দশমিনায় ট্রলি ও অটোরিকশার সংঘর্ষে আহত ৪

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর দশমিনায় ট্রলি ও অটোরিকশার সংঘর্ষে তিনজন আহত হয়েছেন।মঙ্গলবার বেলা ১টার দিকে উপজেলা হাসপাতালের সামনের সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার হাসপাতাল সড়কের সামনে বাংলাবাজার থেকে গাছবাহী ট্রলি পৌঁছায়। এ সময় আটোরিকশাটি মূল সড়কে ওঠার সময় সংঘর্ষ হয়। এতে করে ট্রলি উল্টে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলে ট্রলিটির চালক জাকির, সহযোগী জাহির, হেল্লাল ও বশার আহত হন। পরে আহতদের স্থানীয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভর্তি করা হয়।

আরো পড়ুন : এক সপ্তাহ পর ফের উৎপাদনে পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র

দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, ঘটনার বিষয় শুনে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। গাড়ি দুটি উদ্ধার করে থানা হেফাজতে আনা হয়েছে। পরবর্তী কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।




পটুয়াখালীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোটি টাকার জমি উদ্ধার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বহরমপুর ইউনিয়নের আমতলা বাজারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধিগ্রহনকৃত কোটি টাকার জমি অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার পানিউন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা, নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা যৌথ ভাবে দিনভর অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ অভিযানে অংশ নেয়।

উচ্ছেদ অভিযানে অবৈধ ভাবে এলাকার প্রভাবশালী আলী আহম্মেদ সরদারের ছেলে বাচ্চু সরদার ও রুহুল আমিন সরদারের দখলে থাকা চারতলা বহুতল পাকা ভবন সহ অর্ধ শতাধিক দোকান ও বাসাবাড়ি উচ্ছেদ করা হয়। এতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধিগ্রহনকৃত প্রায় কোটি টাকা মূল্যের প্রায় ৩ একর জমি অবৈধ দখলদারদের দখল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

আরো পড়ুন : বাউফলে প্রশ্নপত্রের ছবি তোলায় ১ শিক্ষককে ৩ মাসের কারাদণ্ড

উচ্ছেদ অভিযানে অংশ নেওয়া পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভাগীয় উপ প্রকৌশলী রেজা আহমেদ জানান, আমতলা বাজারের ৫৫/২ পোল্ডারের ১৪৬ নম্বর খতিয়ানের ১৯০৫ নম্বর দাগের প্রায় ৩ একর জমি বাসাবাড়ি দোকানপাট তৈরি করে দীর্ঘ বছর যাবৎ অবৈধ ভাবে দখল করে রেখাছিল। অবৈধ দখলদারদের ওই জমি মুক্ত করে দেওয়ার জন্য একাধিকবার নোটিশ জারি করা হলেও দখলদাররা তাতে কর্নপাত করেনি তাই জেলা প্রশাসনের সহায়তায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধিগ্রহন করা জমি দখল মুক্ত করা হয়েছে।




ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আংশিক দায়মুক্তি দিলেন সুপ্রিম কোর্ট




পটুয়াখালীতে স্ত্রীকে পিটিয়ে কারাগারে বিএনপি নেতা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে যৌতুকের টাকা না পেয়ে স্ত্রীকে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় সোমবার (১ জুলাই) অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মো. কামাল হোসেন মোল্লাকে (৪৮) গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে থানা পুলিশ।

কামাল মোল্লা পূর্ব সুবিদখালী গ্রামের আসমান আলী মোল্লার ছেলে ও উপজেলা বিএনপির সহ-তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক।

মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, প্রায় ৩০ বছর পূর্বে কামাল মোল্লার সঙ্গে বিবাহ হয় ভুক্তভোগী ওই নারীর। কামাল মোল্লার সুবিদখালী বাজারে গার্মেন্টসের দোকান রয়েছে। তাদের দুটি মেয়ে রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময় যৌতুক দাবি করলে ভুক্তভোগীর ভাই আমেরিকা প্রবাসী হওয়ায় বিভিন্ন সময়ে টাকা দিয়ে আসছে। সর্বশেষ ২০০৮ ও ২০০৯ সালে আবারো ৩০ লাখ টাকার যৌতুক দাবি করলে ভুক্তভোগীর ভাইয়েরা ২২ লাখ টাকা পরিশোধ করেন।

আরো পড়ুন: গলাচিপায় অর্থনৈতিক শুমারিতে অগ্রাধিকার পায়নি বেকার যুবরা

কিছু দিন ধরে আবারো তার ভাইয়ের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা এনে দিতে বলেন। না আনলে আর তার সঙ্গে ঘর সংসার করবে না বলে হুমকি দেয়।

ঘটনার দিন ২৪ জুন দুপুরে ডাইনিং রুমে বসে পুনরায় টাকা দাবি করলে ভাইকে জানাতে অপারগতা প্রকাশ করলে ডাইনিং এ থাকা প্লাষ্টিকের চেয়ার দিয়ে আঘাত করলে বাম হাতের কনুই এবং কব্জি ভেঙে যায়। পরে ছোট মেয়ে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে মির্জাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ হাফিজুর রহমান বলেন, স্ত্রীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কামাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।




বাবার দেয়া মসজিদের জমি রক্ষার প্রতিবাদ করায় হয়রানিসহ মামলা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: মসজিদের জমি দখলের প্রতিবাদ করায় উল্টো হয়রাানিসহ চাঁদাবাজির মামলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পটুয়াখালীর মো. মাসুদুজ্জামান কাজল।

রোববার (৩০ জুলাই) পটুয়াখালী প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে মামলা থেকে প্রতিকার চেয়ে এই অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মাসুদুজ্জামান কাজল জানান, পটুয়াখালী পৌর শহরের আরামবাগ এলাকায় মসজিদ নির্মাণের জন্য সাড়ে ১০ শতাংশ জমি দান করেন তার বাবা আলহাজ্ব আব্দুল মজিদ মিয়া। ১৯৮৫ সালে ওই জমির উপর আরামবাগ বাইতুল রেদোয়ান জামে মসজিদ নির্মাণ করা হয়। ২০২৩ সালে ঐ মসজিদের নির্মানাধীন টয়লেট নিজেদের দাবি করে জমি দখলের পায়তারা করেন প্রতিবেশী গাজী সাঈদ ও তার জামাতা আবু সালেহ।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে বঙ্গোপসাগর উত্তাল – ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত

পরে জমি দখলে বাধা দিয়ে ঘটনার প্রতিবাদ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিপক্ষ চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা করে তাকে হয়রানি করছে। এর মধ্যে এক‌টি মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামি বা মস‌জিদ ক‌মি‌টির কা‌রো সঙ্গে কথ‌া না ব‌লেই তদন্ত প্রতি‌বেদন দি‌য়ে‌ছে।

ভুক্ত‌ভো‌গি কাজ‌ল আ‌রও জানান, বিষয়‌টির সমাধা‌নের জন‌্য স্থানীয় রাজ‌নৈ‌তিক নেতৃবৃন্দ, গণ্যমান্য ব‌্যক্তিরা একা‌ধিকবার সা‌লিশ বৈঠ‌কের আ‌য়োজন কর‌লেও ক্ষমতা এবং টাকার জো‌রে প্রতিপক্ষরা বার বার পার পে‌য়ে যায়। এসব বিষয় নি‌য়ে লি‌খিত ভা‌বে জেলা প্রশাস‌কের কা‌ছে আবেদন কর‌লেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়‌নি।

একাধিক মামলায় গ্রেফতারের ভ‌য়ে প‌রিবার-প‌রিজন নি‌য়ে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে কাজলের। সেই সঙ্গে প্রতিপক্ষ থেকে আসছে একের পর এক হুমকি দেয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

এ বিষয়ে জানার জন্য প্রতিপক্ষ আবু সালেহর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।




