পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজে স্থাপন প্রকল্পে চাঁদাবাজির অভিযোগ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী ২৫০ বেড মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালটি ৫শ বেডে উন্নীত করণের জন্য গ্রহণ করা প্রকল্পটি চলতি বছরের ৩০ জুন কাগজে কলমে সমাপ্ত হলেও বাস্তবে এখনও কাজ শেষ হয়নি।

আর প্রকল্পের শেষ পর্যায়ে এসে ছাত্রলীগের চাহিদার ৫ লাখ টাকা পরিশোধ না করায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনকে মারধর করে বেশ কয়েকবার ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়াসহ কাজ বন্ধ করারও অভিযোগ উঠেছে মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইতোমধ্যে মেডিকেল কলেজ নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক, মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ, পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্ববধায়ক, পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, পৌর মেয়রসহ সংশ্লিষ্টদের অবহিত করে চিঠি দিয়েছেন।

৯ জুলাই গণপূর্ত বিভাগের ই/এম কাঠের কারখানা বিভাগ, শের ই বাংলা নগর ঢাকা-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজেদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে পাঠানো হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন প্রকল্পের আসবাবপত্র সরবরাহের জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে গণপূর্ত ই/এম কাঠের কারখানা বিভাগ নিয়োগপ্রাপ্ত। উক্ত প্রকল্পের আওতাধীন হোস্টেলের জন্য নির্ধারিত আসবাবপত্র সরবরাহ পরবর্তীতে তার চাহিদার প্রেক্ষিতে পুরুষ ও মহিলা হোস্টেলে আসবাবপত্র সেটিং ও ফিটিং করানোর জন্য ঢাকা থেকে গত ১২ মে টেকনিশিয়ান প্রেরণ করা হয়।

হোস্টেলের আসবাবপত্র ফিটিং করার সময় কলেজ শাখার ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি টেকনিশিয়ানদের কাজে বাধা প্রদান করেন। যার প্রেক্ষিতে নির্বাহী প্রকৌশলী ই/এম বিভাগ গত ২০ মে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের আসবাবপত্র সেটিং করণের কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন অধ্যক্ষসহ ২৫০ বেড হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক। পরে ছাত্রলীগের কর্মীদের সাথে সাক্ষাৎ করে কাজের স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনতে বিস্তরিত আলাপ-আলোচনা করে সহযোগিতা চাওয়া হয়। পরবর্তীতে ঢাকা থেকে পুনরায় টেকনিশিয়ান প্রেরণ করা হয় গত ২২ জুন।

নির্বাহী প্রকৌশলী ই/এম বিভাগ কে-০১৩১৬৬৬৪৩৪৩ নাম্বার থেকে আনুমানিক রাত ১১.৩০টায় ফোন করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজের ছাত্রলীগ কর্মী পরিচয় দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং টেকনিশিয়ান যাতে প্রেরণ না করা হয় সে ব্যাপারে হুমকি প্রদান করেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কলেজ কর্তৃপক্ষকে টেলিফোনে অবহিত করা হয়। ঈদ-উল-আজহা পরবর্তীতে হোস্টেলের আসবাবপত্র ফিটিং এর সময় টেকনিশিয়াদের পুনরায় পটুয়াখালী মেডিকেলের ছাত্রলীগ কর্মীরা সরকারি কাজে বাধা প্রদান করেন। এমনকি টেকনিশিয়ানরা যে হোটেলে রাতে অবস্থান করে সেখান থেকেও মারধর করে, মোবাইল কেড়ে নেওয়াসহ কলেজে ঢুকে যাতে কাজ না করে সে ব্যাপারে হুমকি প্রদর্শন করা হয়।

পরে টেকনিশিয়ানরা ভয়ে কাজ না করে তারা পটুয়াখালী ত্যাগ করেন। গত ১ জুলাই ঢাকা থেকে কর্তৃপক্ষের চাহিদার প্রেক্ষিতে পুনরায় নতুন (দশ) টেকনিশিয়ানদের হোস্টেলের আসবাবপত্র ফিটিং করণের জন্য প্রেরণ করা হলে মহিলা হোস্টেলের আসবাবপত্র ফিটিং এর সময় কলেজ শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সহ কতিপয় ছাত্রলীগ কর্মী সরকারি কাজে বাঁধা প্রদান করেন এবং কাজ না করার জন্য হুমকি প্রদর্শন করায় তারা প্রাণ ভয়ে কাজ করতে এবং স্থানীয় হোটেলে অবস্থান করতে চাচ্ছে না।

