বরিশালে সাবান চুরির সাজানো মামলায় কারাভোগ

বরিশাল অফিস :: মাত্র একটি সাবান চুরির ঘটনায় সাজানো মামলায় ঘটনাস্থলে না থেকেও প্রধান আসামি হয়ে সাতদিন কারাভোগ করতে হয়েছে মোস্তফা কামালকে।

বরিশাল নগরীর ২৮নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত মোজাফফর খলিফার ছেলে মোস্তফা কামালকে কারাগারে পাঠিয়ে প্রতিপক্ষের লোকজনে বিরোধপূর্ণ জমিতে আদালতের দুই দফার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তড়িঘড়ি করে দ্রুত ভবন নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে মামলার বাদী আলমগীর হোসেন বলেন, সাবান চুরির ঘটনায় মারামারিটা মোস্তফা কামাল নাকি তার লোকজন দিয়ে করিয়েছে। সে কারনে তাকে আসামি করা হয়েছে। তবে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে মোস্তফাকে দেখিনি।

ওই মামলায় সাতদিন কারাভোগ করে জামিনে বেরিয়ে রবিবার সকালে মোস্তফা কামাল বলেন, যে মামলায় আমি হাজতবাস করেছি, সেই ঘটনার সাথে আমার কোনধরনের সম্পৃক্ততা নেই।পুলিশ প্রশাসন এজাহার গ্রহণের পূর্বে সরেজমিনে তদন্ত করলে আমাকে কারভোগ করতে হতো না। মোস্তফা কামাল অভিযোগ করে বলেন, একই এলাকার মৃত আবুল হোসেনের ছেলে
বোরহান উদ্দিনের সাথে জমিজমা দিয়ে দীর্ঘদিন থেকে আমার বিরোধ চলে আসছে। ওই বিরোধের জেরধরে আমার জমি দখলের জন্য থানা পুলিশের সাথে আতাত করে সাবান চুরির ঘটনায় সৃষ্ট মারধরের ঘটনায় আমাকে প্রধান আসামি করে এয়ারপোর্ট থানায় মামলা দায়ের করা হয়। সেই সাজানো মামলায় পুলিশ কোনধরনের তদন্ত না করেই গত ৯ এপ্রিল গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। গত ১৫ এপ্রিল জামিনে বেরিয়ে তিনি (মোস্তফা কামাল) দেখতে পান বোরহান উদ্দিন তার জমি দখল করে আদালতের দুইদফা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দ্রæত গতিতে ভবন নির্মান করে আসছেন।

জানা গেছে, গত ২৪ মার্চ নগরীর কাশিপুর আনসার অফিসের বিপরীত পার্শ্বে নির্মাণাধীন ভবনের শ্রমিকরা পাশের একটি পুকুরে গোসল করতে যায়। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দা রুবেলের রেখে যাওয়া সাবান নিয়ে যায় শ্রমিকরা। পরে রুবেল এসে সাবান খুজে না পেয়ে শ্রমিকদের সাথে বাগবিতন্ডার একপর্যায়ে হাতাহাতি হয়। এসময় কয়েকজন শ্রমিক মিলে রুবেলকে মারধর করেন। খবর পেয়ে রুবেলের বাড়ির লোকজন আসলে পাল্টাপাল্টি মারামারির ঘটনা ঘটে। সাবান চুরি থেকে মারামারির ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে বোরহান উদ্দিন শ্রমিক আলমগীরকে দিয়ে এয়ারপোর্ট থানায় মামলা করিয়েছেন। ওই মামলায় মোস্তফা কামালকে প্রধান আসামি করা হয়। পুলিশ মামলার অভিযোগের তদন্ত না করেই এজাহারভূক্ত করে ঈদের আগ মুহুর্তে মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করেন।

অভিযুক্ত বোরহান উদ্দিন বলেন, জমিতে নিষেধাজ্ঞা আছে কিনা সেটা দেখবে আদালত। মোস্তফা গংরা আমার নির্মাণাধীণ ভবনের শ্রমিকদের উপর হামলা চালিয়ে মালামাল নিয়ে গেছে। এ কারণে আমার শ্রমিক আলমগীর বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার বাদী আলমগীর হোসেন বলেন, মারামারিটা নাকি মোস্তফা কামালই তার লোকজন দিয়ে করিয়েছেন। সে কারনে তাকে আসামি করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এয়ারপোর্ট থানার এসআই সুমন চন্দ্র মজুমদার বলেন, মামলা দায়েরের পর প্রধান আসামি মোস্তফা কামালকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিরা জামিনে রয়েছে।

