পিরোজপুরে আসমা হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় আসমা আক্তার (৪৫) হত্যার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা আদালত চত্বরে আয়োজিত এই মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ অংশ নেন। হাতে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে তারা হত্যাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

নিহতের ছেলে শরিফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তার বড় ভাই বিদেশে অবস্থান করেন। এ সুযোগে তার ভাবি জান্নাতি আক্তার ফুফাতো ভাই কালাম হাওলাদারের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি জানাজানি হলে জান্নাতি ও কালাম পরিকল্পিতভাবে তার মা আসমা আক্তারকে কুপিয়ে হত্যা করেন। তিনি এ ঘটনায় জড়িতদের ফাঁসির দাবি জানান।

মানববন্ধনে বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, হত্যাকারী কালামের পরিবার ভুক্তভোগী পরিবারকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে, যা তাদের নিরাপত্তাহীনতায় ফেলেছে। তারা প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে আসামিদের গ্রেফতার ও বিচার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




পিরোজপুরে অনিয়মের দায়ে তিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে অনিয়মের দায়ে তিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে মোট ১৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাহিদুল ইসলাম এ অভিযান পরিচালনা করেন।

জরিমানার তালিকা

  • কবির হোটেল – ১০,০০০ টাকা
  • মহসিন সু স্টোর – ৫,০০০ টাকা
  • ঝিলিক গার্মেন্টস – ২,০০০ টাকা

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, ভোক্তাদের অধিকার সুরক্ষায় এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বেতাগীতে দিন-রাত চুরি, আটক ৪

বরগুনার বেতাগী উপজেলাজুড়ে দিন-রাত চলমান চুরি-ডাকাতির ঘটনায় জনমনে সৃষ্ট চরম আতঙ্কের অবসান ঘটিয়ে স্বস্তি এনেছে থানা পুলিশ। শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন চারজন সক্রিয় চোর চক্রের সদস্যকে আটক করা হয়েছে।

আটকরা হলেন—

  • নয়ন (সদর ইউনিয়ন, ৮ নম্বর ওয়ার্ড, কেওড়াবুনিয়া)
  • রাজু মৃধা (পৌরসভা, ৯ নম্বর ওয়ার্ড)
  • ইমরান খান (১ নম্বর ওয়ার্ড)
  • নজরুল ফকির (৩ নম্বর ওয়ার্ড)

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, কয়েকদিন ধরে বেতাগীতে চোর-ডাকাতদের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় দিন-রাত নির্বিঘ্নে চুরি চলছিল। সম্প্রতি একাধিক ঘটনার মধ্যে ছিল—

  • বিবিচিনি ইউনিয়নের ফুলতলা এলাকায় এক গৃহবধূকে গামছা দিয়ে বেঁধে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট।
  • একই এলাকার রেণু বেগমকে রাস্তা থেকে আটকিয়ে কানের দুল ছিনিয়ে নেওয়া।
  • পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে উপজেলা জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারির বাসায় পরপর পাঁচটি তালা ভেঙে চুরি।
  • হাইস্কুল রোডের স্টিল হাউস ব্যবসায়ী শহীদের বাসা এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ডের লাবনীর বাসাতেও চুরি।

এ ঘটনায় জনমনে তীব্র নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা রাতভর পাহারার উদ্যোগ নেন এবং থানা পুলিশও টহল বৃদ্ধি করে। পৌরপুলিশ নিয়োগ ও অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য বৃদ্ধির দাবি উঠেছে।

বেতাগী থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, “উপজেলায় একের পর এক চুরি-ডাকাতির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় পুলিশ শুরু থেকেই অভিযান চালিয়ে আসছে। গতরাতে চারজনকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। সবার প্রতি আহ্বান—সচেতন থাকুন এবং কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি বা গতিবিধি লক্ষ্য করলে দ্রুত পুলিশকে জানান।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরগুনায় প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে নিয়োগ বাণিজ্য: প্রতারক হারুন কারাগারে

বরগুনার সদর উপজেলার আয়লা এলাকায় ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে প্রতারক মোশাররফ হোসেন হারুন বর্তমানে কারাগারে। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে অপরকে ফাঁসানোর চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি নিজেই ধরা পড়েন।

১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে এলাকাবাসী প্রতারক হারুনকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায় এবং বিকেল ৩টার দিকে আদালতে প্রেরণ করে। হারুন নিজ বাড়িতে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের নামে অর্থ লেনদেন করেন। ভুক্তভোগীরা টাকা ফেরত চাইলে তিনি উল্টো তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করতেন। এ ছাড়া পরিচালনা কমিটির সদস্য শাহ আলম হাওলাদার টাকা ফেরত দাবি করলে তার বিরুদ্ধেও আদালতে মামলা করেন।