আরো পড়ুন : কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত পরিচ্ছন্নতা অভিযানে ‘বৃহন্নলা’

এমতাবস্থায়, বারবার টেকনিশিয়ান পাঠানোর পরেও কলেজ শাখা ছাত্রলীগের মারধরের হুমকি সহ কলেজে প্রবেশে নিষেধ করায় সরকারের কাজ যথাসময়ে বাস্তবায়ন হবে না মর্মে প্রতীয়মান। সুতরাং যথাসময়ে সরকারি কাজ বাস্তবায়ন করতে হলে স্থানীয় কলেজের ছাত্রলীগ কর্মীদের সরকারি কাজে বাধা প্রদানে বিরত রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিনীত অনুরোধ জানানো হল। অন্যথায় প্রকল্পের কাজ যথাসময়ে সমাপ্ত হবেনা মর্মে আশংকা করা যাচ্ছে। এ ব্যাপারে আন্তরিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।

এ বিষয় জানতে চাইলে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ডা. মনিরুজ্জামান বলেন, আমরা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি। ছাত্রলীগের ওরাও তো আমাদের ছাত্র। ইতোমধ্যে মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ এ ঘটনায় একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধান হবে। তবে বর্তমানে পুলিশের পাহারায় কাজ চলছে।

রোববার (১৪ জুলাই) সকালে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন বিভাগ ও হোস্টেলের শিক্ষার্থীদের জন্য আনা বিভিন্ন আসবাবপত্র নতুন ভবনের বিভিন্ন কক্ষে মজুত করে রাখা হয়েছে। নির্ধারিত সময় কাজ করলে এসব আসবাবপত্র সংশ্লিষ্ট স্থানগুলোতে সংযোজন করার কথা। কিন্তু ছাত্রলীগের বাধার কারণে তার অধিকাংশই মজুত অবস্থায় পড়ে আছে। এতে করে হোস্টেলে অবস্থান করা ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

বেশ কয়েকজন শিক্ষকের সাথে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন থেকেই মূলত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি মো. সাদিকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইফাদুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল। প্রাথমিক ভাবে তারা পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে, এ নিয়ে শিক্ষকরা একাধিকবার কথা বললে ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তাদের সাথে অশোভন আচরণ করে। তবে এ বিষয় মেডিকেল কলেজ শিক্ষকরা সরাসরি কেউ কথা বলতে সাচ্ছন্দ বোধ করছেন না।

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা. মো. মনিরুজ্জামান জানান, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. মোস্তাফিজুর রহমানকে প্রধান করে ৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করার পর পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি মো. সাদিকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইফাদুল ইসলাম এর কাছে জানতে চাইলে তারা পুরো বিষয়ের সাথে ছাত্রলীগের কোন সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন। পাশাপাশি এটিকে বিএনপি জামায়াত ঘরানার শিক্ষকদের একটি কর্মকাণ্ড বলেও জানান তারা।

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ঠিক রাখার পাশাপাশি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার মান উন্নয়নে দ্রুত প্রকল্পের কাজ শেষ করার বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন সবাই।




ত্রাণ প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট – এবার পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তি ও অপপ্রচারের অভিযোগে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো: মহিব্বুর রহমান এমপি’র ছবি, ভিডিও সুপার এডিট করে প্রতিমন্ত্রীর সাথে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির ম্যাসঞ্জোরে কথোপকথন সুপার এডিট করে তাঁর সম্মানহানী করার জন্য একটি পর্নো ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আপলোড করার অপরাধে এবার পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পর্নোগ্রাফী নিয়ন্ত্রন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রোববার (১৪) জুলাই সকালে মহিপুর থানা শ্রমিকলীগের সাবেক সভাপতি মো: আবুল কালাম ফরাজী কলাপাড়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আশীষ রায়ের আদালতে এ মামলা করেন।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দাখিলী কাগজপত্র, ভিডিও পর্যালোচনা করে মামলাটি আমলে নিয়ে ওসি মহিপুরকে এজাহার গ্রহণের নির্দেশ দেন বিচারক।