পিরোজপুরে হত্যা মামলায় স্বামী-স্ত্রী-সন্তানসহ ৭ জনের যাবজ্জীবন

বরিশাল অফিস :: পিরোজপুরের নাজিরপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে জসীম খান নামের যুবককে হত্যার দায়ে স্বামী-স্ত্রী-সন্তানসহ সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় ১০ জনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (১ জুলাই) দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. মোক্তাগীর আলম আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় দেন।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার হাতেম আলী শেখের ছেলে দেলোয়ার শেখ (৪৮), হাসেম শেখের ছেলে আবুল শেখ (৫৮), মোজাম মল্লিকের ছেলে বাবুল মল্লিক (৪৯), আফসার আলী শেখের ছেলে সিরাজুল হক শেখ (৭১), সিরাজুল হক শেখের ছেলে রাজু শেখ (৩১), সিরাজুল হক শেখের স্ত্রী ফাতেমা বেগম (৫৮) ও বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার রসুল শেখের ছেলে জাফর শেখ (৫৮)।

খালাস পাওয়া আসামিরা হলেন- জহুর শেখ, হাজেরা খানম, ইমারত খান, রাবেয়া বেগম, সোহাগ খান, সুমন খান, মঞ্জু বেগম, বাবু মীর, আবদুর রব শেখ ও জাফর শেখ। এ ছাড়া মামলা চলাকালে রাজ্জাক মল্লিক ও হাতেম আলী শেখ নামে দুই আসামির মৃত্যু হয়।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, ২০১১ সালের ২৫ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৭টার দিকে জসীম খান ও তার ভাই রাজু খান নাজিরপুর উপজেলার পাতিলাখালি গ্রামে তাদের বাড়ি থেকে বের হয়ে সামনের রাস্তায় যাচ্ছিলেন। এ সময় পূর্বশত্রুতার জের ধরে আগে থেকে ওত পেতে থাকা আসামিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা করে। এ সময় তারা জীবন রক্ষার্থে দৌড়ে ঘরে উঠতে গেলে ঘরের সামনে হাতেম আলী শেখ ও দেলোয়ার শেখ জসীমকে হত্যার উদ্দেশ্যে হাতে থাকা দা দিয়ে মাথায় কোপ দিয়ে জখম করলে জসীম মাটিতে পড়ে গেলে তাকে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়। এ সময় তাদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা জসীমকে টেনে হাতেম শেখের ঘরের বারান্দায় নিয়ে আটকে রাখে। প্রতিবেশী রেজবী খান জসীমের চাচাতো ভাই ওয়াহিদুজ্জামানকে ফোনে ঘটনা জানালে তিনি স্থানীয় থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে জসীমকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে জহুর শেখ, দেলোয়ার শেখ, হাতেম আলী শেখ, সিরাজ শেখ ও রব শেখকে আটক করে।

এ ঘটনায় ওই দিনই নিহত জসীমের ভাই রাজু খান বাদী হয়ে ২২ জনকে আসামি করে নাজিরপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে এ ঘটনায় ২০১১ সালের ৭ আগস্ট নাজিরপুর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল মালেক হাওলাদার ১৯ জনকে আসামি করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।

আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) জহুরুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে জানান, ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত সকল আসামির উপস্থিতিতে আজ এই রায় দেন। তদন্ত প্রতিবেদনে আসা ১৯ জন আসামির মধ্যে মামলা চলাকালীন দুই আসামির মৃত্যু হয়। বাকি ১৭ জনের মধ্যে সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ জনকে খালাস দেন আদালত।

আসামিপক্ষের আইনজীবী কাজি ইলিয়াস হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমরা এ রায়ে সন্তুষ্ট নই। রায়ের বিপক্ষে উচ্চ আদালতে আপিল করবো।




দশমিনায় স্বামীর টাকা আত্মসাতের মামলায় জামিন পাওয়া স্ত্রীকে আদালত চত্বরে মারধর

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর দশমিনায় আদালত চত্বরে স্ত্রীকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে।

