নিখোঁজের ৩৬ ঘণ্টা পর পায়রা নদী থেকে জেলের লাশ উদ্ধার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে পায়রা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ জেলের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ শুক্রবার সকাল আটটার দিকে কুদবারচর এলাকা থেকে ভাসমান অবস্থায় তাঁর লাশ উদ্ধার করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

নিহত জেলের নাম হারুন আকন (৬০)। তিনি উপজেলার কাঁকড়াবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার বিকেলে ছেলে নান্নু আকন ও মাঝি নিখিল গোলদারের সঙ্গে নিয়ে পায়রা নদীতে ছোট নৌকা ভাসিয়ে মাছ ধরতে যান হারুন। রাত আটটার দিকে মাছ ধরা শেষে তীরে ফেরার সময় নৌকাটি তীব্র স্রোতে উল্টে যায়। এ সময় ছেলে নান্নু ও নিখিল সাঁতার কেটে তীরে ফিরলেও নিখোঁজ হন আকন।

স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাঁকে উদ্ধারে ব্যর্থ হন। ৩৬ ঘণ্টা পর পাশের মজিদবাড়িয়া ইউনিয়নের কুদবারচর এলাকা থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়।

মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান বলেন, পরিবারের লোকজন হারুন আকনের লাশ শনাক্ত করেছেন।




শুক্র-শনিবার কারফিউ আরও শিথিল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : শুক্র ও শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কারফিউ শিথিল থাকবে। বৃহস্পতিবার রাতে এই ঘোষণা দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টায় রাজধানীর ধানমন্ডিতে নিজ বাসায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বৈঠক শেষে রাত ১২টার দিকে কারফিউ শিথিলের ঘোষণা দেন মন্ত্রী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঢাকা মহানগর ও ঢাকা জেলা, গাজীপুর মহানগর ও গাজীপুর জেলা, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে- এই কারফিউ বলবৎ থাকবে। তবে এসব এলাকায় শুক্র ও শনিবার সকাল ৮টা থেকে ৫টা পর্যন্ত কারফিউ শিথিল থাকবে। বৃহস্পতিবার ও বুধবার এসব এলাকায় সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত কারফিউ শিথিল ছিল।

তিনি জানান, অন্যান্য জেলায় কারফিউয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকরা।




পটুয়াখালীতে স্বামী-স্ত্রীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীতে স্বামী ও স্ত্রীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার (২৪ জুলাই) বিকেলে সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের বহালগাছিয়া গ্রামের নিজেদের বাড়ি থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত আশ্রাব আলী (৭০) কলাপাড়ার খেপুপাড়া সরকারী মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন ও স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগম (৬০) গৃহিণী ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আশ্রাব আলীর বড় ছেলে হিমু চাকুরীর সুবাদে ঢাকায় থাকেন। গত তিনদিন যাবত বাবা মাকে মুঠোফোনে না পেয়ে প্রতিবেশীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে বাড়ির প্রধান গেট ভিতর থেকে বন্ধ থাকায় প্রতিবেশীরা দেয়াল টপকে ভিতরে প্রবেশ করে মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। এসময় তাদের ঘরের দরজা খোলা ছিলো। তবে এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড নিশ্চিত ভাবে বলতে পারেনি পুলিশ।

পটুয়াখালী পুলিশ সুপার আবদুস সালাম জানান, এ দম্পতির মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে। মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।




কলাপাড়ায় ৮০ মণ সামুদ্রিক মাছ জব্দ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ইলিশ ও বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক ৮০ মণ মাছসহ একটি মিনি কাভার্টভ্যান ও একটি বাস জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার বেলা এগারোটায় শেখ কামাল সেতুর টোল প্লাজা থেকে এসব মাছ আটক করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কৌশিক আহমেদ।

এসময় মিনি কাভার্ট ভ্যানের চালক সাব্বির হোসেনকে ১০ হাজার ও বাসের চালক রুবেল হুসাইনকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জব্দকৃত মাছ টিয়াখালী বঙ্গবন্ধু কলোনির অসহায় মানুষের মাঝে বিতরন করা হয়।

পরে নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে আর সামুদ্রিক মাছ পরিবহন করবেনা মর্মে মুচলেখা দিলে চালকদের ছেড়ে দেয়া হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রে ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কৌশিক আহম্মেদ জানান, ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিনের মাছধরার উপর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সমুদ্র থেকে মাছ শিকাররত অসাদু জেলেদের কাছ থেকে ক্রয় করে এসব মাছ ঢাকায় পাচার করতে চেয়েছিল ব্যবসায়ীরা। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এসব মাছ জব্দ করা হয়েছে।




পটুয়াখালীতে চিরকুটের পাশেই ঝুলছিল যুবকের মরদেহ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নিজ ঘরের বিছানায় মৃত্যুর কারণ লেখা দুটি চিরকুটের পাশে ঝুলছিল মো. হাসিবুল ইসলাম (২০) নামের এক যুবকের মরদেহ।