বাদির নিযুক্তীয় কৌশুলী অ্যাডভোকেট মো: গোফরান বিশ্বাস পলাশ ও আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো: কাইউম এ আদেশের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

মামলায় মো: আরিফ বিল্লাহ নাসিম, মো: রনি হোসেন রকি, আসাদুজ্জামান কবির মল্লিক, মহসীন উদ্দীন হিমন, সায়েদ কায়সার সজীবসহ আটজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ত্রাণ প্রতিমন্ত্রীর সাথে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির ম্যাসেঞ্জার কথোপকথন সুপার এডিট করে তার সম্মানহানী করার জন্য একটি র্পনোভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আপলোড করে আসামিরা। প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত ছবি ও পরিচয় বিনানুমতিতে পরিচিতি তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবহার করে তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন ও মান সম্মান ক্ষুণ্ন করার জন্য এতে লাইক, কমেন্টস, শেয়ার করে মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপে ছড়িয়ে দেয় আসামিরা। বিষয়টি বাদিসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সরকারের বিভিন্ন মহলের দৃষ্টি গোচর হওয়ায় সকলের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এতে সংক্ষুব্দ হয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে এ মামলা করেন।

আরো পড়ুন : বাউফলে হাতুড়িপেটায় আহত ব্যক্তির মৃত্যু

এর আগে, প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মানহানিকর পোস্টের ঘটনায় যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামিম আল সাইফুল সোহাগসহ তিনজনের নামে সাইবার নিরাপত্তা আইনে প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মচারী মো: মহিবুল্লাহ ১০ জুলাই বরিশাল সাইবার ট্রাইবুনালে একটি মামলা করেন। বরিশাল সাইবার ট্রাইবুনালের বিচারক মো: গোলাম ফারুকের সাইবার ট্রাইবুনাল সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩-এর ২৩, ২৫, ২৬, ২৯ ও ৩৩ ধারার অভিযোগে বাদির দাখিলী কাগজপত্র পর্যালোচনা করে মামলাটি আমলে নিয়ে পটুয়াখালীর মহিপুর থানার ওসিকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

বাদির নিযুক্তীয় কৌশুলী অ্যাডভোকেট ফাহাদ বিন আহসান ও ট্রাইবুনালের বেঞ্চ সহকারী মো: নাজমুল হাসান এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন।




বাউফলে হাতুড়িপেটায় আহত ব্যক্তির মৃত্যু

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বগা ইউনিয়নের চন্দনবাড়িয়া গ্রামে হাতুড়িপেটায় আহত পরেশ চন্দ্র বিশ্বাস (৩৫) মারা গেছেন।

শনিবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়।

হাতুড়িপেটায় আহত আহত পলাশী বিশ্বাস (৩০) ও মানবিকা বিশ্বাস (৫০) নামে দুই নারী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পলাশী বিশ্বাস নিহত পরেশের স্ত্রী ও মানবিকা বিশ্বাস তার (পরেশ) বড় ভাই শেখর চন্দ্র বিশ্বাসের স্ত্রী।

আরো পড়ুন : এরশাদের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকীতে পটুয়াখালীতে স্মরণসভা

জানা গেছে, গত বুধবার (১০ জুলাই) সকালে পরেশ বিশ্বাস চন্দনবাড়িয়া গ্রামে তার জমি চাষ করতে যান। ওই সময় মো. ফারুক সিকদার (৪৮) নেতৃত্বে ৮-১০ জনের একটি দল ওই জমি চাষে বাঁধা দেয় এবং তাকে মারধর করে। একর্পায়ে তাকে হাতুড়ি ও লোহার পাইপ দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। পরেশের চিৎকারে তার স্ত্রী পলাশী বিশ্বাস ও ভাইয়ের স্ত্রী মানবিকা বিশ্বাস এগিয়ে গেলে তাদেরকেও পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। স্থানীয় লোকজন আহত ব্যক্তিদের প্রথমে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। অবস্থার অবনতি হলে ওইদিনই তাদের পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে পরেশের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শনিবার বেলা ১১টার দিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করান। সেখানে সন্ধ্যা ৬টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরেশের মৃত্যু হয়।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শোনিত কুমার গায়েন বলেন, ‘ঘটনার পর এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করতে বলা হয়েছিল। তারা অভিযোগ না করে চিকিৎসার জন্য পটুয়াখালী চলে গেছে। বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই নিহত ব্যক্তির ময়না তদন্ত করা হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