স্বামীর করা মামলায় আজ রোববার দুপুরে আদালত থেকে জামিন নিয়ে বের হলে তাঁকে গালাগাল করা হয়। এর প্রতিবাদ করলে তাঁকে মারধর করেন তাঁর স্বামী।

ভুক্তভোগীর নাম মোসা. রুনা লায়লা। তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার কাশেম আলী শিকদারের মেয়ে। দুই বছর আগে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা সদরের মো. মিজানুর রহমানের সাথে বিয়ে হয়। একপর্যায়ে স্ত্রীর বিরুদ্ধে তিনি দশমিনা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৩ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলা করেন। আজ রোববার সকালে আদালতে হাজির হয়ে জামিন নেন রুনা লায়লা। পরে আদালতের সামনের রাস্তায় তাঁকে গালমন্দ করেন মিজানুর। এর প্রতিবাদ করলে তাঁকে বেদম মারধর করা হয়।

রুনা লায়লা বলেন, ‘আদালতের সামনের রাস্তায় মিজানুর আমাকে গালাগাল করেন। এর প্রতিবাদ করলে আমাকে মারধর করা হয়। এ সময় আমি এক উকিলের চেম্বারে গিয়ে উঠলে সেখানেও আমাকে মারধর করে। আমি আমার উকিলকে বিষয়টি জানিয়ে আদালতে বিচার প্রার্থনা করব।’

আরো পড়ুন : রাঙ্গাবালিতে সাইক্লোন শেল্টারের দেড় বছরের কাজ শেষ হয়নি ৪ বছরেও

এ বিষয়ে রুনা লায়লার আইনজীবী সহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আদালতে মামলা হয়েছে। বিচারক বিষয়টি দেখবেন। আমার মক্কেল জামিনে মুক্ত হওয়ার পর রাস্তায় প্রকাশ্যে মারধর করার বিষয়টি দুঃখজনক। আমি এ বিষয়ে আদালতের শরণাপন্ন হব।’

মারধরের বিষয়ে জানতে চাইলে মিজানুর রহমান বলেন, ‘যা দেখার তো দেখেছেনই, আর কী বলব।’ এই কথা বলে চলে যান তিনি।




কুয়াকাটায় প্রকাশ্যে মাছ শিকার ও বিক্রি নিয়ে কোটি টাকার বাণিজ্য

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বঙ্গোপসাগরে সব ধরনের মাছ শিকারে ৬৫ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলেও পটুয়াখালী সংলগ্ন সাগরের চিত্র একেবারের ভিন্ন। জেলার উপকূলজুড়ে প্রকাশ্যেই চলছে মাছ শিকার। অভিযোগ উঠেছে, মৎস্য বিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করেই সমুদ্রসংলগ্ন বাজারগুলোয় প্রকাশে চলছে সামুদ্রিক মাছের বিকিকিনি। আর এজন্য জেলেদের গুনতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের অর্থ। এতে সাগরে মাছের উৎপাদন ও মজুত বৃদ্ধিতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।

পটুয়াখালী-কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতসংলগ্ন কুয়াকাটা পৌরভবনের বিপরীতে অবস্থিত কুয়াকাটার প্রধান মাছ বাজার, যা স্থানীয়ভাবে মেয়র বাজার নামে পরিচিতি। এ বাজারে সাগর থেকে শিকার করা বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ডাকের মাধ্যমে পাইকারি বিক্রি হয়।

গত ২৮ জুন এবং ২৯ জুন এই মার্কেট ও আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সরকারি নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও সকাল থেকেই ভ্যান-অটোরিকশায় ককশিট আর পস্নাস্টিকের ড্রামভর্তি করে আসতে থাকে বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ। এর মধ্যে লইট্যা এবং তুলার ডাডি মাছই বেশি। এ ছাড়া রূপচাঁদা, বৈরাগী, কোড়াল, রামসোসসহ অন্য মাছও দেখা যায়। ইলিশ মাছ তুলনামূলক কম।

