পটুয়াখালীতে স্বর্ণের দোকানে ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীতে চাঁদার টাকা না পেয়ে সেঁজুতি গোল্ড প্লেট হাউজে হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে নতুন বাজার একেএম কলেজ রোড এলাকায়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অমল দাস (৪০), অনিল দাস (৪২) ও শুভ দাস (২০)কে আসামি করে পটুয়াখালী সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত দোকানি সেঁজুতি গোল্ড প্লেট হাউজের স্বত্বাধিকারী সজল কর্মকার।

আরো পড়ুন : কলাপাড়ায় সবজিতে আগুন – মাছে নাভিশ্বাস

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার সময় পূর্ব বিরোধের জেরে অমল, অনিল ও শুভ সেঁজুতি গোল্ড প্লেট হাউজে প্রবেশ করে চাঁদার টাকা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় দোকানে থাকা শিপলু কর্মকারকে (সজল কর্মকারের শ্যালক) ও খোকনকে মারধর করে এবং ভাঙচুর করে। এ সময় আশপাশের দোকানের লোকজন ও পথচারীরা চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে আসলে অমল গং হুমকি-ধমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে বীরদর্পে চলে যায়। ভাঙচুরে ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিক সজল কর্মকার।




পটুয়াখালীতে ৩ যাত্রীবাহী বাস থেকে ২৬ মণ সামুদ্রিক মাছ জব্দ, জরিমানা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ঢাকাগামী যাত্রীবাহী তিনটি বাস থেকে ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির সাড়ে ২৬ মণ সামুদ্রিক মাছ জব্দ করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে দশটায় শেখ কামাল সেতুর টোল প্লাজায় অভিযান চালিয়ে এসব মাছ জব্দ করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)কৌশিক আহম্মেদ।

এ সময় অবৈধভাবে মাছ পরিবহনের দায়ে তিন বাসের চালককে ১০ হাজার করে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

আরো পড়ুন : বাউফলে চার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাইবার নিরাপত্তা আইনে যুবলীগ নেতার মামলা

জব্দকৃত মাছ বিভিন্ন এতিমখানা ও গরীব মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। অভিযানের সময় সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা ও থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কৌশিক আহম্মেদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আব্বাস, অন্তরা ও মীমজাল পরিবহন থেকে ২০০ কেজি ইলিশ, ২০০ কেজি পোয়া, ১৮০ কেজি ডাডি ও ৪৮০ কেজি লইট্যা মাছ জব্দ করা হয়েছে। সমুদ্রে মাছ ধরার ওপর ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও সমুদ্র থেকে এসব মাছ শিকার করে কিছু অসাধু জেলে।




অবশেষে মুখ খুললেন ছাগলকাণ্ডে বিতর্কিত মতিউরের স্ত্রী লাকী




বাউফলে চার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাইবার নিরাপত্তা আইনে যুবলীগ নেতার মামলা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফলে গৃহবধূকে বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগে যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন তার স্বামী। এ ঘটনায় বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই যুবলীগ নেতা বুধবার বরিশাল সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতে চার সাংবাদিকের নামে মামলা করেছেন।

আসামিরা হলেন কালবেলার বাউফল প্রতিনিধি জিএম মশিউর রহমান মিলন, বাউফল প্রতিদিন ডটকম অনলাইন পোর্টালের সম্পাদক এনামুল হক এনা, বেসরকারি টেলিভিশন সময় টিভির স্টাফ রিপোর্টার মনির হোসেন ও দৈনিক ভোরের আকাশের বাউফল প্রতিনিধি মো. ফিরোজ।

বাদী আরিফুজ্জামান খান রিয়াদ বাউফল পৌর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও যুগান্তরের বাউফল স্টাফ রিপোর্টার।

আরো পড়ুন : নির্মাণের ১০ দিন পরই হাতের টানে উঠে যাচ্ছে সড়কের পিচ

এর আগে ‘অন্যের বউ বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগে যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা’ শিরোনামে কালবেলায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। বাগিয়ে নেওয়া ওই নারীর স্বামী মাইনুল ইসলাম জানান, যুবলীগ নেতা রিয়াদ খান কৌশলে তার স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। সর্বশেষ ১৩ জুন ভোররাতে তার স্ত্রীকে রিয়াদের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় তার শাশুড়ি দেখতে পান। পরে রিয়াদ খান তার স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়ে যান।

এ বিষয়ে যুবলীগ নেতা আরিফুজ্জামান খান রিয়াদ বলেন, ‘মিথ্যা তথ্য দিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। এ কারণে সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতে মামলা করেছি।’




