা বলে। আমি মাকে মারধর করিনি আর জোর করে সম্পত্তিও লিখে নিইনি। মা আমার নামে মিথ্যে কথা বলছে। আমার মা, ভাইদের একই সম্পত্তি বারবার লিখে দেওয়ায় সমস্যা হয়েছে। আমাদের ভাইদের মধ্যে দ্বন্দ্ব হয়েছে।




পটুয়াখালীতে পুরুষাঙ্গ কেটে দিল স্ত্রী

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

পটুয়াখালীর দশমিনায় পারিবারিক কলহের জেরে সোহেল খাঁ (৩৫) নামে এক যুবকের পুরুষাঙ্গ কেটে দিয়েছে তার স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন (৪০)।

শুক্রবার গভীর রাতে উপজেলা সদর ইউনিয়ের পূজাঁ খোলা এলাকার ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। ওই দম্পতি দশমিনা ২নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।

পুলিশ ঘটনাস্থন থেকে আলামত হিসাবে ছুড়ি ও গৃহবধূকে আটক করে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে পূজা খোলা ভাড়া বাসায় পারিবারিক ঝগড়াকে কেন্দ্র করে স্ত্রী তার স্বামীর পুরুষাঙ্গ ও ডান পা কেটে দেন। এসময় স্বামীর চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে এমন ঘটনা দেখতে পান। পরে গুরুত্বর অবস্থায় সোহেল খাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। রোগীর শরীরের অবস্থার অবনতি দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করলে সেখান থেকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করেন।

আরো পড়ুন :বাউফলে বাড়ছে অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি : উপজেলা নির্বাচনে ব্যবহারের আশঙ্কা

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানাগেছে, দীর্ঘদিন যাবত ভাড়া বাসায় থেকে ওই দম্পতি মেকানিক্সের কাজ করতেন। উপজেলার দশমিনা গ্রামের বেল্লাল খাঁর ছেলে সোহেল ও অভিযুক্ত সাবিনা ইয়াসমিন পাশাপাশি গ্রামের ছত্তার কাজীর মেয়ে।

এ বিষয়ে দশমিনা থানার ওসি নূরুল ইসলাম মজুমদার এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনার পর আলামত ও অভিযুক্ত গৃহবধূকে পুলিশ আটক করেছেন। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।




বাউফলে বাড়ছে অবৈধ অস্ত্র : উপজেলা নির্বাচনে ব্যবহারের আশঙ্কা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি : বাউফলে ক্রমেই বাড়ছে অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল ও অন্যান্য অপরাধে ব্যবহার হচ্ছে এসব অবৈধ অস্ত্র। অহরহ ঘটছে অস্ত্র প্রদর্শন, ফাঁকা গুলি ও হতাহতের ঘটনা। এসব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে নেই কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি। ফলে জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সম্প্রতি বড় ভাইয়ের অবৈধ অস্ত্রের গুলিতে প্রতিবন্ধী ছোট ভাই নিহত হওয়ার ঘটনায় বাউফলে আবারো আলোচনার শীর্ষে উঠে আসে অবৈধ অস্ত্র।

সূত্র জানায়, গত ৯ মার্চ উপজেলার সূর্যমণি গ্রামের বাবুল সওদাগরের বড় ছেলে পৌর শহরের নবারুণ সার্ভে অ্যান্ড পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ৬ষ্ঠ সেমিস্টারের ছাত্র সজীব হোসেন (২২) তার কাছে থাকা অবৈধ পিস্তল নাড়াচাড়া করতে গিয়ে বেড়িয়ে যাওয়া গুলিতে নিহত হন প্রতিবন্ধী ছোট ভাই সাব্বির হোসেন (১৩)। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত সজীবকে আটক করে এবং তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী পিস্তলটি জব্দ করে।

এ ঘটনায় উপজেলাজুড়ে অবৈধ অস্ত্র নিয়ে আলোচনার ঝড় উঠে। অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার এবং হত্যার অভিযোগে সজীবের নামে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। অবৈধ অস্ত্র মামলার বাদী পুলিশ এবং হত্যা মামলার বাদী অভিযুক্ত সজীবের মা রাশেদা বেগম। দুই মামলায় জেলহাজতে পাঠানো হলে সজীব অবৈধ অস্ত্রের ব্যাপারে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ এর বেশি কিছু বলছেন না।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সজীব ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে নিজের লেখাপড়ার খরচ জোগান। তার সঙ্গে শহরের একটি সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর সম্পর্ক গড়ে উঠে। ওই সন্ত্রাসীরা সজীবকে অবৈধ অস্ত্র পরিবহনে ব্যবহার করে আসছিলেন।