মাছ বাজারে ঢুকতেই বিভিন্ন পাইকারি দোকানে মাছের ডাক হতে দেখা যায়। পাইকাররা দাম বলে তা কিনে নিচ্ছেন। এ বাজারে সকাল থেকে রাত ৯-১০টা পর্যন্ত নিয়মিত মাছ বিক্রি হলেও দুপুরের পর থেকে মাছগুলো রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। ককশিটে বরফ দিয়ে পেটি প্রস্তুতের পর ট্রাক এবং বাসে পাঠানো হয় মাছের পেটিগুলো।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা চলাকালে মাছ ধরা, বিক্রি ও পরিবহণ প্রক্রিয়া নিরাপদ করতে নির্দিষ্ট একটি চক্রকে দিতে হয় কোটি টাকা। জেলে, মাছ ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের গুনতে হয় এ বিপুল পরিমাণ অর্থ।

কুয়াকাটা মেয়র বাজারের মাছ ব্যবসায়ী মো. নূর জামাল গাজী এ প্রক্রিয়া সমন্বয় করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যবসায়ীর মালিকানাধীন মেসার্স গাজী ফিশ থেকে এসব নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এবার প্রতিটি ট্রলার থেকে প্রতি ট্রিপে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা করে নিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ড সদস্যদের ম্যানেজ করার দায়িত্বও রয়েছে তার।

এ বিষয় জানতে চাইলে অভিযুক্ত মো. নূর জামাল গাজী বলেন, ‘কাউকে কোনো টাকা দিই না, চুরি করে মাছ ধরি, চুরি করে মাছ বেচি।’
কিন্তুু নিজের কাছে সাংবাদিকসহ সবার তালিকা থাকার কথা স্বীকার করেন তিনি।

আরো পড়ুন : দশমিনায় একই পরিবারের ৫ জনকে অজ্ঞান করে স্বর্ণালঙ্কার ও অর্থলুট

বিস্ময়কর হলেও সত্য, কুয়াকাটার মতো একটি পর্যটন এলাকায় যখন প্রকাশ্যে মাছ শিকার ও বিক্রি চলছে তখনও পুরো বিষয়টি উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার কাছে অজানা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ‘সার্র্বক্ষণিক তো আমাদের পক্ষে পাহারা দেওয়া সম্ভব নয়। সাগরে কোস্টগার্ড আছে, নৌপুলিশ আছে, নৌবাহিনীর সদস্যরা আছেন। সবাই আমরা কাজ করছি। এরপরও গত কয়েকদিন আবহাওয়া কিছুটা খারাপ এ কারণে হয়তো এমনটি হয়েছে। আমি আজ আবারও বিষয়টি দেখছি।’

তবে মৎস্য বিভাগের সঙ্গে মাছ ব্যবসায়ী নূর জামালের কোনো যোগাযোগ নেই এবং তাকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না বলে জানান এই কর্মকর্তা।

এদিকে এসব বিষয়ে নিজের দপ্তরের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযান সফল করতে আমরা আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করব।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইলিশের প্রজনন মৌসুম, জাটকা সংরক্ষণ, সাগরে ৬৫ দিন মাছ শিকার বন্ধসহ সরকারের নিষেধাজ্ঞা থাকাকালে নির্বিঘ্নে মাছ শিকার, বিক্রি ও পরিবহণ করতে কলাপাড়া উপজেলায় গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী চক্র। প্রতি মৌসুমে জেলে ও মৎস্য ব্যসায়ীদের কাছ থেকে সব পক্ষকে ম্যানেজ করতে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা চাঁদা তোলা হয় বলে একাধিক সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেছেন।

এ প্রসঙ্গে কুয়াকাটা নৌ-পুলিশের অফিসার ইনচার্জ দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞায় নৌ-পুলিশের কোনো কাজ নেই। সাগরে মাছ ধরা বন্ধে কোস্টগার্ড কাজ করবে, আর মাছ বিক্রি কিংবা পরিবহণে মৎস্য বিভাগ অভিযান পরিচালনা করবে, এটা তাদের দায়িত্ব।’