একটি মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের স্বাক্ষর জাল করে আদালতে জমা দেন হারুন। পরে যাচাই-বাছাইয়ে স্বাক্ষর ভুয়া প্রমাণিত হলে আদালত ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। ১০ সেপ্টেম্বর আদালতের নির্দেশে বরগুনা সদর থানায় তার বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করা হয়। এতে অভিযোগ আনা হয় যে, তিনি পরস্পর যোগসাজশে সরকারি কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন, যা দণ্ডবিধির ৪৭১ ধারার অপরাধ।

স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে তদন্ত করা হবে এবং অন্য কোনো সহযোগী থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বোরহানউদ্দিনে তেঁতুলিয়া নদী থেকে বালু লুট: তিনজনের অর্থদণ্ড, অনাদায়ে কারাদণ্ড

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় তেঁতুলিয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে তিনজনকে অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রনজিৎ কুমার দাসের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তেঁতুলিয়া নদীর বোরহানউদ্দিন অংশ থেকে বালু উত্তোলনের সময় দুইটি ড্রেজার মেশিন ও একটি বলগেট আটক করা হয়। এ সময় হাতেনাতে আটক হন মো. টিপু (৪০), মো. মনির (২৫) ও মো. ফয়সাল (২৮)।

পরে মোবাইল কোর্টে তাদের বিচার করা হয়। আদালত মো. টিপু ও মো. মনিরকে দুই লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং মো. ফয়সালকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন।

এছাড়া অভিযুক্তদের কাছ থেকে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ থেকে বিরত থাকার জন্য মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। অভিযান পরিচালনায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও নৌপুলিশের একটি টিম সহযোগিতা করে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, অবৈধভাবে নদী খনন ও বালু উত্তোলন রোধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চালানো হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড

বরিশালের হিজলা উপজেলায় এক তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যা ও লাশ গুমের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। দীর্ঘ ১২ বছর পর এই মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।

সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহা. রকিবুল ইসলাম আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় প্রদান করেন। একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— হিজলার পূর্ব কোরালিয়া গ্রামের কবীর আকন ও জব্বার ব্যাপারী।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোখলেচুর রহমান বাচ্চু সাংবাদিকদের জানান, ২০১৩ সালের ২৮ জুলাই বাড়ি ফেরার পথে ওই তরুণীকে জোরপূর্বক পাশের একটি বাগানে নিয়ে যায় আসামিরা। সেখানে তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। পরে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে খালে ফেলে দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে নিখোঁজ তরুণীর সন্ধান না পেয়ে তার মামা মোক্তার হোসেন বাদী হয়ে হিজলা থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশের তৎপরতায় খাল থেকে তরুণীর লাশ উদ্ধার করা হয়। তদন্তে কবীর আকন ও জব্বার ব্যাপারীর সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়।

আদালত মামলার দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম শেষে মোট ১৮ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন। সবকিছু পর্যালোচনা শেষে আজ আদালত এ দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।

রায় ঘোষণার সময় আদালতকক্ষে উপস্থিত স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং এ রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানান।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




আদালতের বারান্দায় হামলার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

ঝালকাঠিতে জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে আদালতের বারান্দায় এক পরিবারের ওপর নৃশংস হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নলছিটি উপজেলার বাসিন্দা মিরাজ মাঝি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রফিকুল মাঝি, জহিরুল ইসলাম গংদের সঙ্গে তাদের জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। ওই বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন বারবার তাদের বসতঘর ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেছে। এমনকি ঝালকাঠির জেলা প্রশাসকের সহায়তায় নির্মিত একটি ঘরও হামলাকারীরা ভেঙে লুটপাট করে নিয়ে যায় বলে দাবি করেন তিনি।

