আলোচিত মতিউরের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান শুরু




জামিন বেরিয়েই বিচারকের নামে বেফাঁস মন্তব্য বাউফলের আলোচিত ইউপি চেয়ারম্যানের

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বাউফলে নির্বাচনকালীন এক শিক্ষককে মারধর এর ঘটনায় জেল হাজত থেকে জামিনে বেরিয়ে বিচার বিভাগ নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করে ফের আলোচনায় এসেছেন কনকদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার। এ সংক্রান্ত বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

এর আগেও সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, মুক্তিযোদ্ধাসহ একাধিক মানুষকে মারধর করে এবং সালিশ বিচারে গিয়ে অন্যের প্রেমিকাকে জোর করে বিয়ে করে দেশব্যাপী সমালোচিত হয়েছিলেন চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার। এসব ঘটনায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও হয়েছে।

জেলও খেটেছেন একাধিকবার।
সম্প্রতি ৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন পূর্ব মুহূর্তে উপজেলার বীরপাশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শহিদুল ইসলামকে কুপিয়ে জখম করেন শাহিন হাওলাদার।

এই ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় জেল হাজত থেকে বের হয়ে স্থানীয় একটি বাজারে জনসাধারণের মধ্যে বক্তব্যকালে তিনি পটুয়াখালীর বিজ্ঞ আদালত ও একজন বিজ্ঞ বিচারককে নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করেন।

জামিনে বেরিয়ে ওই ভিডিও বক্তব্যে ইউপি চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার বলেন, নির্বাচনের সময় আমাকে ষড়যন্ত্র করে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে সাজা দিতে চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু আমার নেতা আসম ফিরোজ এমপির হস্তক্ষেপের কারণে তারা সফল হয়নি। ওইদিন হোম মিনিস্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করে আমাকে ষড়যন্ত্রের বেড়াজাল থেকে বের করা হয়। পরে ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়। যে আশিকুর রহমান সাহেব আমাকে সাজা দিতে এসেছিলেন পরে ওনার আদালতেই আমার মামলা ছিল।

ভিডিওতে তাকে আরও বলতে শোনা যায়, গত বৃহস্পতিবার আমার জামিন হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট আশিকুর রহমান যখন আমাকে জামিন দিতে অস্বীকৃতি জানান, এরপর রোববারেই তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে।

আরো পড়ুন : পরকীয়ার অপবাদে আ. লীগ নেতাকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন

এসময় ওই ম্যাজিস্ট্রেটকে ষড়যন্ত্রকারী ও অর্থলোভী বলেও বক্তব্য দেন এই চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার।

বক্তব্যের শেষে তিনি বলেন, আমাদের দলের যারা এই ষড়যন্ত্রে জড়িত তারা সাবধান হয়ে যান।

চেয়ারম্যান শাহিনের বক্তব্যের ভিডিওক্লিপটি এখন স্থানীয়ভাবে ভাইরাল।

এ বিষয়ে আইনজীবীরা বলছেন, জনসম্মুখে বিজ্ঞ আদালত নিয়ে কোনো ধরনের মনগড়া বক্তব্য একটি বিভ্রান্তি ও আদালত অবমাননার শামিল।

পটুয়াখালী আইনজীবী সমিতির সদস্য আল আমিন হাওলাদার বলেন, বিজ্ঞ আদালত নিয়ে শাহিন হাওলাদারের বক্তব্যটি আমি শুনেছি। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মনগড়া এবং বিভ্রান্তিমূলক। এটি সুস্পষ্ট আদালত অবমাননার শামিল।

জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির জহিরুল ইসলাম বলেন, আমরা শাহিন হাওলাদারের বক্তব্য এখন পর্যন্ত পাইনি। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিজ্ঞ বিচারক তার বর্তমান দায়িত্বে বহাল আছেন এবং তার কোনো বদলি হয়নি।

এ বিষয়ে মো. শাহিন হাওলাদার বলেন, ‘ওই বক্তব্য আমার না, কেউ হয়ত এক্সপার্ট লোক দিয়ে এডিটিং করে ভিডিওটা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়েছে।

এদিকে জামিনে বেরিয়েই পুনরায় মামলার বাদী ও ভিকটিম সহকারী শিক্ষক শহিদুল ইসলামের ভাই এরশাদ হোসেনকে বাড়ি-ঘর ছাড়ার হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে এই চেয়ারম্যান শাহিনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বাউফল থানায় গত ১৩ জুন একটি সাধারণ ডায়েরিও করা হয়েছে।




