জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষ, আহত ১১

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে শিশু ও নারীসহ কমপক্ষে ১১ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।

রবিবার (০৫ মে) রাত ১০টায় উপজেলার কুয়াকাটার তুলাতুলি বাস টার্মিনাল সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহতদের মধ্যে ছয়জনকে কুয়াকাটা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আর বাকি চারজন গুরুতর জখম হওয়ায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলীপুর গ্রামের বাসিন্দা সাবেক ইউপি সদস্য আবু হানিফ খান গংদের সঙ্গে তুলাতলী এলাকার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মোশারেফ আকন গংদের দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। রবিবার ওই এলাকায় জমি নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ১১ জন আহত হন।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যের আত্মহত্যা

আহতরা হলেন- মোশাররফ আকন (৪৭), আমির আকন (৪৪), হাসান আকন (১৮), জাহিন আকন (২৪), সুমি বেগম (৩৫), চানবরু বিবি (৬৭), হ্যাপি বেগম (৪০)। আর গুরুতর জখম নিয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে জাহিদুল ইসলাম খান (২৫), মনিরুল ইসলাম খান (৩২), আবুল বাশার (২৫), সালমান (২৩)।

এবিষয়ে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন তালুকদার বলেন, বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে এনেছি। এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদ করতে দুজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন আছে।




পটুয়াখালীতে অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যের আত্মহত্যা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী দশমিনায় মো: আনোয়ার হোসেন (৪০) নামে অবসরপ্রাপ্ত এক সেনাসদস্য আত্মহত্যা করেছেন।

আজ রোববার তিনি নিজের বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের আবদুর রব ঢালির ছেলে।

পারিবারিক ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বছর মো: আনোয়ার হোসেন বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট থেকে অবসরে আসেন। এ সময় তিনি এলাকায় ডাবের ব্যবসা শুরু করেন। ব্যবসায় ক্ষতি হলে পাওনাদারদের কারণে ঢাকায় চলে আসেন। ২ মে ঢাকা থেকে বাড়িতে আসেন।

আজ তিনি পরিবারের সদস্যদের অগোচরে বাড়ির বাথরুমে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। পরে এলাকার লোকজন এসে বাথরুমের দরজা ভেঙে দেখে মরদেহ ঝুলছে। খবর পেয়ে দশমিনা থানার পুলিশ এসে লাশের সুরতহাল করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠান।

আরো পড়ুন : স্বামী কারাগারে, ঘরে আত্মহত্যা স্ত্রীর

তাঁর স্ত্রী মোছা. সাহিমা বলেন, ‘আমার স্বামী (আনোয়ার হোসেন) চাকরি থেকে অবসরে আসার পর ডাবের ব্যবসা শুরু করেন। ব্যবসায় ক্ষতি হওয়ায় ঢাকায় চলে যান। তিন মাস ঢাকায় থাকেন। গত বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে আসেন। শনিবার রাতে লোকজন এসে টাকার জন্য কথা শোনায়। সেই থেকে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।’

সাহিমা আরো বলেন, ‘সকালে আমি বাইরে যাই, পরে এসে না দেখে খোঁজ করি। দেখি বাসার সব রুম আটকানো, লোকজন ডেকে দরজা ভেঙে দেখি বাথরুমে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে আছে।’

এ বিষয়ে দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিক সুরতহাল পর্যালোচনায় এটি আত্মহত্যা। একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু হবে। অপমৃত্যু মামলা তদন্ত করব। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।’




পটুয়াখালীতে ৩৭০৫ পিস ইয়াবাসহ আটক ৪

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীতে ৩৭০৫ পিস ইয়াবাসহ ৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (৪ মে) বেলা ১১টায় পটুয়াখালী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন বাজার এলাকার হোটেল ছোয়া আবাসিক ৬ষ্ঠ তলা থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটকরা হলেন- মো. আলমগীর হোসেন (৪৩), মো. সবুজ আকন (২৫), মো. মহসীন হাং (৫০), সজল চন্দ্র চ্যাটার্জি (৩০)।
মো.আলমগীর হোসেন ও সজল বরগুনার আমতলী উপজেলার বাসিন্দা। এছাড়া সবুজ আকন পটুয়াখালী সদর উপজেলার ও মহসিন হাং পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার বাসিন্দা।

আরো পড়ুন : কলাপাড়ায় কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে রাসায়নিক সার ও বীজ বিতরণ

পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আসাদুর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে এসআই দিপায়ন বড়াল, গোলাম সরোয়ার, শিপন শেখের নেতৃত্বে পটুয়াখালী পৌর এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন বাজার সংলগ্ন ছোয়া হোটেলে অভিযান চালান। অভিযানের এক পর্যায়ে ছোয়া হোটেলের ৬ষ্ঠ তলায় আলমগীর হোসেনের ভাড়া বাসা থেকে ৩৭০৫ পিস ইয়াবাসহ ৪ জনকে আটক করা হয়। আসামিদের নামে মামলা রুজু প্রক্রিয়াধীন।




‘দেশের জনগণ এখন মর্যাদা নিয়ে বিশ্ব দরবারে চলতে পারে’

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অনেক সংগ্রামের পথ বেয়ে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসেছে। আওয়ামী লীগ সরকারে এসেছে বলেই বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন হয়েছে। মানুষের জীবন মান উন্নত হয়েছে। বাংলাদেশের জনগণ এখন মর্যাদা নিয়ে বিশ্ব দরবারে চলতে পারে।

বৃহস্পতিবার (২ মে) সংসদ অধিবেশনে ঝিনাইদহ-১ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হাইয়ের মৃত্যুতে উপস্থাপিত শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা আমার পক্ষে সম্ভব হয়েছে, আব্দুল হাইয়ের মতো ত্যাগী নেতা-কর্মীদের কারণে। তাদের অবদানের ফলে দেশের সার্বিক উন্নয়নে ব্যাপক সফলতা আনা সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, ঝিনাইদহ এমন একটা সন্ত্রাসী এলাকা ছিল যেখানে গ্রামের মানুষ টিকতে পারত না। সেখানে নির্বাচন করা, রাজনীতি করা অত্যন্ত কঠিন ছিল। সেই অবস্থার মধ্যেও আব্দুল হাই অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে সংগঠন ধরে রাখেন এবং সংগঠনকে সুসংগঠিত করে। আব্দুল হাই অত্যন্ত সাহসী ছিলেন, ভালো সংগঠক ছিলেন। তাই সফলতার সঙ্গে তিনি সংগঠনকে দাঁড় করাতে পারেন।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, একসময় ওই এলাকায় গ্রামে মানুষ টিকতে পারত না, অস্ত্রের ঝনঝনানি ছিল। বিএনপি নামক যে দলটি সৃষ্টি হয়েছিল, আন্ডার গ্রাউন্ড পার্টির বেশির ভাগ লোক কিন্তু এই বিএনপিই করত। সেখানে প্রতিনিয়ত আমাদের নেতাকর্মীর ওপর হামলা হতো। কত লাশ যে পড়েছে, তার হিসাব নেই। সেই অবস্থায় সংগঠনকে গড়ে তোলা এবং বারবার নির্বাচিত হয়ে এসে একটা বিরাট দক্ষতার পরিচয় তিনি দিয়েছিলেন।

সংসদ নেতা বলেন, এটাই সবচেয়ে কষ্ট লাগছে, তিনি এই সংসদে বসতে পারলেন না। এবারও তাকে গ্রেফতার করার চেষ্টা চালানো হয়েছিল। আবার একজন রিট করলো, তার সংসদ সদস্য পদ স্থগিত করা হলো। সেটা আবার আপিল করে স্থগিত করা হয়েছিল বলেই তিনি এই সংসদে বসতে পেরেছিলেন। যিনি বারবার নির্বাচিত হয়ে আসেন, তার ওপর এই ধরনের আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। তারপরে তিনি আসতে পেরেছিলেন। তবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। শেষ পর্যন্ত আমাদের মাঝ থেকে বিদায় নিলেন।

এ সময় নতুন প্রজন্মকে আব্দুল হাইয়ের মতো ত্যাগী নেতাদের অনুসরণের আহ্বান জানান তিনি।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ওই আলোচনায় আরও অংশ নেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক, রেলপথ মন্ত্রী জিল্লুল হাকিম, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন, আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, তৌহিদুজ্জামান, নাসির শাহরিয়ার প্রমুখ।




কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আদালতকে যা যা বললেন মিল্টন সমাদ্দার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এজ কেয়ার আশ্রমের কার্যক্রম শুরু করেন মিল্টন সমাদ্দার ২০১৪ সালে। এক বছর পর সমাজসেবা অধিদপ্তরে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেন তিনি। ২০১৮ সালে আশ্রমের কার্যক্রম পরিচালনার লাইসেন্স পান। আশ্রমটিকে কেন্দ্র করে মোট ২টি লাইসেন্স করা হয়। একটি ফাউন্ডেশনের জন্য, আরেকটি সমাজকল্যাণের জন্য। সমাজকল্যাণের লাইসেন্সে হতদরিদ্রদের আশ্রয়, সেবা দেওয়া ও চিকিৎসার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত।

বৃহস্পতিবার রিমান্ড ও জামিন শুনানি চলাকালে বিচারকের জেরার মুখে এসব তথ্য জানিয়েছেন মিল্টন সমাদ্দার।

এ সময় বিচারক চিকিৎসার জন্য আশ্রমে কী কী ব্যবস্থা আছে জানতে চাইলে তিনি জানান, চিকিৎসার জন্য আলাদা কোনো ব্যবস্থা নেই। আদালতে ‘ফিরিস্তিযোগে’ মিল্টনের আইনজীবীর দাখিল করা ছবির বিষয়ে বিচারক বলেন, এই মানুষগুলোকে সেখানে (আশ্রম) নিয়ে গেলেই ভালো হয়ে যায় কি না। এ সময় তিনি একজন ডাক্তারের নাম বলেন। ওই ডাক্তার আশ্রিতদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ করেন বলে জানান মিল্টন।

মিল্টন জানান, এ পর্যন্ত আশ্রমে ১৩৫ জন মারা গেছেন। তাদের কবরস্থ করার রশিদও আছে। মৃতদের কবরস্থ করার বিষয়ে একাধিক মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনো সহযোগিতা পাননি। এ বিষয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ না করায় আশ্রমের নিজস্ব অর্থায়নে মৃতদের কবরস্থ করা হয় বলে জানান তিনি।

মিল্টন আদালতকে জানান, বর্তমানে আশ্রমটিতে ২৫৬ জন অসহায় মানুষ অবস্থান করছেন। এদের সবাই বেওয়ারিশ। এর মধ্যে ৬ জন গর্ভবতী নারীও রয়েছেন। তাদের দেখভাল করার জন্য একজন ডাক্তার রয়েছেন। গর্ভবতীদের পাশের একটি বেসরকারি হাসপাতালে আশ্রমের নিজস্ব অর্থায়নে সিজার করানো হয়। আশ্রমটিতে বেওয়ারিশ ছাড়া অন্য কারও থাকার সুযোগও নেই।

ডেথ সার্টিফিকেটের বিষয়ে মিল্টন জানান, যেহেতু তাদের নাম ঠিকানা পাওয়া যায় না তাই মৃতদের কবরস্থ করার জন্য সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়। এর বাইরে অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই। কোনো সার্টিফিকেটে তার স্বাক্ষর নেই। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা স্বাক্ষর করে থাকেন।

সার্টিফিকেটে কী লেখা থাকে? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, কী কারণে লোকটি মারা গেছে সেটাই লেখা থাকে। মৃত্যুর এই কারণ কীভাবে পান? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আমাদের একজন ডাক্তার আছেন। তিনি যখন তাদের দেখে যান কার কী সমস্যা সেটা উল্লেখ করা থাকে। সার্টিফিকেটও লেখা হয় তার কী কী রোগ ছিল সেটার ওপর ভিত্তি করে।

ডাক্তার পরিচয়ে কোনোদিন কোনো কাগজে স্বাক্ষর করেননি বলে জানান মিল্টন সমাদ্দার। এ সময় তিনি একটা সুযোগ চান, যাতে চিকিৎসক নিয়োগ দিয়ে আশ্রমটি ভালোভাবে চালাতে পারেন।
আয়-ব্যয়ের বিষয়ে তিনি জানান, অডিট ফার্ম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে অডিট করা হয়। ২০১৭ সাল থেকে আয়-ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ করা আছে।

মিল্টন সমাদ্দারের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। জাল মৃত্যু সনদ তৈরির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে প্রথম মামলাটি দায়ের হয়। এরপর তার আশ্রমের টর্চার সেলে মারধর করার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের হয়। এছাড়া মানবপাচার আইনেও একটি মামলা দায়ের হয়েছে।

এর আগে বুধবার রাতে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিল্টন সমাদ্দারকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পরে বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে হাজির করে পুলিশ




পটুয়াখালীতে বালুচাপা দেয়া হাত-পা বাঁধা অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী সদরের বদরপুর ইউনিয়নের শিয়ালী গ্রামে একটি পরিত্যক্ত ভিটায় বালুচাপা দেয়া ও হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক অজ্ঞাত ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ বস্তাবন্দী অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার সন্ধ্যার পর শিয়ালী এসএস পেট্রোল পাম্পের দক্ষিণ পাশে নয়ন মৃধার পরিত্যক্ত ভিটা থেকে ওই মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মাঝ বয়সী ওই ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তে ঘটনাস্থলে সদর থানার পাশাপাশি সিআইডি পুলিশ কাজ করছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পটুয়াখালী সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাজেদুল ইসলাম সজল।

আরো পড়ুন : হঠাৎ উত্তাল বঙ্গোপসাগর, নিখোঁজ জেলে

এলাকাবাসী জানায়, দুপুর থেকেই ঘটনাস্থল থেকে দুর্গন্ধ আসছিলো। বিষয়টি স্থানীয় চৌকিদারকে অবহিত করে স্থানীয়রা। বিকেলে গন্ধের সূত্র খুঁজতে গিয়ে চৌকিদার এসএস পেট্রোল পাম্পের দক্ষিণ পাশে নয়ন মৃধার ভিটায় বালুর মধ্যে একটি হাত দেখতে পেয়ে বদরপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়। সন্ধ্যার আগ মুহূর্তে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং বালু সরিয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তির অর্ধগলিত দেখতে পায়।

স্থানীয়রা ও বদরপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শিহাব হাওলাদার জানান, মরদেহ গলে বিকৃত হওয়ায় বোঝা যাচ্ছেনা স্থানীয় কিনা। আর এলাকায় এ ধরনের কেউ নিখোঁজ নেই, তাই ধারনা করা হচ্ছে বাহিরের কারো মরদেহ হতে পারে।

সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাজেদুল ইসলাম জানান, সন্ধ্যার আগ মুহূর্তে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। বালি খুড়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ডিকম্পোজ হওয়ায় চেহারা বোঝা যাচ্ছেনা। পরিচয় শনাক্তে সদর থানা পুলিশ ও সিআইডি কাজ করছে।




জাতীয় সংসদ অধিবেশন শুরু হচ্ছে কাল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : দ্বাদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হচ্ছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায়। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সাংবিধানিক ক্ষমতাবলে গত ১৫ এপ্রিল এই অধিবেশন আহ্বান করেছেন। অধিবেশন শুরুর আগে সংসদ ভবনে সংসদের কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠক হবে। বর্তমান সংসদের কার্যউপদেষ্টা কমিটির এটিই হবে প্রথম বৈঠক। বৈঠকে আসন্ন অধিবেশনের মেয়াদ নির্ধারণ ছাড়াও আলোচ্যসূচি ও কার্যবিবরণী নিয়ে আলোচনা হবে।

আগামীকালের অধিবেশনের শুরুতে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়ন দেবেন। এরপর শোক প্রস্তাব উত্থাপিত হবে। ঝিনাইদহ-১ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য আবদুল হাই মৃত্যুবরণ করায় রেওয়াজ অনুযায়ী তার ওপর আনা শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনা হবে। শোক প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার পর অধিবেশন মুলতুবি করা হবে। চলমান সংসদের কোনো সদস্যের মৃত্যুতে সংসদে শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনা শেষে তার সম্মানে অধিবেশন মুলতুবি করার রেওয়াজ রয়েছে।

সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, জুনে বর্তমান সরকার ও দ্বাদশ সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশনের আগে অনুষ্ঠেয় এই দ্বিতীয় অধিবেশন তেমন দীর্ঘ হবে না।




বরিশালে সরকারি দুই হাসপাতাল থেকে ২৫ দালাল আটক

বরিশাল অফিস :: রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে প্রতারণা, অর্থ হাতিয়ে নেওয়াসহ নানা অভিযোগের ভিত্তিতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) অভিযান চালিয়েছে বরিশাল র‌্যাব ৮ এর সদস্যরা। এ সময় ১০ নারীসহ দালাল চক্রের ২৫ সদস্যকে আটক করা হয়।

মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে হাসপাতালের প্রধান গেটে সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশাল র‌্যাব- ৮ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী যুবায়ের আলম শোভন।

তিনি বলেন, বরিশাল বিভাগের সবচেয়ে বড় হাসপাতালটিতে রোগীরা চিকিৎসা নিতে এলেও নানা হয়রানির শিকার হতে হয় বলে আমাদের কাছে অভিযোগ ছিল। গোপনে সংবাদ নিয়ে (মঙ্গলবার) সকাল থেকে র‌্যাবের সদস্যরা হাসপাতালে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ২৫ জনকে আটক করা হয়েছে।

আরো পড়ুন : আজ মহান মে দিবস

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, আটকদের মধ্যে বেশিরভাগ হাসপাতালের পুরাতন স্টাফ। যারা কোনো না কোনো সময় বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে চাকরিচ্যুত হয়েছেন। আবার দুয়েক’জন বর্তমান স্টাফের সম্পৃক্ততাও পাওয়া গেছে, যারা এই চক্রের সাথে জড়িত। আমরা চাই সাধারণ মানুষের শতভাগ চিকিৎসা যেন নিশ্চিত হয়।

র‌্যাব আরো জানায়, তারা বরিশাল জেনালে (সদর) হাসপাতালেও অভিযান চালিয়েছে। এধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানায় র‌্যাব।

চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে সব ধরনের সহায়তা থাকবে বলে জানিয়েছেন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিচালক ডা. এইচ এম সাইফুল ইসলাম।
তিনি বলেন, গোটা বরিশালে আমরা দালাল মুক্ত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে চাই। এ চক্রের খপ্পরে পড়ে সাধারণ মানুষ নিঃস্ব হচ্ছে। এদের সাথে আমাদের কোনো স্টাফ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




৫০ কোটি টাকার কর ফাঁকি, ব্র্যাক ব্যাংকে এনবিআরের অভিযান




বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদকারী ‘প্রতিরোধ যোদ্ধাদের’ স্বীকৃতি দিতে উচ্চপর্যায়ের কমিটি হাইকোর্টের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যার প্রতিবাদকারী ‘প্রতিরোধ যোদ্ধাদের’ চিহ্নিত করে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে চার সচিবের সমন্বয়ে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এ সংক্রান্ত এক রিটের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ আজ এ রায় দেন।
আদেশে বলা হয়েছে, কমিটিতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবের নেতৃত্বে স্বরাষ্ট্রসচিব, অর্থ সচিব ও সমাজকল্যাণ সচিব থাকবেন। কমিটিকে আগামী ৪ আগস্ট আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। রিটটি চলমান তদারকিতে থাকবে বলে রায়ে উল্লেখ করেছেন আদালত।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী বাকির উদ্দিন ভূঁইয়া। তিনি সাংবাদিকদের জানান, বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্য এবং নিকটাত্মীয়দের ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকান্ডের পর তৎকালীন সামরিক সরকার মিছিল-মিটিং বন্ধ করে দেয়। তা সত্ত্বেও নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী, খুলনা, চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ, ময়মনসিংহের গফরগাঁওসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়
বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ ও সামরিক জান্তা ও তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধ গড়ে তোলা হয়। বঙ্গবন্ধুর অনুসারী ও স্বাধীনতার চেতনা লালনকারীরা এই প্রতিরোধ গড়ে তুলে।

আইনজীবী বাকির উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, বঙ্গবন্ধুভক্ত কয়েক হাজার ছাত্র, তরুণ ও মুক্তিযোদ্ধা তৎকালীন ক্ষমতাসীন সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

সপরিবার বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ৪৭ বছর অতিক্রান্ত হলেও প্রতিরোধ যোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেয়া হয়নি। যে কারণে ছয়জন ‘প্রতিরোধ যোদ্ধা’ ২০২২ সালে রিটটি দায়ের করেন। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০২২ সালের ৭ আগস্ট রুলজারি করেন হাইকোর্ট। রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে আজ আদালত উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে রায় দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল অমিত দাশগুপ্ত।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা জাতির জনক ও হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তার নিজবাড়ী ঢাকার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বিপদগামী একদল সেনা কর্মকর্তা সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করে। হত্যার পর পর দেশে এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ বিনষ্ট করা হয়। নির্মম এই হত্যাকা-ের বিরুদ্ধে নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী, খুলনা, চাদপুরের ফরিদগঞ্জ, ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়সহ দেশের বেশ কিছু স্থানে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়। সামরিক জনতার রক্তচক্ষু ও বুলেটভীতিকে উপেক্ষা করে যারা ওই সময় প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন তাদের যথাযথ স্বীকৃতি ও মূল্যায়নের জন্যই রিটটি দায়ের করা হয়। আজকের রায়ের ফলে ওই যোদ্ধাদের স্বীকৃতির দ্বার উন্মোচিত হলো বলে জানান এডভোকেট বাকির উদ্দিন ভূঁইয়া।