জানতে চাইলে নিজামপুর কোস্টগার্ড স্টেশন থেকে জানানো হয়, ‘৬৫ দিনের অবরোধ কর্মসূচি সফল করতে তারা নিয়মিত সচেতন করার পাশপাশি সাগরে অভিযান পরিচালনা করছেন। আর নিয়মিত মাছ ধরা ও বিক্রির বিষয়ে তাদের কাছে তথ্য নেই।




দশমিনায় একই পরিবারের ৫ জনকে অজ্ঞান করে স্বর্ণালঙ্কার ও অর্থলুট

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর দশমিনায় রাতের খাবারের সাথে ওষুধ মিশিয়ে একই পরিবাররে পাঁচজনকে অজ্ঞান করে তিন লাখ টাকা ও ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্ককার লুট করে নিয়েছে অজ্ঞান পার্টি।

গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার রনগোপালদী ইউনিয়নের মধ্য আউলিয়াপুর সেরাজ হাওলাদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

আরো পড়ুন : আঙ্গা‌রিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম‌্যা‌নের বাড়ি থে‌কে সরকারি চাল জব্দ

অজ্ঞান অবস্থায় আলমগীর হাওলাদার, শাহনাজ বগেম, সাথী আক্তার, মানসুর হাওলাদার ও মাহিন হাওলাদারকে শুক্রবার সকাল ৭টায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এ বিষয়ে দশমিনা থানার ওসি নুরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, খবর পেয়ে হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে আর অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




আঙ্গা‌রিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম‌্যা‌নের বাড়ি থে‌কে সরকারি চাল জব্দ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর দুমকী উপ‌জেলার আঙ্গা‌রিয়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম‌্যান ‌সৈয়দ গোলাম মর্তুজা শুক্কুর মিয়ার বাড়ি থে‌কে প্রায় সা‌ড়ে ১৭টন সরকারি ‌ভি‌জিএফের চাল জব্দ ক‌রা হয়ে‌ছে।

শনিবার (২৯ জুন) রাত সা‌ড়ে ১০টার দিকে দুমকী থানা পু‌লি‌শের সহায়তায় উপ‌জেলা নির্বা‌হী অফিসার মো.শা‌হিন অভিযান পরিচালনা করে এ চাল জব্দ ক‌রেন।

অভিযান শেষে তি‌নি জানান, ৫০‌ কে‌জি ক‌রে প্রায় ৩৫০ বস্তাতে চাল রয়েছে। এ চাল সরকারি গোডাউন ছাড়া কোনো ব‌্যক্তিগত বাসা বাড়ি‌তে রাখার কোনো নিয়ম নাই। এটি অপরাধ। এ ব‌্যাপা‌রে প্রয়োজনীয় ব‌্যবস্থা নেয়া হবে।

আরো পড়ুন : গলাচিপায় ভাইরাল হওয়া ময়লার পুকুর পরিষ্কার করলো বিডি ক্লিন

তি‌নি আরও বলেন, সংবাদ পে‌য়ে সা‌থে সা‌থে আমরা ঘটনাস্থ‌লে এসে এ চাল জব্দ করেছি। এর আগে সেখা‌নে দুমকী থানা পু‌লিশ ও স্থানীয় লোকজন উপ‌ন্থিত হয়।

জানা গেছে, ঘটনার সময় চেয়ারম‌্যান গোলাম মর্তুজা বাড়ি‌তে ছি‌লেন না। তার ব‌্যবহৃত ফোন‌টি বন্ধ র‌য়ে‌ছে। ত‌বে রাত ১১টার দি‌কে উপ‌জেলা নির্বা‌হী অফিসার জানিয়েছেন, চেয়ারম‌্যান‌কে খবর দেয়া হ‌য়ে‌ছে, তিনি আস‌বেন।