এনবিআর থেকে সরানো হলো ছাগলকাণ্ডের মতিউরকে




পরকীয়ার অপবাদে আ. লীগ নেতাকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পরকীয়ার অপবাদে হযরত আলী (৪৩) নামে এক আওয়ামী লীগ নেতাকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কলাপাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সাত জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১২ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন তিনি।

হযরত আলী উপজেলার মহিপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, হযরত আলী দীর্ঘদিন ধরে ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামের শাহ জামালের সঙ্গে গরুর ব্যবসা করে আসছেন। গত ১৭ জুন রাতে জামালের বাড়ি থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন তিনি। এ সময় আলীর সঙ্গে আরও দুই জন ছিল।

ডালবুগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছলে তাদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে ১৯-২০ জন ব্যক্তি। এ সময় আলীসহ তার সঙ্গে থাকা দুই জনের হাত, পা ও মুখ বেঁধে পার্শ্ববর্তী বিলের মধ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে আলীকে ওই এলাকার মাসুম, মামুন খলিফা, সবুর, বশার, এখলাছ, মহায়মিন ও সুধীরপুর গ্রামের মামুন হাওলাদার মারধর শুরু করেন।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

একপর্যায়ে তাকে উলঙ্গ করে রড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। এ সময় এক নারীর সঙ্গে তার পরকীয়রা আছে বলে জোরপূর্বক স্বীকার এবং তা মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে রাখা হয়। এ সময় আলীর সঙ্গে থাকা সাড়ে তিন লাখ টাকা নিয়ে যাওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হযরত আলী বলেন, মারধরের অসহ্য যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে ওরা ভিডিও করার সময় যা বলতে বলেছে তাই বলেছি। সুধীরপুর গ্রামের মামুন হাওলাদারের নেতৃত্বেই আমাকে নির্যাতন করা হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্তদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে প্রধান অভিযুক্ত মামুন হাওলাদার বলেছেন, এ ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

মহিপুর থানার ওসি আনোয়ার তালুকদার বলেন, মামলার কপি হাতে পেয়েছি। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




ডাকাত দলের সদস্য দ্বীপ্ত কর্মকার গ্রেপ্তার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফল থানায় করা একটি ডাকাতি মামলায় দ্বীপ্ত কর্মকার (২৮) নামে ডাকাত দলের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার দুপুরে তাকে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শোনিত কুমার গায়েন বলেন, গত বছর অক্টোবর মাসে বাউফল থানায় দায়েরকৃত দুইটি পৃথক ডাকাতির মামলায় দীপ্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আরো পড়ুন : মহাসড়কে দুর্ঘটনায় ঢাকা-পটুয়াখালী রুটে যাত্রীদের মাঝে আতঙ্ক

দীপ্ত কর্মকারের গৌরনদীর বাটাজোড়া গ্রামে একটি মুড়ির কারখানা রয়েছে। বাউফল থানার কনস্টেবল দুলাল তিন দিন আগে ছদ্মবেশে ওই কারখানায় শ্রমিকের কাজ নেয়। এরপর তথ্য উপাত্ত যাচাই বাছাই করে নিশ্চিত হওয়ার পর ক্রেতা সেজে পরিদর্শক (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম ও এসআই নাসির অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেন।

ওই মামলায় এ পর্যন্ত ৮ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।




পটুয়াখালীতে চাচার মারধরে ভাতিজার মৃত্যু

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীতে চাচার মারধরে ওবায়দুল সিপাইর (৩০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শনিবার (২২ জুন) দুপুরে সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের পশরবুনিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ওবায়দুল ওই এলাকার হারুন সিপাইর ছেলে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বারেক সিপাইকে (৪০) আটক করেছে পুলিশ।

আরো পড়ুন : কলাপাড়ার ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ নিয়ে আতঙ্কে তিন লক্ষাধিক মানুষ

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে ওবায়দুলের ঘর থেকে ২০ হাজার টাকা চুরি হয়। এ বিষয়ে চাচাতো ভাই ছানাউল্লাহকে জিজ্ঞেস করেন তিনি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বারেক সিপাইসহ আরও কয়েকজন ওবায়দুলের ওপর হামলা চালায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধারে সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পটুয়াখালী সদর থানার ওসি মো. জসীম বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অভিযুক্ত বারেক সিপাইকে আটক করা হয়েছে।