পটুয়াখালীতে আদালত চত্বরে মারধরের শিকার সাবেক মেম্বার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীতে আদালতে জামিন নিতে এসে মারধরের শিকার হয়েছেন মো. মনির মীর (৪৫) নামে সাবেক এক ইউপি সদস্য (মেম্বার)। গুরুতর আহত অবস্থায় পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন তিনি।

বুধবার দুপুর ১২টার দিকে গলাচিপা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। মনির গলাচিপা উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২১ মে গলাচিপা উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ শাহিন শাহকে ১৫ হাজার ৫৪৯ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ওয়ানা মার্জিয়া নিতু। উপজেলা আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক নিতু এর আগে পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। এই নির্বাচনে নিতুর পক্ষে ভোট করেছেন মনির মীর। এ নিয়ে শাহিন শাহের সমর্থকদের সঙ্গে বিরোধ চলছে। একপক্ষের অনুসারীরা আরেক পক্ষের সমর্থকদের বিরুদ্ধে মামলাও করেছেন। সেই বিরোধকে কেন্দ্র করে আদালত চত্বরে মনিরের ওপর হামলা করেছেন প্রতিপক্ষের লোকজন।

আহত মনির বলেন, ‘মঙ্গলবার এইচএসসি পরীক্ষার হল থেকে আমার ছেলেকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। তার জামিনের জন্য বুধবার দুপুরে আদালত চত্বরে গেলে প্রতিপক্ষ শাহারুল ফকির, আবদুল্লাহ আল নোমান তুর্জ ও সিফাতসহ সাত-আট জন আমার ওপর হামলা চালান। তারা আমাকে পিটিয়ে জখম করেন। এ অবস্থায় দৌড়ে আদালতের ভেতরে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে গিয়ে জীবন রক্ষা করেছি। ম্যাজিস্ট্রেট চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাওয়ার পথে আবারও হামলার চেষ্টা করেন তারা। এর আমাকে পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে স্থানীয়রা।’

আরো পড়ুন : নির্মাণের ১০ দিন পরই হাতের টানে উঠে যাচ্ছে সড়কের পিচ

তিনি আরও বলেন, ‘উপজেলা নির্বাচনে আমি মার্জিয়া নিতুর ভোট করেছি। এ নিয়ে সাবেক চেয়ারম্যান শাহিন শাহের লোকজন আমার নামে দুটি মিথ্যা মামলা দিয়েছে। বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করছে। মামলার পর থেকে বাড়িঘরে থাকতে পারছি না। রাস্তাঘাটে বের হলে শাহিনের লোকজন আমার ওপর হামলা চালায়।’

পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মনিরের শরীরের বেশ কিছু জায়গায় আঘাতের চিহ্ন আছে। গুরুতর আহত হয়েছেন তিনি। তার চিকিৎসা চলছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আবদুল্লাহ আল নোমান তুর্জ বলেন, ‘অনেকদিন আগে শাহারুল ফকিরের বাড়ি গোলখালী এলাকায় দাওয়াতে গিয়েছিলাম। তখন শাহারুলের সঙ্গে মনিরদের মারামারি হয়েছিল। এজন্য আমার বাবা রাগারাগিও করেছেন। তবে বুধবারের ঘটনার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। শাহারুল এ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে। প্রথম ঘটনার পর থেকে শাহারুলের সঙ্গে আমার যোগাযোগ নেই।’

এ ব্যাপারে সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহিন শাহ বলেন, ‘আমি কিছুদিন আগে ঢাকায় এসেছি। এখনও ঢাকায় আছি। মারধরের বিষয়টি আমার জানা নেই।’

ঘটনার সার্বিক বিষয়ে জানতে বর্তমান চেয়ারম্যান ওয়ানা মার্জিয়া নিতুর মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ করেননি।

গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফেরদাউস আলম খান বলেন, ‘আদালত চত্বরে মারধরের বিষয়টি আমার জানা নেই। এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে অবশ্যই তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো।




বাউফলে কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১১টি তদন্ত কমিটি গঠন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: সরকারের ১১টি প্রকল্প থেকে ২ কোটি ৪ লাখ ১৫ হাজার ২শ ৯০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অনিরুদ্ধ দাসের বিরুদ্ধে ১১টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে তিনটি তদন্ত কমিটি তাদের তদন্ত কাজ শেষ করেছেন।

আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটি সরেজমিনে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডটকম সহো কয়েকটি দৈনিক পত্রিকায় গত ৩০ জুন ‘কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুইকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ’ সংবাদ প্রকাশিত হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১ জুলাই অনাবাদী পতিত জমিতে পারিবারিক পুষ্টিবাগান প্রকল্প, কৃষি উন্নয়নের মাধ্যমে পুষ্টি ও খাদ্য জোড়দার প্রকল্প এবং এসএসিপি এই ৩টি প্রকল্প তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। খুব শিগ্রই বাকি ৭টি প্রকল্পের তদন্ত করা হবে। ইতিমধ্যে ওই সব প্রকল্পের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

আরো পড়ুন : গলাচিপায় ফ্যান ছিঁড়ে শিক্ষার্থী গুরুতর আহত

বাউফল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অনিরুদ্ধ দাস ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরে অনাবাদী পতিত জমি ও বসতবাড়ির আঙিনায় সবজি ও পুষ্টি বাগান স্থাপণ প্রকল্প, কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্প, পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা জোড়দারকরণ প্রকল্প, বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, ঝালকাঠী, বরগুনা, মাদারীপুর ও শরিয়তপুর কৃষক উন্নয়ন প্রকল্প, আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে উন্নতমানের ধান, গম ও পাটবীজ উৎপাদন সংরক্ষণ ও বিতরণ প্রকল্প, তেল জাতীয় ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্প, রাজস্ব প্রকল্প, সমন্বিত ব্যবস্থাপণার মাধ্যমে খামার যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্প, প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন এন্টারগ্রেনরশীপ অ্যান্ড রেডিয়েশন ইন বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে বরাদ্দকৃত টাকা, স্টেকহোল্ডার এগ্রিকালচারাল কমপিটিটিভনেশন প্রকল্প (এসএসিপি) এবং বাংলাদেশের চর এলাকায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্প থেকে মোট ২ কোটি ৪ লাখ ১৫ হাজার ২৯০ টাকা আত্মসাত করেন।

তদন্ত কমিটি গঠন নিয়ে কোন ধরনের বক্তব্য দিকে রাজি হননি অভিযুক্ত কৃষি কর্মকর্তা অনিরুদ্ধ দাস।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ বশির গাজী বলেন, কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটির অনুলিপি আমি পেয়েছি ।

উল্লেখ, এসব প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ বশির গাজী গত ২০ জুন পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করেন।




রাঙ্গাবালীতে গৃহবধূকে মারধর করায় আদালতে মামলা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে গৃহবধূকে মারধর করায় গলাচিপা বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে নির্যাতিত গৃহবধূ আনিকা বেগম (২০)। যার সিআর মামলা নং- ৪৭৮/২০২৪।

আনিকা বেগম হচ্ছেন উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড মনিপাড়া গ্রামের মো. রবিউলের স্ত্রী। আসামীরা হলেন মো. রবিউল (২৩), মোসা. হাওয়া বেগম (৪৫), মো. শামিম পালোয়ান (৩০) এবং মো. ছিদ্দিক গাজী (৫০)।

মামলা সূত্রে ও আনিকা বেগম জানান, মো. রবিউল ও তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন প্রায় সময়ই তার কাছে যৌতুক দাবী করে এবং মারধর করে। আমার বাবার কাছ থেকে যৌতুক এনে না দিলে আমাকে আমার স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন মিলে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করে।

আরো পড়ুন : কুয়াকাটা রেলপথ তৈরিতে চীনের বিনিয়োগ চায় সরকার

গত ২১ জুন শুক্রবার সকাল ১০ টার দিকে আমার স্বামী পুনরায় আমার বাবার কাছ থেকে ১ লক্ষ টাকা যৌতুক এনে দিতে বলে। আমার বাবা একজন কৃষক এবং গরিব মানুষ হওয়ায় টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করায় আমার স্বামী আমার শ্বশুর, শাশুড়ী আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে আমার স্বামীকে নিয়ে আমাকে মেরে ঘর থেকে বের করে দেয়। আমি বাধ্য হয়ে আমার পিতার বাড়িতে চলে আসি।

আমার স্বামী প্রায় সময়ই নেশা করে ঘরে আসে এবং মোবাইলে পরকিয়া করে। এ বিষয়ে আমি আমার শ্বশুর, শাশুড়ীর কাছে বললে তারা আমার কথায় কোন কর্ণপাত করে না। এ বিষয়ে আনিকা বেগম ০১/০৭/২০২৪ ইং তারিখে আদালতে যৌতুক নিরোধ আইনের ০৩ ধারায় মামলা করলে আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে মো. রবিউলের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করেন। আসামী মো. রবিউল স্বেচ্ছায় আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে আদালত ৭ দিনের অন্তবর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন।




পটুয়াখালীতে ৮ বছরের শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকার ও মারধরের অভিযোগ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীতে এক শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জড়িত জেলা শহরের দারুল কুরআন মাদ্রাসার শিক্ষক মাহাদুল হাসানকে অভিযুক্ত করে পটুয়াখালী নারী ও শিশু দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন শিশুর পিতা।

এছাড়াও মামলায় প্রতিষ্ঠানপ্রধান আহমদ কবিরকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

এদিকে এসব ঘটনায় মুখ না খুলতে ভুক্তভোগীর পরিবারকে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন একটি মহল।

এমন অভিযোগে বুধবার বেলা ১১টায় পটুয়াখালী প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন ভিকটিমের বাবা।

আরো পড়ুন : কলাপাড়ায় কৃষকের জালে ধরা পড়ল ভয়ংকর রাসেলস ভাইপার

সংবাদ সম্মেলনে শিশুটির বাবা বলেন, গত ৯ জুন দারুল কুরআন মাদ্রাসার শিক্ষক মাহাদুল হাসান তার ছেলেকে প্রতিষ্ঠানের তৃতীয়তলায় একটি কক্ষে ডেকে নিয়ে যৌন নিপীড়নের জন্য জবরদস্তি করেন। এ সময় শিশুটি আপত্তি করলে শিক্ষক মাহাদুল হাসান শিশুকে মারধর করেন। পরে বিষয়টি প্রধান শিক্ষক আহম্মদ কবিরকে জানালে তিনি বিষয়টি গোপন রাখতে হুমকি-ধমকি দিয়ে ভিকটিমকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। পরবর্তীতে পরিবার ভিকটিমকে পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করান এবং ১ জুলাই দুই শিক্ষককে অভিযুক্ত করে আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেন।

এ প্রসঙ্গে সদর থানার ওসি মো. জসীম বলেন, আদালতের নির্দেশনা পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




দুমকিতে জেলেদের চাল আত্মসাৎকারী চেয়ারম্যানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর দুমকিতে জেলেদের জন্য বরাদ্দ ভিজিএফ-এর ১৭ টন সরকারি চাল আত্মসাৎকারী আঙ্গারিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম মর্তুজা শুক্কুর মিয়ার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার (২ জুলাই) বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে তারা এই দাবি জানায়। দুপুরে দুমকি জনতা কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে বাজার, বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।

মিছিল ও সমাবেশে চাল আত্মসাতের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানোসহ অভিযুক্ত চেয়ারম্যান গোলাম মর্তুজা শুক্কুরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বিভিন্ন শ্লোগান দেয়া হয়।

আরো পড়ুন : বাউফলের শতাধিক স্থানে হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক

শ‌নিবার (২৯ জুন) রাত সা‌ড়ে ১০টার সময় দুমকি থানা পু‌লি‌শের সহায়তায় উপ‌জেলা নির্বা‌হী অফিসার মো. শা‌হিন আঙ্গারিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম মর্তুজা শুক্কুর মিয়ার বাড়ি থেকে সাড়ে ১৭ মেট্রিকটন চাল জব্দ ক‌রেন। এ ঘটনায় রোববার (৩০ জুন) বিকেলে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান তালুকদার বাদী হয়ে দুমকি থানায় একটি মামলা করেন।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারেক মো. আব্দুল হান্নান জানান, অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে। আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।




বাউফলের শতাধিক স্থানে হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় সহজলভ্য হয়ে উঠেছে মাদকদ্রব্য। হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক। এতে কিশোর ও যুবকদের বড় একটি অংশ মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ছে এই এলাকায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়নের প্রায় শতাধিক স্থানে চলে মাদকের কেনা-বেচা। সন্ধ্যার পড়ে এসব স্থানগুলোতে জমে ওঠে মাদকের আড্ডা। কনকদিয়া, মদনপুরা, কেশবপুর, নাজিরপুর, কালাইয়া, কালিশুরি ও পৌরসভার কয়েকটি ঘরে রাত থেকে ভোর পর্যন্ত চলে মাদক সেবন ও জুয়ার আসর।

প্রায় অধিকাংশ মাদক সেবনের ঘরগুলোই নিয়ন্ত্রণ করেন সরকারদলীয় ও বিরোধী দলীয় ছাত্র এবং যুব সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। যার ফলে চাইলেই এসব স্থানে অভিযান পরিচালনা করতে পারছে না পুলিশ। কিছু মাদকসেবী ও ব্যবসায়ী পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার হলেও মূলহোতারা থাকছেন ধরাছোয়ার বাইরে। যার ফলে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না মাদকের সহজলভ্যতা।