দুমকিতে আন্তঃজেলা চোর চক্রের ৩ সদস্য আটক

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর দুমকিতে ২টি ছাগল ও চোরাই কালে ব্যবহৃত একটি সিএনজিসহ আন্তঃজেলা চোর চক্রের ৩ সদস্যকে আটক করে পুলিশ।

শনিবার (১৩ জুলাই) দুপুরে উপজেলার আঠারগাছিয়া মাদ্রাসা ব্রীজ এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়েছে।

আটককৃতরা হলো, বাউফলের কাছিপাড়া এলাকার ইউনুস প্যাদার ছেলে এলেন প্যাদা (৩৫), ঝালকাঠির কেওড়া ইউনিয়নের মৃত আব্দুর রব হাওলাদারের ছেলে সিএনজি ড্রাইভার রুবেল হাওলাদার (৩৪) এবং নলছিটির রফিক সিকদারের ছেলে সম্রাট সিকদার (৩৫)। এদের মধ্যে এলেন প্যাদার নামে বরিশাল বিএমপি বন্দর, ঝালকাঠির নলছিটি, পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ সহ বিভিন্ন জেলায় ৬টি মামলা রয়েছে।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় উপজেলার আঠারগাছিয়া মাদ্রাসা ব্রীজ এলাকা থেকে ০২টি ছাগল ও চোরাইকাজে ব্যবহৃত ১টি সিএনজি সহ আন্তঃজেলা চোর চক্রের ৩ সক্রিয় সদস্যকে আটক করা হয়েছে।

দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তারেক মোঃ আব্দুল হান্নান জানান, আটককৃত এলেন প্যাদার বিরুদ্ধে বরিশালের একাধিক থানায় মামলা রয়েছে। এছাড়া আটককৃত চোরদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।




দুমকীতে দখলদারের কবল থেকে খাল উদ্ধার করলো প্রশাসন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর দুমকীতে প্রশাসনের উদ্যোগে দখলদারের কবল থেকে জামলা খাল উদ্ধার করে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে।

শুক্রবার(১২ জুলাই) সকাল ৮টা থেকে খালের মাছ ধরে বিকেল সাড়ে ৬টায় স্থানীয় লোকজনের মাঝে ৮ হাজার ৮শ টাকায় বিক্রি করা হয়। ওই অর্থ রাস্ট্রীয় কোষাগারে জমা করা হবে বলে জানা গেছে।

জানতে চাইলে খাল দখলে অভিযুক্ত আমির হোসেন মৃধা জানান, করোনার পরে ওই খাল আর লীজ দেয়া হয়নি। কিন্তু খাস খতিয়ানের নামে টাকা জমা নিয়েছে ভূমি অফিস। আমি নিজেই জমা দিয়েছি।

দুমকী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহিন মাহমুদ বলেন, জামলা খালটি গত ৫ বছর আগে ইজারা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু ২ বছর আগে সেই ইজারার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। গত বছরের ১৮ জানুয়ারি অফিশিয়ালভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে যে, জামলা খালটি আর ইজারা দেয়া হবে না। সরেজমিনে এসে এলাকাবাসীর মাধ্যমে জানতে পারি যে, ২ একর জায়গায় দখল করে একটি গ্রুপ মাছ চাষ করেছে। কাগজ পত্র পর্যালোচনায় দেখা যায় অবৈধভাবে তারা খালটি দখল করে আছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে দুমকী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কাওসার আমিন হাওলাদার বলেন, প্রশাসন বা দুমকী উপজেলা পরিষদের কাছে কোন অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে; খাল দখলকারী যতই শক্তিশালী বা প্রভাবশালী হোক না কেন পরিষদের ক্ষমতা ও সততার জায়গা থেকে তাদের দখল করতে দেয়া হবে না। এসময় সকল দখলকারীদের নিজ থেকেই দখলমুক্ত করার আহবানসহ অনুরোধ জানান তিনি।




পিরোজপুরে মাকে কুপিয়ে হত্যা : ছেলে গ্রেফতার

বরিশাল অফিস :: আর্থিক নানা সঙ্কট ও পারিবারিক বিরোধের কারণে পিরোজপুরের নাজিরপুরে মাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে ছেলে। পরে অভিযুক্ত ছেলে যতিশ বালাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার রাতে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম। এর আগে, তাকে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার শ্রীরামকাঠী ইউনিয়েন উত্তর জয়পুর থেকে গ্রেফতার করা হয়।

নিহত জুতিকা বালা (৫০) জেলার নাজিরপুর উপজেলার শ্রীরামকাঠী ইউনিয়নের উত্তর জয়পুর গ্রামের নারায়ণ বালার স্ত্রী।

পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার রাতে নাজিরপুর উপজেলার শ্রীরামকাঠী ইউনিয়েন উত্তর জয়পুর এলাকায় জুতিকা বালা নামের এক নারীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে বিভিন্ন বিষয়ে তদন্ত করে নিহতের বড় ছেলে যতিশ বালাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি পুলিশের কাছে তার মাকে ধারাল দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেন। পুলিশের কাছে অভিযুক্ত যতিশ স্বীকারোক্তিতে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক নানা সঙ্কট ও পারিবারিক বিরোধের কারণে তার মায়ের ওপরে ক্ষোভ ছিল। তাই পূর্বপরিকল্পিকভাবে বৃহস্পতিবার রাতে ঘরে থাকা দা দিয়ে তার মাকে কুপিয়ে হত্যা করেন।

পুলিশ সুপার আরো জানান, এ হত্যাকাণ্ডে নিহতের স্বামী নারায়ণ বালা নাজিরপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো: মুকিত হাসান খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো: রবিউল ইসলাম, নাজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: শাহ আলম হাওলদারসহ জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা।




প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগে যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতাসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমান এমপির বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগে যুবলীগের এক কেন্দ্রীয় নেতাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

বুধবার বরিশালের সাইবার ট্রাইব্যুনালে ওই নালিশি মামলা দেন মো. মহিবুল্লাহ নামে এক ব্যক্তি।

আদালতের বিচারক গোলাম ফারুক মামলাটি আমলে নিয়ে পটুয়াখালীর মহিপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী নাজমুল হাসান।

এছাড়া একই ঘটনায় পটুয়াখালীর কলাপাড়া থানায় মঙ্গলবার একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন দিদার উদ্দিন আহমেদ নামে এক ব্যক্তি।

আরো পড়ুন : মহিপুরে উচ্ছেদ অভিযানে ভেঙে দিলো অবৈধ স্থাপনা

মামলার তিন আসামির মধ্যে শামীম আল সাইফুল ইসলাম সোহাগ কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তার বাবার নাম আব্দুল খালেক। বাকি দুই আসামি হলেন- মাওলানা শেরই আলমের ছেলে আরিফ বিল্লাহ নাসিম ও রুস্তম হাওলাদারের ছেলে রনি হোসেন রকি। আসামিরা সবাই পটুয়াখালীর কলাপাড়ার বাসিন্দা।

মামলার নথির বরাতে বেঞ্চ সহকারী নাজমুল বলেন, বাদী মহিবুল্লাহ মঙ্গলবার দুপুরে ফেসবুকে দেখতে পান আসামিরা প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমানকে নিয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ফেসবুকে ভিডিও প্রচার করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্য কোনো ব্যক্তির ভিডিওর সঙ্গে সুপার এডিটের মাধ্যমে প্রতিমন্ত্রীর ছবি বসিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আসামিরা নিজে বা অন্য কাউকে সুবিধা দিতে নতুন তথ্য সংযুক্ত করে প্রতিমন্ত্রীর মান ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের দৃষ্টিতে আসায় প্রতিমন্ত্রীর মান ক্ষুণ্ণ হয়েছে।




‘কোটা আন্দোলনকারীদের জন্য আদালতের দরজা সবসময় খোলা’: প্রধান বিচারপতি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেছেন, কোটা আন্দোলনকারীদের জন্য আদালতের দরজা সবসময় খোলা। যারা আন্দোলন করছেন তাদেরকে পরামর্শ দিন, তারা কেন নির্বাহী বিভাগের কথা বলে? নির্বাহী বিভাগের যে কোনও সিদ্ধান্ত তো আদালতে চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) আপিল বিভাগে একটি মামলার শুনানিতে সিনিয়র আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্টের নেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, কোটা আন্দোলনকারীরা তাদের দাবিগুলো আইনজীবীদের মাধ্যমে তুলে ধরতে পারেন। আমরা সেটি গুরুত্ব সহকারে শুনব।

দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে জাতীয় সংসদকে ১৬ দফা পরামর্শ দেওয়া সংক্রান্ত রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানির একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন।

শুনানিতে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, দেশের স্বার্থে হাইকোর্ট দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতে ১৬ দফা পরামর্শ দিয়েছেন।




গ্রামে ডুপ্লেক্স বাড়ি বানাচ্ছেন পিএসসির উপ-পরিচালক আবু জাফর : প্রশ্নফাঁস

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বিসিএসের প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) উপ-পরিচালক মো. আবু জাফর নিজ গ্রামে নির্মাণ শুরু করেছিলেন ডুপ্লেক্স বাগান বাড়ি। আর সে কারণেই নিজ এলাকায় কিনেছিলেন ৬০ শতাংশ জমি। এমনটাই জানিয়েছেন আবু জাফরের নিজ এলাকা পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের মিয়া বাড়ির আশেপাশের লোকজন।

বাংলাদেশ রেলওয়ের উপসহকারী প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত অভিযোগে গত রোববার ও সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পিএসসির দুজন উপ-পরিচালক, দুজন সহকারী পরিচালকসহ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

আটককৃতদের মধ্যে একজন পিএসসির উপ-পরিচালক মো. আবু জাফর মিয়া। যার গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মিয়া বাড়ি।

গলাচিপার কলাগাছিয়া ইউপির ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবু জাফর এলাকায় তেমন একটা আসা যাওয়া ছিল না। এ কারণে নিজ গ্রামের অনেকেই তাকে ভালোভাবে চেনেন না। বিশেষ ক্ষেত্রে মাঝেমধ্যে বাড়িতে গেলেও থাকতেন ৬নং ওয়ার্ডের কল্যাণকলস গ্রামের শ্বশুরবাড়িতে। বয়স্ক অনেকেই চিনলেও যুবসমাজ তাকে তেমন একটা চিনেন না। কথাবার্তায় তাকে খুব ভালো মানুষ হিসেবেই জানতেন গ্রামের পরিচিত ব্যক্তিরা। তবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকার সকলেই বিস্মিত ও লজ্জিত।

আরো পড়ুন : মহিপুরে উচ্ছেদ অভিযানে ভেঙে দিলো অবৈধ স্থাপনা

কলাগাছিয়া গ্রামের কুমারখালী বাজারে আবু জাফরের বিষয়ে জানতে চাইলে বাজারের কাছেই সীমানাপ্রাচীর দেয়া বাগান বাড়ির আদলে ছাদ ঢালাই দেয়া বাড়িটি দেখিয়ে দেন। এর বাইরে এ গ্রামে কিছু আছে বলে জানেন না তবে ঢাকায় তার কি পরিমান সম্পদ আছে তা গ্রামবাসী জানেন না এমনটাই বলছিলেন বাজারে আসা ষাটোর্ধ আবুল মিয়া।

কলাগাছিয়া কুমারখালী বাজার এলাকায় আবু জাফরের ৬০ শতাংশ জমির ওপর নির্মাণাধীন বাড়ির সামনে গেলে দেখা যায়, সীমানাপ্রাচীর দেয়া নির্মাণাধীন বাগান বাড়ির চারিদিকে ঝোপঝাড়ে ভরা। বাড়ির প্রবেশমুখে গেট ও ভেতরে বাগানবাড়ির আদলে নির্মাণের কাজ শুরু করে ছাদ ঢালাই পর্যন্ত দেয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে কলাগাছিয়া ইউপির চেয়ারম্যান মো. মাইনুল ইসলাম বলেন, আবু জাফরের বাড়ি আর আমার বাড়ি কাছাকাছি। তাদের পুরোনো বাড়ি নদীভাঙনে বিলীন হওয়ার পর চার-পাঁচ বছর আগে কলাগাছিয়া কুমারখালী বাজার এলাকায় ৬০ শতাংশ জমি কিনে নতুন বাড়ির নির্মাণ কাজ শুরু করেন। বাড়ি নির্মাণে ধীরগতি হওয়ায়র কারণ জানতে চাইলে বাড়িটি বড় করে নির্মাণ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন আবু জাফর। এমটাই বলছেন এই ইউপি চেয়ারম্যান।

ইউপি চেয়ারম্যান আরও জানান, আবু জাফরের নিজ এলাকায় এর বাইরে তেমন সম্পদ নেই। যদি থাকে তা অন্যত্র থাকতে পারে। আবু জাফর তেমন একটা এলকায় আসেন না। এমন একটা জঘন্য ঘটনার সঙ্গে তিনি যুক্ত থাকবে এমনটা আমরা আশা করিনি। এতে আমরা লজ্জিত।

কলাগাছিয়া গ্রামের মিয়া বাড়ির ছোট্ট একটি ঘরে অভিযুক্ত আবু জাফরের ভাই মো. জালাল মিয়ার কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে এ বিষয়ে তিনি কোন কথা বলতে রাজী হননি।

অন্যদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে গ্রেপ্তারের ঘটনার বিষয়ে আবু জাফরের শ্যালক আমিন উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আবু জাফর তেমন লোক নয়। সে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে না। হয়তো তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে জড়ানো হয়েছে।

কলাগাছিয়া মিয়া বাড়ি মসজিদের সভাপতি ও অভিযুক্ত আবু জাফরের দূর সম্পর্কের চাচা মো. আউয়াল মিয়া জানান, আবু জাফর ছোট বেলা হইতে এলাকায় আল্লেনা। ওর বোনেইর লগে খুলনায় থাইক্কা লেখাপড়া করছে। ওইখানে বড় হইছে। তবে বাড়িতে না আইলেও এই মসজিদে থাকা এতিমের জন্য মাঝেমধ্যে টাকা পাঠাইতো।




মহিপুরে উচ্ছেদ অভিযানে ভেঙে দিলো অবৈধ স্থাপনা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর মহিপুরে অবৈধভাবে বহুতল ভবন নির্মানের অভিযোগে বেশ কয়েকটি স্থাপনা ভেঙে দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বুধবার (১০ জুলাই) দিনব্যাপী উপজেলার মহিপুর বাজারে এ অভিযান চালানো হয়।

নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কৌশিক আহম্মেদের নেতৃত্বে অভিযানে সহযোগিতা করেন মহিপুর থানা পুলিশ।

আরো পড়ুন : বাউফলে দুই ব্যাটারিচালিত গাড়ির সংঘর্ষে একজন নিহত

নির্বাহী মাজিস্ট্রেট জানায়, অত্র এলাকায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পূর্ণবাসনের জন্য সরকার অস্থায়ীভাবে সরকারি জমিতে এক বছরের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এই জমিগুলো। প্রতিবছরের নবায়ন করতে হবে। এই বরাদ্দগুলোতে স্পষ্ট শর্ত থাকে যে, এখানে কোন প্রকার স্থায়ী স্থাপনা করা যাবে না। সরকারের শর্ত ভঙ্গ করে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে এখানে বেশ কয়েকটি স্থাপনা গড়ে উঠেছে। সেগুলো উচ্ছেদের ব্যাপারে আমাদের জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর হস্তে অভিযান চালানো হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, ইতিমধ্যে পাঁচ থেকে সাতটি স্থাপনা ভেঙে দেয়া হয়েছে , অভিযান চলবে। সকলের সতর্কতার জন্য জানানো হইতেছে যে সরকারি শর্তের বাইরে গিয়ে উপস্থাপনা নির্মান না করেন। আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।