আরো পড়ুন : দুমকিতে চলাচলের পথে কাঁটাতারের বেড়া, এলাকাবাসীর মানববন্ধন

চলতি বছর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগা ইউনিয়নে নৌকার উঠান বৈঠক শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে হামলার শিকার হন ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি রেজাউল খান। হামলার সময় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে সন্ত্রাসীরা অবৈধ শর্টগানের ফাঁকা গুলি ছুড়েছিল। এ ঘটনায় রেজাউল গুরুতর আহত হয়ে পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

২০১৮ সালে বাউফল সদর ইউনিয়নে এক সভায় স্থানীয় এমপি ও সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজের ছেলে আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিকবিষয়ক কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্য রায়হান শাকিবকে প্রকাশ্যে অবৈধ অস্ত্র দিয়ে হুমকি দেয়া হয়েছিল।

২০২১ সালে অনুষ্ঠিত নওমালা ইউপি নির্বাচনে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দেখা গেছে। ওই সময় অবৈধ অস্ত্রের গুলিতে একজন আহত হয়েছিলেন।

এসব ঘটনায় একাধিক মামলা হলেও উদ্ধার হয়নি কোনো অস্ত্র। অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও জনমনে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

সূত্র জানায়, বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক বিরোধের জের, স্থানীয় নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও রাজনৈতিক নেতাদের সুনজরে থাকতেই ব্যবহার হচ্ছে ওই সব অবৈধ অস্ত্র।

জানা গেছে, ওয়ান শুটারগান, পাইপগান, এলজি, একে-২২, বিদেশি নাইন এমএম পিস্তল, সেভেন পয়েন্ট সিক্স ফাইভ, নাইন এমএম, পয়েন্ট টু টু রিভলবারের মতো আগ্নেয়াস্ত্র এবং রাম দা, বাগি দা ও গিয়ার চাকু জাতীয় অস্ত্রও রয়েছে সন্ত্রাসীদের হাতে। বিভিন্ন সময় এসব অস্ত্র পরিবহনে ‘কিশোর অপরাধী চক্র এবং মোটরসাইকেলের চালকদের ব্যবহার করা হয়।

বাউফলের সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শামসুল আলম মিয়া বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে অস্ত্র উদ্ধার অভিযান কোনোভাবেই সন্তোষজনক বলা চলে না। অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি এবং মাদকের দাপটে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত এবং উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিনাতিপাত করছেন। শীঘ্রই আসছে উপজেলা পরিষদের নির্বাচন। ওই নির্বাচনেও আধিপত্য বিস্তার করতে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতি সাবেক চিফ হুইপ স্থানীয় এমপি আ স ম ফিরোজ বলেন, বিগত বিশ-ত্রিশ বছরে এ রকম অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি দেখিনি। একই সঙ্গে মাদকে সয়লাব হয়ে যাচ্ছে বাউফল। এ কারণে যুব ও তরুণ সমাজ ধংসের পথে। জরুরি ভিত্তিতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হোতাদের ধরতে পুলিশের ঊধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। আশা করি দ্রুতই তারা পদক্ষেপ নেবেন।

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার সম্পর্কে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শোনিত কুমার গায়েন বলেন, আমি যোগদান করার পর থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনার কাজ শুরু করেছি। এছাড়া মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এর বেশি কিছু বলা যাবে না।

 




বাজারে এসেই জাটকা হয়ে যাচ্ছে ‘চাপিলা মাছ’

পটুয়াখালী প্রতিনিধি : নিষেধাজ্ঞার ২৩ তম দিনে পটুয়াখালীর বাউফলে বাজার সয়লাব হয়ে গেছে জাটকায়। প্রজননের অভায়ারণ্য হিসেবে চিহ্নিত তেঁতুলিয়া নদীর বাউফল সীমানায় ৪০ কিলোমিটার এলাকায় নিষিদ্ধ বাঁধা জাল, গোপজাল, বেহুন্দিজাল ও কারেন্ট জালে অবাধে ধরা পড়ছে ইলিশের পোনা। সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জেলেরা প্রতিনিয়ত শিকার করছেন লাখ লাখ জাটকা। ইলিশের এই পোনাকে এলাকার হাট-বাজারে ‘চাপিলা মাছ’ বলে বিক্রি করা হয়। অথচ জেলে ও বিক্রেতা সকলেই স্বীকার করছেন এগুলো জাটকা বা ইলিশের পোনা।

জানা গেছে, প্রজননকেন্দ্র খ্যাত তেঁতুলিয়ার মোট ৪০ কিলোমিটার এলাকা গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ইলিশের অভয়াশ্রম ঘোষণা করে ৬০ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করে মৎস্য অধিদপ্তর। এ নিষেধাজ্ঞা গত ১ মার্চ থেকে শুরু হয়ে চলবে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত। এ সময় কোনো ধরনের মাছ শিকার ও বাজারজাত করা নিষেধ। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার কোনো চিহ্নও লক্ষ্য করা যায়নি নদীতে কিংবা বাজারগুলোতে। অনেকটা প্রকাশ্যেই প্রতিটি বাজারে মাছের ট্রেতে ভাগ দিয়ে বিক্রি হচ্ছে চাপিলা নামের ইলিশের বাচ্চা।

নদীতে সাড়ে তিন ইঞ্চির কম ফাঁসের জাল ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। জেলেরা ছোট ফাঁসের নিষিদ্ধ বাঁধা জাল, গোপজাল, বেহুন্দিজাল, বেড় জাল ও কারেন্ট জাল ব্যবহার করে প্রতিদিন জাটকা শিকার করছেন। মাঝে মাঝে অভিযান চালায় মৎস্য অফিস। অভিযোগ রয়েছে অভিযানে কোনো জেলে গ্রেপ্তার হন না। নদীতে পৌঁছার আগেই মৎস্য কর্মকর্তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালিয়ে যান।

কর্মকর্তাদের সঙ্গে রয়েছে জেলেদের যোগসাজশ। অভিযানে উদ্ধার হয় অবৈধ জাল। উদ্ধার হওয়া জাল পুনরায় বিক্রি হয় জেলেদের কাছে- এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

জেলেরা জানিয়েছেন (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক), বর্তমানে তেঁতুলিয়া নদীর পাড়ে ২ ঝুড়ি জাটকা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১২০০ টাকায়। এগুলো বাজারে চাপিলা নামে বিক্রি করলেও সবই ইলিশের বাচ্চ বা জাটকা।

মৎস্য কর্মকর্তা মাহাবুবুল আলম ঝান্টা বলেন, অভয়াশ্রম রক্ষায় বাউফলের ৪০ কিমি এলাকায় ৬০ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলছে। আমারা নদীতে আছি। আমাদের কোনো নৌযান না থাকায় ঠিকভাবে অভিযান পরিচালনা করতে পারি না। তাছাড়া আমাদের সরকারিভাবে কোনো নৌযান ভাড়া পরিশোধ করা হয় না। আমারা নিজস্ব টাকায় ১টি ট্রলার নিয়ে অভিযান চালাই।

কেন আপনারা কোনো নৌকা আটক করতে পারছেন না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জেলেদের ট্রলার আমাদের ট্রলারের চেয়ে দ্রুতগামী হওয়ায় আমরা তাদের আটক করতে পারি না।




পটুয়াখালীতে গ্রাহকদের টাকা ‘আত্মসাৎ’, এনজিও কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি : 

পটুয়াখালীতে গ্রাহকদের ঋণ দেওয়ার কথা বলে সাড়ে ১২ লাখ টাকা হাতিয়ে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টারের (রিক) পা‌লিয়ে যাওয়া ক্রেডিট অফিসার কাওসার আলীসহ দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। 

শুক্রবার (২২ মার্চ) দুপুরে পটুয়াখালী সদর থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ওসি মো. জসিম এ তথ্য জানান। এদিকে কাওসার আলীর গ্রেপ্তারের খবরে থানায় ছুটে আসেন প্রতারিত মানুষেরা।

এ সময় তারা তাদের অর্থ উদ্ধারের পাশাপাশি প্রতারকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।

ওসি মো. জসিম বলেন,  গত ৮ মার্চ রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক) নামে এই প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক বনভোজন ছিল।

এ সময় শারীরিক অসুস্থতার অজুহাতে ক্রেডিট অফিসার কাওসার আলী কুয়াকাটা না গিয়ে অফিস কার্যালয়ে অবস্থান করেন। পরে তিনি ১৩টি সমিতির ৮৩ জন সদস্যদের ঋণ আবেদনের গচ্ছিত জামানতের সাড়ে ১২ লাখ টাকা ও একটি হিরো ব্রান্ডের মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যান।

এ ঘটনা জানাজানি হলে সংস্থাটির সদস্যরা অফিসের সামনে এসে হট্টগোল করেন। নিজেদের আমানত হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পরেন খেটে খাওয়া মানুষ।

পরে অভিযুক্ত ক্রেডিট অফিসার কাওসার আলীর অফিসিয়াল জামিনদার আশরাফুল ইসলামের যোগাযোগ করলে, তিনি চুরির ঘটনা স্বীকার করে টাকা ও মোটরসাইকেল ফেরত দেওয়ার কথা জানান। তবে কয়দিন পর উভয় আত্মগোপনে চলে যায়। পরে গত ১৭ মার্চ উক্ত ঘটনায় সদর থানায় দুজনকে আসামি করে রিকের শাখা ব্যবস্থাপক মিরাজ শেখ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে ও নওগাঁ পুলিশের সহযোগিতায় সাপাহার থানার এরেন্দা এলাকা থেকে মূল আসামি কাওসার আলীকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানান ওসি মো. জসীম।




অ্যাপলের বিরুদ্ধে মামলা যুক্তরাষ্ট্রের