বরিশাল এয়ারপোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম মাসুদ আলম চৌধুরী বলেন, তদন্ত শেষেই অভিযোগটি এজাহারভূক্ত করা হয়েছে। কোন নিরপরাধ ব্যক্তি হেনস্তা হবেনা।




মুখ ঢেকে জাল ভোট দিতে গিয়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী সদর উপজেলার ভুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জাল ভোট দিতে গিয়ে শাহানাজ বেগম (২৫) নামের এক নারীকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

রোববার (২৮এপ্রিল) দুপুর ১টার দিকে ভুড়িয়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ভোট কেন্দ্র ১৬৪ নং পশ্চিম ভায়লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

আসামি শাহানাজ বেগম ভায়লা এলাকার নুরুল ইসলাম ফরাজির মেয়ে ও আলমগীর হোসেনের স্ত্রী।

আরো পড়ুন : নাতির হাত ধরে ভোট দিতে এলেন ১০৫ বছর বয়সী আব্দুল মজিদ

এ্যাক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ওই কেন্দ্রে ছদ্মবেশে দ্বিতীয় বারের মতো ভোট দিতে আসেন শাহানাজ বেগম। তখন অনেক এজেন্টদের তাকে সন্দেহ হয়। পরে তাকে চ্যালেঞ্জ করলে তিনি জাল ভোট দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন আইনের ১৮৬০ এর ১৭১এর চ ধারা অনুযায়ী তাকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

শাহানাজ বেগম একজন ইউপি সদস্য প্রার্থীর পক্ষে দ্বিতীয় বার ভোট দিতে এসে ধরা খেয়েছেন বলে তিনি স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।




তালতলীতে ৮ জনের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা

বরিশাল অফিস :: বরগুনার তালতলীতে আলোচিত আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল হওয়ার ঘটনার জেরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ছোটবগী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তৌফিকুজ্জামান তনুসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তালতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক মামলাটি করেন।

বৃহস্পতিবার আমতলী উপজেলা জুডিশিয়াল মেজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মো. আরিফুর রহমান মামলাটি আমলে নিয়ে বরগুনা ডিবি পুলিশের ওসিকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- তারেকুজ্জামান তারেক, আরিফ হোসেন, যুগান্তর পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার জসিম উদ্দিন সিকদার, কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নের শফিকুল ইসলাম ইমন, মিলন গাজী, ছোটবগীর ঠংপাড়া গ্রামের মো. ফারুক ও পচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নের তাশরিফ আহমেদ জুয়েল।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২০২২ সালের ১০ অক্টোবর মামলার ১ নম্বর আসামি তৌফিকুজ্জামান তনু তার ফেসবুক আইডির ম্যাসেঞ্জারে একটি আপত্তিকর ভিডিও প্রেরণ করেন। পূর্বকল্পিত সৃজিত ভিডিওটি প্রেরণ করে আসামি তার বড় ভাই সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মিন্টুর পক্ষে উপজেলা পরিষদে নির্বাচনে কাজ করতে হবে বলেন। তার ভাইয়ের নির্বাচন না করলে ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি প্রদান করেন এবং বিভিন্ন সময়ে ১ নম্বর আসামি ভিডিও ভাইরাল করার কাণ্ডে পঞ্চাশ লাখ টাকা দাবি করেন। গত ৩ এপ্রিল ২০২৪ বাদী ব্যাংকে যাওয়ার সময় মামলার ২ নম্বর আসামি তাকে তার অফিসে ডেকে নিয়ে একই ঘটনায় পঞ্চাশ লাখ টাকা দাবি করে। এ সময় বাদী টাকা দিতে অস্বীকার করলে তার ব্যাগে থাকা পাঁচ লাখ টাকা ২ নম্বর আসামি জোড়পূর্বক আদায় করেন।

মামলার বাদী আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদার বলেন, উদ্দেশ্যমূলকভাবে আমাকে সমাজে ছোট করার জন্য আসামিরা সিরিজ ভিডিও তৈরি করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে আদালতে পর্নোগ্রাফি আইনের মামলা করেছি।

এ ব্যাপারে আসামি তৌফিকুজ্জামান তনু বলেন, আবদুর রাজ্জাক হাওলাদার নিজের অপরাধ ঢাকতে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে।