মিরাজ মাঝি জানান, প্রতিপক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে তার পরিবারের জমি দখলের চেষ্টা করে এবং ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। দাবি না মানায় একের পর এক মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়। ইতোমধ্যে তাদের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে একটি প্রমাণের অভাবে খারিজ হয়ে যায়। এমনকি হত্যা মামলাতেও তাদের আসামি করা হয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সর্বশেষ ১১ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঝালকাঠি চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের চতুর্থ তলায় তার পরিবারের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় রফিকুল মাঝি, জহিরুল মাঝি, মনি আক্তার ও পপি আক্তারসহ আরও অনেকে। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। প্রথমে তাকে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে এবং পরে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মিরাজ মাঝি বলেন, আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও পুলিশের সহায়তায় হামলাকারীদের আটক করা সম্ভব হয়। তবে হামলাকারীরা স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের আশ্রয়ে থেকে এখনও তাদের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এতে তিনি পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম মাঝির মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ইন্দুরকানীতে পারিবারিক কলহে কলেজ ছাত্রের আত্মহত্যা

পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে পারিবারিক কলহের জেরে মেহেদী হাসান (১৭) নামের এক কলেজ ছাত্র আত্মহত্যা করেছে। রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মেহেদী হাসান পিরোজপুর সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি দক্ষিণ ইন্দুরকানী গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক মনোমালিন্যের পর মেহেদী বিষপান করে। দ্রুত তাকে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

ইন্দুরকানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মারুফ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, কলেজ ছাত্র মেহেদীর আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেছে। তার মৃত্যু খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা খুলনার সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ গ্রহণ করবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ঢাকায় গ্রেপ্তার পটুয়াখালীর সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মনির খান ও স্ত্রী সালমা জাহান

পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মনির খান এবং তার স্ত্রী, কালিকাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা কৃষকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সালমা জাহানকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর মিন্টু রোড এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

সোমবার সকালে পটুয়াখালী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মো. জসিম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মনির খান দীর্ঘদিন ধরেই ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। ৫ আগস্টের ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে ঢাকাসহ পটুয়াখালীতে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে তার স্ত্রী সালমা জাহানের নামে কোনো মামলা নেই।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রবিবার সন্ধ্যায় ঢাকার বাসা থেকে আত্মীয়ের বাসায় যাচ্ছিলেন মনির খান ও সালমা জাহান। মিন্টু রোডে পৌঁছালে হঠাৎ ডিবি পুলিশের একটি দল তাদের আটকে ফেলে। পরে তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে ঢাকার পল্টন থানায় দায়ের করা একটি মামলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়।

এ বিষয়ে ওসি মো. জসিম উদ্দিন আরও জানান, কয়েক মাস আগে সালমা জাহান চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করে স্বামীর সঙ্গে ঢাকায় বসবাস করছিলেন। রবিবার রাতে ডিএমপির ডিবি পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে তারা ঢাকার ডিবি কার্যালয়ে রয়েছেন।

স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে হঠাৎ এই গ্রেপ্তারের খবরে আলোচনার ঝড় উঠেছে। বিশেষ করে দলীয় নেতা-কর্মীরা বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বাউফলে এসআইয়ের বিরুদ্ধে শিশু শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ

পটুয়াখালীর বাউফলে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শিশু শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে আহত শিশুটি বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়। ভুক্তভোগী হামিম (১০) উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের ছয়হিস্যা গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

স্থানীয় সূত্র জানায়, খেলার ছলে হামিম মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিল। এসময় বাউফল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাসুদুর রহমান তার কাছ থেকে মোবাইলটি কেড়ে নেন এবং কানে একাধিকবার চড় মারেন। এতে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়ে।

শিশুর বাবা কবির মোল্লা জানান, “পুলিশের ভয়ে আমরা বিষয়টি প্রথমে গোপন রাখি। তবে শনিবার রাতে ছেলের প্রচণ্ড কান ব্যথা শুরু হলে হাসপাতালে নিয়ে আসতে বাধ্য হই।”

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, মারধরের পর এসআই শিশুটিকে পুলিশের গাড়িতে তুলতে চাইলে স্থানীয়রা বাধা দেন। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত এসআই মাসুদুর রহমান বলেন, “জমাজমি সংক্রান্ত একটি ঘটনায় সেখানে গিয়েছিলাম। তখন শিশুটি আমাদের ভিডিও করছিল। আমি কেবল ফোনটি নিয়েছি, মারধরের অভিযোগ সঠিক নয়।”

তবে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকতারুজ্জামান সরকার সাংবাদিকদের জানান, “ঘটনার বিষয়ে এসআই মাসুদুর রহমানের সঙ্গে কথা হয়েছে। সে স্বীকার করেছে, শিশুটির মাথা ধরে মোবাইল ফোন নিয়েছে।”

বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. নুরজাহান বলেন, “শিশুটির কানে আঘাতজনিত ব্যথা রয়েছে। তাকে নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।”

ঘটনাটি প্রকাশিত হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হলেও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম