পটুয়াখালীতে ঋণ বকেয়ার অভিযোগে নারী নেত্রী গ্রেপ্তার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীতে সোনালী ব্যাংকের ৯ কোটি টাকা ঋন বকেয়ার অভিযোগে জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জাকিয়া সুলতানা বেবিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার দুপুর ১২ টার দিকে শহরের ফায়ার সার্ভিস এলাকায় নিজ বাসা থেকে বেবিকে আটক করে থানায় নেয়া হয় বলে নিশ্চিত করেছেন সদর থানার ওসি মোঃ জসিম।

এদিকে পটুয়াখালী অর্থ ঋণ আদালতের গ্রেপ্তারী পরোয়ানার বলে বেবিকে আটকের কথা পুলিশ দাবী করলেও গ্রেপ্তারকৃত বেবি জামিনে রয়েছেন বলে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের জানান।

পটুয়াখালী সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার মোঃ জিল্লুর রহমান জানান, ১৯৮৫ সালে পটুয়াখালী বিসিক এলাকায় মেসার্স পটুয়াখালী টেক্সটাইল নামে একটি কোম্পানি খুলে সোনালী ব্যাংক থেকে ২ কোটি ২৩ লাখ ২৪ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করেন জাকিয়া সুলতানা বেবির স্বামী সিরাজুল ইসলাম খান। ওই কোম্পানির অর্ধেক শেয়ার নিজ নামে রেখে কোম্পানির পরিচালক পদ দিয়ে ২৫ ভাগ করে শেয়ার দেখানো হয় সিরাজুল ইসলাম এর স্ত্রী জাকিয়া সুলতানা বেবি এবং হামিদুল হক নামে এক ব্যক্তির নামে।

টেক্সটাইলটি কিছুদিন চালু থাকার পর ১৯৯৩ সালে বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তিতে ১৯৮৫ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত ব্যাংকের বকেয়া দাড়ায় ৮ কোটি ৩৮ লাখ ৭২ হাজার টাকা। এ সময়ের মধ্যে সিরাজুল ইসলাম এবং হামিদুল হক মারা যান। এরপর ঋণের অর্থ পরিশোধ না করায় ব্যাংক ম্যানেজার বাদী হয়ে পটুয়াখালী অর্থ ঋণ আদালতে জাকিয়া সুলতানা বেবিকে আসামি করে ২০০৪ সালে একটি মামলা দায়ের করেন।

আরো পড়ুন : শুদ্ধাচার পুরস্কার পেলেন পটুয়াখালীর জেল সুপার মাহাবুবুল আলম

ব্যাংক ম্যানেজার জিল্লুর রহমান আরো জানান, ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত সুদে-আসলে বর্তমান লেজার স্থিতি অনুযায়ী এ পর্যন্ত সুদ মওকুফের পর জাকিয়া সুলতানা বেবির আবেদনের প্রেক্ষিতে তার কাছে ব্যাংকের বকেয়া পাওনা দাড়ায় প্রায় ৯ কোটি টাকা। ২০২৩ সালের ২১ নভেম্বর ঋণ গ্রহিতার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।

গত মে মাসে জাকিয়া সুলতানা বেবি ১৯ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা দিয়েছিলেন। ২০২২ সালের ১২ জানুয়ারি সোনালী ব্যাংক কেন্দ্রীয় পরিচালনা পর্ষদের কাছে সুদ মওকুফের আবেদনের প্রেক্ষিতে বোর্ড সভায় তিন কোটি ১৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পরিশোধ করার সিদ্ধান্ত দেয়। কিন্তু সে সিদ্ধান্ত না মেনে বেবি প্রতিনিয়ত খিলাপি তালিকার শীর্ষ ওঠেন। পরবর্তীতে ব্যাংকের হস্তক্ষেপে বুধবার বেবিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

সদর থানার ওসি মোঃ জসিম আরো জানান, গ্রেপ্তারকৃত জাকিয়া সুলতানা বেবিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।




শুদ্ধাচার পুরস্কার পেলেন পটুয়াখালীর জেল সুপার মাহাবুবুল আলম

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বরিশালের বিভাগে শুদ্ধাচার পুরস্কার পেলেন পটুয়াখালী জেলা কারাগারের জেল সুপার মাহাবুবুল আলম। বন্দি কল্যাণ, কারাবন্দিদের সংশোধন ও পূনর্বাসন এবং কারা কর্মচারীদের কল্যাণে অবদান রাখায় তিনি গত ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের জন্য এ পুরস্কার লাভ করেন।

ইতোপূর্বে তিনি নারায়নগঞ্জ জেলা কারাগার, গাইবান্ধা জেলা কারাগারেও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি গাজীপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালী-বাউফল সড়ক অবরোধ পবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের

তিনি ১৯৯৯ সালে ডেপুটি জেলার পদে কারা বিভাগে যোগদান করেন। আজ এক অনাড়ম্বর আনুষ্ঠানিকতায় বরিশাল বিভাগের ডিআইজি (প্রিজন্স) মো. জাহাঙ্গীর কবির তাকে ক্রেষ্ট, সনদপত্র এবং এক মাসের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ পুরস্কার প্রদান করেন।




পটুয়াখালীতে শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীতে সরকারি জায়গায় গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে সদর উপজেলা প্রশাসন।

৯ জুলাই, মঙ্গলবার সকালে পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের হেতালিয়া বাঁধঘাট এলাকায় থাকা এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।

এসময় অভিযান পরিচালনা করেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চন্দন কর। অভিযানকালে শতাধিক পাকা-আধাপাকা দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে খাস জমি বন্দোবস্ত পাওয়ার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চন্দন কর বলেন, পৌরসভায় খাল ও নদীর মধ্যে যত অবৈধ স্থাপনা ছিল তারই অংশ বিশেষ হিসেবে বহালগাছিয়া খালের ওপরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। এ উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।




বাউফলে প্রাইভেট পড়তে গিয়ে ধর্ষণচেষ্টার শিকার শিক্ষার্থী

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফলে প্রাইভেট পড়তে গিয়ে ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছে এক শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা বাউফল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নাজিরপুর ইউনিয়নের দাখিল মাদ্রাসা থেকে ওই শিক্ষার্থী চলতি বছর দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়। একটি বিষয়ে ফলাফল খারাপ করায় ওই শিক্ষার্থী আগামী বছর ফের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় ওই মাদ্রাসার কম্পিউটার বিষয়ের শিক্ষক শহিদুল ইসলামের কাছে সে প্রাইভেট পড়া শুরু করে।

গত ৩০ জুন বিকালে প্রাইভেট পড়া শেষে ব্যাচের সব শিক্ষার্থীকে ছুটি দেওয়া হলেও বিশেষ পড়ার অজুহাতে নির্যাতিত শিক্ষার্থীকে টেবিলে বসতে বলেন শিক্ষক শহিদুল। কিছুক্ষণ পর ঘরের দরজা আটকে ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন তিনি। ধস্তাধস্তির কারণে শিক্ষার্থীর শরীরে ক্ষত তৈরি হয়েছে। বিষয়টি কাউকে না বলার নির্দেশ দিয়ে শিক্ষার্থীকে বাড়ি পাঠিয়ে দেন তিনি।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে রথযাত্রা থেকে মোবাইল চোর চক্রের ৪ সদস্য আটক

পরে নির্যাতিত শিক্ষার্থী তার বাবা-মাকে বিষয়টি জানানোর পর গ্রামের কয়েকজন মোড়ল সালিশ-মীমাংসার প্রতিশ্রুতি দেন। সালিশে ১ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হলেও শিক্ষার্থীর মা বলেন, আমি এ বিচার মানি না। পরে রোববার রাতে নির্যাতিত শিক্ষার্থীর মা থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

এ ব্যাপারে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষক শহিদুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

বাউফল থানার ওসি শোনিত কুমার গায়েন বলেন, অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে। সত্যতা পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




পটুয়াখালীতে রথযাত্রা থেকে মোবাইল চোর চক্রের ৪ সদস্য আটক

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান রথযাত্রা উপলক্ষ্যে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাসহ নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠান মালার আয়োজন করা হয়েছিল। এই রথযাত্রা থেকে একটি পেশাদার মোবাইল চোর চক্রের চারজনকে আটক করেছে পটুয়াখালী থানা পুলিশ।

সোমবার (৮ জুলাই) আটকদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে রোববার (৭ জুলাই) বিকেলে রথযাত্রা চলাকালীন আদালতপাড়া এলাকা থেকে চোর চক্রের চারজনকে আটক করা হয়।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে ৮২ মণ লইট্যা ও ইলিশ মাছ জব্দ

আটকরা হলেন– বাগেরহাট জেলার গোটাপাড়া উপজেলার আতাইকাঠী গ্রামের আব্দুল হাকিম মোল্লার ছেলে মো. মিলন মোল্লা, একই জেলার কচুয়া উপজেলার ধোপাখালী ইউনিয়নের সত্য রঞ্জন সাহার পুত্র সবুজ সাহা (২৭), একই উপজেলার ধোপাখালী ইউনিয়নের মো. হাবিবুর রহমান শেখের ছেলে মো. জসিম শেখ (২৮), অপরজন ঝালকাঠী পৌর এলাকার মনু সড়কের বাসিন্দা মৃত মজিদ তালুকদারের ছেলে মো. সানোয়ার হোসেন তালুকদার। আটক সবার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় মোবাইল চুরির একাধিক মামলা রয়েছে।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জসিম বলেন, আটক সবাই পেশাদার মোবাইল চোর। তাদের আটকের পর নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। আটকের সময় তাদের সঙ্গে থাকা আটটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন জব্দ করেছে পুলিশ।




পটুয়াখালীতে ৮২ মণ লইট্যা ও ইলিশ মাছ জব্দ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ৮০ মণ লইট্যা ও ২ মণ ইলিশ মাছসহ দুটি পিকআপ ভ্যান জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সোমবার (৮ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে কলাপাড়া-কুয়াকাটা মহাসড়কে অভিযান চালিয়ে এসব মাছ জব্দ করেন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কৌশিক আহম্মেদ।

অভিযানের সময় ১১ জন মাছ ব্যবসায়ীকে ৫ হাজার করে মোট ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে সন্ধ্যায় জব্দকৃত মাছ বিভিন্ন এতিমখানা ও অসহায় মানুষদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।

আরো পড়ুন : ঝাড়ু মিছিল নিয়ে পল্লীবিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও – পালালেন কর্মকর্তারা

নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কৌশিক আহম্মেদ জানান, সাগরে মাছ ধরার ওপর ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলছে। কিছু অসাদু জেলে সাগরে মাছ শিকার করে পাইকারি ব্যবসায়ীদের তা বিক্রি করছেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দুটি পিকআপ ভ্যান থেকে ৮০ মণ লইট্যা ও ২ মণ ইলিশ মাছ জব্দ করা হয়েছে। অসাদু জেলেদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।




পটুয়াখালী সরকারি খালে অবৈধ বাঁধ, ৩ গ্রামের ৭শ একর জমি পানিবন্দি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নে সরকারি খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছে প্রভাবশালী একটি মহল। এতে কৃষিকাজ নিয়ে বিপাকে পড়েছে ওই ইউনিয়নের প্রায় তিন শতাধিক কৃষক পরিবার। গত দুই দিনে মুষলধারে পড়া বৃষ্টিতে ৩ গ্রামের ৭শ একর ফসলি জমিতে ৩ ফুট পানি জমে রয়েছে। খালে বাঁধ দেওয়ার কারণে জমানো পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় কৃষিকাজ নিয়ে বিপাকে পড়েছে কয়েকশ কৃষক পরিবার।

শনিবার বিকেলে রাঙ্গাবালী উপজেলা পরিষদের চত্বরে প্রায় দুই শতাধিক ভুক্তভোগী কৃষক প্রশাসনের সহায়তা চেয়ে মানববন্ধন করেছে। মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন তারা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, চরমোন্তাজ ইউনিয়নের উত্তর চরমোন্তাজসহ ৩টি গ্রামের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া এই খালটি মন্ডল স্লুইস খালের সাথে সংযুক্ত হয়েছে। প্রভাবশালী একটি মহল তাদের স্বার্থের জন্য উত্তর চরমোন্তাজ গ্রামের প্রধান খালে ১২টির মতো বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছেন। এতে দুর্বিপাকে পড়েছে কয়েকশ কৃষি পরিবার। গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণের কারণে ফসলি জমিতে এখন ৩-৪ ফুট পানি জমে আছে। এতে ইউনিয়নের অন্তত ৭০০ একর জমির চাষাবাদ বন্ধ। এসময় খাল থেকে অবৈধ দখলদারদের বাঁধ অপসারণ করে কৃষকদের মুক্তি দেওয়ার জোর দাবি জানায় তারা।

তারা আরও বলেন, আমাদের এই এলাকার অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজের সাথে জড়িত। আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত সমাধান চাই। তা না হলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই এলাকার প্রায় ৫ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আসাদুজ্জামান বলেন, কৃষকদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি খালটিতে বেশ কয়েকটি বাঁধ রয়েছে। ফলে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় প্রায় ৬৫০-৭০০ একর জমিতে পানি জমে রয়েছে। এতে আমনসহ পরবর্তী মৌসুমি ফসল চাষ ব্যাহত হতে পারে। ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় আমরা ৫০টির বেশি অবৈধ বাঁধ অপসারণ করেছি।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক নূর কুতুবুল আলম বলেন, আমার কাছে এখন পর্যন্ত লিখিত অথবা মৌখিকভাবে কেউ অভিযোগ করেনি। এ ধরনের অভিযোগ পেলে আমাদের সংশ্লিষ্ট উপজেলার ইউএনও এবং এসিল্যান্ড সাহেবরা সেখানে গিয়ে অবৈধ বাঁধ অপসারণ করেন। আমি ইউএনও সাহেবকে বলছি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য।




কলেজছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: মূলহোতা ‘পিস্তল বাবু’ র‌্যাবের জালে

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফলে কলেজ ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মূলহোতা আসাদুজ্জামান বাবু মৃধা ওরফে পিস্তল বাবু গ্রেফতার হয়েছেন।

শনিবার (৬জুলাই) রাতে র‍্যাব-৮ এর পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল ঢাকার কদমতলী এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। র‍্যাব-৮ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর সোহেল রানা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমাদের একটি দল ঢাকা কদমতলী থেকে আলোচিত সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার মূল আসামি পিস্তল বাবুকে গ্রেফতার করে। তাকে বাউফল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

আরো পড়ুন :পটুয়াখালী অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরী – কুয়াকাটায় দুই খাবার হোটেলকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা

১২ জুন বগা ইউনিয়নের শাপলাখালী গ্রামে ডা. ইয়াকুব শরীফ ডিগ্রি কলেজের এক ছাত্রী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন। এ ঘটনায় ১৪ জুন পিস্তল বাবুকে প্রধান আসামি করে তিনজনের নামে মামলা করেন ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী।

মামলার এক আসামি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলেও দীর্ঘ তিন সপ্তাহ ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন পিস্তল বাবুসহ দুজন। পিস্তল বাবু ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলেও জানা গেছে। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকলেও অবশেষে র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়েছে এই আসামি।




পটুয়াখালী অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরী – কুয়াকাটায় দুই খাবার হোটেলকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরী, পরিবেশন এবং পরিবেশ দূষণের দায়ে দুই খাবার হোটেল মালিককে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। শুক্রবার শেষ বিকালে সৈকত লাগোয়া বৈশাখী হোটেল এন্ড বিরিয়ানী হাউজকে দেড় লাখ এবং গাজী রেস্তোরাঁ এন্ড বিরিয়ানী হাউজকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

আরো পড়ুন : চার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ বিএফইউজে-ডিইউজের

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কৌশিক আহম্মেদ এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

সূত্রে জানা যায়, বেশকিছু দিন ধরে ওই দুই হোটেল থেকে ময়লা পানি সরাসরি পাইপের মাধ্যমে সমুদ্রে ফেলা এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরী ও পরিবেশনের দায়ে এ জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কৌশিক আহম্মেদ এই তথ্য নিশ্চিত করেন।




চার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ বিএফইউজে-ডিইউজের

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: সংবাদ প্রকাশের জেরে পটুয়াখালীর বাউফলের চার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে বরিশালের সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজের) একাংশের।

গতকাল শুক্রবার (৫ জুলাই) পাঠানো বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন বিএফইউজের একাংশের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী ও মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি শহিদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম।

বিবৃতিতে সাংবাদিক নেতারা বলেন, ‘সরকার দলীয় নেতাকর্মীর দ্বারা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হামলা-মামলার ঘটনা নতুন কিছু নয়। যখনই সাংবাদিকরা সত্য কথা লেখে, সমাজের অনিয়ম তুলে ধরে তখনই তারা ক্ষমতাসীনদের হামলা-মামলার স্বীকার হন। পটুয়াখালীর বাউফলে যুবলীগ নেতা কর্তৃক চার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে করা মামলা এর ব্যতিক্রম নয়।’

নেতারা বলেন, ‘আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এসব মিথ্যা মামলা দিয়ে সাংবাদিকদের ভয় দেখানো যাবে না। সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধভাবে এই অপশক্তিকে মোকাবিলা করবে। একইসঙ্গে আমরা এই ন্যক্কারজনক এ মিথ্যা মামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’ অবিলম্বে এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান তারা।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে স্বর্ণের দোকানে ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ

গত ৩ জুলাই সংবাদ প্রকাশের জেরে পটুয়াখালীর বাউফলের চার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে বরিশালের সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতে মামলা করেন বাউফল পৌর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আরিফুজ্জামান ওরফে রিয়াদ খান (৪৩)।

মামলায় আসামিরা হলেন–দৈনিক কালবেলার বাউফল প্রতিনিধি জি এম মশিউর রহমান, বাউফল প্রতিদিন ডটকমের সম্পাদক মো. এনামুল হক, সময় টিভির স্টাফ রিপোর্টার মো. মনির হোসেন ও দৈনিক ভোরের আকাশের বাউফল প্রতিনিধি মো. ফিরোজ।

আদালত বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শোণিত কুমার গায়েনকে মামলা তদন্ত করার দায়িত্ব দিয়েছেন।

এর আগে পরকীয়ার জেরে এক গৃহবধূকে নিয়ে পালানোর অভিযোগে মো. আরিফুজ্জামানের বিরুদ্ধে পটুয়াখালী আদালতে মামলা হয়। ২৬ জুন ওই গৃহবধূর স্বামী বাদী হয়ে মামলাটি করেন। ওই মামলার সূত্র ধরে সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন এই যুবলীগ নেতা।