আরো পড়ুন : গলাচিপায় প্রথম নারী উপজেলা চেয়ারম্যানের দায়িত্বভার গ্রহণ

গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য ও সরেজমিন দেখা গেছে, উপজেলা পৌর শহরের মুক্তিযোদ্ধা অডিটোরিয়াম, কাগুজিরপুল মল্লিক পাড়া, এমপির ব্রিজ, ধুলিয়া ইউনিয়নের ধুলিয়া লঞ্চঘাট, ধুলিয়া স্কুল, মঠবাড়িয়া চৌরাস্তা, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কালিশুরী ইউনিয়নের কালিশুরী ব্রিজ এলাকা, পোনাহুরা, বাহেরচর, নাজিরপুর ইউনিয়নের নিমদী লঞ্চঘাট, ধানদী বাজার, বাংলাবাজার, বড়ডালিমা এলাকা, কালাইয়া ইউনিয়নের কবরস্থান রোড, মুড়িঘর, খাদ্য গুদাম, কালাইয়া কলেজ ক্যাম্পাস, ডকইয়ার্ড, দাশপাড়া ইউনিয়নের কাঠের পোল, চৌমুহুনী, চরআলগী, বোর্ড অফিস, নওমালা ইউনিয়নের বাবুর হাট, নগরের হাট, আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের কাশিপুর বাজার, মাদবপুর, বগা ইউনিয়নের বগা লঞ্চঘাট, কেশবপুর ইউনিয়নের কেশবপুর বাজার, মমিনপুর বাজার, ভরিপাশা খেয়াঘাটে ইয়াবা ট্যাবলেট ও গাঁজা কেনা-বেচা চলে দিনভর।

অন্যদিকে, পৌরসভার গুলশান পাড়া, মহিলা কলেজ রোড ও সরকারি কলেজ রোডের কয়েকটি বাসায়, কনকদিয়া ইউনিয়নের জয়ঘোড়া এলাকার একটি বাসা, কালিশুরি ইউনিয়নের বাজার রোডের দুইটি বাসা, কেশবপুর বাজারের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কালাইয়া ইউনিয়নের কবর স্থান রোড এলাকার একটি বাসা ও টেম্পুস্ট্যান্ড এলাকার কয়লার ভাটার অফিস কক্ষ, ধুলিয়া ইউনিয়নের ব্রিজের ঢাল এলাকার কয়েকটি বাসায় রাতভোর মাদক ও জুয়ার আড্ডা বসে।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী বলেন, সাংবাদিক বা পুলিশকে তথ্য দিলে সেটা যে ব্যবসায়ীরা জানবে না তার গ্যারান্টি নাই! আপনারাতো ২৪ ঘণ্টা আমাদের পরিবারকে নিরাপত্তা দিতে পারবেন না। বিপদে পড়ার ভয় সকলের আছে। মাদকের নিয়ন্ত্রণকারীরা সবাই সরকারদলীয় নেতাদের কাছের লোক বলেও জানান এসব ভীতসন্ত্রস্ত মানুষ।

গোয়েন্দা তথ্য বলছে, মাদক চোরাচালানের অন্যতম প্রধান রুট ঢাকা-কালাইয়া নৌ রুট। ঢাকা সদরঘাট, ফতুল্লা ও চাঁদপুর থেকে লঞ্চযোগে মাদকের চালান আসে এই উপজেলায়। এছাড়াও চট্টগ্রাম থেকে নোয়াখালী ও ভোলা জেলা হয়ে গভীর রাতে তেঁতুলিয়া নদী পারি দিয়ে মাদকের চালান আসে বাউফলে। অবৈধ মদের বোতলের চালান আসে কুরিয়ার সার্ভিসের পার্সেলের আড়ালে।

উপজেলার সচেতন নাগরিকরা বলছেন, মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে সামাজিক আন্দোলনের বিকল্প নেই। এগিয়ে আসতে হবে মাদকাসক্ত ব্যাক্তির পরিবারের অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও জনপ্রতিনিধিদের।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে বঙ্গোপসাগর উত্তাল

এ বিষয়ে বাউফল থানার অফিসার ওসি শোনিত কুমার গায়েন বলেন, পুলিশ নিয়মিত মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। এটি আমাদের রুটিন ওয়ার্ক। মাদকের সাথে জড়িত ব্যাক্তি যত ক্ষমতাবান হোক তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। আমরা ইতোমধ্যে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িতদের তালিকা তৈরি করেছি এবং তাদের নজরদারিতে রেখেছি। মাদকের বিরুদ্ধে সবসময় পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।