বুধবার (১৭ জুলাই) সকালে কলাপাড়া উপজেলার মহিপুরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত হাসিবুল উপজেলার কুয়াকাটা এলাকার মেলাপাড়ার বাসিন্দা মো. হারিচ ঘরামীর ছেলে। গত দুই বছর আগে মহিপুর এলাকার বাসিন্দা লাল মিয়ার মেয়ে আখির সাথে তাঁদের বিবাহ হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারিবারিকভাবে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বেশ কিছুদিন যাবৎ কলহ চলছিল। তাই তারা পার্শ্ববর্তী বিপিনপুর গ্রামে ভাড়া বাসায় থাকতেন। মঙ্গলবার তারা স্বামী-স্ত্রী মেয়ের বাবার বাড়িতে যায়, রাতে হাসিবুল একা বাড়িতে আসে। বুধবার সকালে স্ত্রী আখি ওই ভাড়া বাসায় এসে ডাকাডাকি করে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে প্রতিবেশীদের নিয়ে দরজা ভেঙে ভীতরে ফ্যানের রটের সাথে ঝুলতে দেখে ডাকচিৎকার দেয়। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে। চিরকুটে তার মৃত্যুর জন্য স্ত্রী দায়ী করেন, এবং শ্বশুর বাড়ির লোকজন অবহেলা করিত বলে চিরকুটে উল্লেখ করেন।

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন তালুকদার বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে লাশ নামানো হয়েছে। ঝুলন্ত লাশের পাশ থেকে দুটি চিরকুট পাওয়া গেছে। লাশ ময়না তদন্তের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। পরবর্তী আইনানুসারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।




কোটার বিষয়ে আদালতকে পাশ কাটিয়ে কিছুই করবে না সরকার : আইনমন্ত্রী




মির্জাগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে পুকুরে হাত-পা ধূতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্বপন হাওলাদার (২০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের গাবতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত স্বপন হাওলাদার ওই গ্রামের গোলাম মোস্তফা হাওলাদারের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের গাপতলা গ্রামের স্বপন হাওলাদারের গোয়াল ঘরের পাশের পুকুর থেকে পানি তোলার জন্য বৈদ্যুতিক মটারের সংযোগ দেয়া ছিল। স্বপন গরুর জন্য ঘাস কেটে এনে গোয়াল রেখে হাত-পা পরিষ্কার করার জন্য পুকুরের পানিতে নামলে মটেরের তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয় সে। পরে তার বাবা স্বপনকে পানিতে ভাসতে দেখে চিৎকার দেয়। এ সময় স্থানীয় লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মির্জাগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: হাফিজুর রহমান বলেন, এখন পর্যন্ত পরিবারের থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে।




পটুয়াখালীতে পরেশ বিশ্বাসের খুনিদের গ্রেপ্তার দাবিতে মানববন্ধন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফলে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষে নিহত পরেশ বিশ্বাসের খুনিদের বিচার ও গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে স্থানীয়রা।

গতকাল বেলা ১১টায় পটুয়াখালী প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধনে নিহতের পরিবারের সদস্যসহ স্থানীয় শতাধিক নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, জমিজমা বিরোধের জেরে গত বৃহস্পতিবার বগা ইউনিয়নের চন্দনবাড়িয়া গ্রামে বিরোধপূর্ণ জমিতে পরেশ চাষাবাদ করতে গেলে বিরোধী পক্ষ ফারুকসহ তার সহযোগীরা চাষাবাদে বাধা দেয়। একপর্যায়ে ফারুক ও তার সহযোগীরা লাঠিসোটা ও লোহার পাইপ নিয়ে পরেশ এবং তার পরিবারের ওপরে হামলা চালায়। হামলায় পরেশ, মানবিকা বিশ্বাস ও পলাশী বিশ্বাস গুরুতর আহত হয়। আহত পরেশকে প্রথমে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দিয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শনিবার সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় বাউফল থানায় অভিযোগ করলেও এখনো কেউ গ্রেপ্তার হয়নি বলে মানববন্ধনে অভিযোগ করেন নিহতের স্বজনরা।

হত্যায় জড়িত সকল আসামিকে অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার জন্য পটুয়াখালী পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে দাবি জানান।




বাউফলে মারধরে আহত ব্যক্তির মৃত্যুতে ১১ জনের নামে মামলা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বগা ইউনিয়নের চন্দনবাড়িয়া গ্রামে হাতুড়িপেটায় আহত পরেশ চন্দ্র বিশ্বাসের(৩৫) মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রবিবার (১৪ জুলাই) রাতে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে বাউফল থানায় মামলা করেছেন নিহতের বড় ভাই শেখর চন্দ্র বিশ্বাস। গত শনিবার সন্ধ্যায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় পরেশ চন্দ্র বিশ্বাসের।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার চন্দনবাড়িয়া গ্রামের পরেশ চন্দ্র বিশ্বাসের সঙ্গে একই গ্রামের মো. ফারুক সিকদারের (৪৮) জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। গত বুধবার (১০ জুলাই) সকালে পরেশ চন্দ্র বিশ্বাস চন্দনবাড়িয়া গ্রামে তার জমি চাষ করতে যান। ওই সময় মো. ফারুক সিকদার (৪৮) নেতৃত্বে একটি দল ওই জমি চাষে বাঁধা দেয় এবং তাকে মারধর করে। একপর্যায়ে তাকে লোহার হাতুড়ি ও লোহার পাইপ দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। পরেশের চিৎকারে তার স্ত্রী পলাশী বিশ্বাস ও ভাইয়ের স্ত্রী মানবিকা বিশ্বাস এগিয়ে গেলে তাদেরকেও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। স্থানীয় লোকজন আহত ব্যক্তিদের প্রথমে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করান। অবস্থার অবনতি হলে ওইদিনই তাদের পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে পরেশের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য শনিবার বেলা ১১টার দিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করান। সেখানে সন্ধ্যা ৬টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরেশের মৃত্যু হয়।

আরো পড়ুন : দুমকিতে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি

এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির বড় ভাই শেখর চন্দ্র বিশ্বাস বাদী হয়ে ফারুক সিকদারকে প্রধান আসামি করে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত নামা আরও ৬ জনের নামে রবিবার রাতে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ফারুক সিকদার পলাতক থাকায় থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শোনিত কুমার গায়েন বলেন, ‘মারধরের ঘটনার পর এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তারা তা করেননি। তৎক্ষণাৎ মামলা করলে আসামিরা পালাতে পারত না। এরপরেও পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। আশা করছি খুব কম সময়ের মধ্যে আসামিরা গ্রেপ্তার হবে।




পটুয়াখালীতে ক্ষতিগ্রস্ত ২০৭ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংস্কারে নেই উদ্যোগ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ঘূর্ণিঝড় রিমালে পটুয়াখালীর দুই শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এসব প্রতিষ্ঠান সংস্কার কিংবা পুনর্নির্মাণে নেওয়া হয়নি কোনো উদ্যোগ।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের তালিকা করে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্ধ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠালেও এখনো মেলেনি বরাদ্দ। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানেই অথবা বিদ্যালয়ের বাইরে জোড়াতালি দিয়ে চালাতে হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম।

চলতি বছরের মে মাসের শেষ সপ্তাহে পটুয়াখালীসহ দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় রিমাল। ঘূর্ণিঝড়ের তান্ডবে জেলার ৮৪ হাজার ৫০০ পরিবারের প্রায় সাড়ে ৩ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সম্পূর্ণ ও আংশিক বিধ্বস্ত হয় প্রায় ৩৮ হাজার ঘরবাড়ি। প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা। প্লাবিত হয় হাজার হাজার পুকুর ও মাছ-কাঁকড়ার ঘেড়। বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ায় দীর্ঘদিন বিদ্যুৎহীন থাকে অনেক এলাকা। চার কিলোমিটার বেড়িবাঁধ আংশিক বিধ্বস্ত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়ে প্রায় অর্ধলাখ মানুষ। এরই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হয় জেলার ২০৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কলেজ।

ক্ষতিগ্রস্ত এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মেরামত কিংবা পুনর্নির্মাণে নেই দৃশ্যমান উদ্যোগ।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজে স্থাপন প্রকল্পে চাঁদাবাজির অভিযোগ

জেলা শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, জেলার কলাপাড়ায় ৪৯টি, গলাচিপায় ৪২টি, সদর উপজেলায় ৩৪টি, দশমিনায় ২৯টি, বাউফলে ২২টি, মির্জাগঞ্জে ১৬টি, দুমকীতে ৮টি, রাঙ্গাবালীতে ৭টি প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সদর উপজেলার চালিতাবুনিয়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলাপাড়া উপজেলার মেহনাজপুর হাক্কানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়। রিমালের তান্ডবে এ দুটি প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো দুমড়ে-মুচড়ে মাটিতে পড়ে যায়। শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের উপযোগিতা একদম না থাকায় চালিতাবুনিয়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২০০ শিক্ষার্থীকে পাশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের সাইক্লোন শেল্টারের নিচে ক্লাস করতে হচ্ছে। কোনো ভবন না থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের পাশেই মাঠে চলছে মেনহাজপুর হাক্কানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান।

চালিতাবুনিয়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুবল চন্দ্র শীল ও মেনহাজপুর হাক্কানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফউজ্জামান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়ের ভবন মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ চেয়ে উপজেলা ও জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে আবেদন করেছি। কিন্তু এখনো কোনো বরাদ্দ পাইনি।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মজিবুর রহমান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ২০৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান মেরামতে প্রয়োজন সাড়ে ১৫ কোটি টাকা। বরাদ্দ পেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।