বরগুনা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি মো. বশির আলম বলেন, এখনো মামলার নথি পাইনি। নথি পেলে তদন্ত করে প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়া হবে।




বিপুল পরিমাণ শাপলা পাতা-পিতাম্বরী ও হাঙর মাছ জব্দ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: জেলার মহিপুর থানার নিজামপুরে কোস্টগার্ডের অভিযানে নিষিদ্ধ শাপলা পাতা, পীতাম্বরী ও হাঙর মাছ জব্দ করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে বিসিজি নিজামপুর স্টেশন এ তথ্য জানায়।

কোস্টগার্ড জানান, গত বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) বৃহস্পতিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোন অধীন বিসিজি স্টেশন নিজামপুর কর্তৃক কন্টিনজেন্ট কমান্ডার আবু রাশেদ সুমনের নেতৃত্বে শিববাড়িয়া নদীতে মহিপুর জননী বরফকল ঘাট সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

আরো পড়ুন : কুয়াকাটায় রহমতের বৃষ্টি পেতে ইসতিসকার নামাজ আদায়

অভিযানে এমভি মা জননী নামের একটি কাঠের ট্রলিং বোট জব্দ করা হয়।

এ সময় বোট থেকে দুই হাজার কেজি শাপলা পাতা মাছ, তিনশত কেজি পীতাম্বরী ও ৪০ কেজি হাঙর মাছ জব্দ করা হয়।

মহিপুরের রেঞ্জ অফিসার আবুল কালাম আজাদ জানান, আমি ও কলাপাড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার প্রতিনিধি মো. মহসিন রেজার উপস্থিতি নিজামপুর কোস্টগার্ড রাত তিনটার দিকে মাটি চাপা দেয়।




রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম সংবিধানবিরোধী নয়, হাইকোর্টের রায়

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  রাষ্ট্রধর্ম ইসলামকে চ্যালেঞ্জ করে ৩৭ বছর আগে দায়ের করা রিট আবেদন সরাসরি খারিজের রায় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট বলেছেন, সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্মের স্বীকৃতি দেওয়া সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়। রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম সংবিধানের মৌলিক কাঠামোকেও আঘাত করে না।



আমতলীতে সওজের ১৫টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

আমতলীর একেস্কুল চৌরাস্তা মোরে বুধবার দুপুরে সওজের জমি দখল করে গড়ে তোলা ১৫টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আশরাফুল আলমের নেতৃত্বে এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। জানা গেছে, আমতলী একেস্কুল চৌরাস্তা মোরে সওজের জমি দখল করে স্থানীয় প্রভাবশালী মনির পঞ্চায়েত আলম পঞ্চায়েত,জাকির হাওলাদার, গফফার হাওলাদার, মহিউদ্দিন হাওলাদার, মাসুম পঞ্চায়েত, ইউনুছ ফকির ও খলিল ফকিরসহ বিভিন্ন ব্যাক্তিরা সওজের জমি দখল করে ১৫টি ঘর তুলে বিভিন্ন ব্যাক্তির নিকট ভাড়া দিয়ে আসছিলেন।

দীর্ঘদিন ধরে তাদের এ অবৈধ স্থাপনা সড়িয়ে নেওয়ার জন্য বলা হলেও তারা না সরোনোয় বুধবার দুপুরে আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মাদ আশরাফুল আলমের নেতৃত্বে এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উচ্ছেদ অভিযানের সময় উপস্থিত ছিলেন, আমতলী পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মো. মতিয়ার রহমান ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারেক হাসান। আমতলী উজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন, অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।




ট্রাক ড্রাইভার হত্যাকাণ্ডে আটক ৪, ছিনতাইকৃত রড উদ্ধার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর দশমিনায় ট্রাক ড্রাইভার আল-আমিন (৩৩) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় ছিনতাইকৃত ৯ টন রড উদ্ধার করা হয়।

মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) রাতে বাউফলের দাসপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে একতা এন্টারপ্রাইজের গোডাউন থেকে রডগুলো উদ্ধার করে পুলিশ।

একতা এন্টারপ্রাইজের স্বত্ত্বাধিকারী মাসুদ রানা রডগুলো আত্মগোপনে থাকা ট্রাকের হেলপার হাসানের কাছ থেকে ক্রয় করেছিলেন বলে জানা যায়। ছিনতাইকৃত রড ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যম করেন দশমিনার মজিবর নামের এক ঠিকাদার।

আরো পড়ুন : বৃষ্টির কামনায় পটুয়াখালী ইসতিসকার নামাজ আদায়

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চলতি মাসের ১৭ তারিখ চট্টগ্রামের আবুল খায়ের ইন্ডাট্রিজ এর কারাখানা থেকে ঢাকা মেট্রো-ট-১৬-৫১৩৮ নম্বরের ট্রাকটি ১৩ মেট্রিক টন রড নিয়ে বাউফলের কালিশুরী বাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। পরের দিন ১৮ এপ্রিল কালিশুরীর খান এন্টারপ্রাইজে রডগুলো আনলোড করার কথা। ১৮ এপ্রিল ট্রাকের ড্রাইভার আল আমিনকে ফোন করে বন্ধ পান তার মামা মো. সবুজ।

পরে ২০ এপ্রিল দশমিনার নদীতে দুহাত বাঁধা অবস্থায় অজ্ঞাতনামা পরিচয়ের এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে দশমিনা নৌ পুলিশ। পরে মামা সবুজ খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারেন ওই মরদেহ তার ভাগ্নে আল আমিনের। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরের দিন চাঁদপুরে নিয়ে দাফন করা হয়।

এ ব্যাপারে দশমিনা থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন আল-আমিনের মামা সবুজ। এরপরই ঘটনার রহস্য উদঘাটনে নামে পুলিশের একাধিক টিম।

এদিকে দাশপাড়া বাস স্ট্যান্ডের কাছে একতা এন্টারপ্রাইজের গুদাম থেকে ছিনতাই হওয়া রড জব্দ করা হলেও রহস্যজনক কারণে মালিক মাসুদ রানাকে আটক করে পুলিশ। তবে পুলিশ ওই এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার নান্নু (৪৫), কর্মচারী দিলিপ (৫০) ও শাহাদুলকে (৪০) এবং দশমিনা থেকে মজিবর নামের এক ঠিকাদারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।

আল আমিন হত্যাকান্ডের মূল নায়ক আত্মগোপনে থাকা ট্রাকের হেলপার হাসানকে আটকের জন্য অভিযান চলছে। এদিকে রড পরিবহনের কাজে নিয়োজিত ট্রাকটি পুলিশ বাকেরগঞ্জের বোয়ালিয়া বাহাদুরপুর এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে।

আল আমিনের মামা সবুজ বলেন, ছোটবেলায় আল আমিনের বাবা মা মারা যান। এরপর থেকে আমার কাছেই বড় হন আল আমিন। আমার এতিম ভাগ্নেকে নির্মমভাবে খুন করা হলো। আমি খুনিদের উপযুক্ত বিচার চাই।

এদিকে কালাইয়া গুদাম থেকে ছিনতাই হওয়া রড জব্দ করা হলেও রহস্যজনক কারণে একতা এন্টারপ্রাইজের মালিক মাসুদ রানাকে আটক করেনি পুলিশ।

আরো পড়ুন : তীব্র তাপদহে বিপর্যস্ত উপকূলের জনজীবন

ছিনতাইকৃত রড ক্রয়ের ব্যাপারে মাসুদ রানা বলেন, আমি মজিবর নামের এক ঠিকাদারের কাছ থেকে রডগুলো ক্রয় করেছি। তিনি (মজিবর) আমার পূর্ব পরিচিত। রডগুলো ছিনতাইকৃত কিনা তা আমার জানা ছিল না। আল আমিন হত্যাকাণ্ডের বিষয় আমি কিছুই জানি না। আমি নির্দোষ।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দশমিনা নৌ পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আল মামুন বলেন, ট্রাকের ড্রাইভার আল আমিনকে খুন করে ঘাতকরা রডগুলো কালাইয়া বাজারের একতা এন্টারপ্রাইজের মালিক মাসুদ রানার কাছে নগদ টাকায় বিক্রি করে দেয়। মাসুদ রানা ওই রডগুলো গুদামে রেখে দেন। তদন্তের একপর্যায়ে নিশ্চিত হয়েই রডগুলো মঙ্গলবার রাতে ওই গুদাম থেকে জব্দ করা হয়।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শোনিত কুমার গায়েন বলেন, বিষয়টি দশমিনা থানার, রড উদ্ধারের সময় আমরা সহযোগিতা করেছি মাত্র। এর বাইরে আর কিছুই বলতে পারছি না।

এ প্রসঙ্গে পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার মো.সাইদুল ইসলাম বলেন, মামলার তদন্ত এখন পর্যন্ত শেষ হয়নি। তদন্তে যারা অপরাধী প্রমাণিত হবে তাদের প্রত্যেকেই আইনের আওতায় আনা হবে।




ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ছিনতাইকৃত রড উদ্ধার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফলে ট্রাকচালক আল-আমিন (৩৩) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ছিনতাইকৃত নয় মেট্রিক টন রড উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার রাতে উপজেলার দাসপাড়া বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে একতা এন্টারপ্রাইজের গোডাউন থেকে রডগুলো উদ্ধার করে পুলিশ।

আত্মগোপনে থাকা একতা এন্টারপ্রাইজের স্বত্ত্বাধিকারী মাসুদ রানা রডগুলো ট্রাকের হেলপার হাসানের কাছ থেকে ক্রয় করেছিলেন বলে জানা যায়। ছিনতাইকৃত রড ক্রয়-বিক্রয়ের মধ্যস্থতা করেন দশমিনার মজিবর নামের এক ঠিকাদার।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১৭ এপ্রিল চট্টগ্রামের আবুল খায়ের ইন্ডাট্রিজের কারাখানা থেকে ঢাকা মেট্রো -ট-১৬-৫১৩৮ নম্বরের ট্রাকটি ১৩ মেট্রিক টন রড নিয়ে বাউফলের কালিশুরী বাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। পরের দিন ১৮ এপ্রিল কালিশুরীর খান এন্টারপ্রাইজে রডগুলো আনলোড করার কথা। কিন্তু ১৮ এপ্রিল ট্রাকচালক আল-আমিনকে ফোন করে বন্ধ পান তার মামা মো. সবুজ। ২০ এপ্রিল দশমিনার নদীতে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।

আরো পড়ুন : বাউফলে ডায়রিয়ার প্রকোপ, হাসপাতালে স্যালাইনের সংকটসহ নানা সমস্যা

পরে মামা সবুজ খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারেন ওই লাশ তার ভাগ্নে আল-আমিনের। ময়নাতদন্ত শেষে আল-আমিনের লাশ পরের দিন চাঁদপুরে নিয়ে দাফন করা হয়। এ ব্যাপারে দশমিনা থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন আল-আমিনের মামা সবুজ। এরপরই ঘটনার রহস্য উদঘাটনে নামে পুলিশের একাধিক টিম।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দশমিনা নৌ পুলিশের এসআই আল মামুন বলেন, ট্রাকচালক আল-আমিনকে খুন করে ঘাতকরা রডগুলো কালাইয়া বাজারের একতা এন্টারপ্রাইজের মালিক মাসুদ রানার কাছে নগদ টাকায় বিক্রি করে দেয়। মাসুদ রানা ওই রডগুলো গুদামে রেখে দেন। তদন্তের একপর্যায়ে নিশ্চিত হয়েই রডগুলো মঙ্গলবার রাতে ওই গুদাম থেকে জব্দ করা হয়। আর আল-আমিন হত্যাকাণ্ডের মূল নায়ক আত্মগোপনে থাকা ট্রাকচালকের সহকারী হাসানকে আটকের জন্য অভিযান চলছে।

এদিকে, রড পরিবহনের কাজে নিয়োজিত ট্রাকটি পুলিশ বাকেরগঞ্জের বোয়ালিয়া বাহাদুরপুর এলাকা থেকে জব্দ করেছে।

আল-আমিনের মামা সবুজ জানান, ছোটবেলায় আল আমিনের বাবা-মা মারা যান। এরপর থেকে তার কাছেই বড় হয় আল-আমিন। মামা সবুজের বাড়ি চাঁদপুর জেলার মতলব থানার লামছড়ি গ্রামে। বর্তমানে তিনি থাকেন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা বউবাজার এলাকায়। সবুজ তার ভাগ্নেকে ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ দিয়ে একটি ট্রাক কিনে দেন। মামার ট্রাক চালিয়ে আল-আমিন আয়-রোজগার করতেন। ১৭ এপ্রিল চট্টগ্রামের ট্রান্সপোর্ট ম্যানেজার রনজিৎ মজুমদারের সঙ্গে চুক্তি করে রডগুলো বাউফলের কালিশুরী বন্দরে পৌঁছে দেয়ার জন্য আবুল খায়ের ইন্ডাট্রিজের ফ্যাক্টরী থেকে রওনা দেয় আল-আমিন। সঙ্গে ছিলেন সহকারী হাসান । হাসানের বাড়ি পটুয়াখালী হওয়ায় এই রুট তার চেনা ছিল। আল-আমিন প্রথম এই রুটে ট্রাক নিয়ে আসেন।