পূর্ব বিরোধের জেরে বাউফলে বৃদ্ধকে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফলে পূর্ব বিরোধের জের ধরে মোঃ সালাম মৃধাকে (৬৫) পিটিয়ে জখম করা হয়েছে। রবিবার (১৬ জুন) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ভরিপাশা গ্রামের আহত সালাম মৃধার বাড়ীর কাছে রাস্তার ওপরে এ ঘটনাটি ঘটেছে। পরে স্থানীয়রা তাকে অবস্থায় উদ্ধার করে বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এ ঘটনায় বাউফল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মো. সালাম মৃধা ঘটনার দিন সকালে নিজ বাড়ি থেকে বাজারে যাচ্ছিলেন। কিছু দূরে পৌঁছলে একই এলাকার পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা একই এলাকার মৃত্যু আকরাম মৃধার ছেলে মো. সাকিল মৃধা (৩২) অতির্কিত ভাবে তার (সালাম মৃধার) ওপর হামলা চালায়। এসময় তাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে । পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

আরো পড়ুন : স্মার্ট খেলোয়ার দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে – এস.এম. শাহজাদা

এ ঘটনায় সালাম মৃধার ছেলে আছাদুল ইসলাম বাদি হয়ে বাউফল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাবেক এক সেনাসদস্য বলেন, সাকিল মৃধা এলাকায় প্রায়ই সন্ত্রসী কার্যক্রম চালায়। তার সন্ত্রসী কার্যক্রমে এলাকার অনেক মানুষ অতিষ্ঠ।

কর্তব্যরত চিকিৎসক বলেন, সালাম মৃধার চিকিৎসা চলছে। তার শরীরের বিভিন্ন অংশে লাঠির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

এ ব্যাপারে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শোনিত কুমার গায়েন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।




বরিশালে পরকিয়ার শেষ পরিনতি ধর্ষন মামলা গ্রেপ্তার

বরিশাল অফিস :: প্রবাসীর স্ত্রী তিন সন্তানের জননীর সাথে পরকিয়ার সম্পর্কে মেলামেশা করতে গিয়ে জনতার হাতে আটক হয়েছে সাইফুল আকন নামের এক যুবক।

আটককৃত যুবককে বিক্ষুদ্ধ জনতার হাত থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই যুবকের বিরুদ্ধে থানায় ধর্ষন মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি জেলার গৌরনদী উপজেলার বাদুরতলা গ্রামের।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ওই গ্রামের বাসিন্দা এক দুবাই প্রবাসীর স্ত্রী ও তিন সন্তানের জননীর সাথে দীর্ঘদিন থেকে পরকিয়ার সম্পর্ক করে আসছিলো একই গ্রামের আব্দুল মান্নান আকনের ছেলে সাইফুল। বুধবার রাতে পরকিয়ার সম্পর্কে প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে মেলামেশা করতে গিয়ে জনতার হাতে ধরা পরে সাইফুল। খবরপেয়ে পুলিশ তাকে (সাইফুল) উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

বরিশাল গৌরনদী মডেল থানার এসআই মোঃ সাহাবুদ্দিন জানান, প্রবাসীর স্ত্রীর দায়ের করা ধর্ষন মামলার আসামি সাইফুল আকনকে বৃহস্পতিবার শেষকার্যদিবসে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্যাতিতাকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য শেবাচিম
হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

 




বাউফলে চুরির অভিযোগে ২ যুবক গ্রেফতার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফলে নগদ ৫৬ হাজার টাকা, ৪ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার ও ৩ হাজার টাকার রুপার অলংকারসহ মোঃ শাকিল আকন (২৫) ও তৌফিকুর রহমান রাসেল (২৫) নামের দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে জব্দকৃত মালামালসহ গ্রেপ্তারকৃতদের পটুয়াখালী আদালতে পাঠানো হয়েছে।

জানা গেছে, ঈদুল আযহার পরের দিন রাতে বাউফল পৌর শহরের ইঞ্জিনিয়ার ফারুক তালুকদার মহিলা কলেজের উত্তর পাশে তিনতলা বিশিষ্ট একটি ফ্লাটের নিচতলা ও দোতালায় চুরি হয়। ওই দুই ফ্লাটের একটিতে বাউফল থানার এসআই আশ্রাফুল ও আবুল বশার নামের এক ব্যক্তি ভাড়া থাকতেন। ঈদের ছুটিতে তারা বাড়ি চলে যান। ছুটি শেষে তারা ফিরে এসে দেখেন ফ্লাটের বাসার দরজার তালা ভাঙ্গা। ওই দুই ফ্লাট থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ অন্যান্য মালামাল চুরি হয়ে যায়।

আরো পড়ুন : ইউপি ভবন নির্মাণের দাবিতে দুুমকিতে মানববন্ধন

এ ঘটনায় আবুল বশার বাদি হয়ে বুধবার রাতে বাউফল থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ ওই দিন দিবাগত রাত ২টার দিকে শাকিল ও তৌফিক নামের দুই যুবককে গ্রেপ্তার করে এবং তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী চোরাইকৃত মালামালের মধ্যে নগদ ৫৬ হাজার টাকা, ৪ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার ও ৩ হাজার টাকার রুপার অলংকার উদ্ধার করে।

গ্রেপ্তারকৃত শাকিল উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে বাসিন্দা আঃ মন্নান আকনের ছেলে এবং তৌফিক বাউফল পৌর শহরের ৪নং ওয়ার্ডে বাসিন্দা তোফাজ্জেল হোসেনের ছেলে।

বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শোনিত কুমার গায়েন বলেন, গ্রেপ্তারকৃত শাকিল ও তৌফিকসহ জব্দকৃত মালামাল আদালতে পাঠানো হয়েছে।




বাউফলে বোরকা পরে ঘোরাফেরা করা পুরুষের সন্ধ্যানে পুলিশ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফলে বোরকা পরে ঘোরাফেরা করা এক পুরুষকে খুঁজছে পুলিশ৷ এর আগে বোরকা পরে পৌর শহরের গোলাবাড়ি এলাকায় ঘোরাফেরা করার সময় তিনি স্থানীয়দের নজরে পড়েন।

রোববার (১৬ জুন) দুপুরে গোলাবাড়ি এলাকায় বাউফল থানা পুলিশের একটি টিম ওই ব্যক্তি সম্পর্কে খোঁজ খবর নেয়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে পৌর শহরের ২নং ওয়ার্ড গোলাবাড়ি বেইলি ব্রিজের ঢালে বোরকা পরিহিত একজন পুরুষ ঘোরাফেরা করছিল। এসময় তার গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে। তখন এই এলাকার বাসিন্দা জাকির হোসেন স্থানীয়দের কাছ থেকে ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেন। ঘটনাটি জানাজানি হলে চুরি ডাকাতি ছিনতাই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। পরবর্তীতে দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ওই ব্যক্তি সম্পর্কে খোঁজ খবর নেয় এবং তাকে পালাতে সহযোগিতা করা জাকির হোসেনের বাড়িতে যায়। বাড়ি ও আশপাশে কোথাও তাকে খুঁজে পায়নি পুলিশ। পরবর্তীতে এই জাকিরের পরিবারকে থানায় দেখা করা নির্দেশ দেয় পুলিশ। তবে এই সংবাদ লেখা পর্যন্ত (বিকেল ৫ টা) জাকিরের পরিবারের কেউ থানায় যোগাযোগ করেনি।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীর ৩৫ গ্রামে ঈদুল আজহা উদ্‌যাপন

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সোহান খান বলেন, সম্প্রতি বাউফলে অনেক চুরি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে একজন পুরুষ বোরকা পরে ঘোরাফেরা করার বিষয়টি এলাকায় চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। অতি দ্রুত ওই ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে সত্য ঘটনা উদঘাটন করা উচিত।

এ বিষয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বাউফল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাসির উদ্দিন বলেন, ‘ঈদ আগের দিন বোরকা পরে ঘোরাফেরা করার বিষয়টি স্থানীয়দের কাছে সন্দেহজনক মনে হয়। তাই ওই ব্যক্তির ব্যাপারে আমরা খোঁজ খবর নিচ্ছি। তার সম্পর্কে জানতে জাকিরের সন্ধান করে তাকেও আমরা বাসায় পাইনি। তদন্ত চলছে, তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে বলেও জানান তিনি।’

অন্যদিকে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শোণিত কুমার গায়েন বলেন, ‘এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে কোনও শঙ্কা নেই। বোরকা পরে ঘোরাফেরা করা পুরুষ ব্যক্তি মানসিক ভারসাম্যহীন বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে।’