তিনি আরো বলেন, আমার এতিম ভাগ্নেকে নির্মম ভাবে খুন করা হলো। আমি খুনিদের উপযুক্ত বিচার চাই।

এদিকে, কালাইয়া গুদাম থেকে ছিনতাই হওয়া রড জব্দ করা হলেও রহস্যজনক কারণে একতা এন্টারপ্রাইজের মালিক মাসুদ রানাকে আটক করেনি পুলিশ।

ছিনতাইকৃত রড ক্রয়ের ব্যাপারে মাসুদ রানা সাংবাদিকদের বলেন, আমি মজিবর নামের এক ঠিকাদারের কাছ থেকে রডগুলো ক্রয় করেছি। তিনি (মজিবর) আমার পূর্ব পরিচিত। রডগুলো ছিনতাইকৃত কি না তা আমার জানা ছিল না।

আরো পড়ুন :পটুয়াখালীতে মাদক অভিযানে গিয়ে ৩ পুলিশ সদস্য আহত

নাম প্রকাশ এ অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, আল-আমিনকে পরিকল্পিত ভাবে খুনের পর রড ছিনতাই করা হয়েছে। আর ছিনতাইকৃত রড পাওয়া গেছে একতা এন্টারপ্রাইজে। সুতরাং একতা এন্টারপ্রাইজের মালিক মাসুদ রানা কোনো ভাবেই দায় এড়াতে পারেন না।

বাউফল থানার ওসি শোনিত কুমার গায়েন বলেন, বিষয়টি দশমিনা থানার। রড উদ্ধারের সময় আমরা সহযোগীতা করেছি মাত্র। এর বাইরে আর কিছুই বলতে পারছি না।

এ প্রসঙ্গে পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, মামলার তদন্ত এখন পর্যন্ত শেষ হয়নি। তদন্তে যারা অপরাধী প্রমাণিত হবে তাদের প্রত্যেকেই আইনের আওতায় আনা হবে।




পটুয়াখালীতে মাদক অভিযানে গিয়ে ৩ পুলিশ সদস্য আহত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীতে মাদক অভিযানে গিয়ে অস্ত্রের আঘাতে তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে গলাচিপা উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নে অভিযান চালাতে গিয়ে এ ঘটনার শিকার হন তারা।

আহতরা হলেন— পটুয়াখালী গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত এএসআই সাইদুর রহমান, কনেস্টবল তানভীর ও মাহাফুজ। যদিও ওই অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী মো. রনি হাওলাদারকে (৩০) আটক করেছেন ডিবি। রনি ওই এলাকার রেজাউল হাওলাদার ওরফে মাসুদের ছেলে। এর আগেও ডিবির একটি অভিযানে রনিকে আটক করা হলেও তিনি হাতকড়া নিয়ে পালিয়ে যান।

আরো পড়ুন : বুড়াগৌরাঙ্গ নদের ভাঙন থেকে বাঁচতে শতাধিক পরিবারের আকুতি

ঘটনার বরাত দিয়ে পটুয়াখালী গোয়েন্দা শাখার ওসি একেএম আজমল হুদা বলেন, দীর্ঘদিন থেকে গলাচিপা উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মাদক সরবরাহ করছেন রনি। পরিচয় গোপন করে রনির বিরুদ্ধে ডিবির কাছে এমন অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবির এসআই সম্বিত রায়ের নেতৃত্বে উল্লেখিত ইউনিয়নে অভিযান চালান তারা।

মঙ্গলবার গভীর রাতে ৩নং ওয়ার্ডস্থ বড়চত্রা এলাকার মো. হাবিবুর রহমানের বাড়ির সামনে রনিকে আটক করে দেহ তল্লাশি চালালে তার শরীর থেকে ৩শ পিস ইয়াবা উদ্ধার হয়। আটকের পর রনির সঙ্গে থাকা হাতলযুক্ত সুইচ গিয়ার চাকু নিয়ে দায়িত্বরত পুলিশকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে পালানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে রনি একটি পরিত্যক্ত জলাশয়ে ঝাঁপ দেন। ডিবির সদস্যরাও এ সময় ওই জলাশয়ে ঝাঁপ দিয়ে রনিকে আটক করেন। রনি পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে ধস্তাধস্তিও করেন।




মিতুকে আমার ছেলে খুন করেছে, তাকে আপনি মাফ করে দিন’